Home Blog Page 194

বাংলাদেশের জলবায়ু উদ্বাস্তু , তাদের মরিয়া নির্মম বাস্তবতা

বাংলাদেশের হাজার হাজার জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য অভিবাসন এক মরিয়া পালানোর পথ হলেও এর মূল্য ভয়াবহ। আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও উন্নয়ন সংস্থার (IIED) এক জরিপ অনুসারে জলবায়ুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে যারা বিদেশে অভিবাসন করেছেন তাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে আধুনিক দাসত্বেরই শিকার হয়েছেন। গতকাল প্রকাশিত হওয়া IIED-এর গবেষণা “উন্মুক্ত ও নিপীড়িত: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও আধুনিক দাসত্ব”, সেখানে বলা হয়েছে আধুনিক দাসত্ব বিভিন্ন রূপ নেয়।জরিপভুক্ত অভিবাসীরা মজুরি আটকে রাখা, চলাচলে বিধিনিষেধ, নির্যাতনমূলক পরিবেশ, হুমকি, ভয়ভীতি, এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

গবেষণাটি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে IIED এবং অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন কর্মসূচি (OKUP) পরিচালিত করেছে, যার অর্থায়ন করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের Modern Slavery Innovation Fund । জরিপটি দেশের ১৯টি ইউনিয়নের ৩৩টি গ্রামে ৬৪৮টি পরিবারের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ১০টি এবং সিলেটের গোয়াইনঘাটের ৯টি ইউনিয়নকে জলবায়ু ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে বাছাই করা হয়। অংশগ্রহণকারী পরিবারের ৭০.০৬ শতাংশ অভিবাসী পরিবার (দেশীয় ও আন্তর্জাতিক), আর ২৯.৯৪ শতাংশ অভিবাসী নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, “দেশীয় অভিবাসীদের মধ্যে ৯২ শতাংশ অন্তত এক ধরনের আধুনিক দাসত্বের শিকার। যেখানে ৫২ শতাংশের বেশি তিন বা ততোধিক ধরনের নিপীড়ন সহ্য করেছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, এই সংকটের মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। গত ছয় দশকে বাংলাদেশে জলবায়ু- সম্পর্কিত দুর্যোগ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯০-এর আগে যেখানে গড়ে বছরে চারটি দুরে‍্যাগ হতো সেখানে এখন তা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা ফসল নষ্ট করেছে। গবাদি পশু ডুবিয়ে মেরেছে, সঞ্চয় ধ্বংস করেছে। ফলে বহু পরিবারের সামনে একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানান্তর। “পিরোজপুর ও সিলেটের মতো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়, ৯৯ শতাংশ বাসিন্দা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন, আর ৯০ শতাংশ বলছেন নদীভাঙন আরও খারাপ হয়েছে।” জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অভিবাসন ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

২০১১ সালের পর থেকে প্রায় ৮৪ শতাংশ পরিবার কাজের সন্ধানে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে চলে গেছে-সেখানে তারা প্রায়শই শোষণমূলক শিল্পে কাজ করছে। আর ৮৮ শতাংশ পরিবার তাদের আত্মীয়দের বিদেশে পাঠিয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে তাদের অনেকেই চরম শ্রমিক নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, জলবায়ু- সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দেশীয় অভিবাসনের সম্ভাবনা ১৬১ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসনের সম্ভাবনা ২১৪ শতাংশ বেশি। এটি দেখায় কীভাবে জলবায়ুজনিত ধাক্কা মানুষকে বাধ্যতামূলক অভিবাসনের দিকে ঠেলে দেয়।

তবে যেসব পরিবারের শিক্ষা ও জমির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি তাদের আন্তর্জাতিক অভিবাসনের সম্ভাবনা ৩৫৬ শতাংশ বেশি-যা অভিবাসনের দ্বৈত প্রকৃতিকে তুলে ধরে। এটি একদিকে বেঁচে থাকার কৌশল, অন্যদিকে অভিযোজনের একটি মাধ্যম। IIED-এর প্রধান গবেষক ও প্রতিবেদনের সহলেখক ঋতু ভারদ্বাজ বলেন, “এ ধরনের সংকটের ধাক্কা কমাতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। যেমন ভারতের গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প। বাংলাদেশ যেহেতু একটি নিম্ন-আয়ের দেশ। তাই হয়তো আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। তবে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো তৈরির ওপর ভিত্তি করে একটি কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু করা গেলে এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য বিশাল সহায়ক হতে পারে।”

অভিবাসনকে নিরাপদ করার জন্য প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা তৈরি এবং আরও সহনশীল ফসলের জাতের উন্নয়ন ও নিয়োগ সংস্থাগুলোর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।




যুক্তরাষ্ট্র – রাশিয়ার বৈঠকে কেন মধ্যস্থতা করছেন সৌদি যুবরাজ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি, সম্পর্কের উন্নতি এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা নিয়ে আলোচনা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত সফলভাবে মধ্যস্থতা করতে সক্ষম একটি বৈশ্বিক শক্তি হয়ে উঠতে চায় সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া বৈঠকের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশটির সেই আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৈঠকটি আয়োজনের আরও একটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হলো, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য অতিরিক্ত ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জন করা। সৌদি আরবে এই বৈঠকের আয়োজনকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি সৌদি আরবকে জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশ এবং রক্ষণশীল ইসলামি ভাবধারা থেকে বের করে বিশ্ব রাজনীতিতে পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী দেশে পরিণত করার চেষ্টা করছেন।

এটি সৌদি আরবের বড় পরিবর্তনেরই একটি অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটি বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাতে নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করেছে। মূলত শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণের আশায় দেশটি তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। প্রত্যাশিত এসব বিনিয়োগ সৌদি যুবরাজের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ভিশন ২০৩০-এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা করছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রতিবেশী ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ থেকে সরে এসেছেন তিনি। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টাও করছেন। এ ছাড়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। পশ্চিমাদের সঙ্গেও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

অন্যদিকে, গাজার ভাগ্য নিয়ে আরব বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, সেটা ঘোচাতে সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দুই দেশের মধ্যে বৈঠকের মধ্যস্থতাকে পুঁজি করতে পারে। ট্রাম্পের বিতর্কিত গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং স্থায়ীভাবে ফিলিস্তিনিদের অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা আরব দেশগুলো ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সৌদি আরবে বিষয়টি নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে গাজার বিষয়ে ভিন্ন একটি প্রস্তাব তৈরির বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সেটি পরে ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হবে।



আপনার ঘরের বাতাসও বিষাক্ত হয় , সহজ সমাধান ইনডোর প্লান্টে : নাসার গবেষণা

বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আপনার বাড়ির ইনডোর স্পেসের জন্য সঠিক গাছ নির্বাচন শুধু সুন্দর দেখায় না বরং তারা আরও একটু বেশি কাজ করে যাতে আপনি যে বাতাসটি শ্বাস নিচ্ছেন তা পরিশোধন হয়। নাসার ক্লিন এয়ার স্টাডি (NASA’s Clean Air Study) পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বেশ কিছু বায়ু পরিশোধক গাছ রয়েছে যা আপনার বাড়ির বাতাস থেকে বিষাক্ত পদার্থ, ধূলিকণা এবং জীবাণু দূর করতে সহায়ক। যে জীবাণুগুলো বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য, উপাদান এবং আসবাবপত্রেও পাওয়া যেতে পারে। এমন কিছু গাছ হলো –

স্নেক প্ল্যান্ট – এই গাছটি শোবার ঘরে থাকলে ভালো ঘুম হয়। এই হলুদ কিনারাযুক্ত সাকুলেন্ট গাছটি রাতে অক্সিজেন নির্গত করে,। যা ঘুমানোর সময় আপনার শ্বাস নেয়া আরও সহজ করে তোলে। এটি ফর্মালডিহাইড, জাইলিন, বেনজিন, টোলুইন, এবং ট্রাইক্লোরোথিলিন ফিল্টার করার জন্য অন্যতম সেরা গাছ।

অ্যালো ভেরা – একটি অ্যালোভেরা গাছ আপনার রান্নাঘরের জানালার কাছে সাজানোর জন্য একটি সুন্দর প্লান্ট। এটি হাল্কা আলোছায়া জায়গা পছন্দ করে। এই সাকুলেন্ট গাছটি ফর্মালডিহাইড এবং বেনজিনের মতো টক্সিন বাতাস থেকে পরিশোধন করেচ। যেগুলো ভেরনিশ, ফ্লোর ফিনিশ এবং ডিটারজেন্টে পাওয়া যায়।

ডেভিলস আইভি বা পথোস – বড় মোমের মতো পাতা জন্য পরিচিত। ডেভিলস আইভি আপনার বাড়ির বাতাস পরিশোধন করার জন্য দারূণ উধাহরণ। যদি আপনি গাছের যত্ন নিতে খুব দক্ষ না হন, তবে এটি একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। কারণ এটি নিজের মতোই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং সপ্তাহে একবার পানি পেলেই যথেষ্ট হয়ে যায়।

পিস লিলি – এই গাছটিতে অদ্ভূত সুন্দর সাদা ফুল ধরে। পাতাগুলো দেখতে পাম গাছের পাতার মতো। তবে এই গাছটির বেশ যত্ন নিতে হয়। গাছটির জন্য এমণিতে প্রখর রোদ, খুব বেশি পানি বা দামী সারেরও প্রয়োজন নেই। মাঝারি থেকে মৃদু আলোতেই বাঁচতে পারে পিস লিলি। বাতাস দূষণমুক্ত রাখা ছাড়াও এর সাদা ফুল আপনার ঘরে এক টুকরো রোদের হাসির মতো শোভা বর্ধন করবে।

ড্রাকাইনা ফ্রেগরেন্স – উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ুর দেশগুলোতে খুবই জনপ্রিয় একটি গাছ ড্রাকাইনা ফ্রেগরান্স। ঘরের ভেতরে ছোট্ট কোণায় বসানো যায় গাছটি। এর যত্ন নেওয়াও বেশ সহজ। ঘরের বাতাস থেকে দূষিত বস্তুকণা দূর করে বাতাস বিশুদ্ধ রাখে।

ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ট্রাম্প করেননি : লিওনিড রাগোজিন , রিগা – ভিত্তিক সাংবাদিক

“… ১৩ ফেব্রুয়ারি, ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের কিছু মূল দিক তুলে ধরেন। আগের মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান থেকে একেবারে ভিন্ন পথে গিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনের পক্ষে তার সব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখতে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টিও বাদ দিতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন কার‍্যত ২০০৮ সালের মার্কিন-ইউক্রেন কৌশলগত অংশীদারত্ব সনদকে অকার‍্যকর ঘোষণা করেছে। ওই সনদে ইউক্রেনের অখণ্ডতা রক্ষার প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তিকে নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

ট্রাম্প ও হেগসেথের এই ঘোষণার পর কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম সঙ্গে সঙ্গে একে ‘ইউক্রেনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেয়। … এই পরিস্থিতি তৈরির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করা যায় না। ইউক্রেনের সঙ্গে আসলে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। তারা ইউক্রেনকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই ভরসায় ইউক্রেন আপসের পথ প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। অথচ এই যুদ্ধ জেতা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

গত তিন বছরে পশ্চিমা বিশ্ব অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যত দূর সম্ভব ব্যবস্থা নিয়েছে। এর বেশি এগোলে বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতো। ক্ষতিগ্রস্ত হতো বৈশ্বিক অর্থনীতি। ব্যয়বহুল এই সমর্থন অব্যাহত রাখলেও পরিস্থিতি বদলাত না। রাশিয়া ইউক্রেনের চেয়ে শক্তিশালী ও ধনী। তার সেনাবাহিনী আধুনিক যুদ্ধে পারদর্শী। শুধু উন্নত পশ্চিমা অস্ত্র দিয়ে তাদের পরাজিত করা সম্ভব নয়। এর চেয়ে বড় বিষয়, রাশিয়া একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। এ কারণেই পশ্চিমা বিশ্ব সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায়নি। মার্কিন প্রশাসনে যেই থাকুক, একসময় তাকে ইউক্রেনের প্রতি সহায়তা কমিয়ে দিতেই হতো। অনির্দিষ্টকাল তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

… স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো ইউক্রেনের সত্যিকারের নিরপেক্ষ অবস্থান নিশ্চিত করা এবং রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। এর মানে কি রাশিয়ার জয়? হ্যাঁ, তাই। তবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সামনে ছুড়ে দিয়েছে কে? যুদ্ধে উৎসাহী পশ্চিমা আগ্রাসী নীতির অনুসারীরা। পশ্চিমা বিশ্লেষকেরা মনে করেছিলেন যে যুদ্ধের চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি ধসে পড়বে। ভেঙে পড়বে তার শাসনব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিশাল সামরিক ব্যয়ের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি বরং চাঙা হয়েছে। রুশ জনগণ এই যুদ্ধের বড় কোনো প্রভাব অনুভব করেনি। অন্যদিকে জীবন দুর্বিষহ হয়েছে ইউক্রেনের জনগণের।

পুতিনকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত করা সম্ভব নয়। তাঁর পতন সম্ভব কেবল রাশিয়ার জনগণ রুখে দাঁড়ালে। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব ও ইউক্রেন এতটাই কট্টর যে এমনকি পুতিনবিরোধী অনেক রুশ নাগরিকও তাদের থেকে দূরে সরে গেছে। পশ্চিমাদের আচরণ দেখে মনে হয়েছে, তারা শান্তি নয়, যুদ্ধই চেয়েছে। এর মানে কি রাশিয়ার জয়? হ্যাঁ, তাই-ই। তবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সামনে ছুড়ে দিয়েছে কে? যুদ্ধে উৎসাহী পশ্চিমা আগ্রাসী নীতির অনুসারীরা। পশ্চিমা বিশ্লেষকেরা মনে করেছিলেন যে যুদ্ধের চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি ধসে পড়বে। ভেঙে পড়বে তার শাসনব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিশাল সামরিক ব্যয়ের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি বরং চাঙা হয়েছে। রুশ জনগণ এই যুদ্ধের বড় কোনো প্রভাব অনুভব করেনি। অন্যদিকে জীবন দুর্বিষহ হয়েছে ইউক্রেনের জনগণের।

পশ্চিমা বিশ্লেষকেরা মনে করেছিলেন যে যুদ্ধের চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি ধসে পড়বে। ভেঙে পড়বে তার শাসনব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিশাল সামরিক ব্যয়ের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি বরং চাঙা হয়েছে। রুশ জনগণ এই যুদ্ধের বড় কোনো প্রভাব অনুভব করেনি। অন্যদিকে জীবন দুর্বিষহ হয়েছে ইউক্রেনের জনগণের। তবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সামনে ছুড়ে দিয়েছে কে? যুদ্ধে উৎসাহী পশ্চিমা আগ্রাসী নীতির অনুসারীরা। বিশ্লেষকেরা মনে করেছিলেন যে যুদ্ধের চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি ধসে পড়বে। ভেঙে পড়বে তার শাসনব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিশাল সামরিক ব্যয়ের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি বরং চাঙা হয়েছে। রুশ জনগণ এই যুদ্ধের বড় কোনো প্রভাব অনুভব করেনি। অন্যদিকে জীবন দুর্বিষহ হয়েছে ইউক্রেনের জনগণের।

QAnon ও ট্রাম্পের পুনরাবৃত্তি ! ‘দ্য স্টর্ম’ কি বাস্তবে রূপ নেবে!

QAnon হলো আমেরিকান রাজনীতির একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। যারা বিশ্বাস করে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, হলিউড তারকা এবং ধনীদের নিয়ে গঠিত একটি গোপন এলিট গোষ্ঠী রয়েছে। অনুসারীদের মতে এই গোষ্ঠী শিশু পাচার, রিচুয়াল শয়তানপূজা এবং বিশ্বব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের ষড়যন্ত্র করছে। তাদের বিশ্বাস, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন এবং একসময় “The Storm” বা “Great Awakening” নামে এক বিপ্লব আসবে যেখানে এই এলিটদের ধ্বংস করা হবে। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে 4chan নামক অজ্ঞাত ফোরামে “Q” নামের একজন ব্যবহারকারী পোস্ট করতে শুরু করে। এই ব্যবহারকারী দাবি করেন যে তিনি মার্কিন সরকারের গোপন তথ্য জানা এমন একজন ব্যক্তি যার “Q-level security clearance” রয়েছে। এর মানে হলো মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক ধরনের উচ্চ নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদন।

এই পোস্টগুলো একরকম সাংকেতিক ভাষায় এবং অস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বার্তা বহন করত। যেগুলো অনুসারীরা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করত। পরে এই পোস্টগুলো 8chan নামের প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত করা হয় এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। QAnon ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মধ্যে শিশুদের রক্ত ও মাংস ভক্ষণ সম্পর্কিত গুজবও অন্তর্ভুক্ত ছিল। QAnon অনুসারীরা বিশ্বাস করে গোপন এলিট গোষ্ঠী শুধু শিশু পাচারই নয়, বরং তাদের হত্যা করে “adrenochrome” সংগ্রহ করে, যা তারা চিরযৌবন ধরে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। কিছু চরমপন্থী ষড়যন্ত্র তত্ত্বে এমনও দাবি করা হয়েছে যে এই এলিটরা শিশুদের মাংস খায় বা রিচুয়াল শয়তানপূজার অংশ হিসেবে কুরবানির মতো কর্মকাণ্ড করে।

গুজবের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে হিলারি ক্লিনটন ও কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা, বারাক ওবামা, ধনকুবের ও ফিলানথ্রপিস্ট জর্জ সোরোস, হলিউড তারকা টম হ্যাঙ্কস ও উইনফ্রে এর নামও ছড়িয়ে পড়েছিলো।QAnon অনুসারীরা মনে করে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই এলিটদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং একসময় “The Storm” নামে এক বিপ্লব আসবে যেখানে সেনাবাহিনী এসে এই ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করবে এবং তাদের বিচার করা হবে।যদিও ট্রাম্প কখনো সরাসরি QAnon সমর্থন করে কিছু বলেননি। তবে তিনি কয়েকবার তাদের তত্ত্বগুলোর প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের সামনে “The Storm” শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন যেটা QAnon অনুসারীদের মধ্যে আবেগময় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিলো।

২০১৬ সালে জন পোডেস্তার ইমেইল হ্যাক হওয়ার পর কিছু সাংকেতিক শব্দ পাওয়া যায় যেগুলো শিশু পাচারের ইঙ্গিত বহন করে বলে দাবি করা হয়। কিছু অনুসারীদের মতে ওয়াশিংটনের Comet Ping Pong নামের একটি পিৎজা রেস্তোরাঁ শিশু পাচার চক্রের কেন্দ্রস্থল ছিল। যদিও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই গুজবের ফলে সেখানে হামলা চালানো হয়।QAnon মূলত ছড়িয়ে পড়ে Facebook, Twitter, YouTube এবং Reddit-এর মাধ্যমে।Facebook এ হাজার হাজার গ্রুপ ও পেজ গড়ে ওঠে যেখানে লক্ষাধিক অনুসারী সরাসরি এ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করত। ইউটিউবেও QAnon ভিত্তিক ভিডিও ভাইরাল হতে শুরু করে। টুইটারে #WWG1WGA (“Where We Go One, We Go All”) নামে একটি হ্যাশট্যাগ জনপ্রিয় হয়।

২০২০ সালের পর থেকে ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউব QAnon সম্পর্কিত কনটেন্ট ব্যান করতে শুরু করে। তবে এর পরপরই Parler, Gab-এর মতো বিকল্প প্ল্যাটফর্মে এটি ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাপিটল হিল হামলায় QAnon-এর ভূমিকা ছিলো বলে দাবী করা হয়। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের অনুসারীরা মার্কিন ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলা চালায়। “Q Shaman” নামে পরিচিত Jacob Chansley এই আন্দোলনের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। QAnon অনুসারীরা ক্রমে ক্রমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। টাইমস স্কয়ারে এক ব্যক্তির বোমা হামলার পরিকল্পনা ধরা পড়ে। তাদের বিশ্বাস ছিলো এটি এলিটদের আস্তানা। ২০১৯ সালে এক মার্কিন ব্যক্তি তার পরিবারকে সবাইকে “deep state”-এর সদস্য মনে করে হত্যা করেন।

আরো গুজব উঠে যে COVID-19 “deep state”-এর পরিকল্পিত কৌশল। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে জনগণের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এবং বিল গেটস ও ড. ফাউচি এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী।সেসময় FBI এটিকে “Domestic Terror Threat” হিসেবে ঘোষণা করে ও মার্কিন সরকার QAnon-কে সন্ত্রাসবাদী আদর্শের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে। আলোচকদের ধারণা এটি COVID, রাজনীতি এবং সামাজিক বিভাজনের কারণে শক্তিশালী হয়েছিল। তবে এরপরে সোশ্যাল মিডিয়ার বিধিনিষেধের ফলে কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

২০২১ সালে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর অনেক QAnon অনুসারী হতাশ হয়ে পড়ে। তবে কিছু অনুসারী তখনো বিশ্বাস করতো ট্রাম্প আবার ফিরে এসে এলিটদের ধ্বংস করবেন। তাদের “The Storm” বিলম্বিত হলেও শিগগিরই ঘটতে পারে!২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে! তাহলে এখন QAnon অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া কী! তাদের দীর্ঘকালীন বিশ্বাসে কি কোন ধরনের পরিবর্তন এসেছে? এ পরিস্থিতিতে QAnon অনুসারীরা নতুনভাবে কী ধরনের কর্মকাণ্ড বা পরিকল্পনা গ্রহণ করার কথা ভাবছে তা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে পারে। যদি তারা এখনও বিশ্বাস করে ট্রাম্প ভিন্ন এক ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়ায় নতুন পৃথিবী গড়বেন! তবে সেই বিশ্বাস কি আবারও তাদের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে? প্রশ্ন থেকে যায়!

সেসময় FBI এটিকে “Domestic Terror Threat” হিসেবে ঘোষণা করে ও মার্কিন সরকার QAnon-কে সন্ত্রাসবাদী আদর্শের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে আলোচকদের ধারণা এটি COVID, রাজনীতি এবং সামাজিক বিভাজনের কারণে শক্তিশালী হয়েছিল। তবে এরপরে সোশ্যাল মিডিয়ার বিধিনিষেধের ফলে কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

অক্টোবরে তফসিল , ডিসেম্বরে নির্বাচন , জানুয়ারিতে নতুন সরকার : ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন , অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা

‘সরকারের গতি ৮০ কিলোমিটার হলে ভালো হতো আমরা হয়তো ৪০-৫০ কিলোমিটারে চলছি’

অন্তর্বর্তী সরকারের নৌ-পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন – ” … আমি যদি খুব ভুল না করে থাকি, তাহলে অক্টোবরের দিকে তফসিল ঘোষণা, ডিসেম্বরে নির্বাচন এবং জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন হতে পারে এমন সংকেত পাচ্ছি। আমি মনে করি, কিছু বিষয়ে মৌলিক সিদ্ধান্তে না এসে নির্বাচনে যাওয়া উচিত নয়। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়ের মধ্যে সেটা সম্ভব। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার চালিয়ে নেবে। এটা আশাব্যঞ্জক বলে মনে করি।

… তবে, অতীত অভিজ্ঞতা ভালো না থাকায় অনেকের মধ্যে সংশয় কাজ করে। কারণ, রাজনৈতিক দলে একজন নেতাই সব নন। তার দলে আরও অনেকে আছেন। এর বাইরে অন্যান্য দলও সংসদে যাবে। তারা কী চাইবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।… এই সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে রাষ্ট্রটা ব্যর্থ হয়ে যায়নি, রাষ্ট্র ফাংশন করছে। যদিও পরিস্থিতি আরও ভালো হলে খুশি হতাম। এর জন্য সবচেয়ে বড় ক্রেডিট হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের। একটি লিডারলেস আন্দোলনের পর কী হয় তার উদাহরণ ইরাক, লিবিয়াতে আমরা দেখছি। বাংলাদেশে একটি সরকার হঠাৎ হওয়া আন্দোলনে সব ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দল পর্যন্ত নেই যারা হাল ধরবে। ঠিক তখন আমাদের সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। অনেকে চেয়েছে দেশটা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ুক, এখনো অনেকে চাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে।

রাষ্ট্রের অবস্থা বুঝতেই তিন মাস লেগেছে। ব্যাংকগুলো লুট করা হয়েছে, রিজার্ভের অবস্থা ছিল শোচনীয়, অর্থনীতি নিয়ে সরকার অসম্ভব চ্যালেঞ্জে ছিল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলতে কিছুই ছিল না, তারপরও অল্প সময়ের মধ্যে অসাধারণ উন্নতি হয়েছে। এর মূল কৃতিত্ব সাধারণ মানুষের। আমি দাবি করছি না যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি হয়েছে। নিত্যপণ্য আমদানি নির্ভর একটা দেশে এভাবে সরকার পতন হলে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়ে যায়। সেই জায়গা থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি। … মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়তো সরকারের গতি ৮০ কিলোমিটার হলে ভালো হতো। আমরা হয়তো ৪০-৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারছি। ৮০ কিলোমিটার গতিতে উঠতে গেলে আমাদেরকে সময় দিতে হবে।

… আমরা কী ভারতের সঙ্গে মারামারি করতে গিয়েছি? গালি দিয়েছি? একটা উদাহরণ দেন। আমরা সমতার ভিত্তিতে সম্পর্কের কথা বলেছি। এটা কী খারাপ কথা? … আমি তো আমাদের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে কোনো গণ্ডগোল দেখি না। তারা এত বড় দেশ, তাদের সঙ্গে আমি কেন গণ্ডগোল করতে যাবো? …”

আনু মোহাম্মদের : Daily Star কলাম থেকে , সাম্রাজ্যবাদ যুদ্ধ ও জগতে ন্যায়ের সংগ্রাম , World Day of Social Justice

২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২০ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবস। যার লক্ষ্য হলো সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং বেকারত্ব মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এটি মূলত বৈশ্বিক সম্প্রীতি গঠন, বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র্যতা লাঘব এবং একটি ন্যায়সঙ্গত সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে গুরুত্ব দেয়।কিন্তু এই নির্দিষ্ট দিনের বাইরেও সামাজিক ন্যায়বিচার বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিভিন্ন দেশে প্রায় প্রতিদিনই মানুষ তাদের নিজস্ব বাস্তবতা অনুযায়ী ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরে। বড় বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ক্ষমতা, শাসক শ্রেণির ভূমিকা, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আধিপত্য, কিংবা জনগণ ও পরিবেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর দখলদারি নিয়ে প্রশ্ন না তুললে আন্তর্জাতিক সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণাটি অর্থবহ হতে পারে না। তাই এই প্রশ্ন আমাদের দেশে যেমন জরুরি তেমনি বৈশ্বিক পর্যায়েও তোলা উচিত।

আমরা জানি বৈশ্বিকভাবে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ বা ব্যয়ের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হলো মানুষকে ধ্বংসের জন্য তৈরি শিল্প! অর্থাৎ যুদ্ধশিল্প, অস্ত্রশস্ত্র, এবং নজরদারি ব্যবস্থা। বর্তমানে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। যার ৫০ শতাংশের বেশি ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে করে থাকে। এই বিপুল অর্থব্যয় যুদ্ধ, সহিংসতা এবং দমনমূলক কার্যক্রমকে চালিত করে। যেগুলো আবার বিভিন্ন দেশে স্বৈরাচারী শাসনকে শক্তিশালী করে এবং জনগণ ও পরিবেশবিরোধী কর্পোরেট শক্তির আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে আমরা এটি ইরাক, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় প্রত্যক্ষ করেছি। নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন দেশে যুদ্ধবাদী গোষ্ঠীগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা বিশ্বব্যাপী এই শোষণ কাঠামোকে আরও প্রসারিত করেছে। এই সম্প্রসারণের পাশাপাশি, আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন দেশে লুটেরা অভিজাতদের উত্থান এবং স্বৈরাচারী, একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বিস্তার।

এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সামাজিক ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই যখনই আমরা আন্তর্জাতিক সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলি তখন প্রথমেই এই বৈশ্বিক অপশৃঙ্খলা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা অপরিহার্য। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে জনগণের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন এজেন্ডা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে ধরলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শই ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন ও আধিপত্যমুক্ত একটি সমাজ গঠন করা। কিন্তু যুদ্ধোত্তর সময়ে আমরা নানা পর্যায়ে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি। এর মধ্যে এমন এক শ্রেণি তৈরি হয়েছে যাদের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। যার ফলে বৈষম্য ও দারিদ্র্যতার হার আরও বেড়েছে। টেকসই উন্নয়নের বদলে আমরা টেকসই দারিদ্র্যের দিকে এগিয়েছি। পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে এবং জাতিগত, শ্রেণিগত ও ধর্মীয় বিভাজন আরও গভীর হয়েছে।

ভারতের দিকে তাকালেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই। চরম দারিদ্র্য ও অসমতা সত্ত্বেও কিছু ভারতীয় নিয়মিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে দেশটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাসের স্থান হিসেবেও পরিচিত। যেখানে ব্যাপক বৈষম্য ও বঞ্চনা বিরাজমান। পাশাপাশি রাষ্ট্রের সামরিকায়নও সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এমনই এক বাস্তবতা পাকিস্তানেও। সেখানে ক্রমাগত সামরিকায়ন চলছে, দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়ে চলেছে। সাথে রাষ্ট্রশক্তি মূলত সামরিক বাহিনীর হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে সাধারণ জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের নির্বাচনের পর বৈশ্বিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী মানুষের সংহতি ও ঐক্যের পরিবর্তে ক্রমবর্ধমান মার্কিন আধিপত্য এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কারণে নতুন এক বৈশ্বিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসন, ঔপনিবেশিক দখলদারত্ব ও গণহত্যা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ৪৫,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের দায়ীদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছে, সম্মানিত করেছে এবং ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসন চালানোর জন্য উৎসাহিত করেছে। তবে আশার বিষয় হলো এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। অনেক ইহুদি ধর্মীয় নেতা ও ব্যক্তি ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বহু দেশে বড় আকারের বিক্ষোভঅনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জনগণ ইসরায়েলের গণহত্যা ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

এই প্রতিবাদ ও সংহতি যুদ্ধ, আগ্রাসন, নতুন ঔপনিবেশিকতা, নিওলিবারেল দখলদারত্ব এবং পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিরোধের চিত্র তুলে ধরে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জনগণের আন্দোলন ও সংহতি প্রকৃত অর্থেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আমরা চারটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিণতি অনুমান করতে পারি। প্রথমত, বিশ্বব্যবস্থা আরও ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন একটি চরম ফ্যাসিবাদী শক্তি বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তার করবে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বে একাধিক শক্তিকেন্দ্র তৈরি হতে পারে যেখানে বিভিন্ন শক্তি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে এবং একক আধিপত্য থাকবে না।

তৃতীয়ত, পরিবর্তনের লড়াই আরও তীব্র হতে পারে, যেখানে শাসক ও জনগণের মধ্যে সংঘর্ষ চলতেই থাকবে। চতুর্থত, বিশ্বব্যবস্থার বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই চারটি সম্ভাবনার মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার সমতা এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে বৈশ্বিক শাসকশ্রেণির পুঁজিবাদী আগ্রাসনকে প্রতিহত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। বর্তমান বিশ্ব এক অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন। পরিবেশ ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সংকট তীব্র হচ্ছে। সারা বিশ্বে নিরাপত্তাহীনতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং মানুষের জীবনমান ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশ আন্দোলন এক শক্তিশালী পরিবর্তনশীল শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক সমতার আন্দোলন মিলিত হয়ে আন্তর্জাতিক জনশক্তি গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করছে যা বৈশ্বিক পর্যায়ে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। তবে যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলে তারা প্রায়ই অন্যায় সৃষ্টিকারীদের সঙ্গেই আপস করে। ফলে আন্তর্জাতিক সামাজিক ন্যায়বিচারের এজেন্ডা এবং এই দিবসের তাৎপর্য অনেকাংশে অর্থহীন হয়ে পড়ে। এই বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবসের দিনটিকে অর্থবহ করতে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রতিটি দেশে প্রকৃত সংগ্রামের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী জনগণের মধ্যে দৃঢ় সংহতি গড়ে তুলতে হবে।

তবে যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলে তারা প্রায়ই অন্যায় সৃষ্টিকারীদের সঙ্গেই আপস করেএই বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবসের দিনটিকে অর্থবহ করতে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রতিটি দেশে প্রকৃত সংগ্রামের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী জনগণের মধ্যে দৃঢ় সংহতি গড়ে তুলতে হবে।ফলে আন্তর্জাতিক সামাজিক ন্যায়বিচারের এজেন্ডা এবং এই দিবসের তাৎপর্য অনেকাংশে অর্থহীন হয়ে পড়ে।

নস্টালজিয়া একসময়ের রোগ , আজকের আবেগ

নস্টালজিয়া শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে পুরনো দিনের স্মৃতি ভেসে ওঠে। এটি এমন এক অনুভূতির নাম যা অতীতের কোনো বিশেষ সময়ের প্রতি গভীর আবেগ তৈরি করে। তবে আজকের দিনে নস্টালজিয়া সাধারণ একটি আবেগ হিসেবে স্বীকৃত হলেও একসময় এটিকে মানসিক রোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। সময়ের বিবর্তনে নস্টালজিয়ার সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা বদলেছে। নস্টালজিয়া শব্দটির প্রথম ব্যবহার হয় ১৬৮৮ সালে। সুইস চিকিৎসক জোহানেস হোফারের মাধ্যমে। তিনি এটি গ্রিক শব্দ “নস্টোস” (বাড়ি ফেরা) এবং “অ্যালগোস” (ব্যথা) থেকে তৈরি করেছিলেন, বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় ‘বাড়ি ফেরার ব্যথা’। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি গুরুতর রোগ হিসেবে গণ্য হতো। যার উপসর্গের মধ্যে ধরা হতো বিষন্নতা, বিভ্রান্তি, অনিদ্রা, এমনকি ক্ষুধামন্দাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘ সময় বাড়ি থেকে দূরে থাকা সৈন্য, শিক্ষার্থী এবং অভিবাসীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যেত।

১৭শ ও ১৮শ শতকে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে নস্টালজিয়াকে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। উদাহরণস্বরূপ, ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক রবার্ট হ্যামিল্টন এক সৈন্যের মধ্যে নস্টালজিয়ার তীব্র প্রভাব লক্ষ্য করেন। তিনি দেখতে পান, ওই সৈন্য তার বাড়ি ও পরিবারকে এতটাই মিস করছিলেন যে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। যখন তাকে বাড়ি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তখনই পুরোদমে তার সুস্থতা ফিরে আসে! নস্টালজিয়া রোগের প্রভাব শুধু ইউরোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আমেরিকাতেও এটি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষত আফ্রিকান ক্রীতদাসদের মধ্যে, যারা জোরপূর্বক নতুন ভূখণ্ডে আনা হয়েছিল। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় অনেক সৈন্যকেও নস্টালজিয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা যায়। এমনকি বিষণ্ণতা থেকে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল।

১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পশ্চিম ফ্রন্টে এক সৈন্যকে নস্টালজিয়ার রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যা ইতিহাসে নথিভুক্ত শেষ ঘটনা। এরপর থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি আর রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। বরং একটি মানসিক অবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বিশ শতকের শুরুতে মনোবিজ্ঞানীরা নস্টালজিয়াকে আর মানসিক রোগ হিসেবে দেখেননি। বরং গবেষণায় দেখা যায় এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। নস্টালজিয়া মানুষকে সুখের স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দেয়। যা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং সংযোগ তৈরি করতে সহায়তা করে।

নস্টালজিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত আজও বিভক্ত। কেউ মনে করেন এটি একটি ইতিবাচক আবেগ যা জীবনকে অতীত-ভবিষ্যতের সহাবস্থানে সমৃদ্ধ করে। অন্যদিকে ইতিহাসবিদ রবার্ট সন্ডার্সের মতে, নস্টালজিয়া এমন একটি মানসিক অবস্থা যা মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।



তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

সম্প্রতি এটা আর গোপন নয় যে এখন সিংহভাগ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই সংবাদ গ্রহণ করে। সংক্ষিপ্ত ক্লিপ থেকে শুরু করে বিশদ বিশ্লেষণ এবং পডকাস্ট পর্যন্ত সংবাদ গ্রহণ এবং প্রচারের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা উপেক্ষা করা যায় না। রাজনৈতিক সংবাদের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। যখন আমরা এক সময়কার উত্তপ্ত রাজনৈতিক আলোচনার কথা ভাবি তখন আমাদের মাথায় চায়ের দোকানের তর্ক-বিতর্ক আসতে পারে। তবে বাস্তবে, আজকালকার বেশিরভাগ সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনা সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়। মতাদর্শগত বক্তব্য, তথ্যভিত্তিক পোস্ট বা প্রচলিত গণমাধ্যমের টক শো এবং সংবাদ বিশ্লেষণ – তরুণরা মূলত অনলাইনের মাধ্যমেই এসব গ্রহণ করে। যেভাবে দ্রুত কনটেন্ট তৈরি এবং প্রচার হচ্ছে তাতে বলতে গেলে প্রচলিত গণমাধ্যমও পেরে উঠতে পারছে না।

প্রকৃতপক্ষে, জেন-জি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে পছন্দ করে কারণ তারা দ্রুত, মাঠপর্যায়ের কভারেজ চায়। ছোট স্থানীয় সমস্যা হোক বা বড় জাতীয় সংকট। সোশ্যাল মিডিয়া তরুণদের দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর প্রবণতা ব্যাপক। সোশ্যাল মিডিয়া আসার আগে খবর প্রিন্ট বা সম্প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে পাওয়া যেত। তখন কিছু আন্দোলন সংবাদ কভারেজ পেত আবার কিছু পেত না।সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এই সমস্যা বদলেছে। ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এসব আমাদের দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়ে পরে ব্যাপকভাবে জনসমর্থন পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স ও মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া তাসরিক বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া আন্দোলনের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করার ভূমিকা পালন করেছে। অনেক প্রচলিত সংবাদমাধ্যম ভুল তথ্য ছড়ানোর ফলে মানুষ আরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে। আমি ফেসবুকে এক ভিডিও পোস্ট করেছিলাম যেখানে টি.এস.সি. এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। এক ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি ১০ হাজার রিঅ্যাক্ট এবং এক মিলিয়ন ভিউ পায়। বিভিন্ন সূত্র থেকে আসা ছোট ভিডিওগুলো আন্দোলনকে উত্তপ্ত করতে সাহায্য করেছিল।”

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী আশফি ইসলাম বলেন, “আমরা বেশিরভাগ তথ্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই পেয়েছি। আমার বয়সী অনেকেই প্রচলিত সংবাদমাধ্যম দেখে না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই একসাথে ঐক্যবদ্ধ ছিল। যখন সবাই একই ভিডিও শেয়ার করতে শুরু করল তখন আন্দোলনকে আর উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না।” সোশ্যাল মিডিয়া তুলনামূলকভাবে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের চেয়ে ভালোভাবে প্রতিবাদকারীদের সংগঠিত করতে পারছে। মেডিকেল শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের একটি বড় কারণ হলো নাম গোপন রাখার সুবিধা। প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে কথা বলার ঝুঁকি থাকে, এটি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু অনলাইনে কথা বলার ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কম থাকে এবং এটি আন্দোলনের জন্য ব্যাপক সমর্থন তৈরি করে।”

খুলনার একজন শিক্ষার্থী নোমায়ের নেহাল বলেন, “জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আমাদের আন্দোলনকে কভার করেনি। কিন্তু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং ফেসবুক-ভিত্তিক সংবাদ পেজগুলো আমাদের প্রতিবাদ সম্পর্কে সবাইকে আপডেট দিয়েছে।” জাকারিয়া বলেন, “তরুণদের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা সফল ছিল। ফেসবুক-ভিত্তিক কর্মীরা সবাইকে এক্স (পূর্ববর্তী টুইটার) ব্যবহার করতে অনুরোধ করে। শেষ পর‍্যন্ত আল জাজিরা আমাদের দেশের প্রাক্তন মন্ত্রীদের সাক্ষাৎকার নেয়। এমনকি সরকার পুরো দেশের ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এটাই সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তি বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।” অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক আন্দোলন পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। কারণ এটি যেমন সহিংসতা ও ঘৃণার প্রচার ঘটাতে পারে, তেমনি ভুল তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।

মুজাহিদ বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য যাচাই করা হয় না এবং কোনও ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানোর ক্ষেত্রেও দ্রুত কার্যকর হয়ে যায়। মানুষ অনেক সময় প্রোপাগান্ডা বলয়ে আবদ্ধ হয়ে গিয়ে আর সত্য যাচাইয়ের সুযোগ পায় না।”তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে সকলকে সংঘটিত রাখবে। সচেতনতা ও যথাযথ যাচাই-বাছাই বজায় রেখে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার করলে তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আওয়ামী লীগের যারা অপরাধী নন , ক্ষমা চাইলে রাজনীতিতে ফেরানোর ভাবনা

জুলাই গণহত্যা, গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত নন, এমন আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমা চাইলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর প্রস্তাবে এ রকম চিন্তাভাবনাই করছে অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও অপরাধী নন, এমন নেতাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিতে ‘রিডিম এবং রিকনসিলিয়েশন’- এ রাজি। তবে সন্দেহ ও আপত্তি রয়েছে বিএনপির তরফ থেকে। দলটি ছাত্রনেতাদের এ চাওয়াকে নতুন দল গঠনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। জামায়াতের ভাষ্য, আগে দায়ীদের চিহ্নিত ও বিচার করা হোক; তারপর ক্ষমার চিন্তা হতে পারে।

একাধিক ছাত্রনেতা সমকালকে বলেন, অপকর্মের অভিযোগ নেই এমন নেতাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে ক্ষমা চাওয়া অংশকে অবশ্যই শেখ হাসিনা এবং তাঁর অনুগতদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখতে হবে। একাধিক রাজনৈতিক সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, ক্ষমার সুযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা রয়েছে। যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে, তারা হবে একটি দল। যারা ১৫ বছরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইবে, তারা হবে আরেকটি দল। ক্ষমা চাওয়া অংশের রাজনীতিতে ও নির্বাচনে অংশ নিতেও বাধা থাকবে না।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ করেছেন, কিন্তু কোনো অন্যায় এবং গণহত্যা কিংবা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তারা ক্ষমা চেয়ে আবার মূলধারায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেন।’ বুধবার বলেন, ‘…এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে স্বচ্ছ, উন্মুক্তভাবে এবং ধাপে ধাপে। ট্রুথ কমিশন কিংবা বিশ্বের যেসব নজির রয়েছে তা অনুসরণ করে।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের অবসানের পর জাতীয় ঐক্যের জন্য নোবেলজয়ী ডেসমন্ড টুটুর নেতৃত্বে ‘ট্‌রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ সত্য এবং অনুশোচনা প্রকাশের কারণে কমিশন ৮৪৯ জনকে ক্ষমা করে। ছাত্রনেতারা প্রায়ই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করার কথা বলেছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও অপরাধী নন, এমন নেতাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিতে ‘রিডিম এবং রিকনসিলিয়েশন’- এ রাজি তবে সন্দেহ ও আপত্তি রয়েছে বিএনপির তরফ থেকে। দলটি ছাত্রনেতাদের এ চাওয়াকে নতুন দল গঠনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। জামায়াতের ভাষ্য, আগে দায়ীদের চিহ্নিত ও বিচার করা হোক; তারপর ক্ষমার চিন্তা হতে পারে।