Home Blog Page 196

দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৮.৭% মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ৭ থেকে ১৭বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১২.৬% মানসিক সমস্যার শিকার। নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যার হার ১৯%, যা প্রতি পাঁচজনে একজন।কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ‘সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ (এসএইচআরএম) গত বছর একটি গবেষণা চালায়।

গবেষকরা ১ হাজার ৪০৫ জন মার্কিন কর্মীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখাতে পান ৪৪% কর্মক্ষেত্রে অস্বস্তি বোধ করছেন। ৪৫% তাদের কাজ থেকে আবেগগত নিঃস্ব বোধ এবং ৫১% কর্মদিবস শেষে শোষিত হয়েছে মনে করেন। আমাদের দেশের পরিপেক্ষিতেও কিন্তু এ চিত্র ভিন্ন কিছু নয়।দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণা থেকে জানা যায়, মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৯৪% কোনো ধরনের চিকিৎসা পান না। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সংখ্যা মাত্র ৩০০ জনের মতো। যেটি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যাধিক অত্যন্ত কম।বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হয়ে মানসিক রোগ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং লজ্জার কারণে অনেকে চিকিৎসা নিতে চান না।অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এবং সরকারি সহায়তার অভাব অনেক রোগীকে চিকিৎসার বাইরে রাখছে।মানসিক রোগ বা মনের সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে অনেকে সমস্যার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেন না। নীরবে নানা সমস্যার মধ্যে মানিয়ে বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যান।দেশে জনগণের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য যে পদক্ষেপ গুলো নেওয়া যেতে পারে সেগুলো হলো, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। তাছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমিয়ে সকল সাধারণ মানুষের জন্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে।

কেনেডির বানানো ইউএসএইড এর উপর খেপেছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই দেশটির আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএইডের প্রতি রুষ্ট। প্রথম মেয়াদেও তিনি সংস্থাটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন প্রশাসনের চাপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ‘ডিপ স্টেটকে’ ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শুরুতেই কঠোর হয়েছেন ইউএসএইডের ওপর। তিনি সংস্থাটিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী এই সংস্থার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিফলন ঘটাতে চাইছে। ইউএসএইড সংক্রান্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ট্রাম্প দিয়েছেন বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ককে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ছোট করার উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউএসএইড চালায় ‘চরমপন্থী উন্মাদরা’, তাই তাদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। ইলন মাস্ক সংস্থাটিকে ‘অপরাধী সংগঠন’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও এমন দাবির পক্ষে তিনি কোনও তথ্য প্রমাণ দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডোমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির উদ্যোগে ১৯৬১ সালে ইউএসএইড প্রতিষ্ঠিত হয়। স্নায়ু যুদ্ধের সময় বিদেশি সহায়তা সমন্বয়ের জন্য এটি গঠিত হয়েছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত প্রভাব মোকাবেলা করা।ইউএসএইড যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০% বিদেশি সহায়তা পরিচালনা করে। ২০২৩ এ সংস্থাটি ৪৩.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছে।ইউএসএইড কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা করে দারিদ্র্য, রোগ ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেয়। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিশ্ব বাণিজ্যে অংশগ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করে।

২০২৩ সালে সংস্থাটির প্রধান সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল ইউক্রেন, ইথিওপিয়া, জর্ডান, কঙ্গো, সোমালিয়া, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে অধিকাংশ বিদেশি সহায়তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেন। সেসময় তিনি বলেন, “বিদেশি সহায়তা শিল্প ও প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা আমেরিকার মূল্যবোধের বিপরীত। এগুলো বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।” এক মেমোতে ওয়াশিংটন ডিসি প্রশাসন ইউএসএইড কর্মীদের ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সহায়তা বরাদ্দের পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

এসব পদক্ষেপের কারণে থাইল্যান্ডের শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে ইউক্রেনের যুদ্ধপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক সংগঠন এবং জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, তারা খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হতে পারে। ইউএসএইড সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটিকে পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে একীভূত করা একটি বড় পরিবর্তন হবে। অতীতে ইউএসএইড এমন দেশগুলোতে মানবিক সহায়তা দিয়েছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যেমন ইরান ও উত্তর কোরিয়া। সূত্রটি জানিয়েছে, এই মানবিক সহায়তার কারণে কখনও কখনও সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। তবে কার্যক্রম শুধু রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত হলে এই সহায়তা থেকে সুবিধা নাও মিলতে পারে।



টাকাই টেক্কা

যখন আমার টাকা ছিল , তখন সবাই আমাকে ভাই ডাকত : পোলিশ প্রবাদ

সময়ই টাকা।
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
ধনী সময়ে বিনিয়োগ করে, গরীব টাকায় বিনিয়োগ করে।
ওয়ারেন বাফেট
বেতন আপনাকে ধনী করে না, আপনার ব্যয়ের অভ্যাস আপনাকে ধনী করে।
চার্লস এ. জ্যাফে

জীবিকা অর্জনের জন্য আপনার জীবন তৈরি হতে দেবেন না।
জন উডেন
অর্থ ভয়ঙ্কর মালিক, কিন্তু চমৎকার সেবক।
পি.টি. বার্নাম
ধনী হওয়ার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে, কিন্তু ধনী থাকার জন্য সঞ্চয় করতে হবে।
রিচার্ড টেম্পলার

জ্ঞানই সবচেয়ে ভালো সুদ পাওয়ার বিনিয়োগ।
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
অর্থই শক্তি, কিন্তু হতে পারে আপনার পরাজয়ের কারণ যদি এর উপর আধিপত্য না করেন।
-অ্যাননিমাস
অর্থের অভাবই সমস্ত অপকর্মের উৎস।
-মার্ক টোয়েন


স্বপ্নের খসড়া ইতিহাস ও বিজ্ঞান

প্রাচীনকাল থেকেই স্বপ্নের রহস্য মানুষের চিন্তা ও কৌতূহলের বিষয় হয়ে আসছে। বিভিন্ন সংস্কৃতিতেও স্বপ্নের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিছু মানুষ বিশ্বাস করে স্বপ্ন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মানসিক অবস্থা বা গোপন ইচ্ছার প্রতিফলন। আবার আবার কেউ কেউ মনে করে স্বপ্ন অতিপ্রাকৃত শক্তি বা আধ্যাত্মিক বার্তা। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বপ্ন দেখা মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক কার‍্যকলাপ হিসেবে মনে করা হয়। স্বপ্নের প্রক্রিয়া সিন্যাপটিক প্লাস্টিসিটি (synaptic plasticity) নামে পরিচিত। যেখানে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং স্মৃতি ও অভিজ্ঞতাকে গঠন করে। প্রশ্ন থেকেই যায়, এটি কি শুধু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কাঠখোট্টা মস্তিষ্কের আলাপ? নাকি স্বপ্ন কাউকে আকস্মিক ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেয়? বা এতে কি আসলেই কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তির বার্তা থাকে?

মধ্যযুগীয় ইউরোপে যাজকরা বা ধর্মীয় নেতারা বিশ্বাস করতেন স্বপ্নে দেখা যেকোনো মৃত আত্মা জীবিতদের কাছে ফিরে আসতে পারে এবং তারা জীবিতদের কোনো বার্তাও দিয়ে যেতে পারে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে মানুষ তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর পরও তাদের স্বপ্নে দেখা পেয়েছে এবং কখনো কখনো তারা ওই স্বপ্নের মাধ্যমে কোনো অমীমাংসিত বিষয় বা দুঃখভারী আবেগের সমাধান পেয়েছে।ইতিহাসে বেশ কিছু মধ্যযুগীয় এবং প্রাচীন গল্প পাওয়া যায় যেখানে স্বপ্নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এগুলো শুধু কল্পনা নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে সত্য ঘটনা বা ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার সাথেও যুক্ত।

রিচার্ড স্টিল্টসনের লেখা “Lincoln: A Life of Purpose and Power” যেখানে লিংকনের জীবন, মৃত্যু এবং স্বপ্ন সম্পর্ক আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে এক জায়গায় উল্লেখ ছিলো, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন তার মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে একটি ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বপ্নে তিনি হোয়াইট হাউজের ভেতরে হাঁটছিলেন এবং শুনতে পান কেউ কাঁদছে। তিনি যখন একটি ঘরের কাছে পৌঁছান দেখেন সেখানে একটি কফিন রাখা আছে এবং সেখানে পাহারারত একজন সৈনিক বলছেন, “রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হয়েছে।” এই স্বপ্নের কিছুদিন পরই, ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল জন উইল্কস বুথ তাকে হত্যা করে। বলা হয়ে থাকে লিংকন তার এই স্বপ্ন নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন এবং কাছের কয়েকজনকে এ স্বপ্নের কথা জানান। ঘটনাটি ঘটার পর এটি ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় স্বপ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়।

রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার হত্যা হওয়ার আগের রাতে তার স্ত্রী ক্যালপুর্নিয়াও এক ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বপ্নে তিনি দেখেন সিজার ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন এবং রোমের রাস্তাগুলোয় তার রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি স্বপ্নের কথা সিজারকে জানিয়ে সেদিন সিনেট সভায় না যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সিজার এটিকে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেন এবং সভায় যান। যেখানে ব্রুটাসসহ ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যা করে। স্বপ্ন অনেক সময় ভবিষ্যতের সংকেত দিতে পারে বা অন্তত আমাদের অবচেতন মন থেকে আসা পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশ্বজয়ের মহাপরিকল্পনার নায়ক আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট তার সামরিক অভিযানের সময় অনেকবার স্বপ্নের দ্বারা পরিচালিত হয়েছেন বলে জানা যায়।

সেনাদের মধ্যে গুজব ছিলো তিনি ফিনিশীয় শহর টাইরাস (Tyre) অবরোধ করার সময় এক রহস্যময় স্বপ্ন দেখেন। যেখানে তিনি দেখেন একজন দেবদূত তাকে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। স্বপ্নের পর তিনি নতুন উদ্যোমে যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং টাইরাস দখল করতে সক্ষম হন। ঐতিহাসিকরা বলেন স্বপ্নটি তাকে মানসিক শক্তি দিয়েছিল, যা তার জয়লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ধর্মীয় ঐতিহ্যে, বিশেষ করে ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মগ্রন্থেত নবী ইউসুফ (আ.) এর স্বপ্ন ব্যাখ্যার দক্ষতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখেছিলেন সূর্য, চন্দ্র এবং ১১টি তারা তাকে সিজদা করছে। পরবর্তীতে এটি সত্যি হয়। যখন তিনি মিশরের অর্থমন্ত্রী হন এবং তার সকল ভাইরা তার কাছে পূর্বের অপকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে আসে।

এছাড়াও মিশরের এক সম্রাট একবার স্বপ্নে সাতটি মোটা ও সাতটি পাতলা গরু দেখেন। ইউসুফ (আ.) সে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে বলেন দেশে আগামী সাত বছর খাদ্যসমৃদ্ধি হবে, তারপর সাত বছর দুর্ভিক্ষ আসবে। এই ব্যাখ্যার ফলে মিশর সে দুরে‍্যাগের আগাম প্রস্তুতি নিতে পারে। এটি ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বাণীমূলক স্বপ্নগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের দেখা একটি স্বপ্ন ছিল যে তিনি এক অন্ধকার নদী পার হচ্ছেন এবং তার সেনাবাহিনীর অনেকে পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এই স্বপ্নের পর তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যর্থ হন এবং বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হন। সমসাময়িকরা মনে করেছিলেন এটা ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা ছিলো যা নেপোলিয়ন বুঝতে পারেননি।

এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি প্রমাণ কর স্বপ্ন কেবল কল্পনার ফসল নয়। অনেক সময় হয়তো এটি ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও দিতে পারে। তবে এটি কিভাবে কাজ করে বা আদৌ কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভাব আছে কি না তা এখনো রহস্য। তাহলে বিজ্ঞান কি বলে? সাধারণত মনোবিজ্ঞানীরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন আমাদের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম হিসেবে। যেখানে এটি মূলত দৈনন্দিন জীবনের চিন্তা, অনুভূতি এবং দুশ্চিন্তাকে প্রতিফলিত করে। ড্রিম থিওরি-এর প্রবর্তক সিগমন্ড ফ্রয়েড “The Interpretation of Dreams” গ্রন্থে বলেন, স্বপ্ন মূলত আমাদের অবচেতন মন থেকে উদ্ভূত। যেখানে অবদমন করা চিন্তা বা ইচ্ছাগুলি পুনরায় দৃশ্যমান হয়। তিনি আরও বলেন, “পজেটিভ স্বপ্ন আবার একটি সুরক্ষা ব্যবস্থার মতোও! যা আমাদের মনের চাপকে অনেকটা সামাল দেয়।”

অতিপ্রাকৃত বা প্যারানরমাল দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এখনও বহু মানুষ বিশ্বাস করে স্বপ্নের মাধ্যমে অতিপ্রাকৃত শক্তি বা আত্মারা তাদের জীবনে প্রবাহিত হতে পারে। কয়েকটি ব্যতিক্রমী ঘটনা বা তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে কিছু স্বপ্ন সত্যিও হতে পারে। ১৯১২ সালের টাইটানিক দুর্ঘটনার পূর্বে বেশ কয়েকজন যাত্রী স্বপ্নে সেই বিপর্যয়ের দৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন এবং তাদের কয়েকজন ভ্রমণ ক্যান্সেল করেন। অধিকাংশ মনোবিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞানীরা এসব ঘটনাকে কাকতালীয় বা স্নায়ুবিক অবস্থার ফল বলে ব্যাখ্যা করেন।যেখানে মানুষের অবচেতন মন কিছু পূর্বে দেখা বা শোনা ঘটনাকে স্বপ্নের মধ্যে প্রক্ষেপণ করে। স্বপ্ন এবং প্যারানরমাল বিষয়গুলি একদিকে বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের জন্য একটি কঠিন প্রশ্ন। অন্যদিকে এটি আধ্যাত্মিক বা অতিপ্রাকৃত দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের বিশ্বাসের বিষয়।




জয়শঙ্করের সতর্কবার্তা : আগামী দু’বছর বিশ্বকে বদলে দেবে

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই ডনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে কট্টর অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।সেদিকে ইঙ্গিত করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারত মহাসাগর সম্মেলনের সংলাপ-পর্বে আমেরিকা তথা পশ্চিম বিশ্বকে নিয়ে বাকি দুনিয়াকে সতর্ক করেছেন। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে যে যে ঘটনা ঘটছে, তাতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ত্রাসের সঞ্চার হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে অগাধ ক্ষমতা এবং ‘বড় কিছু ঘটতে’ চলেছে। তিনি মনে করেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে এমন অনেক কিছু আসছে, যা বিশ্বকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এত বিপুল ক্ষমতা এবং আগামী দিনে তার প্রভাব এতটাই বাড়বে যে, হয়তো দু’বছরের আগেই আপনারা এমন সব নীতি দেখতে পাবেন, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে।

তার মতে, আবেগতাড়িত না হয়ে এবং পুরনো অভ্যাসকে আঁকড়ে না থেকে পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা চাই, বা না চাই পরিবর্তন যে আসছে এটা সকলকে বুঝতে হবে। এই বদলের কিছু অংশ নিশ্চয়ই আমাদের কাজে আসবে। তার থেকে সুযোগ খুঁজে নিতে হবে।পশ্চিমা দুনিয়ার একাধিপত্য নিয়েও সরব হয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি খানিকটা কড়া সুরে বলেছেন, আমাদের যে সমস্ত বিষয় নিয়ে বুঝতে হচ্ছে, তার অন্যতম হল পশ্চিমা বিশ্বের একাধিপত্য। কিন্তু সেই একাধিপত্য জারি করা হচ্ছে মানবাধিকার এবং মূল্যবোধের মোড়কে।আমাদের এখন বলার সময় এসেছে, তোমরা যে পথে চলেছ, তাতে তোমাদের সুবিধা হতে পারে। কিন্তু সবার জন্যই রাস্তা এক নয়।

এনজিও অর্থায়ন নতুন উৎস খুঁজতে হবে বাংলাদেশকে

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তাকারী এনজিওগুলোর কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে বিদেশি সহায়তার বাইরে বিকল্প তহবিলের উৎস খুঁজতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী বছরে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ, নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের ইউএসএআইডি কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত এবং ২০২৮ সালের পর বাংলাদেশে অর্থায়ন বন্ধে সুইজারল্যান্ডের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এ চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে, যেখানে প্রায় ১০০টি প্রকল্পের জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়া যেত। রাতারাতি হাজারো উন্নয়নকর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রয়োজনীয় পরিষেবার আওতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইসিডিডিআরবি তাদের এক হাজারের বেশি কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর জরুরি খাদ্য সহায়তা ছাড়া সব ধরনের সেবা স্থগিত করা হয়েছে।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, গত বছর বাংলাদেশের এনজিওগুলো ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তা পেয়েছে, যা তার আগের বছরের তুলনায় ১১.৬% শতাংশ কম। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৮টি, যার মধ্যে ২৪০টি বিদেশি এবং বাকি সব স্থানীয়। তবে অন্যান্য হিসাব মতে এখানে ২৭ হাজার এনজিও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্টরা ব্র্যাক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের উদাহরণ তুলে ধরে এনজিওগুলোর টিকে থাকার জন্য ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এনজিওগুলোর জন্য বিদেশি অর্থায়নের বিকল্প হতে পারে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) হিসেবে কর্পোরেটদের বরাদ্দকৃত তহবিল। সমালোচনা আছে যে – বিদেশি সহায়তার বড় একটি অংশ পরামর্শক এবং সংশ্লিষ্ট দাতা দেশের বিদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যবহৃত হয়। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোও বিদেশি তহবিল দিয়ে প্রকল্প পরিচালনা করার সময় তাদের ওভারহেড খরচ অনেক বেশি হয়। অনেক সময় বিদেশি সাহায্যভিত্তিক প্রকল্পগুলো অ্যাডহক ভিত্তিতে হয় এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হয় না।


মাস্কের হাতে এক্স – এ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এখন দেড়গুণ গবেষণা

‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে’-র এক গবেষণায় উঠে এসেছে- ইলন মাস্ক সিইও থাকাকালীন এক্স-এ বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সাপ্তাহিক হার ছিল তার প্লাটফর্মটি কেনার আগের বিভিন্ন মাসের চেয়ে প্রায় ৫০% বেশি। বট ও বট-এর মতো অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি মাস্ক দিলেও এসব অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এক্স-এ কমেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জনসাধারণের আলোচনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এসব প্ল্যাটফর্ম ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে, স্ক্যাম প্রচার করতে ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ঘটনাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ক্ষতিকর বিভিন্ন কনটেন্টের সংখ্যা বাড়াতে ও অনলাইন আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের সমস্যায় ভূমিকা রাখে বট ও নানা ভুয়া অ্যাকাউন্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, সমকামী, ট্রান্সফোবিক ও বর্ণবাদী গালি’সহ বিদ্বেষমূলক ভাষা পুরো সময় জুড়েই ছিল প্লাটফর্মটিতে। এ ধরনের ভাষার বিভিন্ন পোস্ট আগের চেয়ে প্রায় ৭০% বেশি ‘লাইক’ পেয়েছে। যার থেকে ইঙ্গিত মেলে, আরও বেশি ব্যবহারকারী বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং এগুলোর সংস্পর্শে আসছেন। তবে গবেষকরা বলেছেন, কোম্পানির ভেতরের ডেটায় প্রবেশ না করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বেড়ে যাওয়ার জন্য মাস্কের নেতৃত্বকে সরাসরি দায়ী করতে পারবেন না তারা। গবেষণায় এক্স-এর কনটেন্ট মডারেশন নীতিমালার কার‍্যকারিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

ভালো স্বাস্থের জন্য প্রধান ১০টি খাবার

পানি
প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ কাপ পানি পান করুন।
সবুজ শাকসবজি
প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বার সবুজ শাকসবজি খাঅয়ার অভ্যাস করুন। ভাল অপশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রকলি, মরিচ, বা পালংশাকের মতো পাতা শাকসবজি।
পূর্ণ শস্য
প্রতিদিন কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বার পূর্ণ শস্যযুক্ত খাবার খান। গমের ময়দা, রাই, ওটমিল, বার্লি, আমারান্থ, কুইনোয়া অথবা মাল্টিগ্রেন খুঁজুন। এক বাটি মাল্টিগ্রেনে ৫ গ্রাম বা তার বেশি ফাইবার থাকে।

শিম এবং মুসুরির ডাল
প্রতিসপ্তাহে কমপক্ষে দুবার শিম বা বিচি যুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। স্যুপ, স্টু, ক্যাসেরোল, স্যালাড এবং মুসুরির ডাল যোগ করুন অথবা একেবারে সাধারণভাবে খান।

মাছ
প্রতিসপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার পরিমাণ মতো মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিবারে ৩ থেকে ৪ আউন্স রান্না করা মাছ। অধিক ভাল অপশনগুলি স্যামন, ট্রাউট, হেরিং, সারডিন এবং টুনা।
ফল
প্রতিদিন আপনার ডায়েটে ২ থেকে ৪ টি বা পরিমাণ ফল অন্তর্ভুক্ত করুন। আপেল, কলা, রাস্পবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি এবং স্ট্রবেরি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
সয়া
কম চর্বিযুক্ত ডায়েটের অংশ হিসেবে কোলেস্টেরল কমাতে প্রতিদিন ২৫ গ্রাম সয়া প্রোটিন খেতে পারেন। টোফু, সয়া দুধ, এডামামে সয়া বিনস, টেম্পেহ এবং টেক্সচারাইজড ভেজিটেবল প্রোটিন চেষ্টা করুন।

ফ্ল্যাকসিড, বাদাম এবং বীজ
প্রতিদিন ১ থেকে ২ চামচ গুড়ো করা ফ্ল্যাকসিড বা অন্যান্য বীজ খাদ্যতে যোগ করুন অথবা প্রতিদিন কিছু পরিমাণ বাদাম (১/৪ কাপ) ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন।
অর্গানিক দই
১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষ এবং মহিলাদের দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন এবং ৫০ বছরের বেশি হলে ১২০০ মিলিগ্রাম। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন ননফ্যাট বা লো-ফ্যাট ডেইরি পণ্য প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বার খান। অর্গানিক পণ্যও অন্তর্ভুক্ত করুন।

গোপন জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক শক্তির রহস্যময় যাত্রা

অক্কাল্ট (Occult) শব্দটি যখনই মাথায় আসে, মনে এক ধরনের রহস্যময় এবং অতিপ্রাকৃত শক্তির ধারণা তৈরি হয়। শব্দটি মূলত ল্যাটিন ‘occultus’ থেকে এসেছে, যার অর্থ “গোপন” বা “অদৃশ্য”। ইতিহাসে অক্কাল্টের প্রতি আগ্রহ কখনও বেড়েছে, কখনও কমেছে, তবে এটি কখনোই হারিয়ে যায়নি। যদিও শব্দটি “গোপন” বা “অদৃশ্য” জ্ঞানের প্রতীক, তবে এর আসল জগত মোটেও এতটা একঘেয়ে নয়। অনেকের মতে, অক্কাল্ট আসলে শুধু যাদু তন্ত্রমন্ত্র বা অতিপ্রাকৃত শক্তির ব্যাপার নয়, এটি অনেক গভীর আধ্যাত্মিক এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেরও নাম। একে যদি আমরা মানব ইতিহাসের একটি বিচিত্র অধ্যায় হিসেবে দেখি, তবে নানা সময়ে এর ভূমিকা এবং প্রভাব একটু আলাদাভাবে ধরা পড়ে।

প্রাচীন মিশর, ব্যাবিলন, ভারত, এই সব সভ্যতার কথা যদি বলি, তাহলে অক্কাল্টের প্রোথিত শিকড় দেখতে পাওয়া যায় সেখানেই।মিশরের পিরামিড বা মমির ধরণী সৃষ্টির পেছনে যে গোপন আধ্যাত্মিক চর্চা ছিল তা অনেকটা অক্কাল্টের সঙ্গেই সম্পর্কিত। মিশরীয়রা বিশ্বাস করত মৃত্যুর পর আত্মা পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় এবং এক বিশাল আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে মিলিত হয়। তারা জ্যোতিষশাস্ত্র এবং হেলিওপলিসের গোপন জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়েছিল। যার বর্ণনা ছিল প্রায় অক্কাল্টের মতোই। ভারতেও এই ধরনের গোপন জ্ঞান চর্চা ছিল। তন্ত্র, মন্ত্র, যোগ, এসব শাস্ত্র এক ধরনের আধ্যাত্মিক গবেষণা। যেখানে নীরবতাতেও অনেক গোপন শক্তির সন্ধান ছিল। আর এই সমস্ত বিষয়বস্তুর মধ্যেই অক্কাল্টের আধুনিক ধারণাগুলোর মূল ভাবনা নিহিত। এভাবে প্রাচীন সভ্যতার অক্কাল্টের ভাবনা আমাদের কাছে আজও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক চর্চার মাধ্যমে ফিরে আসে।

গ্রীক দার্শনিকদের মধ্যে প্লেটো, সক্রেটিস, এরিস্টটলের মতো মানুষেরা আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতি বিশ্বাস অবলম্বন করতেন। যদিও তারা শাস্ত্রের বিজ্ঞানমূলক অধ্যায়েই আগ্রহী ছিলেন। তবে তাদের কিছু মতবাদ এবং প্রশ্ন এমন ছিল যা অক্কাল্টের ধারণাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। যেমন, কি ভাবে আত্মার সঙ্গতি পৃথিবী থেকে বাইরের শক্তির সঙ্গে তৈরি হতে পারে? রোমান যুগেও দেবতা এবং মহাশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ছিল। তবে তখন মূলত মিথ্রিয়াজম (Mithraism)-এর মতো ধর্মবিশ্বাসগুলো সারা রোমান সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সব বিশ্বাসে বিশেষ এক ধরনের আধ্যাত্মিক শক্তির সন্ধান ছিল। যা আজকের অক্কাল্টের ধারণাগুলোর মতোই দৈব প্রক্রিয়ার ছিল।

এখন যদি মধ্যযুগের দিকে তাকাই, তবে সেখানেও অক্কাল্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খ্রিস্টধর্মের অধীনে যাদুবিদ্যা, শয়তানী শক্তি এবং আধ্যাত্মিক তত্ত্ব নিয়ে চলছিল নানা বিতর্ক। একদিকে ক্যাথলিক চার্চ আরেকদিকে ফ্রিম্যাসন, এলকেমি এই সমস্ত বিষয় ছিল অদৃশ্য শক্তি নিয়ে কাজ করার পদ্ধতি। চার্চ যাদু চর্চা করতেন এমন মানুষদের হত্যা করতো। এর মধ্যে অন্যতম ছিল “ওরলিয়ারি” বা “ইনকুইজিশন ট্রায়াল,” যেখানে যাদু চর্চাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের শাস্তি দেওয়া হতো। এটি ছিল ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়। যেখানে গোপন জ্ঞান আর শক্তির প্রতি আগ্রহের ফলে বিশাল সংঘর্ষ হয়েছিল।

রেনেসাঁর সময়েও যখন শিল্প, বিজ্ঞান এবং দর্শন নতুনভাবে বিকশিত হয়েছিল তখন অক্কাল্ট আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান এবং ধর্মের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হলেও অক্কাল্টবাদীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান চলছিল। ফ্রিম্যাসন্স, থিওসোফিক্যাল সোসাইটি, এমন গোপন সংগঠনগুলোর মাধ্যমে অক্কাল্টবাদীরা পুরনো জ্ঞান এবং আধুনিক চর্চার মধ্যে সেতু তৈরি করতে চেয়েছিলেন।এ সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, সমাজের অনেক স্তরে আধ্যাত্মিক মুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছিল। যদি আমরা এর সাথে হেলেন পেটোভা-স্কোয়ারের মতো লোকদের কাজ যুক্ত করি, তখন বোঝা যায় যে অক্কাল্ট কেবলমাত্র যাদুবিদ্যা বা অতিপ্রাকৃত শক্তি নয়, এটি ছিল মানবতার আধ্যাত্মিক স্বাধীনতার প্রশ্নও।

২০শ শতক শেষ হওয়া এবং ২১শ শতকের প্রথম দিকের দিকে, অক্কাল্টের ধারণা পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে। নিউ এজ আন্দোলন, হিপি সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান এই সব কিছুই অক্কাল্টের বিভিন্ন শাখাকে নতুন আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠিত করে। ধারণা করা হয় সমাজের প্রতিযোগিতামূলক জীবনে যখন মানুষের আত্মপরিচয় সংকটে পড়ে, তখন তাদের আধ্যাত্মিকতা এবং গোপন শক্তির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। গুজব আছে ফ্রিম্যাসন এবং অন্যান্য গোপন সমাজের গুরুত্ব আজও কমেনি।

অক্কাল্টের ইতিহাসে অনেক গোপন দিক এখনো অজানা রয়ে গেছে। এটি শুধুমাত্র অতিপ্রাকৃত শক্তি বা আধ্যাত্মিকতার প্রথা নয়, বরং মানব সভ্যতার জ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাচীন সভ্যতার অন্ধকার গোপন রহস্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের নিউ এজ আন্দোলন পর্যন্ত অক্কাল্ট যেন এক নিরন্তর অনুসন্ধানের প্রতীক হয়ে আছে।



ইরানকে ঠেকাতে শেষ আঘাতের হুমকি : নেতানিয়াহুর

রোববার তেলআবিবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন- তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে ইরানের বিরুদ্ধে শেষ আঘাত হানতে প্রস্তুত। এই সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘গত ১৬ মাসে ইসরায়েল ইরানের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। আমি নিশ্চিত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শক্তিশালী নেতৃত্বে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করব।’ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, ‘ইরান কখনোই পরমাণু শক্তিধর দেশ হতে পারবে না। হামাস, হিজবুল্লাহ, পশ্চিম তীরের সহিংসতা, সিরিয়ায় অস্থিরতা কিংবা ইরাকি মিলিশিয়াদের পেছনে একটি সাধারণ শক্তি রয়েছে- আর সেটি ইরান। এই শক্তিকে অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে।’

সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনসহ মার্কিন নেতৃত্বকে সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল এ বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারে। তবে ট্রাম্প বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি করতে চান, যা ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ ছাড়া, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়বে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল এখনো ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। এই সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু জানান, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ও ট্রাম্প অভিন্ন কৌশল নিয়েছেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি সব বন্দীকে মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা “নরকের দ্বার” খুলে দেব।’

সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র পুনর্বাসন করে এই ভূখণ্ডের দখল নেওয়ার কথা বলেছেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ‘এটি হয়তো অনেকের জন্য বিস্ময়কর, কিন্তু আগের মতো একই সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেওয়া যায় না।’ নেতানিয়াহু রোববার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা ঘোষণা করার আগে এটি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।