Home Blog Page 87

দেশে খাদ্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক : খাদ্য উপদেষ্টা

0

বাংলাদেশে বর্তমানে খাদ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা মো. আলী ইমাম মজুমদার। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, ভবিষ্যতে খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে না। বুধবার (২৮ মে) ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, মজুদ ও বিতরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় খাদ্য উপদেষ্টা জানান, চলতি মৌসুমে সারা দেশে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলেই সরকার আশাবাদী। তিনি জানান, ২০২৫ সালের বোরো সংগ্রহ অভিযানে ১৪ লাখ টন চাল ও সাড়ে ৩ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা আরও দৃঢ় হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে খাদ্য মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ টন বেশি। এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি ইতিবাচক সূচক হলেও তিনি সতর্ক করে বলেন, “সন্তোষজনক অবস্থা সব সময় ঠিক রাখা যায় না। কারণ খাদ্য প্রতিনিয়ত খরচ হচ্ছে, আবার নতুনভাবে যোগ হচ্ছে।” তাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

খাদ্যশস্য আমদানি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করে থাকে। গত বছরও আমদানি করতে হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হয়, তাহলে হয়তো চাল আমদানি করতে হবে না। যদিও গমের ক্ষেত্রে দেশের সম্পূর্ণ চাহিদা আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, দেশে বছরে গমের মোট চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন, কিন্তু দেশের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ১০ লাখ টন। ফলে ৬০ লাখ টনের বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়, যা মূলত বেসরকারি খাত থেকেই আমদানি করে পূরণ করা হয়ে থাকে। ময়মনসিংহ বিভাগের খাদ্য মজুদের ধারণ ক্ষমতা কিছুটা কম থাকায় এই অঞ্চলে পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলার জন্য সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) তাহমিনা আক্তার, আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. শফিউল আলম, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মুফিদুল আলমসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন আয়োজনের পথে , মিয়ানমারের জান্তাবিরোধীদের প্রত্যাখ্যান , চীন-রাশিয়ার সমর্থন

আগামী ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এটি লোক-দেখানো ও প্রহসনমূলক নির্বাচন ছাড়া আর কিছুই নয়।

চার বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং তৎকালীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন। সে সময়ের সরকার প্রধান ও নোবেল জয়ী অং সান সুচিকে পাঠানো হয় নির্বাসনে।

তবে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা তো দূরে থাক, চার বছরের প্রায় প্রতি দিনই সংঘাত মোকাবিলায় কেটেছে জান্তা সরকারের। শুরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চললেও এক পর্যায়ে একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সরকারি বাহিনী।

সম্প্রতি আরাকান আর্মিসহ একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণে দেশের ৭৫ শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং। চার ভাগের এক ভাগ দখলে রেখে এখনো ‘সরকার’ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

ডিসেম্বরের নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) কথা শোনা যাচ্ছে। এর আগে, জান্তা সরকার গণতন্ত্রপন্থি কয়েকটি দলকে নিষিদ্ধ করে। এর মধ্যে আছে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ও শান ন্যাশনালিটিজ লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এসএনএলডি)।

২০২০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল সুচির দল এনএলডি। নির্বাচনকে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ‘নিরপেক্ষ ও মুক্ত’ বলে অভিহিত করেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ইউএসডিপি ১০-২০টি আসন পেলেও তারা মিন অং হ্লাইংয়ের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।দলটি অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলকে এক করে ‘ভোট কারচুপির’ অভিযোগ এনে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে। বাকিটা ইতিহাস।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মিন অং হ্লাইং ইউএসডিপির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলটির বেশিরভাগ নেতাই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এনএলডি ও এসএনএলডি দৃশ্যপটে না থাকায় ইএসডিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। ডিসেম্বরের নির্বাচনে জিতে সেনাদের ‘আজ্ঞাবহ’ পার্লামেন্ট তৈরিতে অবদান রাখবে ইউএসডিপি। পরে সহজেই মিন অং হ্লাইংয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

সুচি’র সরকারের নেতা ও অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ছায়া সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’, জান্তাবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ও সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই নির্বাচন সামরিক শাসনকে দীর্ঘায়ত করার অজুহাত। পশ্চিমের বেশ কয়েকটি দেশও তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে।

তবে মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র চীন ও রাশিয়া এই ভোটে সায় দিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাকে সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে আসিয়ান জোটের সভাপতি মালয়েশিয়া। অপরদিকে, সরকারও এই নির্বাচনের বৈধতা আদায়ে উঠে পড়ে লেগেছে। এখন পর্যন্ত ৫৪টি দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। তবে এই দলগুলোর মধ্যে ইউএসডিপির পাশাপাশি জান্তার অনুগত একাধিক দল আছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : শান্তির শর্তে ন্যাটোর সম্প্রসারণ , বন্ধের দাবি পুতিনের

ইউক্রেনে যুদ্ধ থামানোর বিনিময়ে ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধের দাবি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি ও কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছেন তিনি। রয়টার্সকে বিষয়টি জানিয়েছে আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন রুশ সূত্র।

গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বেশি সময় কথোপকথনের পর পুতিন জানান, ইউক্রেনের সঙ্গে একটি শান্তি সমঝোতা নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন তিনি। রাশিয়া বর্তমানে সেই সমঝোতার খসড়া তৈরি করছে। তবে এর জন্য কত সময় লাগবে, তা বলা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেন, জর্জিয়া ও মলদোভাকে ন্যাটো সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়ার নিশ্চয়তা চাচ্ছেন পুতিন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ, রুশ ভাষাভাষীকে সুরক্ষা এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ প্রত্যাহারসহ রাশিয়ার জব্দকৃত সার্বভৌম সম্পদের বিষয়ে নিষ্পত্তি চান তিনি।

সূত্রগুলোর একজন বলেন, পুতিন শান্তি চান; কিন্তু যে কোনো মূল্যে নয়। ওই সূত্রের মতে, নিজের শর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলে ইউরোপ এবং কিয়েভকে সামরিক অগ্রগতির মাধ্যমে দেখাতে চান পুতিন, যে ভবিষ্যতের শান্তি হবে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল। ক্রেমলিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও আগেও বহুবার বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের মূলে রয়েছে ন্যাটো সম্প্রসারণ ও পশ্চিমাদের সহযোগিতা।

অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়ে এসেছে, ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাশিয়া ঠেকাতে পারবে না। দেশটি পশ্চিমা নিরাপত্তা গ্যারান্টি ছাড়া রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আক্রমণ ঠেকাতে পারবে না বলেও মত দিয়েছে কিয়েভ। ন্যাটো আগেও বলেছে, তাদের ‘ওপেন ডোর পলিসি’ রাশিয়ার দাবির জন্য বন্ধ করা হবে না। জোটটি এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

২০০৮ সালের বুখারেস্ট সম্মেলনে ন্যাটো জানিয়েছিল, ভবিষ্যতে ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে সদস্যপদ দেওয়া হবে। এর পর ২০১৯ সালে ইউক্রেন নিজেদের সংবিধানে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদের লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের রুশ অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চল ডনবাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে আট বছরের সংঘর্ষের পর ওই যুদ্ধ শুরু হয়। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।

ন্যাটো অবশ্য দাবি করে, তাদের উপস্থিতি রাশিয়ার জন্য হুমকি নয়। তবে ২০২২ সালে জোটটি রাশিয়াকে ইউরোপ-আটলান্টিক অঞ্চলের জন্য ‘সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সরাসরি হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে। রুশ আক্রমণের জবাবে ২০২৩ সালে ফিনল্যান্ড ও ২০২৪ সালে সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে। পশ্চিমা নেতারা বারবার বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়া জয়ী হলে একদিন ন্যাটোভুক্ত দেশে আক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হবে, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। রাশিয়া অবশ্য এসব সতর্কতাকে ‘ভীতির প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

Maus – আর্ট স্পিগেলম্যানের হলোকাস্টের বাস্তব চিত্রায়ন

আর্ট স্পিগেলম্যানের Maus কেবল একটি গ্রাফিক নভেল নয়, এটি হলোকাস্ট নামক মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের স্মৃতি, যন্ত্রণার নথিভুক্তি এবং পরবর্তী প্রজন্মের বয়ানে তার অভিঘাতের একটি অনন্য প্রচেষ্টা। এই বইতে ইহুদিদের ইঁদুর এবং নাৎসি জার্মানদের বিড়াল রূপে উপস্থাপন করার সাহসী রূপকধর্মী কৌশল আধুনিক চিত্রসাহিত্যে এক বিপ্লব ।

Maus প্রকাশিত হয় দুই ভাগে। প্রথমটি Maus I: My Father Bleeds History (1986) এবং দ্বিতীয়টি Maus II: And Here My Troubles Began (1991)। আর্ট স্পিগেলম্যান এখানে তাঁর পিতা ভ্লাডেক স্পিগেলম্যানের নাৎসি অধিকৃত পোল্যান্ডে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা এবং ১৯৪০ দশকের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের ভয়াল স্মৃতি তুলে ধরেন। তবে তিনি শুধু ঘটনাবলি বর্ণনা করেননি, তিনি সেই স্মৃতির বিনির্মাণ, তার প্রজন্মান্তর সংক্রমণ এবং ব্যক্তি-পারিবারিক সংকটকে তুলে ধরেছেন, যা ইতিহাসকে বহুমাত্রিক করে তোলে।

এই গ্রাফিক নভেলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো চরিত্রদের পশুরূপে উপস্থাপন। ইহুদিরা এখানে মাউস (ইঁদুর), নাৎসিরা ক্যাট (বিড়াল), পোলিশরা পিগ (শূকর), আমেরিকানরা ডগ (কুকুর) এবং ফ্রেঞ্চরা ফ্রগ (ব্যাঙ)। এ এক ধরনের ভিজ্যুয়াল শ্রেণিবিন্যাস, যা সামাজিক পরিচয়, জাতিগত প্রতীক ও নিপীড়নের কাঠামোকে আর্টিস্টিক কিন্তু তীক্ষ্ণ উপায়ে চিত্রিত করে।

তবে এই উপস্থাপন কেবল নান্দনিকতা নয় এটি রাজনৈতিক ভাষা। ইঁদুর যেমন গোপনে বেঁচে থাকে, তেমনি ইহুদিদেরও নাৎসি শাসনে লুকিয়ে জীবনধারণ করতে হয়েছে। একইসঙ্গে এই রূপক ব্যবস্থায় আর্ট একরকম “ডি-হিউম্যানাইজেশন” এর সৃজনশীল সমালোচনা করেছেন, যা হলোকাস্টের কেন্দ্রীয় প্রকৃতিরই অংশ।

Maus কেবল ইতিহাসের দলিল নয়, এটি একটি ছেলের তার বাবাকে বোঝার প্রচেষ্টার গল্পও। ভ্লাডেকের সঙ্গে আর্টের সম্পর্ক প্রায়শই জটিল। বাবার চরম কৃপণতা, নারীবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি ও অতীত-আক্রান্ত আচরণ ছেলেকে হতাশ করে। তবে পাঠক উপলব্ধি করে যে, এই আচরণের পেছনে রয়েছে এক নিপীড়িত আত্মার বেঁচে থাকার দীর্ঘ সংগ্রাম। আর্ট নিজের মায়ের আত্মহত্যা এবং নিজস্ব হতাশার কথাও তুলে ধরেছেন, যা হলোকাস্ট-পরবর্তী প্রজন্মের মানসিক চাপে এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়। এটি স্মৃতি কেবল সংরক্ষণের দায় নয়, তা বহন করার ভারও প্রকাশ করে।

Maus-এর বর্ণনাভঙ্গি সরলরৈখিক নয়। বইটি সময়ের বিভিন্ন স্তরে—১৯৪০ এর দশক, ১৯৮০ এর দশকের নিউ ইয়র্ক এবং স্মৃতির অন্তর্জগতে আবর্তিত হয়। এই নন-লিনিয়ার গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন বহন করে, ইতিহাস কোনো একরৈখিক ধারাবাহিকতা নয়, বরং স্মৃতির পুনরাবৃত্তিমূলক উপস্থিতি। স্পিগেলম্যান ইতিহাসকে নিছক ঘটনাক্রমে বেঁধে রাখেননি, দেখিয়েছেন কিভাবে তা প্রভাবিত করে বর্তমান, নৈতিকতা এবং পারিবারিক সম্পর্কেও।

Maus শুধু ইতিহাস বর্ণনা করে না, এটি হলোকাস্ট স্মৃতিচর্চা ও তার নৈতিক জটিলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে আর্ট নিজের খ্যাতি, দুঃখবোধ এবং ইতিহাস নিয়ে তার লাভবান হওয়ার দ্বিধা প্রকাশ করেন। এই আত্মসচেতনতা Maus-কে অন্যান্য স্মৃতিকেন্দ্রিক সাহিত্যের চেয়ে আলাদা করে তোলে।

একটি দৃশ্যে আর্ট নিজেকে ইঁদুরের পোশাকে চিত্রিত করেন, যাকে চারপাশে সংবাদমাধ্যম ঘিরে ধরেছে। এটি শুধু বিখ্যাত হওয়ার শঙ্কা নয়, ট্র্যাজেডিকে শিল্পে পরিণত করার নৈতিক দ্বন্দ্ব।

১৯৯২ সালে Maus Pulitzer Prize জয় করে—যা ছিল গ্রাফিক নভেল ঘরানার জন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে, গ্রাফিক ফর্ম সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করতে পারে। পরবর্তীতে Maus হয়ে ওঠে হলোকাস্ট স্মৃতিচর্চার অন্যতম শিক্ষণীয় রেফারেন্স এবং মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থার অংশ।

তবে ২০২২ সালে টেনেসির একটি স্কুল বোর্ড এটিতে “অনুপযুক্ত ভাষা ও নগ্নতা” দেখানোর অভিযোগে বইটিকে নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞা আবারও স্মৃতিচর্চার রাজনীতি ও সেন্সরশিপের প্রশ্ন উত্থাপন করে। প্রশ্ন জাগে হলোকাস্টের মতো একটি ট্র্যাজেডিকে কি কেবল sanitized ভাষায় উপস্থাপন করা উচিত? নাকি এর জটিলতা ও কুৎসিত দিকগুলোও তুলে ধরা জরুরি?

Maus গ্রাফিক সাহিত্যের ক্ষেত্রে একটি মোড় পরিবর্তনকারী কাজ। এটি দেখিয়েছে যে কমিক ফর্ম শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি জটিল ও গভীর সামাজিক-রাজনৈতিক আলোচনার বাহক হতে পারে। আজকের বিশ্বে যখন ভিজ্যুয়াল মিডিয়া রাজনৈতিক মেসেজের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠছে, তখন Maus তার পূর্বসূরি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। Maus ছাড়া অনেক গ্রাফিক মেমোয়ার বা ভিজ্যুয়াল ইতিহাস হয়তো আলোর মুখ দেখতো না—যেমন মার্জান সাতরাপির Persepolis কিংবা জো সাকোর Palestine।

Maus একটি দুঃস্বপ্নের চিত্র, একটি ছেলের প্রশ্ন, একটি জাতির বেদনা এবং একটি শিল্পীর দায়। এটি প্রমাণ করে দেয়, স্মৃতি কেবল বর্ণনা করার নয় তাকে বিশ্লেষণ, পুনর্বিন্যাস এবং পুনরায় উপলব্ধি করতে হয়। আর্ট স্পিগেলম্যান আমাদের শিখিয়ে দেন, ইতিহাস যদি স্মৃতির অনুরণনে রূপ না পায়, তবে তা কেবল একটি তারিখের সংখ্যা হয়ে থাকে।

পুতিন আগুন নিয়ে খেলছেন : ট্রাম্প

ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেন, উভয় দেশের নেতাদের সমালোচনা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি কিয়েভে হামলা বাড়িয়েছে মস্কো। টানা তিনদিন ধরে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ট্রাম্প জানান, তিনি পুতিনের ওপর নাখোশ। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে বড় আকারে ড্রোন হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১৩ জনকে হত্যা করে তখন সেই হতাশা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

ট্রাম্প মঙ্গলবার তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে বলেছেন, ‘পুতিন যে বিষয়টা বুঝতে পারছেন না, তা হলো- আমি না থাকলে রাশিয়ার জন্য অনেক খারাপ কিছু ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটে যেত। আমি বলতে চাচ্ছি, সেসব ঘটনা সত্যিই অনেক খারাপ হতো। তিনি আগুন নিয়ে খেলছেন!’ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং সিএনএন উভয়ই জানিয়েছে, ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এ সপ্তাহেই আসতে পারে এ বিষয়ে ঘোষণা।

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন বেসামরিক মানুষ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলা ঠেকাতে ও পাল্টা জবাব দিতেই কিয়েভে হামলার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, শান্তি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতেই কিছু ইউরোপীয় দেশের সহায়তায় কিয়েভ এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। ২০ মে থেকে ২৭ মে’র মধ্যে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুই হাজার ৩৩১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প বেশ কয়েকবার পুতিনের প্রশংসা করেছেন। যুদ্ধ অব্যাহত থাকার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে দায় দিয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প কিয়েভের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার অচলাবস্থায় মস্কোর অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন

কমেছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি , বেড়েছে মাথাপিছু আয়

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮-৯ মাসের প্রাপ্ত হিসাবের ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধির এ সাময়িক হিসাব করা হয়েছে বলে বিবিএসের কর্মকর্তারা জানান। তবে এ অর্থবছর বাড়বে মাথাপিছু আয় ও জাতীয় সম্পদ। কিন্তু কমবে বিনিয়োগ এবং দেশজ সঞ্চয়ের হার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মঙ্গলবার সাময়িক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

কোডিডের বছর, অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরের পর জিডিপির প্রবৃদ্ধি আবার ৪ শতাংশের নিচে নামল। কোডিডের বছরে লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ থাকায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। কোভিডের সময়ের বিশেষ পরিস্থিতি বাদ দিলে গত দুই দশকের মধ্যে এত কম প্রবৃদ্ধি আর কোনো বছরে হয়নি। এডিবি (ADB) বলেছে — এই মন্দার জন্য দায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে কারখানায় ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি—যেগুলো সকলই চাহিদা হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে।

বিবিএস বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।বিবিএসের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জিডিপিতে কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কমেছে। কৃষি খাতে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।

এবার প্রবৃদ্ধি কমবে, এমন পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস হলো ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আরেক দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছিল, বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে। বিবিএস’র সাময়িক হিসাবে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ৫৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। মার্কিন ডলারে হিসাব করলে ৪৬২ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২১১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ কোটি টাকা। মার্কিন ডলারের হিসাবে চলতি অর্থবছর হয়েছে ২ হাজার ৮২০ ডলার, যা গত অর্থবছর ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার। বিবিএস’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছর জিডিপির তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত অর্থবছর ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

চীন ও আমেরিকা – সম্পর্ক ও সংঘাত যেভাবে এলো : ই ফুসিয়ান , উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী

“… ১৯৫৩ সালে বিশ্বে উৎপাদিত সব পণ্যের ৫৫ শতাংশ যেটি একা যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করত, সেটি ১৯৭০ সালে ২৪ শতাংশে নেমে আসে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ১৯৭১ সালে বড় একটি সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মার্কিন ডলারকে সোনার মানের সঙ্গে যুক্ত থাকার নিয়ম থেকে আলাদা করে দেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের অবস্থা কিছুটা স্থির হয়। পরবর্তী ৩০ বছর ধরে অবস্থা মোটামুটি একই রকম থাকে।

… ডলারকে সোনার মান থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক বড় প্রভাব হলো যুক্তরাষ্ট্র আগে যে আয় করত (অর্থাৎ রপ্তানি করে যা পেত), তার চেয়ে বেশি খরচ করা শুরু করে (অর্থাৎ আমদানি বেশি করে)। ফলে ধীরে ধীরে তারা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ঘাটতির দেশ হয়ে ওঠে। আর এই সুযোগে জাপান তাদের উৎপাদন খাত অনেক বড় করে তোলে।

এরপর ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর (জাপান, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য) সঙ্গে এক চুক্তি করে, যার মাধ্যমে ডলারের মূল্য কমিয়ে দেয়। এতে কিছুদিনের জন্য আমদানি কমে যায় এবং বাণিজ্যঘাটতি কিছুটা কমে। কিন্তু ১৯৯৪ সালে নাফটা নামে একটা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি চালু হয়, আর ২০০১ সালে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দেয়। তখন ব্যাপক হারে সস্তা চীনা পণ্য মার্কিন বাজারে ঢুকতে থাকে।

২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দুটি বিষয় ঘটে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ও আমদানির অনুপাত ৬৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ শতাংশে চলে আসে। মানে আমদানি বাড়ে, রপ্তানি কমে। দ্বিতীয় ঘটনাটি হলো, তাদের উৎপাদনের পরিমাণ, যা একসময় দুনিয়ার ২৫ শতাংশ ছিল, তা নেমে ১৬ শতাংশে নেমে যায়।

এই তথ্যগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে আর এর পেছনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি অনেকটা দায়ী। ট্রাম্প এই দুর্বলতার দিকটা ঠিকই ধরেছেন। তবে তিনি যে কৌশল নিচ্ছেন, যেমন সবার ওপর একসঙ্গে শুল্ক বসিয়ে দেওয়া, সেটি সমস্যা কমানোর বদলে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো চীন নিজেও তাদের অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন বা ওভারক্যাপাসিটি সমস্যার কারণে বেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। মানে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীনও সমস্যায় আছে। …চীনে মানুষের আয় কম এবং তারা বাজারে খুব বেশি জিনিসপত্র কেনে না।

চীনের পরিবারগুলো যত কম খরচ করে, ততই চীনের ভেতরে (দেশের মধ্যে) জিনিসপত্র বিক্রি কম হয়। তাই তারা বাধ্য হয়ে অনেক পরিমাণে পণ্য তৈরি করে অন্য দেশে রপ্তানি করে। ২০২৩ সালে চীন প্রায় ১ দশমিক ৮৬ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা তাদের পুরো জিডিপির ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

এই জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্র একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ, মার্কিনরা অনেক জিনিস কেনেন ও ব্যবহার করেন। আবার ডলার হলো বিশ্বের প্রধান মুদ্রা, তাই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে অনেক পণ্য কিনতে পারে এবং সব দেশই যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করতে চায়। চীনের অতিরিক্ত পণ্যের জন্য তাই যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এই দুই দেশের এমন সম্পর্ককে ইতিহাসবিদেরা বলছেন ‘চিমেরিকা’ (চীন আর আমেরিকা মিলিয়ে এই নাম)।

এই সম্পর্ক শুরুতে দুই দেশের জন্যই উপকারী মনে হলেও পরে সমস্যা তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের শিল্প ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়, কারণ, সস্তা চীনা পণ্য মার্কিন বাজারে ঢুকতে থাকে। আর চীনের ভেতরে নিজের মানুষের চাহিদা এত কম যে তারা সব সময় বাইরে পণ্য বিক্রি না করলে চলতে পারে না। … এসব সমস্যা সমাধানে যদি যুক্তরাষ্ট্র (বিশেষ করে ট্রাম্প) সব দেশের ওপর বড় বড় শুল্ক বসিয়ে দেয়, তাহলে শুধু চীন নয়, পুরো বিশ্ববাণিজ্যই বড় বিপদে পড়বে।”

আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার কখনো পুড়েনি , তাহলে বইগুলো কোথায় গেল ?

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অমর প্রতীক। এটি কেবলমাত্র একটি বইয়ের ভাণ্ডার ছিল না, ছিল প্রাচীন বিশ্বের জ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু গ্রন্থাগারটি ধ্বংস হয়েছিল—এটাই প্রচলিত বিশ্বাস। তবে অনেক গবেষক ও ইতিহাসবিদ মনে করেন, এটি পুরোপুরি পুড়ে শেষ হয়নি, বরং এর কিছু মূল্যবান জ্ঞান গোপনে সংরক্ষিত হয়েছে এবং আজও তা রহস্যময় গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে।

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে টলেমিক রাজবংশের শাসক পটোলেমি প্রথম এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের সমস্ত জ্ঞান এক জায়গায় সংগ্রহ করা, যাতে গবেষক ও বিজ্ঞানীরা সেখানে এসে নতুন নতুন আবিষ্কার ও গবেষণা করতে পারেন।গ্রন্থাগারটিতে বিভিন্ন দেশের ভাষায় লেখা প্রায় ৭ লাখেরও বেশি স্ক্রোল ও পাণ্ডুলিপি ছিল বলে ধারণা করা হয়।

এই গ্রন্থাগার শুধু বইয়ের ভাণ্ডার ছিল না, এটি ছিল এক ধরনের গবেষণা কেন্দ্র যেখানে দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিকরা একত্রিত হয়ে আলোচনা করতেন। এ কারণে এটি প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হত। গ্রন্থাগারের গবেষণার ফলে গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, দার্শনিক চিন্তা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল।

আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার ধ্বংসের পেছনে নানা ইতিহাস ও কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। সবচেয়ে পরিচিত গল্প হলো, খ্রিস্টপূর্ব ৪৮ সালে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজার মিশর আক্রমণের সময় দুর্ঘটনাক্রমে গ্রন্থাগার পুড়ে যায়। তবে ইতিহাসবিদরা এটিকে সম্পূর্ণ সত্য বলে মনে করেন না। কারণ সিজারের আগুনে গ্রন্থাগারের কিছু অংশ পুড়ে গেলেও পুরো গ্রন্থাগার ধ্বংস হয়নি।

এরপর রোমান সম্রাট অরেলিয়ান (২৭০ খ্রিস্টাব্দ) এবং কপটিক পোপ থেওফিলাস (৩৯১ খ্রিস্টাব্দ) এর নির্দেশে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডেও গ্রন্থাগারের অবস্থা আরও খারাপ হয়। বিশেষ করে পোপ থেওফিলাসের সময় মন্দির ও গ্রন্থাগার ধ্বংসের ঘটনা ঘটে, যা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনার ফল ছিল।তবে এই ধ্বংস একবারে হয়নি, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধীরে ধীরে গ্রন্থাগারটি পতিত হয়েছে এবং অবশেষে বিলুপ্ত হয়েছে।

আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার ধ্বংসের পর প্রশ্ন থেকে যায়, এত বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার একেবারে শেষ হয়ে গেলো কী? এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক রহস্যময় মত রয়েছে। একদল গবেষক বিশ্বাস করেন, গ্রন্থাগারের সবকিছু পুড়ে শেষ হয়নি, বরং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান, জাদুবিদ্যা ও মহাজাগতিক নথি গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

১৯ শতকের থিওসফিস্ট লেখক এইচ.পি. ব্লাভাটস্কি তার গ্রন্থ “Isis Unveiled” এ উল্লেখ করেছেন যে, প্রাচীন রাব্বি ও জ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে সিজার, খ্রিস্টান ও আরব আক্রমণকারীদের অগ্নিকাণ্ডে সব পুড়ে যায়নি, অনেক কিছু বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে সেরাপিয়াম নামক একটি অংশ ছিল, যা মূল গ্রন্থাগারের পাশেই অবস্থিত ছিল এবং সেখানে গোপন বিদ্যা ও নথি রাখা হত।

এই গোপন নথিগুলোতে ছিল প্রাচীন বিজ্ঞান, জাদুবিদ্যা, মহাজাগতিক শক্তি ও রহস্যময় তথ্য। ধারণা করা হয়, এই নথিগুলো আজও বিভিন্ন গোপন সোসাইটি বা রহস্যময় গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে, যারা এই জ্ঞানকে সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে রক্ষা করে আসছে।

গোপন সোসাইটির ধারণা ইতিহাসের নানা পর্যায়ে উঠে এসেছে। আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের ধ্বংসের পর থেকে অনেক রহস্যময় গোষ্ঠী যেমন ফ্রিম্যাসন, রোজিক্রুসিয়ান, টেম্পলার নাইটস ইত্যাদি এই প্রাচীন জ্ঞান সংরক্ষণে কাজ করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। তারা এই জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের থেকে গোপন রেখেছে এবং শুধুমাত্র নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে।

এই গোষ্ঠীগুলো প্রাচীন জ্ঞানকে আধুনিক যুগে বিভিন্ন আড়ালে সংরক্ষণ করেছে এবং কখনো কখনো নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তা মানবজাতির উপকারে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। তবে এ বিষয়ে অনেক গুজব ও কল্পকাহিনীও রয়েছে, যার সত্যতা যাচাই করা কঠিন।

আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের ধ্বংস মানব সভ্যতার জন্য এক বিশাল ক্ষতি ছিল। অনেক অমূল্য জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি অনেক ধীরগতিতে হয়েছে। তবে গ্রন্থাগারের ধারণা ও ইতিহাস আজও গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এটি আমাদের শেখায় জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রচারের গুরুত্ব।

আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশনের যুগে আমরা গ্রন্থাগারের ধারণাকে নতুনভাবে গ্রহণ করছি। ডিজিটাল লাইব্রেরি, অনলাইন ডাটাবেজ ও গবেষণা কেন্দ্রগুলো প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের আধুনিক রূপ। এতে আমরা আশা করতে পারি, আজকের যুগে তথ্য ও জ্ঞান কখনো হারিয়ে যাবে না, বরং তা সবার জন্য সহজলভ্য হবে।

আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন গ্রন্থাগার ধ্বংস হয়েছিল এটাই প্রচলিত বিশ্বাস। তবে এটি পুরোপুরি পুড়ে শেষ হয়নি, বরং অনেক মূল্যবান গ্রন্থ গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং আজও সেগুলো রহস্যময় গোপন সোসাইটিদের হাতে রয়েছে, এমন ধারণা রয়েছে। এই গ্রন্থাগার মানব ইতিহাসের এক অমর প্রতীক, যা আমাদের জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রচারের গুরুত্ব শেখায়।

বাংলাদেশসহ একাধিক দেশে , সামরিক উপস্থিতি বিবেচনা করছে চীন : যুক্তরাষ্ট্র

বৈশ্বিক বিভিন্ন হুমকি নিয়ে প্রতি বছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ)। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘২০২৫ ওয়ার্ল্ডওয়াইড থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে চীন অংশে যেসব হুমকির কথা বলা হয়েছে — তাতে বাংলাদেশ,পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ একাধিক দেশের নাম রয়েছে।

চীনের ব্যাপারে সতর্ক করে প্রতিবেদনে বলা হয় — চীন সম্ভবত বার্মা (মিয়ানমার), থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কিউবা, কেনিয়া, গিনি, সেশেলস, তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া, নামিবিয়া, মোজাম্বিক, গ্যাবন, বাংলাদেশ, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও তাজিকিস্তানে সামরিক উপস্থিতির কথা বিবেচনা করছে। এশিয়ায় প্রধান শক্তিধর দেশ হওয়ার কৌশলগত লক্ষ্য বজায় রেখেছে চীন।

ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশে চীনা সামরিক উপস্থিতির আশঙ্কা করা হলেও উপস্থিতির স্বরূপ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তবে বেইজিংয়ের সম্ভাব্য কার্যক্রমের ধারণা দিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি মিশ্র ব্যবস্থায় চীন এসব কার্যক্রম চালায়। এতে গ্যারিসন বাহিনী (নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানরত সেনা) ও ঘাঁটি রাখা হয়। এ ছাড়া যেসব দেশে এসব কার্যক্রম চালানো হয়, সেসব দেশের বাহিনীও যুক্ত হয়, সুবিধা পায়। এর বাইরে বাণিজ্যিক অবকাঠামোও থাকে এতে। গত বছর তানজানিয়ায় এমনই করেছে চীন।

গতবছর তানজানিয়ায় সামরিক মহড়ার মাধ্যমে চীন বিশ্বব্যাপী নিজেদের সামরিক শক্তিমত্তা জানান দিয়েছে বলে দাবি করা হয় ওই প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, সমুদ্র ও আকাশপথে এক হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সেটি ছিল আফ্রিকায় চীনের সর্ববৃহৎ সামরিক মহড়া।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয় — তাইওয়ানের ওপর দখল নেওয়া, চীনের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া এবং চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে বেইজিং। বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য তারা ওয়াশিংটনকে চ্যালেঞ্জও জানাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয় — কূটনৈতিক, তথ্যগত, সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের টেক্কা দিতে চীন তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। তার সূত্র ধরেই ইন্দো-প্যাসিফিক ও তার আশপাশের অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে বেইজিং।

এই প্রতিযোগিতায় চীনকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন সামরিক জোট ও তার নিরাপত্তা অংশীদারত্বের জন্য সমর্থনকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

ডিএনএ ও হ্যাক করা , সম্ভব হবে অদূর ভবিষ্যতে

আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জীবনের অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তার মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো “নেক্সট-জেনারেশন ডিএনএ সিকোয়েন্সিং” (Next-Generation DNA Sequencing বা NGS)। এই প্রযুক্তি দ্রুত এবং কম খরচে মানুষের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে, যা অসংখ্য রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু এই আশাব্যঞ্জক প্রযুক্তির মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে এক ভয়ংকর হুমকি, ডিএনএ হ্যাকিং।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ পোর্টসমাউথ-এর এক গবেষণায় উঠে আসা এমন এক তথ্য নড়েচড়ে বসিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা ও জেনেটিক গবেষণা সমাজকে। গবেষকরা বলেন NGS পদ্ধতির প্রতিটি ধাপ—নমুনা সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, ডেটা সংরক্ষণ—সবখানেই রয়েছে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর। এই ফাঁক দিয়ে হ্যাকাররা মানুষের জিনগত তথ্য চুরি, বিকৃত বা প্রয়োগ করতে পারে ভয়ানক উদ্দেশ্যে। গবেষণার ভাষ্যমতে, ডিএনএ হচ্ছে সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও অপরিবর্তনীয় তথ্য। একে চুরি করা মানে শুধুই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয়, বরং হতে পারে একধরনের জৈব-সন্ত্রাসবাদ।

আরো উদ্বেগের বিষয় হলো বর্তমান নিরাপত্তাব্যবস্থা মূলত সাধারণ এনক্রিপশন বা পাসওয়ার্ড নির্ভর, যা ভবিষ্যতের উন্নত হ্যাকিং বা এআই নির্ভর হামলার সামনে তেমন কার্যকর হবে না। গবেষণায় এমন সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে যেখানে সিন্থেটিক ডিএনএ-তে ম্যালওয়্যার প্রোগ্রাম কোড বসিয়ে কোনো ল্যাবরেটরি কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করা সম্ভব হতে পারে। এছাড়া তথাকথিত “অ্যানোনিমাইজড” ডিএনএ ডেটা থেকেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখনই সময় সাইবার-বায়োসিকিউরিটি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার। এতে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বায়োটেক ইন্ডাস্ট্রির যৌথ অংশগ্রহণ জরুরি। শক্তিশালী প্রটোকল, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এবং এআই ভিত্তিক সাইবার ডিটেকশন ব্যবস্থার সমন্বয় ছাড়া জেনেটিক তথ্যর সুরক্ষা অসম্ভব।

ডিএনএ শুধু বৈজ্ঞানিক উপাদান নয়, একজন মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক সত্তা। আর তাই একে রক্ষা করা মানে আমাদের ভবিষ্যৎ ও নৈতিকতা রক্ষা করা। বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হোক, নিরাপত্তাহীন প্রযুক্তি আমাদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে পরিণত হতে পারে, সেই হুমকির নাম এখন ডিএনএ হ্যাকিং।