Home Blog Page 85

অ্যান্টিকাইথেরা : সময়ের মস্তিষ্ক নাকি মহাবিশ্বের ঘড়ি?

১৯০১ সালে গ্রিস উপকূলের অ্যান্টিকাইথেরা দ্বীপের কাছে জেলেদের একটি ডুবে যাওয়া রোমান জাহাজের ধ্বংসাবশেষে আবিষ্কৃত হয় এক রহস্যময় যন্ত্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জীর্ণ, মরিচা ধরা ব্রোঞ্জের অংশবিশেষ দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি জ্যামিতিক সরঞ্জাম বলে মনে করা হলেও, বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন এটি কেবল একটি যন্ত্র নয়, বরং বিশ্বের প্রথম “অ্যানালগ কম্পিউটার”।

তবে এ আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন জেগে ওঠে, কেন একটি প্রাচীন যন্ত্র এত জটিল? এবং যদি এটি সত্যিই ক্যালেন্ডার বা জ্যোতির্বিদ্যার কাজেই ব্যবহৃত হত, তবে এর অভ্যন্তরীণ গঠন কেন এত ঘনীভূত ও সূক্ষ্ম? এই দ্বিধার মধ্যেই জন্ম নেয় নানা কল্পনা, তত্ত্ব এবং ষড়যন্ত্র,
এটি কি আদতে একটি টাইম ট্রাভেল যন্ত্র ছিল? নাকি মানুষের চেতনার উপর প্রভাব ফেলার মতো কোনো মস্তিষ্কীয় যন্ত্র?

অ্যান্টিকাইথেরা যন্ত্রটির গঠন ছিল চক্রাকার গিয়ার-ভিত্তিক, যা ৩০টিরও বেশি ব্রোঞ্জের গিয়ার ও ডায়াল নিয়ে গঠিত। এগুলোর মাধ্যমে সূর্য, চাঁদ ও পাঁচটি গ্রহের (যেমন: মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি) গতিপথ নির্ণয় করা যেত। এটি এমনকি গ্রীষ্মকাল, শীতকাল ও অলিম্পিক গেমসের তারিখও নির্ণয় করত। অর্থাৎ এটি ছিল একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডার, যাকে আমরা আধুনিক ভাষায় বলি “মেকানিকাল প্রেডিকশন ডিভাইস।”

তবে প্রশ্ন হলো খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম বা দ্বিতীয় শতকে এমন যন্ত্র কীভাবে তৈরি হল? যন্ত্রটি এতটাই জটিল ছিল যে, শিল্প বিপ্লবের আগে আর কোনো উদাহরণ পাওয়া যায় না। এটি প্রমাণ করে, গ্রিক প্রযুক্তিবিদ্যার যে একটি গোপন বা হারানো শাখা ছিল, যা হয়তো ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়নি।

যে রহস্যটি সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে, তা হলো যন্ত্রটির ‘ব্যবহারকারী ইন্টারফেস’। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—যদি এই যন্ত্রটি শুধুই জ্যোতির্বিদ্যার সরঞ্জাম হতো, তবে এটি ব্যবহার করার জন্য এত জটিল গিয়ার ব্যবস্থার দরকার ছিল কেন? কেন এর মধ্যে এমন কিছু কনফিগারেশন রয়েছে, যা শত বছরের ব্যবধানে সূর্যগ্রহণের মতো দুর্লভ মহাজাগতিক ঘটনাও নিরূপণ করতে পারে?

এখানেই প্রবেশ করে বিকল্প ব্যাখ্যা, হয়তো এটি একটি মস্তিষ্কীয় ‘রিসোন্যান্স’ যন্ত্র, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারিক প্যাটার্ন বা গ্রহীয় অবস্থার সঙ্গে নিজের মস্তিষ্কের তরঙ্গ মিলিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দৃশ্য দেখতে পারত। কিছু গবেষক দাবি করেন, এটি ছিল একধরনের “টাইম-মাইন্ড অ্যালাইনমেন্ট ডিভাইস” যার সাহায্যে মানুষের স্নায়ু ব্যবস্থা নির্দিষ্ট মহাজাগতিক ছন্দে সাড়া দিত।

নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং হার্ভার্ডের কিছু গবেষক অ্যান্টিকাইথেরা যন্ত্রের অত্যন্ত সূক্ষ্ম গিয়ারিং এবং একাধিক ‘ইপাইক সাইকেল’ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই যন্ত্র ভবিষ্যৎ গ্রহণ এবং মহাজাগতিক সংযোগ নির্ণয়ে এতটাই নিখুঁত ছিল যা আধুনিক সময়ের গণনাপদ্ধতির কাছাকাছি।

তবে কিছু থিওরিস্টের দাবি এই যন্ত্র কেবল মহাকাশ দেখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি, বরং এটি ছিল এক ধরনের টাইম-ল্যাবরেটরি। এই যন্ত্রের সাহায্যে ব্যবহারকারী শুধু মহাকাশ নয়, মহাকালের স্তরগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারত। এমনকি কেউ কেউ ধারণা করেন এটি বহির্জাগতিক কোনো প্রযুক্তির অংশ, যা হয়তো ধ্বংস হওয়া কোনো প্রাচীন সভ্যতার উত্তরাধিকার।

অ্যান্টিকাইথেরা যন্ত্রকে ঘিরে একাধিক সাংস্কৃতিক ও কল্পবিজ্ঞান রচনা তৈরি হয়েছে। “Assassin’s Creed Odyssey” নামক গেমে এটি একটি টাইমাল্টারিং ডিভাইস হিসেবে উঠে আসে। অন্যদিকে কিছু গ্রীক লোককথা বলে, যে ব্যক্তি এটি প্রথম চালু করেছিল, তার চোখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে এবং সে এক সপ্তাহ পর নিখোঁজ হয়ে যায়।

কিছু রহস্যময় স্কুল অব থট যেমন “The Chronovault Circle” ধারণা করে, অ্যান্টিকাইথেরা ছিল একটি বহির্জাগতিক নির্দেশনাপত্রের অংশ, যা শুধু আমাদের গ্রহের জন্য নয়, বরং আন্তঃগ্রহীয় সময়ের মানচিত্র হিসেবে কাজ করত। এদের মতে পৃথিবীর মধ্যেই একাধিক টাইমলাইন চলছে, আর এই যন্ত্র সেই সিঙ্ক্রোনাইজেশনের মাধ্যম ছিল।

এই যন্ত্র নিয়ে সৃষ্ট সাংস্কৃতিক আলোচনার অন্যতম দিক হলো তার প্রতীকী ব্যাখ্যা। কিছু দার্শনিক ও নৃতাত্ত্বিক গবেষক বলছেন এই যন্ত্র আসলে সময়ের প্রতি মানব সভ্যতার গভীর আকাঙ্ক্ষার একটি উপাদান। ঠিক যেভাবে মায়া ক্যালেন্ডার বা স্টোনহেঞ্জ তৈরি করা হয়েছিল একধরনের মহাজাগতিক সংযোগের আশায়, অ্যান্টিকাইথেরাও হতে পারে একই মানসিকতার এক অদ্ভুত, কিন্তু উন্নত ফসল।

অ্যান্টিকাইথেরা যন্ত্র নিঃসন্দেহে প্রাচীন বিশ্বের এক অবিশ্বাস্য প্রযুক্তিগত কীর্তি। তবে এটি শুধু প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান নয়, বরং একটি হারানো সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে সময়, মস্তিষ্ক ও মহাবিশ্ব একসূত্রে গাঁথা।

আজ যখন আমরা টাইম ট্র্যাভেল নিয়ে কল্পনা করি বা দেজাভুতে বিভ্রান্ত হই, তখন অ্যান্টিকাইথেরা যন্ত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সময় কেবল ঘড়ির কাটায় নয়, মানুষের চেতনায়ও ধারণা পায়। তাই প্রশ্ন থেকেই যায় এই যন্ত্র কি ভবিষ্যৎ দেখার জানালা ছিল, নাকি এটি কেবল আমাদের অতীতেরই এক অতুলনীয় প্রতিবিম্ব?

ত্বকের দাগ-ছোপ দূর করবে : ভিটামিন সি

ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং কালচে দাগ, ছোপ বা মলিনভাব দূর করতে চাইলে ভিটামিন সি ও গ্লিসারিন হতে পারে আপনার অন্যতম ভরসা। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, বয়সজনিত কোলাজেনের ঘাটতি কিংবা হাইপারপিগমেন্টেশনের কারণে ত্বকে দাগ, ছোপ এবং বলিরেখার সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা প্রতিরোধে ভিটামিন সি একটি কার্যকরী উপাদান হিসেবে কাজ করে।

ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, ত্বককে রাখে টানটান ও উজ্জ্বল। গ্রীষ্মের সময় যখন ভারী ক্রিম বা তেল ব্যবহার বিরক্তিকর হয়ে ওঠে, তখন হালকা অথচ কার্যকর ফেসপ্যাক বা সিরাম হতে পারে সমাধান। ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে তৈরি করা যায় এমন কিছু কার্যকর ফেসপ্যাক ও সিরাম যা নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগছোপ হালকা করে, উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

ঘরে বানানো ভিটামিন সি সিরাম তৈরির উপায়:
১টি ভিটামিন সি ক্যাপসুল বা গুঁড়ো, ২ চা-চামচ গোলাপ জল, ১ চা-চামচ গ্লিসারিন এবং ১টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল একসাথে মিশিয়ে একটি পরিষ্কার শিশিতে রেখে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। এই সিরামটি রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের কালচে ছোপ ধীরে ধীরে হালকা হবে এবং ত্বক আরও নরম ও মসৃণ দেখাবে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ঘরোয়া ফেসপ্যাক:
২ চা-চামচ গ্লিসারিন, ১ চা-চামচ ভিটামিন সি পাউডার এবং ১ চা-চামচ টক দই একসাথে মিশিয়ে নিন। এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হবে, ব্রণ ও ফুসকুড়ির প্রবণতা কমবে এবং ত্বকের সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নত হবে।

রোদে পোড়া ত্বকের যত্নে:
গ্লিসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে রাতে মুখ পরিষ্কারের পর ব্যবহার করুন। এরপর হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। এটি ত্বকের রোদে পোড়া দাগ হালকা করতে সহায়তা করে এবং বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে।

এই ঘরোয়া উপকরণগুলো সহজলভ্য এবং ত্বকের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। তবে যাদের ত্বক অতিমাত্রায় সংবেদনশীল, তারা ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করে নিতে পারেন। নিয়মিত যত্ন আর সঠিক উপাদান ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল, নিখুঁত ও প্রাণবন্ত।

চিকুনগুনিয়া কি আবার ভোগাবে ? ক্ষতির আভাস দিচ্ছে বৈশ্বিক গবেষণা –

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় দেখা যায়, গত বছর অক্টোবর থেকে ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চিকুনগুনিয়া রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়ার বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা আছে নিকট ভবিষ্যতে। এর একাধিক কারণও আছে।সেগুলোর মধ্যে আছে দীর্ঘদিন ধরে এ অসুখ না থাকায় এ ভাইরাসের ‘খোলা মাঠ’, এডিস অ্যালবোপিকটাসের বিস্তৃতি এবং দেশে এর মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা।

দীর্ঘ সময় ধরে এ রোগের প্রতিক্রিয়া থাকায় বিপুল পরিমাণে আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া হাত ধরাধরি করে আসে। এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আগের যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। এর নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত সরকারি যথেষ্ট তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না। এ–সংক্রান্ত গবেষণা বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্স ডিরেক্টে প্রকাশিত হয়।

চিকুনগুনিয়া ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশাবাহিত রোগ। এ রোগে ডেঙ্গুর মতোই জ্বর আসে। বাড়তি উপসর্গ হলো, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুর ঘটনা তেমন না থাকলেও এর ফলে হওয়া ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বড় প্রাদুর্ভাব হয়। এরপর এই ভাইরাস প্রায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের শেষের দিকে আবার ফিরে আসে।

গবেষণায় বলা হয়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত সন্দেহজনক ৩৯৪ ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে ১৩৮ বা ৩৫ শতাংশ ব্যক্তির দেহে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২৮ দিন পরও ৮১ শতাংশ রোগীর কমপক্ষে একটা লক্ষণ রয়ে গেছে। সবচেয়ে সাধারণ যে লক্ষণটি দেখা গেছে, তা হলো শরীরের বিভিন্ন গাঁটে ব্যথা।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর আক্রান্ত হওয়া রোগীদের গড়ে সাড়ে ১০ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের জনপ্রতি প্রতিদিন গড় আয় ৬ দশমিক ৯৮ ডলার হিসাব করে রোগীপ্রতি মোট কর্মঘণ্টা হয় ৭৩ দশমিক ৩ ডলার বা ৮ হাজার ৮৭০ টাকার মতো।

২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত (করোনাসহ) ডেঙ্গুর দিকেই দৃষ্টি ছিল বেশি। এর মধ্যে ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব হয়। ডেঙ্গু ভাইরাসের বেশ কয়েকটা বড় প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর অনেক মানুষের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ–২ ও ৩–এর বিরুদ্ধে একধরনের ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। তাই এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ অপেক্ষাকৃত কম হতে পারে বলে মনে করেন এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাজ্যের কেইল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নাজমুল হায়দার।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের বিরাট একটা জনগোষ্ঠীর শরীরে চিকুনগুনিয়ার অ্যান্টিবডি নেই, তাই চিকুনগুনিয়ার বিস্তার অনেক সহজ হবে।সুতরাং আগামী দুই বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গুর পরিবর্তে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের রাজত্ব চলার আশঙ্কা আছে।

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলতি বছর চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির জটিলতায় গত এপ্রিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একটি সভা করে। এ বছর দক্ষিণ আমেরিকা ও ভারত মহাসাগরীয় বিভিন্ন দেশের চিকুনগুনিয়ার ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের কথা বলা হয় সভায়।যেহেতু বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা এখন খুব উন্নত, তাই বাংলাদেশের মতো দেশে এর বড় সংক্রমণ ঘটা অস্বাভাবিক নয়। যেহেতু এডিস মশার বিস্তার এখনো যথেষ্ট ঘটছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ২৪০ জন। গত বছরের এ সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৯৫ জন।

বাণিজ্যযুদ্ধে চাপে , মার্কিন ডলারের আধিপত্য

প্রায় এক শতাব্দী ধরে মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে মার্কিন ডলার। ডলার ঘিরে মার্কিন বন্ডসহ বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক ভান্ডার হিসেবে কাজ করছে বছরের পর বছর।

তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, সামরিক ও বাণিজ্যিক যুদ্ধ, মারণাস্ত্রের বেসামাল প্রয়োগসহ পরাশক্তি দেশগুলোর নানা হুমকি ও পদক্ষেপে ডলারের আধিপত্য খানিকটা চাপের মুখে পড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা নতুন বাণিজ্যযুদ্ধ এই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কানাডাভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্নেন্স ইনোভেশনের (সিআইজিআই) গবেষকরা বলছেন, ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দায় একবার সংকটে পড়েছিল ডলার। বর্তমানে ডিজিটাল মুদ্রার উত্থান ও ভূরাজনীতির বহুমেরুকরণে ডলারের আধিপত্য নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।

ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার বিস্তারকে উৎসাহিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের মতে, কৌশলগত বিটকয়েন রিজার্ভ তৈরি করা এখন জরুরি। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির (ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেন) ব্যবহারও বাড়াতে চায় দেশটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনা মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করতে পারে, আবার দুর্বলও করে তুলতে পারে। তাছাড়া অফশোর (দেশের বাইরের) আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। বিশেষ করে দেশে দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির অনুমোদন যত বেশি পাচ্ছে, ততই মার্কিন ডলার হুমকির মুখে পড়ছে।

ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সির অনুমোদন দিয়েছে। অতিসম্প্রতি জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দাম ১ শতাংশ কমেছে। ডলারের বিপরীতে ইউরোর ০.৮ শতাংশ, পাউন্ড ১ শতাংশ ও স্টার্লিং ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইউরো ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ জায়গা দখল করেছে। মার্কিন ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে চীন ও রাশিয়া ইউয়ান ও রুবলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

আফ্রিকায়ও পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণের বাইরে আর্থিক ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে, যা চীন-রাশিয়া ডলারবিরোধী জোটে জ্বালানি যোগাচ্ছে। সৌদি আরব, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ আরও কয়েকটি দেশ চীনের সঙ্গে ইউয়ানে বাণিজ্য পরিচালনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ব্রাজিল, ইরান, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, আর্জেন্টিনা ও তুরস্কের মতো দেশও আরও ইউয়ানে বাণিজ্য পরিচালনা করতে সম্মত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্তিকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করার কারণে ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অংশ ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। গ্লোবাল সাউথের (উন্নয়নশীল) অনেক দেশ রাশিয়ান রিজার্ভ অবরুদ্ধ করার পশ্চিমা পদক্ষেপ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। তারা ভাবছে, হয়তো ভবিষ্যতে তাদের রিজার্ভও অবরুদ্ধ করা হতে পারে। এজন্য দেশগুলো ডলার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

সিসিটিভি পরীক্ষার নির্দেশ : চীনের নজরদারির আশংকায় , উদ্বিগ্ন ভারত

সম্প্রতি ভারত সরকারের একটি নতুন নিরাপত্তা নীতিমালায় বলা হয়েছে–সিসিটিভি নির্মাতাদের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও সোর্স কোড সরকারের পরীক্ষাগারে জমা দিতে হবে অনুমোদনের জন্য। বিষয়টি নিয়ে বৈশ্বিক সিসিটিভি বাজারে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা।

ভারতের এ পদক্ষেপ মূলত চীনের প্রযুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক উচ্চপদস্থ ভারতীয় নীতিনির্ধারক।রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২১ সালে ভারতের তৎকালীন আইটি প্রতিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ১০ লাখ সিসিটিভির বেশির ভাগই ছিল চীনা কোম্পানির এবং ভিডিও তথ্য বিদেশি সার্ভারে পাঠানোর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।

চলতি বছরের ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী চীনের হিকভিশন, দাহুয়া ও শাওমি, দক্ষিণ কোরিয়ার হানহোয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মটোরোলা সলিউশনসসহ সব নির্মাতাকে ভারতের পরীক্ষাগারে ক্যামেরা জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে।

ভারতের সাবেক সাইবার নিরাপত্তা প্রধান গুলশন রাই রয়টার্সকে বলেন, ইন্টারনেট-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ঝুঁকি সবসময় থেকেই যায়। সেগুলো যথেষ্ট সুরক্ষিত ও শক্তপোক্ত না হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে। ভারত সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, এই নিয়ম কোনও নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়। বরং দেশের নজরদারি ব্যবস্থার গুণমান ও সাইবার নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের সিসিটিভি বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে এর বাজার প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ যন্ত্রাংশই আসে চীন থেকে। চীনের হিকভিশন ও দাহুয়ার মার্কেট শেয়ার ৩০ শতাংশ এবং ভারতের সিপি প্লাসের শেয়ার ৪৮ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র ২০২২ সালে হিকভিশন ও দাহুয়ার যন্ত্রপাতি বিক্রি নিষিদ্ধ করে। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াও চীনা যন্ত্রের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ভারতের কর্মকর্তারাও বলছেন, যেসব যন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোর অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ, চিপসেট—সবই পরীক্ষা করে দেখা জরুরি। কারণ, চীন এ ব্যাপারে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ।

বরফে আটকে থাকা কৃমি , বেঁচে উঠলো ৩১ হাজার বছর পর

২০১৮ সালে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা সাইবেরিয়ার পারমাফ্রস্ট থেকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রায় ৩০০টি কৃমি শনাক্ত করেন, যাদের মধ্যে দুটি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়। এই কৃমিগুলি হাজার হাজার বছর ধরে বরফে আটকে ছিল, কিন্তু গলানোর পর তারা আবার নড়াচড়া এবং খাদ্য গ্রহণ শুরু করে। এদের মধ্যে একটি কৃমির বয়স অনুমান করা হয়েছে প্রায় ৩২,০০০ বছর এবং অপরটির ৪১,৭০০ বছর। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বিজ্ঞানীরা Panagrolaimus kolymaensis নামক আরও একটি কৃমি পুনরুজ্জীবিত করেন, যার বয়স প্রায় ৪৬,০০০ বছর।

এই আবিষ্কার শুধু প্রাণীবিদ্যার জন্য নয়, জীববিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, এমনকি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার জন্যও এক যুগান্তকারী ইঙ্গিত দেয়। এই গবেষণা প্রশ্ন তোলে পৃথিবীর বাইরেও কি অনুরূপভাবে বরফে জমে থাকা বা ঘুমিয়ে থাকা প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে?

আবিষ্কৃত এই কৃমিগুলি নেমাটোড (Nematode) নামক একধরনের সুক্ষ্ম প্রাণী, যাদের অনেকে ‘রাউন্ডওয়ার্ম’ নামেও চেনে। সাধারণত এরা মাটির নিচে বসবাস করে এবং গাছপালা বা অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীর দেহে পরজীবী হিসেবে থাকতে পারে। তবে এই বিশেষ নেমাটোডগুলির যেটি ব্যতিক্রম তা হলো তারা ‘ক্রিপ্টোবায়োসিস’ নামক একটি বিশেষ অবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম।

ক্রিপ্টোবায়োসিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রাণীর সমস্ত কার্যকলাপ বিপাক, বৃদ্ধি, পুনঃসংস্থান—প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং তারা কার্যত মৃতের মতো নিস্তব্ধ থাকে। এই অবস্থায় তারা চরম পরিবেশগত পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকতে পারে, যেমন অতিরিক্ত ঠান্ডা, পানি-শূন্যতা, এমনকি বিকিরণ।

এমনকি বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে Panagrolaimus kolymaensis-এর জিনগত উপাদান অনেকাংশে C. elegans-এর (আরেকটি পরিচিত নেমাটোড) সাথে মেলে, বিশেষত যেসব জিন ক্রিপ্টোবায়োসিসে সাহায্য করে। এ থেকে অনুমান করা যায় এদের মধ্যে পূর্বপুরুষগতভাবে এই ক্ষমতা বিরাজমান ছিল।

প্রাচীন কালের জীবদের পুনর্জাগরণ প্রাণীবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এক বিপ্লব। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানীরা নানা উপায়ে DNA ও জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে অতীত জীবনের ধারা বোঝার চেষ্টা করছেন, কিন্তু একটি জীবন্ত নমুনা পাওয়া তাদের বহু প্রশ্নের উত্তর একসাথে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ এনে দেয়।এই নেমাটোডদের দেহে কীভাবে কোষ ক্ষয় প্রতিরোধ করে দীর্ঘদিন টিকে থাকা যায়, কীভাবে পানি-শূন্যতা ও চরম ঠান্ডা মোকাবিলা করা যায়, সে সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে এই গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞান ও কোল্ড-স্টোরেজ প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখতে পারে।

এই জীবদের বসবাস ছিল সাইবেরিয়ার পারমাফ্রস্টে এটি এমন এক ভূভাগ যা বছরের বেশিরভাগ সময় স্থায়ীভাবে বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এর ফলে সেই বরফের নিচে হাজার বছর ধরে আটকে থাকা জীবদের সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে।

এই অঞ্চলগুলির পারমাফ্রস্টে প্রাচীন পরগাছা, পরজীবী ও অণুজীবদের খোঁজ পাওয়া ভূতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর DNA বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাচীন পরিবেশ, জলবায়ু ও বাস্তুসংস্থানের ইতিহাস জানা যায়। বরফে আটকে থাকা এই জীবরা দেখায় যে হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীর একটি অংশে তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করেছিল এবং কিছু প্রাণী এতদিনেও টিকে গেছে।

এই আবিষ্কার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে, যদি পৃথিবীর মতো একটি গ্রহে কয়েক হাজার বছর ধরে জমে থাকা প্রাণ আবার পুনরুজ্জীবিত হতে পারে, তবে কি মঙ্গল গ্রহ বা বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপার বরফের নিচে এমন কোনো ঘুমন্ত প্রাণী লুকিয়ে আছে?

মহাকাশ গবেষণায় বর্তমানে যেসব স্থানকে “হ্যাবিটেবল” বা বসবাসযোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে, তার অনেকগুলোতেই বরফ বা হিমায়িত জল রয়েছে। যদি জীবনের অস্তিত্ব সেখানে ছিল বা এখনও আছে, তাহলে সেই প্রাণীদেরও ক্রিপ্টোবায়োসিসের মতো কোনও প্রক্রিয়ায় তারা হাজার হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত থেকে যেতে পারে। NASA এবং অন্যান্য মহাকাশ সংস্থা ইতিমধ্যেই ইউরোপা ও এনসেলাডাসের বরফের নিচে তরল জল ও সম্ভাব্য জীবনের অনুসন্ধানে মিশন পাঠাতে আগ্রহী। এই কৃমিদের পুনর্জীবন সেই অনুসন্ধানে নতুন যুক্তি ও উৎসাহ যোগায়।

তবে এই আবিষ্কার যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, তেমনি কিছু সতর্কতা ও প্রশ্নও সামনে এনে দেয়। যদি বরফে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন জীবাণু বা ভাইরাস ভবিষ্যতে গলে বেরিয়ে আসে, তাহলে তারা কি বর্তমান জীববৈচিত্র্য ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের পরিবেশ যদি দ্রুত হারে উষ্ণ হয়ে যায় এবং পারমাফ্রস্ট গলে যায়, তবে শুধু নিথর কৃমি নয়, আরও বহু প্রাচীন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হতে পারে, যাদের প্রতিরোধে মানবদেহ প্রস্তুত নয়।

আজকাল প্রাপ্তবয়স্করা কেন , শিশুদের চেয়ে বেশি খেলনা কিনছে ?

স্লাইড ১:
এখন বিশ্বের প্রতি ৪টি খেলনার ১টি কিনছেন প্রাপ্তবয়স্করা – ২০২৩ সালে ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব এনেছে বিশ্বব্যাপী ২৫-৩০% খেলনার ক্রেতা প্রাপ্তবয়স্কদের মাধ্যমে। “কিডাল্ট” (Kidult) এ প্রবণতাটি এশিয়া-প্যাসিফিক, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্লাইড ২:

কোন খেলনাগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়? লেগো সেট, সংগ্রহযোগ্য ফিগার, নরম পুতুল, মডেল কিট এবং ট্রেডিং কার্ড (যেমন: পোকেমন, ম্যাজিক: দ্য গ্যাদারিং) সবচেয়ে জনপ্রিয়। ২০২৩ সালে বার্বি সিনেমার প্রভাবে বার্বি ডলের বিক্রি হঠাৎ বেড়ে যায়।

স্লাইড ৩:

প্রাপ্তবয়স্করা কেন খেলনা কিনছে ? নস্টালজিয়া (শৈশবের স্মৃতি) এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তির চাহিদাই মূল কারণ। স্ট্রেস ও উদ্বেগ কমানোর জন্য খেলনা এখন বেশ জনপ্রিয়। যেমন: ফিজেট স্পিনার, স্ট্রেস বল, ফিজেট কিউব—এই খেলনাগুলো মনোযোগ বাড়াতে, উদ্বেগ কমাতে এবং আরামদায়ক অনুভূতি দিতে সাহায্য করে।

স্লাইড ৪:

সামাজিক মাধ্যম ও পপ কালচার বাড়িয়ে দিচ্ছে এই প্রবণতা – টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে আনবক্সিং ভিডিও, সংগ্রহ প্রদর্শন এবং ভাইরাল ট্রেন্ডগুলো খেলনা সংগ্রহকে বড়দের জন্য “কুল” করে তুলেছে। বার্বি, স্টার ওয়ার্স, অ্যানিমে ইত্যাদি পপ কালচার সম্পর্কিত খেলনাগুলোর চাহিদা বিশ্বব্যাপী বেড়েছে এবং এগুলো কী জনপ্রিয় হবে, তা-ও নির্ধারণ করছে।

স্লাইড ৫:

শিল্পের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যতের দিক – লেগো, ম্যাটেল, বান্দাই-এর মতো খেলনাপ্রস্তুতকারীরা এখন প্রাপ্তবয়স্কদের কোথা মাথায় রেখে খেলনা তৈরি করছে। যেহেতু এখন প্রায় প্রতি ৪ জন খেলনা ক্রেতার ১ জনই প্রাপ্তবয়স্ক, তাই ব্র্যান্ডগুলো “কিডাল্ট”-দের লক্ষ্য করে বেশি করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং দোকানে আলাদা জায়গাও রাখছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও বাড়তে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাচীন মিশরীয় পদ্ধতিতে , পানি পরিশোধনের কথা ভাবছেন – বিজ্ঞানীরা

পানি মানব জীবনের অপরিহার্য উপাদান হলেও বিশ্বের প্রায় ৭৬৯ মিলিয়ন মানুষ এখনও নিরাপদ পানীয়জলের অভাবে ভুগছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অনুন্নত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া এক ধরনের সংগ্রামের নাম। এই সংকটে এক শতাব্দীপ্রাচীন প্রাকৃতিক পদ্ধতি নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী প্রাচীন মিশরের এক ঐতিহ্যবাহী উপাদান মোরিঙ্গা ওলেইফেরা গাছের বীজ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে এক চমকপ্রদ ফলাফল সামনে এনেছেন। তাঁদের গবেষণায় উঠে এসেছে, মোরিঙ্গা বীজে থাকা একটি প্রোটিন ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে পানি বিশুদ্ধ করতে পারে, যা আধুনিক বিশ্বে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পানিশুদ্ধকরণ পদ্ধতির সম্ভাব্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

মোরিঙ্গা গাছ দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচিত। এর পাতা, ফুল, ফল ও শিকড় সবই খাদ্য ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসা পদ্ধতিতে মোরিঙ্গার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে মিশরের প্রাচীন সভ্যতায় এই গাছের বীজ যে পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হতো, তা অনেকের অজানা ছিল।

Langmuir নামক বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি জানায়, মোরিঙ্গা বীজে থাকা একটি প্রোটিন ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লি (cell membrane) লক্ষ্য করে কাজ করে। প্রোটিনটি ব্যাকটেরিয়ার গঠন ভেঙে দেয় এবং তাদের একত্রিত করে। এতে করে ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে ও ধ্বংস হয়। এই প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিক জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে এবং কোনো কেমিক্যাল বা প্রযুক্তিগত মেশিনের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও স্থানীয়ভাবে প্রয়োগযোগ্য একটি পদ্ধতি।

গবেষণায় উঠে এসেছে যে, মোরিঙ্গা বীজ সর্বাধিক কার্যকর হয় বর্ষাকালে, যখন বীজ পরিপূর্ণভাবে পেকে ওঠে। এই সময়ে প্রোটিনের ঘনত্ব ও কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি থাকে। অর্থাৎ স্থানীয় কৃষকরা যদি মৌসুম বুঝে বীজ সংগ্রহ করেন, তবে তাঁদের নিজস্ব অঞ্চলে সহজেই পানিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।

মোরিঙ্গা গাছ ইতোমধ্যেই একটি পুষ্টিকর খাবারের উৎস হিসেবে স্বীকৃত। এর পাতা আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ এবং অপুষ্টি রোধে কার্যকর। এখন যদি একই গাছের বীজ দিয়ে নিরাপদ পানিও পাওয়া যায়, তবে এটি খাদ্য ও পানির যৌথ সমাধান হিসেবে গুরুত্ব পাবে। গ্রামীণ কৃষকদের জন্য এটি বাড়তি আয় বা জীবনমান উন্নয়নের সুযোগও তৈরি করবে।

পেনসিলভানিয়ার গবেষকদল এখনও প্রক্রিয়াটি উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা খুঁজছেন কীভাবে এই প্রোটিনকে আরও বেশি কার্যকরভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহারযোগ্য করা যায়। যদি এই গবেষণা সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়, তবে মোরিঙ্গা বীজ-ভিত্তিক পানিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা হতে পারে একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রযুক্তি, যা বিশ্বের লাখো গ্রামীণ মানুষকে সুপেয় পানির আওতায় আনতে সহায়তা করবে।

প্রাচীন মিশরের এই জ্ঞান আজকের দিনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি দেখিয়ে দেয়, ইতিহাসে লুকিয়ে থাকা সমাধানগুলো কতটা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে বর্তমান সংকটে। মোরিঙ্গা বীজের মাধ্যমে পানিশুদ্ধিকরণ প্রযুক্তি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন নয়, বরং এটি হতে পারে একটি সামাজিক বিপ্লবের সূচনা, যা কোটি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে।

সব দল নয় , শুধু একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে : প্রধান উপদেষ্টা

0

দেশের সব দল নয়, একটি নির্দিষ্ট দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জাপানে নিক্কেই ফোরামে ফিউচার অব এশিয়া শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেছেন অধ্যাপক ইউনূস।

নিক্কেই ফোরামের ওই প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি লক্ষ্যে কাজ করছে। এগুলো হলো সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।

এ বছরের শেষে ডিসেম্বরে অথবা সর্বোচ্চ আগামী বছরের জুনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে সংস্কার কতটুকু হয়েছে তার ওপর নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা যদি দেশকে আগের অবস্থায়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের অবস্থায় রেখে যেতে চাই, তাহলে ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা বলতে পারি।

“আমরা যদি খুব তাড়াহুড়ো করি, কিছু সংস্কার করি এবং অন্যান্য সংস্কারের জন্য অপেক্ষা করতে পারি, তাহলে আমরা এটা (নির্বাচন) ডিসেম্বরে করতে পারি। তবে আমাদের যদি ভালো সংস্কার দরকার হয়, তাহলে আমাদের আরও ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে” বলেন তিনি।

কিন্তু কেউ কেউ সংস্কার রেখে ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাইছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “সব রাজনৈতিক দল নয়, শুধু একটি দল এটা বলছে।”

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাঁর কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে : মাহফুজ আনাম , সম্পাদক ও প্রকাশক , দ্য ডেইলি স্টার

0

” সম্প্রতি একদল শিক্ষার্থীর হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহ। গত ২২ মে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ডিগ্রি পরীক্ষায় অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থী তার ওপর এই হামলা চালিয়েছে। … গণঅভ্যুত্থানের পরপরই গত বছর আগস্টে সচিবালয় সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের একই ধরনের ‘অটোপাস’র দাবি তুলতে দেখা গেছে।

… শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে…এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার কারণে ক্লাস, টিউটোরিয়াল ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে—ফলে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। … ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয় পদত্যাগ করেছেন, না হয় ৫ আগস্টের পর তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।…তাদের উত্তরসূরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অন্য রাজনৈতিক ধারা থেকে। নতুন ৪৭ জন উপাচার্যের মধ্যে প্রায় ৩০ জনেরই সম্পৃক্ততা রয়েছে বিএনপি বা জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে। কাজেই, আমরা যে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, সেটা কেবল হাত বদলের, পদ্ধতিগত কোনো পরিবর্তন নয়।

… শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে রাস্তায় নেমেছিল স্বৈরাচারী সরকার হঠাতে। সেই সরকারের পতন হয়েছে, সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারপর কেটে গেছে ১০ মাসের বেশি সময়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এখনো পুরোপুরি ক্লাসে ফেরেনি। … আমরা যখন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং সম্প্রতি ভিয়েতনাম ও চীনের মতো দেশের সাফল্যের কথা বলি, তখন প্রধানত তাদের অর্থনৈতিক সাফল্যের দিকেই নজর দেই। কিন্তু, শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে তাদের অর্থনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে সেটা নিয়ে আমরা কখনোই আলোচনা করি না, বা করলেও সেটা খুবই যৎসামান্য।

এসব দেশ তাদের যুবসমাজকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে এবং সফল করতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশে একদল চীনা তরুণ গবেষকের ‘ডিপসিক’ উদ্ভাবন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়ে যাওয়া বিস্মিত করেছে পুরো বিশ্বকে। এটা কি কাকতালীয়ভাবে হয়েছে?আমাদের এখানেও কি এমন কখনো হতে পারে? অবশ্যই পারে। কিন্তু তার জন্য আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে এবং সেগুলোর পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে।

রূপকথার মতো শোনালেও এটা সত্য যে, ষাটের দশকের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ীরা পূর্ব পাকিস্তানে আসতো টেক্সটাইল ও স্টিল শিল্প সম্পর্কে জানতে—বিশেষ করে জাপানিদের প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের কোবে স্টিল কমপ্লেক্স থেকে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? আমরা অনেকবার শিক্ষা কমিশন গঠন করেছি, বহুবার পাঠ্যক্রম সংশোধন করেছি, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছি—কিন্তু তারপরও জাতিকে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা দিতে ব্যর্থ হয়েছি, যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে।

এবার আমরা বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছি, কিন্তু শিক্ষা নিয়ে একটিও নেই। এখান থেকেই প্রতীয়মান হয়, আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক কোথায়। একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে শিক্ষাবিহীন ভবিষ্যৎ নেই। সেটাও পুরোনো ধাঁচের নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটার, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সমন্বিত আধুনিক শিক্ষা হতে হবে।

নতুন এক বিশ্ব আমাদের অপেক্ষায়। আমরা কি তার অংশ হবো, নাকি কেবল দর্শকের ভূমিকায় থাকব? কেবল কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়, বরং বাস্তব, সুপরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই পরিবর্তন আসতে পারে। আসুন, আমরা স্লোগানের দুনিয়া থেকে বের হয়ে নতুন বিশ্বের সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাই।”