Home Blog Page 192

যুক্তরাষ্ট্রে প্রজনন হার বাড়াতে প্রোন্যাটালিজম আন্দোলন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রজনন হার রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে যা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার “প্রতিস্থাপন হার”- এর অনেক নিচে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি দুনিয়ায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে প্রোন্যাটালিজম আন্দোলন। ইলন মাস্ক যার সন্তান সংখ্যা এখন ১৩, তিনি এই আন্দোলনের প্রকাশ্য সমর্থক। এর মূল ধারণা হলো সমাজের পতন রোধ করতে বেশি করে সন্তান জন্ম দেওয়া। ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানও বলেছেন, “অবশ্যই আমরা বড় পরিবার গড়ে তুলব,” এবং তিনি পরীক্ষামূলক প্রজনন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছেন। প্রোন্যাটালিজমের অন্যতম প্রবক্তা ম্যালকম কলিন্সের মতে, অনেক প্রযুক্তি মোগল এই আন্দোলনের প্রতি গোপনে সমর্থন জানাচ্ছেন যা ব্যক্তিগত সম্মেলন ও বিনিয়োগকারীদের বৈঠকে প্রকাশ পাচ্ছে।

স্ট্যানফোর্ড থেকে এমবিএ করা প্রাক্তন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট কলিন্স বলেন, “যারা আত্মত্যাগ করতে রাজি এবং এই আন্দোলনকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করবে, তারাই ভবিষ্যতে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।” তার মতে, প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্তত অর্ধেক মানুষই প্রোন্যাটালিস্ট।৩৮ বছর বয়সি কলিন্স ও তার স্ত্রী সিমোন (৩৭) বর্তমানে পাঁচ বছরের কম বয়সি চার সন্তানের বাবা-মা এবং যতদিন সম্ভব, যত বেশি সন্তান নেওয়া সম্ভব, তা গ্রহণ করার পরিকল্পনা করেছেন। তাদের বিশ্বাস জনসংখ্যা কমে যাওয়া মানে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, সামাজিক সেবার ওপর চাপ এবং সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অবক্ষয়-এবং এসবের সমাধান ভবিষ্যতমুখী প্রজনন প্রযুক্তিতে নিহিত।

এই ইস্যুতে সচেতনতা বাড়াতে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন-নিয়মিত পডকাস্ট “বেসড ক্যাম্প”, যৌথভাবে লেখা পাঁচটি বই এবং প্র্যাগম্যাটিস্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেখানে সারোগেসি, প্রজনন প্রযুক্তি ও শিশু প্রতিপালন নিয়ে গবেষণা করা হয়।২০১২ সালে কলিন্স যখন স্ট্যানফোর্ডে এমবিএ করছিলেন, তখন সান ফ্রান্সিসকোতে সিমোনের সঙ্গে তার দেখা হয়। সিমোন, যিনি কেমব্রিজ থেকে প্রযুক্তি নীতি বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন, তিনি কখনো পরিবার গড়তে চাননি।”আমি সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় বেড়ে উঠেছি, যেখানে সবাই চায় একটা কোম্পানি শুরু করতে এবং সারা জীবন একা থাকতে,” বলেন সিমোন। যিনি সাক্ষাৎকারের সময় ট্রেডমিলে হাঁটছিলেন, পিঠে একটা শিশু বাঁধা অবস্থায়।

কিন্তু তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়, যখন ম্যালকম দক্ষিণ কোরিয়ায় এক ভিসি ফার্মে কাজ করতে যান।দক্ষিণ কোরিয়া গত বছর জনসংখ্যা সংকটকে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। কারণ অনুমান করা হচ্ছে আজকের প্রতি ১০০ জন কোরিয়ানের জন্য ভবিষ্যতে মাত্র ৪ জন নাতি-নাতনি থাকবে। প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল নবজাতকের পরিবারগুলোকে আবাসন ভাতা ও বাড়তি মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।জাপানে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় চারগুণ বেড়েছে। যেখানে শিশুর অনুপাত অর্ধেকে নেমে এসেছে ম্যালকম মনে করেন পশ্চিমা বিশ্বও একই পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান জন্মহার প্রতি নারী ১.৬, যা ২.১-এর প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন হারের নিচে।

প্রাকৃতিকভাবে সন্তান নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৭ সালে কলিন্স দম্পতি তাদের সমস্ত সঞ্চয় আইভিএফ (In Vitro Fertilization) চিকিৎসায় ব্যয় করেন।ম্যালকম বলেন, “ভ্রূণ তৈরি করা এত ব্যয়বহুল যে আমরা একটা স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে গদি পেতে থাকতাম। মানুষ বলে, ‘আমার সন্তান নেওয়ার টাকা নেই।’ কিন্তু আসলে তারা বলতে চায়, ‘আমি আমার জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করতে চাই না।”সিমোনের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। তিনি বলেন, “সংক্ষিপ্তমেয়াদী আরামের জন্য-বেশি ট্রিপ, বেশি ছুটি, ভালো বাসস্থান, ভালো খাবার-একটি নতুন মানবজীবন সৃষ্টি করার সম্ভাবনাকে ত্যাগ করা হাস্যকর।”

জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক রবিন হ্যানসন সতর্ক করেছেন, “জনসংখ্যা হ্রাস অর্থনীতিকে উল্টে দিতে পারে এবং উদ্ভাবন থমকে যেতে পারে।”এই উদ্বেগই প্রযুক্তি বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বদের আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট করছে। ইলন মাস্ক ২০২২ সালে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছিলেন, “কম জন্মহারজনিত জনসংখ্যা পতন সভ্যতার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও বড় হুমকি।”প্রোন্যাটালিজম এতটাই তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে যে তারা নতুন একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন-“টেকনো-পিউরিটানিজম”।প্রোন্যাটালিজম এতটাই তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে যে তারা নতুন একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন-“টেকনো-পিউরিটানিজম”।

তাদের অনুসারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন-যারা তাদের ফাউন্ডেশনকে উইলে উপকারভোগী হিসেবে রাখবে, তাদের সম্পূর্ণ জিনোম সংরক্ষণ করা হবে ভবিষ্যতে মানব বা এআই পরিবেশে তা ব্যবহার করার জন্য। ম্যালকম বিশ্বাস করেন তারা ও সিমোন একরকম প্রযুক্তিগত “আদম ও হাওয়া” হয়ে উঠতে পারেন। তিনি বলেন, “যদি আমরা আট সন্তান নেই এবং আমাদের প্রজন্মগত সংস্কৃতি তৈরি করি তাহলে মাত্র ১১ প্রজন্ম পরে আমাদের বংশধরের সংখ্যা বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে।”

প্রোন্যাটালিজম এতটাই তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে যে তারা নতুন একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন-“টেকনো-পিউরিটানিজম”।প্রোন্যাটালিজম এতটাই তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে যে তারা নতুন একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন-“টেকনো-পিউরিটানিজম”।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের আইএসআই কর্মকর্তাদের কল্পিত সফর নিয়ে এবার কথা বললেন : ভারতের সেনাপ্রধান

ভারতের চিকেন’স নেক এলাকাসংলগ্ন বাংলাদেশ অংশে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কর্মকর্তারা সফর করেছেন বলে বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় গণমাধ্যম উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। এবার কল্পিত ওই সফর নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। এর আগে গত জানুয়ারিত পাকিস্তানে গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অসিম মালিক ঢাকা সফর করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে এ ধরনের কোনো সফর হয়নি বলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতের সেনাপ্রধানকে প্রশ্ন করা হয়, ‘সম্প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কর্মকর্তারা ভারতীয় সীমান্তের খুব কাছাকাছি বাংলাদেশসংলগ্ন ভারতের চিকেন’স নেক এলাকার সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে গিয়েছিলেন- এতে আপনি কি উদ্বিগ্ন?জবাবে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, ‘আমি একটি নির্দিষ্ট দেশ (পাকিস্তান) প্রসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রবিন্দু শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম। এখন সেই দেশের লোকেরা যদি অন্য কোথাও যায় এবং তারা আমাদের প্রতিবেশী (বাংলাদেশ) হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকব। কারণ, তাদের ওই মাটি ব্যবহার করে ভারতে সন্ত্রাসীদের পাঠানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। এটাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি।’

জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, (বাংলাদেশের) প্রশাসনের সঙ্গে (ভারতের) সম্পর্ক কেমন হবে, তা নির্ভর করবে সেখানে নির্বাচিত সরকার আছে কি না, তার ওপর। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সামরিক সম্পর্ক খুবই দৃঢ় বলে জানান জেনারেল দ্বিবেদী।তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের এজেন্ডা শুধু কাশ্মীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা সব সময়ই ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে।’

মহাবিশ্বের রহস্য জানার যাত্রা Large Hadron Collider

মহাবিশ্বের গোপন রহস্য উন্মোচনের জন্য বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো Large Hadron Collider (LHC)। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ও শক্তিশালী কণার ত্বরক। যেটা সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (CERN) দ্বারা পরিচালিত হয়। Large Hadron Collider একটি পার্টিকেল অ্যাকসিলারেটর, প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বৃত্তাকার সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থিত। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী চুম্বক ও উচ্চ প্রযুক্তির ডিটেক্টরের সমন্বয়ে তৈরি। আলোকের গতির কাছাকাছি গতি নিয়ে প্রোটন বা অন্যান্য ভারী আয়ন কণাকে সংঘর্ষে নিযুক্ত করতে পারে। মূলত এই সংঘর্ষের মাধ্যমে পদার্থের মৌলিক গঠন ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

LHC নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় ১৯৮০-এর দশকে এবং ২০০৮ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এটি ১০০ মিটার ভূগর্ভে চারটি প্রধান পরীক্ষণ ক্ষেত্র নিয়ে গঠিত। ২০১২ সালে LHC-এর ATLAS ও CMS পরীক্ষার মাধ্যমে হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এটি ২০১৩ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার অর্জনের পথ সুগম করে। এই কণাটি পদার্থের ভর সৃষ্টির মেকানিজম বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। LHC পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অ্যান্টি-ম্যাটার এবং ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি ও প্রকৃতি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। এটি মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কিত নতুন তত্ত্ব তৈরিতে সাহায্য করছে। LHC-এর পরীক্ষাগুলো কোয়ান্টাম ফিজিক্স, স্ট্রিং থিওরি এবং মাল্টিভার্স সম্পর্কিত তত্ত্বগুলোর পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

এতে অত্যন্ত শক্তিশালী সুপারকন্ডাকটিং চুম্বক ব্যবহার করা হয়। যা প্রায় ১.৯ কেলভিন (-২৭১°C) তাপমাত্রায় কাজ করে। এই চুম্বক কণাগুলোর গতিপথ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। LHC-তে সংঘর্ষের পর সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কোটি কোটি কণার ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। GRID computing system ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা এই তথ্য বিশ্লেষণ করেন। বর্তমানে খঐঈ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে High-Luminosity LHC (HL-LHC) নামে একটি উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজ চলছে। এটি ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হবে এবং কণা পদার্থবিদ্যায় নতুন যুগের সূচনা করবে।

LHC নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনাও রয়েছে। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন উচ্চ শক্তির কণা সংঘর্ষের ফলে মাইক্রো ব্ল‍্যাক হোল তৈরি হতে পারে। এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তবে ঈঊজঘ এই আশঙ্কাগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মনে করে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। Large Hadron Collider আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। এটি পদার্থবিদ্যার বহু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও মহাবিশ্বের গোপন রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার ফলে এই গবেষণা কেন্দ্র আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে আরও সম্প্রসারিত করবে।

নিত্যদিনের ফ্যাশনেবল টোট ব্যাগ

টোট ব্যাগ এখন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি ফ্যাশন অনুষঙ্গ। এই ব্যাগের আকৃতি সাধারণত বড় হয় এবং এর হাতল মাঝারি থেকে বড়। এর আকার চতুর্ভুজ, ত্রিভুজ, গোলাকার বা অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে।১৮ শতকে টোট ব্যাগের ব্যবহার ছিল। তবে নানা ব্র্যান্ড ও নকশার ব্যাগ বাজারে আসার পর এটি কিছুটা হারিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষত এর আকর্ষণীয় নকশার কারণে। টোট ব্যাগে রিকশা প্রিন্ট, কার্টুন, লতাপাতা কিংবা কবিতার লাইনও দেখা যায়। জামদানি মোটিফ ও নকশি কাঁথা ডিজাইনের ব্যাগও খুবই জনপ্রিয়।

এই ব্যাগ চামড়া, ডেনিম, পাট দিয়ে তৈরি হয় এবং বিভিন্ন ডিজাইন করে সেগুলোকে আকর্ষণীয় করা হয়। টোট ব্যাগের আকার ও ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন এটি পুরুষ ও মহিলাদের জন্য সমানভাবে উপযোগী। সাদা এবং কালো রঙের টোট ব্যাগের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব রং যেকোনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়।নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য টোট ব্যাগ খুবই উপকারী। এটি বড় আকারের হওয়ায় অনেক কিছু বহন করা যায় এবং অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা ভ্রমণের জন্য আদর্শ। ব্যাগটি ধোয়া যায় তাই একে পরিষ্কার রাখা সহজ। এছাড়া এর দামও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী, হওয়া সবার কাছে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।

কার্বন ক্যাপচার জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশল

বর্তমানে প্রযুক্তি জায়ান্টরা পরিবেশগত প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডাটা সেন্টারগুলোর কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে শিল্প-পর্যায়ের কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ও ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। কার্বন ক্যাপচার হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেটা বায়ুমণ্ডলথেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহ করে এবং মাটির গভীরে সংরক্ষণ করে। যাতে এটি আর জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে। এক্সন মোবিলের একটি পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র ডাটা সেন্টারগুলোর কার্বন ক্যাপচার বাজারের প্রায় ২০% দখল করতে পারে। এই প্রযুক্তি মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে।

নির্গত গ্যাস থেকে কার্বন সংগ্রহ করে পৃথক করা। পাইপলাইন বা ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করা হয়। সংগৃহীত কার্বন মাটির নিচে ইনজেক্ট করা যা পরবর্তীতে বিভিন্ন শিল্পে পুনঃব্যবহৃত হয়। লুইজিয়ানায় নতুন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা সম্প্রতি এনার্জি কোম্পানি এন্টারজির সঙ্গে একত্রে লুইজিয়ানায় একটি কার্বন ক্যাপচার প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নির্গমন কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার সক্ষমতা। অত্যাধুনিক পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত পরিবেশবান্ধব কার্বন ক্যাপচার প্ল্যান্ট ও দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিনিয়োগ।

ডাটা সেন্টারগুলোর শক্তি চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং এর ফলে কার্বন নির্গমনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই টেক কোম্পানিগুলো কার্বন নির্গমন হ্রাসের জন্য কেবল নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকছে না, বরং কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে গুগল, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজনও নিজেদের ডাটা সেন্টারকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে কার্বন ক্যাপচার প্রকল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।গুগল গ্রীন এনার্জির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি CO₂ নির্গমন কমানোর জন্য কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।

মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্বন-নেতিবাচক (Carbon Negative) হওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।অ্যামাজন AWS (Amazon Web Services) ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর উচ্চ ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠা বড় একটি সমস্যা।

তাছাড়া ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়ানোর জন্য টেক কোম্পানিগুলো তাদের কার্বন ক্যাপচার কৌশলকে বিদ্যমান পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় করছে। ডাটা সেন্টারগুলোর টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রযুক্তি জায়ান্টদের এই উদ্যোগ আগামী দিনে জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষার একটি কার্যকর পদক্ষেপ হয়ে উঠবে। তবে এটি কতটা সফল হবে তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং এই প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতার ওপর।

শহীদ মিনারে সাংবাদিকের উপর হামলা

নাসিরনগর উপজেলার সামনে এক সাংবাদিককে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। অভিযোগ হয়েছে তিনি শহীদ মিনারে একটি ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় স্থানীয় বিএনপি নেতার নির্দেশে বিএনপির ছাত্র ও যুব দলের সদস্যরা এটি ঘটিয়েছে।ঘটনাটি ২১ তারিখ রাত ১২:১৫টার দিকে শহীদ মিনারের সামনে ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খায়রুল আলম। ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ দৈনিক কণ্ঠবেলা ও এনটিভি অনলাইনের নাসিরনগর উপজেলা সংবাদদাতা। তিনি মুখ, মাথা এবং চোখে আঘাত পেয়েছেন। তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আবদুল্লাহ বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিএনপির কর্মীরা জড়ো হয়েছিল। যখন “নাগরিক কমিটি” নামক একটি গ্রুপ একটি ফুলের তোড়া রাখার চেষ্টা করছিল তখন যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা তার সদস্য জিএম সোহেলকে আক্রমণ করেন ও তাকে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সদস্য বলে অভিযোগ করেন। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় ১০-১২ জন বিএনপি কর্মী আবদুল্লাহকে আক্রমণ করেন। যাদের মধ্যে বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কেএম বাসির উদ্দিন তুহিন এবং তার ভাতিজা কেএম মারজান ও কেএম নাসির প্রধান ছিলেন তারা তাকে বেধড়ক পেটান। বাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি বেশ কয়েকটি ফোন কলের পরেও সাড়া দেননি।

নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান বলেন, “আমি সাংবাদিকের ওপর আক্রমণের ঘটনা শুনেছি। তবে আমি শহীদ মিনারের মূল মঞ্চে ছিলাম। যেখানে ঘটনা ঘটেনি। বাসির এ ব্যাপারে ভালোভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”ওসি বলেন, পুলিশ ভুক্তভোগী জিএম সোহেলকে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহর ওপর আক্রমণের সময় হস্তক্ষেপ করেছিল। “ঘটনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে,” বলে তিনি যোগ করেন।

বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সী ৪৩% শিক্ষার্থী পঠন দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে

সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ‘রুম টু রিড’ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আয়োজনে ‘রিডিং কনফারেন্স ২০২৫’-এর ‘স্বাধীন পাঠক তৈরি: পঠন দক্ষতা ও পাঠাভ্যাস উন্নয়নে সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রয়াস’ শীর্ষক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে।অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীর ৮৫ শতাংশ বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ২০২২ অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণিতে ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণি উপযোগী বাংলা পঠন দক্ষতা অর্জন করেছে। অপরপক্ষে, ভারত, শ্রীলংকা ও ফিনল্যান্ডের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই পঠন দক্ষতা অর্জনের হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ, ৮৫ শতাংশ এবং ৯৮ শতাংশ, যা তাদের দেশের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিচ্ছবিকে তুলনামূলক তুলে ধরেছে।২০২৩ সালের বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সী ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে; যা ভারত ও শ্রীলংকার বেলায় যথাক্রমে ৩৮ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ। আর ফিনল্যান্ডের বেলায় এটি কেবল ৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে এটি ৪০ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রুম টু রিড’-এর শিশু শিক্ষার্থীদের বাংলা পঠন দক্ষতার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, আমাদের দেশে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠে শিক্ষার্থীরা শব্দ বুঝে উচ্চারণ করে মিনিটে ৩৩টি শব্দের বেশি পড়তে পারে না। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষার এই ধাপে শব্দ বুঝে মাতৃভাষা উচ্চারণ করে পড়তে পারার হার মিনিটে ৪৫ থেকে ৬০টি শব্দ।২০২২ সালের একটি গবেষণা তুলে ধরে সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশের শহরের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী একটি সাধারণ পাঠ্যসামগ্রী সুষ্ঠুভাবে পড়তে সক্ষম, যেখানে গ্রামে এটি মাত্র ৪২ শতাংশ।

২০২৩ সালে বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পঠন দক্ষতার ব্যবধান ছিল ১৫ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ১৪ শতাংশ হতে পারে। যেখানে ভারত, শ্রীলংকায় যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ৮ শতাংশ। তবে, তা ফিনল্যান্ডে মাত্র ২ শতাংশ, যা তাদের সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়। শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই উন্নয়ন, শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়ন, পঠন দক্ষতাভিত্তিক গবেষণা, পঠনদক্ষতা মূল্যায়ন, বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, বিজ্ঞানসম্মত শিখন, পাঠাভ্যাস তৈরি এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়।

ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিবের নেতৃত্ব দেওয়ার কোন প্রশ্ন ছিল না : বদরুদ্দীন উমর

“ভাষা আন্দোলনের উপর আমি বিস্তারিত কাজ শুরু করি ঊনসত্তর সালে।…বিভিন্ন পত্রিকা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ নানাভাবে আমাকে তথ্য জোগাড় করতে হয়েছে।…আমি তথ্যের বাইরে কোন কিছুই লিখিনি।… শেখ হাসিনা যেমন প্রত্যেক বছর ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বলতো, আমি নাকি ভাষা আন্দোলনে তার বাবার ভূমিকা খর্ব করেছি। কিন্তু তার বাবার কী ভূমিকা ছিল তা সে নিজেই জানে না। দুই বছর আগে সাক্ষাৎকারে সে বলেছে, আমার বাবা ভাষা আন্দোলনের জন্য বারবার জেলে গেছেন। যার কোন ভিত্তি নেই। তার বাবা ভাষা আন্দোলনের সময় বারবার জেলে যাননি। এটি ঠিক যে তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত থাকার জন্য জেলে গেছেন। কিন্তু তা ভাষা আন্দোলনের জন্য নয়। ভাষা আন্দোলনের জন্য ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ অন্য অনেকের মতো পাঁচ দিনের জন্য তিনিও জেলে গিয়েছিলেন। ১৬ মার্চ মুক্তি পেয়েছিলেন।

এছাড়া ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে শেখ মুজিবের কোন সম্পৃক্ততা ছিলোনা। বায়ান্ন সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ফরিদপুর জেলে ছিলেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে তাকে ফরিদপুরে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। ফলে ভাষা আন্দোলনে তার নেতৃত্ব দেওয়ার কথা কোন প্রশ্নই ছিল না। তাছাড়া তখনকার দিনে আওয়ামী লীগেরও তেমন গুরুত্ব ছিল না।তবে সাংগঠনিকভাবে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বায়ান্ন সালে অলি আহাদের ভুমিকাই সবচেয়ে বেশি ছিল। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে মূলত গণমানুষ সম্পৃক্ত হয়েছিল। তাই আমার বইও আমি পূর্ব বাংলার সংগ্রামী জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলাম।”

রমজান আগমনের আগে প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসের আগে চাহিদা বাড়ানোর ফলস্বরূপ প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি গত চার মাসে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজান ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবছর রমজান মাসে চিনি, মুসুর ডাল এবং রান্নার তেল সহ খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে বাড়ি ও ব্যবসায়ীরা খাদ্য সরবরাহ মজুদ করতে শুরু করেন। এই প্রবণতাটি প্রতিফলিত হয়েছে কারণ অক্টোবর ২০২৪ থেকে জানুয়ারী ২০২৫ পর‍্যন্ত মূল পণ্যের জন্য লেটার অব ক্রেডিট (খঈ) নিষ্পত্তি বেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

তথ্য অনুযায়ী রমজান মাসের আগে চাহিদা বাড়ানো, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলার পরিবর্তনের কারণে মৌলিক পণ্যের জন্য খঈ নিষ্পত্তি দ্বিপাক্ষিক বৃদ্ধির হার দেখিয়েছে। বিবি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, চিনির আমদানি ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৪,০৩৪ টন হয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩৭৮,২৬৫ টন। সয়াবিন তেলের আমদানি ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৫৯৮,২৫২ টন হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৪৪৭,৮২০ টন।তবে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি হয়েছে মুসুর ডালের আমদানিতে। যা ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৭,৮৩৭ টনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের ১১০,৩৭৮ টনের তুলনায় অনেক বেশি।

একইভাবে, ছোলা ও মটরের আমদানি যথাক্রমে ৮৫ শতাংশ এবং ৬৪ শতাংশ বেড়েছে, যা ডালের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। “ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধি এড়িয়ে চলতে এবং রমজান মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগেভাগেই তাদের আমদানি নিশ্চিত করছে,” বলেন সিটি গ্রুপের করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স পরিচালক বিদ্ধজিৎ সাহা।তিনি আরও বলেন, রমজান মাস আসন্ন হওয়ায় খঈ নিষ্পত্তির বৃদ্ধির এই প্রবণতা মূলত এই মাসের জন্য খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে। রমজান আসার সাথে সাথে সকলের নজর থাকবে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির দিকে, বলেন তিনি।

তরুণদের জন্য যৌনশিক্ষা ট্যাবু বনাম সুস্থ্যতা

কিশোর-কিশোরীরা যখন একটি নিরুদ্বিগ্ন শৈশব এবং আসন্ন প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের দায়িত্বের মাঝামাঝি বাস করে তখন বিশ্রামের সময় বলতে গেলে পাওয়াই যায় না। যখন তারা টিনএইজে পৌঁছে তখন তাদের শরীর ও মস্তিষ্ক এমন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় যা প্রায়ই ব্যাখ্যা করা হয় না বা ঠিকভাবে অনুধাবন করা হয় না। এই উদ্বিগ্ন সময়গুলোতে যৌনশিক্ষার গুরুত্ব যে কতটা অপরিহার্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যৌনশিক্ষা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা আছে। এটি আসলে কী তা বুঝতে UNICEF এর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. রিয়াদ মাহমুদ ব্যাখ্যা করেন, “যৌনশিক্ষা শুধুমাত্র যৌনতা সম্পর্কিত নয়। নিরাপদ যৌন সম্পর্ক এবং গর্ভধারণ প্রতিরোধের তথ্য ছাড়াও মানুষকে তাদের শরীর সম্পর্কে সচেতন হতে, সীমানা সম্মান করতে এবং সম্মতির গুরুত্ব বুঝতে শেখায়।”

তিনি তার গুরুত্ব সম্পর্কে আরও বলেন, “যৌনশিক্ষা কিশোর-কিশোরীদের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান, মনোভাব এবং দক্ষতা প্রদান করে। যা তাদের স্বাস্থ্য, মঙ্গল এবং মর্যাদা রক্ষা করতে সহায়ক।” বিদ্যমান একাডেমিক গবেষণা ড. রিয়াদের বক্তব্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।২০১৫ সালের ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল রিভিউ Comprehensive sexuality education (CSE) কে যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নত করার সাথে যুক্ত করেছে। যা যৌন অসুস্থতা, ঐওঠ এবং অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণের হ্রাস ঘটায় এবং নিরাপদ যৌন অভ্যাসের প্রচার করে। পাশাপাশি যৌন সহিংসতা হ্রাস এবং লিঙ্গ সমতারও উন্নয়ন ঘটায়।

তবে এত গুরুত্ব সত্ত্বেও বাংলাদেশে যৌনশিক্ষা সম্পর্কিত সরকারী নীতিমালা নেই। ড. রিয়াদ ব্যাখ্যা করেন, “যৌনশিক্ষা সরকারীভাবে উল্লেখ করা হয়নি,” এবং “বিভিন্ন কিশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে যৌনশিক্ষা এর কিছু অংশ বাস্তবায়িত হচ্ছে। যেমন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে।” তদুপরি যৌনশিক্ষা কেবল খণ্ড-খণ্ডভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) পাঠ্যক্রমের অধীনে। বেশিরভাগ বিষয়গুলি শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবন দক্ষতা শিক্ষা, কল্যাণ এবং আংশিক কিছু বইতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অনেক বাইরে পড়া ছাত্রদের জন্যও NCTB বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। উদয়ন হাই স্কুলের প্রধান জাহুরা বেগম ইউনিসেফের সহায়তায় অনুষ্ঠিত দুটি ইভেন্টের কথা উল্লেখ করেন যেখানে যৌনশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করার জন্য সেমিনার, ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন এবং আর্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ড. রিয়াদ আরও উল্লেখ করেন স্কুল ভিত্তিক কিশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচি (SBAHP) এবং জেন্ডার ইকুইটি মুভমেন্ট ইন স্কুলস (GEMS) এর মতো কার্যক্রম যেগুলো বিশেষভাবে গ্রামীণ এলাকায় সক্রিয় করা উচিত। যৌনশিক্ষা শিক্ষাক্রমের একটি অংশ দেশে এর অকার্যকর বাস্তবায়ন আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজনীয়তা জানান দেয়। ড. রিয়াদ কিছু চ্যালেঞ্জের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, “সমাজে যৌনতা সম্পর্কিত ট্যাবুর কারণে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রাথমিক প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত হলেও সেখানে স্পষ্ট যৌনশিক্ষা শব্দটি এড়িয়ে যাওয়া হয়।”

এটি কিশোর-কিশোরীদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চুপচাপ বা পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার দিকে পরিচালিত করে। যৌনশিক্ষা এর কিছু উপাদানের সূক্ষ্মতা প্রয়োজনীয়ভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আনা উচিত। যা বাস্তবায়িত হয় না বললেই চলে। ইউনিসেফের সাবেক পরামর্শক শামিমা চৌধুরী বলেন “অভিভাবকদেরও যৌনশিক্ষা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া দরকার। অন্যথায় ছাত্ররা স্কুলে যা শিখে তা বাড়িতে প্রয়োগ করতে পারে না।” তিনি বিশেষভাবে গ্রামীণ এলাকায় কমিউনিটির সমর্থনের গুরুত্বে জোর দেন। যাতে ছাত্ররা তাদের শিখিত বিষয়গুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করতে পারে।