Home Blog Page 88

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নারীর ভূমিকা

বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পথে কার্যকর ও টেকসই নীতিমালা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তবে এই নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধু জনসংখ্যার দিক থেকে নয়, জ্বালানি ব্যবহারকারী হিসেবেও নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। বৈশ্বিক পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশ্বে এ খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৩২ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশে মাত্র ১০ শতাংশ। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে লিঙ্গ বৈষম্য এখনও বিদ্যমান।

সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যে পৌঁছাতে নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা গ্রহণ অপরিহার্য। সম্প্রতি বণিক বার্তা আয়োজিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকৃত জ্বালানি এবং দেশের সৌরবিদ্যুতের সূচনা নারীদের হাত ধরে হয়েছে। তাই নারীদের বাদ দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে ভুগছে। এই সংকট মোকাবেলায় টেকসই জ্বালানির বিকল্প ছাড়া উপায় নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি, অন্যথায় ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তায় ঝুঁকি বাড়বে। দেশের বিদ্যুতের প্রায় ৫৬ শতাংশ ব্যবহার হয় আবাসিক খাতে, যেখানে ৭০ শতাংশ ব্যবহারকারী নারী। তবুও জ্বালানি নীতি, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ খুবই সীমিত।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রাখে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এটি বৈষম্য আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।এজন্য কর্মসংস্থান রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারকে একীভূত করে সমন্বিত কাঠামো তৈরি করতে হবে। সরকার, বেসরকারি খাত ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌর প্যানেল ইনস্টলেশন, বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সঞ্চয় প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য মজুরি ভর্তুকি, পেনশন নিরাপত্তা ও চাকরি পুনর্বিন্যাস কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন। ট্যাক্স ছাড় ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি উৎসাহিত করতে হবে।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা উচ্চাভিলাষী হলেও দুর্নীতি ও অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতে (স্টেম) নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া জ্বালানি রূপান্তর সফল হবে না। লিঙ্গভিত্তিক জোট গঠন করে নারী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।

অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে। দেশের জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করতে হলে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই জ্বালানি খাত গড়ে তোলা অসম্ভব। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত ও কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে নিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সফল রূপান্তরের জন্য নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, দক্ষতা উন্নয়ন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য। তবেই বাংলাদেশ টেকসই ও স্বনির্ভর জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।

কলার ভু-রাজনীতি –

কলা বিশ্বের অন্যতম প্রধান খাদ্য ফসল হিসেবে মানুষের খাদ্যাভাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বিশ্বের চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ফসল হিসেবে বিবেচিত। তবে বর্তমানে কলার উৎপাদন ও টেকসইতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর পেছনে রয়েছে নানা কারণ—প্রধানত রোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, কর্পোরেট লবিং এবং স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব।

কলার সবচেয়ে বড় শত্রু হল ছত্রাকজনিত পানামা উইল্ট রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়, গাছের গোড়া পচে যায় এবং শেষ পর্যন্ত গাছ মারা যায়। এই রোগের সংক্রমণ এতটাই মারাত্মক যে, আক্রান্ত জমিতে ক্যাভেনডিশ জাতের কলা চাষ আর সম্ভব হয় না। বিশ্বে কলার সরবরাহের প্রায় ৮০ শতাংশ এই জাতের কলা থেকে আসে, তাই এই রোগের বিস্তার বিশ্বব্যাপী কলার উৎপাদনে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

কলা গাছে অন্যান্য রোগ যেমন সিগাটোকা লিফ স্পট, অ্যানথ্রাকনোজ এবং ইয়েলো লিফ রোগও ব্যাপক ক্ষতি করে। এছাড়া থ্রিপস, কাটওয়ার্ম ও এফিডের মতো কীটপতঙ্গ কলার গুণগত মান ও উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এসব রোগ ও কীটপতঙ্গের নিয়ন্ত্রণে সঠিক কীটনাশক প্রয়োগ, আক্রান্ত অংশ অপসারণ এবং মাঠ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্বে হাজারের বেশি কলার জাত থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় ক্যাভেনডিশ জাতের কলা। এই জাতের কলা গাছের জিনগত বৈচিত্র্য নেই, ফলে এটি নতুন রোগ বা পরিবেশগত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না।

বন্য বা বুনো কলা জাতগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। আফ্রিকার মাদাগাস্কারে এমন কয়েকটি বুনো কলার গাছ বেঁচে আছে, যেগুলো ভবিষ্যতে কলার টেকসই উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা এই বুনো কলাগুলোকে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধী ও সুস্বাদু নতুন জাত তৈরির চেষ্টা করছেন।

তাছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কলার চাষের উপযোগী পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যা, খরা ও অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া কলার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নীতি প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করে, যা কখনো কখনো ছোট কৃষকদের ক্ষতি করে এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অধীনে কৃষকদের অধিকার সীমিত হওয়ায় সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়।

কলার এই সংকট মোকাবিলায় জিন রূপান্তর প্রযুক্তি একটি সম্ভাবনাময় উপায়। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষকরা ক্যাভেনডিশ কলায় পানামা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য সংযোজনের কাজ করছেন, যা কলার উৎপাদন রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

সঠিক কীট ও রোগ ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত মনিটরিং, আক্রান্ত গাছ অপসারণ এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির ব্যবহার কৃষকদের জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি বন্য কলার জাত সংরক্ষণ ও ব্যবহার কলার টেকসই উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনের সময়সীমা জুন কেন , সন্দেহ বিএনপির

0

এত আলোচনা ও দাবির পরও জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নয়, কেন সেটি প্রাকৃতিক বৈরী মৌসুম জুন পর্যন্ত নিতে হবে, সেটা বুঝে উঠতে পারছে না বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এ নিয়ে সংশয়-সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। বিএনপি মনে করছে, নানাভাবে নির্বাচন বিলম্ব করার জন্য কিছু দৃশ্যপট তৈরি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির নেতারা ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সে ঘোষণা না আসায় তাঁরা হতাশ। বৈঠকের তিন দিন পর এ বিষয়ে গতকাল দলীয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাল বিএনপি। দলটি অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ (পথনকশা) ঘোষণার দাবিতে অনড় অবস্থানই প্রকাশ করেছে।

এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ‘নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য কিছু অসিলা তৈরি করা হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘যেমন একটা অসিলা হলো (আওয়ামী লীগের) বিচার শেষ করতে হবে। আমরাও তো বিচার চাই। এই আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে, তারা আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য কী করেনি!…এরপরও কেন প্রশ্ন আসে, আমরা তাদের বিচার চাইব না।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপি সবচেয়ে বেশি তাদের (আওয়ামী লীগ) বিচার চায়। তবে আমরা বিশ্বাস করি, বিচার হবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মধ্যে। স্বাধীন বিচারও চাইব, আবার চাইব অমুক দিনের মধ্যে বিচার করতে হবে—এটা তো সাংঘর্ষিক। সে জন্য আমরা বলছি সংস্কার, নির্বাচন এবং বিচারের প্রক্রিয়া প্রতিটা আলাদা। এখানে সাংঘর্ষিক কিছু নেই। তাই তিনটা কাজই একসঙ্গে চলতে পারে এবং চলা উচিত।’ তাতে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে কোনো অসুবিধা নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরাও সংস্কার চাই। কিন্তু সংস্কার হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া। ইচ্ছে করলেই অমুক দিন, অমুক সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করা যাবে, এটি বলতে পারি না। ‘ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর মাস উপযুক্ত সময়, এখনো সেই কথার ওপরই আছি।’

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পর ফেব্রুয়ারিতে রোজা চলে আসবে। এরপর বর্ষা। এসএসসি ও এইচএসসির মতো বড় পাবলিক পরীক্ষাগুলো আছে। সে জন্য ওই সময়টা নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় নয়। বাধ্যবাধকতা থাকায় একটিমাত্র নির্বাচন জুনে (১৯৯৬ সালে) হলেও দেশে বাকি সব নির্বাচন ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার বিএনপির মিডিয়া সেলের অধীন ‘টক শো ডিসকাশন গ্রুপ’-এর রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন — নির্বাচন কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নয়, কেন সেটি জুন পর্যন্ত নিতে হবে। এর মধ্যে নিশ্চয়ই সরকারের কোনো দুরভিসন্ধি রয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির তিন সংগঠনের উদ্যোগে বড় সমাবেশ হতে যাচ্ছে। ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ নামে এটা করা হলেও এর মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি দলটির অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ , ঘোষণার সময় এসে গেছে : সিপিডি

0

২৭ মে মঙ্গলবার দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সিপিডির তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন — “দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তা না হলে কর্মসংস্থান হবে না; প্রবৃদ্ধি থেমে যাবে। দারিদ্র্য বেড়ে যাবে। এতে বৈষম্যও বাড়বে। তাই এখন নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ দেওয়ার প্রয়োজন। সেটা ডিসেম্বর, জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারি হোক। বিষয়টি হলো, সুনির্দিষ্ট সময় দেওয়া দরকার।”

সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের বিষয়ে সিপিডি-র সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন — নির্বাচন হয়ে গেলেই বাংলাদেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধির জগতে প্রবেশ করবে, তা কিন্তু নয়। প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে হবে। ব্যাংকিং খাত, এনবিআরসহ অন্যান্য খাতের সংস্কার হলেই কেবল বিনিয়োগ বাড়বে। বিনিয়োগের জন্য গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে একদম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে গেছে, বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। ইতিমধ্যে ডিসেম্বর কিংবা জুনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে আগামী ৭ থেকে ১৩ মাসের ভেতরে নির্বাচন হচ্ছে।

তিনি বলেন — নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত যে বিনিয়োগ হবে না, তা নয়। গ্যাস সংকটের কারণে এখন বিনিয়োগ হচ্ছে না। আমাদের ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করা দরকার, বাপেক্সকে শক্তিশালী করে গ্যাস সংকট দূর করা দরকার। লজিস্টিক পলিসি বাস্তবায়ন দরকার। এগুলো করতে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষার দরকার নেই। এগুলো এখন না করলে নির্বাচনের পরও বিনিয়োগকারীদের এসব সংকট দূর করা যাবে না।

সিপিডি বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে দেশের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। আর চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, আগামী বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সরকার ব্যর্থ হবে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। সিপিডি বলছে, মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার নীতিগত অনুমোদনে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সরকারি ব্যয় বেড়ে যাবে।

অমীয়ভূষণের ‘রাজনগর’ – বাংলার জমিদারি সমাজের শেষ নিঃশ্বাস

বাংলা কথাসাহিত্যে অমীয়ভূষণ মজুমদার এমন একজন সাহিত্যিক, যিনি সমাজের গভীর স্তর ও মানসিক টানাপড়েনকে নিরাবেগ অথচ দৃপ্ত ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তার লেখায় নেই বর্ণনাগত বাহুল্য কিংবা আবেগের ঝড়—তবে আছে নিখুঁত পর্যবেক্ষণ, গভীর মনস্তত্ত্ব ও প্রখর বাস্তববোধ। তাঁর উপন্যাস রাজনগর (প্রথম প্রকাশ ১৯৬৪) একটি বিলীয়মান সমাজব্যবস্থার প্রতিকী আখ্যান। এটি শুধুমাত্র এক জমিদার পরিবারের পতনের গল্প নয়, বরং তা বাংলা সমাজের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দীর্ঘকালিক ইতিহাসের এক গূঢ় অনুবাদ।

রাজনগর উপন্যাসের নামটি যেমন একটি কল্পিত শহরের প্রতীক, তেমনি তা এক সাংস্কৃতিক পরিসরের ইঙ্গিতও। এই শহরের কেন্দ্রে রয়েছে এক প্রাচীন জমিদার পরিবার, যারা তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারছে না পরিবর্তিত বাস্তবতায়। শহরের পরিবর্তনশীল চিত্র এবং পরিবারটির পতন যেন সমার্থক হয়ে ওঠে। অমীয়ভূষণ এই উপন্যাসকে নির্মাণ করেছেন সময়ের ক্যানভাসে আঁকা একটি ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু চিত্রকলার মতো। বর্ণনার ছন্দ ধীর, চরিত্রগুলোর বিকাশ গভীর ও দার্শনিক এবং প্রতিটি ঘটনাই যেন ইতিহাসের একটি স্তর উন্মোচন করে।

রাজনগর মূলত একটি “পতনের আখ্যান”। তবে এই পতন শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নয়—এটি মূলত এক সাংস্কৃতিক পতন। অমীয়ভূষণ জমিদার পরিবারটিকে এমন এক প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন, যা অতীতের গৌরব, অধঃপতনের আশঙ্কা এবং মূল্যবোধ হারানোর যন্ত্রণা বহন করে। এই পরিবারটিকে ঘিরেই দেখা যায় রাজনগরের বৃহত্তর সমাজচিত্র, যেখানে প্রাচীন মর্যাদা ও নৈতিকতা অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং নতুন সমাজব্যবস্থা এখনও জন্ম নেয়নি।

এই নৈরাজ্যকর অন্তর্বর্তীকালীন অবস্থাকে অমীয়ভূষণ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন। এই উপন্যাসে সময় যেন দাঁড়িয়ে নেই—বরং অদৃশ্য এক ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে, যেখানে মানুষ তার নিজস্ব পরিচয় হারাচ্ছে। রাজনগর–এর চরিত্রেরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো মানসিক ও সামাজিক প্রতীক বহন করে। প্রবীণরা সময়কে থামিয়ে রাখতে চান, তরুণরা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় দিকভ্রান্ত। কারো মধ্যে নেই কার্যকর নেতৃত্ব, নেই প্রজ্ঞার দীপ্তি। পরিবারপতিও সিদ্ধান্তহীন, স্মৃতির ভারে নত এবং আত্মপ্রবঞ্চনার শিকার।

চরিত্রগুলোর মধ্যে যেমন আত্মসংঘাত রয়েছে, তেমনি রয়েছে একধরনের আত্মতত্ত্বের অনুসন্ধান। তারা প্রত্যেকে জানে তারা কিছু হারিয়ে ফেলেছে, কিন্তু কী হারিয়েছে বা কীভাবে ফিরে পাওয়া যায়, তা বুঝতে পারে না। এই আত্মগহ্বরে নেমে যাওয়াটাই রাজনগরের বাস্তবতা। তাদের এই অস্তিত্বচেতনার সংকট আমাদের ভাবতে বাধ্য করে—এই পতনের দায় কেবল সময়ের, না কি আমাদের চিন্তাধারারও?

উপন্যাসটি রচিত হয়েছে ১৯৪৭-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে, যখন জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত, নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠিত এবং পুরনো অভিজাত শ্রেণিরা ক্রমে গুরুত্ব হারাচ্ছে। পূর্ববঙ্গের গ্রামীণ জনপদগুলিতে জমিদার শ্রেণির সামাজিক কর্তৃত্ব শেষ হলেও, তাদের সাংস্কৃতিক ছায়া তখনও রয়ে গেছে। রাজনগর সেই ছায়াপাতের উপাখ্যান। এটি একাধারে সামাজিক ও রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি, একটি পিতৃতান্ত্রিক অভিজাত বংশের বিলয় ও এক পরিবর্তনশীল সমাজের ক্রান্তিকালের দলিল। লেখক এখানে কোনো বিপ্লবের জয়গান করেননি, আবার অতীতের গৌরবকে নিঃশর্ত প্রশ্রয়ও দেননি। বরং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নির্মোহ ও বিশ্লেষণমূলক—তিনি দেখান, সময়ের সঙ্গে মানিয়ে না নিতে পারলে, শ্রেণি বা ঐতিহ্য যাই হোক, তা ইতিহাসের পাঠশালায় পরিণত হয়।

অমীয়ভূষণের ভাষা একান্তই তাঁর নিজস্ব। এতে অতি নাটকীয়তা নেই বরং একধরনের নিরুত্তাপ শোক, যা বাস্তবতাকে আরও তীব্র করে তোলে। তাঁর বাক্য নির্মাণে ধ্বংসের স্নিগ্ধতা এবং সংযমের সৌন্দর্য বিদ্যমান। তিনি বিমূর্ত বয়ানে বিশ্বাসী নন; বরং স্থির ও নির্মোহ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি দৃশ্য ও প্রতিটি সংকটকে জীবন্ত করে তোলেন। উপন্যাসে বারবার ফিরে আসে স্মৃতি ও অতীতচারণা। স্মৃতিই যেন রাজনগর-এর আসল ভূগোল—যেখানে বর্তমান আর ভবিষ্যৎ কেবল ছায়া মাত্র।

রাজনগর কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি সমাজের সঙ্কোচনের, এক শ্রেণির মৃত্যুর এবং এক জাতির আত্মস্মৃতির অস্থির প্রতিচ্ছবি। এটি অতীত ও বর্তমানের দ্বন্দ্বকে ধারণ করে, সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও শূন্যতাকে এক কুয়াশাচ্ছন্ন আয়নায় প্রতিফলিত করে। জমিদার পরিবারের পতন, শহরের ক্ষয়, মূল্যবোধের বিলুপ্তি এবং মানুষের ভেতরের আত্মচেতনার শূন্যতা, সব মিলে রাজনগর হয়ে ওঠে এক ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়ানো শিল্পকীর্তি।

এই উপন্যাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সময়কে অস্বীকার করে কোনো মূল্যবোধ টিকে থাকতে পারে না। রাজনগরের ধ্বংসস্তূপ তাই কেবল একটি পরিবারের নয় বরং এক গোটা চিন্তা-পদ্ধতির, এক শ্রেণির সংস্কৃতির এবং এক জাতির আত্মদর্শনের পতনচিত্র। আর সে কারণেই রাজনগর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য দলিল।

নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করেছে , ভারত-পাকিস্তান ড্রোন যুদ্ধ

গত কয়েক দশকে নিজেদের মধ্যে হওয়া একাধিক সংঘর্ষে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী একে অন্যের বিরুদ্ধে উন্নত মানের যুদ্ধবিমান, প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। কিন্তু মে মাসে টানা চার দিনের সংঘর্ষে প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ ব্যাপকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে ড্রোন ব্যবহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রতিবেশী ওই দেশ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ থামে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার এ দুই শক্তি এখন ড্রোনকে ঘিরে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্সের নেওয়া দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, শিল্প নির্বাহী, বিশ্লেষকসহ ১৫ জনের সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ভারত ও পাকিস্তান গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেছে।

এ মাসে ভারত জরুরি সামরিক সরঞ্জাম কিনতে প্রায় ৪৬০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এ তথ্য দুজন শিল্প-বিশ্লেষকও নিশ্চিত করেছেন। অর্থাৎ ভারত জরুরিভিত্তিতে বড় অঙ্কের সামরিক কেনাকাটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে অবগত দুজন ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তহবিলের কিছু অংশ যুদ্ধ ও নজরদারিতে ব্যবহৃত ড্রোনের জন্য বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করছে ভারতের সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে পাকিস্তান বিমানবাহিনী আরও বেশি ইউএভি সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যাতে তাদের মূল্যবান উন্নত প্রযুক্তির বিমানগুলো ঝুঁকিতে না পড়ে। এমন তথ্য জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি পাকিস্তানি সূত্র।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জেনেসের ওইশি মজুমদার বলেন, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে দেশীয় ড্রোনের গবেষণা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে পাকিস্তান।

কিংস কলেজ লন্ডনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ওয়াল্টার ল্যাডউইগ বলেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তান ড্রোন হামলাকে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়ানো ছাড়াই সামরিক চাপ প্রয়োগের একটি উপায় হিসেবে দেখছে বলে মনে হচ্ছে।’

ল্যাডউইগ বলেন, ইউএভিগুলো দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো ব্যবহার করে কোনো দেশ তাদের শক্তি দেখাতে পারে, নিজেদের জনগণকে সন্তুষ্ট রাখতে পারে, আবার বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি ছাড়া শত্রুপক্ষকে চাপে রাখতে পারে। তবে এ ধরনের সংঘর্ষ পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। কারণ, বিতর্কিত বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রোন পাঠালে ভুলক্রমে বড় ক্ষতি হতে পারে।

দুই পাকিস্তানি সূত্র জানায়, পাকিস্তান তুরস্কের ইহা-৩ ও অ্যাসিসগার্ডের সোনগার ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত রাষ্ট্রায়ত্ত গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ডিফেন্স সলিউশনের তৈরি শাহপার-৩ ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তান।

একটি ভারতীয় ও দুটি পাকিস্তানি সূত্র অনুসারে, ভারত পাকিস্তানের আকাশসীমায় ইসরায়েলি হারপ (আত্মঘাতী ড্রোন), পোলিশ ওয়ারমেট (ক্ষুদ্রাকৃতির আত্মঘাতী ড্রোন) ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) পাঠিয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ইউএভি সামরিক ও ‘সন্ত্রাসী’ ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবে হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দুই ভারতীয় কর্মকর্তা।

এখন যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে। আগের মতো দামি যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র না পাঠিয়েও এখন অনেক কম খরচে বেশি কার্যকরভাবে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যাচ্ছে ড্রোন ব্যবহার করে।

অনেক ড্রোন ধ্বংস হওয়ার পরও উভয় পক্ষই দ্বিগুণ উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুই দেশ তাদের ড্রোনগুলোকে ইলেকট্রনিক যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করছে।

ক্যান্সার চিকিৎসায় – ফেইথ হিলিং !!!

বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসা, অর্থাৎ ঈশ্বর, আত্মিক শক্তি বা অলৌকিক প্রার্থনার মাধ্যমে রোগ নিরাময়ের চর্চা দীর্ঘকাল ধরে মানব সভ্যতার অংশ।কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান যেখানে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের প্রতিকার খুঁজছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে, সেখানে কিছু গোষ্ঠী আজও এই প্রাণঘাতী রোগের “অলৌকিক নিরাময়”-এর দাবিতে মানুষকে প্রভাবিত করছে। এই দাবিগুলো শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে নয়, বরং একধরনের সংগঠিত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা কন্সপিরেসি থিওরি গড়ে তুলেছে যার লক্ষ্য হতে পারে জনমত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক লুট এবং কখনো কখনো আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস ছড়িয়ে দেওয়া।

বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসকদের মতে, ক্যান্সার কোনো “শারীরিক রোগ” নয়, বরং তা আত্মিক দুর্বলতা, ঈশ্বরের অবাধ্যতা বা শয়তানের প্ররোচনার ফসল। তাই এই রোগের নিরাময় একমাত্র সম্ভব প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি এবং অলৌকিক উপায়ে। ১৯৬০-৮০ দশকে আমেরিকায় এমন বহু “Faith Healer” জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন যারা বিশাল স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষের সামনে ক্যান্সার “সেরে যাওয়ার” মিরাকল দেখাতেন। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব “সুস্থ” মানুষ কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে ক্যান্সার একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোষগত সমস্যা। এর চিকিৎসায় প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ডায়াগনোসিস, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা অস্ত্রোপচার। গবেষণাগার, গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া এই রোগের প্রতিকার কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ এখনো বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসার দিকে ঝুঁকে পড়ে?

Faith Healing ও ক্যান্সার নিরাময় নিয়ে কন্সপিরেসি থিওরির মূল ভিত্তি হলো, “আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যান্সারের প্রকৃত নিরাময় গোপন রাখছে, যাতে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো কোটি কোটি ডলার আয় করতে পারে।” এই ধারণার প্রচারকরা দাবি করেন যদি মানুষ বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসার দিকে ঝোঁকে এবং অলৌকিক নিরাময় পায়, তাহলে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

এছাড়া Faith Healer-দের একটি অংশ নিজেরাই দাবী করেন তারা বিভিন্ন বিকল্প হার্বাল রেমেডি বা “ডিভাইন ফর্মুলা” ব্যবহার করে ক্যান্সার সারিয়ে তুলছেন, কিন্তু “মেডিক্যাল মাফিয়া” তাদের দমন করে রাখছে। কিছু থিওরিস্ট দাবি করেন যারা সত্যিকারের চিকিৎসা আবিষ্কার করেছেন তাদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বা তারা নিখোঁজ হয়েছেন।

একটি বিখ্যাত নাম হচ্ছে ড. গ্যাস্টন নেস, একজন কানাডিয়ান ডেন্টিস্ট যিনি “714-X” নামক একটি তথাকথিত ক্যান্সার চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবি করেছিলেন। কিন্তু তার এই চিকিৎসা কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পায়নি এবং কানাডিয়ান সরকার তা অবৈধ ঘোষণা করে।

একইভাবে রিক সিম্পসন নামের এক ব্যক্তি “Cannabis oil” দ্বারা ক্যান্সার নিরাময়ের দাবি করেন এবং বলেন যে ওষুধ কোম্পানিগুলো তার আবিষ্কারকে ধ্বংস করতে চায়। কিছু কেস স্টাডি ক্যানাবিস উপাদানের কিছু উপকার দেখালেও পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার নিরাময়ে এটি আজও অপ্রমাণিত।

ধর্মীয় বিশ্বাস না কৌশলী প্রতারণা?
বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসকরা প্রায়শই এমন মানুষের কাছে যান যারা হতাশ, দারিদ্রপীড়িত, কিংবা চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ। তারা তাদের “সুবিধাজনক” বার্তা দেন, আপনার ক্যান্সার সেরে যাবে, শুধু ঈশ্বরের উপর আস্থা রাখুন। কেউ কেউ আর্থিক অনুদান বা “বিশ্বাসের বীজ বপন”-এর নামে অর্থ দাবি করেন। এখানে “বিশ্বাস” আসলে হয়ে ওঠে একটি বাজারজাতকরণ কৌশল। এই প্রেক্ষাপটে Faith Healing আর ধর্ম নয়, বরং হয়ে দাঁড়ায় একধরনের এক্সপ্লয়টেশন বা প্রতারণা—যেখানে ক্যান্সারের ভয়কে পুঁজি করে একজন মানুষের বিশ্বাস ও আর্থিক সামর্থ্যকে ব্যবহার করা হয়।

এই কন্সপিরেসির আরও এক ভয়ংকর দিক হলো ভিকটিম ব্লেমিং। যখন কোন রোগী “বিশ্বাস রেখেও” সুস্থ না হন, তখন তাদেরই দোষারোপ করা হয়, তাদের বিশ্বাস যথেষ্ট ছিল না, ঈশ্বরের উপর আস্থা কম ছিল। এতে একদিকে রোগীর মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়ে, অন্যদিকে Faith Healer নিজে দায়মুক্ত থাকেন।

ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। এর চিকিৎসা এবং গবেষণা এখনও চলমান এবং অনেকাংশে সফল। কিন্তু এরই ফাঁকে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ধর্ম, বিশ্বাস ও কল্পনার মিশেলে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে, এবং তাদের সামনে “আশার আলো” দেখিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক্যান্সার নিরাময়ে অলৌকিকতা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং মানবিক সহানুভূতি।

শিশুকে নিয়মিত মাটিতে খেলতে দেবেন কেন ?

শিশুদের শারীরিক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে পরিবেশগত জীবাণুর ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।শিশুদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বিকাশে ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ বা অন্ত্রের জীবাণু মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গাট মাইক্রোবায়োম শতকরা ভাগে কোটি কোটি ক্ষুদ্র জীবাণুর সমষ্টি, যা হজম প্রক্রিয়া সহজতর করার পাশাপাশি শরীরের ভিটামিন উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঠিক নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর প্রথম বছরটি গাট মাইক্রোবায়োম গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, যেখানে শিশুর জন্ম পদ্ধতি ও প্রাথমিক খাদ্যাভ্যাস যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনি পরিবেশগত জীবাণুর সংস্পর্শও সমানভাবে জরুরি।

ন্যাচার ও সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একাধিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, নরমাল ডেলিভারি শিশুর মায়ের দেহ থেকে উপকারী জীবাণু সঞ্চারিত হয়, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অধিকতর সক্রিয় করে। মায়ের বুকের দুধ শিশুকে অ্যান্টিবডি ও জীবাণু সরবরাহ করে গাট মাইক্রোবায়োম গঠনে সহায়ক।

এরপর শিশুর সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশে (যেমন, মাটি, গাছপালা, পোষা প্রাণী) সংস্পর্শ এই জীবাণুগুলোর বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে এবং দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রশিক্ষিত হয়।

‘ওল্ড ফ্রেন্ডস হাইপোথিসিস’ তত্ত্ব বলে, শৈশবে উপকারী জীবাণুর সাথে সংস্পর্শ থাকলে ইমিউন সিস্টেমের অতি সজাগতা বা অ্যালার্জি কম হয়। এর বিপরীতে ‘হাইজিন হাইপোথিসিস’ নির্দেশ করে, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে শিশুর শরীর অ্যালার্জি প্রবণ হয়ে ওঠে।

ফিনল্যান্ডের এক আধুনিক গবেষণায় বন থেকে আনা মাটি ও ঘাসে খেলানো শিশুর ত্বকে দ্রুত উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং রক্তের রোগ প্রতিরোধ কোষের সক্রিয়তা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে সুইডেনে কৃষিভিত্তিক পরিবেশে বড় হওয়া শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির হার কম এবং গাট মাইক্রোবায়োমে জীবাণুর বৈচিত্র্য বেশি পাওয়া যায়।

তবে এই গবেষণাগুলো থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাও উঠে আসে, যে শহুরে দূষিত মাটির সঙ্গে সংস্পর্শে আসা ক্ষতিকর রাসায়নিক বা সিসার কারণে শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। তাই শিশুর গাট মাইক্রোবায়োম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিরাপদ, জীবাণু বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

শিশুর শৈশবে উপকারী জীবাণুর পর্যাপ্ত সংস্পর্শ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারণে ও পিতামাতার সচেতনতায় পরিবেশগত জীবাণুর ভূমিকা ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

নাগরিক অধিকার স্বীকৃতি পেল , সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ

বাংলাদেশে ইন্টারনেট প্রাপ্তি এখন শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয় একেবারে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ২(ভ) ধারায় এই অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশের তথ্য অধিকার ও ডিজিটাল স্বাধীনতায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক গ্লানি-জর্জর বাস্তবতা। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হাসিনা সরকার মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে ব্রডব্যান্ড বন্ধ করে দিয়ে সারা দেশে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ঘটায়। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসার বিশাল ক্ষতি হয়। এছাড়াও নানা সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ ছিল একটি নিয়ন্ত্রণ কৌশল। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারনেট সোসাইটি পালস অনুসারে, ২০০৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত অন্তত ১৭ বার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়েছে।

বিশ্বপর্যায়ে ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি ২০১১ সালে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের সভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এর আগেই এস্তোনিয়া (২০০০), ফ্রান্স ও ফিনল্যান্ড (২০০৯), এবং কোস্টারিকা (২০১০) নিজ নিজ দেশে এ স্বীকৃতি দেয়। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালে এই অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। তবে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এখনও অবকাঠামো দুর্বল এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি রয়ে গেছে। এই ব্যবধান ঘোচাতে সরকারের পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি ও অ্যাক্টিভিস্ট প্ল্যাটফর্ম-সমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ‘শাটডাউন ওয়াচ’ নামক একটি ড্যাশবোর্ড ইতিমধ্যে চালু হয়েছে যা ইন্টারনেট বিভ্রাট পর্যবেক্ষণে সাহায্য করছে।

অন্যদিকে সরকারের নতুন উদ্যোগ স্টারলিংক ইন্টারনেট বাংলাদেশে দ্রুতগতির স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট চালু করার পথে। সাবমেরিন কেবলনির্ভর বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায়, স্টারলিংক প্রত্যন্ত এলাকাতেও শক্তিশালী ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কারণে ইন্টারনেট বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকারের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, স্টারলিংক সুবিধা এবং সিভিল সমাজের সক্রিয় পদক্ষেপ এই তিনের সম্মিলিত প্রয়াসে বাংলাদেশে সার্বক্ষণিক, মুক্ত এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার বাস্তবায়নের এক বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বৈশ্বিক সংযুক্তি ও নাগরিক অধিকারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

ঘুম ভাঙ্গার পর , ক্লান্তি দূর করার উপায় –

প্রতিদিন সকালে উঠে ক্লান্ত লাগা কিংবা বারবার ‘স্নুজ’ বাটন চাপা আমাদের অনেকের পরিচিত অভ্যাস। আমেরিকার এক জরিপ বলছে, প্রায় ৪০% মানুষই প্রতিরাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুমান। ঘুমের এই ঘাটতি সকালে জেগে উঠতে সমস্যা করে তোলে, আর তখনই স্নুজ বাটনের প্রতি টান বাড়ে। কিন্তু এই অল্প সময়ের ঘুম আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক ঘুম-জাগরণের ছন্দকেই (circadian rhythm) বিপর্যস্ত করে ফেলে।

নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ মেলিসা জেগার জানান, “রুটিনভিত্তিক ঘুম শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ঘুম কিংবা দেরিতে জাগা ‘স্লিপ হ্যাংওভার’-এর মতো অবস্থা তৈরি করে, যার ফলে আপনি আরও বেশি ক্লান্ত বোধ করতে পারেন।” তবে ভালো খবর হলো, সকালে চনমনে বোধ করার জন্য রয়েছে কিছু প্রমাণিত বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি।

১. জেগেই এক গ্লাস পানি পান- রাতে ঘুমানোর সময় শরীর ডিহাইড্রেট হয়, যা সকালে ক্লান্তির একটি বড় কারণ। নিউট্রিশনিস্ট জেসিকা কর্ডিং বলেন, “কফির আগে পানি খান—এই অভ্যাস দিনটা ভালোভাবে শুরু করতে সাহায্য করে।” সকালে পানি খাওয়া ঘুমের মানও বাড়ায় এবং শরীরকে সক্রিয় করে তোলে।

২. সকালের হালকা শরীরচর্চা- সকালে হালকা হাঁটা, ইয়োগা বা হালকা এক্সারসাইজ শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়, রক্ত চলাচল সক্রিয় করে এবং এন্ডরফিন (সুখানুভূতির হরমোন) নিঃসরণ করে। জেগার জানান, “শরীরচর্চা শুধু ক্লান্তি দূর করে না, বরং রাতের ঘুমও উন্নত করে।”

৩. এমন নাশতা তৈরি করুন, যা উপভোগ করেন- সুস্থ, পুষ্টিকর এবং রঙিন সকালের খাবার শুধু শরীরে জ্বালানি দেয় না, মনকেও প্রফুল্ল করে। প্রিয় নাশতা তৈরি রাখলে ঘুম থেকে উঠতে অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।

৪. প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ-সকালে সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং শরীরের প্রাকৃতিক ঘুম-জাগরণ ছন্দ স্থাপনে সহায়ক। এমনকি কয়েক মিনিটের জন্য বাইরের আলোয় দাঁড়ানোও উপকারি।

৫. কয়েক মিনিটের মননশীল মুহূর্ত মেডিটেশন, নিঃশ্বাস অনুশীলন বা জার্নাল লেখার মতো কাজগুলো মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুমের মান উন্নত করতে পারে।দিনের শুরুতে নিঃশব্দে ও স্ক্রিন ছাড়া কয়েক মিনিট নিজেকে সময় দিন।

ঘুম উন্নত করার টিপস

*শোবার ঘর যেন অন্ধকার, ঠান্ডা ও নীরব হয়
*খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি, ওমেগা-৩ ও গ্লাইসিন গ্রহণ করুন
*ঘুমানোর ঠিক আগে ক্যাফেইন, এলকোহল ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
*ঘুমানোর আগে উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল ঘুমে সহায়ক
*ঘুম ও খাদ্য রুটিন ট্র্যাক করে নিজেকে বুঝে নিন

সকালে বারবার ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে, সচেতন কিছু অভ্যাস আপনাকে সারাদিনে চনমনে ও সুস্থ রাখবে। এই অভ্যাসগুলো শুধু সকাল নয়, রাত্রির ঘুমকেও ভালো করবে, জীবনের সামগ্রিক গুণগত মান বাড়াতে সাহায্য করবে।