Home Blog Page 92

ড. ইউনূসের প্রতি আবেদন , ‘পদত্যাগ করবেন না প্লিজ’ : মাহফুজ আনাম

0

” … এমন ক্রান্তিলগ্নে অধ্যাপক ইউনূস দেশ ও জাতির নেতৃত্বের হাল ছাড়বেন না। তাকেই নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথরেখা তৈরি করতে হবে।

হয়তোবা আমরা গণমাধ্যম ও দেশের জনগণ ড. ইউনূসের গত ১০ মাসের অর্জনের মর্ম পুরোপুরি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু একইভাবে তারও স্বীকার করা উচিত যে এই সময়ে সরকারও কিছু গুরুতর ভুল করেছে।

তাকে স্বীকার করতে হবে যে বিগত মাসগুলোতে বাংলাদেশ ক্রমেই এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা নেই বললেই চলে; সড়কে প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ ও যান চলাচল বাধাগ্রস্ত করাই দাবি আদায়ের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখনো আত্মবিশ্বাস সংকটে ভুগছে। এক ‘মনোমুগ্ধকর প্রেজেন্টেশনে’র পরেও প্রকৃতপক্ষে দেশে উল্লেখযোগ্য কোনো বিনিয়োগ আসেনি। অধ্যাপক ইউনূসকে এখন এই সত্যের মুখোমুখি হতে হবে। এটি তার গৌরবময় জীবনের অন্যান্য যেকোনো অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন।

আমরা তাকে অনুরোধ করছি এটা বিবেচনায় নিতে যে, এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল তার পদত্যাগ দাবি করেনি। তবে শুধু কিছু শিক্ষার্থী—যাদের তিনি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছেন—তারাই তাকে এই কথা বলার সাহস দেখিয়েছে যে, ‘মনে রাখবেন, আপনাকে আমরা ক্ষমতায় এনেছি, আমরা সরিয়েও দিতে পারি।’ আমরা এখনো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর আস্থা রাখি, তাকে বিশ্বাস করি, ভরসা করি।

কিন্তু অধ্যাপক ইউনূসকেও বুঝতে হবে, সব কিছু তার প্রত্যাশামতো এগোয়নি এবং সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হলে তাকে নিজের টিম পুনর্গঠন করতে হবে এবং এখন পর্যন্ত যেসব পদ্ধতি তিনি অনুসরণ করেছেন, তা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। প্রতিটি সরকার প্রধানকেই এটি করতে হয়। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং এটাকে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া একেবারেই উচিত নয়।

… বিশ্বব্যাপী তাঁর সম্মান, অগণিত পুরস্কার, সম্মানসূচক একাধিক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি, অন্তহীন প্রশংসা কখনোই তাকে সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করেনি।

… যখন তিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে রাজনীতির ঘোলাটে পরিবেশে পা রাখলেন, তখন তিনি বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন এবং যাদের তিনি ‘নিয়োগকর্তা’ হিসেবে অভিহিত করেন, তাদের দ্বারা পুরোপুরি প্রভাবিত হয়ে পড়লেন।

ইউনূস সরকারের কার্যক্রম নিয়ে চূড়ান্তভাবে কোনো মন্তব্য করার সঠিক সময় এখনো না এলেও এটুকু বলা যায় যে, ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ সরকার মানেই যেহেতু অস্থায়ী সরকার, তার জন্য ১০ মাস মোটেই কম সময় নয়। এই কাজের জন্য তিনি অনভিজ্ঞদের নিয়ে (যদিও সবাই নয়) একটি টিম গঠন করেছেন। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তিনি দক্ষতার সঙ্গে সেই টিম পরিচালনা করতে পারেননি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তার কয়েকজন উপদেষ্টা ক্ষমতার প্রতি এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন যে, তারা তাদের মূল দায়িত্ব পালনের চেয়ে সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর দিকেই মনোযোগী হয়ে পড়েন। … চলমান পরিস্থিতিতে কিছু পদক্ষেপ জরুরিভাবে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে:

—প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা। কয়েক মাস আগে বলা হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন। এখন বিষয়টি আরও সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।

—উপদেষ্টা পরিষদে রদবদল ও পুনর্গঠন করা, যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য পূরণ করা যায়।

—তিন বাহিনীর প্রধানদের ডেকে বর্তমান দূরত্ব কমানো। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে সেনাপ্রধানের অভিযোগের বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে মীমাংসা করতে পারেন। কারণ আমাদের সেনাবাহিনীও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। … “

বিদায় সেবাস্তিয়াও সালগাডো , সাদাকালো মহাকাব্যের কিংবদন্তি

১৯৯৩ সাল, সেবাস্তিয়াও সালগাদো প্রকাশ করেন তাঁর যুগান্তকারী আলোকচিত্র গ্রন্থ Workers: An Archaeology of the Industrial Age। বইটির প্রতিটি ছবি যেন মানবশ্রমের, অবজ্ঞার, সংগ্রামের এক একটি ইতিহাস। ছবিগুলোতে দেখা যায় বিশ্বজুড়ে হাজারো খনি শ্রমিক, জাহাজ ভাঙা শ্রমিক, ধাতু গলানো মজুর কিংবা খোলা আকাশের নিচে খেটে চলা কৃষক। এই কাজটি শুধুই শ্রমের নান্দনিক দলিল নয়; বরং এটি এক ধরণের প্রতিবাদ—শ্রমিকের মুখ আর ঘামে লেখা সেই গল্প, যেটা পুঁজিবাদী উন্নয়নের উচ্ছ্বাসে চেপে রাখা হয়।

সেবাস্তিয়াও সালগাদো জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৪ সালে, ব্রাজিলের মিনাস জেরাইসে। প্রথমে তিনি পড়াশোনা করেন অর্থনীতিতে, ফ্রান্সের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিও করেন। তাঁর পেশাজীবন শুরু হয় আন্তর্জাতিক সংস্থায় অর্থনীতিবিদ হিসেবে। কিন্তু তিনি নিজেই একদিন স্ত্রীর ক্যামেরা হাতে নিয়ে আফ্রিকায় একটি প্রকল্পের সময় বুঝে যান—পরিসংখ্যান মানুষের চোখে জল আনে না, কিন্তু একটি ছবি পারে। সেই দিন থেকে ক্যামেরাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের ভাষা। এই রূপান্তর কেবল পেশাগত নয়, দৃষ্টিভঙ্গিগত। অর্থনীতি বলছিল ‘সংখ্যা’, কিন্তু সালগাদো দেখতে চাইছিলেন মানুষ। ফলে তাঁর ফটোগ্রাফি শুধুমাত্র আলোকচিত্র হয়ে থাকেনি; তা হয়ে উঠেছে নৈতিকতার দৃষ্টিভঙ্গি, ন্যায়ের এক মৌন দলিল।

১৯৯০-এর দশকে সালগাদো শুরু করেন আরেক বিশাল প্রকল্প Exodus, যা প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। এখানে তিনি বিশ্বজুড়ে উদ্বাস্তু মানুষদের জীবন তুলে ধরেন, যারা যুদ্ধ, দারিদ্র্য, জাতিগত নিপীড়ন বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে নিজ ভূমি থেকে উৎখাত। এই প্রকল্পটি ছিল অন্তর্জাগতিক ও আন্তর্জাতিক—বসনিয়া, রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান থেকে শুরু করে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল এই ক্যামেরার যাত্রা। এখানে তিনি শুধু ভুক্তভোগীদের নয়, রাষ্ট্র ও পুঁজিবাদের নীতিগত নিষ্ঠুরতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাঁর ক্যামেরা জিজ্ঞেস করে কারা ইতিহাস লেখে? কারা তাড়িয়ে বেড়ায়, আর কারা হারিয়ে যায়?

সালগাদোর সব কাজ মূলত সাদা-কালো, কারণ তিনি মনে করতেন রঙ দৃশ্যপটকে দৃষ্টি বিভ্রান্ত করে, যেখানে সাদাকালো দেখায় আত্মা। আলোকচিত্র হয়ে ওঠে আত্মদর্শনের মাধ্যম—এক ধরণের “visual phenomenology”, যেখানে দর্শক ছবির পেছনে মানুষটির আর্তি, ক্ষুধা, সংগ্রাম কিংবা নীরবতা অনুভব করেন। ফরাসি দার্শনিক মেরল্যু-পন্তির মতো সালগাদোও বিশ্বাস করতেন, দর্শন শুধু যুক্তি দিয়ে নয়, ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। তাঁর প্রতিটি ছবি যেন সেই দার্শনিক সংলাপ।

২০০৪ সাল থেকে শুরু করে প্রায় আট বছর ধরে তিনি কাজ করেন প্রকৃতি ও পৃথিবীর “অন্য রূপ” নিয়ে। Genesis প্রকল্পে তিনি চেষ্টা করেন এমন অঞ্চলগুলোর ছবি তোলার, যেগুলো আধুনিক সভ্যতা এখনও স্পর্শ করেনি। আর্কটিকের বরফ, আফ্রিকার মরুভূমি, অ্যামাজনের গভীর জঙ্গল, ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি—সব জায়গায় দেখা যায় এক নীরব সুন্দর।

এর ধারাবাহিকতায় আসে Amazônia (২০২১), সেখানে তিনি অ্যামাজনের আদিবাসী গোষ্ঠী ও প্রাকৃতিক পরিবেশের অসাধারণ দলিল তৈরি করেন। কিন্তু এগুলো নিছক সৌন্দর্যের ফ্রেম নয়—এগুলো এক প্রকার প্রতিবাদ: পরিবেশ ধ্বংস, কলোনিয়ালিজম, এবং সাংস্কৃতিক নিধনের বিরুদ্ধে এক শৈল্পিক আঘাত। ১৯৯৮ সালে সালগাদো এবং তাঁর স্ত্রী লেলিয়া Instituto Terra— নামে একটি বনায়ন ও পরিবেশপুনরুদ্ধার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে ১৭০০ একর উজাড় হয়ে যাওয়া জমিতে প্রায় ৩০ লাখ গাছ রোপণ করা হয়।

তাঁর কাজকে অনেকেই তুলনা করেন ইউজিন স্মিথ, ডরোথি ল্যাং এবং ওয়াকার ইভান্স-এর সঙ্গে। কিন্তু সালগাদো আলাদা, তিনি শুধু দৃশ্য তুলে ধরেননি, তিনি ইতিহাসের প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। ২৩ মে ২০২৫ সালে সালগাদো পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। কিন্তু তিনি রেখে যান এমন এক ক্যামেরা-দর্শন, যা নিছক প্রযুক্তি নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কৃতি। তাঁর প্রতিটি ছবি এক একটি প্রশ্ন: “এই মানুষটা যাকে আমরা দেখছি, তার জন্য আমাদের দায় কোথায়?”

যুক্তরাষ্ট্র-চীন টানাপোড়েন , আধিপত্যবাদী লড়াইয়ের শিকার ‘হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়’

বিশ্বের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বছরের পর বছর নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়ন করে বিশ্বব্যাপী মেধাবীরা কর্মক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ২৭.৩% শিক্ষার্থীই বিদেশি, যাদের বড় অংশ চীনের। এই অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন বাতিল করেছে।

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন আধিপত্যের লড়াই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে।

এ ছাড়া হার্ভার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দও বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ভর্তি, কর্মকর্তা ও কর্মী নিয়োগে নজরদারি করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এ দাবি মানতে নারাজ হার্ভার্ড। ইতোমধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে বাধা দেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হার্ভার্ডের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬ হাজার ৭০৩ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হন, যাদের মধ্যে চীনের শিক্ষার্থী ১ হাজার ২০৩ জন। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার সক্ষমতা হারিয়ে বড় আকারে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় হার্ভার্ড। প্রতিবছর টিউশন বাবদ লাখ লাখ ডলার উপার্জন করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে চীনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি। ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে চীন সংবেদনশীল তথ্য ও সামরিক প্রযুক্তি হাতিয়ে নেওয়ার কাজে লিপ্ত। বিশেষ করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদিবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে; এমনকি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের পক্ষ নিয়েছে।

গত মাসে হোয়াইট হাউস সরকারি তহবিলের ওপর ২.২ বিলিয়ন ডলারের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে হার্ভার্ড প্রথমবারের মতো কঠোর পদক্ষেপের শিকার হয়। ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষের কাছে গত পাঁচ বছরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কার্যকলাপের রেকর্ডও জানতে চায়।

প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) ক্ষেত্রে চীনের শিক্ষার্থীদের মার্কিন ভিসায় নিষেধাজ্ঞা দেন। চীনা গোয়েন্দা কার্যক্রমের ব্যাপারে সতর্কতাও জারি করা হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্পের পদক্ষেপে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়, আইন সংস্থা, সংবাদমাধ্যম, আদালত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে মেলাতে চাইছে। রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে বামপন্থী পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুধু হার্ভার্ড নয়, অন্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও নিশানায় রেখেছে। তারা দাবি করেছে, এসব প্রতিষ্ঠানকে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের দমন ও রক্ষণশীল মতামতের প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে।

সিন্ধুসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি পাবে না পাকিস্তান : মোদি

ভারতের অধিকারভুক্ত নদীগুলোর পানি পাকিস্তান আর পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কাশ্মিরে প্রাণঘাতী হামলার পর প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ভারত গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু নদ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করার এক মাস পর বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাজস্থানের এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তর-পশ্চিমের রাজ্য রাজস্থানের একটি জনসভায় মোদি বলেন, ‘প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে চড়া মূল্য দিতে হবে…পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকেও মূল্য দিতে হবে, পাকিস্তানের অর্থনীতিকেও মূল্য দিতে হবে।’

সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আসা তিনটি নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানের কৃষি ক্ষেত্রের ৮০ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হয়। যদিও পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, চুক্তি স্থগিত হলেও তাৎক্ষণিক এর কোনও প্রভাব পড়বে না।

যুদ্ধবিরতির পর থেকে বর্তমানে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে শান্তি বিরাজ করছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘‘বর্তমানে সীমান্তে গোলাগুলি হচ্ছে না এবং চুক্তি অনুযায়ী সৈন্যদের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।’’

ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেছেন, সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কারণ এই অভিযান চালু রাখার বার্তা স্পষ্ট…যদি ২২ এপ্রিলের মতো কোনও হামলা আবার ঘটে, তাহলে তার জবাব দেওয়া হবে। আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হামলা চালাবো।

তিনি বলেন — সন্ত্রাসীরা যদি পাকিস্তানে থাকে, তাহলে আমরা সেখানেই তাদের ওপর হামলা করবো। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের এমন মন্তব্যের বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের প্রধান আইন কর্মকর্তা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইসলামাবাদ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। তবে ভারতকে অবশ্যই কয়েক দশকের পুরোনো পানিবণ্টন চুক্তি মেনে চলতে হবে।

চাঁদাবাজি এবং অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশে ব্যবসায়িক নেতারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঢাকায় এক আলোচনায় তারা বলেন, চাঁদাবাজি এখন এমন এক মাত্রায় পৌঁছেছে যা ব্যবসার পক্ষে সহ্য করা যাচ্ছে না।

২১ মে রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ(ডিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতারা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলার উন্নতির আশা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, মালামাল ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব তাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ব্যবসার পরিবেশ এখন অনিরাপদ। প্রতারণা, সাইবার হুমকি ও চাঁদাবাজি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গার্মেন্টস খাতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু ছোট-মাঝারি ব্যবসার পাশে তেমন দাঁড়ায় না।

সরকাররে উদ্দেশে তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘আপনারা একদিকে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার কথা বলছেন; অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে পারছেন না। দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পারছেন না। সুদহার বাড়িয়ে বসে আছেন। এ কারণে অনেক ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়গুলোর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটাই দাবি, নির্বিঘ্ন ও নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার নিশ্চয়তা।’

মসলা, তেল, চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসায়ীরা জানান — সড়কে চাঁদাবাজি, দালালদের দৌরাত্ম্য ও ডাকাতির কারণে পণ্য পরিবহনও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা আংশিক উন্নতির কথা বললেও স্বীকার করেন, ব্যবসার জন্য নিরাপদ পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার সচেষ্ট, হটলাইন ও বিশেষ টিম গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীও সহায়তায় মাঠে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ জানান।

Sleeping Kings Hypothesis – ইতিহাসের ঘুমন্ত রাজারা

মানব ইতিহাস যতটা বিজ্ঞান, যুক্তি ও নথিভিত্তিক, ততটাই গল্প, কিংবদন্তি ও রহস্যময় বিশ্বাসে আবৃত। ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু ধারণা পাওয়া যায় যেগুলো যুক্তিবাদী মনেও কৌতূহল জাগায়। তেমনই এক রহস্যময় ধারণা হলো “Sleeping Kings Hypothesis”. এক বিশ্বাস অনুযায়ী, কিছু মহান রাজা, নেতানেত্রী বা আধ্যাত্মিক চরিত্র মৃত্যুবরণ করেননি, বরং তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন, কোনো গুহায়, সমাধিস্থলে বা অন্য কোনো অদৃশ্য জগতে।

ধারণাটি শুধুই ধর্মীয় নয়, এটি একাধারে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক। এই ঘুমন্ত রাজারা ভবিষ্যতের সংকটে ফিরে আসবেন, এই আশ্বাসে মানবজাতির কিছু অংশ নিজেই নিজের ভবিষ্যৎকে “স্থগিত” করে রাখে। প্রশ্ন জাগে, এটি কি নিছক কল্পনা, নাকি পূর্বযুগের টাইম-ক্যাপসুল প্রকল্পের প্রতিফলন?

ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি রাজা আর্থার সম্পর্কে বলা হয়, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, Avalon নামক এক গুহা-দুনিয়ায় ঘুমিয়ে আছেন। ইংরেজ জাতি যখন চরম বিপদের সম্মুখীন হবে, তখন তিনি জেগে উঠবেন এবং এক্সক্যালিবার হাতে তুলে নেবেন। তাঁর এই ঘুম শুধুই শারীরিক নয়, এটি একটি টাইম-লক। ইতিহাসকে এইভাবে দেখার অর্থ দাঁড়ায়, সময়ের গভীরে এক প্রতিশ্রুতি লুকিয়ে রাখা, যা ভবিষ্যতের ঘড়ি বাজলেই সক্রিয় হবে।

শিয়া ইসলাম মতে, দ্বাদশ ইমাম মাহদী আজও জীবিত, কিন্তু তিনি ‘গায়েব’-এ আছেন। অদৃশ্য, কিন্তু সংরক্ষিত। এই ধারণা শুধু ধর্মীয় নয়, এটি এক ধরনের থিওরেটিকাল “ক্রায়োনিক সাসপেনশন” — সময়ের বাইরে থাকা এক নেতৃত্ব, যার আবির্ভাব হবে চূড়ান্ত অরাজকতার মুহূর্তে। সুন্নি মতানুসারেও মাহদীর আগমন ভবিষ্যৎ সংকটকালীন নির্ভরযোগ্যতা ও পুনর্জাগরণের প্রতীক। তাঁর ফিরে আসার বিশ্বাস মানেই এক ধরনের টাইম-ডিলেইড নেতৃত্ব কাঠামো।

সম্রাট অশোক নাকি তৈরি করেছিলেন ‘Nine Unknown Men’ নামে এক গোপন সংঘ, যাঁরা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জ্ঞান রক্ষা করেন। বিশ্বাস অনুসারে, এই গোষ্ঠী টাইম ট্রাভেল, প্রাণঘাতী অস্ত্র, মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগের অলৌকিক পদ্ধতি জানে। তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকার হয় এক বিশেষ বুদ্ধিমান নেতৃত্ব, কেউ কেউ বলেন, এই নেতা ঘুমিয়ে থাকেন সময়ের বাইরে, প্রয়োজন হলে জেগে ওঠেন। এখানেও আমরা দেখি সময়সংরক্ষণের এক প্রতীকী ভাবনা।

বৌদ্ধ ধর্মে বুদ্ধের উত্তরসূরি হিসেবে ভবিষ্যৎ বুদ্ধ, ‘মৈত্রেয়’ — এখনো জন্মগ্রহণ করেননি। তিনি এখন তোষিতা স্বর্গে বাস করছেন এবং উপযুক্ত কালে মানবজাতির মুক্তির জন্য পৃথিবীতে আবির্ভূত হবেন। তাঁর এই “অপেক্ষাকালীন ঘুম” আধ্যাত্মিক টাইম-সাসপেনশন, যা ঐতিহাসিকভাবে একধরনের মহাপুরুষ সংরক্ষণ প্রকল্প হিসেবেই দেখা যায়।

ক্রায়োনিক্স, অর্থাৎ দেহকে হিমায়িত করে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করার বিজ্ঞান — এই ধারনাকে বাস্তবতায় রূপ দিতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া বা চীনে ইতিমধ্যে শতাধিক মানুষ তাঁদের দেহ হিমায়িত করেছেন, বিশ্বাস করে যে ভবিষ্যতের চিকিৎসা তাঁদের ফিরিয়ে আনতে পারবে।
তবে এটি নিছক বিলাসিতা নয়, এটি সেই পুরনো ‘ঘুমন্ত রাজা’ কল্পনার আধুনিক প্রতিফলন। আগে যেটা ছিল পুরাণ, এখন তা বিজ্ঞানচর্চার পরিসরে ঢুকেছে।

সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, এই বিশ্বাস টিকে আছে কারণ এটি আশার প্রতীক। যখন সমাজ বিপন্ন হয়, তখন আমরা ভাবি কেউ একজন ফিরে আসবেন, যিনি “সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন”। আর এই অপেক্ষা মানেই নেতৃত্বের ভবিষ্যতমুখী স্থগিত রূপ। বিশ্বাস-আশঙ্কা-আকাঙ্ক্ষার এই সংমিশ্রণই ঘুমন্ত রাজা ধারণাকে প্রতিটি যুগে পুনরুজ্জীবিত করে।

‘Captain America’ চরিত্রটি যিনি বরফে হিমায়িত অবস্থায় ৭০ বছর ঘুমিয়ে ছিলেন, কিংবা ‘Matrix’-এর নিও যিনি সময়ের বাইরে থেকে উঠে এসে নেতৃত্ব দেন, সবই মূলত ঘুমন্ত রাজা হাইপোথেসিসের পুনর্নির্মাণ। এমনকি ভিডিও গেম, এনিমে, ফ্যান্টাসি সাহিত্যেও এই ‘হিরো ইন সাসপেনশন’ ধারাটি বারবার ফিরে আসে।

‘Sleeping Kings Hypothesis’ কোনো একক ধর্ম, জাতি বা সভ্যতার সম্পত্তি নয়। এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে চিরস্থায়ী ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্বাস, “আশা এখন ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু একদিন জাগবে।” সেই ঘুমিয়ে থাকা মানুষটি যতটা ঐতিহাসিক চরিত্র, তার চেয়েও বেশি, তিনি সময়ের প্রতীক, তিনি ভেতরে নিস্তারের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

‘জিরো সুইসাইড মডেল’ – বাস্তবায়নে কমেছে আত্মহত্যা

সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রমাণ করেছে স্বাস্থ্যসেবার উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব। এই গবেষণায় ‘জিরো সুইসাইড মডেল’ বা শূন্য আত্মহত্যা মডেল প্রয়োগের মাধ্যমে আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যার চেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই মডেলটি প্রথম ২০০১ সালে ডেট্রয়েটভিত্তিক হেনরি ফোর্ড হেলথ সংস্থায় চালু হয় এবং ২০০৯ সালে সেখানে এক বছরে কোনো রোগীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি, যা মডেলের সফলতার প্রমাণ।

জিরো সুইসাইড মডেল মূলত মানসিক সংকটের মধ্যে থাকা রোগীদের আগ্নেয়াস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসা ও মনোসংযোগমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেয়। এই মডেলটি রোগীদের পরীক্ষার পর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমায়।

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কাইজার পার্মানেন্টে নামে আরেকটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এই মডেল চারটি ভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োগ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, তিনটি অঞ্চলে আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যার চেষ্টার হার কমেছে এবং চতুর্থ অঞ্চলে ইতিমধ্যে কম ছিল, তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। এই গবেষণার প্রধান লেখক ব্রায়ান আহমেদানি জানান, মডেলটি চালু করার ফলে বছরে প্রায় ১৬৫ থেকে ১৭০টি আত্মহত্যার চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ক্যায়েস বলেন, আত্মহত্যা করার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় সবাই আগের বছর চিকিৎসকের কাছে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা যদি আত্মহত্যার চিন্তা সম্পর্কে প্রশ্ন না করেন, তাহলে অনেক সময় বিষয়টি অজানা থাকে। তাই এখন অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের চেকআপের সময় আত্মহত্যার চিন্তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হচ্ছে, যা আগের সময়ে ছিল না।

অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, তাদের একাকীত্ব দূর করা এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করার পরামর্শ দেন। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় জরুরি যোগাযোগ নম্বর, মানসিক চাপ মোকাবিলার কৌশল এবং সহায়তা নেওয়ার সময় নির্ধারণ থাকে। এছাড়া আত্মহত্যার সরঞ্জাম হাতের কাছে সহজলভ্য না রাখা এবং সামাজিক ও পারিবারিক সমর্থন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের মানসিক স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান মাইক হোগান বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার আওতায় থাকা মানুষের আত্মহত্যা কমানো সম্ভব এবং এটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে।

সার্বিকভাবে, ‘জিরো সুইসাইড মডেল’ প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, যা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবার মাধ্যমে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই মডেল বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এক বছরে শীর্ষ ১০ মার্কিন ধনীর , সম্পদ বেড়েছে ৩৬৫ বিলিয়ন ডলার

সিএনএন জানিয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সম্পদ বেড়েছে ৩৬৫ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। অক্সফামের নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এর মধ্যে শুধু ইলন মাস্কের একার সম্পদই বেড়েছে ১৮৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি—যা পুরো প্রবৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি। এর আগে এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইলন মাস্ক হতে পারেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার।

এছাড়া মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং ওয়ালমার্ট উত্তরাধিকারী রব ওয়ালটনের সম্পদ বেড়েছে ৩৮.৭ বিলিয়ন ডলার করে। ওয়ারেন বাফেটের সম্পদ বেড়েছে ৩৪.৮ বিলিয়ন ডলার এবং জিম ওয়ালটনের ৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার। তবে গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনসহ কয়েকজন ধনকুবেরের সম্পদ কমেছে।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে একজন গড় মার্কিন কর্মীর বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৫০ হাজার ডলারের কিছু বেশি। অক্সফামের হিসাব অনুযায়ী, এমন ১০ জন কর্মীর ওই পরিমাণ আয় করতে সময় লাগবে প্রায় ৭ লাখ ২৬ হাজার বছর।

পরিসংখ্যানটি যুক্তরাষ্ট্রে ধনসম্পদের অসম বণ্টনকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এমন এক সময় পরিসংখ্যানটি প্রকাশিত হলো, যখন রিপাবলিকান পার্টি একটি বিল পাশের উদ্যোগ নিচ্ছে—যা বিশেষজ্ঞদের মতে ধনীদের আরও ধনী করবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার কাটছাঁট করবে।

আসন্ন বিলের বিরোধিতায় প্রগতিশীলরা ধনকুবেরদের সম্পদের ওপর কর আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। অক্সফাম জানায়, ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের ওপর মাত্র ৩ শতাংশ কর বসালেই শুধু এই শীর্ষ ১০ জন ধনীর কাছ থেকেই আদায় করা যাবে ৫০ বিলিয়ন ডলার—যা এক বছরে ২ কোটি ২৫ লাখ মার্কিনীকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

পেন ওয়ার্টন বাজেট মডেলের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আইনটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জিডিপি আগামী ১০ বছরে ০.৫ শতাংশ এবং ৩০ বছরে ১.৭ শতাংশ বাড়বে।

তবে এই আইন অনুযায়ী যে অর্থনৈতিক সুবিধা আসবে, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৫ শতাংশ) পাবে সমাজের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনী। অপরদিকে, সমাজের নিচের ২০ শতাংশ পরিবার ২০২৬ সালে মাথাপিছু প্রায় ১ হাজার ৩৫ ডলার হারাবে—মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেটে কাটছাঁট করার কারণে।

ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, “রিপাবলিকানদের বিল ধনীদের জন্য একটি ‘উপহার’। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা ধনকুবেরদের জন্য বিশাল করছাড় বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যেখানে এই ধনকুবেররা প্রতিদিনই ধনী হচ্ছেন। অথচ করছাড়ের প্রয়োজন ছিল সাধারণ মানুষের।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা – কয়েক সপ্তাহের মধ্যে , সিরিয়ায় আরেকটি গৃহযুদ্ধ হতে পারে

সিরিয়ায় আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও সম্ভাব্য ভাঙনের মুখোমুখি হতে পারে।’

রুবিও জানান, সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেক সদস্যই এফবিআই-এর নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হননি। তারপরও আসাদ বিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। রুবিও বলেন, ‘আমরা যদি যোগাযোগ না রাখতাম, তাহলে ব্যর্থতা নিশ্চিত ছিল।’ উল্লেখ্য, সিরিয়ার কার্যত প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একসময় আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন—সিরিয়ার বর্তমান সরকার ভেঙে পড়লে দেশটি পুরোপুরি বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং এমন এক পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হবে যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

বিবিসি জানিয়েছে, শুনানিতে রুবিও সিরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

গত ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে আসাদপন্থী বাহিনীর নানা সহিংসতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। গৃহযুদ্ধে ইতিমধ্যেই দেশটির ৬ লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। শারা এই নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

গত কয়েক মাসে সিরিয়ায় দুটি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটে গেছে। গত মার্চে আসাদের আলাওয়াইত সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০০ জনকে হত্যা করেছে সরকারি বাহিনী। এ সময় ১৭০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও নিহত হয়েছে।

অপরদিকে মে মাসের শুরুতে রাজধানী দামেস্কের দুটি উপশহর ও দক্ষিণের সুয়েইদা প্রদেশে সংখ্যালঘু দ্রুজ, সুন্নি ইসলামি গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।

মানুষ কেন একমাত্র প্রাণী , যারা ঝাল মরিচ খেতে উপভোগ করে ?

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় তিন মিলিয়ন টন মরিচ উৎপাদিত হয়, যার বাজার মূল্য চার বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। গরম মরিচ বা চিলির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এবং এটি অনেক সংস্কৃতির খাদ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন শুধু মানুষই মরিচ খেতে পছন্দ করে? অন্য কোনো প্রাণী কেন এই তীব্রতা উপভোগ করে না? এই প্রশ্নের পেছনে রয়েছে জটিল জৈবিক, শারীরবৃত্তীয় ও সাংস্কৃতিক কারণ।

মরিচের তীব্রতা মূলত ক্যাপসাইসিন নামক রাসায়নিক যৌগের কারণে। ক্যাপসাইসিন আমাদের মুখের তাপমাত্রা সংবেদী রিসেপ্টর (TRPV1) কে উত্তেজিত করে। এই রিসেপ্টরগুলো সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা বা আগুনের সংস্পর্শে সক্রিয় হয়। ক্যাপসাইসিন এই রিসেপ্টরকে প্রতারণা করে, যার ফলে আমাদের মস্তিষ্ক মনে করে আমরা পুড়ে যাচ্ছি, যদিও আসলে তেমন কিছু ঘটে না। এই তীব্রতা অনেক প্রাণীর জন্য অস্বস্তিকর এবং ক্ষতিকর, তাই তারা ক্যাপসাইসিনযুক্ত খাবার এড়ায়। কিন্তু মানুষ কেন এই জ্বালাদায়ক অনুভূতিকে উপভোগ করে?

ঝাল মরিচ খাওয়ার সময় আমাদের শরীর একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া দেখায়। ক্যাপসাইসিনের কারণে মুখে ব্যথা ও জ্বালা অনুভূত হয়, যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে সংকেত পাঠায়। এই সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছালে, মস্তিষ্ক ব্যথা কমাতে এবং শরীরকে শান্ত করতে এন্ডোরফিন নামক প্রাকৃতিক ব্যথানাশক মুক্তি দেয়। এন্ডোরফিনের মুক্তি আমাদের আনন্দের অনুভূতি দেয়, যা অনেক সময় ‘রানার্স হাই’ বা মাদকাসক্তির মতো অনুভূতি সৃষ্টি করে।

এছাড়া গরম মরিচ খাওয়ার ফলে ডোপামিন নামক রাসায়নিকও মুক্তি পায়, যা মস্তিষ্কের সুখ এবং পুরস্কারের কেন্দ্রকে উদ্দীপিত করে। এই যৌগগুলি মানুষের মধ্যে গরম মরিচ খাওয়ার প্রতি আসক্তি এবং আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।

সব মানুষের ক্যাপসাইসিন সহ্য করার ক্ষমতা সমান নয়। কিছু মানুষের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা গরম মরিচের তীব্রতা বেশি সহ্য করতে পারে, আবার কেউ কেউ তীব্র মরিচ খেতে পারেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, TRPV1 রিসেপ্টরের ভিন্নতা মানুষের মধ্যে ক্যাপসাইসিন সহনশীলতায় পার্থক্য সৃষ্টি করে।

সাধারণত শিশুরা গরম মরিচ পছন্দ করে না, কারণ তাদের TRPV1 রিসেপ্টর বেশি সংবেদনশীল। কিন্তু অভ্যাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তারা মরিচের তীব্রতা সহ্য করতে শেখে। এটি একটি শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন, যা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত।

গরম মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন পাখিদের তেমন প্রভাব ফেলে না, কারণ তাদের TRPV1 রিসেপ্টর ক্যাপসাইসিনের প্রতি সংবেদনশীল নয়। তাই পাখিরা মরিচ খেতে পারে এবং এর বীজ ছড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ক্যাপসাইসিনের তীব্রতা অনুভব করে এবং সাধারণত মরিচ এড়ায়।

এশিয়ার কিছু প্রাণী যেমন ট্রি শ্রু (tree shrew) গরম মরিচ খেতে পারে, কিন্তু এটি খুবই বিরল এবং মানুষের মতো উপভোগ করে না। তাই বলা যায়, মানুষের মধ্যে ঝাল মরিচ খাওয়ার প্রবণতা একেবারেই অনন্য।

ঝাল মরিচ খাওয়ার পেছনে শুধু আনন্দই নয়, স্বাস্থ্যগত অনেক উপকারিতাও রয়েছে। ক্যাপসাইসিনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য খাদ্যকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে গরম অঞ্চলে যেখানে খাদ্য দ্রুত নষ্ট হয়, সেখানে মরিচ খাদ্য সংরক্ষণে সাহায্য করে।

এছাড়া ক্যাপসাইসিন শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, প্রদাহ কমায় এবং সাইনাস খোলার জন্য কার্যকর। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে ক্যাপসাইসিন ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।

মরিচ খাওয়ার প্রতি মানুষের আকর্ষণ শুধুমাত্র শারীরবৃত্তীয় নয়, এটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দিক থেকেও গভীর। বিভিন্ন দেশের খাবারে মরিচের ব্যবহার ঐতিহ্যের অংশ। যেমন ভারত, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড, কোরিয়া এবং চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয়। গরম মরিচ খাওয়া অনেক সময় সাহসিকতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিভিন্ন দেশে মরিচ খাওয়ার প্রতিযোগিতা হয়, যেখানে মানুষ তাদের সহনশীলতা পরীক্ষা করে।

মানুষের মস্তিষ্ক অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি জটিল এবং আবেগপ্রবণ। আমরা শুধু স্বাদ গ্রহণ করি না, বরং খাবারের সঙ্গে আবেগ, স্মৃতি এবং সামাজিকতা জড়িত। গরম মরিচ খাওয়া আমাদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা এবং আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে সক্রিয় করে। এই জটিল মস্তিষ্কের কারণে মানুষ ব্যথাকে আনন্দে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়, যা অন্য প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায় না।

মানুষ একমাত্র প্রাণী যারা গরম মরিচ খেতে উপভোগ করে কারণ আমরা ক্যাপসাইসিনের তীব্রতা থেকে আসা ব্যথাকে আনন্দে রূপান্তর করতে পারি।আমাদের মস্তিষ্ক এন্ডোরফিন ও ডোপামিন মুক্তির মাধ্যমে এই ব্যথাকে সুখকর অনুভূতিতে পরিণত করে। জেনেটিক বৈশিষ্ট্য, অভ্যাস, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব এই পছন্দকে আরও দৃঢ় করে। অন্য প্রাণীরা ক্যাপসাইসিনের তীব্রতা থেকে বিরত থাকলেও, মানুষ এই তীব্রতাকে উপভোগ করে এবং মরিচকে বিশ্বজুড়ে একটি জনপ্রিয় মসলা হিসেবে পরিণত করেছে।