জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে সপ্তাহখানেকের মধ্যে। দলের গঠনতন্ত্র, কাঠামো, কর্মসূচি এবং কৌশল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দলের নেতৃত্ব প্রায় ঠিক হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা নিশ্চিত করেতে চাইছেন, দলের মধ্যে যেন একক কোনো ব্যক্তির কর্তৃত্ব সৃষ্টি না হয় এবং গণতন্ত্রের চর্চা বজায় থাকে। জাতীয় নাগরিক কমিটি দলটির গঠনতন্ত্র, নাম, প্রতীক, ঘোষণাপত্র এবং কাঠামো তৈরির কাজ করছে। তারা আশা করছে, ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখের মধ্যে ৯০% প্রস্তুতি শেষ হবে। জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “আমরা আশাবাদী ফেব্রুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে পারব।”
নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ২১-২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হতে পারে, এবং শুরুতেই ১৫০-১৭০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে।এক বছরের মধ্যে সম্মেলন আয়োজন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ও জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলামকে দলের আহ্বায়ক হিসেবে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এখনও স্থির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। দলের নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত হয়নি, তবে সংগঠনটি জনগণের মতামত সংগ্রহ করেছে। শতাধিক প্রস্তাবিত নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতীকের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেমন ইলিশ, রিকশা এবং কলম। নাম ও প্রতীক আত্মপ্রকাশের সময়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
দলের ঘোষণাপত্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তগুলো-১৯৪৭ সালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ‘৯০-এর অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জাতিগত আকাঙ্ক্ষা-এমন সব বিষয় উল্লেখ থাকবে। আখতার হোসেন আরও বলেন, “আমরা তরুণ নেতৃত্ব ও দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার কথা বলেছি। রাষ্ট্র বিনির্মাণ, মানুষের মর্যাদা ও জাতিগত আকাঙ্ক্ষার গুরুত্ব নিয়ে কাজ করব।”
দল গঠনের বিষয়ে তারা বিভিন্ন দেশের সফল রাজনৈতিক আন্দোলন এবং দলগুলোর কাঠামো পর্যালোচনা করছে, বিশেষত তুরস্কের এ.কে. পার্টি, চিলির ব্রড ফ্রন্ট, ভারতের আম আদমি পার্টি এবং পাকিস্তানের পিটিআই-এর উদাহরণ নিয়ে। তবে, তারা কোনো নিদিষ্ট দলকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেনি।
দল গঠনের পর প্রথমেই ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি শুরু হবে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন। এছাড়া, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দাবিতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবে দলটি। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাজ করা হবে। তিন ধরনের কর্মসূচি থাকবে-সংক্ষিপ্ত, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি, যা ২০৩৫ ও ২০৪৭ সালের জন্য পরিকল্পনা করবে। দলের প্রধান লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করা, এতে করে তাদের মাধ্যমে পারিবারিক সমর্থনও তৈরি করা সম্ভব।


