Home Blog Page 199

হারিয়ে যাওয়া ছায়া নাচের গল্প

শ্যাডো পাপেট্রি বা ছায়া পুতুলের নাটক চীনের অন্যতম প্রাচীন লোকশিল্প। শত শত বছর ধরে এটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং সামাজিক বার্তা, ঐতিহাসিক কাহিনি ও আধ্যাত্মিক ভাবনার বাহক হিসেবেও কাজ করত। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ, চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল বিনোদনের ব্যাপক বিস্তারের ফলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। এই শিল্পের উৎপত্তি হান রাজবংশের (২০২ খ্রিস্টপূর্ব -২২০ খ্রিস্টাব্দ) সময় থেকে। চীনা কিংবদন্তি অনুসারে, সম্রাট হান উডি তার প্রিয় স্ত্রীকে হারিয়ে গভীর শোকে মুষড়ে পড়েছিলেন। এক রাজকীয় যাদুকর তখন চামড়ার তৈরি পুতুলের সাহায্যে তার স্ত্রীর ছায়া তৈরি করে এক বিশেষ নাট্য প্রদর্শন করেন। এই ছায়া দেখে সম্রাটের মনে হয় যেন তার স্ত্রী জীবন্ত হয়ে ফিরে এসেছে। এখান থেকেই ছায়া পুতুলের নাটকের সূচনা হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

প্রথমদিকে ছায়া পুতুলের চরিত্রগুলো পাতলা চামড়া কেটে তৈরি করা হতো এবং রঙিনভাবে সাজানো হতো। এরপর এগুলোকে একটি সাদা পর্দার সামনে রেখে পেছন থেকে আলো ফেলা হতো, যাতে ছায়াগুলো জীবন্ত মনে হয়। সাধারণত পৌরাণিক কাহিনি, বৌদ্ধ গল্প ও যুদ্ধের মহাকাব্য ছিল এই নাটকের প্রধান বিষয়বস্তু। ছায়া পুতুলের নাটকের স্বর্ণযুগ ছিলো সুং রাজবংশের সময়কালে (৯৬০-১২৭৯ খ্রিস্টাব্দ)। এই সময় ছায়া পুতুল নাটক চীনে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। বিভিন্ন গ্রামে এটি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। মিং ও চিং রাজবংশের (১৩৬৮-১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে ছায়া পুতুল নাটকের আকার তুলনামূলক বড় হয় এবং নাটকের বিষয়বস্তু আরও সমৃদ্ধ হয়।

এর মধ্যে শেডো পাপেট্রি শুধু চীনেই নয়, কোরিয়া, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী “Wayang Kulit” এবং ভারতের “তোগলু বোম্মালাতা” নাটকের শেকড়ও এই চীনা ছায়া পুতুলের শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। একসময় মানুষেষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল লোকনাট্য। কিন্তু এখন সিনেমা, টেলিভিশন ও ডিজিটাল কনটেন্ট মানুষের প্রধান বিনোদন হয়ে উঠেছে। ছায়া পুতুলের নাটক এখন শিশুদের কাছেও আকর্ষণ হারিয়েছে। একসময় চীনা রাজারা ও শাসকেরা এই শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন, কিন্তু আধুনিক চীনে একে সেভাবে আর সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।

একটি ভালো শেডো পাপেট্রি দলের জন্য আলাদা মঞ্চ ও সরঞ্জাম প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল। অনেক দল এই খরচ বহন করতে পারে না, ফলে তারা পেশা বদলে নিচ্ছে। ইউনেস্কো ২০১১ সালে চীনের শেডো পাপেট্রিকে ‘Intangible Cultural Heritage’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিছু চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও নাট্যগোষ্ঠী শিক্ষার্থী ও দর্শকদের এই শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। ডিজিটাল মিডিয়া ও অ্যানিমেশনের সাহায্যে নতুন আঙ্গিকে ছায়া পুতুলের গল্প বলা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায় এই নতুন রূপ কি সত্যিকারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে, নাকি এটি কেবল নস্টালজিয়ার একটি ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে?



এরদোয়ান , ইমরান খান , কেজরিওয়ালের মডেলে নতুন দল করতে চায় ছাত্ররা , জাতীয় নেতারা থাকতে বিদেশী নেতাদের অনুসরণ কেন : আলাল

বাংলাদেশে গত ৪০ বছরে নতুন তৈরি হওয়া কোনো দল ভোটের মাঠে সেভাবে সুবিধা করতে পারেনি। তবে দেশে না হলেও গত কয়েক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতায় আসার নজীর আছে। যার মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তুরস্কের রিচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের একে পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা যে নতুন দল করছেন তার সফলতার মন্ত্র খুঁজতে এই তিনটি দলের কর্মসূচি, সাংগঠনিক কাঠামো ইত্যাদি যাচাই-বাছাই করছে।

জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এই পার্টিগুলো আসলে কীভাবে জনগণের কাছে গিয়েছে, জনগণের ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে তারা কোন ধরনের কৌশল নিয়েছে, তাদের গঠনতান্ত্রিক কাঠামোটা কেমন – এসব বিষয় আমরা স্টাডি করছি। আমরা বোঝার চেষ্টা করছি ওই অঞ্চলের তরুণদের বোঝার ক্ষেত্রে এবং রাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রে তারা কী চিন্তা-ভাবনা নিয়ে এসেছে যেটা ওই দেশের লোকজন গ্রহণ করেছে এবং তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে শাসনক্ষমতার দায়িত্ব দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “এখানে দেখবেন এরদেয়ানের পার্টি কিন্তু ফোকাস করেছে ইনসাফের ওপর। তার নামই হচ্ছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। যেটা আমরাও বলছি। আমরা ন্যায়বিচারের কথা বলছি, সুশাসনের কথা বলছি। অন্যদিকে ভারতের আম আদমি পার্টি দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে। দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম করেছে। আমরা সেগুলোও দেখছি।” অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রশ্ন তুলেছেন-‘দেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা তরুণদের কাছে বিদেশি নেতারা এত জনপ্রিয় কেন’।

১৫ জানুয়ারি এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন – ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ জিয়ার মতো নেতারা আছেন। তাদের আদর্শ থাকার পরও তরুণরা কেন বাইরের নেতাদের অনুসরণ করছে? এই বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন, নাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্তিতে থাকবে।’ তাঁর প্রশ্ন – ‘আমার কাছে অবাক লাগে, আমাদের দেশের তরুণরা, যারা এই মাটিতে বেড়ে উঠেছে, যাদের শরীরে দেশের মাটির ঘ্রাণ লেগে আছে, তারা কেন বিদেশি নেতাদের মতবাদকে এত জনপ্রিয় মনে করছে? এই প্রবণতা দেখে আমার মনে প্রশ্ন জাগে, এর মূল কারণ আসলে কী?

সমাজে প্রযুক্তির বিপ্লব ও প্রভাব

আধুনিক প্রযুক্তি শুধু আমাদের দৈনন্দিন জীবনকেই সহজ করেনি, বরং মানুষের চিন্তাভাবনা, কাজকর্ম, এবং সম্পর্কের ধরনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। টেলিফোন, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, এই সব প্রযুক্তি মানুষের মধ্যে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা ভেঙে দিয়েছে। এখন যে কোনো স্থান থেকে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব। আমরা সবাই জানি প্যানডেমিকের সময় ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম যেমন Zoom, Microsoft Teams, বা Google Meet আমাদের দৈনন্দিন কাজ, শিক্ষাদান, এবং সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে কতটা সহায়ক হয়েছিল।

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্রও সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্ট হয়েছে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পেশা যেমন, সফটওয়‍্যার ডেভেলপার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি। আজকাল অধিকাংশ কোম্পানি তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করছে। অনেক মানুষ এখন ‘ফ্রিল্যান্সিং’ করে বাড়ি থেকেই কাজ করছে Upwork, Fiverr-এর মাধ্যমে।এই ধরনের কাজ সমাজে আর্নিং পোটেনশিয়াল বাড়াচ্ছে, কিন্তু একই সাথে কিছু পুরনো পেশা যেমন টেলিফোন অপারেটর বা সেলস ক্লার্কও সংকুচিত হয়ে গেছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটেছে। এখন মানুষ ঘরে বসেই অনলাইন কোর্স, ভিডিও লেকচার, ই-বুকসের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। Coursera, Khan Academy, Udemy ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মগুলো এখন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। এখন আর বাধা নেই, একজন ছাত্র বা চাকরিজীবী, এমনকি একজন বৃদ্ধ মানুষও, নিজের আগ্রহের বিষয়ে অনলাইনে যে কোন সময় শিক্ষার সুযোগ পেতে পারেন। ফলে প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে একটি বৈশ্বিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। প্রযুক্তি শুধুমাত্র মানুষের জীবনকে সহজই করেনি, বরং ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। ই-কমার্স, ফিনটেক, ক্রিপ্টোকারেন্সি-এগুলো সমস্তই প্রযুক্তি দ্বারা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের পেমেন্ট সিস্টেমে বিকাশ, রকেট, নগদ-এসব ডিজিটাল সেবা আমাদের লেনদেনকে সহজ করেছে। এর মাধ্যমে যেমন সঞ্চয়ের পথ খুলে গেছে, তেমনি ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য ও সেবা বাড়াতে আরও বেশি সুযোগ পেয়েছেন। তবে প্রযুক্তির বিপ্লব শুধু ইতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ফেলেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, তথ্যের অপব্যবহার, গোপনীয়তার হুমকি এবং মিথ্যা তথ্যের বিস্তার বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Facebook বা Twitter এর মাধ্যমে এখন অনেক মিথ্যা তথ্য বা ফেক নিউজ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। বাচ্চারাও এখন অনেক সময় প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে, যার ফলে সামাজিক সম্পর্ক বা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে প্রযুক্তি আরও গভীরভাবে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, এবং ন্যানোটেকনোলজির উন্নতির মাধ্যমে আমাদের কাজের ধরন এবং জীবনযাত্রা আরও সহজ এবং কার্যকরী হবে।


হল – মার্ক কেলেঙ্কারির পর ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সোনালী ব্যাংক

হল – মার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। ২০১০-১২ সালে ব্যাংকটি থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নিয়েছিল হল-মার্ক গ্রুপ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং ঋণগ্রহীতাদের জেলে যেতে হয়। ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের আমানত ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় ১ লাখ কোটিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ৩৩% ঋণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকটি ঋণ কার‍্যক্রম কমিয়ে সরকারি বন্ড ও নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পাশাপাশি, বড় শিল্প গ্রুপে ঋণ না দিয়ে অন্য ব্যাংককে টাকা ধার দিয়ে সুদ আয়ের পথে যায়। এসব কৌশলে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি মজবুত হয় এবং গ্রাহকের সংখ্যা এক কোটির ঘর থেকে দুই কোটিতে পৌঁছে যায়। বর্তমানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৬,৬২৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৭%। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ১৩.২৩%। শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকে আছে ৫,০৮০ কোটি টাকা, যার মধ্যে হল-মার্কের অবদান ১,২২৭ কোটি। ২০২৪ সালে এই গ্রাহকদের থেকে মাত্র ১২১ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫,৬৩৪ কোটি টাকা, যা দেশের ব্যাংক খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে নিট মুনাফার চূড়ান্ত হিসাব এখনো সম্পন্ন হয়নি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং রপ্তানি খাতে বেশি ঋণ প্রদান করা হবে। পুরোনো খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, এবং আদালতের অনুমোদন পেলে হল-মার্কের বন্ধকি সম্পদ খণ্ড খণ্ড করে বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। এক যুগের কঠিন সময় পেরিয়ে সোনালী ব্যাংক এখন দেশের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ আদায়ের চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে, যা ব্যাংকের সামগ্রিক সাফল্যের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

পানির জন্য জীবন

বাংলাদেশে নিরাপদ পানির সংকট এবং দূষণ একটি গুরুতর সমস্যা। দেশের নদ-নদী এবং পানির বিপুল পরিমাণ উৎস থাকা সত্ত্বেও, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবেশের অবক্ষয়, এবং অপর্যাপ্ত পানি ব্যবস্থাপনার কারণে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। দেশে প্রায় ৭০০টিরও বেশি নদী রয়েছে। কিন্তু পানির অভাব দেখা দেয় শুষ্ক মৌসুমে। বিশেষত দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটের মতো এলাকায় এই সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হওয়ায় কৃষিকাজ এবং দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণে সমস্যা হয়। খুলনা জেলার গ্রামের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে পানি সংগ্রহের জন্য ট্যাঙ্কার ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, যা তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশে পানি দূষণের সমস্যাও অনেক বিস্তৃত। নদী, পুকুর এবং কুয়ো দূষিত হচ্ছে শিল্প বর্জ্য, কৃষি রাসায়নিক, এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে। খুলনা জেলার গ্রামের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে পানি সংগ্রহের জন্য ট্যাঙ্কার ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, যা তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে পানি দূষণের সমস্যাও অনেক বিস্তৃত। নদী, পুকুর এবং কুয়ো দূষিত হচ্ছে শিল্প বর্জ্য, কৃষি রাসায়নিক, এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে। দেশের অনেক গ্রামে আর্সেনিক দূষিত পানির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। টিউবওয়েলগুলোতে আর্সেনিকের উপস্থিতি অনেক মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত করছে।

মুন্সিগঞ্জের হারিনগর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ আর্সেনিক দূষিত পানি পান করছেন বলে জানা গেছে। যার কারণে তাদের ত্বকে সমস্যা এবং অন্যান্য রোগ দেখা দিচ্ছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী এবং নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী শিল্প বর্জ্যে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে। এসব নদী এক সময় ছিল পানির উৎস, কিন্তু এখন তা মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না। বাংলাদেশে পানির সংকট এবং দূষণ একটি বড় সমস্যা, তবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি মোকাবিলা করা সম্ভব। নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার জন্য নাগরিক এবং সরকারেও আরো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


কীভাবে বিপদজনক হয়ে উঠছে ঢাকায় বায়ু

ঢাকা সময়ের সাথে সাথে তীব্র বায়ুদূষণের সম্মুখীন হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম এই দূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে অবনতি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মান সূচক (AQI) প্রায়শই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ভারতের দিল্লি, এরপর রয়েছে ঢাকা। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর তালিকায় প্রায়ই ঢাকার নাম শীর্ষে থাকে। এই দূষণের ফলে প্রতিদিন শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, “ঢাকার বায়ু এতটাই দূষিত যে, এটি প্রতিদিন ১০-১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতি হচ্ছে মানুষের !”

বিশেষজ্ঞরা আরো উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকার বায়ুতে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (PM2.5) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ৫২ গুণ বেশি। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ু ও নদীদূষণের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বায়ুদূষণ রোধে পাঁচটি ঘোষণা দিয়েছেন। যার মধ্যে নির্মাণস্থলে আচ্ছাদন ব্যবহার, ধূলাবালি নিয়ন্ত্রণ, এবং কালো ধোঁয়া নির্গতকারী যানবাহন নিষিদ্ধ করা অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব উদ্যোগের কার‍্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ মাঠপর্যায়ে সব সময় এসব নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবার সম্ভাবনা কম।

ঢাকার আশেপাশে অবস্থিত প্রচুর ইটভাটা ও শিল্প কারখানা, বিশেষ করে শীতকালে, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।এসব ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং ক্ষতিকর বস্তুকণা বায়ুর মানকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এছাড়াও ঢাকার সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে পুরনো এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণের একটি বড় কারণ। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঘনবসতিতে জরাজীর্ণ ঢাকার দ্রুত নগরায়ন এবং উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব বায়ুদূষণ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। খোলা স্থান ও সবুজায়নের অভাবে বায়ুর স্বাভাবিক গুণগত মানও হ্রাস পাচ্ছে।

বায়ুদূষণ রোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাবও একটি বড় সমস্যা। অনেকেই দূষণের প্রভাব সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না, যার ফলে তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে কোনো পরিবর্তন আনছেন না। বায়ুদূষণ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। নাগরিকদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন হতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার, কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

ছোট অভ্যাস , বড় পরিবর্তনে আনুন ব্যক্তিগত উন্নয়ন

ব্যক্তিগত উন্নয়ন মানেই শুধু বড় কোনো লক্ষ্য অর্জন নয়, বরং ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে জীবন বদলে দিতে পারে। আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের অভ্যাসের ওপর। “Atomic Habits” বইয়ের লেখক জেমস ক্লিয়ার বলেছিলেন, “আপনার অভ্যাসের মানেই আপনার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।” অর্থাৎ, প্রতিদিন সামান্য উন্নতি ঘটাতে পারলেও সেটি এক সময় বিশাল পার্থক্য তৈরি করতে পারে। ধরা যাক, আপনি একজন শিক্ষার্থী এবং আপনি প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট নতুন শব্দ শেখার অভ্যাস করেন। প্রথম কয়েক দিনে এটি তেমন বড় পরিবর্তন মনে হবে না। কিন্তু এক বছর পরে দেখা যাবে আপনি প্রায় ৩৬৫০টি নতুন শব্দ শিখে গেছেন। অভ্যাসটি আপনার ভাষাজ্ঞানকে বিস্তৃত করেছে।

একইভাবে, যদি কেউ প্রতিদিন ১০ মিনিট ব্যায়াম করে, প্রথম দিকে এটি সামান্য মনে হবে, কিন্তু কয়েক মাস পর তার শারীরিক সুস্থতায় স্পষ্ট পার্থক্য আসবে। বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিতে গেলে স্টিভ জবস তার ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় নিজের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ব্যয় করতেন। তার নিত্যনতুন আইডিয়া নিয়ে চিন্তা করার অভ্যাসই অ্যাপলকে বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানিতে পরিণত করেছে। আমাদের আশেপাশের অনেক সফল মানুষও ছোট ছোট অভ্যাসকে গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন, একজন উদ্যোক্তা প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস করলে তার জ্ঞান এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, যা ভবিষ্যতে তার ব্যবসাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

কিভাবে শুরু করবেন ভাবছেন? একটি অভ্যাস বেছে নিন। এমন কিছু যা আপনার উন্নয়নে সহায়ক হবে যেমন, প্রতিদিন ১০ মিনিট বই পড়া। ছোট পরিমাণেই শুরু করুন। একবারে বড় পরিবর্তনের চেয়ে ধীরে সুস্থে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। নিয়মিত অনুশীলন করুন। ধৈর‍্য ধরে প্রতিদিন বাছাই করা সুন্দর অভ্যাসটি চালিয়ে যান। ব্যক্তিগত উন্নয়ন রাতারাতি হয় না, তবে প্রতিদিনের সামান্য উন্নতির সঞ্চয় একসময় বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাই আজ থেকেই শুরু করুন। ইতিবাচক ছোট অভ্যাসই আপনার জীবনের বড় পরিবর্তনের চাবিকাঠি।



ট্রাম্পের অপরাজনীতি : মো. ইমরান আহম্মেদ , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার , বাংলাদেশ পুলিশ পিএইচডি গবেষক

“… ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি ধারণা নিয়ে এবার ক্ষমতায় এসেছেন, যার মূল ভিত্তি – সব মানুষ সমান নয়। সবার অধিকারও সমান না। তিনি ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতির মতো করে রাষ্ট্রজীবনকে মূল্যায়ন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যদি সেখানকার কোনো বড় পদে কৃষ্ণাঙ্গ কেউ দায়িত্বে থাকেন, সে ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিইআই (ডাইভারসিটি বা বৈচিত্র্য, ইকুয়ালিটি বা সাম্য ও এনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তি) নীতি দায়ী বলে কৌশলে বর্ণবাদকে উস্কে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের অন্যতম সহযোগী ইলন মাস্ক ডিইআইকে পরিহাস করে ডিআইই (ডাই) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আনভেরিফায়েড বা অশ্লীল ভাষা প্রত্যাশিত না হলেও ট্রাম্প তা হরহামেশাই করে চলছেন। কথাবার্তায় ন্যূনতম শালীনতা না রেখেই তিনি মানুষকে ‘অপরাধী’, ‘এলিয়েন’ হিসেবে সম্বোধন করছেন। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়া করতে তাদের হাত-পায়ে শিকল পরিয়ে পশুর মতো সামরিক বিমানে করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন। … তিনি তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পলিসি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে দেশকে বের করে এনেছেন। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য, অনুদান ও ফান্ডিং কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। ইলন মাস্কের মতো সাবেক টুইটারের কর্মী ছাঁটাইয়ের নীতি অনুসরণ করে তিনিও প্রায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে নিজ দেশের ২০ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে চাকরি ছাড়ার জন্য ই-মেইল পাঠিয়েছেন।

.. প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর অন্যতম সহচর ধনকুবের ইলন মাস্ক মিলে সম্ভবত নতুন এক ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ রচনা করতে চাচ্ছেন, যেখানে তারা প্রবলভাবেই বাক্ স্বাধীনতার সংজ্ঞা নিজেদের মতো করে লিখতে চাচ্ছেন। রাষ্ট্রের কল্যাণমুখী হওয়ার প্রথাগত ধ্যান-ধারণা বদলে দিয়ে তারা একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিন্তা করছেন। যেখানে সবকিছুকে লাভ-লোকসানের পাল্লায় মাপা হচ্ছে।নিজেদের মতাদর্শ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে উগ্র ডানপন্থাকে উস্কে দিচ্ছেন। … এতে একদিকে যেমন বাড়বে বিভক্তি-বৈষম্য অন্যদিকে দুর্বল হবে রাষ্ট্রের সফট পাওয়ার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো আগামী চার বছর পর বিদায় নেবেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত রেখে যাবেন, তা শুকাতে হয়তো কয়েক যুগ লেগে যাবে।”


ছাত্রদের দলে গনতন্ত্র নিশ্চিত করতে চায় তাদের গঠনতন্ত্র

জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে সপ্তাহখানেকের মধ্যে। দলের গঠনতন্ত্র, কাঠামো, কর্মসূচি এবং কৌশল এখন চূড়ান্ত পর‍্যায়ে রয়েছে। দলের নেতৃত্ব প্রায় ঠিক হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা নিশ্চিত করেতে চাইছেন, দলের মধ্যে যেন একক কোনো ব্যক্তির কর্তৃত্ব সৃষ্টি না হয় এবং গণতন্ত্রের চর্চা বজায় থাকে। জাতীয় নাগরিক কমিটি দলটির গঠনতন্ত্র, নাম, প্রতীক, ঘোষণাপত্র এবং কাঠামো তৈরির কাজ করছে। তারা আশা করছে, ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখের মধ্যে ৯০% প্রস্তুতি শেষ হবে। জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “আমরা আশাবাদী ফেব্রুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে পারব।”

নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ২১-২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হতে পারে, এবং শুরুতেই ১৫০-১৭০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে।এক বছরের মধ্যে সম্মেলন আয়োজন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ও জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলামকে দলের আহ্বায়ক হিসেবে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এখনও স্থির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। দলের নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত হয়নি, তবে সংগঠনটি জনগণের মতামত সংগ্রহ করেছে। শতাধিক প্রস্তাবিত নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতীকের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেমন ইলিশ, রিকশা এবং কলম। নাম ও প্রতীক আত্মপ্রকাশের সময়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

দলের ঘোষণাপত্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তগুলো-১৯৪৭ সালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ‘৯০-এর অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জাতিগত আকাঙ্ক্ষা-এমন সব বিষয় উল্লেখ থাকবে। আখতার হোসেন আরও বলেন, “আমরা তরুণ নেতৃত্ব ও দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার কথা বলেছি। রাষ্ট্র বিনির্মাণ, মানুষের মর্যাদা ও জাতিগত আকাঙ্ক্ষার গুরুত্ব নিয়ে কাজ করব।”

দল গঠনের বিষয়ে তারা বিভিন্ন দেশের সফল রাজনৈতিক আন্দোলন এবং দলগুলোর কাঠামো পর্যালোচনা করছে, বিশেষত তুরস্কের এ.কে. পার্টি, চিলির ব্রড ফ্রন্ট, ভারতের আম আদমি পার্টি এবং পাকিস্তানের পিটিআই-এর উদাহরণ নিয়ে। তবে, তারা কোনো নিদিষ্ট দলকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেনি।
দল গঠনের পর প্রথমেই ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি শুরু হবে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন। এছাড়া, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দাবিতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবে দলটি। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাজ করা হবে। তিন ধরনের কর্মসূচি থাকবে-সংক্ষিপ্ত, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি, যা ২০৩৫ ও ২০৪৭ সালের জন্য পরিকল্পনা করবে। দলের প্রধান লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করা, এতে করে তাদের মাধ্যমে পারিবারিক সমর্থনও তৈরি করা সম্ভব।



ট্রাম্প – মোদি তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে , চীনের পাল্টা বাণিজ্য রুট ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সহযোগিতার ঘোষণা

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প-নরেন্দ্র মোদির বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তাদের সম্পর্কের উষ্ণতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। দুই নেতা পরস্পরের উদ্দেশে অনেক প্রশংসাসূচক কথা বলেছেন। তবে বিতর্কিত বিষয়গুলো তারা এড়িয়ে গেছেন। এসব বিতর্কিত বিষয়ের মধ্যে আছে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘পারস্পরিক শুল্কনীতি’, যার মাধ্যমে তিনি মার্কিন পণ্যের ওপর অন্যান্য দেশ যে হারে শুল্ক আরোপ করে, ঠিক সেই হারেই সেসব দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা করছেন। ভারতের উচ্চ শুল্কহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প, এমনকি মোদিকে বেশ কয়েকবার ‘শুল্কের রাজা’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের শুল্কের মুখে দেশে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে, এই আশঙ্কায় বিশ্বনেতাদের অনেকেই ট্রাম্পের দাবি মেনে নিচ্ছে বা বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার মোদিও এমন কিছু প্রস্তাব নিয়ে হাজির হন। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির জন্য ভারতের আরোপ করা শুল্ককে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের অন্যায্য, কঠোর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এসব শুল্ক ভারতের বাজারে মার্কিন পণ্য প্রবেশ বেশ কঠিন করে তুলেছে। এটি সত্যিই একটি বড় সমস্যা।’

বৈঠকের পর এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন দুই নেতা। এই চুক্তির মধ্যে মহাকাশ ভ্রমণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং জ্বালানি উৎপাদনে অংশীদারত্বের বিষয়গুলো থাকবে। ট্রাম্প আরও জানান, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য আমদানি বাড়াবে ভারত। ‘প্রধানমন্ত্রী এবং আমি জ্বালানি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সম্মত হয়েছি, যা যুক্তরাষ্ট্রকে আবার ভারতের শীর্ষ তেল-গ্যাস সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে,’ বলেন ট্রাম্প। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের মতো মিত্রদের সংযুক্ত করবে এমন একটি আন্তর্জাতিক অবকাঠামো প্রকল্পেরও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।

‘আমরা একসঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য পথগুলোর একটি গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছি। এটি ভারত থেকে ইসরায়েল, ইতালি হয়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত আসবে। এই প্রকল্পের অধীনে আমাদের অংশীদারদের বন্দর, রেলপথ এবং সমুদ্রের নিচে ক্যাবল দিয়ে সংযুক্ত করবে,’ যোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরকে ইঙ্গিত করছিলেন ট্রাম্প, যার ঘোষণা প্রথম আসে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত এই করিডোর সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইসরায়েল এবং গ্রিসের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। তবে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের কারণে এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যদিও চীনের আন্তর্জাতিক প্রভাব মোকাবিলাই ছিল বৈঠকের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়, তবে আরেকটি নিরাপত্তা ইস্যু এই দুই নেতার আলোচনায় উঠে এসেছে-তা হচ্ছে ‘সন্ত্রাসবাদের’ আতঙ্ক।

‘ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করবে,’ বলেন মোদি। ট্রাম্প জানান, ভারতের কাছে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের’ সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করবে। ‘এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তভাবে উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলা করতে একসঙ্গে কাজ করবে। এর প্রভাব বিশ্বজুড়েই রয়েছে,’ যোগ করেন ট্রাম্প। তবে মোদির বিরুদ্ধে মুসলিম-বিরোধী সহিংসতার প্রতি উদাসীন থাকার এবং মুসলিম-বিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।