Home Blog Page 193

বাংলাদেশসহ গরীব দেশগুলো বিদেশি ঋণের ফাঁদে : একশনএইড রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল – এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – বাংলাদেশ ‘উন্নয়নের নামে’ প্রায় ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের ফাঁদে জর্জরিত। অথচ ১৯৯২ সাল থেকে নিঃসরণ (২০১০ সালের মার্কিন ডলার সমতুল্যে) বিবেচনায় দূষণকারী ও ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে নিম্ন পরিসরের অনুমানেও বাংলাদেশের ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জলবায়ু ক্ষতিপূরণ পাওনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ‘হু ওউজ হু’ নামের এই বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে জরুরি ভিত্তিতে এই বিদেশি ঋণ প্রত্যাহারের আহ্বান এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বের ৫৪টি নিম্ন আয়ের দেশ বিদেশি ঋণের ফাঁদে জর্জরিত। দেশগুলো জাতীয় উন্নয়ন বিসর্জনের বিনিময়ে ধনী দেশগুলোর কাছে পরিশোধ করেছে ১৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে জলবায়ু দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ধনী দেশগুলো কাছে বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ১০৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওনা বলে সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের বিদেশি ঋণ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৭০ গুণ বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়- ধনী দেশ, বেসরকারি ঋণদাতা এবং বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জলবায়ু কর্মসূচিসহ অপরিহার্য সরকারি সেবাসমূহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে বলা হয়েছে, এ সময়ে জাতীয় রাজস্বের ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থ গেছে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পেছনে, যেখানে দেশের স্বাস্থ্যখাতে মাত্র ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং শিক্ষাখাতে মাত্র ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ অর্থ খরচ করা হয়েছে।


রাখাইনে আরাকান আর্মির আধিপত্য , বাংলাদেশের জন্য সংকট ও সম্ভাবনা

প্রতিষ্ঠার মাত্র ১৫ বছরের মাথায় পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে আরাকান আর্মি (এএ)। বর্তমানে গোষ্ঠীটি রাজ্যের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ টাউনশিপের মধ্যে ১৫টি এবং পুরো অঞ্চলের ৯০ শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ছাড়া, গোষ্ঠীটি বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছে। আরাকান আর্মি তাদের রাজনৈতিক শাখা আরাকান পিপলস রেভল্যুশনারি গভর্নমেন্টের (এপিআরজি) মাধ্যমে রাখাইনের বিচারব্যবস্থা থেকে জনস্বাস্থ্য পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা করছে। আর এই বিষয়টি তাদের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন ও কনফেডারেট রাজ্যের মর্যাদা অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে স্পষ্ট করছে।

রাখাইন রাজ্যের কৌশলগত অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং চীন- সমর্থিত অবকাঠামোর নৈকট্য এএ-এর উত্থানকে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। এই পরিবর্তন সংলাপ ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। এএ-এর দ্রুত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জান্তা বাহিনী ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রাখাইনের অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মতো রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যোদ্ধাদের নিয়োগের মাধ্যমে তারা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করছে।

এই কৌশল রাখাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে জাতিগত বিভাজন আরও গভীর করেছে এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়ে সংঘাতের চক্রকে দীর্ঘায়িত করছে। আরাকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও ঐতিহাসিক ক্ষোভে জর্জরিত। জাতিগত জাতীয়তাবাদের ফলে রোহিঙ্গাদের প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এএ-এর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো এই বিভাজনকে আরও গভীর করেছে। বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়োগকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা সংঘাতের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।জোরপূর্বক নিয়োগ এবং নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে সামরিক জান্তার পক্ষে টেনে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি এএ এমন বার্তা দিয়েছে, যেখানে তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখাইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং রাজনৈতিক সংলাপের জন্য খোলা দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে, যা তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রশাসনিক কাঠামোয় রোহিঙ্গাদের বৃহত্তর সংযুক্তি এবং ন্যায়সংগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করলে পারস্পরিক আস্থা ও সহাবস্থানের ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এএ, রোহিঙ্গা নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে সংলাপ সহজতর করা হলে সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ শাসন কাঠামো গড়ে তোলা গেলে রাখাইন দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতার পথে এগোতে পারবে।

এএ-এর প্রতি কিছুটা নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন কৌশলগত সুযোগ খুঁজে পেতে পারে। যেমন – মানবিক করিডর স্থাপন, সীমান্ত নিরাপত্তা সম্পর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান এবং এএ-এর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পথ প্রশস্ত করা যেতে পারে।


নতুন বাস্তবতায় মুক্ত গণমাধ্যম : মাহফুজ আনাম , সম্পাদক ও প্রকাশক , দ্য ডেইলি স্টার

“আগে যখন সত্য বলতাম, তখন রাষ্ট্র ও সরকারি সংস্থাগুলো আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিত। এখন সত্য বললে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণার ভিত্তিতে ‘ট্যাগিং’ করে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে; তবে সেটা রাষ্ট্র করছে না।কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্ভট সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় যে ‘প্রমাণ’ উপস্থাপন করা হয়, সেগুলো মিথ্যা, অপ্রাসঙ্গিক, বিকৃত কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে করে গণমাধ্যম এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর ফলে মিথ্যাচার, অর্ধ- সত্য ও বিকৃত তথ্যে সাধারণ পাঠক বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হচ্ছেন।

… অতীতের প্রসঙ্গে বললে এটি সত্য যে, গত ১৫ বছরে বেশিরভাগ সংবাদপত্র স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেনি। তারা সেই সরকারকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছে, সত্য লুকিয়েছে, সমালোচনাযোগ্য বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে, কিংবা তথ্য বিকৃত করেছে-যাতে জনগণ সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ না করে। আমরা কয়েকটি গণমাধ্যম প্রকাশ্য ও গোপন হুমকি উপেক্ষা করেও সত্য বলার সাহস দেখিয়েছি। … আমাকে মোট ৮৪টি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ১৬টি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহের। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সংসদে দাঁড়িয়ে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘আওয়ামী লীগবিরোধী’ ও ‘জনবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে… দ্য ডেইলি স্টার বন্ধ করে দেওয়ার ও আমাকে কারাগারে পাঠানোর দাবি তুলেছেন।

… গত প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বা কোনো অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টারের কোনো প্রতিবেদককে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি…এই সময়ে প্রায় ৪০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা যেন দ্য ডেইলি স্টারে কোনো বিজ্ঞাপন না দেয়। ফলে আমাদের রাজস্ব হঠাৎ করেই ৪০ শতাংশ কমে যায়। আমাদের ওপর আওয়ামী সরকারের এই দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত। … গণমাধ্যমগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংবাদ কীভাবে প্রচার করেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা … কিছু গণমাধ্যম ভয়াবহ হুমকির মুখেও প্রতিদিন ছাত্র-জনতা হত্যার সংখ্যা প্রকাশ|

… ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৪০ জন সাংবাদিককে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে…এই ধরনের পরিস্থিতি দেখে আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, সরকার সাংবাদিকদের সঙ্গে যথেষ্ট সংবেদনশীল আচরণ করছে না। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ‘হত্যা মামলায় অভিযুক্ত’ সাংবাদিক রয়েছেন বাংলাদেশে। .. অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ-আপনারা যে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেটা প্রমাণ করতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো অবিলম্বে পর্যালোচনা করুন এবং সেগুলো গ্রহণযোগ্য আইনি মানদণ্ডে আনুন।”




আ.লীগের মৃত্যু বাংলাদেশে , দাফন দিল্লিতে : সালাহউদ্দিন আহমেদ , সাবেক প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর বেঁচে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি বর্তমানে মৃত অবস্থায় রয়েছে এবং তার দাফন কার্যকর হয়েছে ভারতের দিল্লিতে। কক্সবাজারে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে এবং জনগণকে নিঃশেষ করেছে। হাসিনা বর্তমানে বিশ্বের খুনি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। যেগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষত দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি, প্রশাসনে ফ্যাসিস্টদের উপস্থিতি, এবং নির্বাচনী রোডম্যাপের অভাব উল্লেখ করে তিনি সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের নামে সময় ক্ষেপণ না করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন, জনগণের বিরুদ্ধে যাবেন না।’ একই সঙ্গে লবণ শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কক্সবাজারে উৎপাদিত লবণ দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই বিদেশ থেকে লবণ আমদানির প্রয়োজন নেই। নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার তাগিদ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত। তিনি আরো সতর্ক করেন, কিছু উপদেষ্টা জনগণের মনোভাব বোঝেন না এবং তাদের নসিহত করা বা বিদায় দেয়ার সময় এসেছে।

জনসভায় বিএনপির অন্যান্য নেতারা জানান দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য। তাদের মতে, সরকারী কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।বিএনপি নেতা বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের একদলীয় বাকশাল কায়েমের পর এখন শেখ হাসিনার শাসনও একই পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ‘আগামী আগস্টে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কবর রচনা করবেন’, এমনটাই দাবি করেছেন তিনি। এই জনসভায় বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন নেতারা, যার মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করা।

ভাষারা হারায় কেন ? প্রতি ১৪ দিনে পৃথিবী থেকে একটি ভাষা হারিয়ে যায়

” ভাষা কেবল শব্দ নয়। এটি একটি সংস্কৃতি, একটি ঐতিহ্য, একটি সম্প্রদায়ের ঐক্য, একটি সম্পূর্ণ ইতিহাস যা সেই সম্প্রদায়কে গঠিত করে। একটি ভাষার মধ্যে এর সবকিছুই নিহিত থাকে,” We Still Live Here – চলচ্চিত্রে ভাষাবিদ নোম চমস্কি একথা বলেন।বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৭০০০-এরও বেশি ভাষা প্রচলিত রয়েছে, তবে এই সংখ্যা ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। কীভাবে এবং কেন একটি ভাষা হারিয়ে যায়? ভাষা জীবন্ত থাকে তার বক্তাদের মাধ্যমে। যারা প্রতিদিন এটি ব্যবহার করে এবং নতুন শব্দ ও অভিব্যক্তি যোগ করে ভাষাটির বিকাশ ঘটান। অন্যদিকে কিছু ভাষা শুধুমাত্র অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে প্রচলিত থাকে এবং এ কারণে সেগুলোর হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

আজকের দিনে প্রায় ৩০০০-এরও বেশি ভাষাকে বিপন্ন বলে বিবেচনা করা হয়। কোনো ভাষা যখন অন্য ভাষার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, তখন সেটি বিলুপ্তির দিকে এগোয়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কিছু ভাষা হঠাৎ করেই হারিয়ে গেছে। বিশেষত ছোট ছোট জনগোষ্ঠীর দ্বারা ব্যবহৃত বহু আদিবাসী ভাষা যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মুছে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, এল সালভাডরে লেঙ্কা এবং কাকাপেরা ভাষার সব বক্তাকে সালভাডারের সৈন্যরা হত্যা করেছিল। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাষাগুলি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়। আমেরিকা আবিষ্কারের পর, ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ ভাষা ঔপনিবেশিক প্রভাবের কারণে ধীরে ধীরে অনেক আদিবাসী ভাষার স্থান দখল করে নেয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, ভাষাগুলি বিলুপ্ত হয় যখন পরবর্তী প্রজন্ম তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ভাষায় পারদর্শিতা হারায় এবং এটি আরও মর্যাদাপূর্ণ ভাষার মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হয়। এর একটি উদাহরণ হলো সপ্তম শতকে আরবির উত্থানের ফলে মিশরে কপটিক ভাষার ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যায়। বাংলাদেশেও বেশ কিছু ভাষা বিলুপ্তপ্রায় বা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষাগুলো। নিচে বাংলাদেশের কিছু বিলুপ্তপ্রায় ভাষার তালিকা দেওয়া হলো – চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের খুমি জনগোষ্ঠীর ভাষা। খুমি ভাষাভাষীদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে, এবং তরুণ প্রজন্ম বাংলা ও মারমা ভাষার প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

একসময় উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে কোচ জনগোষ্ঠী এই ভাষায় কথা বলত। বর্তমানে অধিকাংশ কোচ জনগোষ্ঠী বাংলা ভাষার দিকে ঝুঁকেছে, ফলে ভাষাটি বিলুপ্তির পথে। নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জে বসবাসরত হাজং জনগোষ্ঠীর ভাষা। বাংলা ভাষার ব্যাপক প্রভাবের কারণে হাজং ভাষা হারিয়ে গেছে। মধুপুর গড় অঞ্চলের গারো জাতিগোষ্ঠীর একটি স্বতন্ত্র উপভাষা। এখন এটি প্রায় হারিয়ে গেছে, কারণ গারো সম্প্রদায় মূল গারো ভাষা ও বাংলার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে ধিরে ধীরে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এই ভাষায় কথা বলত। বর্তমানে ভাষাভাষীর কাউকে আর পাওয়া যায় না।

চাক ভাষার অনেক উপভাষা বাংলা ও মারমার সংমিশ্রণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। সাদ্রি ভাষা সাঁওতাল, ওঁরাও এবং কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা। যা মূলত চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত। বাংলা ভাষার প্রভাবে প্রজন্ম সাদ্রি ভাষা শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগে। আজকের বিশ্বায়ন ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এটি একরূপতা ও মানকরণের চাপ তৈরি করে। এই বৈশ্বিক প্রবণতা সংখ্যালঘু ভাষাগুলোর জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ এখন ইংরেজি আন্তর্জাতিক সংযোগের ভাষা হিসেবে সরকার, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং কূটনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব ভাষা পরিত্যাগ করে প্রধান ভাষাগুলি শেখা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

কিন্তু যখন একটি ভাষা হারিয়ে যায়, তখন আমরা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্পূর্ণ একেকটি সভ্যতা হারিয়ে ফেলি। এ কারণেই ভাষাগুলোর সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনেস্কো ২০০৫ সাল থেকে Convention on the Protection and Promotion of the Diversity of Cultural Expression চালুর মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করছে, যা সংখ্যালঘুদের তাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত কৌশল গ্রহণের অধিকার প্রদান করে। বিপন্ন ভাষাগুলোর সংরক্ষণে অনুবাদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুবাদের মাধ্যমে একটি সংখ্যালঘু ভাষা হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের কাছে পৌঁছতে পারে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, অনুবাদ ভাষাগুলোর বিলুপ্তি ঠেকাতে এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।






মধ্য ৩০ বয়সীদের জন্য ৫টি ভিন্ন শখ

আপনার ৩০ এর দশকে পা রাখা মানে এই নয় যে আপনাকে কেবল কাজ, বাড়ি, আর মাঝে মাঝে রাতের আড্ডার একঘেয়ে রুটিনে বন্দি হয়ে যেতে হবে। জীবন কাটানোর জন্য, দিন বা বছরগুলোকে একঘেয়ে ভাবে চলে যেতে দেওয়ার জন্য নয়! বিষয়টি মাথায় রেখেই এখানে দেওয়া হলো ৫ টি শখ। এর যেকোনোটি আপনি পছন্দ করতে পারেন! বংশতত্ত্ব বানানো – আপনার পরিবারের বংশপরিচয় জানার জন্য পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে গবেষণা করুন এবং একটি ফ্যামিলি ট্রি তৈরি করুন। পুরানো প্রজন্মের সঙ্গে তাদের শৈশব নিয়ে আলোচনা করা এই ট্রি-কে সমৃদ্ধ করতে পারে। পাওয়া তথ্যগুলো বইয়ে বা এ্যালবামে সংকলন করে আত্মীয়দের জন্য একটি আন্তরিক উপহার তৈরি করা যায়। যেটি পারিবারিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সহায়ক!

পাখি দেখা –
প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে ও নিরব চিন্তা করতে পাখি দেখার শখে আগ্রহী হন। গাইড এবং মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে দেখতে ও শুনতে পাখির প্রজাতি চেনার চেষ্টা করুন।
কলিগ্রাফি –
কলিগ্রাফির মাধ্যমে সুন্দর লেখার স্টাইল যেমন কারসিভএবং গথিক হ্যান্ডসে দক্ষতা অর্জন করুন। একবার অক্ষর গঠন তরল অনুভূত হলে স্টেশনারি সাজানো, ঘরোয়া শিল্প তৈরি করা এবং আরও অনেক কিছু করতে পারবেন। সম্পূর্ণ কাজগুলো ফ্রেমে সাজিয়ে প্রতিদিনের অনুপ্রেরণা এবং চর্চার জন্য রাখুন।

আরবান এক্সপ্লোরিনং –
সাধারণ দৃশ্যের বা এলাকার বাইরে গিয়ে বিল্ডিং এবং গলির মধ্যে লুকানো, ভুলে যাওয়া পুরনো জায়গাগুলো খুঁজে বের করুন যা খুব একটা দেখা যায় না। প্রবেশপথ চিহ্নিত করার জন্য সতর্ক থাকুন, কিন্তু অনধিকার প্রবেশ করবেন না! এই লুকানো জায়গাগুলোর মধ্যে সযত্নে সংরক্ষিত জীর্ণতা এবং পরিত্যাগের ভুতুড়ে ছবি তুলুন। কারণ এই ভুলে যাওয়া স্থানগুলোর আকর্ষণীয় নান্দনিকতা প্রাচীনতার প্যাটার্নে লুকিয়ে থাকে।

কোডিং –
আপনি কি কোনো ভাইরাল অ্যাপ তৈরি করতে চান? প্রথমে কোডিংয়ের মূল বিষয়গুলো শিখুন যেমন JavaScript, Python, এবং Java ভাষায়। যেগুলো টেস্ট প্রোগ্রাম এবং গেম তৈরি করে। ছোট থেকে শুরু করুন, ওপেন সোর্স প্রকল্পে বাগ ঠিক করে এবং কাঠামো বুঝে তারপর মূল আইডিয়াগুলো নিয়ে কাজ করুন। স্থানীয় কোডিং মিটআপ এবং উচ্চ এনার্জির হ্যাকাথনে যোগদানজেগুল। যাতে দক্ষতা আরও বাড়ানো যায়।

আমাদের কি আসলেই চিন্তার স্বাধীনতা আছে ? মেটা ফিজিক্স কি বলে

অস্তিত্বের প্রকৃতি মানবজাতির অন্যতম প্রাচীন এবং গভীর দার্শনিক প্রশ্ন। প্রাচীন যুগ থেকেই দার্শনিকরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন।মেটাফিজিক্স হল দর্শনের একটি শাখা যা অস্তিত্ব, বাস্তবতা, প্রকৃতি এবং পৃথিবীর অতীন্দ্রিয় অবস্থা সমূহ নিয়ে আলোচনা করে।এটি যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করে, “কীভাবে বিশ্ব কাজ করে?”, “আমরা কেমন অস্তিত্ব ধারণ করি?” ইত্যাদি।মেটাফিজিক্সের মূল আলোচনা হলো ‘অস্তিত্ব’ এবং ‘বাস্তবতা’র প্রকৃতি। তবে এক্ষেত্রে চিন্তার স্বাধীনতাও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।কারণ চিন্তা আমাদের অস্তিত্ব এবং পৃথিবীকে কিভাবে ধারণ করে তা মেটাফিজিক্সের মৌলিক প্রশ্নগুলির মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত।

মেটাফিজিক্সের দৃষ্টিকোণ থেকে দুইটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো অস্তিত্ববাদ (Ontology) এবং কসমলোজি।অস্তিত্ববাদ বস্তু বা অস্তিত্বের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে। এটি প্রশ্ন করে, ” বাস্তব আসলে কী?”, “কীভাবে বস্তু অস্তিত্ব ধারণ করে!”উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি পাথর বা একটি মানুষের অস্তিত্ব অস্থায়ীই হয়ে থাকে, তাহলে তার অস্তিত্বই বা আর কতটা গুরুত্বপূর্ণ!Cosmology বিশ্বের সৃষ্টি, তার কাঠামো এবং ব্রহ্মাণ্ডের প্রকৃতি সম্পর্কিত চিন্তা-ভাবনা। এটি মহাবিশ্বের সূচনা, গতি এবং ভবিষ্যত সম্পর্কেও আলোচনা করে। যেমন বিগ ব্যাং থিওরি।

মেটাফিজিক্সের আলোচনায় চিন্তার স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ দিক। চিন্তার স্বাধীনতা নির্ধারণ করে আমরা কীভাবে আমাদের অস্তিত্ব এবং পৃথিবীকে বুঝি। মেটাফিজিক্স যখন বাস্তবতা এবং অস্তিত্বের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে তখন এটি প্রায়ই চিন্তার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।চিন্তা এবং বাস্তবতার সম্পর্ক নানান দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা যায়। যদি আমরা বিশ্বাস করি আমাদের চিন্তা আসলেই স্বাধীন, তাহলে আমরা কি সত্যিই একে অপরকে স্বাধীনভাবে বুঝতে পারি? অথবা আমাদের চিন্তা, বিশ্বাস এবং আচরণ কি এমন কিছু শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা আমাদের স্বাধীনতার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে? যদি এটি সত্য হয়, তাহলে আমাদের চিন্তা কি আসলে স্বাধীন? নাকি আমাদের শারীরিক ও পরিবেশগত অবস্থার প্রতিফলন?

এখানে প্লেটোর তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি বিশ্বাস করতেন এই পৃথিবী কেবল একটি ছায়া, একটি চিরস্থায়ী পরিপূর্ণ এবং বাস্তব প্রকৃতির প্রতিফলন। আমাদের চিন্তা, বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতা তাঁর মতে এই ছায়াগুলোরই অংশ। যদি আমাদের চিন্তা স্বাধীন হয়ে থাকে তবে এটি সেই চিরস্থায়ী বাস্তবতার প্রতি এক ধরণের সমন্বয় হতে পারে। যা আমরা দেখি না, বরং অনুভব করি।আমাদের জানা প্রয়োজন কিভাবে আমরা চিন্তা করি এবং সেই চিন্তা আমাদের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে কিনা। আমাদের চিন্তা যদি স্বাধীন হয় তবে তা কি এক অস্বীকারযোগ্য বাস্তবতার প্রতি পৌঁছানোর পথ তৈরি করতে পারে?

এখানে রেনে দেকার্তের তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ। দেকার্তে তাঁর বিখ্যাত উক্তি “Cogito, ergo sum” অর্থাৎ “আমি চিন্তা করি, তাই আমি আছি” দিয়ে চিন্তার স্বাধীনতা এবং অস্তিত্বের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন আমাদের চিন্তা আমাদের অস্তিত্বের প্রমাণ এবং এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি আমরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারি এবং সেই চিন্তা আমাদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস তৈরি করে।উদাহরণ দিলে, আপনার শারীরিক দেহ যেভাবে কাজ করে এবং চলতে থাকে সে অনুযায়ী এটি একটি যান্ত্রিক প্রকৃতি অনুসরণ করে। তবে যখন আপনি চিন্তা করেন, আপনার অনুভূতি বা বোধ জাগ্রত হয়, তখন এটি শারীরিক দেহের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে মানসিক স্তরে অস্তিত্ব ধারণ করে। এইভাবেই দেকার্তের তত্ত্ব অনুযায়ী, আমাদের অস্তিত্ব শুধুমাত্র শারীরিক স্তরে সীমাবদ্ধ নয় বরং আমাদের মনের স্তরেও তা বিদ্যমান।

এটি মেটাফিজিক্যাল আলোচনায় চিরকালীন প্রশ্ন সৃষ্টি করে, “আমরা কি আসলেই স্বাধীনভাবে চিন্তা করি, না আমাদের চিন্তা আসলে অন্য কোনো বাহ্যিক শক্তি বা পরিস্থিতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?” মেটাফিজিক্সের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের সম্পর্কও গভীর। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান মেটাফিজিক্সের একটি আধুনিক দৃষ্টিকোণ হিসাবে দেখা যেতে পারে। কোয়ান্টাম তত্ত্বে বলা হয়েছে সমস্ত পদার্থ এবং শক্তি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মধ্যে কোনো সীমানা নেই। আমরা সাধারণভাবে যা বাস্তব হিসেবে জানি তা আদতে কোয়ান্টাম স্তরে এক অদ্ভুত পরস্পর সম্পর্কিত শক্তি ও পদার্থের মিশ্রণ। কিন্তু এই বাস্তবতা আমাদের দৈনন্দিন চোখে স্পষ্ট নয়।

এখানে চিন্তার স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ আমাদের মানসিক প্রক্রিয়া, বিশ্লেষণ এবং বিশ্বাসও এই অদ্ভুত কোয়ান্টাম স্তরের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। আমাদের চিন্তা বাস্তবতার সাথে সম্পর্কিত এবং সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি কোয়ান্টাম স্তরে গিয়ে স্বাধীন হতে পারে না। চিন্তার স্বাধীনতাকে যদি কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় তবে এটি যে অমীমাংসিত প্রশ্ন তৈরি করে সেটি হলো আমাদের চিন্তা কি আসলেই স্বাধীন? না এটি শারীরিক এবং শক্তির স্তরে নিঃশেষিত? ধর্মীয় মেটাফিজিক্সে চিন্তার স্বাধীনতা আরও জটিল। যদি ঈশ্বর বা পরম শক্তি সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী হয় তবে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা কোথায় যায়? বিভিন্ন ধর্মীয় দার্শনিকরা একে অপরের সঙ্গে এই প্রশ্ন নিয়ে বহু তর্ক করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্মে ঈশ্বরের সর্বশক্তিমানত্বের ধারণা রয়েছে যেখানে ঈশ্বরই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।এক্ষেত্রে চিন্তার স্বাধীনতা এবং ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে কি সম্পর্ক? যদি ঈশ্বর সমস্ত কিছু জানেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা কীভাবে সম্ভব? এটি মেটাফিজিক্সের একটি প্রধান প্রশ্ন যেখানে মানুষের স্বাধীনতা এবং ঈশ্বরের পরিকল্পনা নিয়ে তর্ক চলতেই থাকে।

ড. সুভাষ মজুমদারের দৃষ্টিতে : বাংলার লোকসাহিত্য

বাংলার সাহিত্য ঐতিহ্য বহুকাল ধরে লোকসংস্কৃতির গভীর ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গ্রামবাংলার মানুষের জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, সংস্কার, আনন্দ-বেদনা, সংগ্রাম ও স্বপ্ন-এসব কিছুর সমষ্টিগত রূপই বাংলার লোকসাহিত্য। এই বিশাল ও বিচিত্র লোকসাহিত্যের এক অনবদ্য বিশ্লেষণ পাওয়া যায় ড. সুভাষ মজুমদারের “বাংলার লোকসাহিত্য” গ্রন্থে। ড. সুভাষ মজুমদার তাঁর বইতে লোকসাহিত্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে একে মৌখিক সাহিত্য, সামাজিক চেতনার বাহক এবং প্রাচীন ও আধুনিক ধ্যানধারণার সংমিশ্রণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি লোকসাহিত্যকে সমাজের মৌলিক চিন্তাধারা ও সংস্কৃতির প্রতিফলন হিসেবে দেখেন। যেখানে সাধারণ মানুষের আবেগ ও চিন্তাভাবনা প্রাধান্য পায়। তাঁর মতে লোকসাহিত্য এক নিরবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয় এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন রূপে প্রকাশ করে।

ড. মজুমদার বাংলার লোকসাহিত্যকে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শাখাগুলো হলো:
লোকগাথায় পাওয়া যায় বাংলার বীরত্বগাথা ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির প্রতিচিত্র। যেমন, ময়মনসিংহ গীতিকা, চট্টগ্রামের আরাকানী উপাখ্যান ইত্যাদি।
লোককাহিনি ও রূপকথা ছোটদের জন্য নির্মিত হলেও এসব কাহিনি প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের পরিচায়ক।
লোকগানে ভাটিয়ালি, ভাবগান, জারি, সারি, বাউল গান ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রামবাংলার সুখ-দুঃখ, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা এবং জীবনের রূপ তুলে ধরা হয়।
প্রবাদ-প্রবচন ও ধাঁধা মাধ্যমে সমাজের শিক্ষণীয় দিকগুলো প্রতিফলিত হয়।
লোকনাট্য ও পালাগানে বাংলার মঞ্চনাট্যের প্রাথমিক সংস্করণ ছিল যাত্রাপালা, গম্ভীরা, আলকাপ, যা সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল।

ড. সুভাষ মজুমদার মনে করেন বাংলার লোকসাহিত্য কেবল বিনোদনের জন্য নয়। এটি সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লোকসাহিত্যের মাধ্যমে সমাজের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠিত হয়, ইতিহাস সংরক্ষিত হয় এবং মানুষ তার শেকড়ের সন্ধান পায়।
আধুনিক যুগে লোকসাহিত্যের অবস্থান নিয়েও আলোচনা করেছেন ড. মজুমদার। তিনি বলেন গ্রামবাংলার জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসার ফলে লোকসাহিত্য আগের মতো প্রচলিত নেই। তবে এটি এখনো সাহিত্য, সংগীত ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টিকে আছে। “বাংলার লোকসাহিত্য” বইটি কেবল বাংলার লোকসংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দান করে না। এটি আমাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বানও জানায়। ড. সুভাষ মজুমদারের এই গ্রন্থ লোকসাহিত্যের মূল্য ও গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য এক অনন্য দলিল।



‘ডিকটেটর জেলেনস্কি’র উচিৎ হয়নি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া : ট্রাম্প

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘ডিকটেটর’ অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে তিনি বাজে কাজ করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ ও এক্সে তিনি লিখেছেন- ‘মাঝারি সাফল্যের এক কৌতুক অভিনেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে রাজি করিয়েছেন এমন এক যুদ্ধের জন্য যেখানে জেতা সম্ভব নয়, যেটা শুরু করাই উচিৎ হয়নি এবং যেটা যুক্তরাষ্ট্র ও “ট্রাম্পকে ছাড়া মীমাংসা করার ক্ষমতাও তার নেই।’

‘যুক্তরাষ্ট্র (এই যুদ্ধে) ইউরোপের চেয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করেছে, ইউরোেপ তাদের উশুল আদায় করে নিতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্র কিছুই ফেরত পাবে না। অথচ এই যুদ্ধ আমাদের চেয়ে ইউরোপের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ-আমাদের আলাদা করেছে মাঝের বিশাল, সুন্দর মহাসাগর। অথর্ব জো বাইডেন অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কেন সমতা দাবি করেননি? তার ওপর জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে আমরা তাকে যে অর্থ দিয়েছি তার অর্ধেকরই ‘হদিস নেই’। তিনি নির্বাচন দিতেও রাজি হননি, কারণ ইউক্রেনের জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা খুবই কম এবং তিনি কেবল বাইডেনকে ‘বাদ্যযন্ত্রের মতো বাজানো’তে নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন।’

নির্বাচন না দেওয়া ডিকটেটর জেলেনস্কি যদি দ্রুত সব সমাধান না করেন, তাহলে তার কাছে আর কোনো দেশই থাকবে না। এরই মধ্যে আমরা সফলভাবে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করছি এবং যে বিষয়টি সবাই স্বীকার করে যে একমাত্র “ট্রাম্প” এবং ট্রাম্প প্রশাসনই এটা করতে পারবে। বাইডেন কখনো চেষ্টা করেননি, ইউরোপ শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জেলেনস্কি সম্ভবত এই চান এই পরিস্থিতি চলতে থাকুক।’ আমি ইউক্রেনকে ভালোবাসি, কিন্তু জেলেনস্কি এক ভয়াবহ কাজ করেছেন। তার দেশ বিধ্বস্ত, লাখো মানুষ অকারণে মারা গেছেন এবং এই ধ্বংসযজ্ঞ এখনো চলছে…।’ উল্লেখ্য, গত বছর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলনস্কির পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এতদিন ইউক্রেনকে তহবিল ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে; কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ নীতি পরিবর্তন করেছে এবং ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষ বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ

গাজাযুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। দেশটিতে গত বছর মুসলিমবিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ছয় হাজার, যা এর আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি থেকে সংঘটিত নানা ঘটনার ওপর নজর রাখে এমন একটি সংগঠন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ‘টেল মামা’ নামের এ সংগঠনের যাত্রা শুরু ২০১২ সালে। তারা বলেছে, গত বছর নারীদের তুলনায় মুসলিমবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের শিকার বেশি হয়েছেন পুরুষেরা।প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজাযুদ্ধ শুরু হওয়া ও সাউথপোর্ট হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষী কথাবার্তা অনেক বেড়েছে, মুসলিমদের সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলেও মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে।

সরকারের একজন মুখপাত্র এ পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক ঘটনা যেখানেই ঘটুক সরকার তা নির্মূল করতে চায়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষের ৬ হাজার ৩১৩টি ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। এসব ঘটনার মধ্যে ৫ হাজার ৮৩৭টি অভিযোগ যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছে টেল মামা।প্রত্যক্ষ যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল বিদ্বেষমূলক আচরণ, শারীরিক নিপীড়ন, বৈষম্য ও ভাঙচুরের। অধিকাংশ হামলা হয়েছে সড়ক ও উদ্যানের মতো খোলা জায়গায়, যেখানে লোকসমাগম বেশি থাকে। কর্মক্ষেত্রে এমন ঘটনা কম ঘটেছে।সাউথপোর্ট হত্যাকাণ্ড হয় গত বছরের জুলাই মাসে। সেখানে একটি নাচের ক্লাসে তিনটি ছোট্ট মেয়েকে হত্যা করা হয়। গত বছর ইসলামভীতি থেকে অনলাইনে মুসলিমবিদ্বেষের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার অর্ধেকের বেশি ঘটেছে এ হত্যাকাণ্ডের পর।ওই হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীর পরিচয় নিয়ে অনলাইনে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিশৃঙ্খলা যুক্তরাজ্য জুড়ে ছড়ায়।