Home Blog Page 90

রাজনীতিতে উৎকণ্ঠা-গুঞ্জন কমলেও , কাটেনি অনিশ্চয়তা-উত্তেজনা

0

পদত্যাগের আলোচনার পর দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকে সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছে।সরকার সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও ভোটের সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণা না করায় হতাশ-ক্ষুব্ধ বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের পথনকশার(রোডম্যাপ) দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে।

শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বা সরকার পদত্যাগ করবে না–এমন মত দিয়ে সরকারের কাজের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কঠোর হওয়ার বার্তা আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান সমকালকে বলেছেন, বৈঠকের ফলে উত্তেজনা কমলেও অনিশ্চয়তা দূর হয়নি, বরং বেড়েছে। খুব স্পষ্ট করে বললে, এই মুহূর্তে তিন শক্তি হলো – সরকার, সেনাবাহিনী এবং বিএনপি। এদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি না হলে অনিশ্চয়তা কাটবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি যে উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছে, সেই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে রেখে সরকার কঠোর হওয়ার বার্তাই দিয়েছে। শিগগির নির্বাচনী রোডম্যাপ না পেলে বিএনপিও যে কঠোর অবস্থানে যাবে, তেমন আভাস তারাও দিচ্ছে। তিন শক্তি কঠোর অবস্থানে থাকলে অনিশ্চয়তা কাটবে না। তাই স্থিতিশীলতার জন্য নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঘোষণা করা উচিত।

রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি বলে মনে করছে বিএনপি। নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আগের মতোই বলেছেন, আগামী বছরের জুনের আগে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন ডিসেম্বরে না হলেও জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে– এমন আশ্বাসও সরকারের পক্ষ থেকে আসেনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের উপস্থিতি ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি–এ তথ্য জানিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেছেন, শনিবারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের বিবৃতিকেও বিএনপি ভালোভাবে নেয়নি।

বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, এই পরিস্থিতিতে সরকারের সঙ্গে দলের আগের মতো হৃদ্যতা হয়তো থাকবে না। আবার সরকারও বিএনপির মতো বড় দলকে এড়িয়ে কিছু করার চেষ্টা করার সাহস দেখাবে না।

সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে বিএনপি। এখন পর্যন্ত দলটির অবস্থান হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবিতে সভা-সমাবেশ-সেমিনারের মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রাখা।

এই বৈঠকের আগে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকারকে আরও দুই মাস সময় দেওয়ার কথা হয়। এর পরও নির্বাচনের রোডম্যাপ না হলে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার এবং আন্দোলনের পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। আন্দোলনে জনসমর্থন ছাড়াও বন্ধু রাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির সমর্থন আদায়ে তৎপরতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছিল স্থায়ী কমিটিতে।

গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সরকারের মূল লক্ষ্য। কিন্তু প্রশাসনসহ সব প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত হয়ে যাওয়ায় ভোট নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, যা অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। ড. ইউনূস বলেন, এই দায় তিনি নিতে চান না।

একাধিক উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন — বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসনের ৮০ ভাগ কর্মকর্তা বিএনপিপন্থি। নির্বাচন কমিশনও বিএনপির পক্ষে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে বিএনপি একচেটিয়া সমর্থন পাবে।

সরকারের দিক থেকে এ বক্তব্য আসার পর জামায়াতও বলছে, এ পরিস্থিতিতে সংস্কার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। গত শনিবার জামায়াতের মজলিসে শূরার বৈঠকে আলোচনা হয়– রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরকারের উচিত কোন মাসে নির্বাচন হবে, তা স্পষ্ট করা। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে জামায়াতই বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই আগামী নির্বাচনে দলটির ভালো করার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ভালো ভোট হতে হবে।

অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর নিজেদের অবস্থানে অনড় হয়েছে। দলটি বিচার-সংস্কার-নির্বাচনের সমন্বিত রোডম্যাপ চাইলেও সংসদের আগে স্থানীয় সরকারের ভোট, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগ আমলের সব নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করার দাবি জুড়ে দিয়েছে। এসব দাবি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েছে এনসিপি। আগামী ১৫ সপ্তাহে জেলা-উপজেলা কমিটি গঠন করে ছয় দাবি নিয়ে তৃণমূলে যাবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

ইউনূস নির্বাচনের আগ পর্যন্ত , ব্রড ম্যান্ডেট নিয়ে দেশ চালাতে চান : নাজমুল আহাসান , মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এ কর্মরত , প্রবাসী সাংবাদিক

0

” – সরকার বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে যেতে চাইবে না। বিএনপি সরকার নিয়ে যতই আক্রমণাত্মক মন্তব্য করুক, সরকারের কেউই বিএনপি নিয়ে কোনো কথা বলছে না। That’s not a coincidence.

— বিএনপি না চাইলে সরকার টিকবে না। সোজা হিসাব। সেক্ষেত্রে ইউনূস বাসায় চলে যাবেন। সংঘাতে যাবেন না। তার একজন এইডের ভাষ্য : কপালে বন্দুক তাক করেও তার কাছ থেকে পছন্দমত তারিখ নেয়া যাবে না। কাজেই আমার মনে হয়, এপ্রিল পর্যন্ত যাবে এবং বিএনপিও সেক্ষেত্রে রাজি হবে।কিন্তু মাঝখান দিয়ে সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গেল ম্যান্ডেট প্রশ্নে। ইউনূস নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ব্রড ম্যান্ডেট নিয়ে দেশ চালাতে চান।

— বিএনপির চোখে : নির্বাচনের একমাত্র গ্যারান্টি এখন ইউনূসের গুডউইল। বিএনপির আর কোনো ধরণের দাবিই এখন এন্টারটেইন করতে রাজি নন ইউনূস। ফলে বিএনপির কাছে সেই গুডউইল বা কথার মূল্য এখন নেই বললেই চলে।

একজন সাংবাদিককে এক নেতা জানালেন, বিএনপি পারলে ইউনূসকে টেনেহিঁচড়ে নামায় ক্ষমতা থেকে। ইউনূসের অধীনে নির্বাচনের যে গ্রহণযোগ্যতা — যেটা ইউনূসের ট্রাম্পকার্ড — সেটা নিয়ে বিএনপি সম্ভবত খুব একটা আর কেয়ার করছে না।

তবে ইউনূস পরবর্তী কেউ যে এর চেয়ে খারাপ হবে না, সেটা কে গ্যারান্টি দেবে? আর যেনতেন নির্বাচনে ক্ষমতায় আসলে যে একটা প্রশ্ন রয়ে যায়, সেটা বিএনপির চেয়ে কে ভালো বোঝে? এগুলো বিচার করেই বিএনপি হয়তো সিদ্ধান্তে যাবে যে ইউনূসকে সে রাখবে, নাকি রাখবে না।

বিএনপির চোখে এটা তাদেরকে জিম্মি করে রাখার মতো পরিস্থিতি। তারা সেটাকে অবশ্যই ভালোভাবে নিচ্ছে না। সরকারের মধ্যে যে ধরণের ডেফায়েন্স দেখা যাচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে সরকার আরও বেশি রিলাই করবে ইসলামবাদী দল ও সংগঠনের অনুসমর্থনের উপর। তাদের বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ খুবই পপুলিস্ট হয়ে উঠছে। এটা আখেরে আরবান সেক্যুলার ক্লাস, যারা প্রো-জুলাই, তাদেরকে ইউনূস নিয়ে আরও ক্ষুব্ধ করবে।”

ফ্রেঞ্চ সিনেমায় নতুন মুখ – বাংলাদেশের উদীয়মান অভিনেতা , আহসান উদ্দিন

আহসান উদ্দিনের ক্যারিয়ার যেন একটি গ্লোবাল কমিং-অফ-এজ ফিল্মের প্লটের মতো। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা ফ্রেঞ্চ ফিচার ফিল্ম Délocalisés-এ তার প্রথম বড় ভূমিকা নিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তিনি এখানে রাহুল কুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি সিনেমার ক্রস-কালচারাল গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

“আমি অডিশনে গিয়েছিলাম র‍্যাম্প ফটো নিয়ে, কিন্তু কোনো প্রত্যাশা ছিল না,” হাসতে হাসতে জানান আহসান। প্রায় ২০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে তিনি বাছাই হয়েছিলেন,অভিজ্ঞতার কারণে নয়, বরং তার উপস্থিতি পরিচালকের নজর কেড়েছিল। “আমি তখন বুঝতেই পারিনি যে চরিত্রটি কত বড়, সেটা আমাকে স্বাভাবিক থাকতে সাহায্য করেছিল,” তিনি স্মৃতিচারণ করেন।

ফিল্মে আহসানের চরিত্র রাহুল কুল একজন সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তিনি একজন ফরাসি নির্বাহককে সাহায্য করেন তার কোম্পানির নতুন ভারতীয় আউটপোস্ট পরিচালনায়, কিন্তু গোপনে স্থানীয় শ্রমিকদের পক্ষ নেন। এই দ্বৈত দায়িত্ব চরিত্রটিকে অত্যন্ত জটিল এবং অর্থবহ করে তোলে। ক্যামেরার সামনে আহসান তার পারফরম্যান্স দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। এমনকি একটি দৃশ্যে তাকে প্রধান অভিনেতাকে থাপ্পড় মারতে হয়েছিল। “আমি ভুলবশত তাকে খুব জোরে মারলাম,” আহসান হাসলেন। “সিনেমায় যে প্রতিক্রিয়া দেখছেন, সেটা আসলেই সত্য।”

শুটিং হয় প্যারিস এবং কলকাতায়, যার মধ্যে ৪৪ দিন ভারতে গ্রীষ্মের চরম তাপে এবং রমজান মাসে শুটিং করা হয়েছিল। Délocalisés মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আহসান উদ্দিন শুধু একজন নতুন মুখই নন, বরং ইউরোপীয় সিনেমায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিভার পরিবর্তিত চিত্রের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ধীরে ধীরে, দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পীরা তাদের যোগ্য স্থান পাচ্ছেন এবং আহসান সেই পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংক তৈরি করতে চায় , টি-শার্ট নয় : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন — দেশের ভেতর জুতা ও টি-শার্টের মতো পণ্য উৎপাদন করতে নয়, বরং তাঁর শুল্কনীতির লক্ষ্য দেশে ট্যাংক ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

গতকাল রোববার নিউ জার্সিতে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি তাঁর অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের গত ২৯ এপ্রিল করা মন্তব্যের সঙ্গে একমত।

সেদিন বেসেন্ট বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সটাইল শিল্পে বড় ধরনের প্রসার অপরিহার্য নয়। এই মন্তব্যের পর ন্যাশনাল কাউন্সিল অব টেক্সটাইল অর্গানাইজেশনস অর্থমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখানে জুতা আর টি-শার্ট বানাতে চাইছি না। আমরা সামরিক সরঞ্জাম বানাতে চাই। বড় বড় জিনিস বানাতে চাই। আমরা কম্পিউটার দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি তৈরি করতে চাই।’

‘সত্যি বলতে, আমি টি-শার্ট বা মোজা বানাতে চাই না। এসব আমরা অনায়াসেই অন্য জায়গায় তৈরি করতে পারি। আমরা যা তৈরি করতে চাই, তা হলো চিপ, কম্পিউটার, আরও অনেক কিছু—ট্যাংক ও জাহাজও।’ বড় পরিসরে শুল্ক আরোপ করে বিশ্ববাজারে আলোড়ন তোলা ট্রাম্প গত শুক্রবার আবারও কড়া বাণিজ্যনীতি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সাহারায় জিনদের , সাদা শহরের অদ্ভুত কিংবদন্তি

সাহারা মরুভূমি বিশ্বের বৃহত্তম ও নিষ্ঠুর মরুভূমিগুলোর একটি। এই বিশাল রুক্ষতা আর জ্বলন্ত বালুর মাঝখানে বহু শতাব্দী ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে এক রহস্যময় শহরের গল্প—Zerzura। স্থানীয় বারবার (Berber) লোককাহিনিতে এ শহর পরিচিত “সাদা শহর” নামে, যেখানে ধবধবে পাথরের প্রাসাদ, অলৌকিক সৌন্দর্য, আর এক অচেনা প্রযুক্তির অস্তিত্ব রয়েছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি হলো এই শহরের অধিবাসী মানুষ নয়, বরং জিন।

Zerzura নামটি সর্বপ্রথম পাওয়া যায় মধ্যযুগীয় আরব ও আফ্রিকান অভিযাত্রীদের লেখায়। ১৩ শতকের এক আরবি পাণ্ডুলিপি Kitab al Kanuz এ উল্লেখ আছে এমন এক শহরের নাম, যেখানে সোনায় মোড়ানো দরজা, সাদা পাথরের প্রাসাদ আর রহস্যময় রক্ষী পাখির মতো এক “কালো পুরুষ” বাস করতেন। কথিত আছে এই শহরের প্রবেশদ্বার কোনো সাধারণ দরজা নয়, বরং “আয়না দেখিয়ে” এক ধরনের চৌম্বকীয় শক্তির মাধ্যমে তা খোলে। এই আয়নার মাধ্যমেই নাকি শহরের ভিতরে প্রবেশ করা যায়, তবে যে সত্যিকারের “চোখ দিয়ে দেখে” সেই-ই কেবল ভিতরে যেতে পারে। এটি একপ্রকার “জিনের চোখ” বা অলৌকিক দৃষ্টিশক্তির প্রতীক।

মরুদ্যান না মরূভ্রান্তি?
১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ এবং জার্মান অভিযাত্রী দল সাহারায় Zerzura খুঁজতে বের হয়। Ralph Bagnold, László Almásy, এবং Patrick Clayton এর মতো বিখ্যাত মরুভূমি অভিযাত্রীরা পশ্চিম সাহারার Gilf Kebir ও Kufra Oasis এর মাঝামাঝি এলাকায় অনুসন্ধান চালান। László Almásy—যাকে “The English Patient” ছবিতে চিত্রিত করা হয়—Zerzura-র অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রবক্তা ছিলেন। তাঁর মতে কিছু প্রাচীন আফ্রিকান উপজাতি ও শরণার্থী তাদের মৌখিক ইতিহাসে Zerzura-র বর্ণনা দিয়েছে এমনভাবে, যেন এটি এক সত্যিকারের অবস্থান। তবে সমস্যা হলো এইসব অভিযাত্রীদের অনেকেই পথ হারান, কেউ কেউ আর ফেরেননি। মরুভূমির হাড় গলানো উত্তাপ, দিকনির্দেশনার অনুপস্থিতি, আর এক ধরনের “মনস্তাত্ত্বিক বিভ্রম” এ সব মিলিয়ে Zerzura যেন এক বিভ্রম ও বাস্তবতার মধ্যকার ধোঁয়াশা।

Zerzura সম্পর্কে এক অদ্ভুত দাবির সূত্র পাওয়া যায় এই শহরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি নাকি ভবিষ্যতের মতো। কেউ কেউ বলেন, শহরের ভিতরে এমন আলো ও শব্দের ব্যবহার দেখা গেছে যা প্রাচীন সভ্যতায় অসম্ভব হতো। তবে অনেক ঐতিহাসিক ও প্যারানর্মাল গবেষক মনে করেন, “আয়না দিয়ে দরজা খোলা” এবং “আলো-তরঙ্গ নির্ভর যন্ত্র” আসলে এমন এক সংস্কৃতি নির্দেশ করে, যেটি হয়তো জিনদের দ্বারা চালিত নয়, বরং কোনো বিলুপ্ত বা গোপন সভ্যতা—যারা প্রাক-ইসলামিক সাহারায় বিচ্ছিন্নভাবে উন্নত টেকনোলজি ধারণ করতো।

আফ্রিকার “Dogon” জাতির মতোই—যারা সাইরিয়াস নক্ষত্রমণ্ডলের গোপন জ্ঞান হাজার বছর আগেই জানতো—Zerzura-ও হতে পারে এমন এক সভ্যতা, যারা সময়ের আগে এগিয়ে ছিলো। Zerzura-র মতো সাহারায় আরও কিছু রহস্যময় স্থানের কথা প্রচলিত, যেমন উবারি (Ubari) ও শানগি (Shangri) নামক মরু শহর। এসব জায়গারকেও অলৌকিক কিংবা অতিপ্রাকৃত শক্তির সঙ্গে যুক্ত করে নানা গল্প পাওয়া যায়। সাহারার এই শহরগুলোর বৈশিষ্ট্য প্রায় একই রকম, অত্যন্ত সাদা কিংবা উজ্জ্বল বালু, অদ্ভুত দরজা, এবং মানুষের জন্য অপ্রাপ্য গোপনীয়তা। Zerzura-এর ক্ষেত্রে তার “আয়নার দরজা” ধারণা এটিকে আরও এক ধাপ বিশেষ করে তুলেছে।

“আয়না দিয়ে প্রবেশ” ধারণাটির পেছনে রয়েছে গভীর প্রতীকী অর্থ। আয়না হলো নিজেকে দেখা, সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা ছুঁয়ে যাওয়া। Zerzura-র দরজা খোলার জন্য আয়না প্রয়োজন, তা যেন মানুষের ‘নিজের ভিতরেই তাকানো’ প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত। সম্ভবত এটি একরকম ‘আত্মজ্ঞান’ বা ‘চেতনার বিকাশ’ যার মাধ্যমেই অজানা জগতের দরজা খোলে। এমনকি আধুনিক মনস্তত্ত্বেও ‘আয়না’ মানুষের আত্মদর্শনের প্রতীক, যা নিজেকে চেনার মাধ্যমে গভীর পরিবর্তনের দিশা দেয়।

ইসলামী ও আরব সংস্কৃতিতে জিন হলো আগুন থেকে সৃষ্ট এক প্রকার অদৃশ্য প্রাণী। এরা মানুষের জগতে চলাচল করতে পারে, তবে ভিন্ন মাত্রায়। অনেক গবেষক মনে করেন Zerzura-র শহরটি এই ভিন্ন মাত্রায় অবস্থিত—একপ্রকার “interdimensional gateway”। আয়না এই বিশ্বাসে একটি চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বাস্তব ও অবাস্তব, দৃশ্য ও অদৃশ্য জগতের মধ্যে এক সেতুবন্ধন।

এছাড়া স্থানীয় বেদুইনদের বিশ্বাস, কেউ যদি ভুল করে Zerzura-তে ঢুকে পড়ে, তাহলে তার স্মৃতি মুছে যায় অথবা সে পুরোপুরি অন্য মানুষ হয়ে ফিরে আসে যেন কোনো “মাইন্ড-প্যারাসাইট” দ্বারা আক্রান্ত হয়। কেউ কেউ বলেন, এই শহরের জিনেরা মন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

বর্তমানে স্যাটেলাইট ইমেজিং ও ভূগর্ভস্থ রাডার ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা সাহারার বিভিন্ন অঞ্চলে গোপন ধ্বংসাবশেষ খুঁজছেন। লিবিয়ার কিছু অংশে রহস্যজনক গুহা, অদ্ভুত আঁকা পাথর, এবং জলাধারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যেগুলোকে অনেকে Zerzura-র সম্ভাব্য চিহ্ন হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে Gilf Kebir-এ পাওয়া “Cave of Swimmers” চিত্রগুলো, যেখানে মানুষের মতো এক প্রজাতিকে পানিতে ভেসে থাকতে দেখা যায়, সেটি এক অলৌকিক জগতের প্রবেশদ্বার হতেই পারে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ।

Zerzura নিয়ে রয়েছে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। কেউ বলেন এটি হচ্ছে এক গোপন এলিয়েন বেস যেখানে পৃথিবীর বাহিরের প্রাণীরা বাস করে। আবার কেউ মনে করেন, বিশ্বজুড়ে গোপন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী এই শহরের প্রযুক্তি লুকিয়ে রেখেছে। এমন ভাবনার পেছনে আধুনিক বিজ্ঞানের অজানা এবং অতীতের রহস্যের মিশ্রণ রয়েছে।

এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো Zerzura-র মিথকে আরও রহস্যময় করে তোলে, যা নানা বিজ্ঞান কথাসাহিত্য ও সিনেমাতেও জায়গা করে নিয়েছে। Zerzura কি সত্যিই জিনদের এক অলৌকিক শহর? নাকি এক বিলুপ্ত সভ্যতার প্রতিচ্ছবি যা সময়ের গহ্বরে বিলীন? হতে পারে, এটি কেবল এক মরূভ্রান্তি অথবা মনস্তাত্ত্বিক প্রতিচ্ছবি, যা অতীত ও আধুনিকের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে।

থাইরয়েডের সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক –

থাইরয়েড একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা শরীরের বিপাকীয় হার নিয়ন্ত্রণ করে। এর হরমোন উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলে খাবারের উপাদান। কিছু পুষ্টি উপাদান যেমন আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিংক ও আয়রন থাইরয়েডের সঠিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। আবার কিছু খাবার থাইরয়েডের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। তাই সচেতন খাদ্যাভ্যাস থাইরয়েডের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

থাইরয়েড হরমোন টি৪ ও টি৩ তৈরিতে আয়োডিন একটি কেন্দ্রীয় উপাদান। এর ঘাটতি হলে হাইপোথাইরয়েডিজম বা গলগণ্ড দেখা দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ থাইরয়েডের রোগ বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষত যাঁদের আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে। সেলেনিয়াম টি৪ হরমোনকে সক্রিয় টি৩-তে রূপান্তর করতে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা থাইরয়েডকে রক্ষা করে। এর অতিরিক্ততা বা ঘাটতি – দুটোই ক্ষতিকর।

জিংক হরমোনের সংশ্লেষ ও রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। আয়রন সরাসরি হরমোন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত না হলেও এটি থাইরয়েড ফাংশন সাপোর্ট করে। আয়রনের অভাব থাইরয়েডজনিত উপসর্গকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

কিছু খাবার থাইরয়েডের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন, বাঁধাকপি, ব্রকলি, কেল ইত্যাদি গয়টারোজেনিক। তবে রান্নার মাধ্যমে এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমানো যায়। সয়া জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খেলে থাইরয়েড হরমোনের শোষণে সমস্যা হতে পারে। উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার ওষুধ শোষণে বাধা দিতে পারে, তাই থাইরয়েডের ওষুধ খালি পেটে গ্রহণ করা শ্রেয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ট্রান্সফ্যাট ও চিনি প্রদাহ বাড়ায়, যা অটোইমিউন থাইরয়েড সমস্যাকে তীব্র করে তোলে। হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিসের মতো রোগে গ্লুটেনমুক্ত খাদ্য উপকারি হতে পারে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাসে যা করণীয়:
*আয়োডিনযুক্ত লবণ ও খাবার পরিমিত গ্রহণ করুন।
*সেলেনিয়াম, জিংক ও আয়রন–সমৃদ্ধ খাবার খান।
*শাকসবজি, গোটা শস্য ও ফলমূল বেশি রাখুন।
*রান্না করা সবজি ও পরিমিত সয়া খান।
*ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ে খেতে ভুলবেন না।
*পুষ্টিবিদের পরামর্শে খাদ্যতালিকা তৈরি করুন।

ধর্ষণের শিকার ১০ জনের মধ্যে , ৯ জনই শিশু-কিশোরী

এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনার শিকার যাদের বয়স জানা গেছে, তাদের মধ্যে ৮৭.৫৬% ছিল শিশু—অর্থাৎ শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সী। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান অনুসারে, ভুক্তভোগীদের ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই শিশু।

এই সময়ে মোট ৩৪২টি ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ২০১ জন ভুক্তভোগীর বয়স জানা গেছে। এদের মধ্যে ১৭৬ জনই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক: ৪০ জনের বয়স শূন্য থেকে ৬ বছর, ৬৫ জনের বয়স ৭ থেকে ১২ বছর, এবং ৭১ জনের বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছর। আসক ১৯৭৪ ও ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুসারে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কাউকে শিশু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। “শূন্য বছর” বলতে এক বছরের নিচে বয়স বোঝায়।

গ্যাং রেপ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের ক্ষেত্রেও চিত্রটি উদ্বেগজনক। মোট ৮৪টি দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ৩২ জন ভুক্তভোগীর বয়স জানা গেছে—তাদের মধ্যে ২০ জনই শিশু, যাদের মধ্যে একজনের বয়স ৬ বছরের নিচে। ধর্ষণের চেষ্টার ক্ষেত্রেও শিশুরাই প্রধান শিকার। ৮৫টি ঘটনার মধ্যে ৭৮ জন ভুক্তভোগী ছিল শিশু—যার মধ্যে ২৫ জনের বয়স ৭ বছরের নিচে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মাসিক মিডিয়া পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম ৩ মাসে ৩৮৯টি ধর্ষণের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, যার মধ্যে ৭২% ভুক্তভোগীর বয়স শূন্য থেকে ১৮ বছর।

একইভাবে, ৯১টি গ্যাং রেপের ঘটনার মধ্যে ৫১টি—অর্থাৎ ৫৬%—শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত। আসকের তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যায় ঢাকা শীর্ষে রয়েছে (৪৫টি), এরপর গাজীপুর (২০টি) এবং নারায়ণগঞ্জ (১৭টি)।

ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রধান ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ইসমাত জাহান জানান, শিশু ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। “আমাদের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতেও এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।”

তিনি শিশুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাবের কথা বলেন—ডিপ্রেশন, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD), এবং আত্মহত্যার প্রবণতা। “তদন্ত ও বিচার চলাকালে শিশুরা বারবার ট্রমার সম্মুখীন হয়। তারা বিশ্বাস হারায়, সম্পর্ক তৈরি করতে সমস্যা হয়। অনেকে আত্মধ্বংসাত্মক বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ে কিশোর বয়সে।”

মার্চ মাসে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে শিশু যৌন নির্যাতনের এই বৃদ্ধির নিন্দা জানায়। তারা সতর্ক করে যে, এই প্রবণতা সমাজের গভীর দুর্বলতাকে তুলে ধরছে এবং দেশের নৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলছে।

মাগুরায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর জনবিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধনী আনে। তদন্তের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন এবং বিচার কার্যক্রমের সময়সীমা ১৮০ দিন থেকে ৯০ দিনে আনা হয়। শিশু ধর্ষণের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধানও চালু করা হয়।

তবে, মানবাধিকারকর্মীরা এই জনতুষ্টিকর পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। নিজেরা করি-এর সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, “এটা শুধু আইনগত ব্যর্থতা নয়—এটা সামাজিক অবক্ষয়। পুরুষরা এখন আর মেয়েশিশুদের শিশু হিসেবেও দেখছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই মানসিকতা না বদলাবে, কোনো আইনই কাজ করবে না।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সরকারের অতিরিক্ত কঠোর আইনের ওপর নির্ভরতার সমালোচনা করেন। “শুধু কঠোর আইন এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। বরং এতে বিপদ আরও বাড়ছে—ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে মৃত্যুদণ্ড চালুর পর থেকে। ওই আইন জনরোষ প্রশমনে তড়িঘড়ি করে পাস করা হয়েছিল। আমাদের দরকার যৌক্তিক আইন এবং সামাজিক সচেতনতা।”

তিনি আরো বলেন, “সরকারকে মূল কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে—যেমন মেয়েশিশুদের জন্য আত্মরক্ষামূলক শিক্ষা চালু করা, অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এটা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়—এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।”

চিপ যুদ্ধের নতুন মোড় – ‘ট্রাম্পের’ আমলে চীন-মার্কিন প্রযুক্তি লড়াই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত অত্যাধুনিক চিপের ওপর নজর রেখে চীনের হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পদক্ষেপ বলে দেয়, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে বিরোধ এখন ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। এএফপি’র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এই সেমিকণ্ডাকটর চিপ যুদ্ধ নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা চীনের কাছে উন্নতমানের এআই চিপ হস্তান্তরে সীমা আরোপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে।

১২ মে, মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর জানায়, তারা ‘এআই ডিফিউশন রুল’ বাতিল করবে। ট্রাম্পের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনের হাত থেকে মার্কিন চিপ সুরক্ষিত রাখতে এ নিয়ম জারি করেছিলেন।

এই নিয়ম ১৫ মে থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যাতে তিনটি স্তরে চিপ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা ছিল। এতে বিশ্বস্ত মিত্রদেশগুলো অবাধে চিপ আমদানি করতে পারলেও, চীনের মতো তালিকার নিচের স্তরের দেশগুলোতে চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করা হতো।

একই বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—কোন কোম্পানি হুয়াওয়ের সবচেয়ে উন্নত চিপ ‘অ্যাসেন্ড’ ব্যবহার করলে মার্কিন রপ্তানি বিধিনিষেধ লঙ্ঘিত হবে। চীনা এআই মডেল প্রশিক্ষণে মার্কিন নির্মিত চিপ ব্যবহারে ‘গুরুতর পরিণতির’ হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের গবেষক লিজি লি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তাদের এআই নিয়ন্ত্রণে চীনের ওপরই ‘প্রধানত আঘাত হানতে চায়’।

সিঙ্গাপুরের এস রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ফেলো মনোজ হার্জানি একে ‘হুয়াওয়েকে ঘিরে স্পষ্টভাবে চীনকে নিশানা করার কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বুলিং’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের অপব্যবহার করে চীনকে দমিয়ে ও ঠেকিয়ে রাখতে চাইছে।

অধ্যাপক ঝাং বলেন, চীনের এমন বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তারা সহজে পিছু হটবে না। তবে এই নিয়ন্ত্রণ হুয়াওয়ের জন্য ‘জরুরি মার্কিন প্রযুক্তি পাওয়ায় বড় বাধা’ হয়ে দাঁড়াবে।

তবে চীন এখন অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘ডিপসিক’-এর নাম, যার চ্যাটবট তুলনামূলক কম খরচে মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমান কর্মক্ষমতা দেখাতে সক্ষম।

আলিবাবা ও শাওমির মতো কোম্পানিগুলোও এআই-এ ব্যাপক বিনিয়োগ ঘোষণা করেছে। গবেষকরা বলছেন, এটা চীন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য—বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর সম্পূরক।

লি বলেন, ‘কৌশলটি হলো—যুক্তরাষ্ট্রকে এখনই টেক্কা দেওয়া নয়, বরং স্বল্পমেয়াদে একটি টেকসই অবস্থান নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের জন্য ঘরোয়া সক্ষমতা গড়ে তোলা।’ এই এআই প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর দিক থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ঘটনা ঘটে। যদিও মে মাসে ৯০ দিনের জন্য কিছু শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়, কিন্তু তাতে প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্ব থেমে নেই। লি বলেন, ‘শুল্ক বাড়ানো বা কমানো যায়, কিন্তু প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হয়ে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের প্রধান এআই কোম্পানিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করতে থাকে, তবে অন্য কোনো খাতে বেইজিংয়ের পক্ষে বড় ছাড় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’

প্রাচীন আত্মার ধারণা থেকে , মস্তিষ্কের EM ফিল্ডে চেতনার অনুসন্ধান

প্রায় ২,৭০০ বছর আগে সাম’আল নগরীর রাজসভার প্রবীণ সেবক কাটুমুয়া আত্মা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছিলেন। তার নির্মিত পাথরের স্তম্ভে (স্টিল) খোদাই ছিল, মৃত্যুর পর তার আত্মার জন্য উৎসর্গ করার নির্দেশ। এই ধারণা দেহ ও আত্মা আলাদা, কিংবা আত্মা কোনোভাবে মারা যাবার পরও টিকে থাকতে পারে, এ দ্বৈতবাদের (dualism) অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সে চেতনার উৎস ও প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর ও জটিল হয়েছে।

আধুনিক নিউরোসায়েন্সে চেতনা বোঝার চেষ্টা মূলত নিউরনের তথ্যপ্রক্রিয়াকরণকে ঘিরে। প্রতিটি নিউরন যখন সক্রিয় হয়, তখন তা বিদ্যুৎ-চালিত সংকেত পাঠায় এবং সেই সঙ্গে ছোট্ট ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক (EM) তরঙ্গও ছড়ায়। কোটি কোটি নিউরনের এই তরঙ্গ মিলে তৈরি হয় একটি EM ফিল্ড।দীর্ঘদিন ধরে নিউরোবিজ্ঞানীরা এই EM ফিল্ডকে গুরুত্ব দেননি, কারণ তারা ভাবতেন এটি মস্তিষ্কের কার্যক্রমের ‘বর্জ্য’ মাত্র।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, EM ফিল্ড শুধু বাইপ্রোডাক্ট নয়, এটি চেতনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। তথ্য যদি কেবল সম্পর্ক হয়, তাহলে নিউরনের ফায়ারিং থেকে তৈরি EM ফিল্ডও সেই সম্পর্কিত তথ্য ধারণ করে। পার্থক্য হলো বিচ্ছিন্ন নিউরনের তথ্য ছড়ানো থাকে, কিন্তু EM ফিল্ডে সেই তথ্য একত্রিত, একীভূত (physically unified)। উদাহরণস্বরূপ, ওয়াই-ফাই রাউটারের আশেপাশে থাকা বিভিন্ন ডিভাইস একই EM ফিল্ড থেকে আলাদা আলাদা তথ্য নিতে পারে, কারণ ফিল্ডের তথ্য সর্বত্র ছড়ানো এবং একত্রিত।

চেতনার সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি হলো কীভাবে কোটি কোটি নিউরনের বিচ্ছিন্ন তথ্য একত্রিত হয়ে একটি অভিন্ন, জটিল অনুভূতি তৈরি করে? একে বলা হয় ‘binding problem’। ফ্রান্সিস ক্রিকসহ অনেক গবেষক দেখিয়েছেন, চেতনার সাথে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক হচ্ছে নিউরনের সিঙ্ক্রোনাস ফায়ারিং (synchronous firing)। যখন আমরা কোনো বস্তু হঠাৎ দেখি (যেমন ডেস্কে রাখা চশমা), তখন সংশ্লিষ্ট নিউরনগুলো একযোগে সক্রিয় হয় এবং এই সমন্বিত ফায়ারিং-এর ফলে শক্তিশালী EM ফিল্ড তৈরি হয়। গবেষণার ফলাফল বলছে এই EM ফিল্ডই আমাদের চেতনার অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

EM ফিল্ড তত্ত্ব একটি নতুন ধরনের বৈজ্ঞানিক দ্বৈতবাদ (scientific dualism) উপস্থাপন করে: এখানে পার্থক্য আত্মা ও দেহের নয়, বরং পদার্থ (matter) ও শক্তির (energy)। নিউরনের বিচ্ছিন্ন তথ্যের বিপরীতে, EM ফিল্ডে তথ্য একীভূত ও অবিচ্ছিন্ন। এই তত্ত্ব অনুসারে চেতনা হচ্ছে EM ফিল্ডে একীভূত তথ্যের ‘ভেতর থেকে অনুভব’ (what it feels like from the inside)। উদাহরণস্বরূপ, দরজার শব্দ শোনা মানে হচ্ছে মস্তিষ্কের EM ফিল্ডে সেই শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট নিউরন ও স্মৃতির একীভূত কম্পন।

প্রাচীন যুগে কাটুমুয়া বিশ্বাস করতেন, আত্মা তার ইচ্ছার চালক। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্বল EM ফিল্ডও নিউরনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে (David McCormick, Yale; Christof Koch, Caltech)। এই আবিষ্কার EM ফিল্ড তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করে, কারণ এটি দেখায় কারো ইচ্ছাকৃত কাজের পেছনে EM ফিল্ডের প্রভাব থাকতে পারে। অর্থাৎ, আমাদের ‘ফ্রি উইল’ আসলে মস্তিষ্কের EM ফিল্ডের প্রতিফলন।

আমাদের অচেতন মন সমান্তরালভাবে (parallel) অনেক কাজ করে—যেমন হাঁটা, চিবানো, কথা বলা—কিন্তু সচেতন মন একসঙ্গে একটি কাজেই মনোযোগ দিতে পারে। EM ফিল্ড তত্ত্ব অনুযায়ী, অচেতন প্রক্রিয়া মূলত নিউরনের তারবিহীন যোগাযোগে সীমাবদ্ধ, যেখানে EM ফিল্ডের ভূমিকা নেই।কিন্তু সচেতন প্রক্রিয়ায় EM ফিল্ডের একত্রীকরণ দরকার, যার ফলে তা একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে এই ধারাবাহিকতা (serial processing) আমাদের পরিকল্পনা, কল্পনা ও সৃজনশীলতার জন্য অপরিহার্য।

EM ফিল্ড তত্ত্ব অনুসারে প্রচলিত কম্পিউটার কখনও মানুষের মতো সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা চেতনা অর্জন করতে পারবে না, কারণ সেখানে EM ফিল্ডের তথ্য একত্রীকরণ নেই। Gary Marcus-এর মতে বর্তমান AI সাধারণ সমস্যার সমাধান করতে পারে না, কারণ তাদের মধ্যে ‘আইডিয়া’ বা ‘cbits’ নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা নেই। ভবিষ্যতে যদি এমন কম্পিউটার তৈরি করা যায়, যেখানে তথ্য তারের পাশাপাশি EM ফিল্ডের মাধ্যমেও প্রক্রিয়াজাত হবে, তবে কৃত্রিম চেতনা অর্জন সম্ভব হতে পারে।

বিবর্তন – পোশাক কিভাবে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মাধ্যম হয়ে উঠলো ?

পোশাক মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলোর একটি। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক ও বিজ্ঞানীরা আজ আমাদের পোশাকের ইতিহাস, এর উদ্ভব, বিবর্তন এবং মানবজাতির টিকে থাকা ও বিকাশে এর ভূমিকা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন। বিশেষত প্লেইস্টোসিন বরফ যুগের চরম জলবায়ু পরিবর্তনের সময় পোশাক কিভাবে মানবজাতির টিকে থাকার কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল, তা আজ বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোচ্য বিষয়।

প্রথমদিকে পোশাকের প্রয়োজনীয়তা ছিল মূলত পরিবেশগত। ঠান্ডা থেকে বাঁচা, শরীরকে উষ্ণ রাখা। আফ্রিকার তুলনায় ইউরোপ ও এশিয়ার উত্তরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া হোমো ইরেক্টাস ও পরবর্তী হোমিনিনরা যখন বরফ যুগের চরম ঠান্ডার মুখোমুখি হয়, তখন তারা শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখার জন্য বহনযোগ্য ইনসুলেশন বা উষ্ণতাদায়ক আবরণ খুঁজতে থাকে। এই প্রয়োজন থেকেই পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি ঢিলেঢালা পোশাকের উদ্ভব ঘটে।

পোশাক তৈরির জন্য প্রাচীন মানুষেরা প্রথমে পাথরের স্ক্র্যাপার ব্যবহার করত, এটি চামড়া ঘষে নরম ও ব্যবহারযোগ্য করত। পরবর্তীতে চামড়া কেটে নির্দিষ্ট আকারে গড়ার জন্য ব্লেড এবং সেলাইয়ের জন্য অউল (কাঁটা) ও সূচের উদ্ভাবন হয়। বরফ যুগের শেষ পর্যায়ে, হোমো স্যাপিয়েন্সরা বহুস্তরবিশিষ্ট ও আঁটসাঁট পোশাক তৈরি করতে শেখে, যেখানে অন্তর্বাস, বাহ্যিক পোশাক এবং হাত-পা ঢাকার জন্য বিশেষ নকশা করা হতো। এই জটিল পোশাক তাদের ঠান্ডা বাতাস ও তুষারঝড় থেকে সুরক্ষা দিত এবং উত্তর মেরু অঞ্চলেও বসতি স্থাপন সম্ভব করত।

পোশাকের ইতিহাস অনুসন্ধানে প্রধান সমস্যা হলো, কাপড় ও চামড়া দ্রুত পচে যায় এবং হাজার হাজার বছর আগের নিদর্শন পাওয়া যায় না। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে—উদাহরণস্বরূপ, মধ্য এশিয়ার ৩,০০০ বছর পুরনো ট্রাউজার, মিশরের ৫,০০০ বছর পুরনো লিনেন টিউনিক এবং জর্জিয়ার ৩৪,০০০ বছর আগের ফ্ল্যাক্স ফাইবার। বরফ যুগের সরাসরি কোনো পোশাকের নিদর্শন না থাকলেও, দক্ষিণ রাশিয়ার ৪০,০০০ বছর পুরনো সূচ এবং ডেনিসোভা গুহার ৫০,০০০ বছর পুরনো সূচের সন্ধান পাওয়া গেছে। মস্কোর কাছে সুনঘিরে পাওয়া ৩০,০০০ বছর আগের কবরস্থানে হাজার হাজার পুঁতি সাজানো কঙ্কাল পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে যেগুলো আঁটসাঁট পোশাকের ওপর সেলাই করা ছিল।

বিজ্ঞানীরা আরও এক অভিনব পদ্ধতিতে পোশাকের ইতিহাস জানার চেষ্টা করেছেন, ক্লোথিং লাইস বা পোশাকের উকুনের জিনগত বিশ্লেষণ। জার্মান ও মার্কিন গবেষকরা দেখিয়েছেন, এই বিবর্তন প্রায় ৭০,০০০-১,০০,০০০ বছর আগে বরফ যুগের শুরুতে ঘটেছিল। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, মানবজাতি নিয়মিতভাবে পোশাক পরা শুরু করে তুলনামূলকভাবে দেরিতে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক ও পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নানান সময়ে আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ পোশাক পরিধান শুরু ও বন্ধ করেছে, যার সব নিদর্শন আজকের উকুনের জিনে নেই।

গবেষকরা পোশাককে দুই ভাগে ভাগ করেছেন, সহজ ও জটিল। সহজ পোশাক সাধারণত এক স্তরের, ঢিলেঢালা এবং কেপ বা ল্যাংলটের মতো। এগুলো কিছুটা উষ্ণতা দিলেও, বাতাস থেকে তেমন সুরক্ষা দেয় না। বরফ যুগের শুরুর দিকে ঘন পশমের সহজ পোশাকই ছিল যথেষ্ট। জটিল পোশাক হলো শরীরের সাথে আঁটসাঁট, বহুস্তরবিশিষ্ট এবং হাত-পা ঢাকার জন্য বিশেষ নকশা করা। এই ধরনের পোশাক তৈরি করতে প্রয়োজন হয় কাটার ব্লেড, সেলাইয়ের সূচ ও অউল, এবং নিখুঁত কারিগরি দক্ষতা।

জটিল পোশাকের উদ্ভাবন মানবজাতিকে ঠান্ডা বাতাস ও তুষারঝড় থেকে রক্ষা করে পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল অঞ্চলেও বসতি স্থাপন সম্ভব করেছে।এমনকি এই প্রযুক্তির কল্যাণেই আধুনিক মানুষ সাইবেরিয়া পেরিয়ে আলাস্কায় পৌঁছাতে পেরেছে, যেখানে ১৩,০০০ বছর আগের সূচের সন্ধান পাওয়া গেছে।

শুধু জলবায়ু নয়, সময়ের সাথে সাথে পোশাক হয়ে ওঠে সামাজিক পরিচয়, সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। প্রাচীন শিল্পকর্মে দেখা যায়, মানুষ পোশাক পরে আছে এবং সাজসজ্জার জন্য পোশাকে পুঁতি সেলাই করেছে। পোশাকের মাধ্যমে সামাজিক স্তর, গোষ্ঠী পরিচয় এবং ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পেতে শুরু করে। বরফ যুগের চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পোশাকের উদ্ভাবন যেমন জরুরি ছিল, তেমনি কৃষি বিপ্লব ও সভ্যতার বিকাশেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজকের আধুনিক পোশাকের পেছনে রয়েছে হাজার হাজার বছরের উদ্ভাবন, অভিযোজন ও সংস্কৃতির গল্প।