Home Blog Page 198

ভিনগ্রহী জীবনের সন্ধানে : ফার্মি প্যারাডক্স

মহাবিশ্বের বিস্তৃতি এবং তার অন্তর্নিহিত রহস্যগুলির মধ্যে এলিয়েনদের অস্তিত্ব সর্বদাই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ একটি তত্ত্ব হল ফার্মি প্যারাডক্স, যা আমাদের ভিনগ্রহী জীবনের সম্ভাবনা এবং সেই জীবনের সাথে আমাদের যোগাযোগের কূটনৈতিক জটিলতা নিয়ে একটি গভীর আলোচনা তুলে ধরে। এলিয়েন থিসিস বা ভিনগ্রহী জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে নানা গুজবগুলো প্রাচীনকাল থেকে মানুষকে আকর্ষণ করে এসেছে। আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে আমরা এখন একাধিক গ্রহ ও উপগ্রহে জীবন ধারণের জন্য সম্ভাব্য শর্তগুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। যেমন, মঙ্গলগ্রহ, ইউসিনোস এবং অন্যান্য গ্রহের বায়ুমণ্ডল এবং পরিবেশে বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা জীবনের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। এছাড়া, মহাবিশ্বের বিশালতা এবং বিভিন্ন গ্যালাক্সির উপস্থিতি আমাদের একে অপরকে আবিষ্কারের সুযোগ দেয়। যার ফলে ভিনগ্রহী জীবনের সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়ে ওঠে ।

ফার্মি প্যারাডক্সের মূল প্রশ্নটি হল, “যতগুলি গ্রহ ও ছায়াপথ আছে, তাতে ভিনগ্রহী জীবনের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের কোনো প্রমাণ আমরা এখনও পাইনি?” এটি ১৯৫০ সালে বিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মি দ্বারা উত্থাপিত হয়েছিল এবং আজও এটি বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের মধ্যে একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন হয়ে রয়ে গেছে । ফার্মি প্যারাডক্সের উত্থান মূলত একটি অস্পষ্টতার মধ্যে, যেখানে মানুষের মহাকাশের প্রতি গবেষণার পরও ভিনগ্রহী জীবনের কোনো স্পষ্ট নিদর্শন এখনও পাওয়া যায়নি। পৃথিবী এবং তার বাইরের ছায়াপথগুলো যেমন বিশাল, তেমনই এই বিস্তৃত মহাকাশে প্রাণের সৃষ্টির সম্ভাবনা অনেক বেশি হওয়া উচিত বলে মনে হয়। তারপরও ভিনগ্রহী জীবনের উপস্থিতি কেন দেখা যাচ্ছে না, তা একটি বড় ধাঁধা। ফার্মি প্যারাডক্সের কয়েকটি ব্যাখ্যা রয়েছে এবং কিছু তত্ত্ব এ বিষয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সরবরাহ করতে সাহায্য করেছে।

এক তত্ত্ব অনুযায়ী, ভিনগ্রহী সভ্যতাগুলি আমাদের মতো উন্নত না হলেও তাদের প্রযুক্তি সম্ভবত আমাদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত।তারা হয়তো আমাদের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে আগ্রহী নয় বা তাদের অবস্থান আমাদের থেকে এমন দূরে যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আরেকটি তত্ত্ব হল যে, যদি মহাবিশ্বে জীবনের অস্থিত্য থাকা বেশ সম্ভাব্য, কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে পাওয়ার জন্য যথাযথ প্রযুক্তি বা পদ্ধতি এখনও বিকশিত করতে পারিনি। অনেক সময় আমাদের অনুসন্ধানগুলি খুব সীমিত। বিশেষ করে মহাকাশের বিশালতাকে মাপার জন্য।

আবার কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে, যত বড় সভ্যতা গড়ে উঠতে পারে, তত বেশি তারা আত্মনিধন বা আত্মসম্মান ঘটানোর প্রবণতা দেখাতে পারে। এমন হতে পারে যে, অনেক এলিয়েন সভ্যতা নিজেদেরকে ধ্বংস করেছে, এবং তাই আমরা তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ পাইনি। মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক ড্রেক ১৯৬১ সালে এই সমীকরণ প্রস্তাব করেন যা মহাবিশ্বে পৃথিবীসদৃশ সভ্যতার সংখ্যা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বিভিন্ন উপাদান দ্বারা ভিনগ্রহী সভ্যতার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে, যেমন গ্রহের সংখ্যা, জীবন বিকাশের সম্ভাবনা, বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ইত্যাদি।

প্যানস্পার্মিয়া তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহে জীবন এসেছে মহাবিশ্বের বিভিন্ন অংশ থেকে। জীবাণু বা জীবের উপাদান মহাকাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পরে পৃথিবীতে এসে জীবন শুরু করতে পারে। এটি মহাবিশ্বে জীবন ছড়িয়ে পড়ার ধারণা প্রদান করে। গ্রীক টেকনোলজি তত্ত্ব (Great Filter Theory) অনুযায়ী, মহাবিশ্বে জীবনের বিকাশের পথে কিছু বিপুল বাধা বা “ফিল্টার” থাকতে পারে, যা উন্নত সভ্যতার আবির্ভাবকে কঠিন করে তুলতে পারে। এই বাধাগুলির মধ্যে জীবনের সৃষ্টি, সভ্যতার উন্নতি, বা আত্মনিধন হতে পারে।



জলবায়ু পরিবর্তন : পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে দরকার কার্যকর পদক্ষেপ এখনই

জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো তত্ত্ব বা ভবিষ্যদ্বাণী নয়। এটি এখন এক ভয়াবহ বাস্তবতা। বৈশ্বিক উষ্ণতা, তীব্র তাপদাহ, খরা, বন্যা, দাবানল, এ সব কিছুই আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে পৃথিবী আর আগের মতো থাকবে না। জলবায়ু পরিবর্তন শুধুমাত্র পরিবেশের ক্ষতি করছে না, মানুষের জীবনযাত্রাকেও সংকটের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা গত মাসে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। যা পৃথিবীকে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলছে-বরফ গলছে, এবং সমুদ্র স্তরের উত্থান বাড়ছে। এর ফলস্বরূপ উপকূলীয় অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বড় শিকার হতে পারে।

কানাডায় ২০২৩ সালে দাবানল রেকর্ড পরিমাণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এটি ৩ বিলিয়ন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নিঃসরণ করেছে। এই দাবানল শুধু পরিবেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করেনি, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পটভূমিও তৈরি করেছে। জানুয়ারি ২০২৫ পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ মাস হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। তাপমাত্রার এই বাড়তি মাত্রা পৃথিবীকে আরও উত্তপ্ত করছে এবং তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশ্বের আবহাওয়া পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য একযোগে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি দেশ, ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে সচেতন হতে হবে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সৌর, বায়ু, এবং অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার বাড়ালে গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাবে। আমাদের বনভূমি রক্ষা এবং নতুন করে বৃক্ষরোপণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কার্বন শোষণে সাহায্য করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যক্তিগতভাবে আমরা যদি পরিবেশবান্ধব যানের ব্যবহার, শক্তির সঞ্চয় এবং প্লাস্টিক বর্জন করতে পারি। এসব উদ্যোগ আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে সহায়ক হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে লড়াই করা এককভাবে সম্ভব নয়। এর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সহায়তার প্রয়োজন।

বিগত কয়েক বছরে আমরা যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখেছি তা আমাদের এই সংকটের ব্যাপকতা বুঝতে সাহায্য করেছে। এমনকি এক বা দুটি দেশের মধ্যে এই সমস্যা সীমাবদ্ধ থাকছে না এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের সমস্ত দেশকে এই হুমকি মোকাবিলায় একযোগভাবে কাজ করতে হবে। যেমন, ডেনমার্ক বর্তমানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে ৫০% এরও বেশি শক্তি উৎপাদন করছে, যা একটি আদর্শ উদাহরণ হতে পারে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, বড় বা ছোেট, এই সংকটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা আমাদের ভবিষ্যত, আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যত, এবং পৃথিবীর টিকে থাকার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারব। সময় হাতে আছে, তবে আমাদের সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রম আজই নিতে হবে।


ভারতের উত্তর – পূর্বাঞ্চলের ৫৫% মানুষ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর পক্ষে

জাতীয় নানা ইস্যু নিয়ে নিয়মিত নাগরিকদের মধ্যে মতামত জরিপ চালায় ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। চলতি ফেব্রুয়ারি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৮টি রাজ্যের নাগরিকদের মধ্যে একটি ব্যতিক্রমধর্মী মতামত জরিপ চালিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। জরিপের ফলাফল ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেছে ইন্ডিয়া টুডে এনই। ‘ইন্ডিয়া টুডে মোড অব দ্য নর্থ-ইস্ট’ শীর্ষক জরিপে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সরকারের আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে আপনার মতামত কী?

জরিপে তিনটি প্রধান অপশনে মতামত দিয়েছেন নাগরিকেরা। দেখা গেছে, ‘তিনি ভারতের মিত্র, তাঁকে আশ্রয় দেওয়া ঠিক আছে’-এই মতের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩% উত্তরদাতা। আর এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩৭.৬%। ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে তাঁকে ফেরত পাঠানো উচিত’-এই মতের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫৫%, বিপক্ষে দিয়েছেন ২১.১%। ‘তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত নয়, বরং অন্য দেশে চলে যেতে বলা যেতে পারে’-এই মতের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৬%, বিপক্ষে মত দিয়েছেন ২৯.১%।

ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল , নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ

অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি এখন নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ পদ নিয়ে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের অন্তত তিন জন নেতা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন-একটিতে আছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা, যারা আগে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে আগে জড়িত ছিলেন তারা দ্বিতীয় গ্রুপে এবং তৃতীয় অংশে রয়েছেন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সদস্যরা। সূত্র জানায়, নাগরিক কমিটির মধ্যে প্রথম অংশ আখতারকে সমর্থন করছে, অন্যদিকে নাগরিক কমিটির নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী উপদেষ্টা মাহফুজ আলম চান নাসীরউদ্দীন নতুন দলের সদস্য সচিব হন।

সূত্র আরও জানায়, ছাত্রশক্তি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাহফুজের সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত বিরোধ’ থাকায় সাবেক ছাত্রশক্তি নেতাদের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন আখতার। অন্যদিকে, সাবেক শিবির কর্মীরা শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য জুনায়েদকে নতুন দলের দ্বিতীয়-ইন-কমান্ড পদে আনার চেষ্টা করছেন।সূত্র জানায়, শিবির নেতৃত্বাধীন অংশটি জুনায়েদকে নতুন রাজনৈতিক দলের সদস্য সচিব এবং শীর্ষ ১০টি পদের মধ্যে কমপক্ষে চারটি পদ দাবি করেছে। এমনকি দাবি মানা না হলে জাতীয় নাগরিক কমিটি ত্যাগ করে নতুন করে সংগঠন তৈরির হুমকিও দিয়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে ‘ইতিবাচক সংকেত’ না পাওয়ায়, গতকাল বিকেলে তাদের কার্যালয়ে প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক বয়কট করেছে তারা। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকজন ছাত্র নেতাকে সরব হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, বামপন্থী অংশটি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনতে চায়। জাতীয় নাগরিক কমিটির একজন সদস্য জানান, যেহেতু নতুন রাজনৈতিক দলটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে চায়, তাই বিভিন্ন মতের মানুষও এর অংশ।

ছয় মাস হয়ে গেল সুবোধের দেখা নেই : সালেহ শফিক

২০১৭ সাল। ঢাকার দেয়ালে দেখা গেল উদোম গা ও উসকোখুসকো চুলের এক যুবককে। জেলের গরাদের ভিতরে সে দাঁড়িয়ে। দেয়ালের একখানে লেখা, সুবোধ এখন জেলে। … সুবোধ প্রকাশিত হওয়ার আগের বছরগুলোয় রাষ্ট্র চেপে ধরেছিল সংবাদমাধ্যমের চুঁটি, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও মানুষ কথা বলে পার পেত না। রাতের বেলায় মানুষকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হতো, বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও সে আর ঘরে ফিরত না। শিশুরা কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়ত, সকাল হলে আবার কান্না শুরু করত।

এমন সময়ে দেখা মিলল সুবোধের, সরকারের টিকটিকি বাহিনী ঘাম ছুটিয়েও শিল্পীকে খুঁজে পেত না। সুবোধ একটি গ্রাফিতি, যাকে বলা হয় পাবলিক আর্ট, যা কথা বলে অসংগতির বিরুদ্ধে, যা কোনো অনুমতির তোয়াক্কা করে না। সাধারণ মানুষ দেখতে পায় এমন কোনো জায়গায় গ্রাফিতি প্রকাশিত হয়। … তার শিল্পী ‘হবেকি’ ছিল অশরীরীর মতো, দেয়ালে ভাষা ফুটিয়ে মিলিয়ে যেত। সুবোধের দ্বিতীয় গ্রাফিতিতে দেখা গেল, সে পালাচ্ছে। কারণ এখানে মনুষ্যত্ব নেই, তাই তাকে পালাতে হচ্ছে। সুবোধকে পালাতে হচ্ছে, কারণ তার ভাগ্যে কিছু নেই।পরের গ্রাফিতিতে সুবোধের হাতে দেখা গেল একটি খাঁচা, যাতে সূর্যবন্দি। হবেকি বলছে, ‘সুবোধ, তুই পালিয়ে যা এখন সময় পক্ষে না, মানুষ ভালবাসতে ভুলে গেছে।’ এরপর যখন একটি মেয়েশিশুকে প্রশ্ন করতে দেখা গেল, ‘সুবোধ, কবে ভোর হবে?’ তখন মানুষের মন কেঁপে উঠল।

… সুবোধ গ্রাফিতির নিয়মিত পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষণকারী এআরকে রীপন বললেন, ‘কোনো অসংগতি দেখা দিলেই মানুষ আগ্রহ করতে থাকে সুবোধের দেখা মিলবে, আগারগাঁওয়ে নয়তো মহাখালীতে অথবা অন্য কোথাও।… আকাঙক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠায় সবাই চায় সুবোধ এখন আমাদের পক্ষে কিছু বলুক। … সুবোধ বাংলাদেশের একমাত্র ফ্যান-মেইড ক্যারেক্টার যাকে ভক্তরা বারবার আঁকতে ভালোবাসে। হুবহু হবেকির মতো আঁকে, আবার নিজের মতোও আঁকে। .. সুবোধের শেষ গ্রাফিতিটি দেখা গেছে আগস্ট বিজয়ের দিন কয় আগে টিএসসিতে। মুকুট নিজের মাথায় তুলে নিয়ে শাসকের গদিকে আছড়ে ছুড়ে মারছে সুবোধ।

দিল্লীতে বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন শুরু

আজ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটি দুই দেশের মধ্যে প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিজিবি মহাপরিচালকসহ ১৩ সদস্যের একটি দল, যাদের মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারা। ভারতের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিএসএফ মহাপরিচালক, এবং এতে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।

সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে, সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো, সীমান্ত হত্যা, আহত, আটক এবং অপহরণ রোধ। ভারত থেকে মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিষিদ্ধ দ্রব্যের চোরাচালান রোধ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও ১৫০ গজের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ। ভারতের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্তের চারটি খালের বর্জ্য পানি অপসারণ এবং পানি শোধনাগার স্থাপন। আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির জন্য ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার কুচবিহার সীমান্তে বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেন ১৫ বছরের বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী বেগমকে। ফেলানী বেগম বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তর্গত এক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাছিমপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। নিহতের নাম সাইদুল ইসলাম (২৩)। তিনি অবৈধভাবে চিনি আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে।

৬ ডিসেম্বর, পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় বিএসএফের গুলিতে আনোয়ার হোসেন (৩৬) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। তিনি ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে নিহতের মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা করে। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাছিমপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলিতে সাইদুল ইসলাম (২৩) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। তিনি অবৈধভাবে চিনি আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। এসমস্ত বিষয়ও আলোচনায় থাকবে বলে আশা করে যাচ্ছে।

তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে ভারত ও বাংলাদেশের কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিএসএফ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া, দিনহাটার গীতালদহে বিএসএফ সদস্যরা আক্রান্ত হন, এবং নারায়ণগঞ্জ সীমান্তে পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক আহতের ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত সম্মেলনে দুই বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, সীমান্তে সংঘর্ষ রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সম্মেলনটি ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে, যেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে।


যৌথ থেকে নিউক্লিয়ার ধারণায় পরিবারের রূপান্তর

পরিবার সমাজের অন্যতম মৌলিক প্রতিষ্ঠান। এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় পরিবার মানে ছিল যৌথ পরিবার নামে পরিচিত দাদা-দাদি, বাবা-মা, চাচা-ফুপু ও সন্তানদের নিয়ে একসঙ্গে বসবাসের এক বৃহৎ কাঠামো। কিন্তু আধুনিক নগরায়ণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার কারণে নিউক্লিয়ার পরিবার এখন প্রধান সামাজিক কাঠামো হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তন কি সম্পর্কের দৃঢ়তা বাড়াচ্ছে, নাকি বিচ্ছিন্নতাকে ত্বরান্বিত করছে? যৌথ ও নিউক্লিয়ার পরিবারের টানাপোড়েনের মাঝে ভবিষ্যতের পরিবার কোন দিকে যাচ্ছে? যৌথ পরিবার কেবল বসবাসের একটি কাঠামো ছিলো না। এটি ছিলো সামাজিক শিক্ষা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আবেগিক সমর্থনের এক মজবুত ভিত্তি। একাধিক প্রজন্ম একসঙ্গে বসবাস করায় পারস্পরিক সহায়তা সহজতর হতো।

গ্রামবাংলার অনেক পরিবার এখনো যৌথভাবে বসবাস করে, যেখানে দাদা-দাদির তত্ত্বাবধানে শিশুরা বড় হয়। পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা করা হয় এবং যেকোনো সমস্যায় পরিবারের সদস্যরা একে অপরের পাশে থাকে। মার্কসবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে যৌথ পরিবার শ্রমের বিভাজনকে উৎসাহিত করে এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। একইসঙ্গে সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্কহাইম মনে করেন, যৌথ সমাজব্যবস্থা মানুষের মধ্যে একাত্মবোধ সৃষ্টি করে, যেটি সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে নগরায়ণ ও আধুনিক জীবনের চাহিদার কারণে নিউক্লিয়ার পরিবার (স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান) এখন বেশি প্রচলিত। ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ক্যারিয়ারের গুরুত্ব এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। কিন্তু এই স্বাধীনতার মূল্য কি একাকিত্ব?

শহরের কর্মজীবী বাবা-মা ব্যস্ত থাকায় সন্তানেরা একা সময় কাটায়। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসবাস করলেও মানসিকভাবে দূরত্ব তৈরি হয়। এটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতায় প্রভাব ফেলে। নিউক্লিয়ার পরিবার আধুনিকতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। যেখানে ব্যক্তি তার স্বাতন্ত্র্য ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনের গুরুত্ব দেয়। যৌথ পরিবারে আয় ও ব্যয়ের বোঝা ভাগ করা হয়, যা সদস্যদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমর্থনের ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হয়। অন্যদিকে, নিউক্লিয়ার পরিবারে একজন বা দুইজন উপার্জনকারী থাকায় পুরো পরিবারের দায়িত্ব তাদের ওপর পড়ে। এটি স্বাধীনতা দিলেও, আর্থিক চাপে ফেলতে পারে।

যৌথ পরিবারে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সম্পর্কের গভীরতা বেশি থাকে। পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল থাকে, যা সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। অপরদিকে, নিউক্লিয়ার পরিবারে স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুত্ব বেশি হলেও পারিবারিক সংযোগ দুর্বল হয়ে যায়। পরিবারে বাবা-মা কর্মজীবী হলে শিশুরা একাকী বেড়ে উঠে বা বাইরের পরিচর্যার ওপর নির্ভর করতে হয়। যৌথ পরিবার পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সহায়ক। এতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই মূল্যবোধ ও জীবনধারা অনুসরণ করে। কিন্তু নিউক্লিয়ার পরিবারে ব্যক্তিস্বাধীনতার কারণে সংস্কৃতি পরিবর্তনের হার বেশি।

নিউক্লিয়ার পরিবার আধুনিক জীবনের বাস্তবতা হলেও ভবিষ্যতে হয়তো পরিবার আরও নমনীয় কাঠামোর দিকে যাবে। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কারণে এক নতুন ধরনের সামাজিক কাঠামো গঠিত হতে পারে, যেখানে কম্ফোরট জোন মিলে “নতুন যৌথ পরিবার” তৈরি হবে। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় “co-living spaces” জনপ্রিয় হচ্ছে, যেখানে বন্ধু বা অপরিচিত ব্যক্তিরা একত্রে বসবাস করে। কিন্তু প্রত্যেকের নিজ নিজ স্বাধীনতাও বজায় থাকে। এটি ভবিষ্যতের পরিবারের এক সম্ভাব্য রূপ হতে পারে, যেখানে রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে পরিবার গঠিত হবে।

যৌথ পরিবার সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সহায়তার ভিত্তি শক্তিশালী করে। তবে ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।নিউক্লিয়ার পরিবার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। তবে সামাজিক সংযোগ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে পরিবার কাঠামো কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনো অনিশ্চিত। বর্তমান প্রজন্ম কি যৌথ পারিবারিক ঐতিহ্যে ফিরে যাবে, নাকি নিউক্লিয়ার পরিবারই আধুনিক সমাজের মানদণ্ড হয়ে থাকবে? সময়ই এর উত্তর দেবে।




জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাস্থানীয় নির্বাচন , সংখ্যানুপাতিক ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধ , সংবিধানে বহুত্ববাদের সুপারিশে কয়েকটি ইসলামি দলের আপত্তি

সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রথম বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের আভাস পাওয়া গেছে। আগে সংসদ না স্থানীয় সরকার নির্বাচন – প্রশ্নে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রথম বৈঠকেই ভিন্নমত দেখা গেছে। বিএনপি এবং সমমনারা জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য যে কোনো নির্বাচনের ঘোর বিরোধী। তবে ছাত্র নেতৃত্ব ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদ আগে স্থানীয় নির্বাচন চাইছে।

বৈঠক সূত্রের বরাতে সমকাল জানায়, ছাত্রনেতাদের সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে দাবি তোলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ক্ষমতাচ্যুত দলটিকে সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, জুলাই গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ করতে হবে। নির্বাচনে অযোগ্য করতে নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। এ দাবির বিরোধিতা করেনি অন্য কোনো দল। ছাত্রনেতারা সংবিধান বাতিলের দাবিও করেন। তবে এতে কেউ প্রকাশ্য সমর্থন করেনি। ছাত্রনেতারা বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কেউ কেউ ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার এবং পুনর্বাসনের চিন্তা করছেন, তা হতে দেওয়া হবে না। বিএনপি নেতারা এসব বক্তব্যে বৈঠকে প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তবে বিএনপির সমমনারা স্থানীয় নির্বাচন প্রশ্নে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র দ্রুত ঘোষণার দাবিও তোলেন ছাত্রনেতারা। এতে সমর্থন জানায় খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাবিত সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের বিরোধিতা করে বিএনপির সমমনা দলগুলো। বামপন্থি দল বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ আগে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানায়। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে বহুত্ববাদের সুপারিশের সমালোচনা করেছে কয়েকটি ইসলামপন্থী দল। তাঁদের দাবি বহুত্ববাদ চলবে না। আজ শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের সময় এই আপত্তি জানান তাঁরা।

সংবিধান কমিশনের বহুত্ববাদ প্রস্তাব বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুচ আহমাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা একত্ববাদে বিশ্বাসী। এখানে বহুত্ববাদ বা একাধিক স্রষ্টা তো শিরক করা। আইনি দিক হলে অনেক ঝামেলা হবে। তা দরকার ছিল না, আমরা আপত্তি জানিয়েছি।’ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বহুত্ববাদের প্রয়োজন নেই আমরা বলেছি। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা হলেই সবার মতামতের সুযোগ হবে। আল্লাহর প্রতি আত্মবিশ্বাস সংযোজন করার জন্য বলেছি।’

হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও আপত্তি জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের বহুত্ববাদ আল্লাহর একত্ববাদকে অস্বীকার করা নয়। বহুত্ববাদ বলতে বহুমতের প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। আমরা বলেছি, গণতন্ত্রের বহুমতের প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে।




জ্ঞানের মুক্তি ও নতুন সভ্যতার সূচনা : রেনেসাঁ

ইতিহাসের প্রবাহে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যা গোটা সভ্যতারই গতিপথ পাল্টে দেয়। রেনেসাঁস ছিল তেমনই এক যুগ! এক নতুন সূর্যের উদয়, যা ইউরোপকে মধ্যযুগের অন্ধকার থেকে ছিনিয়ে আলোর দিকে টেনে নিল। এ কেবল শিল্প, সাহিত্য বা বিজ্ঞানের পুনর্জন্ম ছিল না, ছিলো মানুষের মুক্তচিন্তার জয়যাত্রা। কিন্তু কেন এই নবজাগরণ ঘটল? কীভাবে এটি ইউরোপকে বদলে দিল? আর এর প্রভাব কি সত্যিই আজও টিকে আছে? রেনেসাঁসের উত্থান ঘটেছিল মধ্যযুগের শেষভাগে। যখন ইউরোপ ধীরে ধীরে ফিউডাল সমাজব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছিল। ১৪শ শতকে ইতালির বিভিন্ন শহর-রাজ্য, বিশেষ করে ফ্লোরেন্স, রোম, মিলান ও ভেনিসে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতনের পর গ্রিক ও রোমান জ্ঞান সংরক্ষিত থাকা পাণ্ডুলিপিগুলো ইউরোপে ফিরে এসে ধীরে ধীরে বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের অনুপ্রেরণা দেয়।

মধ্যযুগের ইউরোপ ছিলো একটি সংকীর্ণ, ধর্মনির্ভর ও স্থবির সমাজ। বিজ্ঞানকে ‘পাপ’ বলে দমন করা হতো, চার্চ নির্ধারণ করত মানুষের জীবনধারা, এবং জ্ঞানের প্রবাহ ছিল অভিজাতদের একচেটিয়া সম্পদ। কিন্তু সময় বদলাচ্ছিল। ১২০০-১৩০০ শতকের মধ্যে ব্রুসেডের ফলে মুসলিম বিশ্ব থেকে বিজ্ঞানের নতুন জ্ঞান ইউরোপে আসতে থাকে। ১৪৫৩ এর সময়ে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতনের পর গ্রিক ও রোমান পাণ্ডুলিপি গুলো পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। ইতালির ফ্লোরেন্স, ভেনিস ও জেনোয়া হয়ে উঠল ধনী বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যেখানে ক্রমান্বয়ে শিল্প-সংস্কৃতি ও নতুন চিন্তাধারার উন্মেষ ঘটতে শুরু করল।

এই সমস্ত আলোর সমন্বয়ে জন্ম নিল রেনেসাঁস। একটি নতুন ইউরোপের স্বপ্ন! যেখানে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের চিন্তা ও সৃজনশীলতার উপর আস্থা রাখতে শুরু করল। রেনেসাঁসের দৈব পরিবর্তন ঘটার পেছনে ছিলো বেশ কিছু প্রধান কারণ। যেমন – মানবতাবাদ বা মানুষের চিন্তার মুক্তি রেনেসাঁসের মূল চালিকাশক্তিই ছিল এটি। যেখানে নতুন করে মানুষের যুক্তি, অনুভূতি ও স্বাধীন চিন্তাকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়। দান্তে, পেত্রার্ক ও বোকার্চিওর লেখনীতে ফুটে উঠে নতুন যুগের ভাবনা, মানুষ কেবল ঈশ্বরের দাস নয়, বরং সে নিজেই তার ভাগ্যের নির্মাতা! মধ্যযুগীয় চিত্রকলায় ছিল একরকম অনাড়ম্বরতা, যেখানে মাত্র দুটি রঙের ব্যবহার ও কঠোর ধর্মীয় কাঠামো লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু রেনেসাঁসের শিল্পীরা এসে তাতে যেন নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন করলেন।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি অন্ধকারের পিঠে বসে মোনালিসার হাসিতে নতুন এক রহস্যময়তার সূচনা করলেন। মাইকেলেঞ্জেলো সিস্টাইন চ্যাপেলের ছাদে তুলির স্পর্শে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ চিত্রকর্ম আঁকলেন। রাফায়েল এসে চিত্রকলায় নতুন ভারসাম্য, সৌন্দর্য ও গভীরতা যোগ করলেন। তাঁদের হাত ধরেই ইউরোপের শিল্পধারা পবিত্র ধর্মীয় ফ্রেম থেকে বেরিয়ে বাস্তববাদ ও মানবিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশে রূপান্তরিত হয়। রেনেসাঁস ইউরোপে শুধু শিল্পের বিকাশ নয়, বিজ্ঞানেরও নবজন্ম দিয়েছিলো। নিকোলাস কোপারনিকাস এসে বললেন, পৃথিবী নয়, বরং সূর্যই মহাবিশ্বের কেন্দ্র। গ্যালিলিও গ্যালিলি টেলিস্কোপ আবিষ্কার করে দেখালেন আকাশের সকল গ্রহ নক্ষত্রগুলোও পরিবর্তনশীল। নিউটন মাধ্যাকর্ষণ সূত্র দিয়ে পদার্থবিজ্ঞানের নতুন আরেক ভিত্তি মজবুত করলেন।

চার্চের রক্তচক্ষুর ভয় উপেক্ষা করে তাঁরা বিজ্ঞানের নতুন পথ রচনা করলেন, যার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে আজকের আধুনিক বিশ্ব। ১৪৫০ সালে গুটেনবার্গের মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের ফলে জ্ঞান আর কেবল ধনী ও ক্ষমতাশালীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রইল না। বই সহজলভ্য হলো, মানুষ নিজে পড়তে ও চিন্তা করতে শিখল, এবং ধীরে ধীরে জ্ঞানের উপর চার্চের একচেটিয়া কর্তৃত্ব কমতে শুরু করল।মার্টিন লুথার যখন ১৫১৭ সালে চার্চের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর “৯৫ থিসিস” প্রকাশ করলেন। তখন ইউরোপে এক নতুন বিপ্লব শুরু হলো, প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার আন্দোলন। এর ফলে ক্যাথলিক চার্চের শক্তি দুর্বল হয়ে যায়। মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণা জন্ম নিল এবং আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হলো।

রেনেসাঁসের ঢেউ শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। শেক্সপিয়ারের নাটক ও সনেট ইউরোপীয় সাহিত্যকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল। নিউটন, গ্যালিলিও, ডেকার্তের হাত ধরে বিজ্ঞানের নতুন যুগ শুরু হলো। রাজনীতি ও সমাজ সামন্তবাদ থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের ধারণা বিকাশ লাভ করল। অপরদিকে কলম্বাস, ভাস্কো দা গামা ও ম্যাগেলান বিশ্ব মানচিত্রে নতুন অধ্যায় যোগ করলেন। রেনেসাঁস ছিল শুধু একটি কালপর্ব নয়, এটি ছিল এক বিপ্লব, যা মানবসভ্যতাকে একটি আধুনিক যুগের দিকে ঠেলে দিল।

আজকের বিশ্বও এক নতুন রেনেসাঁসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও জিন – সম্পাদনার যুগে আমরা আবার এক নতুন জ্ঞানের বিপ্লবের মুখোমুখি। রেনেসাঁস আমাদের শিখিয়েছে, চিন্তার স্বাধীনতা, যুক্তিবাদ ও সৃজনশীলতা – এই তিনটি জিনিসই সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই আজও যখনই অন্ধকার নেমে আসে, যখনই চিন্তার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই আমাদের প্রয়োজন হয় ঘুরে দাড়ানোর এক নতুন রেনেসাঁস!





বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে শ্রমিক নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ , চ্যালেঞ্জের মুখে বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড

যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে – বাংলাদেশের পোশাক খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশের প্রভূত উন্নতি হলেও শ্রমিক অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন ও গুডওয়েভ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ববাজারের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক সরবরাহকারী হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ এবং শ্রমিক নিপীড়নের কারণে ক্রমাগত আন্তর্জাতিক নজরদারির মুখে পড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-বিশেষ করে শিশু শ্রম, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, মজুরি বৈষম্য, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও শ্রমিক নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মতো এবারো আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার মানোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সেটা মোক্ষম সুযোগ হতে পারে। ২০২৩ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে এই গবেষণা চালানো হয়। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মিলে মোট ১ হাজার ৯৭৪ জন পোশাক শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাক খাতে এখনও আধুনিক দাসত্ব ও শিশু শ্রমের মতো গুরুতর সমস্যাগুলো বিদ্যমান। এতে দেখা যায়, ৩২% পোশাক শ্রমিক ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম টাকায় কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে ৭% শ্রমিকের আয় আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের রপ্তানি সরবরাহ শৃঙ্খলে শিশু শ্রমের অস্তিত্ব রয়েছে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক কারখানাগুলোতে শিশুদের উপস্থিতি বেশ। শুধু তাই নয়, তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা শোষণ করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে সরকার পোশাক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা (প্রায় ১১৩ মার্কিন ডলার) নির্ধারণ করলেও গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০% শ্রমিক মনে করেন, এই আয় দিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন। আর মাত্র ৯% শ্রমিক সঞ্চয় করতে সক্ষম। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও শ্রমিকদের ওপর উৎপাদনের চাপও বড় সমস্যা। গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৩০% শ্রমিক দৈনিক ১০ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন, যা আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশি শ্রম আইনের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং এই চিত্রকে ফোর্সড লেবার বা জোরপূর্ব শ্রমের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারীদের আধিপত্য থাকলেও তাঁদের ক্ষেত্রেই বৈষম্য প্রকট। গবেষণা দেখা যায়, পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় নারী শ্রমিকরা গড়ে মাসে ২,০০০ টাকা (১৮ মার্কিন ডলার) কম মজুরি পান। এছাড়া ৬৮% প্রাপ্তবয়স্ক ও ৯০% অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী শ্রমিক নিপীড়ন ও হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। সাবকন্ট্রাক্টে পরিচালিত কারখানাগুলোতে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের হার বেশি, যা সরাসরি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও নৈতিক ব্যবসার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের। কারণ, বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে কম দামে পোশাক কেনার লক্ষ্য থাকায় এই প্রবণতা বেশি বেশি ঘটছে। বাংলাদেশের এই শ্রম পরিস্থিতি বৈশ্বিক রিটেইলারদের কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলবে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের সংকট সমাধানের গবেষণা প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে-সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকার ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে নিম্নস্তরের সরবরাহকারীদের কার্যক্রম কঠোর পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সরকারকে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শিশুশ্রম প্রতিরোধে শিশুশ্রম আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং চুক্তিভিত্তিক কারখানাগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।