প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তাকারী এনজিওগুলোর কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে বিদেশি সহায়তার বাইরে বিকল্প তহবিলের উৎস খুঁজতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী বছরে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ, নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের ইউএসএআইডি কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত এবং ২০২৮ সালের পর বাংলাদেশে অর্থায়ন বন্ধে সুইজারল্যান্ডের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এ চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে, যেখানে প্রায় ১০০টি প্রকল্পের জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়া যেত। রাতারাতি হাজারো উন্নয়নকর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রয়োজনীয় পরিষেবার আওতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইসিডিডিআরবি তাদের এক হাজারের বেশি কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর জরুরি খাদ্য সহায়তা ছাড়া সব ধরনের সেবা স্থগিত করা হয়েছে।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, গত বছর বাংলাদেশের এনজিওগুলো ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তা পেয়েছে, যা তার আগের বছরের তুলনায় ১১.৬% শতাংশ কম। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৮টি, যার মধ্যে ২৪০টি বিদেশি এবং বাকি সব স্থানীয়। তবে অন্যান্য হিসাব মতে এখানে ২৭ হাজার এনজিও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্টরা ব্র্যাক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের উদাহরণ তুলে ধরে এনজিওগুলোর টিকে থাকার জন্য ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এনজিওগুলোর জন্য বিদেশি অর্থায়নের বিকল্প হতে পারে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) হিসেবে কর্পোরেটদের বরাদ্দকৃত তহবিল। সমালোচনা আছে যে – বিদেশি সহায়তার বড় একটি অংশ পরামর্শক এবং সংশ্লিষ্ট দাতা দেশের বিদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যবহৃত হয়। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোও বিদেশি তহবিল দিয়ে প্রকল্প পরিচালনা করার সময় তাদের ওভারহেড খরচ অনেক বেশি হয়। অনেক সময় বিদেশি সাহায্যভিত্তিক প্রকল্পগুলো অ্যাডহক ভিত্তিতে হয় এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হয় না।


