Home Blog Page 86

উচ্চশিক্ষিতের হার , কোন দেশে কেমন ?

উচ্চশিক্ষিত জনশক্তি সাধারণত অধিক উৎপাদনক্ষম, উদ্ভাবনে সক্ষম এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রয়েছে এমন দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে সিবিআরই রিসার্চ। এতে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ব্যাচেলর ডিগ্রি বা তার চেয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা ও শতকরা হারের ভিত্তিতে দেশগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

উন্নত দেশগুলো সাধারণত উচ্চশিক্ষায় ব্যাপক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছে। তবে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো এখনো সে লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বব্যাপী শিক্ষার হার বিবেচনায় শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। শিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্কের অনুপাতে ইউরোপের ছয়টি দেশ রয়েছে সেরা দশের তালিকায়।

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে আয়ারল্যান্ড, যেখানে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার ৫২ শতাংশের বেশি—অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা সমমানের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর, যেখানে এই হার ৪৬ শতাংশ ও ৪৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেও উচ্চশিক্ষার হার উল্লেখযোগ্য—৪০ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে দেশটির শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা তৃতীয় সর্বোচ্চ, যা ৭ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি।

সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন ও ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। এই দুটি দেশের উচ্চশিক্ষিত জনগণের অনুপাত তালিকায় সর্বনিম্ন হলেও, জনসংখ্যার বিশাল আকারের কারণে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মোট সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এখানেই।

দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে চিলি, কোস্টারিকা, ব্রাজিল ও কলম্বিয়ায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারীর হার ১৯ থেকে ২৩ শতাংশের মধ্যে।

উচ্চশিক্ষার হার এবং মাথাপিছু আয়–এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ ইতিবাচক সম্পর্ক থাকায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ এখনো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। কারণ, এসব দেশের বড় একটি কর্মশক্তি এখনো শিক্ষাবঞ্চিত।

আফ্রিকান সভ্যতা আকসুম : ইতিহাসচর্চার উপনিবেশবাদ

বিশ্ব ইতিহাসের মানচিত্রে এমন কিছু সভ্যতা রয়েছে যারা তাদের সময়ের তুলনায় ছিল অতুলনীয়, কিন্তু আধুনিক দৃষ্টির সীমাবদ্ধতায় আজ তারা বিস্মৃত।তেমনই এক গোপন সাম্রাজ্যের নাম আকসুম (Aksum)। খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দে আফ্রিকার অতিকায় এই সাম্রাজ্য, আজকের ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং ইরিত্রিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিস্তার লাভ করেছিল। তবে মিশর, কার্থেজ বা রোমের মতো তা ইতিহাসে স্থান পায়নি; বরং নুবিয়া ও মিশরের ছায়াতলে ঢাকা পড়ে গেছে আকসুম—যা একদিকে ছিল বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন, অন্যদিকে ছিল খ্রিস্টীয় ধর্ম ও স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য কেন্দ্র।

খ্রিস্টীয় ১০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ আকসুম একটি শক্তিশালী শহররাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার ভৌগোলিক অবস্থান ছিল অসাধারণ, লাল সাগরের পশ্চিম উপকূল ধরে, মিশরের দক্ষিণে এবং আরব উপদ্বীপের ঠিক বিপরীতে। এই কৌশলগত অবস্থানই তাকে পরিণত করেছিল রোম, ভারত ও আরবের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গেটওয়ে-তে।

আকসুমের রাজারা ভারত মহাসাগরের নৌপথ ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে মশলা, হাতির দাঁত, সোনা ও কাঁচের পণ্য বিনিময় করত। গ্রিক ভূগোলবিদ ক্লডিয়াস টলেমি ও প্রাচীন আরব ইতিহাসবিদরাও আকসুমের বাণিজ্যিক শক্তি ও সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন।

আকসুমের সবচেয়ে দৃশ্যমান নিদর্শন হলো তার স্তম্ভ আকৃতির পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ—ওবেলিস্ক, এটি রাজাদের সমাধির উপর নির্মিত হত। এই ওবেলিস্কগুলো প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতারও হয় এবং একাধিক তলা বিশিষ্ট ভবনের নকশা খোদাই করে বানানো, যা ইঙ্গিত করে তাদের স্থাপত্য চিন্তার গভীরতা ও সৌন্দর্যবোধ।

আকসুম সাম্রাজ্যের লিপি ছিল গী’ইজ (Ge’ez), এটি আজো ইথিওপীয় অর্থডক্স চার্চে ধর্মীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই লিপি আকসুমিদের নিজস্ব সাহিত্য ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে এবং প্রমাণ করে তারা ছিল একটি শ্রুতিলিপিভিত্তিক সাংস্কৃতিক জাতি, মৌখিকতা ও লিখিততা উভয়কেই মূল্য দিত।

আকসুম আফ্রিকায় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণকারী প্রথম বড় রাজ্য। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে রাজা এজানা (Ezana) রাষ্ট্রীয়ভাবে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, যার প্রভাব বিস্তার করে পরবর্তী শতাব্দীজুড়ে। এজানার শিলালিপিতে তিনি নিজেকে “খ্রিস্টান রাজা” হিসেবে অভিহিত করেন—এটি তখনকার প্রেক্ষাপটে একটি সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল।

এই ধর্মীয় রূপান্তর আকসুমকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সঙ্গেও এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ করে, এবং এটিই পরবর্তীতে ইথিওপীয় খ্রিস্টধর্মের ভিত্তি স্থাপন করে। আজকের ইথিওপীয় অর্থডক্স চার্চের বহু ধর্মীয় আচার, সংগীত ও ভাষার উৎস এই আকসুমীয় খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি।

প্রশ্ন থেকে যায়, এত সমৃদ্ধ এক সাম্রাজ্য হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল? ইতিহাসবিদদের মতে এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ: জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিভিত্তিক অবক্ষয়, ইসলামি সাম্রাজ্যের উত্থান, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দিক পরিবর্তন। ৭ম শতাব্দীর পর ইসলামী বাণিজ্যপথ আকসুমকে বাইপাস করে, যার ফলে বাণিজ্যিক পতন ঘটে।

তাছাড়া উত্তরাঞ্চলের আরব ও কুশিটিক গোত্রের আক্রমণে আকসুম ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ৯ম শতাব্দী নাগাদ এটি একটি আঞ্চলিক রাজত্বে রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত খ্রিস্টীয় ৯৪০-এর কাছাকাছি সময় এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

ভারতের সাথে আকসুমের সম্পর্ক ছিল বহুস্তরীয়। রোমানদের মতো আকসুমরাও ভারতের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষত কর্ণাটক ও তামিল উপকূলের সাথে মশলা, হস্তশিল্প, ও মহার্ঘ ধাতুর বাণিজ্যে অংশ নেয়। ভারতীয়দের কাছ থেকেও তারা হস্তলিখিত ধর্মীয় পাণ্ডুলিপি ও পুঁথির আদানপ্রদান করত। কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দক্ষিণ ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আকসুমের মুদ্রার সন্ধানও পাওয়া গেছে।

ইথিওপীয় লোককথায় একটি রহস্যময় নারীর নাম উঠে আসে “যোদিত” বা “গুডিট” রানি, যিনি আকসুমের পতনের জন্য দায়ী বলে বলা হয়। যদিও ইতিহাস তাকে দুষ্ট চরিত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করে, কিছু গবেষক মনে করেন তিনি ছিলেন একটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিদ্রোহের প্রতীক—যে বিদ্রোহ ছিল শোষণ ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতার বিরুদ্ধে এক নারীকেন্দ্রিক সংগ্রাম।

আধুনিক ইথিওপিয়ায় আকসুম শহর UNESCO কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৩৭ সালে ইতালিয়ান উপনিবেশবাদীরা আকসুমের প্রধান ওবেলিস্কটি চুরি করে রোমে নিয়ে যায়; বহু আন্দোলনের পর ২০০৫ সালে সেটি ফেরত এনে পুনরায় স্থাপন করা হয়। বর্তমান প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আকসুমের মুদ্রা, গৃহস্থালী সামগ্রী, ও গী’ইজ লিপিতে খোদিত শিলালিপি উদ্ধার হচ্ছে, যা আকসুমকে আফ্রিকান ইতিহাসের একটি প্রতীকী কেন্দ্র হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে।

এই যুগে এসে আকসুম সম্পর্কে জানার প্রয়োজন কেবল অতীত জানার কৌতূহল থেকে নয় বরং এটি আমাদের ইতিহাসচর্চার দৃষ্টিভঙ্গির এক গভীর প্রশ্নকে সামনে আনে। কেন আফ্রিকার একটি পরিশীলিত, বাণিজ্যনির্ভর, খ্রিস্টীয় সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্য আমাদের পাঠ্যক্রমে অনুপস্থিত? কেন আকসুমের নাম আমরা জানি না, অথচ রোম, গ্রিস, কিংবা মিশরের গল্পে আমরা অভ্যস্ত?

আকসুমকে জানার অর্থ হলো ঔপনিবেশিক ইতিহাসচর্চার সীমাবদ্ধতা ভেঙে আফ্রিকার নিজস্ব কণ্ঠস্বরকে স্থান দেওয়া। পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্মিত ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকাকে “অসভ্য” বা “অপূর্বতন” মহাদেশ হিসেবে দেখিয়েছে, যা আধুনিকতা ও সভ্যতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আকসুম প্রমাণ করে আফ্রিকাও ছিল এক সময়ের বিশ্ববাণিজ্যের কেন্দ্র, ধর্মীয় সংস্কারের পথিকৃৎ এবং ভাষাশৈলীর উদ্ভাবক।

বর্তমান বিশ্ব যখন জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করছে, তখন আকসুমের মতো প্রাচীন আফ্রিকান সভ্যতা আমাদের শেখাতে পারে কীভাবে এক বহুত্ববাদী, আন্তসংযুক্ত পৃথিবী গঠিত হয়েছিল হাজার বছর আগে থেকেই।

বাংলাদেশে সংকটের জন্য , বাইরের কাউকে দোষারোপ করা যায় না : ভারত

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ দায়ী বলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ওই মন্তব্য সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা বলে ভারত মনে করে।

সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ২৫ মে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের কারণে দেশ বড় সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ জন্য পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার বলে প্রধান উপদেষ্টা মনে করছেন।’

প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে মান্নার দেওয়া ওই বক্তব্য সম্পর্কে ভারতের মনোভাব কী জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তার মোকাবিলা করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। সে জন্য বাইরের কাউকে দোষারোপ করা যায় না।

রণধীর জয়সোয়াল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনের দায় পুরোটাই সরকারের। বাইরের কাউকে দোষারোপ কিংবা বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দাঁড় করলে সমস্যার সমাধান করা যায় না। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, সমস্যা ও তার মোকাবিলা থেকে মানুষের নজর সরাতে সরকার এ বলছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছে। সরকার বলেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর ও আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ভোট হবে।এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সোয়াল বলেন, সরকারের উচিত দ্রুত সুষ্ঠু, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দিয়ে জনগণের ইচ্ছা ও রায়ের মর্যাদা দেওয়া।

আরেক প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ভারত চায় বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে, যা ওই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও স্বার্থ রক্ষা করবে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মানবিক করিডর তৈরির বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। তবে জয়সোয়াল এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। এ বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে দেশের সব ঘটনাবলির ওপর ভারতের দৃষ্টি রয়েছে।

হিউম্যান ফ্যাট থেকে স্টেম সেল , হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা নতুন কিছু নয়, তবে মানবদেহের চর্বি (ফ্যাট) থেকে স্টেম সেল আহরণের ধারণা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ২০০১ সালে UCLA গবেষকরা দেখান, এতদিন অবহেলিত ও অবাঞ্ছিত বলে বিবেচিত মানবদেহের চর্বিতে বিপুল পরিমাণে প্রাপ্তবয়স্ক স্টেম সেল (Adult Stem Cell) রয়েছে। এই আবিষ্কার হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

UCLA ল্যাবের গবেষকরা লিপোসাকশন প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত চর্বি থেকে প্রথমে পরিণত ফ্যাট সেল (adipocyte) আলাদা করেন। এরপর বাকি অংশ, ‘processed lipoaspirate’ (PLA) বিশ্লেষণ করেন। PLA-তে থাকে অপরিণত ফ্যাট সেল, এন্ডোথেলিয়াল সেল (রক্তনালির কোষ), স্কার-ফরমিং সেল ইত্যাদি। গবেষকরা অনুমান করেন PLA-তে থাকা অপরিণত ফ্যাট সেলগুলো হয়তো স্টেম সেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, PLA সেলগুলোকে বিশেষ গ্রোথ ফ্যাক্টর দিয়ে হাড় ও কার্টিলেজ কোষে রূপান্তর করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ PLA সেলগুলো ল্যাবরেটরিতে দ্রুত সংখ্যায় বাড়ানো যায়—একটি লিপোসাকশন স্যাম্পল থেকে কোটি কোটি কোষ উৎপাদন সম্ভব। এই আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

গবেষকরা প্রথমে চেষ্টা করেন PLA সেল থেকে হৃদপিণ্ডের পেশীকোষ (কার্ডিওমায়োসাইট) ও রক্তনালির এন্ডোথেলিয়াল সেল তৈরি করতে। কিছু পরীক্ষায় PLA সেল হৃদপিণ্ডের কোষের পাশে রেখে দেখা যায় তারা ছন্দবদ্ধভাবে স্পন্দিত হতে শুরু করে।

তবে PLA সেল সরাসরি হৃদপিণ্ডের কোষে রূপান্তরিত না হলেও, তারা আশপাশের কোষের পুনর্জন্ম ও রক্তনালির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। গবেষণায় দেখা যায় PLA সেল (পরবর্তীতে যাদের Adipose Stromal Cell বা ASC নাম দেয়া হয়) অক্সিজেনের ঘাটতি টের পেলে প্রচুর গ্রোথ ফ্যাক্টর নিঃসরণ করে, যা নতুন রক্তনালি গঠনে সহায়ক। প্রাণীতে পরীক্ষায় দেখা যায় ASC ইনজেকশন দেয়ার পর আক্রান্ত পায়ে দ্রুত নতুন রক্তনালি গঠিত হয় এবং রক্তপ্রবাহ পুনরুদ্ধার হয়।

বর্তমানে হৃদরোগী ও রক্তনালির রোগীদের ওপর ASC ব্যবহার করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। আশা করা হচ্ছে ASC হয়তো নতুন রক্তনালি গঠন বা হার্ট ফাংশন উন্নত করতে পারবে। তবে এই চিকিৎসা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ ASC কোষ শরীরে বেশিদিন টিকে থাকে না; প্রায়ই এক সপ্তাহের মধ্যেই মারা যায়। ফলে বারবার ইনজেকশন দিতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া ASC কোষ হৃদপিণ্ডে ইনজেক্ট করার পর যদি সঠিক পরিবেশ না পায়, তাহলে তারা মারা যেতে পারে এবং তাতে বিপজ্জনক প্রদাহ হতে পারে।

বাজারে কিছু অসাধু ক্লিনিক কোনো বৈজ্ঞানিক প্রোটোকল ছাড়াই লিপোসাকশন স্টেম সেল দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার দাবি করছে। তারা রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে আকৃষ্ট করছে, অথচ বাস্তবে PLA-তে নানা ধরনের কোষ থাকে এবং সেগুলো সঠিকভাবে আলাদা না করলে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। FDA কিছু ক্ষেত্রে নিজের কোষ ব্যবহারে ছাড় দিলেও, অপর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও যাচাই ছাড়া এই ধরনের চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ।

চর্বি-উৎপন্ন স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। ভবিষ্যতে এই কোষগুলোকে আরও কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট অঙ্গ বা টিস্যুতে পৌঁছানো, তাদের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য আরও গবেষণা দরকার। ASC কোষের মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরিতে রক্তনালির জটিল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজেও এই কোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবদেহের চর্বি থেকে প্রাপ্ত স্টেম সেল হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তবে এই সম্ভাবনার পূর্ণ বাস্তবায়ন ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে আরও গভীর ও নিয়ন্ত্রিত গবেষণা অপরিহার্য। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় মানবদেহের অজানা সম্ভাবনা আবিষ্কারের এই যাত্রা চলতেই থাকবে—তবে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, বাস্তবতা ও নৈতিকতা সবকিছু মাথায় রেখে এগোতে হবে। চর্বি-উৎপন্ন স্টেম সেল একদিন হয়তো হৃদরোগ চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে, তবে এখনই অতি-আশাবাদী হওয়া বা অন্ধভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা বিপজ্জনক।

অধ্যাপক ইউনূসকে ৫ বছর ক্ষমতায় চেয়ে , ফেসবুকে বিজ্ঞাপন কারা , কেন দিচ্ছে ?

0

ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে বলে বারবার বলে আসছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই আলোচনার মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় দেখতে চেয়ে ফেসবুকে প্রচার চলছে। অনেক বাণিজ্যিক ফেসবুক পেজ তাদের লাইক ও ফলোয়ার বাড়াতে এই প্রচারণার সুযোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক বার্তার প্রচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন ফেসবুক পেজের মাধ্যমে খাবার, প্রসাধনী, পোশাক বিক্রির বিজ্ঞাপনদাতারাও।

‘তাঁরাও ড. ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য চান, শুধু ফেসবুকে “লাইক” বাড়াতে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরেছে তথ্য যাচাইয়ের প্ল্যাটফর্ম ডিসমিসল্যাব। মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয় — ফেসবুকের এই প্রচার কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নয়, বরং খাবার, প্রসাধনী, পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত ভ্লগের প্রচারণা। এসব বিজ্ঞাপনে অধ্যাপক ইউনূসের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ‘লাইক’ দেওয়া বা ‘ফলো’ করার আহ্বান জানানো হয়।

ডিসমিসল্যাব তাদের অনুসন্ধানে দেখেছে, চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অন্তত ৪৭টি ফেসবুক পেজ এ ধরনের ৫৫টি বিজ্ঞাপন দিয়েছে। প্রতিটি পেজের সর্বশেষ ২০টি পোস্ট পর্যালোচনা করে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম দেখা হয়। এতে দেখা যায়, ৯০ শতাংশ পেজ আগে কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে পোস্ট করেনি।

ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ড. ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় দেখতে চাই’ স্লোগানটি ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ফেসবুক পেজ এই আলোচনার সুযোগ নিতে নিজেদের পেজে একই ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করে।

যেমন — ঢাকাভিত্তিক রেস্তোরাঁ ‘দ্য টেস্টি অ্যাপ্রোনের’ ফেসবুক পেজে ১৩ ও ১৪ মে প্রচারিত দুটি বিজ্ঞাপনের একটির বার্তা ছিল, ‘আপনি যদি চান ড. ইউনূস পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকুক, তাহলে ডান পাশে লাইক অপশনে ক্লিক করুন’। বিজ্ঞাপনের নিচে ডান পাশে একটি ‘লাইক’ বাটন দেখা যায়।

ডিসমিসল্যাব বলছে, ৪৭টি পেজের মধ্যে ৩০টি অর্থাৎ প্রায় ৬৪ শতাংশই খাবার, প্রসাধনী, পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা বা মৌসুমি ফলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আটটি ছিল ব্যক্তিগত বা ভ্লগ ধরনের পেজ। আর দুটি নিজেদের মিডিয়া আউটলেট হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। বাকি পেজগুলো ‘পাবলিক ফিগার’ ও ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’ হিসেবে তালিকাভুক্ত।

‘ইয়াতি ডিজিটাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ এম ফারুক ডিসমিসল্যাবকে বলেন, এ ধরনের বিজ্ঞাপনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পেজের ফলোয়ার বাড়ানো। পেজের গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা হয় ফলোয়ার সংখ্যা দিয়ে। বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর উচিত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে , নারীদের ক্যান্সার ঝুঁকি

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত শুধুমাত্র পরিবেশ, কৃষি কিংবা ভূরাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক এক গবেষণা আমাদের সামনে এনেছে এক গভীর উদ্বেগের চিত্র, বাড়তে থাকা তাপমাত্রা নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয় ক্যানসারের মতো নারীবিশেষ রোগগুলোর মৃত্যুহার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে জানাচ্ছে এই গবেষণা।

২০২৫ সালের মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস নিউজ হেলথ বিভাগে প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও পরিবেশতত্ত্ববিদ। গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের মধ্যে ক্যানসারজনিত মৃত্যুহারের একটি বিস্ময়কর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত যেসব অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গ্রীষ্মপ্রধান এবং তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়, সেখানে এই হার অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, উচ্চ তাপমাত্রা নারীর দেহে হরমোনাল ভারসাম্য ও কোষীয় কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এই প্রভাব স্তনের টিস্যু ও ডিম্বাশয়ের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর স্বাস্থ্য এই দুই বিষয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। কিন্তু গ্রীষ্মের ক্রমাগত দীর্ঘায়ন, ঘন ঘন হিটওয়েভ এবং পরিবেশে দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকায় মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়ে, যা ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র জৈবিক প্রভাব নয়, বরং সমাজ-অর্থনীতিক স্তরেও নারীরা বেশি ঝুঁকিতে। জলবায়ু সংকটের ফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীরা স্বাস্থ্যসেবার বাইরে পড়ে যান, যাদের সময়মতো স্ক্রিনিং বা চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ কম। ফলে তাঁদের মধ্যে মৃত্যুহারও বেশি।

আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে নারীস্বাস্থ্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে। এসব অঞ্চলের নারীরা যেসব পেশায় নিযুক্ত, যেমন কৃষিকাজ, নির্মাণ শ্রম কিংবা গৃহস্থালি কাজ—সেগুলোর সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারীদের এই অংশ সবচেয়ে আগে ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের জলবায়ু নীতিতে নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রথমত নারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গবেষণায় জলবায়ু ফ্যাক্টর অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত স্বাস্থ্যসেবা ও স্ক্রিনিং প্রোগ্রামকে তাপদূষণ-সংবেদনশীল এলাকাগুলোর জন্য আলাদাভাবে ডিজাইন করতে হবে। তৃতীয়ত নারীবান্ধব পরিবেশনীতি প্রণয়ন ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় নেই। জলবায়ু সংকট এখন আর কেবল গলছে-বরফ কিংবা উঠছে-সাগরের গল্প নয়। এটি এখন মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা কাটেনি , সব পক্ষই অনড় : টিপু সুলতান , হেড অব পলিটিকস অ্যান্ড ক্রাইম , প্রথম আলো

0

“… সরকার, রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে, সেটা কমেনি। কার্যত সব পক্ষ যার যার অবস্থানে অনড়। এমন অবস্থায় যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও কঠিন করে তুলতে পারে।

নির্বাচনের রোডম্যাপ (পথনকশা) ঘোষণা করা নিয়ে সরকারের সঙ্গে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দূরত্বের কথাও জনপরিসরে আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য দলগুলোর মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

… গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন—এ নিয়ে প্রারম্ভিক আলোচনায় ভিন্নমতের কথা শোনা যায়। শুরু থেকে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বা ভুল–বোঝাবুঝির একটা কারণ বলে অনেকে মনে করেন। অতীতের কিছু ঘটনাও সন্দেহ–অবিশ্বাস তৈরিতে ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিতর্কিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতারা কীভাবে দেশ ছেড়ে পালালেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন, দোষারোপ ছিল এবং আছে।

পুলিশ বাহিনীর ভঙ্গুর অবস্থার কারণে মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের যুক্ত রাখা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েও ভেতরে-ভেতরে আলোচনা ছিল। … শুরু থেকে রাজনীতির মাঠের বর্তমান অংশীজনদের মধ্যে একটা চাপা দূরত্ব ও মতভেদ, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমেনি; বরং ক্রমেই বেড়েছে।

… আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনার চার দিনের মাথায় ১২ মে হঠাৎ সেনানিবাসকেন্দ্রিক একধরনের উত্তেজনা ও নিরাপত্তা জোরদারের খবর আসে জনপরিসরে এবং তা বেশ আলোড়ন তোলে। কিছু বিষয় গুজব আকারেও সামাজিক মাধ্যমে আসে। তখন এমন খবরও নানাভাবে প্রচার পায় যে, সরকারের ভেতর থেকে সেনাপ্রধানকে সরানোর চিন্তা বা চেষ্টা হচ্ছে। যদিও সরকার বা সেনাবাহিনী কোনো পক্ষ থেকেই এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

এমন একটা পরিস্থিতিতে ২০ মে দেশের ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। তাতে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর প্রধানেরাসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। ওই বৈঠকের আগে বা পরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের আলাদা বৈঠক হয় বলে আলোচনা আছে। তবে সরকারি সূত্র থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

… সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যকে ভিন্নমতের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন অন্তর্বর্তী সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কারণ, প্রধান উপদেষ্টা বলে আসছেন, ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এ ছাড়া করিডর, বন্দর, সংস্কারসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়েও সেনাপ্রধান যা বলেছেন তার সঙ্গে বিএনপির বক্তব্য ও দাবির অনেকাংশে মিল রয়েছে। ফলে বিএনপি ও সেনাপ্রধানের মধ্যে একধরনের বোঝাপড়া রয়েছে কি না, বিভিন্ন মহলে সেই আলোচনাও আছে।

… সর্বশেষ সরকারের ভেতরের বিভিন্ন সূত্র থেকে যতটা জানা যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর অবস্থানে অটল রয়েছেন। তিনি একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চান। চাপ তৈরি করে যেনতেন নির্বাচন করানোর পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

অনেকে মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার, সেনাবাহিনী এবং প্রধান ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি কার্যকর আস্থার সম্পর্ক তৈরি না হওয়ায় অনিশ্চয়তা গভীর হয়েছে। দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার, সেনাবাহিনী, বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতসহ অন্যদের মধ্যে একটা আস্থার সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি।…”

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার ৮ অভ্যাস –

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে দীর্ঘজীবন ও সুস্থ মস্তিষ্কের গোপন চাবিকাঠি। আধুনিক বিজ্ঞানের নানা গবেষণায় উঠে এসেছে কিছু অভ্যাস সহজে অনুসরণ করলেই আমরা নিজেদের মানসিক, শারীরিক ও আবেগগত সুস্থতা বজায় রাখতে পারি। চলুন জেনে নিই সেই গুরুত্বপূর্ণ ৮টি অভ্যাস।

১. নতুন কিছু শেখা

নতুন কিছু শেখার অভ্যাস মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটি বাড়াতে সহায়তা করে। নিউরোপ্লাস্টিসিটি হলো মস্তিষ্কের নিজেকে পুনর্গঠনের ক্ষমতা। কোনো নতুন ভাষা শেখা, সেলাই করা, গাড়ি চালানো, কোডিং শেখা বা স্রেফ নতুন কোনো রান্না শিখলেও আমাদের নিউরন কোষগুলো কর্মক্ষম থাকে। সৃজনশীল কাজগুলো যেমন আঁকা, গান কিংবা লেখালেখিও মস্তিষ্কে একই ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি শুধু স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে আলঝেইমার্সের ঝুঁকি পর্যন্ত কমায়।

২. সম্পর্কের বন্ধন
মানুষ সামাজিক প্রাণী। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। ফোনে কথা বলা, খুদে বার্তা পাঠানো বা ছুটির দিনে দেখা করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, গল্প করা, মানুষের গল্প শোনা এসবই মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে। সম্পর্কের গাঁটছড়া যত দৃঢ় হবে, জীবন ততই স্বস্তিদায়ক হবে।

৩. হাঁটা
খাওয়ার পর মাত্র ১০-১৫ মিনিট হাঁটা গ্লুকোজ স্পাইক নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়। শুধু তাই নয়, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটার অভ্যাস হৃদ্‌রোগ, স্থূলতা ও টাইপ–টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। হাঁটার সময় ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো, মাঝে মাঝে স্ট্রেচিং করা এবং ডিপ ব্রিদিং অভ্যাস করলে শরীর ও মন—দুটোই সতেজ থাকে।

৪. নতুন নতুন ছোট ছোট অভ্যাস গড়া
আমাদের মস্তিষ্ক অভ্যস্ততাকে চ্যালেঞ্জ দিলে ভালো সাড়া দেয়। যেমন: ডানহাতি হলে মাঝে মাঝে বাঁ হাতে ব্রাশ করা, বল ধরে ফেলা, উল্টো হাঁটা কিংবা বাঁ হাতে লিখতে চেষ্টা করাও মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ তৈরি করে। এ ছাড়া প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, পোষা প্রাণীর সঙ্গ পাওয়া এবং নিজেকে সুখী করার কাজ করা সবই স্নায়ুব্যবস্থাকে প্রশান্ত করে।

৫. কম খান
পেট ভরে খাবার খাওয়া নয়, বরং নিজের চাহিদার চেয়ে ৫–১০% কম খাওয়া দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। অতিরিক্ত খাবার লিভার, কিডনি ও হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ ফেলে। মৌসুমি ও টাটকা খাবার খাওয়া, ঘরে তৈরি খাবারে মনোযোগ দেওয়া, প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলা—এসব ছোট অভ্যাসও বড় প্রভাব ফেলে।

৬. প্রতিদিন গ্রিন–টি, চা কিংবা কফি পান
গ্রিন–টি ও কফিতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদ্‌রোগ, টাইপ–টু ডায়াবেটিস ও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। আলঝেইমার্স ও পারকিনসন্সের মতো রোগের বিরুদ্ধেও কাজ করে। তবে দিনে সর্বোচ্চ ৪ কাপ বা ৪০০ মিলিগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা ভালো।

৭. ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
নেতিবাচক মানসিকতা শুধু মানসিক স্বাস্থ্যেই নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ ও ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। ইতিবাচক চিন্তা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, হাস্যরস ও আত্মতৃপ্তি আমাদের শরীরে ভালো হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবনের গুণগত মান বাড়ায়।

৮. বাদাম
বাদামে আছে কপার, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ই ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন নানা ধরনের বাদাম (আখরোট, আমন্ড, কাজু, চিনা বাদাম) খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন। ছোট ছোট অভ্যাসই গড়ে তোলে বড় পরিবর্তন। জীবনকে দীর্ঘতর, সুস্থ ও আনন্দময় করতে আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো চর্চা করা শুরু করুন। মনে রাখবেন, আপনি যেভাবে বাঁচবেন মস্তিষ্কও সেভাবেই সাড়া দেবে।

ঈদুল আজহা উৎসবের সামাজিক বৈষম্য : সেলিম জাহান (ভূতপূর্ব পরিচালক , মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগ , জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি)

কোরবানির ঈদ নিঃসন্দেহে মুসলিম সমাজের এক মহাউৎসব। উৎসব মানেই আনন্দ, মিলন, উদারতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রকাশ। কিন্তু এই ঈদ উদযাপনের ছায়ায় একটি সুস্পষ্ট অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে অসমতা ও বৈষম্যের এক নির্মম বাস্তবতা। কেবল আনন্দে মশগুল হয়ে থাকলে সেই অসমতার দিকটি আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়।

কোরবানির ঈদের অন্যতম ব্যয়বহুল দিক হলো পশু ক্রয়। অনেকেই কোরবানির মূল দর্শন ভুলে গিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েন—কার গরু বড়, কারটা দামি। এই প্রতিযোগিতা শুধু পশুর দামে নয়, প্রদর্শনেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাড়ায় প্রতিবেশীদের মধ্যে শুরু হয় তুলনা; কে কত বড় গরু কোরবানি দিয়েছে, শিশুরাও এই প্রতিযোগিতার চাপে ভোগে। এই ধরনের সামাজিক চাপ শিশুদের মনোজগতে বৈষম্যের বীজ বপন করে খুব অল্প বয়সেই।

পশুর বাজারে চাহিদা পূরণ করতে দেশে-বিদেশে পশু সরবরাহ গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বৈধ আমদানির পাশাপাশি চোরাচালানও রয়েছে, যার ফলে কোরবানির পশুর বাজারে কালোবাজারি ও অনৈতিক অর্থনীতি গজিয়ে ওঠে। অন্যদিকে, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বহু কৃষক পরিবার ছোটবেলায় কেনা গরু লালন-পালন করে ঈদের সময় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এটি একদিকে যেমন অর্থনীতির অংশ, অন্যদিকে আত্মনির্ভরতার একটি গল্পও বটে।

কোরবানির ঈদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দিক হলো চামড়ার বাজার। প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয় অদক্ষ জবাই, সঠিক সংরক্ষণের অভাব এবং কসাইদের প্রশিক্ষণের অভাবে। অথচ এগুলো রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিরাট সুযোগ রয়েছে। ভিয়েতনাম যেখানে বাংলাদেশের চেয়ে ১৯ গুণ বেশি চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে, সেখানে আমাদের সীমাবদ্ধতা ভাবনার খোরাক জোগায়।

ঈদের বাজারেও বৈষম্য তীব্র। ধনী শ্রেণির লোকেরা লাখ টাকার লেহেঙ্গা কিংবা তিন প্রস্থ জামা কিনতে পারেন, যেখানে দরিদ্ররা ফুটপাতের পুরনো জামায় সন্তুষ্ট থাকেন। এমনকি কেউ কেউ নিজে কিছু না কিনে সন্তানের জন্য সামান্য জামা কিনেই ঈদ শেষ করেন। এই বৈষম্য দেখা যায় ঈদের খাবারেও—একপ্লেট সেমাই কিংবা একটি রঙিন চুড়িই হয়তো তাদের একমাত্র উৎসব।

সবচেয়ে নির্মম চিত্র দেখা যায় কোরবানির মাংস বিতরণের সময়। ধনীরা ঘরের ভেতর পোলাও মাংস খাচ্ছেন, আর বাইরে দরিদ্ররা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে, কখনো মারামারি পর্যন্ত হচ্ছে। কিছু মানুষ গোশতের অপেক্ষায় আহত হন, কেউ হয়তো পান না কিছুই। এমনকি অনেকে ঈদের পরদিন আবর্জনার স্তূপে খুঁজে ফেরেন ফেলে দেওয়া খাবারের অবশিষ্টাংশ।

সবকিছু মিলিয়ে কোরবানির ঈদের অর্থনীতির ছায়ায় সমাজে অসমতা আরও বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। যদিও পুরো বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়, তবু অন্তত এর নগ্ন প্রকাশ রোধে আমাদের সংবেদনশীল হওয়া জরুরি। ঈদের মূল আত্মা যদি সত্যিই ভ্রাতৃত্ব ও সহানুভূতি হয়, তাহলে উৎসব যেন কাউকে ছোট না করে, কাউকে অসম্মান না করে। আমরা শুরুটা করতে পারি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন থেকে। সমাজের প্রতিটি স্তরে সমতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টাই হতে পারে ঈদের প্রকৃত শিক্ষা।

নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান : ‘ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে নির্বাচন হয় , তার প্রস্তুতি নিন’

0

‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে’ বলে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তার প্রস্তুতি নিতে তিনি নতুন প্রজন্মসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ শীর্ষক এক জনাকীর্ণ সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে এ কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ নামে এই কর্মসূচি করা হলেও কার্যত এর মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি দলটির অন্যতম লক্ষ্য। সমাবেশে প্রধান অতিথিসহ সব বক্তাই নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের সমালোচনা করেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের পর এটি রাজধানীতে বিএনপির দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে মনে হয় এরই ভেতরে টালবাহানা শুরু হয়েছে বা চলছে। কথিত অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। এরই ভেতরে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, সংস্কার নিয়ে সময়ক্ষেপণের আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে এবং বাইরে কারও কারও মনে হয় ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।’

অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে দেখেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যেই সফলভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। সুতরাং অতীতে এই বাংলাদেশে রেকর্ড রয়েছে, তিন মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব।

কিন্তু আজ আমরা দেখছি, ১০ মাস পার হয়ে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করছে না। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি সরকার দ্রুত দেখতে চাই।’

সমাবেশে বিএনপি নেতা আমীর খসরু সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের ফলাফল নিয়ে বলেন — ‘এখন বলা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে নাকি ঐকমত্য হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য না হয়ে থাকলে সেটা করবে জনগণ। ভোট ও ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার সেই সংস্কার করবে।’

সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ চেয়েছিলাম। আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি। পদত্যাগের নাটক দেখেছে বাংলাদেশের মানুষ। গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য কথা বলা যদি অপরাধ হয়, সেই অপরাধ আমরা বারবার করতে পারব।’

তিনি আরো বলেন — ‘আমরা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম করেছি, তারা নাকি কোনো কোনো দেশের এজেন্ট হয়ে গেছি। এগুলো কারা করছে, সেটি আমরা বুঝতে পারি। এ দেশে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এদের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে চায়।’