Home Blog Page 197

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বের হয়ে নতুন সংগঠনের ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে আসছে নতুন ছাত্রসংগঠন। এ উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত সংবাদসম্মেলনে বলা হয়-বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাইরে এসে নিজস্ব কর্মসূচি অনুযায়ী নতুন এই ছাত্রসংগঠন পরিচালনা করা হবে। সংগঠনের নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে, কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করবে না। আদর্শিক বাইনারির সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বের বাইরে গিয়ে মধ্যমপন্থী ছাত্ররাজনীতিকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বলা হয়, উগ্র ডানপন্থী এবং উগ্র বামপন্থী মতাদর্শের মধ্যে যে সাংস্কৃতিক দূরত্ব, সেই দূরত্বের মাঝখানে দখল বসায় ফ্যাসিবাদ। পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে তৈরি করা সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় ইস্যু, রাজনৈতিক ইস্যু, মানবাধিকারের ইস্যু, নাগরিক ইস্যু থেকে শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে মধ্যমপন্থী ছাত্ররাজনীতিতে একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহনশীলতা প্রদর্শনের চর্চা হয়, যাবতীয় সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে জাতীয় ঐক্য এবং সংহতির ভিত্তি রচিত হয়। নতুন ছাত্রসংগঠনের মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তিমূলক ছাত্ররাজনীতি তৈরি করতে চান বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নতুন এই রাজনীতিতে পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হবে না। বিভাজনের রাজনীতিতে অপর পক্ষকে শত্রু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যে জুজুর ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা হয়, সেই রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান হবে এই সংগঠনের। অপরায়ণের রাজনীতি অপরাজনীতিকে শক্তিশালী করে। ফলে সবার অংশগ্রহণে গঠিত হতে যাওয়া নতুন রাজনীতিই ভবিষ্যত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে।

মূলধারার রাজনৈতিক পরিসরে নারীদের যে অনুপস্থিতি, সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে নারীর রাজনৈতিক মানস বিনির্মাণ করা, রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব করে তোলার মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির কথাও বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বাংলাদেশের সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে স্বীকার করে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ -সব গণআন্দোলন ও ছাত্র-জনতার সংগ্রামী চেতনাকে ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতে ছাত্ররাজনীতি সক্রিয় থাকবে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তবে নতুন ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে কারা আসবে এবং কবে নাগাদ সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করবে তা জানানো হয়নি।


রব জানফের আপেল

রব জানফ, Apple লোগোর সৃষ্টিকারী, গ্রাফিক ডিজাইনের দুনিয়ায় নতুন মোড় দিয়েছেন। তার Minimalist দর্শন ও সরল ডিজাইন পদ্ধতি আধুনিক ডিজাইন শিল্পে এক নতুন আদর্শ তৈরি করেছে। ডিজাইন শিক্ষায় ও কনসালটিংয়ে তিনি এখন প্রজন্মের ডিজাইনারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন।

রব জানফের নাম সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করে দিয়েছে তাঁর ডিজাইন করা Apple লোগোটি। যেটি প্রথম ১৯৭৭ সালে স্টিভ জবসের জন্য তৈরি হয়েছিল। অঢ়ঢ়ষব এর “কামড় দেওয়া আপেল” লোগোটি তার সরলতা ও স্মরণযোগ্যতার কারণে আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে জানফের জন্য এটা শুধু একটি লোগো ডিজাইন ছিলো না, ছিল একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। জানফের মতে, “একটি লোগো এমনভাবে ডিজাইন করা উচিত, যাতে এটি সহজে মনে রাখা যায় এবং দ্রুত চিনতে পারা যায়”। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তী প্রজন্মের ডিজাইনারদের জন্য একটি আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানফের ডিজাইন দর্শনের অন্যতম প্রধান দিক হল Minimalism। যেখানে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা পরিহার করে একদম মৌলিক ও সহজবোধ্য ডিজাইন তৈরি করা হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, ডিজাইনের মূল উদ্দেশ্য হল সাদামাটা অথচ শক্তিশালী এক বার্তা দেয়া যা দ্রুত মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। Apple লোগো ছাড়াও জানফের হাতে তৈরি আরো কিছু প্রখ্যাত লোগো যেমন NeXT, Intuit, American Media Ges Burbank International Airport এর ডিজাইনগুলোও একই ধরনের সরল এবং স্মরণযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরিচিত। তাঁর কাজের মধ্যে ভিজ্যুয়াল সিম্বোলিজম এবং স্টালাইজড সিম্পলিটি সর্বদাই স্পষ্ট দেখা যায়। রব জানফের ডিজাইন কাজের প্রভাব শুধু কোম্পানির লোগো বা ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ডিজাইন কনসেপ্টের মাপকাঠি পরিবর্তন এবং ব্র্যান্ডের প্রতি একটি দৃঢ় দর্শন প্রতিষ্ঠা তাঁর অন্যতম প্রধান কৃতিত্ব।

রব জানফের কাজ শুধুমাত্র ডিজাইনের মানদণ্ড নয়, গ্রাফিক ডিজাইন এবং ব্র্যান্ডিং শিল্পের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি। তাঁর Apple লোগো থেকে শুরু করে অন্য সব কনসেপ্ট, স্টাইল এবং ডিজাইন পদ্ধতির মধ্যে প্রযুক্তির শৈল্পিক গভীরতা এবং আধুনিকতা প্রতিফলিত হয়।

তিস্তা ইস্যুতে মাঠে বিএনপি , নেপথ্যে রাজনীতি – কুটনীতি কি ?

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ওই অঞ্চলের পাঁচ জেলা জুড়ে তিস্তা পাড়ের ১১টি পয়েন্টে দুদিনের অবস্থান কর্মসূচি করছে বিএনপি। কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির নেতারা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তিস্তা নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগ অবসানে প্রতিবেশী ভারতের ওপর যেন চাপ তৈরি হয় সেটিই তাদের লক্ষ্য। কেউ কেউ মনে করছেন – শুধু ভারতই নয়, বরং ডিসেম্বরের সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে জনপ্রিয় ইস্যুগুলোর মাধ্যমে জনগণের আরও কাছে যাওয়া এবং এর মাধ্যমে মাঠের নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করাই দলটির মূল উদ্দেশ্য। তাদের মতে, আন্দোলনকারী ছাত্ররাসহ এখন সক্রিয় প্রায় সব দলই ভারত বিরোধী হিসেবে পরিচিত। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তার নেতৃত্বটি বিএনপি নিতে চাইছে যাতে অন্য কেউ এটা নিয়ে সুবিধা করতে না পারে।

পাশাপাশি, নির্বাচনের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জনপ্রিয় ইস্যুগুলোকে এখন কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন–“আওয়ামী লীগের বিদায়ের পর বিএনপির যে সিকিউরড অবস্থান ছিল সেটি কিছুটা কমেছে। তাই তারা দলের অবস্থান ও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে এবং এর অংশই হলো উত্তরাঞ্চলের এ কর্মসূচি। তারা দেখাতে চাইছে যে তারা সব ভোটের জন্যই করছে না এবং সরকারকে দেখানো যে তারা কতটা শক্তিশালী। এটা সরকারকে পরোক্ষ চাপ দেয়াও যাতে ডিসেম্বরে নির্বাচনের অবস্থান থেকে সরকার অন্য কোনো পক্ষের চাপে সরে না যায় “

তিস্তা চুক্তির পরিবর্তে এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রকল্প ঘিরে। উত্তরাঞ্চলে এটি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। তিস্তায় এ প্রকল্প যাচাই করতে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার চায়না যৌথভাবে প্রায় তিন বছর সমীক্ষা করে। সমীক্ষা শেষে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনার একটি প্রস্তাব তৈরি করে। ওই প্রকল্পের আওতায় তিস্তায় নদী খনন, ভূমি উদ্ধার করে সেচ, নৌ চলাচল, পর্যটন, আবাসন ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ প্রকল্পে আর্থিক কারিগরি সহায়তা দিতে চীন যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তখন তিস্তা প্রকল্পে নতুন প্রস্তাব নিয়ে সামনে এসেছিলো ভারত। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের আপত্তির কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার চীনের বদলে ভারতের মাধ্যমে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। এখন বিএনপি চীনের সহায়তায় করা পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন চাইছে। এ প্রশ্নে চীন-ভারত দ্বন্দ্বে দলটি ভবিষ্যতে কি অবস্থান নেয়, তা দেখার বিষয়।


রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে বিদেশে অভিবাসন হ্রাস পেয়েছে

গত বছর বাংলাদেশে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এটি ঘটেছে মূলত রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে। ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছর মোট ১০০৯,১৪৬ জন শ্রমিক বিদেশে গেছেন।২০২৩ সালের ১৩৯০,৮১১ জনের তুলনায় এটি ২৭.৪% কম। এই হ্রাসের পেছনে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ছিল প্রধান কারণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে এটি কর্মীদের বিদেশে কাজের আগ্রহও কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া মহিলা শ্রমিকদের বিদেশে কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেড়েছে। এ দ্বারা বিদেশী শ্রম বাজারে নারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। তবে মোট শ্রমিক সংখ্যার হ্রাস সত্ত্বেও মহিলাদের বিএমইটি নিবন্ধন দ্বিগুণ হয়ে ৪.৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। যা বিদেশী চাকরির প্রতি নারীদের আগ্রহের বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

এদিকে এখনও বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে রয়ে গেছে সৌদি আরব। যেখানে ৬২.১৭শতাংশ শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। তবে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। দেশটির বিদেশী শ্রম নীতির পরিবর্তনের কারণে এমনটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশের শ্রম বাজারের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে এবং সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে বিদেশি শ্রম বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হতে পারে।


অস্থিত্বের সন্ধানে ও অর্থহীনতায় অর্থের সন্ধানে

অস্তিত্ববাদ শুধু দর্শনের একটি শাখা নয়। এটি ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংকট এবং অস্তিত্বের অর্থ খোঁজার এক অক্লান্ত প্রচেষ্টা। জাঁ-পল সার্ত, আলবেয়ার কামু ও ফ্রিডরিখ নীরে মতো দার্শনিকরা অস্তিত্ববাদকে চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছেন। তাদের মতে, মানুষ জন্মগতভাবে কোনো নির্ধারিত উদ্দেশ্য নিয়ে আসে না বরং তার জীবনকে অর্থবহ করে তোলার দায়িত্ব তার নিজের। অস্তিত্ববাদী দর্শনের মূল মন্ত্র স্বাধীনতা ও দায়িত্ব। সাত্রের মতে মানুষ পুরোপুরি স্বাধীন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার ভারও তাকে বহন করতে হয়।সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ দায়ভার ব্যক্তির নিজের ওপরেই বর্তায়। জীবন অর্থহীন, কিন্তু অর্থকে সৃষ্টি করতে হয়!

নিঃসঙ্গতা ও আত্ম-অনুসন্ধান নিয়ে নী েবলেছিলেন, ‘ঈশ্বর মৃত’, অর্থাৎ ধর্ম বা প্রচলিত মূল্যবোধ মানুষকে আর পথ দেখাতে পারবে না। প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার নিজ নিজ অস্তিত্বের অর্থ খুঁজে বের করতে হবে। জাঁ-পল সার্ভে অস্তিত্ববাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিকদের একজন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Being and Nothingness” (১৯৪৩) এ তিনি ব্যাখ্যা করেন, মানুষ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার অস্তিত্বের জন্য নিজেই দায়ী। তাঁর নাটক “No Exit” এর বিখ্যাত উক্তি “Hell is other people” এটি অস্তিত্ববাদী নিঃসঙ্গতার ধারণার অন্যতম চিত্র! সাত্র বলেন, “অস্তিত্ব সবার আগে, তারপর আসে সারবস্তু।” অর্থাৎ মানুষ জন্মগ্রহণ করার পর তার জীবনযাত্রা এবং সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে তার সত্তাকে সংজ্ঞায়িত করতে হয়।

তাঁর আরেকটি বিখ্যাত রচনা “Nausea” (১৯৩৮)-এ অস্তিত্ববাদী অনুভূতির গভীরতা চিত্রিত হয়েছে। যেখানে প্রধান চরিত্র রোকোয়েন্টিন সবসময় তার আশেপাশের জগতের প্রতি এক ধরনের বিতৃষ্ণা ও শূন্যতা অনুভব করে। কামু নিজেকে ‘অ্যাবসার্ডবাদী’ বলে দাবী করতেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা “The Myth of Sisyphus” (১৯৪২)-এ তিনি ব্যাখ্যা করেন, জীবন অর্থহীন হলেও মানুষকে তা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। তিনি মনে করেন, মানুষকে “অ্যাবসার্ড নায়ক” হতে হবে। যে জীবনের অর্থহীনতাকে জেনেও বিদ্রোহ করবে!
তাঁর উপন্যাস “The Stranger” (১৯৪২)-এ মঁসিয়ে মের্সো নামের চরিত্রটি অস্তিত্ববাদী সংকটের প্রতিচিত্র। সে সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধকে অস্বীকার করে এবং নিজের নিয়তির প্রতি উদাসীন থাকে।

কামুর “The Plague” (১৯৪৭) উপন্যাসে একদল মানুষের গল্প তুলে ধরা হয়, যারা মহামারির সময়ে জীবনের অর্থ খুঁজতে চায়। এটিও অস্তিত্ববাদী এবং অ্যাবসার্ডবাদী চিন্তার মিশ্রণ। নীল্সে অস্তিত্ববাদের অন্যতম পূর্বসূরী। বিখ্যাত গ্রন্থ “Thus Spoke Zarathustra” (১৮৮৩-১৮৯১)-তে তিনি “Übermensch” বা “অধিমানব”-এর ধারণা দেন, যেখানে তিনি বলেন যে মানুষকে প্রচলিত নৈতিকতা ও ধর্মের বাইরে গিয়েই নিজের শক্তি ও মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে। তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো “God is dead” (ঈশ্বর মৃত), যা “The Gay Science” (১৮৮২)-এ পাওয়া যায়। এর সার অর্থ আধুনিক সমাজে ধর্মের প্রভাব কমছে এবং মানুষকে নিজের জীবনদর্শন গড়ে তুলতে হবে।

নীতুসের “Beyond Good and Evil” (১৮৮৬) গ্রন্থে প্রচলিত নৈতিকতার সমালোচনা করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, সমাজ আমাদের উপরে যে নৈতিকতার চাপ সৃষ্টি করে তা আসলে আমাদের স্বাধীনতা সীমিত করে। অস্তিত্ববাদের কেন্দ্রীয় ধারণাগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বলে, প্রতিটি মানুষ অনন্য এবং তার জীবনযাত্রা তার নিজের হাতে। অস্তিত্ববাদীরা মনে করেন, বিশ্বে কোনো অন্তর্নিহিত অর্থ নেই। মানুষকে নিজস্ব অর্থ তৈরি করতে হয়। ব্যক্তি স্বাধীন হলেও তার সিদ্ধান্তের দায়ও তাকেই নিতে হয়। অনেক অস্তিত্ববাদী দার্শনিক মনে করেন, জীবনের অর্থহীনতা শুরুতে হতাশাজনক মনে হলেও এটি অনেক সময় মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দেয়।

কামুর মতে, মানুষ যখন জীবনের অর্থহীনতাকে মেনে নিতে পারে, তখন সে তার জীবনকে নিজের মতো করে ভিন্ন এক ধাঁচে গড়ে তুলতেও পারে। বাস্তব জীবনে অস্তিত্ববাদের সাধারণ উদাহরণ দিতে গেলে কর্মজীবনে আমরা কেন একটি নির্দিষ্ট পেশা বেছে নিই? এটি কি সমাজ নির্ধারিত নাকি আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত? অস্তিত্ববাদ বলে, আমাদের ক্যারিয়ারের অর্থ ও দিকনির্দেশনা গুলো আমাদের নিজেদেরই নির্ধারণ করতে হবে। আমরা অনেক সময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সমূহ থেকে অর্থ খুঁজে ফিরি। এখানে কিন্তু অস্তিত্ববাদ বলে, সম্পর্ক আমাদের কোনো অস্তিত্বের সংজ্ঞা দিতে পারে না। আমাদের নিজেদের জীবন আমরা নিজেরাই গঠন করি।

অস্তিত্ববাদ আমাদের শেখায় সমাজের অবাঞ্ছিত চাপ উপেক্ষা করে নিজেরাই নিজেদের জীবনদর্শন গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলা সাহিত্যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “অরণ্যের দিনরাত্রি” ও সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রগুলোতে অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রকাশিত হয়েছে। অস্তিত্ববাদ শুধু একটি দার্শনিক মতবাদ নয়, আমাদের বাস্তব জীবনবোধ। এটি মানুষকে স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি করায়, জীবনকে নিজস্বভাবে গড়ে তোলার পথ দেখায়। সাত্র, কামু ও নীরে মতো দার্শনিকরা দেখিয়েছেন, জীবন নিজে থেকে কোনো অর্থ বহন করে না। মানুষকেই তার জীবনের মানে নির্ধারণ করতে হয়। জীবন কি অর্থহীন, নাকি আমাদের তৈরি অর্থেপূর্ণ? উত্তর খুঁজতে হবে আমাদেরই।


প্রযুক্তি , খনিজ ও মানবসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করছে চীন

চীনের বাণিজ্য উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীন প্রযুক্তি এবং খনিজ প্রক্রিয়াকরণ খাতে প্রকৌশলীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক পদক্ষেপের পর চীন বর্তমানে প্রযুক্তিগত জ্ঞান সীমানার ভেতর রাখতে চাচ্ছে। এফটির প্রতিবেদন অনুসারে, চীনা কর্তৃপক্ষ কিছু ক্ষেত্রে প্রকৌশলী এবং সরঞ্জাম দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করে তুলেছে। নতুন রফতানি নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রস্তাব করে, বিশেষত ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীন।

এটি এমন এক সময় ঘটছে যখন চীন উন্নত প্রযুক্তিতে সুরক্ষাবাদী অবস্থান নিয়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া এবং ইউরোপে বিদ্যুচালিত গাড়ি সম্পর্কিত বাণিজ্য বিরোধের কারণে। এমন পদক্ষেপের ফলে আরও অনেক স্থানীয় ও বিদেশী প্রতিষ্ঠান চীন থেকে তাদের উৎপাদন স্থানান্তর করতে পারে। ফক্সকন, অ্যাপলের প্রধান উৎপাদন অংশীদার, ভারতের দিকে তাদের সাপ্লাই চেইন সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। তাইওয়ানি মালিকানাধীন ফক্সকন সম্প্রতি জানিয়েছে যে, চীনা কর্তৃপক্ষ ভারতে সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর করা কঠিন করে তুলেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (যেমন ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া) চালান স্বাভাবিকভাবে চলছে।

এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনের শুল্ক বিভাগের বিলম্বের কারণে দক্ষিণমুখী যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে ভারতীয় উৎপাদন কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিং এখন পশ্চিমা প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো কৌশল গ্রহণ করছে। যদিও আগে চীন এসব বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছিল, বর্তমানে বিশেষভাবে ভারতসহ চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এসব নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ হচ্ছে। কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রকল্পগুলোতে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই।

বেইজিং আগে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করছিল, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তৃত রফতানি নিষেধাজ্ঞা চালু করছে। এ এবার থেকে নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে। এক বিনিয়োগকারী জানিয়েছেন, চীনের শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন এবং দক্ষ কর্মশক্তি তাদের জন্য একমাত্র সুবিধা, যা তারা অন্য দেশে হারাতে চাইবে না। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত মাসে লিথিয়াম উত্তোলন এবং উন্নত ব্যাটারি উপকরণ তৈরির প্রযুক্তির ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। জার্মানির মার্সেটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের বিশ্লেষক আন্তোনিয়া হামিডি বলেছেন, চীন একটি বৃহৎ রফতানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করছে, যার লক্ষ্য বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের কেন্দ্র হিসেবে চীনের অবস্থানকে শক্তিশালী করা।

চীনের এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিশেষত ব্যাটারি সরবরাহ চেইন সম্পর্কিত পদক্ষেপ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। নতুন বিধিনিষেধের ফলে তারা উচ্চমানের চীনা প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। এছাড়া, লিথিয়াম উত্তোলন প্রযুক্তি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দক্ষিণ আমেরিকার প্রকল্পগুলির জন্যও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন বলিভিয়ার লিথিয়াম উত্তোলন প্রকল্পে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার।


বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্কের টানাপোড়েন

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের মধ্যের টানাপোড়েন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সন্দেহ-অবিশ্বাস থেকে শুরু হওয়া দূরত্ব এখন প্রকাশ্য বিবাদে রূপ নিয়েছে।শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসে। কিন্তু সেই পরিবর্তন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তির সূচনা করে। সংস্কার আগে নাকি নির্বাচন আগে, এই প্রশ্নে দুই দলের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হয়ে ওঠে। বিএনপি মনে করে জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার। যেখানে জামায়াত চায় দ্রুত নির্বাচন ও স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা।

জামায়াত ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর করেছে। এতে করে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক কৌশলগত মতানৈক্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দুই দলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে। বিএনপি জাতীয় নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না। অন্যদিকে জামায়াত আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায়। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে দল দুটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এই টানাপোড়েন দ্রুত মেটার লক্ষণ নেই। বরং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে দুই দলের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে ভবিষ্যতে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক পথচলা একসাথে থাকবে নাকি তারা আলাদা পথ বেছে নেবে?


অবৈধভাবে ইউরোপ যেতে নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঝুঁকি , তবু কেন বেপরোয়া বাংলাদেশি অভিবাসীরা

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অবৈধ পথে ইতালি গেছেন। আর নৌকাডুবিসহ নানাভাবে মারা গেছেন ৭০০-এর বেশি মানুষ। আর ২০২৩ সালে সমুদ্রপথে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের চেষ্টার সময় নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ হাজার ৭৬০ জন অভিবাসী। এর মধ্যে কয়েক শ বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হয়। বৈধ পথে যেসব অভিবাসনপ্রত্যাশী কাজের সন্ধানে ইতালি যেতে পারেন না তাঁদের একমাত্র ভরসা আন্তর্জাতিক আদম পাচারকারী ও তাদের সহযোগী দালাল। এসব পাচারকারীর সহায়তায় বিরাট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে (১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ পর্যন্ত) বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে বিদেশগামীদের নেওয়া হয় দুবাই। দুবাই থেকে তাঁদের পাঠানো হয় তুরস্ক কিংবা মিসর। দালালেরা সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয় লিবিয়ায়, পরে লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে যায় ইতালি।

লিবিয়ায় যাওয়ার পর দালালদের মাধ্যমে তাঁদের একটি দলে ঢোকানো হয়। পরে তাঁদের সাগরে কম্পাস (দিক নির্ণয়ের যন্ত্র) ধরে পথ চেনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরুর পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাই নৌকা চালাতে শুরু করেন। দালালেরা তখন সঙ্গে থাকেন না। ভূমধ্যসাগরে নৌকা ছাড়ার পর ভাগ্যাহত এসব অভিবাসীর দায়িত্বও কেউ নেয় না। লিবিয়া থেকে ইতালির দূরত্ব ১ হাজার ৭৭৮ কিলোমিটার। এই দূরত্বে যেতে পাচারকারী ও তাদের দালালেরা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ছোট নৌকায় গাদাগাদি করে নেয়। অনেক সময় বাতাস দিয়ে ফোলানো নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সলিলসমাধি হয় তাঁদের।

অভিবাসীদের সমুদ্রপথে গন্তব্য ইতালির সিসিলি দ্বীপ। কিন্তু কয়েক দিনের প্রশিক্ষণে ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশিতে কম্পাস দিয়ে দিক নির্ণয় করতে না পারায় অনেকে ভাসতে ভাসতে হারিয়ে যান বা সলিলসমাধি হয়। অনেক সময় এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংশ্লিষ্ট কোস্টগার্ড সদস্যরা লিবিয়া কিংবা তিউনিসিয়া বন্দরে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে ঠিকানা হয় অন্ধকার কারাগার। সিসিলি পৌঁছাতে পৌঁছাতে পারলে ইতালীয় নৌবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে গিয়ে ‘পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম’ বা রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া হয়। সেটি অনুমোদন হলে অবৈধ অভিবাসীরা ইতালিতে থাকতে শুরু করেন। আর অনুমোদন না হলে তাঁদের ইতালি ছেড়ে বাংলাদেশে ফেরত যেতে সপ্তাহখানেকের মতো সময় দেয় ইতালির পুলিশ।

বাংলাদেশিরা ইতালিতে গণহারে বেশ কয়েক বছর ধরে বেশি যাচ্ছেন। ইতালির শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ কাগজপত্রসহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জন বাংলাদেশি সেখানে থাকছেন, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ইতালিতে অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। ইতালিতে আয়রোজগার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ সহজ। এ ছাড়া অনেকেই ইতালি যাওয়ার পর সুযোগ বুঝে গ্রিস, স্পেন কিংবা ফ্রান্সে যান। বর্তমানে বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ আছে। দেশটি চাইছে, ইতালিতে অবৈধভাবে থাকা ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত নতুন করে দেশটিতে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ থাকবে। তারপরও মানব পাচারকারী ও দালালেরা থেমে নেই।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশ থেকে দালালদের মাধ্যমে যাঁরা ইউরোপে যান, তাঁদের বড় একটা অংশ দেশে কোনো কাজ করেন না। তাঁদের আরেকটি অংশ যান গ্রাম থেকে, যাঁরা পারিবারিকভাবে কৃষিকাজে জড়িত। নির্মাণ খাত বিশেষ করে প্লাম্বার ও ইলেকট্রিশিয়ানরাও বিদেশে যান। আরেকটি অংশ যান যাঁরা দেশের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মুদিদোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন।মূলত উন্নত জীবনের আশায় এসব মানুষ ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হন। দেশের মধ্যে পর‍্যাপ্ত আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথটাই অনেকে বেছে নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালিসহ ইউরোপের অনেক দেশে বৈধভাবে শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকে ঝুঁকি নিয়ে দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে যাচ্ছেন। তাই ওই সব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বৈধভাবে শ্রমিক নেওয়ার সংখ্যা বাড়াতে সরকারকে জরুরিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। সচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।



যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে ইসরায়েল

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে ইসরায়েল। আল জাজিরার ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা সানাদ পরিচালিত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই তথ্য। সানাদ প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্র অনুসারে, ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে তোলা ছবিগুলোতে দেখা গেছে, রাফাহ সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বালির দুর্গ নির্মাণ করেছে। সেই সঙ্গে ১.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণ করেছে যা ওই বালির দুর্গের সমান্তরালে বিস্তৃত। এছাড়াও সংস্থাটি জানায়, সীমান্তের উত্তরে নতুন একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী হাজার হাজার রাফাহবাসীকে তাদের ঘরে ফিরতে বাধা দিচ্ছে। যারা নিজেদের ঘরে ফেরার চেষ্টা করছিল, তাদেরকে গুলি করে আহত ও হত্যা করেছে সেনারা।

যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল এই এলাকায় তাদের সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনতে এবং চুক্তির ৫০তম দিনে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছিল। রাফাহর মিসর-গাজা সীমান্ত, যা বহু দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের মে মাসে সেটি ইসরায়েল বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ইসরায়েল ফিলাদেলফি করিডোরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। মিসর ও গাজার মধ্যকার ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা ফিলাদেলফি করিডোর নামে পরিচিত ।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলা, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বা আগের আঘাতের কারণে ১১৮ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাশাপাশি, ইসরায়েল পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা যেমন: খাদ্য, জ্বালানি, তাঁবু এবং জরুরি আশ্রয়সামগ্রী প্রবেশ করতেও বাধা দিচ্ছে।


নিজেকে জানা আত্ম উন্নয়নের পথে এক জরুরি যাত্রা

Self-help এমন একটি ধারণা যা ব্যক্তির নিজস্ব উন্নতি এবং মানসিক শান্তি অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করে। এই ধারণাটি শুধুমাত্র বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভর করে না, বরং আত্মবিশ্বাস, আত্মবিশ্লেষণ এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করে। দার্শনিকদের তত্ত্ব অনুযায়ী, আত্ম-উন্নতির মূল ভিত্তি হলো “নিজেকে জানো” (Know yourself)। এটি এমন সেন্ট্রাল থিম যা অনেক প্রাচীন দার্শনিক যেমন সক্রেটিস এবং প্লেটোও অনুসরণ করেছেন। সক্রেটিসের মতে, আত্ম-উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন কোনো ব্যক্তি নিজেকে বুঝতে সক্ষম হয়। তিনি বলেছিলেন, “যদি নিজেকে জানো, তবে তোমার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং জীবনধারার সঠিক পথ খুঁজে পাবে।” আত্ম-উন্নতির প্রক্রিয়া শুধু বাহ্যিক অর্জন নয়, বরং অভ্যন্তরীণ উপলব্ধি এবং মনের শান্তির সাথে সম্পর্কিত।

বাস্তব জীবনের উদাহরণ হিসেবে স্টিভ জবসকে দেখা যেতে পারে। তিনি যখন অ্যাপল কোম্পানি থেকে বরখাস্ত হন, তখন নিজের আত্মবিশ্বাস এবং সৃজনশীলতার ওপর ভরসা রেখে তিনি নেক্সট (NeXT) এবং পিক্সার (Pixar) প্রতিষ্ঠা করেন। এই অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং সংকল্প তাকে শেষ পর‍্যন্ত পৃথিবীর অন্যতম সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। Self-help অনুসরণের মাধ্যমে, আমরা কেবল ব্যক্তিগত উন্নতি লাভ করি না, বরং সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারি। নিজেদের মাঝে আত্মবিশ্বাস এবং শুদ্ধ মনোভাব সৃষ্টি করা জীবনের যেকোনো সংকটকে সহজ করে তোলে।