Home Blog Page 191

চিকিৎসায় অবহেলার শিকার দেশে প্রতি তিনজনে একজন : বিবিএস জরিপ

দেশের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষের সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে অবহেলা, অযত্ন ও অপচিকিৎসার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গ্রামের চেয়ে শহরে এই হার বেশি। দেশের ৯১ শতাংশ মানুষ চান, সরকার যেন সব মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এই মন্তব্য বা মতামত উঠে এসেছে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারবিষয়ক জনমত জরিপে। কমিশনের অনুরোধে জাতীয় এই জরিপ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বিবিএস এ বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৬৪ জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের ৮ হাজার ২৫৬টি থানার ওপর জরিপ করে।

জরিপে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, গত এক বছরে তাঁরা সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে সেবা নিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে সেবা নেওয়ার হার শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি।তবে মানুষ একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যেমন সেবা নেন, তেমনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে এবং এনজিওর প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেন।জরিপে বলা হচ্ছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, গত পাঁচ বছরে তিনি নিজে বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন।

৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, চেম্বারে চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ করার বিষয়টিকে তাঁরা সমর্থন করেন না। ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন করেন, বাকি ৫ শতাংশ বলেন এটি নিয়ে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা রোগীকে বেশি সময় দেন না।সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করতে হলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে তাদের জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হবে স্বাস্থ্য খাতে; কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ মাত্র ১ শতাংশ বা তার কিছু বেশি ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছেন।

‘ ভারত কিছু একটা করবে ‘ , এই ভরসায় আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা

বিবিস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – সারা দেশে প্রবল চাপের মুখে থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকে ভারত কী ভূমিকা নিচ্ছে সেই অপেক্ষায় আছেন। অনেকের বিশ্বাস এবং প্রত্যাশা, ভারত কিছু একটা ভূমিকা রাখবে যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াবে এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকালে সেখানে তাকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের আলোচনা, বক্তব্য, মন্তব্যে ভারতের ভূমিকা নিয়ে একটা প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যায়।

নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক রাজনৈতিক কর্মী বিবিসি বাংলাকে তাদের ধারণার কথা জানান। তারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা মামলা, বিশেষ করে সনাতন বা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর – মন্দিরে যেসব হামলা হয়েছে সেটি ভারত ভালো চোখে দেখছে না এবং ভারত তাদের স্বার্থেই এ পরিস্থিতিতে কিছু একটা উদ্যোগ নেবে বলে ‘আভাস’ পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ভারত চায় একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে।

তিনি বলেন – “বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার যেই আসুক তার সঙ্গে ভারত কাজ করবে। আমার মনে হয় না সেরকমভাবে ইন্ডিয়া পার্টিকুলারলি কখনও আওয়ামী লীগের হয়ে কথা বলবে বা বলতে চাইবে। তবে জাতি হিসেবে আমরা দেখতে চাইবো প্রতিবেশী দেশে সবসময় অবাধ, সুষ্ঠু এবং বহুদলীয় নির্বাচন হোক। সেই হিসেবে চাইবো যে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগও নিশ্চয়ই পার্টিসিপেট করুক নির্বাচনে।” এদিকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো – সক্রিয় সবগুলো দল আওয়ামী লীগ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং নির্বাচন করার সুযোগ না দেয়ারও জোরালো দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত বিরোধী অবস্থানও তীব্র হয়েছে।


দেশেই ঘুরে আসুন পাঁচটি জায়গায়

আমাদের দেশে পরিচিত ভ্রমণ স্থান গুলোর মধ্যে আরো কিছু সংযোজন। এই স্থানগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং অব্যাহত প্রকৃতির মাঝে লুকানো থাকে, যা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে।

বাঁশখালী, চট্টগ্রাম – চট্টগ্রামের বাঁশখালী একটি শান্ত এবং নির্জন সমুদ্র সৈকত। এখানে কক্সবাজারের চেয়ে কম জনসমাগম থাকে। ফলে এটি তুলনামূলক কম পরিচিত সমুদ্র সৈকত। সমুদ্রের বিশালতা এবং নীরবতা আপনাকে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে। কুয়াকাটা, পটুয়াখালী – কুয়াকাটা সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর স্থানের মধ্যে একটি, যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যান্ত একসাথে দেখা যায়। যদিও এটি কিছুটা পরিচিত, তবে এটি খুব বেশি ভ্রমণকারীদের কাছে অজানা থেকে যায়।

মরিচঢালা, রাজশাহী – রাজশাহীর মরিচঢালা গ্রামটি তার অটুট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। এখানে রয়েছে শান্ত পরিবেশ, নদী এবং সমতল ভূমির সুন্দর দৃশ্য, যা একটি প্রশান্তিদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়। এখানের বিস্তীর্ণ ফসলী মাঠ যে কারো মন ভালো করে দেবে। হাওর অঞ্চল, সুনামগঞ্জ – সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলটি প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। এক ধরনের ম্যানগ্রোভ বন, উঁচু পাহাড় এবং পানিতে ভাসমান গ্রামগুলো এখানে অবস্থিত। বর্ষাকালে এই অঞ্চলের সৌন্দর্য বিশেষভাবে উপভোগ্য।

সাজেক ভ্যালি, বান্দরবান – সাজেক ভ্যালি একটি পাহাড়ি অঞ্চল, যেখানে আপনি পুরোপুরি নির্জনতায় প্রকৃতির মাঝে থাকতে পারবেন। এখানকার বৃষ্টিপাত এবং মেঘমালা অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে, যা ফটোগ্রাফি পছন্দ করা ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ স্থান। ঘাটুয়া হাওর, মাদারিপুর – মাদারিপুরের ঘাটুয়া হাওরটি এক ধরনের লুকানো রত্ন। এখানে বিস্তৃত জলাভূমি, মাছ ধরার ট্রিপ এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ রয়েছে। খুব কম মানুষই এই স্থানটি জানে, তাই এটি একটি প্রকৃত অভ্যন্তরীণ গন্তব্য হতে পারে।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, মৌলভীবাজার – মৌলভীবাজারের মাধবকুন্ড জলপ্রপাত একটি অসাধারণ স্থান, যা খুব পরিচিত নয়। এখানকার বিশাল জলপ্রপাত, ঠান্ডা বাতাস এবং আশপাশের বনভূমি ভ্রমণকারীদের জন্য শান্তিপূর্ণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এ স্থানগুলি আপনাকে দেশের সবচেয়ে অজ্ঞাত ও রহস্যময় পরিবেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেবে। যেখানে আপনি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন।

আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন এমনটা ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

প্রথম আলো রিপোর্ট – আগামী ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। কোনো কারণে ডিসেম্বরে সম্ভব না হলে নির্বাচন বড়জোর মাসখানেক পেছানো হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র থেকে জাতীয় নির্বাচনের সময় নিয়ে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। এই সূত্রগুলো বলছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পবিত্র রমজান শুরু হবে। রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর মিলিয়ে দেড়-দুই মাস সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। এরপর কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুম শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে ডিসেম্বরে সম্ভব না হলে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচন মোটামুটি নিশ্চিত। নির্বাচন কমিশন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে তারা আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন-এমনটা ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপি এবং বাম জোট ইসি-র সাথে সাক্ষাতে এ বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তারা আগে স্থানীয় নির্বাচন করার বিপক্ষে মত দিয়েছে। বিএনপি মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে গেলে সারা দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। জামায়াত চায় আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংস্কার, তারপর জাতীয় নির্বাচন। এ ছাড়া গণ অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে। তারা সংস্কার করেই নির্বাচনের কথা বলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন – সংস্কারে জোর দিলেও বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা রয়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচিত সরকার না এলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও আলোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচনের মাঠে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিপর‍্যস্ত অবস্থা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। জনপ্রশাসনেও পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফেরেনি। নির্বাচনের আগে পুলিশ ও প্রশাসনকে পুরোপুরি কার্যকর ও গতিশীল করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন – আশু ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যত দ্রুত ঐকমত্য তৈরি হবে, তত দ্রুত নির্বাচন হবে বলে তিনি মনে করেন।



কেন পড়বেন মিলান কুন্দেরার : The Unbearable Lightness of Being

মিলান কুন্দেরা এবং তার সর্বাধিক প্রশংসিত কাজ “দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং” ১৯৮৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসটি শুধু একটি আকর্ষণীয় কাহিনী নয়। এটি চেকোস্লোভাকিয়ার ঐতিহাসিক সময়কাল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক অনন্য জানালা। চেকোস্লোভাকিয়ায় ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করা মিলান কুন্দেরা তার সাহিত্যকর্মে দার্শনিকতা, রাজনীতি এবং প্রেমের বিভিন্ন দিক মিশিয়ে অসাধারণ জগত তৈরি করেছেন। দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং তাও এর ব্যতিক্রম নয়। যেখানে কুন্দেরা পাঠকদের ১৯৬৮ সালের প্রাগ বসন্ত আন্দোলন এবং কমিউনিস্ট শাসন ব্যবস্থার অধীনে জীবনকে এক অনন্য দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপন্যাসের চরিত্রগুলোর জন্য শুধু পটভূমি হিসেবে কাজ করেনি। এটি একটি চিত্রকর্মের মতো যেখানে কুন্দেরা বিশ্বজনীন থিম যেমন স্বাধীনতা, প্রেম এবং মানব অস্তিত্বের ওপর তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

জটিল এবং বহুস্তরীয় চরিত্র
জরুরি উপাদান যা দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং কে এত আকর্ষণীয় কাজ করে তোলে তা হলো এর জটিল এবং সূক্ষ্ম চরিত্রের গ্যালারি। মিলান কুন্দেরা কেবল এক-মাত্রিক চরিত্র তৈরি করেন না। তিনি এমন চরিত্র সৃষ্টি করেন যা জীবন্ত, বাস্তবিক এবং মানসিক সূক্ষ্মতার সঙ্গে পরিপূর্ণ। প্রতিটি প্রধান চরিত্র তোমাশ, তেরেজা, সাবিনা এবং ফ্রান্স – মানব অস্তিত্বের একটি ভিন্ন দিক প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের ব্যক্তিগত গল্পের মাধ্যমে বিশ্বজনীন থিমগুলো প্রতিফলিত হয়।
কুন্দেরার দর্শনশাস্ত্রের অনুসন্ধান
মিলান কুন্দেরার দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং কেবল একটি উপন্যাস নয় একইসাথে এটি একটি গভীর দর্শনশাস্ত্রের অনুসন্ধান। বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর জটিল দর্শনশাস্ত্রীয় ধারণাগুলোর অনুসন্ধান, যা সহজবোধ্য এবং আকর্ষণীয়

উপায়ে উপস্থাপিত। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য থিমগুলো হলো “অস্তিত্বের হালকাতা”, “চিরস্থায়ী পুনরাবৃত্তির” ধারণা এবং “স্বাধীনতার” ধারণা। “অস্তিত্বের হালকাতা” উপন্যাসের একটি কেন্দ্রীয় থিম, যা আমাদের জীবনের অস্থায়িতা এবং অস্থিরতার অনুভূতি অনুসন্ধান করে। কুন্দেরা এমন ধারণা পরীক্ষা করেন যে, আমাদের কর্মের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ ভার হতে পারে না, যা আমাদের দায়িত্ব এবং আমাদের পছন্দগুলোর মানে সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। এই হালকাতাকে “ভার” ধারণার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা অনিবার‍্য সিদ্ধান্ত এবং চিরস্থায়ী পুনরাবৃত্তির বোঝা হিসেবে চিহ্নিত। “চিরস্থায়ী পুনরাবৃত্তি” ধারণাটি, যা নীতসের দর্শন থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, আরেকটি প্রধান থিম যা উপন্যাসে অনুসন্ধান করা হয়েছে। কুন্দেরা এই ধারণাটি ব্যবহার করে আমাদের কর্ম এবং সিদ্ধান্তের ভার অনুসন্ধান করেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে, ঘটনাগুলোর চিরস্থায়ী পুনরাবৃত্তি তাদের গভীর অর্থ এবং বৃহত্তর ভার দেয়।

স্বাধীনতা কুন্দেরার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনশাস্ত্রীয় থিম। তার চরিত্রদের এবং তাদের পছন্দগুলোর মাধ্যমে, উপন্যাস বিভিন্ন দিক থেকে স্বাধীনতা পরীক্ষা করে: যৌন এবং রোমান্টিক স্বাধীনতা থেকে শুরু করে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা। কুন্দেরা দেখান কিভাবে স্বাধীনতা ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং জীবনচয়নের ওপর প্রভাব ফেলে, এবং কিভাবে প্রায়ই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অনুসরণ সামাজিক এবং রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে।
স্বাধীনতা এবং বাধার থিম
মিলান কুন্দেরার দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং এ স্বাধীনতা এবং বাধার থিমগুলি গভীরতা এবং অন্তর্দষ্টি সহকারে পরীক্ষা করা হয়েছে। উপন্যাসটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সমাজ ও রাজনীতি দ্বারা আরোপিত বাধাগুলির মধ্যে জটিল সম্পর্ককে অনুসন্ধান করে, এই গতিশীলতার একটি সূক্ষ্ম চিত্র প্রদান করে।

একদিকে উপন্যাসটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে উদযাপন করে, যা চরিত্রগুলির নিজেদের নিয়ম এবং আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জীবন যাপনের ইচ্ছা দ্বারা প্রতিনিধিত্বিত। এই দিকটি বিশেষত তোমাশের চরিত্রে সুস্পষ্ট, যার যৌন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার অনুসন্ধান তাকে সামাজিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করতে প্ররোচিত করে। সাবিনা, যার বোহেমিয়ান জীবনযাত্রা এবং শিল্প, সমাজ দ্বারা আরোপিত সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করে। উপন্যাসটি এছাড়াও দেখায় কিভাবে সামাজিক বাধাগুলি ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পরিচয়ের সন্ধানকে প্রভাবিত করে। চরিত্রগুলি তাদের স্বতন্ত্রতা এবং একটি সম্প্রদায় বা মূল্যবোধ সিস্টেমে নবষড়হমরহম-এর প্রয়োজনের মধ্যে সমতা খুঁজে বের করার জন্য সংগ্রাম করে। এই স্বায়ত্তশাসন এবং belonging-এর মধ্যে উত্তেজনা বইটির অন্যতম আকর্ষণীয় এবং জটিল দিক।

সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক প্রভাব
বিশ্ব সাহিত্য ক্ষেত্রে, উপন্যাসটি তার উদ্ভাবনী বর্ণনাশৈলী এবং জটিল দার্শনিক থিমগুলিকে একটি আকর্ষক কাহিনীতে মিশিয়ে উপস্থাপন করার ক্ষমতার জন্য সেলিব্রেট করা হয়েছে। উপন্যাস, দার্শনিকতা এবং প্রবন্ধের উপাদানগুলির সংমিশ্রণ পাঠকদের জন্য নতুনভাবে বর্ণনা পদ্ধতির দিকে নজর দিতে সক্ষম করেছে, যা পরবর্তী লেখকদের এবং কাজগুলোকে প্রভাবিত করেছে। দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং এর সাহিত্যিক এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রাসঙ্গিকতা তার ক্রমাগত জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের মাধ্যমে প্রমাণিত। উপন্যাসটি শুধু আধুনিক সাহিত্যে গভীর ছাপ ফেলেনি, বরং নতুন প্রজন্মের পাঠক এবং চিন্তাবিদদের প্রভাবিত করতে এবং অনুপ্রাণিত করতে অব্যাহত রয়েছে।

আবেগের প্রতিধ্বনি
একা থাকা একটি পুনরাবৃত্ত থিম যা বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। যারা অন্যদের দ্বারা পরিবৃত্ত থাকলেও তাদের আভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা এবং দুনিয়ার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কারণে একাকী অনুভব করেন। এই একাকীত্ব আরও তীব্র হয়ে ওঠে একটি দমনমূলক সমাজে বসবাস করার কারণে, যা তাদের নিজেদের মতামত এবং সত্যিকারভাবে অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা সীমিত করে। চরিত্রগুলো তাদের অস্তিত্বে উদ্দেশ্য এবং অর্থ খুঁজতে চেষ্টা করছে, জীবনের জটিলতা, প্রেম এবং নৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে। তাদের জীবনের অর্থ বোঝার জন্য সংগ্রাম একটি সার্বজনীন চ্যালেঞ্জ, যা উপন্যাসটিকে সমস্ত সময়ের পাঠকদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং তার কাহিনী বা বর্ণনাশৈলীর জন্য নয় বরং আবেগগতভাবে তীব্র থিমগুলির মাধ্যমে পাঠকদেরকে স্পর্শ করার জন্য মনে রাখা হবে। এটি সেই গভীর আবেগিক প্রতিধ্বনি যা উপন্যাসটিকে একটি অবিস্মরণীয় এবং চিরকালীন কাজ বানিয়েছে। দ্য আনবেয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং এর প্রাসঙ্গিকতা তার জটিল এবং সার্বজনীন থিমগুলিকে গভীরতা এবং সূক্ষ্মতার সঙ্গে অন্বেষণ করার ক্ষমতার মাধ্যমে বজায় রেখেছে। কুন্দেরা উপন্যাসে যেসব থিম আলোচনা করেছেন, তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন উত্থাপন করে এবং মানব অবস্থার প্রতি গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, যার ফলে এটি একটি চিরকালীন এবং প্রাসঙ্গিক কাজ হয়ে উঠেছে।

কুন্দেরার অপ্রথাগত বর্ণনাশৈলী এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ স্টাইল এই বইটিকে সাহিত্যিক জগতের একটি দৃষ্টান্তে পরিণত করেছে। মানব অবস্থার উপর তার বিশ্লেষণ, যা ইতিহাস এবং সংস্কৃতির সঙ্গে intertwined, আমাদের কীভাবে জীবন যাপন করি, প্রেম করি, এবং জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হই তার উপর একটি আলোকিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।





আধুনিক জ্যোতিষ শাস্ত্র ব্যাবিলনীয় শিকড়

জ্যোতিষবিদ্যা (Astrology) হাজার বছরের পুরোনো একটি চর্চা। যেটি গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান ও গতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানবজীবনের বিভিন্ন দিক নির্ধারণের চেষ্টা করে। বিভিন্ন সভ্যতার ধর্ম, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে আধুনিক বিজ্ঞান একে পরীক্ষামূলকভাবে সত্যায়িত করেনি বরং ছদ্মবিজ্ঞান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জ্যোতিষবিদ্যার শিকড় বহু প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে নিহিত। মূলত ব্যাবিলনীয় সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০) থেকেই জ্যোতিষবিদ্যার প্রাথমিক রূপের উত্থান ঘটে। সেখান থেকে এটি গ্রিক, রোমান, ভারতীয় ও চীনা সভ্যতাতেও ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যাবিলনীয়রা প্রথম জ্যোতিষচর্চা শুরু করে। যেখানে তারা গ্রহ ও নক্ষত্রের অবস্থানের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করত। এখান থেকেই বারোটি রাশির ধারণা জন্ম নেয়। তাদের জ্যোতিষশাস্ত্রের গোড়া ছিল মহাকাব্যিক সময়ে। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে যখন তারা আকাশের নক্ষত্র এবং গ্রহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেছিল।ব্যাবিলনীয়রা মহাকাশের চলাচল এবং পৃথিবী থেকে তার সম্পর্ক বুঝতে চেষ্টা করত। যেগুলো তাদের সমাজের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

ব্যাবিলনীয়দের জ্যোতিষশাস্ত্রের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য ছিল তারা সূর‍্য, চাঁদ এবং অন্যান্য গ্রহের চলাফেরা লক্ষ্য করত। তারা বিশ্বাস করত যে, এই পবষবংঃরধষ নড়ফরবং মানুষের জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তারা বিশেষভাবে ১২টি রাশিচক্র বা “জোডিয়াক সাইন” সম্পর্কে জানতে শুরু করেছিল, যেগুলো আজও আধুনিক জ্যোতিষশাস্ত্রে ব্যবহৃত।

বিশেষভাবে আকাশের নির্দিষ্ট নক্ষত্রের অবস্থান এবং তার সম্পর্ক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যবহার করত। তারা বিশ্বাস করত কোনো এক বিশেষ নক্ষত্রের অবস্থান ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।ব্যাবিলনীয় সমাজের ধর্মীয় নেতা এবং রাজা-রাজরা জ্যোতিষশাস্ত্র ব্যবহার করতেন ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী এবং রাজ্য পরিচালনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে। তারা গ্রহের গতিবিধি দেখে ভালো বা খারাপ সময় বুঝতে চেষ্টা করত এবং সেই অনুযায়ী যুদ্ধ, বিবাহ, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ইত্যাদি পরিকল্পনা করত।

ব্যাবিলনীয়রা প্রথম “মাটাম” নামে একটি টেবিল তৈরি করেছিল, যা আকাশের বিভিন্ন গতি এবং সময়ের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত প্রেডিকশন দিত। এই টেবিলগুলি জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রথম দিকের সবচেয়ে প্রাচীন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।ব্যাবিলনীয়দের জ্যোতিষশাস্ত্র এবং তার পরবর্তী বিকাশ, পরে গ্রীক, ভারতীয়, আরব এবং পশ্চিমা সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলেছিল এবং আধুনিক জ্যোতিষশাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় গ্রিক দার্শনিক প্লেটো ও অ্যারিস্টটল জ্যোতিষবিদ্যার সঙ্গে বিজ্ঞানের সম্পর্ক খুঁজতে চেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে টলেমি (Ptolemy) তাঁর ‘টেট্রাবিবলস’ বইতে পশ্চিমা জ্যোতিষবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।

বৈদিক জ্যোতিষ ভারতীয় ধর্ম ও দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত চন্দ্র ও সূর্যের গতির ওপর ভিত্তি করে ভাগ্য গণনা করে। প্রাচীন শাস্ত্র ‘বৃহৎ সংহিতা’ এবং ‘বৃহৎ পারাশর হোরা শাস্ত্র’ জ্যোতিষবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।চীনা জ্যোতিষবিদ্যা দ্বাদশ প্রাণী রাশির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। যারা মানুষের জন্মতারিখের ওপর নির্ভর করে ভাগ্য নির্ধারণ করে।বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে জ্যোতিষবিদ্যা পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণিত নয়। আধুনিক বিজ্ঞানীরা একে ছদ্মবিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন।বিখ্যাত বিজ্ঞানী কার্ল সাগান তাঁর বই ‘The Demon-Haunted World’-এ দেখিয়েছেন জ্যোতিষবিদ্যার কোনো পরীক্ষামূলক ভিত্তি নেই।

মনোবিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন মানুষ এমন ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বিশ্বাস করে যা খুব সাধারণ এবং সবার জন্য প্রযোজ্য। এটি বার্নাম প্রভাব (Barnum Effect) নামে পরিচিত।জ্যোতিষবিদ্যা সম্পর্কিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, জন্মছক এবং ভবিষ্যদ্বাণী মেলানোর ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক মিল নেই।যদিও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে জ্যোতিষবিদ্যা প্রশ্নবিদ্ধ। তবে এটি আজও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। অনেক মানুষ এটি বিশ্বাস করেন এবং দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করেন। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, চীন, এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে রাশিফল, গণনা ও জ্যোতিষ পরামর্শ জনপ্রিয়।

অনেকে বিয়ে, চাকরি, ব্যবসা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জ্যোতিষ পরামর্শ গ্রহণ করতে পছন্দ করেন। মিডিয়ায় দৈনিক রাশিফল ও জ্যোতিষচর্চার বিভিন্ন অনুষ্ঠান জনপ্রিয়। অনেক মানুষ বিশ্বাস করে জ্যোতিষবিদ্যা মানসিক স্বস্তি প্রদান করতে পারে।জ্যোতিষবিদ্যা ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও এটি অনেকের জন্য মানসিক প্রশান্তি ও ব্যক্তিগত দিকনির্দেশনা দেয় তবুও এর ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব হিসেবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এক হারানো ঐতিহ্য বাংলার মসলিন

বাংলার মসলিন একসময় সারা বিশ্বে বিলাসিতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। এর সূক্ষ্মতা, নম্রতা এবং সূচিকর্মের জন্য এটি রাজকীয় ও অভিজাত মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। প্রাচীনকালে বাংলার বয়নশিল্পীদের দক্ষ হাতে তৈরি এই অনন্য কাপড় ইতিহাসের এক মূল্যবান অংশ। তবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে এই ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসে। ভারতীয় সূক্ষ্ম ও মিহি সুতি বস্ত্র (মসলিন) প্রাচীনতম নমুনাটি ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মমির শবাচ্ছাদনবস্ত্র হিসাবে মিশরে পাওয়া গিয়েছিল। দ্য পেরিপ্লাস অফ দ্য ইরিথ্রিয়ান সি (৬৩ খ্রি.) গ্রন্থে ভারতীয় তুলার প্রথম বাণিজ্যিক উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত গ্রন্থে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইউরোপে মসলিম জাতিয় সূক্ষ্ম ও মিহি সুতি বস্ত্র রপ্তানির উল্লেখ রয়েছে। ভারতের পূর্ব তথা বাংলা (বঙ্গ) এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে মসলিন উৎপাদিত হত, তবে গুণোমানের ক্ষেত্রে বাংলার মসলিন ছিল শ্রেষ্ঠ। গ্রন্থটির বিবরণ অনুসারে, বাংলার গঙ্গা বন্দর থেকে ইউরোপের বণিকগণ মসলিন সংগ্রহ করত।

প্রথম খ্রিস্টাব্দের প্রথম শতকে রোম সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে অভিজাত রোমান নারীরা মসলিন পরে দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শন করতে ভালোবাসতেন। গ্রন্থটিতে মোটা ধরনের মসলিনকে মলোচিনা, প্রশস্ত ও মসৃণ মসলিনকে মোনাচি এবং সর্বোৎকৃষ্ট মসলিনকে গেনজেটিক নামে উল্লেখ করা হয়েছে। নবম শতকে রচিত আরব ভৌগোলিক সোলাইমানের ‘সিলসিলাত উত তাওয়ারীখে ‘রুমি’ নামক একটি রাজ্যের বিবরণ পাওয়া যায়। সেখানে এমন সূক্ষ্ম ও মিহি সুতি বস্ত্র পাওয়া যেত যে, ৪০ হাত লম্বা ও ২ হাত চাওড়া। এক টুকরো কাপড় আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে নাড়াচড়া করা যেতো। তৎকালীন এই বস্ত্র তিনি সেখানে ব্যতীত আর কোথাও দেখেন নি।

খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে ও তার পরে মসুলে খুব সূক্ষ্ম সুতি কাপড় তৈরি করা হত। আরব বণিকরা এটিকে পণ্য হিসেবে ইউরোপে নিয়ে যায় এবং মন্ত্রমুগ্ধ ইউরোপীয়রা একে মসলিন বলে ডাকত। এর পর থেকেই অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুন্দর সুতির কাপড় মসলিন নামে পরিচিত হতে শুরু করে। চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় আগত মরক্কো দেশিয় পর্যটক ইবনে বতুতা তার কিতাবুর রেহালায় গ্রন্থে সোনারগাঁওয়ে তৈরি এ বস্ত্রের বিশেষ প্রশংসা করেন। বাংলার মসলিন কাপড়ের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতেও এই সূক্ষ্ম বস্ত্রের প্রচলন ছিল। গ্রিক ঐতিহাসিক মেগাস্থিনিস এবং পরবর্তীকালে প্লিনি ও পেরিপ্লাস অব দ্য এরিথ্রিয়ান সি-তে উল্লেখ আছে, বাংলার গঙ্গা নদীর অববাহিকায় তৈরি সূক্ষ্ম কাপড় বিশ্ববাজারে সমাদৃত ছিল।

মসলিন কাপড় বিশেষভাবে তৈরি হতো ঢাকার সোনারগাঁ, বিক্রমপুর, তিতাবাড়ি ও জামালপুরে। এখানকার তাঁতিরা বিশেষভাবে ‘ফুটি কার্পাস’ নামক এক বিশেষ জাতের তুলা ব্যবহার করতেন। মসলিনের বিভিন্ন শ্রেণি ও ব্যবহার ছিল। মোগল আমলে মসলিনের কয়েকটি জনপ্রিয় প্রকারভেদ ছিল, যেমন -মলমল-ই-কাস সর্বোচ্চ মানের মসলিন, যা সম্রাট ও অভিজাতদের জন্য প্রস্তুত করা হতো। ঝুনঝুনি সূক্ষ্ম ও স্বচ্ছ কাপড়। এগুলো বিশেষ করে নারীদের রাজকীয় পোশাকে ব্যবহৃত হতো। শাবনাম এতই সূক্ষ্ম ছিলো যে একে ‘ভোরের শিশির’ বলা হতো। দুরিয়া ছিলো ঢেউ খেলানো নকশার জন্য পরিচিত। আর আলাবালি তুলনামূলকভাবে মোটা ও দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী।

১৭শ ও ১৮শ শতকে ইউরোপে মসলিন কাপড় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষত ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের রাজকীয় পরিবার এবং অভিজাত নারীরা এই কাপড় পরিধান করতেন। কথিত আছে, ফ্রান্সের রানী মারি অ্যান্টোনেট মসলিনের তৈরি পোশাক পরিধান করতেন। নেপোলিয়নের স্ত্রী জোসেফিন এই সূক্ষ্ম কাপড়কে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মিলনসভাগুলোতে মসলিনের পোশাক অভিজাতদের ফ্যাশনের অন্যতম অংশ হয়ে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক এবং মিশরের সম্রাট ও ধনী ব্যক্তিরাও মসলিনের জন্য বাংলার বণিকদের সঙ্গে বাণিজ্য করতেন।

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা ভারত ও বাংলার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর দখল প্রতিষ্ঠা করে। এই সময়ের মধ্যেই মসলিন শিল্পে ধ্বংসের সূচনা ঘটে। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরা ভারতীয় তুলা থেকে বোনা ব্রিটিশদের মিলের তৈরি সস্তা কাপড়ের প্রচলনের জন্য পরিকল্পিতভাবে মসলিন বুনন ধ্বংস করেছিল। ভারতে ব্রিটিশশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে ঊনবিংশ শতাব্দীতে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত করা বস্ত্রের উপরে ৭০ হতে ৮০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়। যেখানে ব্রিটেনে প্রস্তুত-করা আমদানীকৃত কাপড়ের উপরে মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ কর ছিল। এছাড়াও ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে তুলা থেকে কাপড় তৈরির যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়, যা হাতের তৈরি মসলিনের বাজার সংকুচিত করে।

এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের তাঁতশিল্পে ধস নামে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা মসলিন উৎপাদন বন্ধ করার জন্য মসলিন বয়নকারী তাঁতিদের হাতের বুড়ো আঙুল কেটে দিয়েছিল। তবে অধুনা অন্য আরেকটি দাবি বেশ যৌক্তিকভাবে সামনে উঠে এসেছে, তা হল তাঁতিদের হাত ব্রিটিশরা নয় বরং তারা নিজেরাই নিজেদের আঙ্গুল কেটে নিত যাতে এই তাঁতের কাজ আর না করতে হয়। হুমকিপ্রাপ্ত অনেক তাঁতি পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে বসতি স্থাপন করে। যা বাংলার সুতি পণ্যের জন্য বিখ্যাত মসলিন তাঁতিরা তাদের পরিচয় গোপন করার জন্য মোটা সুতা ব্যবহার করে কাপড় বুনতে শুরু করেছিল। এভাবে মসলিন বুনন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ব্রিটিশরা ভারতীয় বাজারে ম্যানচেস্টারের তুলনামূলক নিম্নমানের সস্তা কাপড় আমদানি শুরু করে। যার ফলে স্থানীয় তাঁতিরা বাধ্য হয়ে প্রতিযোগিতায় হার মানে।

এভাবে ১৯শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মসলিন কাপড় প্রায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের একদল গবেষক দীর্ঘ গবেষণার পর ২০১৪ সালে বিলুপ্ত ফুটি কার্পাস তুলার জাত খুঁজে বের করতে সক্ষম হন। প্রথম পুনরুদ্ধারকৃত মসলিন ২০২১ সালে বাংলাদেশ গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ঐতিহ্যবাহী মসলিন পুনরায় তৈরি করতে সক্ষম হয়। বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে বাংলাদেশ সরকার মসলিনের ব্র্যান্ডিং ও বাণিজ্যিকীকরণের পরিকল্পনা করছে। যার দ্বারা আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পুনরায় মসলিনকে তুলে ধরতে পারে।

মসলিন কেবল একটি কাপড় নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, ইতিহাস ও শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে এটি হারিয়ে গেলেও সাম্প্রতিক গবেষণা ও প্রচেষ্টায় এটি পুনরুদ্ধারের আশা জাগিয়েছে। যদি সরকার ও শিল্প উদ্যোক্তারা একযোগে কাজ করে তবে একদিন মসলিন আবারও বিশ্ব দরবারে নিজের জায়গা ফিরে পাবে। মসলিন পুনরুদ্ধারের এই প্রচেষ্টা কেবল বস্ত্রশিল্পেরই পুনর্জাগরণ নয় বরং বাংলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দলগুলো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব হবে : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐক্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন- রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় এ বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, (সংস্কারের মাধ্যমে) নির্বাচন সম্ভব। কারণ, এই মুহূর্তে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, নাগরিকরাও ভোট দিতে চায়।’ রীয়াজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার অন্তর্বর্তী সরকার ‘যতটুকু প্রয়োজন তার একদিনও বেশি ক্ষমতায় থাকতে চায় না।’ অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, কমিশনের প্রথম কাজ হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে ছয়টি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরবরাহ করা, যা ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মূল প্রস্তাবগুলো চিহ্নিত করবে এবং কোন সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য জরুরি তা নির্ধারণ করবে। কমিশনের সহসভাপতি জানান, এখন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক দলগুলো এবং কমিশন উভয়েই এর অপরিহার্যতা স্বীকার করেছে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ঐক্য কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সংস্কার ইস্যুগুলোর ওপর ঐকমত্যে পৌঁছানোর কাজ শেষ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানানো জরুরি এবং জনগণ নির্বাচনের জন্য উদগ্রীব থাকায় প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করার প্রচেষ্টা চলছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইচ্ছামতো সংস্কারগুলো নির্ধারণ করবে এবং তাদের সম্মত সুপারিশগুলো সুনির্দিষ্ট একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিগুলো প্রকাশের কারণ হলো- এক্ষেত্রে নাগরিকদের সম্পক্ত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর কী ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।’ তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর প্রক্রিয়াটি একটি জাতীয় সনদে পরিণত হবে, যা ভবিষ্যতের যে কোনো সরকারের জন্য একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সনদ হবে পথনির্দেশক। যেই ক্ষমতায় আসুক, জনগণ জানবে যে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে।’

কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে যে-কোন সংস্কারগুলো নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন করা হবে, কোনগুলো নতুন সংসদে তোলা হবে এবং কোনগুলো গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আলী রীয়াজ বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে ১,৪০০-এর বেশি প্রাণহানি ঘটার পর রাজনৈতিক দলগুলো এখন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছে। তবে তিনি বলেন, দলগুলোর প্রতিশ্রুতির মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।

জেএফকে হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত রহস্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর ডালাস, টেক্সাসে এক আততায়ীর গুলিতে তার জীবন হারান। এই ঘটনাটি বিশ্ব ইতিহাসের একটি স্মরণীয় ও বিতর্কিত মুহূর্ত হয়ে আছে এবং এই দুর্ঘটনা নিয়ে পরবর্তী সময়ে একাধিক কনস্পিরেসি থিওরি উঠে এসেছে যা আজও চর্চিত। অনেকেই বিশ্বাস করেন জেএফকে হত্যার পেছনে একাধিক শক্তিশালী গোষ্ঠী ও নীতির মেকানিজম কাজ করেছে। যদিও সরকারি তদন্তে লি অসওয়াল্ড নামের এক ব্যক্তি একাই গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবুও একাধিক কনস্পিরেসি থিওরি আজও আলোচিত।

জেএফকে হত্যার পর অসওয়াল্ডকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে একাই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়। ১৯৬৪ সালে ওয়ারেন কমিশন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং তাদের রিপোর্টে বলা হয় অসওয়াল্ড একাই গুলি চালিয়েছে তবে অনেকের মতে এই তদন্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে অথবা আসল তথ্যকে বিকৃত করা হয়েছে।’ডিপ স্টেট’ থিওরি অনুযায়ী জেএফকে হত্যার পেছনে মার্কিন সরকারের একটি অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে। এটি এমন একটি গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে যারা সরকারী কাঠামোর বাইরের কিন্তু রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাবিত থাকে। অনেকেই বিশ্বাস করেন প্রেসিডেন্ট কেনেডি একাধিক ইস্যুতে, যেমন ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, সিআইএ ও মাফিয়া সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ আরো নানা কারণে এই শক্তিগুলির বিরাগভাজন হন এবং তারা তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিআইএ এবং মাফিয়া সংস্থা যে একযোগে কাজ করেছিলন বলে দাবিও ওঠে।

কিছু তত্ত্ব অনুসারে, মাফিয়া সংস্থা জেএফকে হত্যার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রেসিডেন্ট কেনেডি তার ভাই রবার্ট কেনেডিকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন যেটি মাফিয়া সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে ১৯৬১ সালে কিউবা আক্রমণের ঘটনা এবং তার পরবর্তী সময়ে কিউবা সম্পর্কিত নীতি মাফিয়াদের জন্য এক বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।মাফিয়া এবং সিআইএ উভয়ই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাইত এবং তার ফলস্বরূপ তারা হয়ত জেএফকে হত্যার পরিকল্পনা করে!

একটি অন্যতম শক্তিশালী থিওরি হল সিআইএ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত। অনেকেই বিশ্বাস করেন জেএফকে যদি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতেন তবে তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ কমিয়ে দিতেন বা এমনকি যুদ্ধ থেকেও সরে আসতেন।সিআইএ এবং যুদ্ধের পৃষ্ঠপোষকরা এই পরিবর্তন চাইতেন না কারণ এটি তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিপক্ষে যেত। তাই তারা এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জেএফকেকে সরিয়ে দেয়।

যদিও লি হারভে অসওয়াল্ডকে হত্যার জন্য একমাত্র দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তবে তার ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন অসওয়াল্ডকে একজন পটভূমি চরিত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তাকে হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘পাতাল’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তার সম্পর্কিত নানা তথ্য ঘিরেও নানা অস্পষ্টতা রয়েছে। যেমন তার সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকার সময় এবং কিউবান বিপ্লবীদের সাথে তার যোগাযোগের বিষয়টি। এইসব বিষয়গুলি খোলাসা না হওয়ায় অনেকে ধারণা অসওয়াল্ড একজন ‘পেইনট’ চরিত্র ছিল যার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয়েছিল।

অন্য আরেকটি থিওরিন দাবী করে পেন্টাগন এবং মার্কিন সেনাবাহিনী জেএফকে হত্যার পেছনে ছিল। প্রেসিডেন্ট কেনেডি তার প্রেসিডেন্সির সময় সেনাবাহিনী এবং পেন্টাগনের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছিলেন যেটা তাদের অনেকের কাছেই অগ্রহণযোগ্য ছিল। সেনাবাহিনী ভিয়েতনাম যুদ্ধে আরও সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু কেনেডি এর বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর ফলস্বরূপ অনেকেই বিশ্বাস করেন সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের সাথে থাকতে পারে।আরেকটি গোষ্ঠীর দাবি জেএফকে হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক অপরাধী সংগঠনও থাকতে পারে। বিভিন্ন সময় ধারণা করা হয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে হো চি মিন, কিউবান বিপ্লবী, অথবা এমনকি সৌদি আরবের শক্তিশালী গোষ্ঠীও থাকতে পারে।

এই তত্ত্ব অনুযায়ী কেনেডি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে জড়িয়ে পড়েছিলেন। যার ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠীর কাছ থেকে বিপদ অনুভূত হয়েছিল।১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর, যখন জেএফকে ডালাসে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার মাধ্যমে ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় শুরু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক কনস্পিরেসি থিওরি প্রচলিত হলেও আজ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কেউ জানে না আসল সত্য কী ছিল। বিভিন্ন থিওরি ও তদন্তের কারণে এই ঘটনার প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও অটুট রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতেও রহস্যময় এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ট্রাম্প ‘খুব হতাশ’ , জেলেনস্কিকে অবশ্যই খনিজ সম্পদের চুক্তি করতে হবে : মাইক ওয়াল্টজ , মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আবার আলোচনায় বসতে হবে এবং ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে একটি চুক্তি করতে হবে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের এক ব্রিফিংয়ে মাইক ওয়ালটজ বলেন-সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে “অগ্রহণযোগ্য” অপমান করার কারণে হোয়াইট হাউজ ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি “খুব হতাশ”। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদের অংশীদারিত্ব দাবি করলে গত বুধবার মি. জেলেনস্কি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে ওই চুক্তি করলে রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধে মার্কিন সহায়তার ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন থাকবে।

ইউক্রেন বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ। সেসবের মাঝে যেমন লিথিয়াম ও টাইটানিয়াম আছে, পাশাপাশি অনেক বড় পরিসরে কয়লা, গ্যাস, তেল ও ইউরেনিয়ামের মজুদ রয়েছে – যার বাজার মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে, এই যুদ্ধে মার্কিন সম্পৃক্ততা আমেরিকার স্বার্থে নয়। তাই তিনি আগের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে এসে সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন।