Home Blog Page 7

দেবতার বেদি থেকে বিলাসী বোতলে, পারফিউমের সহস্রাব্দের যাত্রা

সুগন্ধি’ শব্দটির সঙ্গে মিশে আছে এক রহস্যময় আকর্ষণ, যা ইন্দ্রিয়কে প্রভাবিত করে, মনকে জাগিয়ে তোলে এবং স্মৃতিকে সজীব করে। অথচ এই সুগন্ধির পথচলা শুরু হয়েছিল মানুষের সবচেয়ে পবিত্র আকাঙ্ক্ষা ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা থেকে। মিসরের প্রাচীন মন্দিরের ধোঁয়ায় ওঠা ধূপের গন্ধ থেকে শুরু করে আধুনিক পারফিউমের বিলাসবহুল বোতল পর্যন্ত, সুগন্ধি কেবল একটি ঘ্রাণ নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং মানুষের আবেগ ও ক্ষমতার নির্যাস। এ

সুগন্ধির প্রাচীনতম ব্যবহার খুঁজে পাওয়া যায় প্রায় ৪০০০ বছর আগের মেসোপটেমিয়া এবং প্রাচীন মিসরে। এখানে সুগন্ধি ছিল মূলত ধূপ বা মিষ্টি ঘ্রাণের তেল। সুগন্ধির ব্যবহারিক নামটিও এর উৎসের ইঙ্গিত দেয়। ইংরেজি শব্দ ‘Perfume’ এসেছে লাতিন শব্দ ‘Per fumum’ থেকে, যার অর্থ ‘ধোঁয়ার মাধ্যমে’। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ধোঁয়ার সাহায্যে দেবতাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া, মন্দিরের পরিবেশ শুদ্ধ রাখা এবং মৃতদেহকে সৎকার বা মমি করার সময় পবিত্রতা রক্ষা করা।

প্রাচীন মিসরের সবচেয়ে বিখ্যাত সুগন্ধি ছিল ‘কাইফি’। এটি ছিল রেজিন, কিশমিশ, পেঁয়াজ ও মধুর মতো উপাদান দিয়ে তৈরি একটি জটিল মিশ্রণ, যা সন্ধ্যাকালে ধূপ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ফারাওদের কবরে কাইফি এবং সুগন্ধি তেলের সন্ধান প্রমাণ করে সুগন্ধি ছিল আধ্যাত্মিক যাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কেবল দেবতাদের সন্তুষ্টি নয়, পার্থিব জীবনে শক্তি ও মর্যাদার প্রতীকও ছিল।

গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় সুগন্ধি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে এসে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অংশ হয়ে ওঠে। গ্রিকরা সুগন্ধি তেলকে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে দেখত। তারা দেব-দেবী, বীর এবং অলিম্পিক বিজয়ী অ্যাথলেটদের সুগন্ধি দিয়ে অভিষেক করত।
অন্যদিকে রোমানরা সুগন্ধির ব্যবহারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তারা স্নানাগার, পোশাক, ঘর এবং এমনকি জনসমাগমের স্থানকেও সুগন্ধিযুক্ত করত। ঐতিহাসিক নথিতে জানা যায়, রোমান সম্রাট নিরো বিশাল ভোজসভার সময় তার অতিথিদের ওপর সুগন্ধিযুক্ত জল স্প্রে করার জন্য পাইপলাইন ব্যবহার করতেন।

সুগন্ধির এই ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হয়েছিল সিল্ক রোডের মাধ্যমে। ভারতীয় মসলা, চন্দন কাঠ, চীনা সিল্ক এবং আরবের সুগন্ধি রেজিন—এই সমস্ত উপাদান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যা সুগন্ধি তৈরির শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।

ইউরোপ যখন মধ্যযুগে প্রবেশ করছে, তখন সুগন্ধি শিল্পে বিপ্লব আনল আরবীয় সভ্যতা। আরব রসায়নবিদ আল-কিন্দী এবং জাবির ইবনে হাইয়্যান সুগন্ধি তৈরির পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেন।

আরব রসায়নবিদরা পাতন বা ডিস্টিলেশন প্রক্রিয়াকে উন্নত করেন। এই আবিষ্কারের ফলেই প্রথমবারের মতো সুগন্ধি ফুল ও উপাদান থেকে তাদের খাঁটি নির্যাস বা এসেনশিয়াল তেল বের করা সম্ভব হয়।

মুসলিম বিশ্বে গোলাপ জল ছিল পবিত্রতা ও আভিজাত্যের প্রতীক। এটি খাবার, ধর্মীয় আচার এবং চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। পারস্যের বিখ্যাত চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী ইবনে সিনা গোলাপ ফুল থেকে তেল নিষ্কাশনের পদ্ধতিকে আরও আধুনিক করেন, যা সুগন্ধি শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

এই আরবীয় উদ্ভাবন সুগন্ধিকে তেল বা ধূপ থেকে আজকের পরিচিত অ্যালকোহল-ভিত্তিক পারফিউমের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ ছিল। দ্বাদশ শতাব্দীতে ক্রুসেডার এবং ব্যবসায়ীরা সুগন্ধি তৈরির এই উন্নত পদ্ধতি ইউরোপে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

পঞ্চদশ শতকের পর থেকে সুগন্ধি ইউরোপীয় রাজপরিবার ও অভিজাতদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ ছিল, মধ্যযুগে ইউরোপে নিয়মিত স্নানের ধারণা কমে গিয়েছিল। তাই দুর্গন্ধ ঢাকতে সুগন্ধির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। অপরদিকে সুগন্ধি হয়ে ওঠে সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক।

ইউরোপের প্রথম আধুনিক পারফিউম হিসেবে বিবেচিত হয় ‘হাঙ্গেরি ওয়াটার’। ১৩৭০ সালে রানী এলিজাবেথ অফ হাঙ্গেরির জন্য তৈরি এই পারফিউমটি ছিল অ্যালকোহলে দ্রবীভূত সুগন্ধি তেলের মিশ্রণ।

ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালীয় রেনেসাঁসের পর ফ্রান্স সুগন্ধি শিল্পের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ক্যাথরিন দে মেডিচি যখন ফ্রান্সের রাজা দ্বিতীয় হেনরিকে বিয়ে করেন, তখন তিনি তার ব্যক্তিগত পারফিউমার রেনে লে ফ্লোরেনটিনকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে ফ্রান্সের গ্রাস অঞ্চল সুগন্ধি ফুলের প্রধান উৎপাদকের কেন্দ্র হয়ে ওঠে এবং প্যারিস বিশ্ব সুগন্ধি রাজধানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাজা চতুর্থ লুই তার পারফিউমের প্রতি এতটাই আসক্ত ছিলেন যে তাকে “The Perfumed King” বলা হতো। পারফিউম এখানে আর কেবল ঘ্রাণ ছিল না, এটি ছিল একটি অলিখিত ক্ষমতার কোড, যা অভিজাত শ্রেণীকে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করত।

উনবিংশ শতাব্দীতে শিল্প বিপ্লব সুগন্ধি শিল্পে মৌলিক পরিবর্তন আনে। রসায়নের অগ্রগতি কৃত্রিম সুগন্ধি অণু আবিষ্কারের পথ খুলে দেয়। এই আবিষ্কারের ফলে পারফিউম তৈরির খরচ অনেক কমে যায়, যা একে কেবল অভিজাতদের জন্য নয় সাধারণ মানুষের জন্যও সহজলভ্য করে তোলে। এক অর্থে সুগন্ধির গণতন্ত্রীকরণ শুরু হয়।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেই পারফিউম শিল্পে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এই সময় ফ্যাশন এবং সুগন্ধি একাকার হয়ে যায়। ১৯২১ সালে, বিখ্যাত ফরাসি ফ্যাশন ডিজাইনার গ্যাব্রিয়েল “কোকো” শ্যানেল বিশ্বকে উপহার দেন Chanel No. 5। এই পারফিউমে ফুলের গন্ধের পরিবর্তে অ্যালডিহাইড নামক কৃত্রিম অণুর ব্যবহার করা হয়। শ্যানেল No. 5 প্রথম পারফিউম ছিল না যেখানে অ্যালডিহাইড ব্যবহার করা হয়েছিল।Houbigant-এর Quelques Fleurs (১৯১২) ছিল অ্যালডিহাইড ব্যবহারকারী প্রথম আধুনিক পারফিউম। তবে শ্যানেল No. 5 ছিল প্রথম জনপ্রিয় পারফিউম যা অ্যালডিহাইডের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করেছিল এবং সুগন্ধির ইতিহাসে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। শ্যানেল নম্বর ফাইভ কেবল একটি সুগন্ধি ছিল না, এটি ছিল নারী স্বাধীনতার একটি প্রতীক, একটি বিলাস পণ্য যা আধুনিকতা এবং নারীত্বের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিল।

সুগন্ধি ছিল একসময় ধর্মীয় ক্ষমতা, পরে রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং বর্তমানে ব্র্যান্ড ও অর্থের ক্ষমতার প্রতীক। প্রাচীন মন্দিরের ধোঁয়ায় ওঠা ধূপের গন্ধ থেকে শুরু করে শ্যানেল নম্বর ফাইভের জটিল মিশ্রণ পর্যন্ত সুগন্ধি তার সারল্য হারিয়েছে, কিন্তু এখনও তার গভীরতা হারায়নি।

নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুহারা ৩০ হাজার পরিবার

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীভাঙন একটি তীব্র সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটে রূপ নিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, যমুনা, তিস্তা, ধরলাসহ দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর আগ্রাসী ভাঙনে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ উর্বর কৃষি জমি এবং বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি কিংবা কুড়িগ্রামের মতো নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফসলভরা মাঠ ও প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে তৈরি হচ্ছে কেবল আতঙ্ক আর হাহাকার।

নদীভাঙনের কারণে গ্রাম ও জনপদের দৃশ্য দ্রুত পাল্টে যায়। রতনপুর গ্রামের উদাহরণে দেখা যায়, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৫০ বিঘা জমি বিলীন হওয়ায় অন্তত ২০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এই গৃহহারা পরিবারগুলো স্বজনদের বাড়ি বা উঁচু স্থানে অস্থায়ী বসতি স্থাপন করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। কুড়িগ্রামের স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রতি বছর দুই থেকে আড়াই হাজার পরিবার সরাসরি তাদের বসতভিটা হারায়, যার ফলস্বরূপ গত ১০ বছরে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুতদের একটি বড় অংশ (৭০ ভাগ) নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা নতুন চরে পুনরায় বসতি গড়তে বাধ্য হয়। তবে এই চরগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশনসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলোর তীব্র অভাব থাকে। বাকি ৩০ ভাগ পরিবার উন্নত জীবনের আশায় উঁচু এলাকা বা ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় কাজের সন্ধানে স্থানান্তরিত হয়, যা দেশের বড় শহরগুলোর ওপর চাপ বাড়ায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, নদীভাঙনে তারা যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হন, সেই তুলনায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সহযোগিতা পান খুবই সামান্যই। নদীভাঙনে প্রতি বছর কতজন মানুষ বাস্তুচ্যুত হন, তার সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। যদিও বন্যায় বাস্তুচ্যুতরা পানি নেমে গেলে নিজ বসতিতে ফিরতে পারলেও নদীভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন হওয়া মানুষের অধিকাংশের পক্ষেই আর আগের জায়গায় বসতি গড়া সম্ভব হয় না।

ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের তথ্যমতে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর মধ্যে ৪৪ লাখেরও বেশি ছিল বাংলাদেশের, যাদের বেশিরভাগই নদীভাঙনসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার। এই বাস্তুচ্যুতদের অনেকেই রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর বস্তিতে ঠাঁই নেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নদীভাঙনের কারণে কোনো কোনো পরিবার ২৭ বার পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হওয়ার নজির আছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। অকালবৃষ্টি, বন্যা, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বাঁধ না থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।

দেশের সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা ও যমুনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, দেশের সবচেয়ে বেশি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হন পদ্মা ও যমুনাপাড়ের বাসিন্দারা। ২০১৮ সালে নাসা এক গবেষণায় জানিয়েছিল, ১৯৬৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ে ৬৬ হাজার হেক্টরের (প্রায় ২৫৬ বর্গমাইল বা ৬৬০ বর্গকিলোমিটার) বেশি এলাকা পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে, যা ঢাকা শহরের আয়তনের প্রায় আড়াই গুণের সমান। ওই প্রতিবেদনে পদ্মাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ নদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান সাময়িকী স্প্রিংগার নেচার ১০৫ বছরে পদ্মার ভাঙন নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, ১৯১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়েছে এর দুই পারের ১ হাজার ৭৪৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা। আর পলি পড়ে গড়ে উঠেছে ১ হাজার ৩১৬ বর্গকিলোমিটার। ওই সময়ে পদ্মাপারের মানুষ ৪৩৩ বর্গকিলোমিটার ভূমি হারিয়েছে।
১৯১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পদ্মার ভাঙনে ১ হাজার ৭৪৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়েছে।

বুয়েট বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীভাঙন শুধু বাস্তুচ্যুতি ঘটাচ্ছে না এটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও কৃষক পরিবারগুলো সব হারিয়ে একপর্যায়ে কৃষি ছেড়ে শহরে গিয়ে নানা শ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্যানেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ স্থানান্তরিত হবে, যার মধ্যে শুধুমাত্র নদীভাঙনের কারণেই ২০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ স্থানান্তরিত হতে পারে।

এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য ভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বাস্তুহারা মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা অপরিহার্য।

ইরানে পাল্টা হামলার লক্ষ্য শুধু সামরিক স্থাপনা, জানালেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল শুধুমাত্র ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালাবে এবং পারমাণবিক স্থাপনা বা তেল সংক্রান্ত অবকাঠামোতে কোনো আক্রমণ করবে না। আজ মঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানেন এমন দুই কর্মকর্তাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রায় দুই মাসের বিরতির পর ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ফোনালাপে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে ধ্বংস করা। এই প্রতিবেদনের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং হোয়াইট হাউস উভয়ই এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় আজ সকালে এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের আলোকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।

সম্প্রতি ইসরায়েলে ইরান অভিমুখে প্রায় ১৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। ইসরায়েল এই হামলার বেশিরভাগ প্রতিহত করেছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এই হামলার পর নেতানিয়াহু ইরানের প্রতি কড়া প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

প্রাথমিকভাবে নেতানিয়াহু পারমাণবিক স্থাপনা ও তেল পরিশোধনাগারে আক্রমণের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রেখেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কথা মাথায় রেখে তিনি সীমিত আক্রমণে মনোনিবেশ করেছেন।

বাইডেন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনার ওপর হামলার সমর্থন করেন না। নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এদিকে এই সীমিত হামলার পরিকল্পনা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্থাপনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত ইরানের ওপর সীমিত সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছলনাই কি শ্রেষ্ঠ কৌশল? সুন তজুর দর্শনে সামরিক নৈতিকতার সংঘাত

বিশ্বের সামরিক ইতিহাস, রাজনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কৌশল নিয়ে যত আলোচনা হয়, তার প্রতিটিতেই একটি নাম অনিবার্যভাবে উচ্চারিত হয়—সুন তজু (Sun Tzu)। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে কিংবা মতান্তরে পঞ্চম শতকে চীন যখন বহু খণ্ড রাজ্যে বিভক্ত এবং পরস্পরের মধ্যে নিরন্তর যুদ্ধে লিপ্ত, তখন এই মহাকৌশলী রচনা করেন তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘দ্য আর্ট অফ ওয়ার’। এটি কেবল যুদ্ধের নির্দেশিকা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, কূটনীতি ও ষড়যন্ত্রের এক গভীর দার্শনিক বিশ্লেষণ।

সুন তজুর জীবনকাল এবং তাঁর গ্রন্থ রচনার সময়কাল ছিল প্রাচীন চীনের ইতিহাসে এক উত্তাল অধ্যায়। খ্রিস্টপূর্ব ৪৮১ থেকে ২২১ অব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ‘যুদ্ধরত রাজ্যসমূহের যুগ’ ছিল ক্ষমতার চরম সংঘাতের সময়। এই সময়ে, ছোট ছোট রাজ্যগুলি একে অপরের সঙ্গে জীবন-মরণ যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, যেখানে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বই ছিল টিকে থাকার একমাত্র মাপকাঠি।

এই যুগেই সামরিক চিন্তাধারার বিকাশ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায়। এই পরিবেশই সুন তজুকে তাঁর বিখ্যাত তত্ত্বটি উদ্ভাবনে প্রভাবিত করে, যুদ্ধ হলো ছলনার পথ। সে সময়ে সামরিক কৌশলের লক্ষ্য কেবল ভূমি দখল বা শত্রুকে পরাজিত করা ছিল না, কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং মানসিক দুর্বলতার মাধ্যমে শত্রুকে যুদ্ধ না করেই আত্মসমর্পণ করাতে পারাকেই শ্রেষ্ঠ সামরিক বিজয় মনে করা হতো। নিরন্তর সংঘাত ও অনিশ্চয়তার এই সময়েই জন্ম নিয়েছিল এমন এক দর্শন, যা রক্তপাতকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে এনে সর্বোচ্চ ফল লাভের পথ দেখায়।

সুন তজুর তত্ত্বের সবচেয়ে বিপ্লবী দিকটি হলো তাঁর যুদ্ধবিরোধী মূলনীতি। ‘দ্য আর্ট অফ ওয়ার’-এর মূলমন্ত্র হলো— শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা সেই, যে যুদ্ধ না করে শত্রুকে পরাজিত করতে পারে।

“সেরা নীতি হলো শত্রুর পরিকল্পনা ভেঙে দেওয়া; তার পরের সেরা নীতি হলো শত্রুর জোট ভেঙে দেওয়া; তার পরের সেরা নীতি হলো শত্রুর সৈন্যবাহিনীকে মাঠে নামানোর আগেই পরাজিত করা; এবং সবচেয়ে খারাপ নীতি হলো দুর্গ অবরোধ করা।”

এই উদ্ধৃতিটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে তিনি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের অধীনে স্থান দিয়েছিলেন। তাঁর কৌশলটি ছিল প্রধানত মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক। একজন শাসক বা সেনাপতিকে যুদ্ধ শুরু করার আগেই শত্রুর দুর্বলতা, মিত্রদের সম্পর্ক এবং তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিশ্লেষণ করতে হবে। শত্রুর পরিকল্পনাকে তার অগোচরেই ব্যর্থ করে দেওয়া হলো সবচেয়ে সূক্ষ্ম সামরিক শিল্প। সুন তজুর কাছে যুদ্ধ ছিল চূড়ান্ত আশ্রয়, যখন অন্যান্য সব রাজনৈতিক কৌশল ব্যর্থ হয়।

সুন তজু সামরিক শক্তিকে রাজনীতির একটি সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচনা করতেন, লক্ষ্য হিসেবে নয়। তাঁর গ্রন্থে বারবার যে মূল বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তাতে কৌশল এবং রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

সুন তজু মনে করতেন, গোয়েন্দাগিরি হলো যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি পাঁচ ধরনের গুপ্তচরের কথা বলেছেন, যার মধ্যে স্থানীয় গুপ্তচর, অভ্যন্তরীণ গুপ্তচর এবং ‘বিনষ্টকারী গুপ্তচর’ বা ‘ষড়যন্ত্রকারী গুপ্তচর’ অন্তর্ভুক্ত। এই শেষোক্ত গোয়েন্দারা শত্রুকে ভুল তথ্য দিয়ে ধরা পড়তো বা নিহত হতো, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল শত্রুর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। এই ধরনের সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র সামরিক অভিযানের আগে শত্রুর রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিত। এই কৌশল স্পষ্ট করে যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে গোপন আলোচনা কক্ষ ও শত্রুর দরবারই ছিল তাঁর কাছে বিজয়ের মূল চাবিকাঠি।

সুন তজুর মতে, সৈন্যরা তখনই সাহস ও শৃঙ্খলার সাথে যুদ্ধ করে যখন তারা জানে যে তাদের শাসক সঠিক পথের পথিক। সামরিক বিজয়ের ভিত্তি হলো ন্যায়, সুশাসন এবং জনগণের সমর্থন। এর মাধ্যমে তিনি সামরিক শক্তিকে রাজনৈতিক বৈধতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। একজন নৈতিকভাবে শক্তিশালী শাসক সহজেই তার সেনাবাহিনীকে অনুপ্রাণিত করতে পারে এবং প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই নীতি দেখায়, যুদ্ধ জেতার জন্য কেবল সামরিক সরঞ্জামই যথেষ্ট নয়, বরং জনগণের আস্থা ও নৈতিক সমর্থন অপরিহার্য।

সুন তজু যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশ এবং সময়ের গুরুত্বকে সর্বোচ্চ স্থান দেন। তিনি বলেন, সেনাপতিকে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে জানতে হবে। ঠিক যেমন রাজনীতিতে সফল হতে হলে একজন শাসককে জনগণের মেজাজ, মিত্রশক্তির অবস্থান এবং বৈশ্বিক পরিবর্তন অনুধাবন করে নীতি পরিবর্তন করতে হয়, ঠিক তেমনই যুদ্ধক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলাতে হবে। তিনি জোর দিয়েছিলেন ‘অনিয়মিত কৌশল’-এর ওপর, যেখানে শত্রুর প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে কাজ করা হয়। এটি আধুনিক রাজনীতির ‘আশ্চর্যজনক পদক্ষেপ’ বা ‘সারপ্রাইজ মুভ’-এর মতোই কাজ করে।

সুন তজুর এই গ্রন্থটি সামরিক কৌশল ছাপিয়ে আধুনিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং এমনকি কর্পোরেট ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।

চীন, জাপান, কোরিয়া এবং ভিয়েতনামের সামরিক শিক্ষায় এই গ্রন্থটি ছিল মৌলিক পাঠ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি কৌশল এবং ভিয়েতনামের গেরিলা যুদ্ধে এই তত্ত্বের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। তাঁর ‘ছলনাভিত্তিক যুদ্ধ’ নীতিটি দুর্বল পক্ষের জন্য শক্তিশালী শত্রুকে মোকাবিলার পথ খুলে দিয়েছিল।

আধুনিক ব্যবসায়িক পরিবেশকেও এক প্রকার ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে দেখা হয়। এখানে প্রতিযোগিতা, বাজার দখল, এবং অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রে সুন তজুর নীতিগুলি যেমন: শত্রুর দুর্বলতা চিহ্নিত করা, সম্পদ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা, এবং চমকপ্রদ আক্রমণের ব্যবহার ব্যবহৃত হয়। বাজারে প্রতিপক্ষের কৌশল অনুমান করা এবং নিজেদের দুর্বলতা গোপন রাখা এই দর্শন থেকেই এসেছে।

কূটনীতিতে আলোচনা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে নতি স্বীকার করানো, তাদের জোট ভাঙা এগুলি সরাসরি সুন তজুর কৌশল থেকে নেওয়া হয়েছে। একজন সফল কূটনীতিক যুদ্ধ না করেও কেবল কৌশলগত অবস্থানে গিয়ে চূড়ান্ত রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করতে পারেন, যা ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।

সুন তজু আমাদের দেখিয়েছেন চূড়ান্ত বিজয় আসে শারীরিক শক্তি প্রয়োগের আগে মানসিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। তাঁর কৌশল ছিল ‘যুদ্ধের শিল্প’, যা ছিল মূলত ‘যুদ্ধ এড়ানোর শিল্প’।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য পূরণ হয়নি, আইএমএফের প্রতিনিধিদল আসছে ঢাকায়

চলমান আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি থেকে ষষ্ঠ কিস্তি মুক্তির আগে আবারও ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল। দলটি ২৯ অক্টোবর ঢাকায় পৌঁছাবে এবং দুই সপ্তাহের জন্য দেশে থাকবে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চলতি ঋণ কর্মসূচির শর্তাবলী এবং পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

আইএমএফের গবেষণা বিভাগের উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি শাখার প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও নেতৃত্বে দলটি বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। দলের পর্যালোচনা প্রধানত পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত শর্ত পূরণের অগ্রগতি নিয়ে হবে।

বাংলাদেশের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুমোদিত হয়। প্রাথমিকভাবে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়েছিল। এরপর প্রথম কিস্তি ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার (ফেব্রুয়ারি ২০২৩), দ্বিতীয় কিস্তি ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার (ডিসেম্বর ২০২৩), তৃতীয় কিস্তি ১১৫ কোটি ডলার (জুন ২০২৪), এবং চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি ১৩৩ কোটি ডলার (জুন ২০২৫) এসেছে।

প্রাথমিকভাবে সাত কিস্তিতে ৪৭০ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে কিস্তির সংখ্যা বেড়ে ৮টি এবং ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলার হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই মোট ৩৬৪ কোটি ডলার বিতরণ হয়েছে, বাকি রয়েছে ১৮৬ কোটি ডলার, যা সর্বশেষ সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিতরণ হবে।

আইএমএফের দল এবারে বিশেষভাবে ‘পরিমাণগত কর্মক্ষমতা মানদণ্ড’ (কিউপিসি) পূরণ নিয়ে আলোচনা করবে। কিউপিসি হলো আইএমএফের বাধ্যতামূলক শর্ত। মে মাসে নতুন কিউপিসি শর্তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিদেশি ঋণ নেওয়ার সীমা, জ্বালানি ও সার আমদানির বকেয়া পরিশোধ এবং এনবিআরের রাজস্ব আদায়। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের শর্তও রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হলে পরবর্তী কিস্তি প্রদান করা হবে না। তবে আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ চাইলে শর্তের ক্ষেত্রে পূর্ণ বা আংশিক অব্যাহতি দিতে পারে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮৪৪ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ নিতে পারবে না।

তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) শর্ত অনুযায়ী থাকা উচিত ছিল ১,৭৪০ কোটি ডলার, যা বাস্তবে ২,০৭৩ কোটি ডলার। জ্বালানি ও সার আমদানির বকেয়া পরিশোধ শর্তও পূরণ হয়েছে। তবে রাজস্ব আদায় নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। জুন পর্যন্ত শর্ত অনুযায়ী ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার বিপরীতে এনবিআর ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা আদায় করেছে।

আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, আগামী বৈঠকে এই রাজস্ব আয়ের ঘাটতি এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা না পূরণ হলে আইএমএফের পূর্ণ অব্যাহতি পাওয়া প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া মুদ্রা বিনিময় হারের প্রক্রিয়া ও ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালাও আলোচনার বিষয় হবে।

বর্তমানে ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি থেকে বাংলাদেশ ৪৩ কোটি ডলার করে পাবেন। শেষ কিস্তি ১০০ কোটি ডলার, যা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছাড়া অন্যান্য শর্ত পূরণে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বলেন, “কিস্তি গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কারের বাস্তবায়ন আগে জরুরি।”

এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং চলমান আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইএমএফ দল কীভাবে রাজস্ব আদায় ও অন্যান্য শর্ত পূরণের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবে, তা দেশের ঋণ প্রবাহ ও অর্থনৈতিক নীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

উদ্ভিদের বহু আগে যেভাবে ছত্রাক তৈরি করেছিল পৃথিবীর প্রথম স্থলজ জগৎ

প্রকৃতির ইতিহাস এক বিশাল রহস্যের ভান্ডার, আর সেই ইতিহাসের এক নতুন এবং অত্যাশ্চর্য অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে সাম্প্রতিক গবেষণায়। নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন জার্নালে প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণা ছত্রাকের উৎপত্তি ও বিবর্তন নিয়ে নতুন আলোকপাত করেছে। এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য হলো, আমাদের ভাবনার চেয়েও কয়েকশো মিলিয়ন বছর আগে ছত্রাক পৃথিবীতে তাদের বৈচিত্র্যময় জীবন শুরু করেছিল এবং তারাই স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের প্রাথমিক স্থপতি বা ‘ইকোসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে কাজ করেছে।

স্থলভাগে জীবনের ইতিহাস বুঝতে হলে প্রথমে বহুকোষী জীবনের উৎপত্তি বোঝা দরকার। অকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (OIST)-এর গবেষক ও এই গবেষণার সহ-লেখক, অধ্যাপক গার্গেলি জে. জোল্লোসি ব্যাখ্যা করেন, সরল এককোষী জীবের জগৎ থেকে জটিল বহুকোষী জীবনের উত্থান এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন একবার নয়, কমপক্ষে পাঁচটি প্রধান গোষ্ঠীতে স্বাধীনভাবে ঘটেছিল: প্রাণী, স্থলজ উদ্ভিদ, ছত্রাক, লোহিত শৈবাল এবং বাদামী শৈবাল।

বহুকোষী হওয়া মানে শুধু কোষের এক জায়গায় জড়ো হওয়া নয়। এর জন্য প্রয়োজন ছিল বিশেষায়িত কোষ, যারা বিভিন্ন কাজ করবে এবং টিস্যু ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠন করবে। এই রূপান্তরের জন্য উন্নত অভিযোজন দরকার ছিল, যেমন: কোষকে একত্রে ধরে রাখার জন্য শক্তিশালী আণবিক ব্যবস্থা এবং তাদের কার্যকলাপ সমন্বয় করার জন্য জটিল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এই অত্যাধুনিক উদ্ভাবনগুলি উপরোক্ত পাঁচটি গোষ্ঠীর প্রতিটিতে স্বাধীনভাবে বিকশিত হয়েছিল। এই গোষ্ঠীগুলির উত্থানের সময়কাল জানাটা পৃথিবীতে জীবনের ইতিহাসকে জোড়া লাগানোর জন্য অপরিহার্য।

অধিকাংশ জীবের জন্য জীবাশ্ম রেকর্ড একটি ভূতাত্ত্বিক ক্যালেন্ডারের মতো কাজ করে। যেমন—লোহিত শৈবাল সম্ভবত ১.৬ বিলিয়ন বছর আগে, প্রাণী প্রায় ৬০০ মিলিয়ন বছর আগে, আর স্থলজ উদ্ভিদ প্রায় ৪৭০ মিলিয়ন বছর আগে ক্ষুদ্র জীবাশ্ম রেণু বা স্পোরের মাধ্যমে আবির্ভূত হয়েছিল। কিন্তু এই সময়রেখায় ছত্রাক একটি বড় ব্যতিক্রম।

ছত্রাক রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম বিজ্ঞানীদের কাছে এক ধাঁধা ছিল। তাদের সাধারণত নরম, তন্তুময় শরীর হওয়ার কারণে তারা খুব কমই ভালোভাবে জীবাশ্মে পরিণত হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রাণী বা উদ্ভিদের মতো ছত্রাকের জটিল বহুকোষী জীবনের একক উৎস নেই, এটি বিভিন্ন এককোষী পূর্বপুরুষ থেকে একাধিকবার বিবর্তিত হয়েছে। এই কারণে, তাদের একক উৎপত্তির সময়কাল সঠিকভাবে নির্ণয় করা কঠিন ছিল।

এই অসুবিধা দূর করতে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন আণবিক ঘড়ি। এই ধারণা অনুযায়ী, জিনের মিউটেশন বা পরিবর্তনগুলি তুলনামূলকভাবে স্থির হারে জমা হতে থাকে। দুটি প্রজাতির মধ্যে জেনেটিক পার্থক্য তুলনা করে, বিজ্ঞানীরা অনুমান করতে পারেন কত দিন আগে তারা একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে আলাদা হয়েছিল। তবে আণবিক ঘড়িকে নিরঙ্কুশ বছর দেওয়ার জন্য জীবাশ্ম রেকর্ডের ‘অ্যাঙ্কর পয়েন্ট’ বা ক্রমাঙ্কন বিন্দুর প্রয়োজন হয়।

OIST-এর নেতৃত্বাধীন গবেষক দলটি এই সমস্যার সমাধানে একটি অভিনব তথ্যসূত্র যুক্ত করেছেন, সেটি হল অনুভূমিক জিন স্থানান্তর ।

অধ্যাপক জোল্লোসি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত জিন পিতামাতা থেকে সন্তানে উল্লম্বভাবে সঞ্চারিত হয়। কিন্তু HGT হলো এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে জিনের ‘পাশাপাশি লাফিয়ে’ যাওয়া। এই ঘটনাগুলি ছত্রাকের সময়রেখা নির্ধারণের জন্য শক্তিশালী অস্থায়ী সূত্র সরবরাহ করে।

তাঁর মতে, “যদি দেখা যায় যে ‘A’ বংশের একটি জিন ‘B’ বংশে লাফিয়ে স্থানান্তরিত হয়েছে, তবে এটি একটি স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করে: ‘A’ বংশের পূর্বপুরুষদের অবশ্যই ‘B’ বংশের উত্তরসূরিদের চেয়ে বেশি পুরোনো হতে হবে।”

দলটি এই ধরনের ১৭টি জিন স্থানান্তর চিহ্নিত করেছে। এই ‘পুরোনো-বা-নতুন’ সম্পর্কগুলি জীবাশ্ম রেকর্ডের পাশাপাশি ছত্রাকের বিবর্তনের সময়রেখাকে আরও সুসংগঠিত এবং দৃঢ় করতে সাহায্য করেছে।

এই বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া সংশোধিত সময়রেখাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গবেষণাটি প্রস্তাব করে যে বর্তমান জীবিত ছত্রাকগুলির সাধারণ পূর্বপুরুষ প্রায় ১.৪ থেকে ০.৯ বিলিয়ন বছর আগে বিবর্তিত হয়েছিল, যা স্থলজ উদ্ভিদ পৃথিবীতে আসার বহু আগে।
এই সময়কাল এই ধারণাকে সমর্থন করে, স্থলজ জীবনের মঞ্চ তৈরি করার জন্য ছত্রাক ও শৈবালের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের মিথস্ক্রিয়া ছিল। গবেষণার সহ-প্রথম লেখক ড. লেনার্ড এল. জান্থো জোর দিয়ে বলেন, “ছত্রাক বাস্তুতন্ত্র পরিচালনা করে – তারা পুষ্টি পুনর্ব্যবহার করে, অন্যান্য জীবের সাথে অংশীদারিত্ব করে এবং কখনও কখনও রোগ সৃষ্টি করে। তাদের সময়রেখা চিহ্নিত করে দেখা যাচ্ছে যে তারা উদ্ভিদের অনেক আগে থেকেই বৈচিত্র্যময় হচ্ছিল, যা শৈবালের সাথে তাদের প্রাথমিক অংশীদারিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অংশীদারিত্বই সম্ভবত স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছিল।”

এই সংশোধিত সময়রেখা পৃথিবীর স্থলভাগ বিজয়ের গল্পটিকে মৌলিকভাবে নতুনভাবে সাজায়। প্রথম সত্যিকারের উদ্ভিদ মূল স্থাপন করার কয়েকশো মিলিয়ন বছর আগে থেকেই ছত্রাক উপস্থিত ছিল। এই দীর্ঘ প্রস্তুতিমূলক পর্যায়টি পৃথিবীর মহাদেশগুলিকে বাসযোগ্য করার জন্য অপরিহার্য ছিল।

এই প্রাচীন ছত্রাকগুলি শিলা ভেঙে এবং পুষ্টি উপাদানগুলির চক্রাকার আবর্তন ঘটিয়ে প্রথম সত্যিকারের বাস্তুতন্ত্র প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। তারা প্রথম আদিম মাটি তৈরি করে এবং স্থলজ পরিবেশকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।

এই নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্ভিদেরা কোনো বন্ধ্যা মরুভূমি’তে উপনিবেশ স্থাপন করেনি, বরং এমন এক জগতে এসেছিল যা ছত্রাক রাজ্যের প্রাচীন ও নিরন্তর কার্যকলাপের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। ছত্রাক শুধু পৃথিবীর ইতিহাসে একটি অধ্যায় নয়, এটি একটি দীর্ঘ ভূমিকা যা স্থলজ জীবনের মহাযাত্রার জন্য মঞ্চ তৈরি করেছিল।

অন্যায়কারীর বিচার হতেই হবে সে ব্যক্তি হোক বা দল : আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে, তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্যায়কারীর বিচার হতেই হবে, সে ব্যক্তি হোক বা দল। আওয়ামী লীগ যদি দল হিসেবে অন্যায় করে থাকে, তবে দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। দেশের আইনই সিদ্ধান্ত নেবে, কে অপরাধ করেছে আর কে করেনি। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। অন্যায় হলে তার বিচার হওয়া দরকার। এটি প্রতিশোধের বিষয় নয়, এটি ন্যায়ের ও আইনের বিষয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “দল হিসেবে যদি তারা অন্যায় করে থাকে, তাহলে দেশের আইন সেই বিচার করবে। যারা জুলুম করেছে, নির্যাতন চালিয়েছে, হত্যা করেছে—তাদের বিচার হতেই হবে।”

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নিজের দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি ১৭ বছর যাবত প্রবাসে আছি। ওয়ান ইলেভেনের সময় আমার ওপর যে শারীরিক নির্যাতন হয়েছিল, তার পর চিকিৎসার প্রয়োজনে আমি বিদেশে আসি। আমি যখন এই দেশে আসি, আমার ছোট ভাইকে, আমার সুস্থ মাকে, আমার পারিবারিক স্মৃতিময় ঘরকে রেখে এসেছিলাম। সেই ঘর, সেই স্মৃতি, সেই পরিবার—সবকিছু ভেঙেচুরে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, তার ছোট ভাই আর বেঁচে নেই, আর যাকে সুস্থ অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন সেই মা এখন শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। “আমার পরিবারের এই কাহিনী শুধু আমার নয়,” বলেন তারেক, “বাংলাদেশের হাজার হাজার পরিবারের গল্প এটি। যে পরিবারের বাবাকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় হাসপাতালের বারান্দায় মারা যেতে হয়েছে, বা জেলের ভিতরে প্রাণ দিতে হয়েছে। কারও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, কারও সম্পত্তি লুট হয়েছে। এই সমস্ত অন্যায় ও হত্যার জন্য যারা দায়ী, যারা এসবের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং ন্যায়বিচারের নীতিতে আস্থা রাখে। “এটি প্রতিশোধ নয়, এটি আইনের কথা। অন্যায় হলে তার বিচার হতে হবে—এটাই আমাদের অবস্থান।”

এক প্রশ্নে, আওয়ামী লীগের কি রাজনীতিতে থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন কি না—জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য। বিএনপির রাজনৈতিক বিশ্বাসের মূল উৎস জনগণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দল বা ব্যক্তিরা মানুষ হত্যা করে, গুম করে, লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে, জনগণ তাদের সমর্থন করতে পারে না। জনগণ যদি সমর্থন না করে, তবে তাদের রাজনীতিতে টিকে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি, জনগণের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখি। জনগণই এই দেশের চূড়ান্ত বিচারক।”

তারেক রহমানের এই বক্তব্যে তিনি একদিকে নিজের পারিবারিক ক্ষতির বেদনাকে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অন্যায়কারীর বিচার হবে, সেটি ব্যক্তি হোক বা দল—দেশের আইন ও জনগণই সেই বিচার করবে।

কম্পাস না থাকলে পৃথিবীর মানচিত্র কেমন হতো?

পৃথিবীর ইতিহাসে কয়েকটি আবিষ্কার মানবসভ্যতা এবং জ্ঞানের সীমানাকে আমূল পাল্টে দিয়েছে। এদের মধ্যে চুম্বক কম্পাস (Magnetic Compass) একটি, যার জন্ম হয়েছিল প্রাচীন চীনে। এই ক্ষুদ্র যন্ত্রটি শুধু দিক নির্ণয়ের কৌশলকেই পাল্টায়নি, বিশ্বব্যাপী ভূগোল, বাণিজ্য এবং মহাদেশীয় আবিষ্কারের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

কম্পাসের ইতিহাস খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে শুরু হয় চীনে হান রাজবংশের সময়কালে। তবে মজার বিষয় হলো, প্রথমদিকে এর ব্যবহার দিক নির্ণয়ের জন্য ছিল না। চীনারা একে বলত ‘সিনান’ বা ‘দক্ষিণ নির্দেশক মাছ’। প্রাচীন চীনে এর প্রাথমিক ব্যবহার ছিল ভূ-গণনা বা ফেং শুই এর জন্য—অর্থাৎ, বাড়িঘর ও সমাধিস্থলের সঠিক অবস্থান ও সামঞ্জস্য নির্ধারণে। তারা আবিষ্কার করে চুম্বক আকরিক বা ‘লোডস্টোন’ যদি অবাধে ঘুরতে পারে, তবে তা সবসময় পৃথিবীর চৌম্বক মেরুর দিকে মুখ করে থাকে। এটি ছিল একটি গভীর বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, যা পরে নৌ-চালনার মৌলিক ভিত্তি স্থাপন করে।

কম্পাস আবিষ্কারের আগে সমুদ্রপথে, দিক নির্ণয়ের জন্য নাবিকদের একমাত্র ভরসা ছিল আকাশীয় নেভিগেশন। দিনের বেলা সূর্যের অবস্থান এবং রাতে ধ্রুবতারা বা অন্যান্য নক্ষত্রপুঞ্জকে অনুসরণ করে তারা দিক ঠিক করত।

কম্পাস না থাকলে মেঘলা আকাশ, ঘন কুয়াশা বা বৃষ্টির দিনে নক্ষত্র বা সূর্য দেখতে না পেলে সমুদ্রে দিকভ্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল চরম। ফলে নাবিকরা উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বাধ্য হতেন। দীর্ঘ দূরত্বের ব্লু-ওয়াটার সেলিং বা খোলা সমুদ্রে পাড়ি জমানো ছিল প্রায় অসম্ভব।

অক্ষাংশ নির্ণয়ের জন্য যন্ত্র থাকলেও, সঠিক দ্রাঘিমাংশ এবং দূরত্বের নির্ভুল ধারণা পাওয়া কঠিন হতো। এর ফলে মানচিত্রগুলি হতো অনেকটাই অনুমান নির্ভর। কার্টোগ্রাফি বা মানচিত্রাঙ্কন বিজ্ঞান তার কাঙ্ক্ষিত নির্ভুলতা অর্জন করতে পারত না।

আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথগুলি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ধীরগতির। ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মতো বিশাল জলরাশি পাড়ি দিতে অনেক বেশি সময় ও সম্পদের অপচয় হতো। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি ও প্রসার কমে আসত।

একাদশ থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে চীনের সং রাজবংশের আমলে কম্পাস সামরিক দিকনির্দেশনা এবং পরবর্তীতে নৌ-নেভিগেশনের অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়। এই আবিষ্কারের জ্ঞান আরব বণিকদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং দ্বাদশ শতকের শেষ দিকে ইউরোপে পৌঁছায়।

ইউরোপে কম্পাসের আগমন এক নতুন যুগের সূচনা করে, যা ভৌগোলিক আবিষ্কারের যুগ নামে পরিচিত। কম্পাস না থাকলে এই যুগের সূচনা কঠিন হতো। ক্রিস্টোফার কলম্বাস, ভাস্কো দা গামা এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নাবিকেরা খোলা সমুদ্রে নির্ভুলভাবে নেভিগেট করতে পারত না। আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া বা আফ্রিকা ঘুরে ভারতে আসার নতুন জলপথ খুঁজে বের করা হয়তো আরও কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে যেত।

কম্পাস আবিষ্কার না হলে আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কার আরও দেরিতে হতে পারত। ফলে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যতা এবং বর্তমান জাতিরাষ্ট্রগুলির উদ্ভব হয়তো অন্য পথে চলত। বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতো। বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে জ্ঞান, সংস্কৃতি, পণ্য ও প্রযুক্তির আদান-প্রদান আরও সীমিত থাকত। বিশ্ব একটি ‘সংযুক্ত বিশ্ব’ হিসেবে গড়ে উঠতে অনেক বেশি সময় নিত।

কম্পাস আবিষ্কার না হলে ভূগোল একটি বর্ণনামূলক বিজ্ঞান হিসেবেই থেকে যেত। এটি একটি পর্যবেক্ষণ-ভিত্তিক বিজ্ঞান হতো, যেখানে মানচিত্রগুলি নক্ষত্র, উপকূলীয় রেখা এবং নাবিকদের স্মৃতি নির্ভর করত।

দূরবর্তী স্থানের নির্ভুল ভৌগোলিক তথ্য সংগ্রহ করা যেত না। ফলে পৃথিবীর আকৃতি, বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থান এবং জলবায়ু সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ থাকত। কম্পাসের ব্যবহার চৌম্বক ক্ষেত্র, পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং নেভিগেশন সংক্রান্ত অন্যান্য গাণিতিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞানকে একীভূত করতে সাহায্য করেছিল। কম্পাস না থাকলে এই আন্তঃশাস্ত্রীয় অগ্রগতি বিলম্বিত হতো।

সমুদ্রপথে দ্রুত ও নির্ভুল যাত্রা সম্ভব না হলে নৌ-শক্তি একটি দেশের ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল ভিত্তি হতে পারত না। সাম্রাজ্যগুলির আঞ্চলিকতা হয়তো আরও সীমাবদ্ধ থাকত।

চীনের প্রাচীন আবিষ্কার কম্পাস মানব ইতিহাসে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। এটি কেবল একটি যান্ত্রিক সরঞ্জাম ছিল না, এটি ছিল সাহস, নির্ভুলতা এবং নতুনত্বের প্রতীক। কম্পাস আবিষ্কার না হলে, মানুষ সম্ভবত বহু শতাব্দী ধরে সমুদ্রের কিনারায় বিচরণ করত এবং পৃথিবীর বিশালত্ব সম্পর্কে তার ধারণা থাকত সীমিত। এটি ভৌগোলিক জ্ঞান, বৈশ্বিক সংযোগ এবং বর্তমান আধুনিক বিশ্বের স্থাপত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই আবিষ্কারের অভাবেই হয়তো বিশ্বের ভৌগোলিক আবিষ্কারের ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন, আরও ধীরগতির এবং অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতো।

নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের শাসন ফেরাতে হবে : আমীর খসরু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

দেশে গণতন্ত্রের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনঃস্থাপনের একমাত্র পথ হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।

বৈঠকের আগে আমীর খসরু জাতিসংঘের প্রতিনিধি গোয়েন লুইসকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে যে অবদান জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে, তার জন্য তারা প্রশংসার দাবি রাখে।

বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনায় ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। এ বিষয়ে জাতিসংঘ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।

আমীর খসরু বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি এবং পর্যবেক্ষণ বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যতদিন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে না, ততদিন জাতিসংঘ শরণার্থী সমস্যায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সমর্থন প্রকাশ করেছে।

গোয়েন লুইস বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। জাতিসংঘ নির্বাচন কমিশনকে সমর্থন প্রদান এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গঠনের প্রচেষ্টাকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যেন নির্বাচনের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গোয়েন লুইস বলেন, বাংলাদেশ শরণার্থীদের প্রতি যে অত্যন্ত আতিথেয়তা প্রদর্শন করেছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসার যোগ্য।

আবাসন খাতের মন্দায় সংকুচিত ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার

দেশের নতুন নির্মাণ বিধিনিষেধের কারণে আবাসন খাতে মন্দা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ফিটিংসের বাজারেও। বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে, যা দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় উৎপাদন শিল্পে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এতে প্রভাব পড়ছে প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসন বাজারের সংকোচনই মূলত ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অথচ কয়েক বছর আগে এই খাত সফলভাবে আমদানি-নির্ভরতা থেকে বের হয়ে স্থানীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক মাহবুব হাসান সরকার জানিয়েছেন, “আমাদের পণ্যের বাজার মূলত আবাসন খাতের ওপর নির্ভরশীল। আগে ব্যবসা ভালো ছিল, কিন্তু গত এক বছরে বিক্রি অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।”

ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ফ্যান, লাইট, সুইচ, ওয়্যারিং, সকেট, হোল্ডার, মাল্টি-প্লাগ, সার্কিট ব্রেকার ও মিটারসহ অন্যান্য ফিটিংসের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কাপ্তান বাজারের আলিফ ইলেকট্রনিক্স জানায়, তাদের সাপ্তাহিক বিক্রি ২০ লাখ টাকা থেকে কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ডেভেলপার ও ঠিকাদারদের কার্যক্রমও এখন আগের মতো নেই।

মন্দার মূল কারণ হিসেবে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংশোধনকে উল্লেখ করেছেন। নতুন নিয়মে ছোট প্লটে ভবনের উচ্চতা সীমিত হওয়ায় নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, “ফ্ল্যাট তৈরি কমে গেছে, কার্যক্রম ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর বিরূপ প্রভাব শুধু ইলেকট্রিক্যাল খাতেই নয়, স্টিল, সিমেন্ট ও রঙসহ অন্যান্য খাতেও পড়ছে।”

বাজারের আকার প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল সরঞ্জামের বাজার ৩,৫৭৫ কোটি টাকা এবং আলোকসজ্জা পণ্যের বাজার ২,৯২৫ কোটি টাকা। দেশব্যাপী এই খাতে ১ লাখ ৫০ হাজার খুচরা বিক্রেতা ও ২ হাজার ৫০০ উদ্যোক্তা কর্মরত।

তবে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পেরেছে। ওয়ালটন ক্যাবলের চিফ বিজনেস অফিসার রাজু আহমেদ জানান, “২০২০ সালের আগে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশের বেশি ছিল, কিন্তু গত বছর বিক্রি ২০-২৫ শতাংশ কমেছে। তবে পণ্যের বৈচিত্র্য নতুন গ্রাহক আকর্ষণে সহায়ক হয়েছে।” বিআরবি ক্যাবলের পরিচালক রফিকুল আলম রনি বলেন, “আমাদের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। যদিও পরিচালন ব্যয় বেড়েছে, পণ্যের বৈচিত্র্য ও নতুনত্বের কারণে আমরা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছি।”

নতুন নির্মাণ বিধিনিষেধ ও আবাসন বাজারের সংকোচন দেশের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স খাতকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে, তবে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্য খাতটিকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখছে।