Home Blog Page 91

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার , পরামর্শ কয়েকজন উপদেষ্টার

0

ডেইলি স্টার আজ এক এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে জানিয়েছে — অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা সরকার প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সর্বশেষ দুটি উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের কোনো মত জানাননি প্রধান উপদেষ্টা।

গত বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং গতকাল শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল পরিকল্পনা কমিশনে হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানান, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এক উপদেষ্টা—যিনি একটি বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন—নিজের মত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিল যেকোনো মাসে হতে পারে—এমন ঘোষণা দিলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংহত হতে পারে।

তার মতে, এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার যে বার্তা, তা আরেকটু স্পষ্ট হবে। এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারে। একইসঙ্গে জুলাই হত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন ওই উপদেষ্টা।

অপর একটি সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে সম্প্রতি সময়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও আরও একটি পক্ষের বক্তব্য মিলে যাওয়ায় সরকার মনে করছে, এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে হয়তো অন্তরালের কোনো আলোচনা হয়েছে। যা সরকারকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে। এ অবস্থা কাটাতে ড. ইউনূস যদি নিজের ঘোষিত ডিসেম্বরের পরে এবং ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে যেকোনো নির্দিষ্ট মাসে নির্বাচনের ইঙ্গিত দেন, তাহলে উভয় কূলই রক্ষা পাবে।

তার মতে, এমন করা হলে রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক চাপে সরকার নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনার সুযোগ থাকবে না। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশাও পূরণ হবে।

সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ তিনি ঘোষণা করেই রেখেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো তারপরও ধৈর্য দেখাতে পারছে না। এ কারণে অভিমান থেকে ড. ইউনূস বিরক্ত হয়ে পদ ছাড়ার কথা বলেছিলেন।

তবে শনিবারের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তার সতীর্থদের বলেছেন, রাগ-অভিমান নিয়ে যা বলেছিলাম তা ভুলে যান। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে দায়িত্ব নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

সরকার উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ড. ইউনূস পদত্যাগের বিষয়ে কথা তুললে উপস্থিত প্রায় সব উপদেষ্টা তাকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে না যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সরকার প্রধানের এমন মন্তব্যের পরও বৈঠকে উপস্থিত অন্তত তিন উপদেষ্টা চুপ ছিলেন।

সংকটের সমাধান রাজনৈতিক পথেই : কামাল আহমেদ , সাংবাদিক

0

“সরকার পরিচালনায় নানা ধরনের অসহযোগিতার মুখে কাজ করতে না পারায় হতাশাবোধ থেকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে চান। তিনি আরেকটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিদায় নিতে চান।

… বুধবার ২১ মে সেনাপ্রধান ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে যে সভা করেন, সেখানে নির্বাচন, করিডর এবং চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে তিনি যেসব মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে, স্পষ্টতই তাতে সরকারের মতামতের প্রতিফলন ছিল না।

… অথচ ২০ তারিখ রাতে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একটি বৈঠক হয়েছিল এবং তাতে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে সরকারিভাবে জানানো হয়। সেনা সদরে অনুষ্ঠিত সভায় সেনাপ্রধানের বক্তব্য হিসেবে সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে, তা যথার্থ ছিল না—এমন কোনো দাবি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে করা হয়নি। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে বলেই সরকারের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

… ২১ মে সেনাপ্রধান ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে যখন সভা করেন, সেই একই দিনে ফেসবুকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্তত ২৪টি ভুয়া তথ্য খণ্ডন করেছে। এগুলোর মধ্যে ছিল প্রধান উপদেষ্টাকে ক্ষমতাচ্যুত করা, সেনাপ্রধানকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করার মতো ভুয়া তথ্য। স্পষ্টতই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষকেরা নানাভাবে দেশে যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, এগুলো তারই অংশ। তবে দেশের ভেতরেও যে একাধিক গোষ্ঠী একই রকম চেষ্টায় জড়িয়ে পড়েছে, এমন সন্দেহও প্রবল।

… যে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক অস্থিরতার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো, সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রশ্ন। নির্বাচনকে সংস্কারের শর্তসাপেক্ষ করার বিষয়টি গণ-অভ্যুত্থানের পর যতটা প্রবল ছিল, গত ৯ মাসে তা অনেকটাই মিইয়ে এসেছে। শাসনব্যবস্থার প্রায় সব জায়গায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলেও তা সম্পন্ন করা যে সময়সাপেক্ষ, সে কথা অনস্বীকার্য। কিন্তু ন্যূনতম সংস্কারের অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় ধৈর্যচ্যুতি ঘটাও তো স্বাভাবিক। একদিকে প্রতিশ্রুত সংস্কারের শ্লথগতি, অন্যদিকে শাসনকাজে দুর্বলতা বা ক্ষেত্রবিশেষে অক্ষমতাও প্রধান উপদেষ্টার হতাশার অন্যতম কারণ বলেই জানা যাচ্ছে।

… প্রশাসন ও পুলিশে রাজনৈতিক দলগুলো স্টেক নিয়ে বসে থাকুক বা না থাকুক, রাষ্ট্রের এসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে বলে তাদের বিশ্বাস, তারা ইতিমধ্যেই সেসব দলের আস্থা অর্জনে নেতা-নেত্রীদের তদবির রক্ষায় ব্যস্ত। সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নে তাঁদের অধিকাংশেরই ন্যূনতম আন্তরিকতা নেই, আগ্রহও নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসছে না। কারণ, বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা চান। অন্য কথায়, তাঁরাও নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন। সেনাবাহিনীও নির্বাচনের বিষয়ে একই অবস্থান নিয়েছে।

ক্ষমতার অনেকগুলো ভরকেন্দ্রকে আস্থায় রাখা নিঃসন্দেহে খুব বড় একটা চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার কারণে তা যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি।…রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় রাখার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন ছিল।

… প্রধান উপদেষ্টা তাঁর প্রথম ভাষণেই বলেছিলেন, কখন নির্বাচন হবে, সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। অস্বীকার করার উপায় নেই, নির্বাচনের প্রশ্ন নিয়েই এখন সংকট ঘনীভূত হয়েছে। সুতরাং প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ ও হতাশার ঊর্ধ্বে উঠে সংকট নিরসনে উদ্যোগী হবেন এবং সব দলকে ডেকে আবারও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবেন বলেই দেশবাসী আশা করে। “

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান – ‘ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত , আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’

ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার পদক্ষেপ ২৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনের জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে জাতিসংঘকে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ‘সশস্ত্র সংঘাতে পানির সুরক্ষা’ নিয়ে স্লোভেনিয়ার উদ্যোগে আহ্বান করা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করে দেশটি।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী উপ প্রতিনিধি উসমান জাদুন বৈঠকে বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার আইন, চুক্তি আইন এবং প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’

পাকিস্তান বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেছে, ভারতের এমন পদক্ষেপ যেকোনও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে বা গোটা অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

জাদুন ভারতীয় নেতাদের ‘পাকিস্তানের মানুষকে না খেয়ে রাখার’ মতো বিপজ্জনক মন্তব্যকেও উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, এটি ‘চরম বিপজ্জনক ও বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি বলেন, ‘২৪ কোটি পাকিস্তানির প্রাণরক্ষা করা নদীগুলোর প্রবাহ বন্ধ, সরানো বা সীমিত করার যে কোনও প্রচেষ্টাকে আমরা কখনোই মেনে নেব না।’ জাতিসংঘ ফোরামে জল সম্পদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

জাদুন যুদ্ধকালীন সময়ে পানি সম্পদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগকে পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনরায় জানান এবং পানি বিষয়ে রাজনৈতিক বা সামরিক উদ্দেশ্যকে প্রতিহত করার জন্য ‘দৃঢ়, নীতিনিষ্ঠ ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে ভারতের রাষ্ট্রদূত পারভতনেনি হরিশ পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির অংশ বানানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের “সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা” বিষয়ক বৈঠকে অংশ নেয় ভারত ও পাকিস্তান।

বিদেশি শ্রমবাজার – রেমিটেন্সে রেকর্ড গড়লেও , শ্রমিক পাঠানোয় ভাটা

মাস কয়েক ধরে প্রবাসী আয়ে সুবাতাস বইছে, রেকর্ডও হয়েছে; তবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর হিসাবটা আশা জাগানিয়া নয়। এক বছরের ব্যবধানে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা ২২ শতাংশের মত কমে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে বেশ কয়েকটি দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য সংকুচিত হওয়ার তথ্য মিলেছে।

জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, প্রবাসীদের শ্রমের বিনিময়ে ডলার বাংলাদেশ পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ নেই। বাজার ছোট হয়ে আসার কারণ হিসেবে দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ার ‘অনৈতিক চর্চার’ কথাও বলছেন কেউ কেউ।

চলতি বছরের মার্চে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠান ৩২৯ কোটি ডলার, যা মাসের হিসাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে রেমিটেন্স বাবদে দেশে এসেছে দুই হাজার ১৭৮ কোটি ডলার। যা আগের বছর এই সময়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

রেমিটেন্সের প্রবাহ আশা জাগালেও অভিবাসী শ্রমিক পাঠানোতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী বিদেশে পাড়ি জমান।

২০২৪ সালে সেটি কমে নেমেছে ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জনে। কমেছে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৪৮৪ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২২ শতাংশ। গত কয়েক বছরের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রম বাজার পুরোপুরি বন্ধ; কিছু দেশে ‘প্রায় বন্ধ’। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান ৯৮ হাজার ৪২২ জন। ২০২৪ সালে সেটি কমে ঠেকেছে ৪৭ হাজার ১৬৬ জনে। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েতে ২০২৩ সালে কর্মী গেছেন ৩৬ হাজার ৫৪৮ জন। ২৪ সালে যান ৩৩ হাজার ৩১ জন।

চুক্তিমাফিক চাকরি এবং বেতন নিশ্চয়তার জন্য বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম সেরা শ্রমবাজার দক্ষিণ কোরিয়া। ভাষা ও কাজের দক্ষতা দেখে কর্মী নেওয়া এ দেশেও কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের কোটা দেয় দক্ষিণ কোরিয়া; কিন্তু যায় চার হাজার ৯৯৬ জন। পরের বছর এ সংখ্যা আরও প্রায় দুই হাজার কমে দাঁড়ায় তিন হাজার ৩৮ জনে।

ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যে ২০২৩ সালে ১০ হাজার ৩৮৩ জন গেলেও ২০২৪ সালে যান তিন হাজার ৫৫০ জন। ইউরোপের আরেক দেশ ইতালিতে ১৬ হাজার ৮৭৯ জন পাড়ি জমান ২০২৩ সালে। পরের বছর কমে দাঁড়ায় এক হাজার ১৬৪ জন।

গেল বছরের মতো এ বছরও নতুন কোনো শ্রমবাজার খোলেনি বাংলাদেশিদের জন্য। উল্টো ২০২৩ এর মাঝামাঝি থেকে শুরু করে চলতি বছর পর্যন্ত ওমান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপের মতো বেশ কিছু পুরনো শ্রমবাজারও বন্ধ হয়েছে।

২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে অঘোষিতভাবে বন্ধ আছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। এছাড়া জনশক্তি রপ্তানি অর্ধেকে নেমেছে ব্রুনাইয়ে; মরিশাসে বন্ধ রয়েছে ঘোষণা ছাড়াই, যুদ্ধবিদ্ধস্ত লেবাননেও নেই সুখবর।

২০১৭ সাল থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের একসময়ের বড় শ্রমবাজার বাহরাইনও বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি কোনো কর্মীই নেয়নি। প্রায় একই অবস্থা লিবিয়া, সুদান, ইরাক, মিশরের মতো দেশগুলোতেও। এসব দেশের শ্রমবাজারও কার্যত বন্ধই বলা চলে।

নতুন করে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে মালয়েশিয়াও। উল্টো বাংলাদেশি এজেন্সিগুলোর সিন্ডিকেট নিয়ে দফায়-দফায় সতর্ক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অথচ ২০২৩ সালে রেকর্ড ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন শ্রমিক নেয় দেশটি।

ওমানও কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে, যারা ২০২৩ সালে নেয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৩ জন কর্মী। ২০২৪ সালে সেটি কমে দাঁড়ায় ৩৫৮ জনে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গেছেন ২৪ জন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা বাড়লেও কাজ না মেলায় বিপাকে রয়েছেন দেশটিতে যাওয়া শ্রমিকদের অনেকেই।২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৪ জন। ২০২৪ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৪ জনে।

আইনে নিষিদ্ধ হলেও কর্মীপ্রতি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় ভিসা কিনে নেয় দেশটিতে থাকা অনেকে। এরপর ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় দেশ থেকে ফ্রি ভিসার নামে লোক নিয়ে গেলেও সেখানে কাজ না পেয়ে ফিরে আসেন অনেকেই। অনেকেই আবার সীমাহীন কষ্টে দিনাতিপাত করেন। একই চিত্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারেও। ২০২৩ সালে ৫৬ হাজার ১৪৮ জন দেশটিতে গেলেও ২০২৪ সালে সেটি বেড়ে হয় ৭৪ হাজার ৪২২ জন।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন — “ক্রমাগত আমাদের বাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। আগে আমরা ১৩ থেকে ১৪টা দেশে লোক পাঠাতাম, যদিও বলছে ১৭০টি দেশে যায়। ওটা কমতে-কমতে ৯টা হয়েছে।”

২০২৪ সালে মাত্র ছয়টি দেশে ৯০ শতাংশ লোক গেছে দাবি করে তিনি বলেন, “বাহরাইন, আরব আমিরাত এসব বাজার বন্ধ হয়ে আছে। অফিসিয়ালি খোলা আছে, কিন্তু আসলে খোলা নাই। বাজারের সংকোচনটাকে আমি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছি। মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণিকেও দায়বদ্ধ করতে হবে। এ বাজার জালিয়াতিতে ভরা। এ কারণে ওইসব দেশ কিছু দিন পর পর বাজার বন্ধ করে দেয়।”

সম্রাট অশোকের – নয় অজানা পুরুষের গুপ্ত সংঘ

সম্রাট অশোক ভারতীয় ইতিহাসের এক শক্তিশালী ও রূপান্তরমূলক নাম। কলিঙ্গ যুদ্ধের বিভীষিকা দেখে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। দয়ার রাষ্ট্রনীতি, অহিংসার দর্শন এবং মানবিক শাসনব্যবস্থার এক নতুন ধারা চালু করেন। কিন্তু ইতিহাসের পাতার নিচে এমন একটি ছায়া অধ্যায় রয়ে গেছে, যা কখনো নথিবদ্ধ হয়নি অথচ সময়ের গহীনে আজও দোলা দেয়। সেটি হলো “Nine Unknown Men”—সম্রাট অশোকের গোপন সংঘ, যাদেরকে মানবজাতির সবচেয়ে বিপজ্জনক ও প্রভাবশালী জ্ঞানের রক্ষক হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

“নয়টি অজানা পুরুষ” ধারণার প্রচলন প্রথম হয় ১৯২৩ সালে Talbot Mundy নামক এক ব্রিটিশ রোমাঞ্চলেখকের বইয়ে। তাঁর উপন্যাস The Nine Unknown দাবি করে, খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে অশোক একটি গোপন সংঘ গঠন করেছিলেন যারা নয়টি বিষয়ভিত্তিক গোপন বই রক্ষা করত। উদ্দেশ্য ছিল একটাই এমন জ্ঞান জনসাধারণের নাগালের বাইরে রাখা, যা ব্যবহৃত হলে মানবজাতির ধ্বংস অনিবার্য। এই কাহিনিকে পরবর্তীতে বিভিন্ন ওকল্ট থিওরিস্ট, কন্সপিরেসি রিসার্চার ও fringe-historians উপাত্ত হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। যদিও মূলধারার ইতিহাসবিদেরা একে “কাল্পনিক সম্ভাবনার সাহিত্যিক ব্যাখ্যা” বলেই বিবেচনা করেন।

কি ছিল সেই ভয়ংকর বিজ্ঞান? এই গোষ্ঠীর প্রতিটি সদস্য ছিল একেকটি বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ এবং একটি করে গোপন গ্রন্থ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। দাবিগুলোর ভিত্তিতে এসব গ্রন্থে যে বিষয়বস্তু ছিল বলে অনুমান করা হয় তা হলো:
প্রোপাগান্ডা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধবিদ্যা
মানব শরীরের ভিতরকার ঘাতক পদ্ধতি ও আত্মনাশের গোপন বিজ্ঞান
জীববিজ্ঞান ও প্রাণ পুনরুজ্জীবনের রীতি
জড়শক্তি ও তার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (possibly free energy বা advanced energy harnessing)
মাধ্যাকর্ষণ (Gravity) ও আন্তঃনাক্ষত্রিক ভ্রমণ প্রযুক্তি
যোগচর্চা ও মানবসত্তার অতীতজ্ঞান
আলোক ও শব্দ তরঙ্গে যুদ্ধ ও চিকিৎসা (sound-light weapon systems?)
রাসায়নিক রূপান্তর ও পদার্থ পরিবর্তনের প্রাচীন সূত্র (alchemy)
সমাজ ও জনতাকে নিয়ন্ত্রণের গাণিতিক মডেল (modern statistics এর প্রাচীন সংস্করণ)
এই ধারণাগুলো অদ্ভুত ও আধুনিক, অনেকাংশে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানকেও ছাপিয়ে যায়।

সম্রাট অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অহিংসার আদর্শে দীক্ষিত হলেও তিনি রাষ্ট্রচালনায় বাস্তববাদী ছিলেন। গোপন সংরক্ষণযোগ্য জ্ঞান ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এক পুরনো কৌশল। যেমন প্রাচীন মিশর, গ্রীক বা মেসোপটেমিয়ায় ধর্মযাজকরা বৈজ্ঞানিক তথ্য গোপন রাখত। সুতরাং যদি Nine Unknown Men বাস্তবও না হয়, তাদের ধারণাটি এক গভীর সত্যের ছায়া বহন করে জ্ঞান সর্বজনীন নয়, বরং ক্ষমতার উৎস।

বর্তমান সময়ে “Deep State”, “Shadow Government”, “Black Projects”, বা “Breakaway Civilizations” ধারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিছু গবেষক মনে করেন, Nine Unknown-এর ধারণা সম্ভবত আধুনিক Illuminati, Freemasons, এমনকি CIA-এর Ultra-Secret Units-এর পূর্বসূরি। আবার কেউ বলেন, এই গোষ্ঠী হয়তো আজও আছে এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মৌন প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

অনেকে মনে করেন, টেসলা, আইনস্টাইন, কিংবা ভারতীয় বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর গবেষণার পেছনে কোনো ‘অদৃশ্য উৎস’ কাজ করেছিল। আবার কেউ যুক্ত করেন, জ্ঞান বিজ্ঞানে হঠাৎ আবির্ভূত ‘out-of-place’ তত্ত্বগুলো—যেমন কোয়ান্টাম তত্ত্ব, হিউম্যান ক্লোনিং, বা দিক পরিবর্তনকারী মহাকর্ষ প্রযুক্তি এই গোষ্ঠীর পরোক্ষ ফল হতে পারে।

অশোকের “Nine Unknown Men” নিয়ে প্রামাণ্য কোনো নথি পাওয়া যায়নি। না তার রক এডিক্টে, না বৌদ্ধ বাণীতে। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি একটি সাহিত্যিক রূপক মাত্র। তবে “গোপন সমাজে জ্ঞান রক্ষার সংস্কৃতি” প্রাচীন ভারতীয় দর্শনে যেমন তন্ত্র, যোগ, এবং নাথপন্থায় বিস্তর পাওয়া যায়। সুতরাং ধারণাটিকে পুরোপুরি বাতিল করাও একপ্রকার গবেষণা-অযোগ্যতা।

Nine Unknown Men এক রহস্যময় কাহিনি, যা ইতিহাস, দর্শন, ও ষড়যন্ত্রতত্ত্বের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা যদি বাস্তব হয়, তাহলে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোপন গোষ্ঠী। যদি না হয়, তাহলেও তারা মানবজাতির জ্ঞানের প্রতি এক সতর্ক সংকেত সব জ্ঞান হয়তো জানার নয়।

ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি ও প্রতিরোধে করণীয়

বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগসমূহের মধ্যে ম্যালেরিয়া অন্যতম একটি প্রাণঘাতী রোগ। বিশেষ করে দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলো, যেমন—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলাটি ম্যালেরিয়ার ঝুঁকির দিক থেকে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যান্য সমতল জেলাগুলোর তুলনায় পার্বত্য এলাকায় এই রোগের সংক্রমণ হার অনেক বেশি। মূলত বর্ষা মৌসুমে মশার বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ায় ম্যালেরিয়া সহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সতর্কতা অবলম্বন করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একবার কেউ আক্রান্ত হলে, চিকিৎসা নিতে দেরি হলে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে। ফলে রোগটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে করণীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো:

*রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। এটি হলো সবচেয়ে প্রাথমিক ও কার্যকর পদ্ধতি।
*মশার কামড় থেকে বাঁচতে রিপেলেন্ট জাতীয় পণ্য যেমন মশা তাড়ানোর কয়েল, স্প্রে বা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব উপাদান ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন জরুরি, কারণ অতিরিক্ত ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট বা এলার্জি হতে পারে।
*সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সতর্ক থাকা দরকার, কারণ এ সময় ম্যালেরিয়াবাহী স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।
*বাসা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জমে থাকা পানি মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান স্থান, তাই এসকল স্থানে ওষুধ ছিটানো বা পানি অপসারণ করা দরকার।

ম্যালেরিয়ার উপসর্গ ও চিকিৎসা:
ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে সাধারণত কাঁপুনি দিয়ে উচ্চমাত্রার জ্বর আসে, যা ১০৫ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। অনেক সময় জ্বর নির্দিষ্ট বিরতিতে আসে—যেমন একদিন পরপর জ্বর হয় এবং ৩-৪ ঘণ্টা স্থায়ী হয়, এরপর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যায়। এই ধরণের জ্বরকে চক্রাকারে আসা জ্বর বলা হয়, যা ম্যালেরিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বমি ভাব, কখনও কখনও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেকোনো ব্যক্তি এসব উপসর্গে ভুগলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চিকিৎসায় দেরি হলে রোগীর অবস্থা মারাত্মক হতে পারে।

ম্যালেরিয়া এখনও বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যের একটি বড় হুমকি। সঠিক সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমেই এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও সতর্কতার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং সচেতন হলে ম্যালেরিয়ার মত প্রাণঘাতী রোগও প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিরল খনিজের বাজারের ৭৭% চীন , ইন্দোনেশিয়া ও কঙ্গোর দখলে

বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্য নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বিরল খনিজের দাম কমেছে ৮০ শতাংশেরও বেশি। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা আইইএ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল যেমন—কোবাল্ট, লিথিয়াম ও গ্রাফাইটের চাহিদা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হারে বাড়লেও এর দাম কমছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এসব উপাদানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি। বিশেষ করে চীন, ইন্দোনেশিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

আইইএ জানিয়েছে — বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ির কাঁচামালের বাজারে কোবাল্টের বাজারে একক আধিপত্য কঙ্গোর, নিকেলের বাজার একপ্রকার ইন্দোনেশিয়ারই নিয়ন্ত্রণে এবং চীন সরবরাহ করছে গ্রাফাইট ও বিরল খনিজ। তবে লিথিয়ামের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা ও জিম্বাবুয়ের মতো নতুন উৎপাদনকারী দেশও উঠে আসছে। আইইএ-এর তথ্যমতে, ‘২০২০ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খনিজের বাজারের ৭৩ শতাংশই নিয়ন্ত্রণে ছিল চীন, ইন্দোনেশিয়া এবং কঙ্গোর, ২০২৪ সালে এই বাজারে দেশ তিনটির নিয়ন্ত্রণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ শতাংশ।’

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এতটা নির্ভরতা বিপদ ডেকে আনতে পারে। যদি কোনো একটি দেশের উৎপাদন থেমে যায়—প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যন্ত্রের সমস্যা বা বাণিজ্য সংকটের কারণে—তাহলে অর্ধেক চাহিদাই পূরণ করা কঠিন হয়ে যাবে। এর প্রভাব ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারির দামে ভয়াবহ রকমের প্রভাব ফেলতে পারে। চীন কেবল কাঁচামাল উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণেই নয়, পুনর্ব্যবহার ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থানীয়। ২০২০ সাল থেকে ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারে বিশ্বব্যাপী যে বৃদ্ধি ঘটেছে, তার দুই-তৃতীয়াংশই চীনে হয়েছে।

জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে , ইতালির ভবিষ্যৎ কী ?

গত বছর ১৭ ডিসেম্বর ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়—ইতালির জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে। ইতালিকে ইউরোপের সবচেয়ে বয়সী মানুষের দেশ হিসেবে উল্লেখ করে এতে বলা হয়—২০১৪ সালের পর থেকে সেখানকার জনসংখ্যা ক্রমাগত কমছেই।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত দশকে ইতালিতে জনসংখ্যা কমেছে ১৪ লাখ। ইতালির জনগণের গড় আয়ু ৮৩ বছর। তবে শিশু জন্মের হার যেভাবে কমছে তাতে ২০৫০ সালে সেখানকার মোট জনসংখ্যার বড় অংশ মানুষের গড় বয়স দাঁড়াবে ৬৫ বছরের বেশি।

গত ৩১ মার্চ রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়, ‘ইতালির জনসংখ্যা সংকট আরও খারাপ হয়েছে। জন্মহার সর্বকালের সর্বনিম্ন’। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে ইতালিতে শিশু জন্মের হার আরও কমেছে। সে বছর সেখানে যত শিশুর জন্ম হয়েছে তার তুলনায় মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৮১ হাজার বেশি মানুষের।

আগের বছরের তুলনায় গত বছর ইতালির জনসংখ্যা ৩৭ হাজার কমে হয়েছে পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ৯৩ হাজার। এ দিকে, গত বছরে দেশ ছেড়েছেন প্রায় এক লাখ ৯১ হাজার ইতালীয়। সরকারি হিসাবে, দেশত্যাগের এই হার গত ২৫ বছরে সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে, গত বছর ইতালিতে বিদেশির সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার নয় দশমিক দুই শতাংশ তথা প্রায় ৫৪ লাখ। আগের বছরের তুলনায় তিন দশমিক দুই শতাংশ বেশি। তাদের বেশিরভাগ বাস করেন দেশটির উত্তরাঞ্চলে।

গত ৩০ জানুয়ারি রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোজোনের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইতালির জিডিপি পরপর দুই প্রান্তিকে কোনো প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেনি। এমন স্থবিরতা দেশটির ভবিষ্যৎ উন্নতির ওপর ছায়া ফেলছে।

গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর স্ট্যাটিস্টার তথ্যে বলা হয়, ২০২৩ সালে ইতালির বেকারত্বের হার ছিল সাত দশমিক ছয় শতাংশ। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই হার বা এর কাছাকাছি হার থাকতে পারে।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে—ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে বেকারত্বের হার ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ। উত্তরাঞ্চলে তা তিন শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ, দেশটি ভয়ঙ্করভাবে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।

সম্প্রতি, ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—ইতালির অর্থনীতি চাঙা করতে যে শ্রমশক্তির প্রয়োজন তা বিদেশি শ্রমিকদের দিয়ে মেটানো যেতে পারে। কিন্তু, দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সেই সম্ভাবনাকে দূরে ঠেলে দিতে পারে। তাই প্রশ্ন জাগে—ইতালির ভবিষ্যৎ কী?

আজকে বিশ্বের , ৬ষ্ঠ সর্বাধিক দূষিত শহর ‘ঢাকা’

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আজ শনিবার সকালে বিশ্বের ৬ষ্ঠ সর্বাধিক দূষিত শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে, যেখানে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ১৫২ রেকর্ড করেছে। এই স্কোর “অস্বাস্থ্যকর” পর্যায়ে পড়ে এবং শহরের প্রায় ২ কোটি বাসিন্দার জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আজকের এই অবস্থান ঢাকার দীর্ঘদিনের বায়ু দূষণ সমস্যার একটি প্রতিফলন, যা বছরের পর বছর ধরে শহরবাসীর জীবনযাত্রার মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে আসছে।

আজ সকাল ৯:২০ মিনিটে পরিমাপিত AQI স্কোর অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে। এই তালিকায় মিশরের কায়রো এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর কিনশাসা যৌথভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে ১৭৩ স্কোর নিয়ে, আর আফগানিস্তানের কাবুল তৃতীয় স্থানে ১৫৮ স্কোর নিয়ে। AQI স্কেল অনুযায়ী, ৫০-১০০ স্কোর “মাঝারি”, ১০১-১৫০ “সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর”, ১৫০-২০০ “অস্বাস্থ্যকর”, ২০১-৩০০ “অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর” এবং ৩০১ বা তার বেশি “বিপজ্জনক” হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঢাকার বায়ু দূষণের পেছনে রয়েছে বহুবিধ কারণ। গৃহস্থালী জ্বালানি দহন সবচেয়ে বড় অবদানকারী (২৮%), এরপর রয়েছে ইটভাটা (১৩%) এবং পরিবহন সেক্টর (৪%)। শীতকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন সীমিত বৃষ্টিপাত, বর্ধিত নির্মাণ কাজ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাতাসের মাধ্যমে আসা আন্তঃসীমান্ত দূষণকারী পদার্থ শহরের বায়ুর গুণমানকে বিষাক্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও PM10 এবং PM2.5 কণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন এই দূষণের মূল উপাদান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ু দূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়, মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে। শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা এই দূষণের কারণে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ঢাকার বায়ু দূষণ একটি জরুরি জনস্বাস্থ্য সমস্যা যা তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ দাবি করে। যদিও বর্ষাকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়, তবুও সারা বছরই এই সমস্যা বিদ্যমান থাকে। কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, শিল্প নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন – নির্বাচন নিয়ে চাপের মুখে , অধ্যাপক ইউনূসের পদত্যাগের হুমকি

0

“… আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত মুহাম্মদ ইউনূসকে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সেরা সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।…কিন্তু তাঁর সহযোগীরা বলছেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বিকাশমান ঐক্যের কারণে তিনি বাধাগ্রস্ত অনুভব করছেন। এই ঐক্য তাঁর নীতিগুলোর সমালোচনা করছে এবং বলছে, তিনি নির্বাচনের পরিকল্পনায় অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছেন।বৃহস্পতিবার মুহাম্মদ ইউনূস বাধাহীনভাবে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন না পেলে পদত্যাগের হুমকি দেন।

মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর পদত্যাগ ঘোষণার ভাষণের খসড়া তৈরির পর্যায়ে গিয়েছিলেন বলে তাঁর সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। অন্যান্য উপদেষ্টা তাঁকে বোঝান যে তাঁর পদত্যাগে বাংলাদেশ আরও অস্থিতিশীল হবে।

ওই কর্মকর্তা ফোনে বলেন যে — এ বছর নির্বাচন হওয়া উচিত বলে সেনাপ্রধান সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে অখুশি হয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলোর সমালোচনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করছেন।

… বর্তমানে দেশটিতে কার্যত অর্থবহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নেই। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলারও অবনতি ঘটেছে, আর তা ঠিক করার উদ্যোগগুলোও চলছে অগোছালোভাবে। সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা মুহাম্মদ ইউনূসের নিজের কোনো রাজনৈতিক সমর্থন নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফেলো মোবাশ্বার হাসান বলেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূস একজন চমৎকার ব্যাংকার হতে পারেন, প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি দারুণ হতে পারেন; কিন্তু তাঁর যে ঘাটতি রয়েছে, দিনের পর এটা স্পষ্ট হচ্ছে যে তাঁর দৃঢ় ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব নেই।’ তার বদলে মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর উপদেষ্টাদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন বলে মনে করেন মোবাশ্বার হাসান।

অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একজন কর্মকর্তা বলেন — দেশের গণতন্ত্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে যাঁদের তাঁকে সাহায্য করার কথা ছিল, তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে উপেক্ষা করছেন বলে অধ্যাপক ইউনূস মনে করছেন। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া উচিত গত বুধবার সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এমন বক্তব্যের পর তিনি ধৈর্য হারিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। … তিনি তাঁর মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত বলে তিনি মনে করেন না।

… রাজনৈতিক অস্থিরতা ঠিক করা ৮৪ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদের জন্য চ্যালেঞ্জ প্রমাণিত হয়েছে এবং অনেকাংশে প্রায় অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের একটি নিষিদ্ধ আর অপরটি তড়িঘড়ি নির্বাচন চাইছে। এমন পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ইউনূস সময় নিতে চাইছেন বলে মনে হয়। এতে সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল বিশ্লেষকেরাও বিরক্ত।

… এদিকে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা ওই সময় থেকে তাঁর (হাসিনার) সমর্থকদের সঙ্গে সহিংস সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন; কিন্তু তাঁর (শেখ হাসিনা) পুরোনো শত্রু বিএনপিকে তাঁর সে জায়গায় বসাতে ভয় পান তাঁরা। বেশির ভাগ মানুষ এখনো অধ্যাপক ইউনূসের ওপর আস্থা রাখেন। …”