মহাবিশ্বের রহস্য জানার যাত্রা Large Hadron Collider

মহাবিশ্বের গোপন রহস্য উন্মোচনের জন্য বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো Large Hadron Collider (LHC)। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ও শক্তিশালী কণার ত্বরক। যেটা সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (CERN) দ্বারা পরিচালিত হয়। Large Hadron Collider একটি পার্টিকেল অ্যাকসিলারেটর, প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বৃত্তাকার সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থিত। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী চুম্বক ও উচ্চ প্রযুক্তির ডিটেক্টরের সমন্বয়ে তৈরি। আলোকের গতির কাছাকাছি গতি নিয়ে প্রোটন বা অন্যান্য ভারী আয়ন কণাকে সংঘর্ষে নিযুক্ত করতে পারে। মূলত এই সংঘর্ষের মাধ্যমে পদার্থের মৌলিক গঠন ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

LHC নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় ১৯৮০-এর দশকে এবং ২০০৮ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এটি ১০০ মিটার ভূগর্ভে চারটি প্রধান পরীক্ষণ ক্ষেত্র নিয়ে গঠিত। ২০১২ সালে LHC-এর ATLAS ও CMS পরীক্ষার মাধ্যমে হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এটি ২০১৩ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার অর্জনের পথ সুগম করে। এই কণাটি পদার্থের ভর সৃষ্টির মেকানিজম বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। LHC পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অ্যান্টি-ম্যাটার এবং ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি ও প্রকৃতি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। এটি মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কিত নতুন তত্ত্ব তৈরিতে সাহায্য করছে। LHC-এর পরীক্ষাগুলো কোয়ান্টাম ফিজিক্স, স্ট্রিং থিওরি এবং মাল্টিভার্স সম্পর্কিত তত্ত্বগুলোর পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

এতে অত্যন্ত শক্তিশালী সুপারকন্ডাকটিং চুম্বক ব্যবহার করা হয়। যা প্রায় ১.৯ কেলভিন (-২৭১°C) তাপমাত্রায় কাজ করে। এই চুম্বক কণাগুলোর গতিপথ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। LHC-তে সংঘর্ষের পর সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কোটি কোটি কণার ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। GRID computing system ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা এই তথ্য বিশ্লেষণ করেন। বর্তমানে খঐঈ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে High-Luminosity LHC (HL-LHC) নামে একটি উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজ চলছে। এটি ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হবে এবং কণা পদার্থবিদ্যায় নতুন যুগের সূচনা করবে।

LHC নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনাও রয়েছে। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন উচ্চ শক্তির কণা সংঘর্ষের ফলে মাইক্রো ব্ল‍্যাক হোল তৈরি হতে পারে। এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তবে ঈঊজঘ এই আশঙ্কাগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মনে করে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। Large Hadron Collider আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। এটি পদার্থবিদ্যার বহু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও মহাবিশ্বের গোপন রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার ফলে এই গবেষণা কেন্দ্র আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে আরও সম্প্রসারিত করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন