Home Blog Page 89

কেমন আছে ঢাকার , সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ?

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষাকে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে এই স্তরটি নানা সংকটে জর্জরিত। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং একমুখী ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। শিশুদের মধ্যে ন্যূনতম জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতা গঠনের সূচনা হয় এই পর্যায় থেকেই। তাই এর গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় বহুমাত্রিকতা, বৈষম্য এবং দুর্বল বিনিয়োগের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিটিই দুর্বল থেকে যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। এখানে প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তত ১১ ধরনের প্রতিষ্ঠান এবং ৫ ধরনের কারিকুলাম চালু আছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন সিলেবাসে শিক্ষা দিচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ থাকলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ঢাকার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে ঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার ছিল মাত্র ১৯.৬ শতাংশ।আগের বছরের তুলনায় তা প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। মূলত সরকারি বিদ্যালয়গুলোয় মানসম্পন্ন শিক্ষা, উপযুক্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের অভাব অভিভাবকদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে সমাজে একটি শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে যেখানে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান সমস্যা হলো অবকাঠামোর দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত খেলার মাঠ, অপরিচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব। এছাড়া শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও পেশাগত মর্যাদা খুবই নিম্নমানের, যা শিক্ষকদের পেশাগত অনুপ্রেরণা হ্রাস করে। নেপ-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৩১.৩ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষক এসএসসি বা এইচএসসি পাশ, অর্থাৎ তারা নিজেরাই বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা পাওয়া স্বাভাবিকভাবেই অসম্ভব।

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো কারিকুলাম সাজিয়ে অভিভাবকদের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা দিচ্ছে।তারা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ইংরেজিমাধ্যম, সহায়ক পাঠদান পদ্ধতি ও ক্লাসের বাইরে বাড়তি যত্ন প্রদানের মাধ্যমে সচেতন ও সামর্থ্যবান অভিভাবকদের আকৃষ্ট করছে। অন্যদিকে সরকারি বিদ্যালয়গুলো উপেক্ষিত হয়ে পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের মানগত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, যা সামগ্রিক সমাজে বৈষম্যকে তীব্রতর করছে।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাজেট ঘাটতি। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া উচিত হলেও বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দিয়েছে মাত্র ১.৬৯ শতাংশ, যা বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত কমছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও অনেক পিছিয়ে। এই বিনিয়োগ ঘাটতির ফলে মানসম্পন্ন অবকাঠামো, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, সহায়ক উপকরণ সরবরাহ সবকিছুতেই ঘাটতি দেখা যায়।

তবে এই সংকটের একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে সরকার অতীতে কয়েকবার বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার এবং ২০১৩ সালে ২৬ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এতে অনেক শিক্ষক সরকারি চাকরির সুযোগ পান। কিন্তু শিক্ষা মানোন্নয়নে তা যথেষ্ট ছিল না। জাতীয়করণের ফলে বেতন কিছুটা বাড়লেও পেশাগত মর্যাদা এবং পরিবেশগত সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি।

এই সংকট উত্তরণে কয়েকটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি:
১. একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা – সব শিক্ষার্থী যেন একই সিলেবাসে, একই মানের শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করা।
২. সরকারি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন – খেলার মাঠ, নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, টয়লেট সুবিধা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধি – দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে হবে।
৪. বিনিয়োগ বাড়ানো – শিক্ষায় জিডিপির কমপক্ষে ৪-৬% ব্যয় বরাদ্দ করতে হবে, যাতে মৌলিক অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হয়।
৫. অপরিকল্পিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ – বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা শুধু একটি স্তর নয়, এটি একটি জাতির ভিত্তি। যদি এই ভিত্তি দুর্বল থাকে, তাহলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাও দাঁড়াবে না। তাই এখনই সময় প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন করে ভাবার, বিনিয়োগ বাড়ানোর এবং নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের।

আরাকান আর্মি তরুণ-তরুণীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা , ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ

মিয়ানমারের বাংলাদেশ সংলগ্ন রাজ্য রাখাইনের তরুণ-যুবাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অঞ্চলটির কার্যত নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গত বৃহস্পতিবার জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী নারীরা রাখাইন রাজ্য ছাড়তে পারবে না। চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জরুরি অবস্থা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এই বয়সীদের জন্য এএ-তে কমপক্ষে ২ বছর সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আরাকান রাজ্যের এক মানবাধিকার কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মাকে (ডিভিবি) বলেছেন, ‘যারা সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে অনিচ্ছুক, তাদের জোর করা ব্যক্তিগত অধিকারের লঙ্ঘন। মানবাধিকার লঙ্ঘন শুধু নির্যাতন বা হত্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাও লঙ্ঘন।’

তবে এএ দাবি করেছে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা একটি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা। তারা শাসকগোষ্ঠী জান্তাবাহিনীর হাতে স্থানীয়দের গ্রেপ্তার, চাঁদাবাজি, সহিংসতা বা জোরপূর্বক নিয়োগের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে জানিয়েছে। এএ রাখাইনে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে শাসকগোষ্ঠীর ফেলে যাওয়া ল্যান্ডমাইনগুলোকেও উল্লেখ করেছে।

গত মার্চ মাস থেকে এএ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জোরপূর্বক নিয়োগের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এখন গোষ্ঠীটি নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের অঞ্চলটি থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়াও নিষিদ্ধ করেছে। কেবল যাদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং এএ-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেই চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হবে।

মিয়ানমার সংঘাতের স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন ডিভিবিকে বলেছেন, ‘বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা একটি ভুল পদ্ধতি, সেটি যে সশস্ত্র গোষ্ঠীই আরোপ করুক না কেন।’ তিনি বলেন, ‘এএ স্পষ্টতই প্রশাসন, পুলিশ এবং সম্ভবত ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য শ্রমিকের প্রয়োজন অনুভব করছে।’

শাসকগোষ্ঠী মিয়ানমার জান্তা ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তাদের সামরিক বাধ্যতামূলক আইন কার্যকর করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে সমালোচিত হয়েছে। তারা সামরিক সেবার বয়সের পুরুষদের দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আরাকান আর্মির এক সদস্য ডিভিবিকে বলেন, ‘এটি (এএ-এর জোরপূর্বক সামরিক সেবা) সঠিক কাজ। আমরা আমাদের মুক্তির জন্য লড়ছি। তরুণদের দায়িত্ব এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাদের অংশগ্রহণে আমরা দ্রুত এবং আরও কার্যকরভাবে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।’

২০০৯ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠিত এএ এবং এর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ) মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এএ মিয়ানমারের সর্ব উত্তরের কাচিন রাজ্যের কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মির (কেআইএ) সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তারা আরাকানে বড় ধরনের সামরিক কার্যকলাপ শুরু করেনি।

এরপর, ২০১৬-২১ সাল পর্যন্ত অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সরকারের সময় এএ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর অপারেশন ১০২৭-এর পর ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের আরও দুই গোষ্ঠী টিএনএলএ এবং এমএনডিএএ উত্তর শান রাজ্যে দ্রুত অগ্রগতির পরপরই এএ ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর রাখাইনজুড়ে আক্রমণ শুরু করে।

হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ফাউন্ডেশনের এপ্রিলের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এএ-এর এখন ৩০ হাজারের বেশি সৈন্য রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই ২০২১ সাল থেকে যোগ দিয়েছে বলে মনে করা হয়।

এএ আরাকানের ১৭টি জনপদের মধ্যে ১৪টি এবং পার্শ্ববর্তী চিনল্যান্ডের পালেতওয়া জনপদ নিয়ন্ত্রণ করে। রাজ্যের রাজধানী সিত্তে, কিয়াউকফিউয়ের গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মানাউং দ্বীপ এখনো জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে। শাসকগোষ্ঠী মিয়ানমারের সর্ব পশ্চিমের এই রাজ্যে স্থল বা সমুদ্রপথে সব ধরনের পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে।

এএ এখন একাধিক ফ্রন্টে লড়ছে। কারণ গত বছর থেকে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এর হামলার শিকারও হচ্ছে গোষ্ঠীটি। জানুয়ারিতে এএ আরাকান অভিযান পার্শ্ববর্তী আইয়ারওয়াদি, মগওয়ে এবং বাগো অঞ্চলে প্রসারিত করে।

গাছপালা পূর্বাভাস দেবে অগ্নুৎপাতের

আগ্নেয়গিরি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর অগ্ন্যুৎপাত মানুষের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত পূর্বাভাস দেওয়া বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্প, গ্যাস নিরীক্ষণ, ভূমি বিকৃতি পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি পদ্ধতিতে আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা নিরীক্ষণ করা হলেও, এই পদ্ধতিগুলো সবসময় নির্ভরযোগ্য বা নিরাপদ নয়, বিশেষ করে দুর্গম ও বনভূমি এলাকায়।

সম্প্রতি নাসা ও স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে, আগ্নেয়গিরির আশেপাশের গাছেরা আগাম সংকেত পাঠায়, যা স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। এই গবেষণাটি আগ্ন্যুৎপাত পূর্বাভাসে গাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছে।

আগ্নেয়গিরির মাগমা যখন উপরের দিকে উঠে আসে, তখন তা মাটির নিচে ও বায়ুমণ্ডলে অদৃশ্য কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) নির্গত করে। এই গ্যাস মাটির নিচে জমে থাকে এবং আশেপাশের গাছেরা এটি শোষণ করে। গাছের শ্বাস-প্রশ্বাস ও ফটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত CO₂ গাছের পাতাকে সবুজ এবং আরও প্রতিফলক করে তোলে। এই পরিবর্তন সূক্ষ্ম হলেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়।

গাছের এই পরিবর্তন মূলত দুটি পর্যায়ে ঘটে, প্রথমে CO₂ শোষণের ফলে গাছের পাতার সবুজতা বৃদ্ধি পায়, যা আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার সূচনা নির্দেশ করে। পরে যখন সালফার ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন গাছের পাতায় ক্ষতি হয় এবং গাছের রঙ বাদামী হতে শুরু করে। এই দুই বিপরীত প্রক্রিয়া আগ্নেয়গিরির গতিবিধির সূচক হিসেবে কাজ করে।

নাসার ল্যান্ডস্যাট ৮ ও ইউরোপের সেনটিনেল-২ স্যাটেলাইটগুলো আগ্নেয়গিরির আশেপাশের বনাঞ্চল পর্যবেক্ষণ করছে। আগ্নেয়গিরির কার্বন ডাই অক্সাইড সরাসরি সনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় গাছের পাতার রঙ ও স্বাস্থ্য পরিবর্তনকে একটি জীবন্ত সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোস্টারিকার রিঙ্কন ডে লা ভিয়েজা আগ্নেয়গিরির নিকটে গাছের পাতার স্বাস্থ্য বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য স্যাটেলাইট ও এভুয়েলো মিশনের বিমান থেকে সংগৃহীত লেজার ডেটার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।

এই প্রযুক্তি বনাঞ্চলের গাছেদের স্বাস্থ্য ও পাতার রঙের পরিবর্তনকে নিরীক্ষণ করে আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে, যা আগ্ন্যুৎপাতের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

চিলি ও কোস্টারিকার আগ্নেয়গিরি অঞ্চলে নাসা ও স্মিথসোনিয়ানের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার সময় গাছের পাতার সবুজতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই গবেষণায় স্যাটেলাইট ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গাছের স্বাস্থ্য পরিবর্তনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট বোগের নেতৃত্বে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় (১৯৮৪-২০২২) আমেরিকার ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের আগ্নেয়গিরির আশেপাশের বনাঞ্চলে গাছের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তারা দেখেছেন, আগ্নেয়গিরির সক্রিয় হওয়ার আগের সময় গাছের সবুজতা বৃদ্ধি পায় এবং আগ্ন্যুৎপাতের সময় গাছের স্বাস্থ্য হ্রাস পায়।

প্রচলিত পদ্ধতিতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত পূর্বাভাসে ভূমিকম্প, মাটির বিকৃতি ও গ্যাস নিরীক্ষণ প্রধান ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই পদ্ধতিগুলো সবসময় কার্যকর নয়, বিশেষ করে দুর্গম ও বনভূমি এলাকায় যেখানে সরাসরি পর্যবেক্ষণ কঠিন। গাছের পাতার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ একটি নিরাপদ, স্কেলেবল ও কম খরচে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এই পদ্ধতি আগ্নেয়গিরির আশেপাশের বনাঞ্চল ও জলবায়ুর ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য তথ্য যেমন ভূমিকম্প ও গ্যাস নিরীক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহৃত হলে একটি শক্তিশালী পূর্বাভাস ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। নাসার গবেষক ফ্লোরিয়ান শওয়ান্ডনার বলেছেন, এটি হয়তো একক সমাধান নয়, কিন্তু আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গেম চেঞ্জার হতে পারে।

গাছের পাতার পরিবর্তন নিরীক্ষণ সব আগ্নেয়গিরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ অনেক আগ্নেয়গিরি বনবিহীন বা শুষ্ক অঞ্চলে অবস্থিত। এছাড়া খরা, আগুন বা গাছের রোগের কারণে গাছের স্বাস্থ্য পরিবর্তন আগ্নেয়গিরির সংকেতের সঙ্গে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

তাই এই পদ্ধতিকে অন্যান্য পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে সংযুক্ত করে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া স্যাটেলাইট ডেটার যথাযথ বিশ্লেষণ ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির প্রয়োজন।

গাছের পাতার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আগ্ন্যুৎপাতের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সম্ভাবনা আগ্নেয়গিরি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বব্যাপী আগ্নেয়গিরি মনিটরিং নেটওয়ার্কে এই পদ্ধতি সংযুক্ত করলে আগ্নেয়গিরি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও বনভূমি এলাকায় যেখানে প্রচলিত পর্যবেক্ষণ কঠিন, সেখানে গাছের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ একটি নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রভাব কি এখনও শেষ হয়নি ?

১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের পেছনে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত তত্ত্ব হলো দ্বিজাতি তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুসারে, হিন্দু ও মুসলমানরা কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সংস্কৃতি, ইতিহাস, জীবনদর্শন এবং জাতিসত্তায়ও পৃথক দুটি জাতি। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে এই তত্ত্বকে রাজনৈতিক রূপ দেন এবং দাবি করেন, ভারতবর্ষে মুসলমান ও হিন্দুদের সহাবস্থান সম্ভব নয় কারণ তারা দুটি আলাদা জাতি। তবে দ্বিজাতি তত্ত্বের পেছনে শুধুমাত্র ধর্মীয় পার্থক্য নয়, বরং উপনিবেশিক শাসনের সময় মুসলিম এলিট শ্রেণির অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তাও কাজ করেছিল।

দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল ভিত্তি ছিল ধর্ম। ১৯৩০ সালে মোহাম্মদ ইকবাল এবং পরে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে জিন্নাহ এই তত্ত্বকে রাজনৈতিক রূপ দেন। তাদের যুক্তি ছিল, হিন্দু-মুসলমানরা সহাবস্থান করতে পারবে না, কারণ তারা একে অপরের ‘ন্যাশনাল হোম’-এ পশ্চিমা ধাঁচের জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাস করতে পারে না। কিন্তু ড. খিজার জাওয়াদ ও ড. গুলাম শাব্বিরের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই তত্ত্বের শিকড় শুধু ধর্মীয় পার্থক্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলিম এলিট শ্রেণির অধিকার রক্ষার প্রয়াসও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। মুসলিমরা প্রশাসনিক ও শিক্ষাগতভাবে পশ্চাদপদ হয়ে পড়ায় তারা একটি আলাদা “মুসলিম রাষ্ট্র” চেয়েছিল, যা তাদের ক্ষমতা ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। অর্থাৎ দ্বিজাতি তত্ত্ব কেবল ধর্মতাত্ত্বিক নয়, বরং একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল।

দ্বিজাতি তত্ত্বকে রাজনৈতিক টুল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর দেখা যায়, ধর্মীয় পরিচয়ের ভেতরেও পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও অর্থনৈতিক বিভাজন প্রকট ছিল। মাত্র ২৪ বছরের মাথায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এটি দ্বিজাতি তত্ত্বের এক ঐতিহাসিক পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের জন্ম প্রমাণ করে যে ধর্মই জাতিসত্তার একমাত্র নির্ধারক নয়; ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকারও জাতিসত্তার মূল চালিকা শক্তি। তাই দ্বিজাতি তত্ত্বের রাজনৈতিক প্রয়োগে গভীর ত্রুটি ছিল, যা শেষ পর্যন্ত বিভাজন ও সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আজকের দিনে দ্বিজাতি তত্ত্বের ছায়া নতুন রূপে ফিরে আসছে। পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নিপীড়ন, ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদ, এবং বাংলাদেশে ধর্ম ও জাতীয় পরিচয়ের দ্বন্দ্ব এই তত্ত্বের পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রীয় নীতি হলেও পরে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ বনাম ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ বিতর্ক শুরু হয়। ধর্মীয় পরিচয় ও ভাষাগত পরিচয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেড়ে যায় এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিচয়ের সংকট তৈরি হয়। এই সংকট সমাজে বিভ্রান্তি ও বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল ভিত্তি ছিল এক সম্প্রদায়কে ‘অন্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা, যা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, স্থানচ্যুতি ও সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুদের প্রতি অবজ্ঞা, ধর্মীয় কট্টরপন্থার উত্থান ও ইতিহাসের বিকৃতি এই অপরীকরণ প্রক্রিয়ার নতুন রূপ। দ্বিজাতি তত্ত্ব কেবল একটি পুরনো রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং আজকের সমাজেও সক্রিয় মানসিক গঠনপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিদ্যমান।

পাঠ্যবইয়ে দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রভাব স্পষ্ট। পাকিস্তানে এটি রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে মুসলমানদের আলাদা জাতি হিসেবে গৌরবের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের বয়ানে এই তত্ত্ব প্রত্যাখ্যাত হলেও শিক্ষার্থীদের সামনে পরিচয়ের জটিলতাগুলো বিশ্লেষণ করা হয় না। ফলে অনেক তরুণের মনে প্রশ্ন জন্মায় “আমি কি আগে মুসলমান, না বাঙালি?” এই দ্বিধা পরিচয়ের অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে, যা রাজনৈতিক ব্যবহারযোগ্য। শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিহাসের এই একরৈখিকতা সামাজিক বিভাজনের কারণ হতে পারে।

দ্বিজাতি তত্ত্ব আজ শুধু অতীতের রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস, পরিচয় ও জাতিসত্তার নির্মাণ ও ধ্বংসের ধারাবাহিক চিত্র।বাংলাদেশের জন্মই এই তত্ত্বের ঐতিহাসিক প্রতিবাদ, যেখানে ধর্ম নয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনা জাতিসত্তার প্রধান চালিকা শক্তি ছিল।তবে আজও সমাজে পরিচয়ের সংকট, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও ‘অপর’ নির্মাণ বিদ্যমান থাকায় এটি নতুন রূপে ফিরে আসছে। তাই দ্বিজাতি তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা শুধুমাত্র ইতিহাসচর্চা নয়, নাগরিক দায়িত্বও। অতীত ভুলে গেলে পরিচয়ের বিভ্রান্তি আবারও সমাজকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রয়োজন এমন পরিচয় চর্চা যা বিভাজন নয়, সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেয়।

ঢাকা-সাভারের পানিতে ডায়রিয়ার সুপারবাগ , কাজ করবেনা এন্টিবায়োটিক

ঢাকা ও সাভারের পানির উৎসে ডায়রিয়ার সুপারবাগ জীবাণুর উপস্থিতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজির গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সুপারবাগগুলি এমন ব্যাকটেরিয়া, যেগুলোর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কার্যকর হয় না, ফলে এই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

সুপারবাগ বলতে বোঝায় এমন ব্যাকটেরিয়া যেগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। অর্থাৎ যেসব ব্যাকটেরিয়ার ওপর প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করে না, তাদেরকে সুপারবাগ বলা হয়। এই জীবাণুগুলো দেহে প্রবেশ করলে রোগ হয়, কিন্তু চিকিৎসায় সেগুলো ভালো হয় না বা খুব কঠিন হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করেছে যে ২০৫০ সালের মধ্যে সুপারবাগের কারণে বছরে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি নির্দেশ করে।

গত তিন বছর ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শুভ্র কান্তি দে, সহকারী অধ্যাপক নাদিম শরীফ ও তাঁদের গবেষক দল ঢাকা ও আশেপাশের পানির উৎস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা ও সাভারের ৮টি পানির উৎসে ডায়রিয়ার সুপারবাগ জীবাণু বিদ্যমান, যা ডায়রিয়ার মতো রোগের চিকিৎসাকে কঠিন করে তোলে। এই গবেষণাটি বিশ্ববিখ্যাত নেচার পাবলিশিং গ্রুপের ‘এনপিজে ক্লিন ওয়াটার’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা গবেষণার গুণগত মানের প্রমাণ।

বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ও অতিরিক্ত ব্যবহার সুপারবাগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায়, যেমন বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ গ্রহণ, পুরো কোর্স শেষ না করা, অপ্রয়োজনীয় ডোজ ব্যবহার এবং ভাইরাসজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, এগুলো ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাংলাদেশে হাসপাতালগুলো জীবাণুর প্রধান আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। জনাকীর্ণ হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায় এবং রোগীদের অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রবণতা এই সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের তথ্যের অভাব ও নিয়ন্ত্রণের অভাবও রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধির কারণ।

সুপারবাগের কারণে চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার ফলে রোগীরা দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা ভোগ করে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে এমন জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে যা সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, অর্থাৎ কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সেগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয়। এই ধরনের মাল্টি ড্রাগ, এক্সটেনসিভ ড্রাগ ও প্যান ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু রোগীদের জন্য মারাত্মক হুমকি।

বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। এর জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পোলট্রি, মৎস্য খামার, কৃষি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি।

ব্যক্তিগত পর্যায়েও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ এড়াতে হবে, সম্পূর্ণ ডোজ শেষ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জীবাণু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

ঢাকা ও সাভারের পানির উৎসে ডায়রিয়ার সুপারবাগ জীবাণুর উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। এটি চিকিৎসার জটিলতা বাড়িয়ে রোগীদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে। সুপারবাগের বিস্তার রোধে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে সুপারবাগের কারণে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো দেশে আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

কীভাবে “Yo! MTV Raps” বদলে দিলো হিপহপের ভবিষ্যত ?

১৯৮০-র দশকে হিপহপ মিউজিক ও সংস্কৃতি মূলত নিউ ইয়র্ক সিটির স্থানীয় তরুণ সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৮৮ সালে MTV-এর “Yo! MTV Raps” শো শুরু হওয়ার মাধ্যমে হিপহপ টেলিভিশনের মাধ্যমে জাতীয় এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবেশ করে, এটি হিপহপ সংস্কৃতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৮৭ সালে ইউরোপে প্রথম “Yo! MTV Raps” শুরু হলেও, ১৯৮৮ সালের ৬ আগস্ট আমেরিকায় MTV-এর মাধ্যমে এটি সম্প্রচার শুরু করে। প্রথম হোস্ট ছিলেন ফ্যাব ৫ ফ্রেডি, যিনি নিজে ছিলেন একজন গ্রাফিতি আর্টিস্ট এবং হিপহপ সংস্কৃতির একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। শোটি মূলত র‍্যাপ ভিডিও, র‍্যাপারদের সাক্ষাৎকার, লাইভ পারফরম্যান্স এবং কমেডি নিয়ে গঠিত ছিল।

শোটি শুরুতে সাপ্তাহিক হলেও দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ায় ১৯৮৯ সালে এর দৈনিক সংস্করণ “Yo! MTV Raps Today” চালু হয়, যেখানে ডক্টর ড্রে ও এড লাভার হোস্ট হিসেবে যুক্ত হন। এদের কমেডি ও পারস্পরিক রসায়ন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

“Yo! MTV Raps” হিপহপকে মূলধারার সঙ্গীত ও বিনোদনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এর আগে MTV মূলত রক, পপ ও ইন্ডি সঙ্গীতের জন্য পরিচিত ছিল এবং হিপহপকে অনেক সময় একটি অস্থায়ী ফ্যাড বা সীমাবদ্ধ সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে দেখা হত। কিন্তু “Yo!” শোটি হিপহপকে একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত করে ও তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।

এই শোয়ের মাধ্যমে র‍্যাপাররা যেমন রান-ডিএমসি, পাবলিক এনেমি, এলএল কুল জে, আইস-টি, ডি লা সোল, এরিক বি ও রাকিম প্রমুখ বিশ্বজুড়ে পরিচিত হন, তেমনি হিপহপের সামাজিক বার্তা যেমন বর্ণবাদ, দারিদ্র্য ও সামাজিক অবিচার নিয়ে আলোচনা আরও প্রসারিত হয়। শোটি শুধুমাত্র সঙ্গীত প্রদর্শন ছিল না, ছিল একটি সামাজিক আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মও।

MTV-এর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে “Yo! MTV Raps” ইউরোপ, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকায় হিপহপের প্রসার ঘটায়। এর ফলে হিপহপ কেবলমাত্র আমেরিকার শহুরে তরুণ সমাজের সঙ্গীত নয়, বরং বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ভাষায় পরিণত হয়। এই প্রসার হিপহপকে বিভিন্ন দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে যায়।

শোটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, ১৯৯৩ সালে বিল ক্লিনটনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রবার্ট ডি নিরো এড লাভারকে চিনে অভিনন্দন জানান।

এই শোয়ের মাধ্যমে হিপহপের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও বৃদ্ধি পায়। অনেক হিপহপ শিল্পী ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রা উন্নত হয়, যা পরবর্তীতে অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়।

“Yo! MTV Raps” হিপহপকে জনপ্রিয় করলেও এটি বিভিন্ন বিতর্কের মুখোমুখিও হয়। বিশেষ করে হিংসাত্মক বা বিতর্কিত ভিডিও যেমন পাবলিক এনেমির “By the Time I Get to Arizona” বাতিল করা হয়। এছাড়া টেলিভিশনের সেন্সরশিপ ও কর্পোরেট নীতির কারণে অনেক সময় হিপহপের প্রকৃত বার্তা পুরোপুরি পরিবেশন করা সম্ভব হয়নি।

মূল সিরিজটি ১৯৯৫ সালে শেষ হলেও, “Yo! MTV Raps” এর প্রভাব টিকে থাকে। MTV পরবর্তীতে “Direct Effect” ও “Sucker Free” এর মাধ্যমে হিপহপকে টেলিভিশনে তুলে ধরে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে শোটির বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

“Yo! MTV Raps” টেলিভিশনে হিপহপের প্রবেশের ইতিহাসে এক মাইলফলক। এটি হিপহপকে একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত করে, তরুণ সমাজের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে এবং সঙ্গীত ও সামাজিক বার্তাকে একত্রিত করে। আজকের দিনে হিপহপের আধুনিক রূপায়নে “Yo! MTV Raps” এর অবদান অমলিন এবং এটি প্রমাণ করে একটি সঠিক সময়ে সঠিক প্ল্যাটফর্ম কিভাবে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করতে পারে।

দেশি মূল্যস্ফীতি কেন বাড়লো , কমছে না কেন ?

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ওপরে, যদিও সম্প্রতি কিছুটা কমেছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এত দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা।

করোনার প্রথম ধাক্কার পর ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মূল্যস্ফীতির হার সারা বিশ্বে বাড়তে শুরু করে। এরপর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়। তখন থেকে বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে।

কিন্তু উপমহাদেশের অন্যান্য দেশ বা ইউরোপ-আমেরিকা মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে আনতে পারলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার এখনো যথেষ্ট কমছে না। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নীতিগত ভুলের কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি কমছে না।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান হাতিয়ার হলো মানুষের চাহিদার রাশ টেনে ধরা। এর স্বীকৃত মাধ্যম হলো নীতি সুদহার বাড়ানো। বিশ্বের সব দেশেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সুদহার কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখে, তত দিনে মূল্যস্ফীতি ৭ থেকে ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এরপর ধাপে ধাপে নীতি সুদহার বাড়ানো হলেও তা ছিল সীমিত। ফলে বাস্তব সুদহার ছিল (মূল্যস্ফীতি বাদ দিলে) ঋণাত্মক।

এ কারণে বেশি ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আবার এটাও ঠিক, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি চাহিদাভিত্তিক নয়; এর সঙ্গে রাজস্ব নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সংযোগ আছে।

আরেকটি বিষয় হলো টাকার মান কৃত্রিমভাবে ধরে রাখা। ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন ডলারের মান ছিল ৮৬ টাকা, যদিও রপ্তানিকারকেরা দীর্ঘদিন ধরে টাকার অবমূল্যায়নের কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু শেষমেশ টাকার বিনিময় হার বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হয় ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়।

কিন্তু ডলার-সংকটের কারণে কালোবাজারে ডলারের দাম সরকারি হারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে সরকার আমদানি সীমিত করে। ফলে অনেক পণ্যের আমদানি বিঘ্নিত হয় এবং পরিণামে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যায়। সেই যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেল, তারপর বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো, ভর্তুকি কমানো বা রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ব্যর্থতা। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৈশ্বিক দামের সঙ্গে যথাসময়ে সমন্বয় করা হয়নি। ফলে বাজেটের ওপর চাপ পড়ে। সরকার জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে আয়কর বা প্রত্যক্ষ কর সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি। এতে বাজেট–ঘাটতি বেড়েছে। এই ঘাটতির কিছু অংশ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পূরণ করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মূল্যস্ফীতিতে।

বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেয়। কিন্তু সেই ভর্তুকির লক্ষ্যভিত্তিক বণ্টন দুর্বল। জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্যের ভর্তুকি দরিদ্রদের জন্য যথাযথভাবে বরাদ্দ করা হয়নি। মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ীরাও এ সুবিধা পেয়ে যান। ফলে ভর্তুকির কার্যকারিতা কমে যায়। এসব কারণে দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবনে মূল্যস্ফীতির প্রভাব আরও বেড়ে যায়।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা। পেঁয়াজ, চিনি, চালসহ মূল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয় আছে, যারা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ায়। সরকারের বাজার তদারকির ব্যবস্থা দুর্বল ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। ফলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা অপ্রতুল। উন্নত দেশের সরকার যেভাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, বাংলাদেশ সেভাবে পারে না। এর মূল কারণ, অপ্রতুল রাজস্ব আয়।

মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় একমাত্র প্রত্যক্ষ কর্মসূচি টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি। সেই সঙ্গে আছে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা কর্মসূচি; যদিও তা ঠিক সরাসরি মূল্যস্ফীতির কারণে দেওয়া হয় না। সেটাও আবার পরিমাণ ও পরিসরে অনেক ছোট। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এর আওতার বাইরে থেকে যায়। পাকিস্তানের বিআইএসপি বা ভারতের বিনা মূল্যে খাদ্য কর্মসূচির মতো সর্বজনীন বা ব্যাপকভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি বাংলাদেশে অনুপস্থিত।

দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার আরেকটি কারণ হলো তথ্যের বিকৃতি ও নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব। অভিযোগ আছে, মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান (বিশেষ করে খাদ্য ও বাসাভাড়া) বাস্তবতা থেকে কম দেখানো হয়। এসব কারণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ নাগরিকদের। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, তখন অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা উল্লেখযোগ্য হারে মূল্যস্ফীতি কমাতে পেরেছে। অথচ শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির হার ছিল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি।

বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান — এই তিন দেশের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই পিছিয়ে। প্রথমত, নীতি সুদহার বাড়াতে বিলম্ব করা; দ্বিতীয়ত, মুদ্রার বিনিময় হার ভাসমান বা বাজারভিত্তিক করতে অনেক দেরি করা; তৃতীয়ত, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে না পারা ও চতুর্থত, নিম্ন আয় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিশেষায়িত কর্মসূচি গ্রহণ না করা।

হিমালয়ের অলৌকিক রাজ্য শাম্বালা , বৌদ্ধ তন্ত্রের পাতা থেকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

প্রাচীন তিব্বতি পাণ্ডুলিপির পাতায় গোপন বৌদ্ধ তন্ত্রে এবং আধুনিক ষড়যন্ত্রতত্ত্বে একটি নাম বারবার উঠে এসেছে—শাম্ভালা। হিমালয়ের গহীনে, মানব সভ্যতার চোখের আড়ালে কোথাও যেন এক অলৌকিক রাজ্য। এই রহস্যময় ভূখণ্ডে বসবাস করেন এক ‘অমর রাজা’, যিনি সময় ও মৃত্যুর সীমার বাইরে যেন এক মহাজাগতিক নৈতিকতার প্রতিভূ হয়ে অবস্থান করেন । তবে প্রশ্নটি কেবল ভৌগোলিক নয়, শাম্ভালা কি সত্যিই কোথাও আছে? নাকি এটি আমাদের চেতনার গভীরে গাঁথা এক নৈতিক-আধ্যাত্মিক মানচিত্র?

শাম্ভালার ধারণা মূলত উঠে এসেছে তিব্বতের কালচক্র তন্ত্র (Kalachakra Tantra) থেকে, একটি জটিল বৌদ্ধিক কাঠামো, যেখানে সময়, মহাজাগতিক রাশিচক্র ও আত্মিক উন্নয়নের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। এখানে শাম্ভালা কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং একটি নীতিনিষ্ঠ আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি রাজা একেকজন বোধিসত্ত্ব—নির্বাণপ্রাপ্ত নীতিশাসক। দর্শনমূলক বিশ্লেষণে বলা যায় শাম্ভালা এক ধরনের আর্কেটাইপিক্যাল ইউটোপিয়া যেখানে মানবচরিত্রের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ রূপটি প্রতিষ্ঠিত।

এই গূঢ় দর্শনের বিপরীতে রয়েছে ইতিহাসের একটি অস্বস্তিকর বাঁক। ১৯৩৮ সালে নাৎসি বাহিনীর Ahnenerbe নামক এক রহস্যময় গবেষণা বিভাগ তিব্বতে অভিযান পাঠায়। তাদের বিশ্বাস ছিল, শাম্ভালা মানব সভ্যতার আদি জ্ঞান ও শক্তির আধার—এক ধরনের মহাজ্ঞান-কেন্দ্র, যা বিশ্বশাসনের চাবিকাঠি হতে পারে।

এই অভিযান নিছক রোমাঞ্চ বা অলীক অনুসন্ধান ছিল না বরং এটি ছিল প্রাচ্যবাদ (Orientalism)-এর একটি রাজনৈতিক রূপায়ণ। এডওয়ার্ড সাঈদের ভাষায়, “পশ্চিম প্রাচ্যকে যতটা না বোঝে, তার চেয়ে অনেক বেশি কল্পনা করে”—ঠিক তেমনই, শাম্ভালা হয়ে উঠেছিল পশ্চিমা আধিপত্যবাদী কল্পনার এক “মিথোলজিক্যাল অবজেক্ট”, এক পৌরাণিক প্রতিকৃতি।

প্রচলিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বলা হয়, পৃথিবীর অভ্যন্তরে রয়েছে দুটো বিপরীতধর্মী রাজ্য, শাম্ভালা ও অ্যাগার্থা। শাম্ভালা আত্মিক ও আধ্যাত্মিক, আর অ্যাগার্থা প্রযুক্তিনির্ভর ও বন্য শক্তির আধার। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিশেষ করে ফ্রয়েডীয় বিশ্লেষণে এই দ্বৈততা মানুষের অন্তর্গত দ্বন্দ্বকে প্রতিফলিত করে, শাম্ভালা আমাদের নৈতিক আদর্শ, আর অ্যাগার্থা গোপন ইচ্ছা, প্রাকৃতিক তাগিদ ও অপারশক্তির রূপ।

তিব্বতের কিছু প্রাচীন মণ্ডল চিত্র ও তন্ত্রচক্র মানচিত্রে শাম্ভালার অবস্থান বলা হয়েছে “উত্তর-পূর্ব দিকে, এক আটফুলা পদ্মাকৃতির ভেতর”—যা সরল ভূগোল নয়, বরং ধ্যানচক্রের এক আভ্যন্তরীণ মানচিত্র হতে পারে। এই পঠনে শাম্ভালা হয়ে ওঠে এক “সাইকোজিওগ্রাফিক্যাল ফিকশন”—মন ও মানচিত্রের সংমিশ্রণে গঠিত এমন এক স্থান, যা ভূগোচরে অনুপস্থিত, কিন্তু চেতনায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। নিউ এজ আন্দোলনের একাংশ শাম্ভালাকে চিহ্নিত করে “ভবিষ্যতের চেতনাসভ্যতা” হিসেবে, যেখানে ধ্যান, চেতনার বিকাশ এবং আনহিউম্যান ইন্টেলিজেন্স (AHI)-এর সম্মিলনে গড়ে উঠবে নতুন মানবতা।

তবে শাম্ভালার গভীরে রয়েছে এক রহস্যময় চরিত্র রিগদেন জ্যেপো, কালচক্র তন্ত্র অনুযায়ী যিনি এক ভবিষ্যদ্বক্তা রাজা। বিশ্বাস করা হয়, তিনি ধর্ম ও জ্ঞান নিয়ে একদিন পুনরায় আবির্ভূত হবেন মানবসভ্যতায়। তিনি আমাদের “টাইমলেস ইথিক্যাল ইমাজিনেশন” এক কালাতীত নৈতিক কল্পনা, যেখানে সময়, জ্ঞান ও ন্যায় একসাথে প্রবাহিত হয়। এই রাজা তাই ভবিষ্যতের নয় চেতনাজাগ্রত অতীত ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের সংযোগস্থল।

ফিলিপাইনে গবেষকরা খুঁজে পেলেন ধাতু-শোষণকারী গাছ , পরিষ্কার করবে দূষিত মাটি

বিশ্বজুড়ে পরিবেশ দূষণ একটি ভয়াবহ সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ভারী ধাতু নিকেল, সিসা বা ক্যাডমিয়াম, মাটি ও পানিতে মিশে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। এমন এক সময়ে ফিলিপাইনের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন এক বিস্ময়কর উদ্ভিদ Rinorea niccolifera, যা অসাধারণভাবে উচ্চমাত্রায় নিকেল শোষণ করতে পারে। এই উদ্ভিদ শুধু পরিবেশ সংরক্ষণে নয়, ধাতু আহরণ বা phyto-mining প্রযুক্তিতেও বিপ্লব আনতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবিষ্কারের পেছনের গল্প
Rinorea niccolifera উদ্ভিদটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ফিলিপাইনের লুজন (Luzon) দ্বীপে। দেশটির পরিবেশ-সংরক্ষণ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষকরা এই উদ্ভিদকে প্রথম শনাক্ত করেন ধাতু সমৃদ্ধ অঞ্চলের ঝোপজঙ্গলে। পরে গবেষণায় দেখা যায় এই উদ্ভিদটির পাতায় প্রতি কেজিতে ১৮,০০০ পার্টস পার মিলিয়ন (ppm) পর্যন্ত নিকেল জমা হতে পারে, যা সাধারণ উদ্ভিদের তুলনায় শতগুণ বেশি। গবেষণাটি পরিচালনা করেন ফিলিপাইনের Mines and Geosciences Bureau এবং University of the Philippines-এর বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলেন, Rinorea niccolifera একটি হাইপারঅ্যাকিউমুলেটর উদ্ভিদ, অর্থাৎ এটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ধাতু শোষণ ও জমা করতে পারে, অথচ নিজের ক্ষতি করে না।

কীভাবে কাজ করে এই গাছ?
Rinorea niccolifera এর মূল, কান্ড ও পাতা মাটি থেকে নিকেল শোষণ করে। এই ধাতুটি সাধারণত গাছের জন্য বিষাক্ত হলেও, এই উদ্ভিদটির শরীরে একধরনের জৈব রাসায়নিক প্রতিরক্ষা রয়েছে যা নিকেলের বিষক্রিয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করে। এর ফলে গাছটি সহজেই উচ্চমাত্রার নিকেল নিজের শরীরে জমা করতে পারে এবং বেঁচে থাকতে পারে।

এই উদ্ভিদের আবিষ্কার phytoremediation-এর জন্য একটি বড় আশা জাগিয়েছে। Phytoremediation এমন একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, যেখানে গাছ ব্যবহার করে দূষিত মাটি বা পানিকে বিশুদ্ধ করা হয়। Rinorea niccolifera দূষিত মাটি থেকে নিকেল শোষণ করে মাটিকে নিরাপদ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল বা খনিচালিত অঞ্চলে এই গাছ ব্যবহার করে মাটির ধাতু দূষণ দূর করা সম্ভব। অন্যদিকে এই গাছ ব্যবহার করে phyto-mining অর্থাৎ উদ্ভিদ-ভিত্তিক খনিজ আহরণও সম্ভব হতে পারে। এই পদ্ধতিতে গাছগুলো ধাতু শোষণ করে জমা রাখে, পরে এগুলো সংগ্রহ করে ধাতুটি আলাদা করা হয়। এটি প্রচলিত খননপদ্ধতির তুলনায় সস্তা, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব।

উদ্ভিদটি এখনো কেবল পরীক্ষাগারে এবং স্থানীয় অঞ্চলে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, বড় পরিসরে ব্যবহারের জন্য এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন, Rinorea niccolifera ধীরে বাড়ে এবং এর অভিযোজন ক্ষমতা এখনো বিশেষ ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ। ফলে, একে বিভিন্ন ধরনের মাটিতে ব্যবহারযোগ্য করতে জেনেটিক রূপান্তর বা সংকরায়ণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে গবেষকরা আশাবাদী। তাঁদের মতে সঠিক পরিকল্পনা, কৃষি-প্রযুক্তি ও পরিবেশ-বান্ধব নীতির মাধ্যমে এই উদ্ভিদ ভবিষ্যতে দূষণ-নিয়ন্ত্রণ এবং খনিজ আহরণ দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি , ঢেলে সাজাবে সরকার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছে। মূলত এসব কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বাড়ানো হবে, তবে বিদ্যমান প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মসূচি বাতিল হতে পারে।

বর্তমানে যেখানে ১৪০টি কর্মসূচি আছে, সেখানে নতুন ব্যবস্থায় ১০০টির নিচে নামিয়ে আনা হবে। এর মধ্যে ৩৮টি কর্মসূচিকে ‘দরিদ্রবান্ধব’ হিসেবে ধরা হবে, এগুলোর সহায়তা মূলত অতি দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।

অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ আসলে যতটা মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। কারণ এতে উন্নয়ন বাজেটের বিভিন্ন কর্মসূচিও যুক্ত থাকে। এবার সরকার এই ধরনের কর্মসূচি বাদ দিয়ে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ নিচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকার প্রায় ৯৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে, যা মোট বাজেটের ১২.১৮%। চলতি অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৯০ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেটের ১১.৩৫%। মূল নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর অধীনে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে মাসিক ভাতা মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের রাজস্ব আয় এখনও কম। অন্যদিকে সুদ, ভর্তুকি, এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।চরম দরিদ্রদের জন্য ৩৮টি প্রকল্পে সরকার আগামী বাজেটে প্রায় ৫২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে।

এই কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ভাতার দিক থেকে সবচেয়ে বড় পরিসর ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে চালু হওয়া বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় আগামী অর্থবছরে মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হবে। পরবর্তী বাজেটে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে নতুন করে ১ লাখ উপকারভোগী যুক্ত করা হবে।বর্তমানে এ কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৬০ লাখ ১ হাজার। চলতি বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হলো ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ নারী ভাতা। আগামী বাজেট থেকে এই কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হবে এবং নতুন ১ লাখ ২৫ হাজার নারী এতে যুক্ত হবেন। বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৭ লাখ ৭৫ হাজার। চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা।

শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ভাতা কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হবে। এ ছাড়া ২ লাখ নতুন উপকারভোগী যুক্ত হবেন, বর্তমানে এই সংখ্যা ৩২ লাখ ৩৪ হাজার। চলতি বাজেটে এই কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হবে। এই কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ১৭ লাখ ৭১ হাজারে উন্নীত হতে পারে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আগামী অর্থবছরে সরকার ৫৫ লাখ পরিবারকে স্বল্প মূল্যে চাল দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যেখানে ১০ লাখ টন চাল বিতরণ করা হতে পারে। পরিকল্পনা অনুসারে আগামী বছর পরিবারগুলো ৫ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস ধরে ৩০ কেজি চাল স্বল্পমূল্যে কিনতে পারবে।