বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্যায়কারীর বিচার হতেই হবে, সে ব্যক্তি হোক বা দল। আওয়ামী লীগ যদি দল হিসেবে অন্যায় করে থাকে, তবে দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। দেশের আইনই সিদ্ধান্ত নেবে, কে অপরাধ করেছে আর কে করেনি। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। অন্যায় হলে তার বিচার হওয়া দরকার। এটি প্রতিশোধের বিষয় নয়, এটি ন্যায়ের ও আইনের বিষয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “দল হিসেবে যদি তারা অন্যায় করে থাকে, তাহলে দেশের আইন সেই বিচার করবে। যারা জুলুম করেছে, নির্যাতন চালিয়েছে, হত্যা করেছে—তাদের বিচার হতেই হবে।”
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নিজের দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি ১৭ বছর যাবত প্রবাসে আছি। ওয়ান ইলেভেনের সময় আমার ওপর যে শারীরিক নির্যাতন হয়েছিল, তার পর চিকিৎসার প্রয়োজনে আমি বিদেশে আসি। আমি যখন এই দেশে আসি, আমার ছোট ভাইকে, আমার সুস্থ মাকে, আমার পারিবারিক স্মৃতিময় ঘরকে রেখে এসেছিলাম। সেই ঘর, সেই স্মৃতি, সেই পরিবার—সবকিছু ভেঙেচুরে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, তার ছোট ভাই আর বেঁচে নেই, আর যাকে সুস্থ অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন সেই মা এখন শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। “আমার পরিবারের এই কাহিনী শুধু আমার নয়,” বলেন তারেক, “বাংলাদেশের হাজার হাজার পরিবারের গল্প এটি। যে পরিবারের বাবাকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় হাসপাতালের বারান্দায় মারা যেতে হয়েছে, বা জেলের ভিতরে প্রাণ দিতে হয়েছে। কারও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, কারও সম্পত্তি লুট হয়েছে। এই সমস্ত অন্যায় ও হত্যার জন্য যারা দায়ী, যারা এসবের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং ন্যায়বিচারের নীতিতে আস্থা রাখে। “এটি প্রতিশোধ নয়, এটি আইনের কথা। অন্যায় হলে তার বিচার হতে হবে—এটাই আমাদের অবস্থান।”
এক প্রশ্নে, আওয়ামী লীগের কি রাজনীতিতে থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন কি না—জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য। বিএনপির রাজনৈতিক বিশ্বাসের মূল উৎস জনগণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দল বা ব্যক্তিরা মানুষ হত্যা করে, গুম করে, লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে, জনগণ তাদের সমর্থন করতে পারে না। জনগণ যদি সমর্থন না করে, তবে তাদের রাজনীতিতে টিকে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি, জনগণের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখি। জনগণই এই দেশের চূড়ান্ত বিচারক।”
তারেক রহমানের এই বক্তব্যে তিনি একদিকে নিজের পারিবারিক ক্ষতির বেদনাকে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অন্যায়কারীর বিচার হবে, সেটি ব্যক্তি হোক বা দল—দেশের আইন ও জনগণই সেই বিচার করবে।


