বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ওই অঞ্চলের পাঁচ জেলা জুড়ে তিস্তা পাড়ের ১১টি পয়েন্টে দুদিনের অবস্থান কর্মসূচি করছে বিএনপি। কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির নেতারা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তিস্তা নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগ অবসানে প্রতিবেশী ভারতের ওপর যেন চাপ তৈরি হয় সেটিই তাদের লক্ষ্য। কেউ কেউ মনে করছেন – শুধু ভারতই নয়, বরং ডিসেম্বরের সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে জনপ্রিয় ইস্যুগুলোর মাধ্যমে জনগণের আরও কাছে যাওয়া এবং এর মাধ্যমে মাঠের নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করাই দলটির মূল উদ্দেশ্য। তাদের মতে, আন্দোলনকারী ছাত্ররাসহ এখন সক্রিয় প্রায় সব দলই ভারত বিরোধী হিসেবে পরিচিত। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তার নেতৃত্বটি বিএনপি নিতে চাইছে যাতে অন্য কেউ এটা নিয়ে সুবিধা করতে না পারে।
পাশাপাশি, নির্বাচনের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জনপ্রিয় ইস্যুগুলোকে এখন কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন–“আওয়ামী লীগের বিদায়ের পর বিএনপির যে সিকিউরড অবস্থান ছিল সেটি কিছুটা কমেছে। তাই তারা দলের অবস্থান ও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে এবং এর অংশই হলো উত্তরাঞ্চলের এ কর্মসূচি। তারা দেখাতে চাইছে যে তারা সব ভোটের জন্যই করছে না এবং সরকারকে দেখানো যে তারা কতটা শক্তিশালী। এটা সরকারকে পরোক্ষ চাপ দেয়াও যাতে ডিসেম্বরে নির্বাচনের অবস্থান থেকে সরকার অন্য কোনো পক্ষের চাপে সরে না যায় “
তিস্তা চুক্তির পরিবর্তে এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রকল্প ঘিরে। উত্তরাঞ্চলে এটি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। তিস্তায় এ প্রকল্প যাচাই করতে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার চায়না যৌথভাবে প্রায় তিন বছর সমীক্ষা করে। সমীক্ষা শেষে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনার একটি প্রস্তাব তৈরি করে। ওই প্রকল্পের আওতায় তিস্তায় নদী খনন, ভূমি উদ্ধার করে সেচ, নৌ চলাচল, পর্যটন, আবাসন ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ প্রকল্পে আর্থিক কারিগরি সহায়তা দিতে চীন যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তখন তিস্তা প্রকল্পে নতুন প্রস্তাব নিয়ে সামনে এসেছিলো ভারত। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের আপত্তির কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার চীনের বদলে ভারতের মাধ্যমে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। এখন বিএনপি চীনের সহায়তায় করা পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন চাইছে। এ প্রশ্নে চীন-ভারত দ্বন্দ্বে দলটি ভবিষ্যতে কি অবস্থান নেয়, তা দেখার বিষয়।


