Home Blog Page 190

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র – রাশিয়া সংলাপ এশিয়ায় যে প্রভাব ফেলবে : জর্জ প্রিওর , আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির বিশ্লেষক

সংলাপের মাধ্যমে ইউক্রেনে যুদ্ধের ইতি টানতে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া; যার ব্যাপক প্রভাব শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এশিয়া মহাদেশকেও আন্দোলিত করবে এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ। ইউক্রেন যুদ্ধের পুরোটা সময়েই – ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে বেইজিং – নিজেকে উপস্থাপন করেছে নিরপেক্ষ একটি পক্ষ হিসেবে; আবার একইসময়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যানেলে সমর্থন দিয়ে গেছে মস্কোকে। যুদ্ধবিধবস্ত ইউক্রেনের দরকার পুনর্গঠন। শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগে দেশটিতে তার বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ (বিআরআই) সম্প্রসারণের চেষ্টা করতে পারে বেইজিং। এতে ইউরোপের ওপর চীনের প্রভাব আরও গভীর হবে।

ট্রাম্প যদি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তির মধ্যস্ততা করতে আসলেই আন্তরিক হন; তাহলে তাইওয়ানসহ দক্ষিণ চীন সাগর-সহ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকাতে তিনি কতোটা দৃঢ় অবস্থান নেবেন- সে প্রশ্নও থাকবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে, ভারত কূটনৈতিক নমনীয়তার একটি জটিল খেলা খেলেছে। যুদ্ধের সময় ছাড়কৃত মূল্যে রাশিয়ান তেল কিনে সুবিধাভোগী হয় ভারত। কিন্তু, শান্তিচুক্তির মাধ্যমে যদি রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক হয়- তাহলে কম দামে জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্যদ্রব্য কেনার সুযোগ আর পাবে না।

পুতিনের সাথে সমঝোতার কারণে দূরপ্রাচ্য অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় হবে না বা ছাড় দেবে না – এমন নিশ্চয়তা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে চাইবে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একনিষ্ঠ মিত্র জাপান ও দ. কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সমুদ্রসীমায় চীনের কর্তৃত্ববাদী আচরণ মোকাবিলা নিয়েই তাদের মূল উদ্বেগ। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, সংঘাতের অবসান বৈশ্বিক পণ্যদ্রব্যের বাজারের অস্থিতিশীলতাকে লাঘব করবে, যা এই যুদ্ধের শুরুর সময় থেকেই কমবেশি বিরাজ করছে।

এশিয়া মহাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য ও জ্বালানি আমদানিকারক। সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তাই এশিয়াই হয়েছে। যেখানে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠিয়েছে। কিন্তু, যুদ্ধ বন্ধ হলে অনায়াসে ইউক্রেন থেকে আসতে পারবে জাহাজ বোঝাই খাদ্যশস্যের চালান, এতে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া সমস্যা সমাধানেই বেশি মনোযোগ দেয় এবং ইউক্রেন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয় – তাহলে মিত্র হিসেবে ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতাও নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলি, যারা এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর নির্ভর করেছে- আরও ঝুঁকে পড়বে চীনের দিকে। এসব দেশের আঞ্চলিক জোট আসিয়ান-ও চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর জন্য চাপ অনুভব করবে। ইউক্রেন থেকে শিল্পকাজে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি ফের স্বাভাবিক হওয়া, এবং মস্কোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ওঠার মাধ্যমে- জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কাও দূর হলে-এশিয়ার প্রধান প্রধান বাজারগুলোয় গতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেখা পাওয়া যাবে। সুতরাং, ইউক্রেনের জন্য শান্তিচুক্তি কেবল ইউরোপের বিষয় নয়, এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও এটি এক ‘লিটমাস টেস্ট’। যার আতসে পরিক্ষীত হবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক জোটবদ্ধতা।




আপনার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা আরও স্মার্ট এবং সহজ করবে আইফোনের নতুন Al

ধরা যাক আপনি সন্ধ্যার সময় আপনার আইফোন হাতে নিয়ে একটি নিখুঁত ছবি তুলতে চান। অন্ধকারে অনেক কিছু দেখা যাচ্ছে, কিন্তু আপনি ভাবছেন কিভাবে আলোর অভাবে ভালো ছবি তোলা সম্ভব হবে। আইফোনের নতুন A17 Pro চিপ এবং ডিপ ফিউশন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আপনার ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যামেরার সেটিংস সমন্বয় করে এবং অল্প আলোতেও প্রফেশনাল মানের ছবি তৈরি করতে পারে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তি যেটি স্মার্টফোন ব্যবহারের নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। আইফোন ১৫ সিরিজে, AI-এর সাহায্যে ক্যামেরার প্রক্রিয়া উন্নত হয়েছে। ফটোনিক ইঞ্জিন যা পরবর্তীকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিন ডিটেকশন এবং চিত্রের উন্নতি ঘটায়।অল্প আলো বা রাতে দুর্দান্ত ছবি তুলে থাকে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নাইট মোড তৈরি করেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আলো ও অন্ধকারের মাঝে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি শহরের রাস্তায় রাতের খাবারের ছবি তোলেন অও এর সাহায্যে ছবিটি পরিষ্কার এবং প্রাকৃতিক দেখাবে।এমনকি আপনি যদি মোবাইলের স্টেবল নাও রাখেন। আইফোনের A17 Pro চিপ Al ব্যবহার করে আপনার ব্যবহারের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে ফোনের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। আপনার যেসব অ্যাপ আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন সেগুলো পূর্বানুমান করে ফোন দ্রুত অ্যাক্সেসের জন্য প্রস্তুত থাকে। এছাড়া অ্যাডাপটিভ ব্যাটারি টেকনোলজি মোবাইলের ব্যাটারি ব্যবহারের জন্য একটি পরিমাপ করে এবং আপনাকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

আইফোনের ফেস আইডি সিস্টেম এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানিং এখন আরও উন্নত। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হয় আপনার মুখ বা আঙুলের বিশ্লেষণ করার জন্য। অ্যাপল পে ব্যবহার করে লেনদেন করা আরও সহজ ও নিরাপদ হয়েছে এবং Al সেই লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি দোকান থেকে পণ্য কিনে পেমেন্ট করতে চান ফেস আইডি দ্রুত এবং নিরাপদভাবে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করে যাতে প্রতারণার সম্ভাবনা কমে যায়। অ্যাপল হেলথ অ্যাপ্লিকেশনটি এখন AI দ্বারা চালিত একটি উন্নত স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং সিস্টেম রয়েছে। এটি আপনার শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশদ পরামর্শ দেয়।

AI আপনার শারীরিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে সঠিক ব্যায়াম রুটিন সুপারিশ করতে পারে। এমনকি আপনার দেহের গতিশীলতা দেখে পোষাক পরিধান করার সময় শরীরের অবস্থানেরও সঠিকভাবে নির্দেশনাএরদিতে পারে। আইফোনের ARKit প্ল্যাটফর্ম AI ব্যবহার করে অগমেন্টেড রিয়েলিটি অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি নতুন সোফা কিনতে চান এবং এটি আপনার বসার ঘরে কেমন দেখাবে তা দেখতে চান তাহলে AI আপনার ঘরের মাপ অনুযায়ী সেই সোফাটি বাস্তবে কোথায় রাখা যাবে তা দেখাবে। এভাবে আইফোনের নতুন সংস্করণগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একদিকে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিগতকৃত এবং উন্নত করেছে। অন্যদিকে স্মার্টফোন প্রযুক্তিরও নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।


সুপার বোল ক্রীড়া জগতের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

আমেরিকান ক্রীড়া সংস্কৃতিতে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (conspiracy theories) দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট বা ফলাফলকে ঘিরে বিকল্প ব্যাখ্যা খোঁজার প্রবণতা সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। সুপার বোল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর একটি এটি এখন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনেকে বিশ্বাস করেন ক্রীড়া সংস্থাগুলো ও নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করে যাতে বিশেষ কিছু দল বা খেলোয়াড় সুবিধা পায়।যুক্তরাষ্ট্রে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রতি মানুষের আকর্ষণ নতুন কিছু নয়। এটি ঐতিহাসিকভাবেই আমেরিকান সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলভিস প্রিসলির মৃত্যু নিয়ে সংশয়, চাঁদে অবতরণ ছিল কি না, ৯/১১ হামলার পিছনে সরকারের হাত আছে কি না-এ ধরনের বহু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দেশটিতে বহু বছর ধরে প্রচলিত রয়েছে।

সাধারণত যখন কোনো বড় ঘটনা ঘটে এবং তার ব্যাখ্যা সবাইকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয় তখন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।ক্রীড়া ক্ষেত্রে এ প্রবণতা আরও বেশি লক্ষ করা যায় কারণ খেলাধুলায় আবেগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একদল বিশ্বাসী সমর্থক যখন তাদের দলকে হারতে দেখে তখন তারা পর্দার আড়ালে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। এনএফএল-এর মতো একটি বিশাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেও এমন ধারণা তৈরি হয় তারা লিগের আর্থিক ও বিনোদনমূলক আকর্ষণ বাড়াতে ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ২০১৩ সালে সুপার বোল XLVII-তে বাল্টিমোর র‍্যাভেন্স ও সান ফ্রান্সিসকো ৪৯এর মধ্যকার খেলার সময় একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয়ার্ধে র‍্যাভেন্স ২৮-৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার সময় স্টেডিয়ামের আলো হঠাৎ নিভে যায় যা ৩৪ মিনিট স্থায়ী হয়।

অনেকেই বিশ্বাস করেন এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছিল যাতে ৪৯এর ফিরে আসার সুযোগ থাকে এবং খেলা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়।খেলোয়াড়রা পর্যন্ত সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন র্যাভেন্সের লাইনব্যাকার রে লুইস পর্যন্ত এই ব্ল‍্যাকআউট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও এনএফএল জানিয়েছিল এটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ঘটেছিল তবে অনেকেই তা আজও বিশ্বাস করেননি। ২০১৫ সালের সুপার বোল XLIX-এ সিয়াটল সিহকসের কাছে জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল। খেলার শেষ মুহূর্তে তারা মাত্র ১ ইয়ার্ড দূরে ছিল এবং তাদের স্টার রানিং ব্যাক মার্শন লিঞ্চ ছিলেন ফর্মের শীর্ষে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো কোচরা লিঞ্চকে বল না দিয়ে কৌশলী পাস খেলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পাসটি নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের ডিফেন্ডার মালকম বাটলার ধরে ফেলেন যা সিহকসের পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উঠে আসে। অনেকেই দাবি করেন এনএফএল চেয়েছিল কোয়ার্টারব্যাক রাসেল উইলসনকে নায়ক বানাতে এবং এজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কোচদের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও এ দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।তবে এটি আজও অন্যতম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয়। ২০২৩ সালে এনএফএল তার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য নতুন কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। দাবিটি হলো এনএফএল চেয়েছিল নারী দর্শকদের আকৃষ্ট করতে আর এজন্য তারা পপ তারকা টেলর সুইফট ও চিফসের তারকা প্লেয়ার ট্র্যাভিস কেলসের সম্পর্ককে প্রচার করছিল। একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আরও বলে সুইফট ইচ্ছাকৃতভাবে কেলসের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কাজ করছিলেন যাতে তার প্রিয় দল ফিলাডেলফিয়া ঈগলস সুবিধা পায়। তবে শেষ পর‍্যন্ত ঈগলস সুপার বোউলেই উঠতে ব্যর্থ হয় এটি এই তত্ত্বের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

তাছাড়া এনএফএলের সুপার বোল লোগোতে ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন দলের সংকেত দেওয়া হয়-এমন দাবি বহু বছর ধরে প্রচলিত ।উদাহরণস্বরূপ, সুপার বোউল খঠও-এর লোগোতে হলুদ (Rams) ও কমলা (Bengals) ছিল এবং সত্যিই র‍্যামস চ্যাম্পিয়ন হয়। সুপার বোউল LVII-এর লোগোতে সবুজ (Eagles) ও লাল (Chiefs) ছিল, আর ফাইনালেও ঠিক এই দুই দল মুখোমুখি হয়। এই বছর সুপার বোউল LVIII-এর লোগোতে লাল ও সবুজ রঙ দেখা গেছে, যা Chiefs এবং Packers/Eagles – এর সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদিও এটি নিছক কাকতালীয় হতে পারে তবে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারীরা মনে করেন এটি এনএফএলের পূর্বপরিকল্পনার অংশ।

অনেক সমর্থক বিশ্বাস করেন, এনএফএল বিশেষ কিছু দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে চায় এবং এজন্য রেফারিরা ইচ্ছাকৃতভাবে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেন। বিশেষত চিফস ও প্যাট্রিক মাহোমসকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয় বলে অনেকেই অভিযোেগ তোলেন। যখনই কোনো বিতর্কিত রেফারির সিদ্ধান্ত হয় তখন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব পুনরুজ্জীবিত হয়। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সাধারণত মানুষের আবেগ, প্রত্যাশা এবং অনিশ্চয়তা থেকে জন্ম নেয়। সুপার বোলকে কেন্দ্র করে প্রচলিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর অধিকাংশেরই বাস্তব ভিত্তি নেই তবে এগুলো ক্রীড়ার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।




৫৭% মার্কিনি মনে করেন ট্রাম্প সীমা ছাড়িয়ে গেছেন : জরিপ

সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোসের পরিচালিত এক জরিপে অনুযায়ী, ৫৭% মার্কিনি মনে করছেন দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প। জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন ভোটারদের মাঝে এক মাসের মধ্যেই ট্রাম্পকে সমর্থনের হার ৪৫% এ নেমে এসেছে। ৫৩% ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন না বলে জানিয়েছেন। এই এক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রমকে সমর্থন করছেন ৪৩% মার্কিনি, ৪৮% বিরোধিতা করছেন। এর মধ্যে তীব্র বিরোধিতা করছেন ৩৭%, তীব্র সমর্থন দিচ্ছেন ২৭%। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্কের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনরোষ রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাকে সমর্থন দিচ্ছেন মাত্র ৩৪% মার্কিনি, ৪৯%-ই বিরোধিতা করছেন।

এই এক মাসে ট্রাম্পের উদ্যোগগুলো বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইন বাতিলের মতো ট্রাম্পের কিছু নির্বাহী আদেশ সুপ্রিম কোর্ট পর‍্যন্ত যেতে পারে। কেন্দ্রীয় আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিলে কী হবে, এই প্রশ্নের জবাবে ৮৪% জনগণ বলেন, রায় মেনে নেওয়া উচিত ট্রাম্পের। ১১% মনে করেন, আদালতের রায় উপেক্ষা করা উচিত। ৬২% মার্কিনি মনে করেন, ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেলেও রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস তাকে সমর্থন দিয়ে যাবে। তবে ৫৬% মনে করেন, সীমা ছাড়িয়ে গেলে সুপ্রিম কোর্ট তাকে থামানোর চেষ্টা করবে।

ইউএসএআইডির ফান্ড বন্ধে দেশে ১০ হাজার এনজিওকর্মী বেকার

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সহযোগিতা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএসএআইডি। এরপর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সহায়তা ছাড়া ইউএসএআইডির বাকি সব কার্যক্রম আপাতত তিন মাসের জন্য গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। এনজিওবিষয়ক ব্যুরো সূত্র কালের কণ্ঠ কে জানায়, দেশের ২৭৪টি এনজিও বিভিন্ন দেশ থেকে তহবিল (ফান্ড) পেয়ে থাকে। এর মধ্যে ইউএসএআইডির ফান্ড পেত ৮৭টি এনজিও। এসব ডোনার এজেন্সির (দাতা সংস্থা) মাধ্যমে দেশে প্রায় ২৪০টি এনজিওর প্রকল্প পরিচালিত হতো। এনজিওসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই ৩২৭টি এনজিওর ইউএসএআইডির ফান্ডে ১০ হাজারের বেশি কর্মী সরাসরি চাকরি করতেন, যাঁদের সবাই বেকার হয়েছেন।

এসব কর্মীর বেশির ভাগই বিভিন্ন প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করায় তাঁরা কোনো আর্থিক সুবিধাও পাননি। ফলে হঠাৎ করে চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে উত্কণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থা, পরিবেশ, জ্বালানি এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও গতি হারিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে লাখ লাখ সুবিধাবঞ্চিত মানুষ।

পেন্টাগনে অস্থিরতা সামরিক বাহিনীর প্রধানকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান শীর্ষ জেনারেল চার্লস কিউ ব্রাউনকে বরখাস্ত করেছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঙ্কচেট্টি এবং বিমান বাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল জেমস প্লিফকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।ব্রাউন, যিনি দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন, এবং প্রথম নারী নৌ-প্রধান ফ্রাঞ্চেটির অপসারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি-বিরোধী নীতির ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হেগসেথ পূর্বেও ফ্রাঞ্চেটিকে ‘ডিইআই (বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি) ভিত্তিক নিয়োগ’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠন করে যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হেগসেথ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পদক্ষেপ প্রশাসনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেরই অংশ।যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রেসিডেন্ট যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই হোন না কেন, প্রশাসনের পরিবর্তনে জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান সাধারণত তাঁর পদে বহাল থাকেন। তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা নিজেরা তাঁদের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে চান।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গতবছর প্রকাশিত তার লেখা ‘দ্য ওয়ার অন ওয়রিয়র্ন: বিহাইন্ড দ্য বিট্রেয়াল অব দ্য মেন হু কিপ আস ফ্রি’ বইয়ে প্রশ্ন তোলেন, কৃষ্ণাঙ্গ না হলে ব্রাউন ওই পদ পেতেন কি না। তাঁকে চাকরিচ্যুত করা উচিত। কেননা, সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচিতে (ডিইআই) তাঁর বেশি মনোযোগ।ব্রাউন ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর একটি আবেগঘন ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করে সামরিক বাহিনীতে বর্ণবৈষম্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আলোচনায় এসেছিলেন।এর আগে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই কোস্ট গার্ডের প্রথম নারী প্রধান অ্যাডমিরাল লিন্ডা ফ্যাগ্যানকে সরিয়ে দেন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে পেন্টাগনে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফারস্ট’ নীতির আওতায় সামরিক বাজেটে বড় পরিবর্তন ও বাহিনীর পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য সিনেটর জ্যাক রিড বলেছেন, ‘রাজনৈতিক আনুগত্যের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বা বৈচিত্র্য ও লিঙ্গবৈষম্যকে কেন্দ্র করে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হলে, সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে’।

Thinking , Fast and Slow , চিন্তা – ভাবনা করার কায়দা

ড্যানিয়েল কানেমানের Thinking, Fast and Slow বইটি মনোবিজ্ঞান, আচরণগত অর্থনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপর একটি যুগান্তকারী কাজ। বইটি মূলত মানুষের চিন্তাভাবনার দুটি পদ্ধতির উপর আলোকপাত করে : সিস্টেম ১ (দ্রুত, স্বতঃস্ফূর্ত) এবং সিস্টেম ২ (ধীর, যৌক্তিক)। এই বইটি আমাদের চিন্তার ভুল, পক্ষপাত এবং কিভাবে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে। কানেমান দেখিয়েছেন আমরা মূলত দুটি আলাদা চিন্তার পদ্ধতি অনুসরণ করি। সিস্টেম ১ – স্বয়ংক্রিয় ও আবেগপ্রবণ চিন্তা এটি দ্রুত কাজ করে এবং কম প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়। এটি স্বয়ংক্রিয়, অনুভূতিভিত্তিক এবং সাধারণত সচেতনভাবে পরিচালিত হয় না।

উদাহরণস্বরূপ : কারও মুখ দেখে তার মেজাজ বোঝা। একটি সহজ গাণিতিক সমস্যা সমাধান করা (যেমন ২+২=৪)। পরিচিত কোনো অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া। সিস্টেম ২ – ধীর ও যৌক্তিক চিন্তা, সিস্টেম ২ অনেক বেশি পরিশ্রমী এবং সচেতনভাবে কাজ করে। এটি তখনই সক্রিয় হয় যখন আমরা কোনো জটিল সমস্যা সমাধান করি বা গভীরভাবে চিন্তা করি। উদাহরণস্বরূপ : একটি কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধান করা (যেমন ১৭দ্ধ২৪)। একটি নতুন ভাষা শেখা বা কঠিন পাঠ্য বিশ্লেষণ করা। কোনো বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।এই দুটি ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিস্টেম ১ প্রাধান্য পায়। কারণ এটি দ্রুত এবং কম পরিশ্রমসাধ্য। তবে এটি অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্তের কারণ হয়।

সংবেদনশীলতা ও পক্ষপাত। কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের প্রতারিত করে ? কানেমান বইটিতে দেখিয়েছেন কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ক বিভিন্ন রকমের পক্ষপাতের (bias) শিকার হয় এবং সেগুলো আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অভিজ্ঞতার বিভ্রম যেমন আমরা আমাদের অভিজ্ঞতাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিই এবং অতীতের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। যা সব সময় সঠিক নাও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ একবার বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়, তবে সে হয়তো সারাজীবন বিমানে ভ্রমণ করতে ভয় পাবে। যদিও বিমান ভ্রমণ পরিসংখ্যানগতভাবে নিরাপদ।

নিশ্চয়তার বিভ্রমে মানুষ সাধারণত অনিশ্চয়তা মেনে নিতে চায় না এবং নিশ্চিত মনে হওয়া তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা প্রায়ই ভবিষ্যদ্বাণী করি বা মনে করি যে আমরা জানি ভবিষ্যতে কী হবে, যদিও বাস্তবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সীমিত। উপলব্ধতা পক্ষপাত (Availability Bias) অনুযায়ী আমরা এমন তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দিই যেগুলো সহজেই আমাদের মনে আসে। উদাহরণস্বরূপ, যদি সংবাদমাধ্যমে একের পর এক গাড়ি দুর্ঘটনার খবর প্রচার করাএগুল তবে আমরা মনে করব যে গাড়ি চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদিও বাস্তবে সড়ক দুর্ঘটনার হার আগের তুলনায় কমেও যেতে পারে। প্রতিনিধিত্বমূলক পক্ষপাত (Representativeness Bias)

আমরা কোনো ব্যক্তিকে বা ঘটনাকে পূর্বধারণার ভিত্তিতে বিচার করি। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ চশমা পরে ও বই পড়তে পছন্দ করে, তবে আমরা ধরে নিতে পারি যে সে একজন অধ্যাপক, যদিও তার পেশা অন্য কিছু হতে পারে। কানেমান দেখিয়েছেন, কিভাবে মানুষ আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ভুল করে। মানুষ ঝুঁকি নিতে চায় না, এমনকি যদি তা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কাউকে বলা হয় যে ৮০% সম্ভাবনা আছে যে সে ১০০০ ডলার জিতবে, এবং ২০% সম্ভাবনা আছে যে সে কিছুই পাবে না, তবে সে হয়তো নিশ্চিতভাবে ৭০০ ডলার নেওয়া পছন্দ করবে, যদিও প্রথম বিকল্পটি গড়ে বেশি লাভজনক।

মানুষ প্রায়ই মনে করে যে সে তার চারপাশের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যদিও বাস্তবে তা হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কেউ মনে করতে পারে যে সে ক্রীড়া বাজিতে দক্ষ, কিন্তু বাস্তবে তার জয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। গণনাগত ভুল – আমরা প্রায়ই পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করতে ভুল করি এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকিউদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি বলে যে একটি বিশেষ লটারি টিকিট জেতার সম্ভাবনা ০.০০১%, তাহলে এটি খুবই কম মনে হবে। কিন্তু যখন বলা হয় যে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ১০০০ জন এই লটারিতে জেতে, তখন অনেকেই এটাকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে করে।

আচরণগত অর্থনীতি ও বাস্তব জীবনের প্রভাব – কানেমান এবং তার সহকর্মী রিচার্ড থালারের কাজ আচরণগত অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তারা দেখিয়েছেন, মানুষ সব সময় যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেয় না এবং প্রথাগত অর্থনৈতিক মডেলগুলোর পরিবর্তন দরকার। এই গবেষণা বিজ্ঞাপন, বিনিয়োগ, চিকিৎসা, নীতিনির্ধারণসহ বহু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত – বহু মানুষ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে ব্যর্থ হয় কারণ তাৎক্ষণিক সুখ বা ব্যয় তাদের বেশি আকর্ষণ করে। এই প্রবণতা বুঝে অর্থনীতিবিদরা এমন নীতি তৈরি করেছেন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয় বাড়ায়।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সিদ্ধান্ত – মানুষ প্রায়ই চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পক্ষপাতের শিকার হয়উদাহরণস্বরূপ, যদি কাউকে বলা হয় যে একটি সার্জারির ৯০% সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে তবে সে তা মেনে নেবে। কিন্তু যদি বলা হয় যে ১০% ক্ষেত্রে এটি ব্যর্থ হয় তবে সে তা এড়িয়ে চলতে পারে। কানেমান তার গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন আমরা অনেক সময় অচেতনভাবে ভুল করি এবং আমাদের সিদ্ধান্তে পক্ষপাতের প্রভাব থাকে। কিন্তু আমরা যদি সচেতনভাবে চিন্তা করার অভ্যাস করি, তবে কিছু ভুল কমিয়ে আনতে পারি। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ধীরে ভাবা, তথ্য যাচাই করা এবং সম্ভাব্য পক্ষপাতের ব্যাপারে সতর্ক থাকাই আমাদের আরও ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করতে পারে।

ড্যানিয়েল কানেমানের Thinking, Fast and Slow কেবল একটি বই নয়, এটি মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়া বোঝার এক অসাধারণ নির্দেশিকা।

বাড়তে থাকা গড় আয়ু আর বার্ধক্যের ভবিষ্যৎ

বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজকাল বেশিরভাগ মানুষই ষাট বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার প্রত্যাশা করতে পারেন। প্রতিটি দেশেই বয়স্ক জনসংখ্যার সংখ্যা ও অনুপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতি ছয়জনের একজনের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হবে। ২০২০ সালে যেখানে বিশ্বব্যাপী ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সীদের সংখ্যা ১ বিলিয়ন ছিল তা ২০৩০ সালের মধ্যে ১.৪ বিলিয়নে উন্নীত হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ২.১ বিলিয়নে পৌঁছাবে। ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের সংখ্যা ২০২০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪২৬ মিলিয়নে পৌঁছাবে।

যদিও এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন প্রথমে উন্নত দেশগুলিতে (যেমন জাপানে ইতোমধ্যে জনসংখ্যার ৩০% ৬০ বছরের বেশি) শুরু হয়েছিল, এখন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বসবাস করবে। জৈবিক স্তরে বার্ধক্য হল দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আণবিক ও কোষগত ক্ষতির কারণে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ক্রমশ হ্রাস রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং অবশেষে মৃত্যুর ফল।এই পরিবর্তনগুলি সরলরৈখিক নয় বা ধারাবাহিকও নয় এবং এগুলো কেবলমাত্র ক্যালেন্ডার-বয়সের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কযুক্ত নয়।

জৈবিক পরিবর্তনের বাইরেও বার্ধক্য প্রায়ই জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সাথে জড়িত থাকে। যেমন অবসর গ্রহণ, নতুন বাসস্থানে স্থানান্তর এবং বন্ধু বা জীবনসঙ্গীর মৃত্যু। বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যেসব সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে-শ্রবণশক্তি হ্রাস, ছানি এবং দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা, পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, বিষন্নতা ও ডিমেনশিয়া। এছাড়াও বয়স্কদের মধ্যে জেরিয়াট্রিক সিনড্রোম নামে পরিচিত বেশ কিছু জটিল স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখা যায়। যেগুলো একাধিক কারণের ফলে সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে রয়েছে-দুর্বলতা, মূত্রনিয়ন্ত্রণে অসুবিধা, পড়ে যাওয়ার প্রবণতা, বিভ্রান্তি এবং চর্মঘা।

দীর্ঘায়ু শুধুমাত্র বয়স্ক ব্যক্তি ও তাদের পরিবারদের জন্য নয় বরং পুরো সমাজের জন্যই সুযোগ নিয়ে আসে। অতিরিক্ত বছরগুলো নতুন কিছু শেখার, নতুন পেশা গ্রহণের বা পুরোনো শখ পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ এনে দেয়। তবে এসব সুযোগ ও অবদান অনেকটাই নির্ভর করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সেটি হলো স্বাস্থ্য। গবেষণা বলছে দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সুস্বাস্থ্যের অনুপাত তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে। যার মানে হলো এই অতিরিক্ত বছরগুলো প্রায়শই অসুস্থতার মধ্যে কাটে। যদি মানুষ তাদের বাড়তি বছরগুলো সুস্থতার মধ্যে কাটাতে পারে এবং যদি তারা সহায়ক পরিবেশে বসবাস করে তবে তাদের সক্ষমতা একজন অপেক্ষাকৃত তরুণ ব্যক্তির তুলনায় খুব বেশি ভিন্ন হবে না। বিপরীতে যদি এই বছরগুলো শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার অবনমনে পরিপূর্ণ হয়, তবে তা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনবে।

যদিও বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পার্থক্য জেনেটিক, বেশিরভাগ পার্থক্য নির্ভর করে ব্যক্তি কোন পরিবেশে বড় হয়েছে তার ওপর। পরিবার, প্রতিবেশ, সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুস্থ জীবনযাত্রার অভ্যাস যেমন, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান পরিহার-বার্ধক্যের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা উন্নত করে। বার্ধক্যের চ্যালেঞ্জ ও নীতি বয়স্ক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা বিদ্যমান। তাদের প্রায়ই দুর্বল, নির্ভরশীল ও সমাজের জন্য বোঝা হিসেবে দেখা হয়। এই ধরনের বয়সবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করতে পারে এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে।

বিশ্বায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নগরায়ন, অভিবাসন ও পরিবর্তিত লিঙ্গগত ভূমিকা, সবকিছুই বার্ধক্যের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করছে। তাই জনস্বাস্থ্য কৌশল নির্ধারণের সময় এই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রবণতাগুলোর প্রতি নজর দেওয়া জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২১-২০৩০ সালকে “সুস্থ বার্ধক্যের দশক” হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (WHO) এর নেতৃত্ব দিতে বলেছে।

এই দশকটি চারটি মূল ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। সেগুলো হলো – বয়স ও বয়স্কদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন। বয়স্কদের উপযোগী ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য মানসম্মত দীর্ঘমেয়াদী সেবার ব্যবস্থা করা। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে সহায়তা করা হবে এবং বিশ্বব্যাপী বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সুস্থতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।


জার্মানির নির্বাচন , কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান নিয়ে শঙ্কা

জার্মানিতে পার্লামেন্টের ২১তম নির্বাচন হবে রোববার। প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষের দেশ জার্মানিতে এ বছর মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৯২ লাখ। এবারের নির্বাচনে জার্মান পার্লামেন্টে ৬৩০টি আসনের জন্য ২৯টি দল মোট ৪ হাজার ৫০৬ জন প্রার্থী দিয়েছে। রোববারের এ ভোটের দিকে পুরো ইউরোপও আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশের এবারের নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী কট্টর জাতীয়তাবাদী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) ভোট ও আসন বাড়তে পারে বলে বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন। দলটি এবার ২০ শতাংশের বেশি ভোট পেলে পার্লামেন্টে তাদের আসন দেড়শতে পৌঁছাতে পারে। তেমনটা হলে এএফডি সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে জার্মানির নানান নীতিতে তাদের প্রাধান্য দেখা যেতে পারে।

দলটির নেতা অ্যালিস ওয়েইডেল তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব। টিকটকে তার রয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ফলোয়ার, যা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রেখেছে। ইলন মাস্ক ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ওয়েইডেলকে সমর্থন করছেন। কট্টর ডানপন্থি এ দল জার্মানির সীমান্ত সুরক্ষিত করা এবং অবৈধ অভিবাসী ও অপরাধীদের বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে নাৎসীদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সমঝোতা হয়েছিল যে-রাজনৈতিক দলগুলো কেউ অতি ডানপন্থীদের সাথে সমন্বয় করবে না। সেই ঐতিহ্য অনুসারে মূলধারার প্রায় সব দলই এএফডির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও রোববারের ভোটে কোনো একক দলের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নির্বাচনের আগে থেকেই জার্মানিজুড়ে কট্টর রক্ষণশীল অভিবাসীবিরোধী অল্টানেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড দলটির বিরুদ্ধে জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা জার্মানির গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নব্য নাৎসিদের দল অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতা বা জোট গঠন না করতে আহ্বান জানিয়েছে।সর্বশেষ নানা জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে রয়েছে রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট পার্টি (সিডিইউ), তারপর রয়েছে কট্টরবাদী জার্মানির জন্য বিকল্প দলটি, এরপর রয়েছে বর্তমানের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বড় দল মধ্য বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে পরিবেশবাদী সবুজ দল।এবারের নির্বাচনে কট্টর বামপন্থিদের ভোটও বাড়বে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

ইইউর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ও সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশে নির্বাচনের প্রচারে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি অভিবাসন ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গও জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। গত বছরের মে মাস থেকে জার্মানির ম্যানহেইম, সোলিনজেন, ম্যাগডেবার্গ, আসচাফেনবার্গ ও মিউনিখে একের পর এক প্রাণঘাতি হামলা হয়েছে। এসব হামলায় জড়িত সন্দেহে যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তারা সবাই অভিবাসী। যে কারণে অভিবাসন বিরোধিতার ঢেউ দেশটির প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে গেছে।এএফডি বা রক্ষণশীলরা ক্ষমতায় এলে জার্মানিতে অভিবাসীদের ওপর দমনপীড়ন নেমে আসতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।

বাংলাদেশের বৈদেশিক অভিবাসন সংকট , রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব

গত বছর বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন। ২০২৪ সালে মোট ১০,০৯,১৪৬ জন কর্মী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, যা ২০২৩ সালের ১৩,৯০,৮১১ জন থেকে ২৭.৪ শতাংশ কম। “আমি প্রবাসী” নামক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাজনৈতিক এবং পরবর্তী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এ পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা বৈদেশিক কর্মসংস্থানে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। চাকরির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীকে বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করেছে।

২০২৪ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অভিবাসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। জুন মাসে ৫৪,৭২৫ জন, জুলাইয়ে ৭১,০৮০ জন, আগস্টে ৫২,৮১৮ জন, এবং সেপ্টেম্বরে ৬৪,১৫৭ জন বিদেশে গেছেন। তবে অক্টোবর মাসে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১,০৪,৮১১ জনে পৌঁছে, এটি ডিসেম্বরে পর‍্যন্ত স্থিতিশীল ছিল। মোট অভিবাসন কমে গেলেও, ব্যুরো অফ ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিং (বিএমইটি) রেজিস্ট্রেশনে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৩ সালে নারীদের রেজিস্ট্রেশনের হার ছিল ২.৭৮ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৪.৭৯ শতাংশ হয়েছে। “নারীদের জন্য জর্ডান বেশ জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। গত বছর ১৩,০০০-এর বেশি নারী কর্মী, বিশেষত গার্মেন্টস শিল্পে কাজের জন্য সেখানে গিয়েছেন,” বলেন বাংলাট্র্যাক গ্রুপের ইনোভেশন বিভাগের প্রধান এম তানভীর সিদ্দিক।

২০২৪ সালে সৌদি আরব ছিল বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য, যেখানে মোট অভিবাসনের ৬২.১৭শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬,২৭,০০০ জন কর্মী গেছেন। উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের উচ্চ চাহিদার কারণে সৌদি আরব অভিবাসীদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য মালয়েশিয়ায় অভিবাসন সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।২০২৪ সালে সেখানে মাত্র ৯৩,০০০ জন কর্মী গেছেন, যা মালয়েশিয়ার নতুন বিদেশি শ্রম নীতির পরিবর্তনের কারণে হয়েছে। জেনারেল ট্রেইনিং এনরোলমেন্ট, যা দক্ষ কর্মী তৈরির একটি প্রধান সূচক, ২০২৩ সালের ২,৩৬,২৭০ জন থেকে ২০২৪ সালে ১,১২,১৬৬ জনে নেমে এসেছে, এটি কর্মসংস্থানের চাহিদা ও প্রস্তুতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

“নারীদের বিএমইটি রেজিস্ট্রেশনের বৃদ্ধির মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থানে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন।উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে আমরা আরও দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারবো,” বলেন আমি প্রবাসীর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক এ হক। ২০২৪ সালে বিএমইটি-তে মোট ৭,৯৮,২৭৬ জন নিবন্ধন করেছেন, যা ২০২৩ সালের ৬,৬০,০৮৮ জনের তুলনায় বেশি। যদিও পুরুষরাই এখনও অভিবাসন খাতে আধিপত্য বজায় রেখেছেন, তবে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে দক্ষ ও আধা-দক্ষ পেশায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। নারীরা এখন গৃহকর্মের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে ঝুঁকছেন, যেমন কম্পিউটার অপারেশন, গ্রাফিক ডিজাইন ও অটোক্যাড ড্রাফটিং। গত বছর ৭০০-এর বেশি নারী দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে বিদেশে গেছেন।

২০২৪ সালে ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী বিদেশে গেছেন, যার সংখ্যা ২.৬৪ লাখ। এর পরে রয়েছে চট্টগ্রাম (২.৩১ লাখ), খুলনা (৭২,০০০) এবং রাজশাহী (৬৬,০০০)। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উন্নত প্রশিক্ষণ কার‍্যক্রম, লিঙ্গ-সমতা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি শ্রম বাজারের সাথে আরও কার‍্যকর চুক্তি স্বাক্ষর করা হলে অভিবাসন খাত পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। এটি দক্ষ কর্মী রপ্তানি বৃদ্ধি এবং টেকসই রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বাংলাট্র্যাক গ্রুপের এম তানভীর সিদ্দিক অভিবাসী কর্মীদের জন্য “আমি প্রবাসী” প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা তুলে ধরেন যেখানে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন, সার্টিফিকেট সংগ্রহ, রিব্রুটিং এজেন্সির সাথে সংযোগ এবং চাকরির অনুসন্ধানসহ নানা সুবিধা প্রদান করা হয়।