অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছে। মূলত এসব কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বাড়ানো হবে, তবে বিদ্যমান প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মসূচি বাতিল হতে পারে।
বর্তমানে যেখানে ১৪০টি কর্মসূচি আছে, সেখানে নতুন ব্যবস্থায় ১০০টির নিচে নামিয়ে আনা হবে। এর মধ্যে ৩৮টি কর্মসূচিকে ‘দরিদ্রবান্ধব’ হিসেবে ধরা হবে, এগুলোর সহায়তা মূলত অতি দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ আসলে যতটা মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। কারণ এতে উন্নয়ন বাজেটের বিভিন্ন কর্মসূচিও যুক্ত থাকে। এবার সরকার এই ধরনের কর্মসূচি বাদ দিয়ে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ নিচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকার প্রায় ৯৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে, যা মোট বাজেটের ১২.১৮%। চলতি অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৯০ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেটের ১১.৩৫%। মূল নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর অধীনে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে মাসিক ভাতা মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের রাজস্ব আয় এখনও কম। অন্যদিকে সুদ, ভর্তুকি, এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।চরম দরিদ্রদের জন্য ৩৮টি প্রকল্পে সরকার আগামী বাজেটে প্রায় ৫২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে।
এই কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ভাতার দিক থেকে সবচেয়ে বড় পরিসর ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে চালু হওয়া বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় আগামী অর্থবছরে মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হবে। পরবর্তী বাজেটে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে নতুন করে ১ লাখ উপকারভোগী যুক্ত করা হবে।বর্তমানে এ কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৬০ লাখ ১ হাজার। চলতি বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।
সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হলো ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ নারী ভাতা। আগামী বাজেট থেকে এই কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হবে এবং নতুন ১ লাখ ২৫ হাজার নারী এতে যুক্ত হবেন। বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৭ লাখ ৭৫ হাজার। চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা।
শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ভাতা কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হবে। এ ছাড়া ২ লাখ নতুন উপকারভোগী যুক্ত হবেন, বর্তমানে এই সংখ্যা ৩২ লাখ ৩৪ হাজার। চলতি বাজেটে এই কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হবে। এই কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ১৭ লাখ ৭১ হাজারে উন্নীত হতে পারে।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আগামী অর্থবছরে সরকার ৫৫ লাখ পরিবারকে স্বল্প মূল্যে চাল দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যেখানে ১০ লাখ টন চাল বিতরণ করা হতে পারে। পরিকল্পনা অনুসারে আগামী বছর পরিবারগুলো ৫ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস ধরে ৩০ কেজি চাল স্বল্পমূল্যে কিনতে পারবে।


