নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল শুধুমাত্র ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালাবে এবং পারমাণবিক স্থাপনা বা তেল সংক্রান্ত অবকাঠামোতে কোনো আক্রমণ করবে না। আজ মঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানেন এমন দুই কর্মকর্তাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় দুই মাসের বিরতির পর ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ফোনালাপে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে ধ্বংস করা। এই প্রতিবেদনের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং হোয়াইট হাউস উভয়ই এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় আজ সকালে এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের আলোকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।
সম্প্রতি ইসরায়েলে ইরান অভিমুখে প্রায় ১৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। ইসরায়েল এই হামলার বেশিরভাগ প্রতিহত করেছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এই হামলার পর নেতানিয়াহু ইরানের প্রতি কড়া প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
প্রাথমিকভাবে নেতানিয়াহু পারমাণবিক স্থাপনা ও তেল পরিশোধনাগারে আক্রমণের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রেখেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কথা মাথায় রেখে তিনি সীমিত আক্রমণে মনোনিবেশ করেছেন।
বাইডেন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনার ওপর হামলার সমর্থন করেন না। নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এদিকে এই সীমিত হামলার পরিকল্পনা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্থাপনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত ইরানের ওপর সীমিত সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।


