Home Blog Page 195

আগে স্থানীয় নির্বাচন দিলে দেশে অরাজকতা তৈরি হবে

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) যশোরে জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেছেন ‘আপনারা স্থানীয় নির্বাচন আগে করলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গর্তের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে। তারা পাড়া মহল্লায় সন্ত্রাস করবে। দেশে অরাজকতা তৈরি হবে। তাই দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত দিবেন, দেশে তত দ্রুত শান্তি ফিরে আসবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে করার চেষ্টা করা হলে এদেশের জনগণ মেনে নিবে না।’ তিনি আরো বলেন ‘সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। কিন্তু সংস্কারের নামে অন্য গন্ধ পাচ্ছি। ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। এদেশে ওয়ান ইলিভেন সফল হয়নি।’

ছাত্রদের নতুন দল গঠন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘নতুন দল গঠন করছেন, এতে আমরা খুশি। কিন্তু ক্ষমতায় থেকে দল গঠন করবেন, এটা দেশের জনগণ মেনে নিবে না। ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দল গঠন করুন। নির্বাচন দিন। জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় বসেন। আমাদেরকে জনগণের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমাদের সঙ্গে জনগণ আছে। আপনারা সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন বিলম্বিত করবেন, জনগণ তা মানবে না।’

অংশগ্রহণ বাড়াবে দেশের সম্ভাবনা কিন্তু নারী আটকে আছে কোথায় !

বাংলাদেশে আরও বেশি সংখ্যক নারী কাজের সুযোগ পেলে পণ্য, সেবা এবং কৃষি খাতে উৎপাদন প্রায় ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা বিশ্বব্যাংকের। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া উন্নয়ন হালনাগাদ রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু উৎপাদন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে উৎপাদন ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবুও বৃহত্তর উৎপাদন খাতে নারীদের অংশগ্রহণের হার এখনো অনেক কম, এবং নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য রয়ে গেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৭ শতাংশেই স্থির রয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, নারীদের কর্মসংস্থানে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার জন্য কিছু বাধা অপসারণ করা প্রয়োজন। এসব বাধার মধ্যে রয়েছে-সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, নিয়ন্ত্রণমূলক আইন, এবং সামাজিক রীতিনীতির প্রভাব। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারীরা শক্তির মূল উৎস হলেও, নারীদের আরও বেশি কাজের সুযোগ প্রদান করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “নিয়োগকর্তারা প্রায়ই নারীদের কাজে নিতে দ্বিধায় থাকেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নেই।” তিনি আরও জানান, নারীর কাজের সুযোগ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যদি আরও বেশি নারী কৃষি খাতে যুক্ত হন তবে শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি কর্মস্থলে লিঙ্গ বৈষম্যও কমে যাবে। সেবাক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার ফলে ৮.১২ শতাংশ লাভের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হার কম থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে।উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে কম।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা ওনসোর্গ বলেন, “নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের, বেসরকারি খাতের, সমাজ এবং পরিবারের সকল পক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।” এছাড়াও দেশে ডে-কেয়ারের সুবিধা না থাকায় নারীদের সন্তানের দেখাশোনা করতে করতেই কেটে যায় অনেক লম্বা সময়। এজন্য অনেকে ইচ্ছে থাকলেও নিশ্চিন্তে ঘরের বাইরে গিয়ে কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন না।


ঘুরে দাঁড়ানো অর্থনীতি পিছিয়েও পড়তে পারে : শওকত হোসেন , প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন

“অর্থ মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি: সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।… অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এই রিপোর্ট গোপন করা হয়নি। এখানে অর্থনীতির ঝুঁকিগুলোর কথা ভালোভাবেই বলা হয়েছে। … সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের দৃষ্টিকোণ থেকে এ মুহূর্তে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংকটের নাম মূল্যস্ফীতি। এটাও ঠিক, উচ্চ মূল্যস্ফীতি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। … বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর অন্তত মৌলিক অর্থনীতির রীতিনীতি অনুসরণ করে নীতি সুদহার একটানা বাড়িয়ে গেছেন। যতক্ষণ মূল্যস্ফীতি মাথা না নোয়ায়, ততক্ষণ পর‍্যন্ত এ কাজ করে বিশ্বের অন্যান্য দেশ সফল হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রভাবটা এখনো তত জোরালো নয় কেন? একটা উত্তর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেই আছে। যেমন ‘মূলত সরবরাহ চেইনের দুর্বলতার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।’ এই সরবরাহব্যবস্থা ঠিক করতে কত দিন লাগবে, সেটাই এখন বড় বিষয়। … প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং শ্রমিক অসন্তোষ স্বল্প মেয়াদে অন্যতম ঝুঁকির উৎস। আর মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ঘনীভূত হওয়ার আগেই শ্রমিক অসন্তোষ প্রশমিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। … সুখবর আছে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে। এই দুইয়ের কল্যাণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনও ঠেকানো গেছে।

… এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কালোটাকা উপার্জনের পথ। বন্ধ করতে হবে কর ফাঁকি, ঘুষ, চোরাচালানি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার উৎস। এটা সম্ভব না হলে আবারও বেড়ে যাবে অর্থ পাচার, কমবে প্রবাসী আয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই কেবল তা সম্ভব। … অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কথাটির সরাসরি কোনো উল্লেখ নেই। আছে কেবল বিদেশি বিনিয়োগের কথা। আমরা সবাই জানি, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ না বাড়লে কখনোই বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে না। সংকট এখানেই। দেশীয় বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট প্রতিটি সূচকই নিম্নগামী। যেমন বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণ, মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্প উৎপাদন সূচক ইত্যাদি।

… ব্যাংকঋণের সুদহারও বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশে কখনোই সুদহারের ওপর বিনিয়োগ নির্ভরশীল ছিল না। … বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ কখনোই উন্নত ছিল না। বরং ক্রমে খারাপ হয়েছে। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উন্নতি হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রেই খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি। এর সুরাহা না হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে না, সমাজে অস্থিরতাও কমবে না। … সংস্কারের প্রতি সমর্থন পেতে অবশ্যই বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে।”




হারারির ‘নেক্সাস’ থেকে Al ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI আমাদের ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে চলেছে। ইতিহাসবিদ ইউভাল নোয়া হারারি তার সর্বশেষ গ্রন্থ ‘নেক্সাস’-এ তথ্য নেটওয়ার্কের বিবর্তন এবং Al-এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। হারারি ব্যাখ্যা করেছেন মানব সভ্যতা শুরু থেকেই বিভিন্ন তথ্য নেটওয়ার্কের উপর নির্ভরশীল। পাথরের ফলক থেকে শুরু করে প্যাপিরাসের পাণ্ডুলিপি, মুদ্রণযন্ত্র থেকে ইন্টারনেট, প্রতিটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বারবার আমাদের সমাজের কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করেছে। তথ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা গল্প, বিশ্বাস এবং জ্ঞান ভাগ করে নিয়েছি, যা আমাদের সহযোগিতা ও উন্নতির অন্যতম মূল ভিত্তি।

বর্তমানে AI এমণ একটি তথ্য নেটওয়ার্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যা নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে এবং নতুন ধারণা তৈরি করতে সক্ষম।হারারি এটিকে “এলিয়েন ইন্টেলিজেন্স” বা ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন এটি মানবিক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। Al-এর এই স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা আমাদের সমাজের বিভিন্ন স্তরে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে গণতন্ত্র, অর্থনীতি এবং সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

গণতন্ত্রের উপর প্রভাবের বর্ণনা দিতে গেলে Al-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে হ্রাস করতে পারে। যখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি মানুষের বোঝার বাইরে থাকা অ্যালগরিদম দ্বারা নেওয়া হয়, তখন নাগরিকদের পক্ষে সেগুলো চ্যালেঞ্জ করা বা পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি দুর্বল হতে পারে এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্থানের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এতে করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্যও তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করেছেন হারারি। AI-এর অগ্রগতির ফলে উন্নত দেশগুলো আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। কারণ তারা এই প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে তাদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। অপরদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলো পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

হারারি উল্লেখ করেছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে চীন ও উত্তর আমেরিকা যৌথভাবে অও থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মুনাফার ৭০% নিজেদের কারায়ত্ত করে নিতে পারবে। AI-এর মাধ্যমে তৈরি করা কনটেন্ট এবং তথ্যের বিস্তার আমাদের সামাজিক সম্পর্ক ও তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। হারারি উদাহরণ হিসেবে মিয়ানমারে ফেসবুকের অ্যালগরিদম দ্বারা ঘৃণামূলক বক্তব্যের প্রচার এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা উল্লেখ করেছেন। এটি দেখায় অও কিভাবে তথ্যের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে সমাজে বিভাজন ও সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে। হারারি জোর দিয়ে বলেছেন, Al-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদেরকে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন মানবজাতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো Al-এর অগ্রগতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং এটি যাতে কেবল আমাদের সেবাতেই ব্যবহৃত হয় সেই নিশ্চয়তা প্রদান করা। এজন্য প্রয়োজন তথ্যের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিক ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া।

সারসংক্ষেপে, ‘নেক্সাস’ গ্রন্থে ইউভাল নোয়া হারারি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন তথ্য নেটওয়ার্কের বিবর্তন আমাদের সমাজকে গঠন করেছে এবং AI-এর উত্থান আমাদের ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সুতরাং, আমাদেরকে সচেতনভাবে এবং যৌথভাবে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুফল নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে এটি মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।


গানে গানে মুক্তির আলোয় ব্ল‍্যাক মিউজিক থেকে হিপ – হপের পথচলা

ব্ল‍্যাক মিউজিকের উৎপত্তি দাসপ্রথার সময় থেকেই। দাসেরা তাদের কষ্ট ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে স্পিরিচুয়ালস ও ওয়ার্ক সং গাইতেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ব্লুজ, জ্যাজ, এবং পরে হিপ-হপ জন্ম নেয়। ১৯শ শতকের শেষে ব্লুজ মিউজিক জনপ্রিয় হয়। যেখানে দুঃখ-কষ্ট ও জীবনসংগ্রামের গল্প ফুটে ওঠে। ২০শ শতকের প্রথম দিকে নিউ অরলিন্সে জ্যাজ মিউজিক বিকাশ লাভ করে। এই দুই ধারার পাশে গড়ে উঠা হিপ-হপ সংগীতেও শক্তিশালী সংগ্রামের প্রতিফলন দেখা যায়। এমনকি দাসপ্রথা বিলুপ্তির পরও ব্ল্যাক কমিউনিটি নানা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হতে থাকে। পুলিশি নিপীড়ন, সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্ল্যাক কমিউনিটির প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে হিপ-হপ হয়ে ওঠে এক দৃঢ় প্রতিবাদের ভাষা।

হিপ-হপের সূচনা হয় ব্রঙ্কসের আফ্রিকান-আমেরিকান ও লাতিনো কমিউনিটির মধ্যে। ১৯৭৩ সালে DJ Kool Herc প্রথমবারের মতো “Breakbeat” প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা হিপ-হপের ভিত্তি স্থাপন করে। ১৯৭০ এবং ৮০-এর দশকে Grandmaster Flash, Afrika Bambaataa এবং Run-D.M.C. এর মতো শিল্পীরা হিপ-হপকে মূলধারায় নিয়ে আসেন। ব্ল‍্যাক মিউজিকের ইতিহাসে হিপ-হপ ও র‍্যাপ অন্যতম শক্তিশালী বৈপ্লবিক ধারা। এই মিউজিক ধারা ব্ল‍্যাক লিভস ম্যাটার (BLM) আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। Kendrick Lamar-এর “Alright” গানটি BLM আন্দোলনের অঘোষিত সংগীতে পরিণত হয়েছিল। একইভাবে, Nas, Jay-Z, এবং J. Cole-এর মতো শিল্পীরা দাসপ্রথা, সামাজিক বৈষম্য ও কালো মানুষের অধিকার নিয়ে তাদের গানে সরব হয়েছেন।

র‍্যাপ শুধুমাত্র ছন্দবদ্ধ কথা নয় এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। ১৯৮০-এর দশকে Public Enemy, N.W.A, এবং Tupac Shakur-এর মতো শিল্পীরা পুলিশের বর্বরতা, বর্ণবাদ ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে তাদের র‍্যাপিং সংগীতের মাধ্যমে প্রথম প্রতিবাদ জানান। ৯০-এর দশকের সময়ে “গ্যাংস্টা র‍্যাপ” প্রবল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যে গানগুলো জীবনের কঠোর বাস্তবতা তুলে ধরেDr. Dre, Snoop Dogg, Nas এবং Notorious B.I.G-এর মতো শিল্পীরা র‍্যাপ সংগীতকে আরও বহুমাত্রিক করে তোলেন। এই দশকেই East Coast এবং West Coast-এর বিফ শুরু হয়, যা 2Pac এবং Biggie-এর মৃত্যুর মাধ্যমে শীর্ষে পৌঁছায়।

বর্তমানে হিপ-হপ ও র‍্যাপ বিশ্বসংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ধারায় পরিণত হয়েছে। Kendrick Lamar, J. Cole, Cardi B এবং Megan Thee Stallion-এর মতো শিল্পীরা হিপ-হপকে আরও বৈচিত্র্যময় ও গতিশীল করে তুলেছেন। আজকের হিপ-হপ শুধুমাত্র আমেরিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আফ্রিকা, ইউরোপ ও এশিয়া তথাপি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। Black Music এর হাতে গড়ে উঠা হিপ-হপ এখন আর কেবল আমেরিকার ব্ল্যাক কমিউনিটির কণ্ঠস্বর নয় বরং বৈশ্বিক সংগ্রাম, প্রতিরোধ ও আত্মপরিচয়ের আন্দোলনের শক্তিশালী মাধ্যম।



শিল্প – সাহিত্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে , এই প্রোপাগান্ডা ঠিক না : উপদেষ্টা ফারুকী

দেশে শিল্প-সাহিত্য চর্চা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে-এমন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে এখন প্রচুর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। আর পহেলা বৈশাখ বাঙালি একটি বড় উৎসব। এটি প্রত্যেকবার যেভাবে পালিত হয় এবারও সেভাবেই পালিত হবে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘আবার অস্বীকার করছি না যে, কোথাও কোথাও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। তবে অনেক জায়গায় সফলভাবে অনুষ্ঠানও হচ্ছে। যেখানে সমস্যা, সেখানেই আমরা সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর যে পরিমাণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে এখন তার চেয়ে আরও বেশি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেও অনেক বাউলকে ধরে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমস্যা তখনও ছিল এখনও আছে। তবে এখনকার সমস্যাগুলোকে কেউ কেউ বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে।’ সংস্কতি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা একটু খেয়াল করে দেখুন-এখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কী পরিমাণ হচ্ছে। ফলে ঢালাওভাবে মন্তব্য করাটা মুশকিল। আমরা একদিনে এই বাংলাদেশকে বদলে ফেলতে পারবো না। আমরা দেশটাকে পেয়েছি পুলিশবিহীন অবস্থায়।’ সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসন ঠিক করে এখানে আসাটা সহজ কাজ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নাট্য উৎসব বন্ধের পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। তাদেরই (নাট্যকর্মীদের) আরেকদলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সেটি বন্ধ করা হয়েছে। কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত নয়। এর সঙ্গে সরকারেরও কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ তিনি আরো বলেন-বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যা-ই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ও সব বাংলাদেশির সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখাটাই চীনের নীতি।

স্টেম সেল থেরাপি : বদলে দেবে আগামী দিনের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য

স্টেম সেল থেরাপি অন্ধত্বের চিকিৎসায় আশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এ থেরাপি দ্বারা চোখের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পুনর্গঠন এবং দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের কিছু পরীক্ষামূলক ফলাফল এসেছে। জেটী ভবিষ্যতে অনেক রোগীকে অন্ধত্ব মুক্তিতে সাহায্য করতে পারে। এ থেরাপি চোখের বিভিন্ন অংশে যেমন- রেটিনা, কর্নিয়া, এবং অপটিক নার্ভ – কোষ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।এই থেরাপির মাধ্যমে চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনরুজ্জীবিত করা বা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। রেটিনাল ডিজেনারেশন, যেমন রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, এমন রোগ যা রেটিনার কোষের ধ্বংসের ফলে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়। স্টেম সেল থেরাপি এই ক্ষতিগ্রস্ত রেটিনা কোষ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেম সেল ব্যবহার করে স্নায়ু কোষ এবং অন্যান্য রেটিনা কোষ তৈরি করা সম্ভব, যা দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে, এম্ব্রায়োনিক স্টেম সেল থেকে রেটিনা কোষ তৈরি করার পরীক্ষা চালানো হয়, যা কিছু রোগীর মধ্যে আশাপ্রদ ফলাফল দেখিয়েছে। কর্নিয়া সম্পর্কিত রোগের ফলে অনেক মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। স্টেম সেল থেরাপি কর্নিয়ার কোষ পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে স্টেম সেল ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত কর্নিয়া পুনর্গঠন করাও সম্ভব এবং কিছু রোগী এতে সাফল্যও পেয়েছেন।

২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে স্টেম সেল ব্যবহার করে রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।রোগীকে এম্ব্রায়োনিক স্টেম সেল দিয়ে রেটিনার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল এবং তার দৃষ্টিশক্তিতে কিছু উন্নতি দেখা গিয়েছিল। ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালের পরীক্ষায় স্টেম সেল থেরাপি ব্যবহার করে কর্নিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। রোগীদের নিজস্ব স্টেম সেল ব্যবহার করে একটি নতুন কর্নিয়া স্তর তৈরি করা হয়, যা বেশ কিছু রোগীর জন্য কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।

সম্প্রতি জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী কোহজি নিশিদা এবং তাঁর দল লিম্বাল স্টেম সেল ডেফিসিয়েন্সি (খঝঈউ) নামক জটিল চোখের রোগে আক্রান্ত রোগীদের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে স্টেম সেল থেরাপি প্রয়োগে সফলতা পেয়েছেন। তাঁরা সুস্থ রক্তকোষ থেকে প্রাপ্ত প্ররোচিত পুরিপোটেন্ট স্টেম সেল (রচঝঈং) ব্যবহার করে কর্নিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ প্রতিস্থাপন করেছেন, যার ফলে চারজন রোগীর মধ্যে তিনজনের দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছে। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা ২০২৩ সালে লিম্বাল স্টেম সেল ব্যবহার করে কর্নিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত দুই রোগীর দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে সফল হয়েছেন। এই সেলগুলো কর্নিয়ার পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম, যা কর্নিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্টেম সেল থেরাপি অন্ধত্বের চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটাতে পারে। তবে অনেকে ধারণা করছেন এটি এখনও একটি নতুন ক্ষেত্র যার জন্য আরো গভীর গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এটি চোখের রোগের জন্য একটি কার্যকরী চিকিৎসা হয়ে উঠতে পারে, যা লাখ লাখ মানুষকে নতুন দৃষ্টিশক্তি এবং উন্নত জীবনযাত্রা প্রদান করবে।



তিস্তা প্রকল্পে বেইজিং বাংলাদেশের পাশে থাকতে প্রস্তুত : চীনা রাষ্ট্রদূত

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে বাংলাদেশ – চীন সম্পর্ক বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন-তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন প্রস্তুত আছে। তবে প্রকল্পটা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেই সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে বাংলাদেশকেই নিতে হবে। এই নদীর তীরে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষের কল্যাণে তিস্তা প্রকল্প যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে বাংলাদেশে যেভাবে তিস্তা বৃহদায়তন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়, চীন এমন ভাবনার সঙ্গে একমত নয়। রাষ্ট্রদূতের মতে, প্রকল্পটি একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা উচিত।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালে একটি প্রস্তাব পাঠিয়ে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছিল। চীন প্রকল্পটি মূল্যায়ন করে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাল্টা প্রস্তাবে জানায়, প্রকল্পটি সংশোধন করা উচিত। তবে এরপর বাংলাদেশের কাছ থেকে ফিরতি কোনো প্রস্তাব পায়নি চীন। ঢাকা-দিল্লির উত্তেজনা কমাতে প্রতিবেশী হিসেবে চীন মধ্যস্থতা করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নিজেদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশিরা যথেষ্ট বিচক্ষণ। চীনের প্রত্যাশা, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।’

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীন ও বাংলাদেশের অবস্থান একই বলেও উল্লেখ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখন অগ্রাধিকার এবং চীন রোহিঙ্গাদের সুষ্ঠু প্রত্যাবাসন চায়।’ সংস্কারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ‘এটি বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ তবে, চীন সুষ্ঠু সংস্কার শেষে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর চায় বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন – বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যা-ই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ও সব বাংলাদেশির সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখাটাই চীনের নীতি।

ঢাকার শব্দ দূষণের মাত্রা

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ৬১টি জনবহুল শহরের মধ্যে ঢাকার শব্দ দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।ঘটনাব দেশ দিকঢাকার গড় শব্দ মাত্রা সহনীয় মানের দ্বিগুণ-১১৯ ডেসিবেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ সাময়িক বধিরতা এবং ১০০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ স্থায়ী বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

চিপ শিল্পে এক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই : তাইওয়ান

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প অত্যন্ত জটিল এবং এতে শ্রম বিভাজনের প্রয়োজন রয়েছে, তাই একক কোনো দেশের এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের শীর্ষ এক প্রযুক্তি কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের চিপ আধিপত্যের সমালোচনার জবাবে শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প সম্প্রতি অভিযোগ করেন, তাইওয়ান পুরো চিপ শিল্পকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং তিনি মার্কিন চিপ উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে চান।

শুক্রবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ফেসবুকে এক পোস্টে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে লেখেন- তাইওয়ান বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গণতান্ত্রিক সরবরাহ চেইনে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে। ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিলের প্রধান উ চেং-ওয়েন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। উ চেং-ওয়েন লেখেন, ‘কীভাবে আমরা এ সাফল্য অর্জন করেছি? এটি কোনো দেশের কাছ থেকে আমরা সহজেই পাইনি।’ ১৯৭০-এর দশক থেকে তাইওয়ান সরকার কীভাবে এ খাতকে গড়ে তুলেছে এবং ১৯৮৭সালে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা কোম্পানি টিএসএমসি প্রতিষ্ঠায় কীভাবে সহায়তা করেছে তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।

চেং-ওয়েন জানান, প্রতিটি দেশ চিপ শিল্পের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ জাপান রাসায়নিক ও সরঞ্জাম তৈরিতে দক্ষ, যুক্তরাষ্ট্র ডিজাইন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষ আর তাইওয়ান চিপ উৎপাদনে বিশ্ব নেতা। সেমিকন্ডাক্টর শিল্প অত্যন্ত জটিল এবং এতে নির্দিষ্ট দক্ষতা ও শ্রম বিভাজন প্রয়োজন। তাইওয়ান ‘বন্ধুসুলভ গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে’ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ চেইনে তাদের যথাযথ ভূমিকা পালনে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানান চেং-ওয়েন। তিনি বলেন, এই শিল্পের সাফল্য কোনো একক দেশের অর্জন নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বি-ি নয়োগের ফলাফল।

উ চেং-ওয়েনের মতে, বিশ্বের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উদ্ভাবনের ওপর। কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত বিনিময়ের মাধ্যমেই সেমিকন্ডাক্টর খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।