Home Blog Page 168

দেশে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয় ৮০% কিডনি রোগীর

বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩০-৪০ হাজার কিডনি রোগী মৃতু‍্যবরণ করেন চিকিৎসার অভাবে, জানাচ্ছে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন।কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং সীমিত, ফলে অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য হন।

প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এই রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরই মৃত্যু হয় চিকিৎসার অভাবে। বিশ্ব কিডনি দিবসকে সামনে রেখে বুধবার ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়–বাংলাদেশে কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও সীমিত হওয়ায় প্রতিবছর অনেক রোগী উন্নত সেবা নিতে বিদেশে যেতে বাধ্য হন। বিশেষ করে, কিডনি প্রতিস্থাপন ও ডায়ালাইসিস সুবিধার অভাবের কারণে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত ।দেশে বছরে ৫,০০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন, সেখানে হয় মাত্র ৪০০ এর মতো। কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।


নিউইয়র্ক টাইমস এর মূল্যায়ন ; ৫০ দিনে যেভাবে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিলেন ট্রাম্প

“যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫০ দিনে এমন অনেক কাজ করেছেন, যা দেশটির আধুনিক ইতিহাসে আর কোনো প্রেসিডেন্ট করেননি। তাঁর এসব কাজ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি খোলনলচে বদলে দিচ্ছে। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের পর খুব কষ্টে ওয়াশিংটনই এসব ভিত্তি তৈরি করেছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থান গ্রহণ করেছিল, কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বিকল্প কৌশলগত রূপরেখা ঘোষণা না করেই ট্রাম্প কিয়েভকে ছুড়ে ফেলছেন। … ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই পানামা খাল, গ্রিনল্যান্ড, গাজা এমনকি কানাডাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর এসব বক্তব্য লুণ্ঠনকারীর হুমকির মতো মনে হয়েছে।

মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির রক্তচোষা তকমা দিয়ে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ন্যাটো মিত্রদের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছেন। … বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থাকে বদলে দিতে ট্রাম্প কতটা সফল হবেন, তা কেউ জানেন না। ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে এই ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান (১৯৪৫-৫৩)। এর পর থেকে পরবর্তী সব প্রেসিডেন্ট এই ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে অবদান রেখেছেন। … সফট পাওয়ারের প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোসেফ এস নাই জুনিয়র ট্রাম্পের সম্পর্কে সম্প্রতি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দাতব্য কর্মকাণ্ডের সমস্যা নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন। কিন্তু বেলা শেষে তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পক্ষেই যায়।

পুরোনো ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চাইলেও নিজে কী গড়তে চাইছেন, তা নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। তবে তাঁর কাজ দেখে মনে হচ্ছে, ঊনবিংশ শতাব্দীর বৃহৎ শক্তির রাজনীতির জগৎই তাঁর পছন্দ। তাই তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে নানা বিষয়ে দর-কষাকষি করছেন। অন্যদিকে ছোট শক্তিগুলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন।”


নতুন দল কি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করবে : মাহফুজ আনাম সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার

” বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রয়োজন, যেটি তারুণ্যের শক্তিতে ভরপুর, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত এবং গরিব ও নিপীড়িত মানুষকে সত্যিকারেই ভালবাসবে। এমন একটি দল প্রয়োজন, যারা অত্যাচার ও শোষণের শৃঙ্খল মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখবে।এমন একটি দল দরকার, যারা আমাদের সামনে এগিয়ে নেবে, পিছনে নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এমন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের শাসনে আছি, যাদের একমাত্র লক্ষ্য ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থরক্ষা। আমাদের দরকার একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দল-যারা সবার অধিকার ও জনগণের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করবে।

সেদিক থেকে এনসিপির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাদের কিছু মৌলিক বিষয় এখনও অস্পষ্ট-আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি, বৈচিত্র্যের প্রতি গ্রহণযোগ্যতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে অবস্থান, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ইত্যাদি। তাদের উচিত, যত দ্রুত সম্ভব পার্টি চার্টার প্রকাশ করা। … আমার মনে প্রশ্ন জাগছিল, পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর যে হতাশাজনক ব্যর্থতা, সেখানে এই শিক্ষার্থীরা ও তাদের নেতারা কি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে অবহিত? তারা কি জানে যে চারপাশে হাজারো বিষাক্ত সাপ ফণা তুলে আছে, অবৈধ টাকার বাক্স হাতে দাঁড়িয়ে আছে, যাতে সেই টাকায় তাদের ভাসিয়ে দেওয়া যায়? তারা কি বুঝতে পারবে যে কোনটি প্রকৃত অর্থে সহযোগিতা, আর কোনটি ফাঁদ? তারা কি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে জর্জরিত করে রাখা চাটুকারিতার সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে পারবে?

… আমাদের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নিয়ন্ত্রিত হয় পরিবারতন্ত্রের ধারায়। দলের ভেতরে কোনো ধরনের গণতন্ত্র নেই। দলীয় পদ-পদবী কারা পাবে, তা একজন ব্যক্তি ইচ্ছাধীন, কোনো নির্বাচন নেই। মজার বিষয় হলো, জামায়াতই একমাত্র দল, যারা তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের কাঠামো অনুসরণ করে। … সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও দুঃখজনক বিষয় হলো, দলগুলো সবসময় দলের চেয়ে নেতাকে এবং দেশের চেয়ে দলকে এগিয়ে রেখেছে। জনস্বার্থ নয়, দলীয় স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য।… স্বজনপ্রীতি ও চাটুকারিতা তাদের নিত্যদিনের চর্চা।… জাতীয় নির্বাচনের সময় ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’ থাকতো সবার মুখে মুখে। দলীয় টিকিট পেতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। ফলে, তারা নির্বাচিত হতে পারলে ‘বিনিয়োগের’ কয়েকগুণ উসুল করে নিতো উন্নয়ন তহবিল থেকে।

… রাজনৈতিক দলগুলো বড় আকারে দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় আমলাতন্ত্র, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা এবং নিঃসন্দেহে, করপোরেট জগতকে কখনোই জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়নি। গণমাধ্যমের একটি অংশ মালিকপক্ষের চাপে ও কিছু সুবিধাভোগী সাংবাদিকদের ইচ্ছায় এই প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যায়। … আত্মপ্রচারের ফাঁদে পা দেওয়া উচিত না। ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়াই এনসিপির প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। দলের ভেতরে যে সংস্কৃতি তাদের অনুসরণ করা উচিত এবং যে কাজটি তাদের অন্য সবার থেকে আলাদা করবে, তা হলো জবাবদিহিতা। এই জবাবদিহিতা শুধু জনগণের কাছে নয়, বরং দলের ভেতরেও, এমনকি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ পর্যন্ত থাকতে হবে।

তাদের উচিত আর্থিক বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চর্চাকে বাধ্যতামূলক করে নেওয়া। এটা না থাকার কারণেই আমাদের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলো ধ্বংস হয়েছে। … এনসিপি দুটি ব্যয়বহুল, তবে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। একটি মানিক মিয়া এভিনিউতে দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান এবং অপরটি ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইফতার। আমাদের ধারণা, এই দুই অনুষ্ঠানের ব্যয় বহন করেছে পৃষ্ঠপোষকরা। তবে আমরা মনে করি, বিষয়টি তখনই গ্রহণযোগ্যতা পাবে, যখন এই পৃষ্ঠপোষকদের নাম-পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। যেকোনো নতুন দলের জন্যই পৃষ্ঠপোষক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, তাদের উচিত দু-একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল না হওয়া এবং পৃষ্ঠপোষকদের নাম-পরিচয় গোপন না রাখা। অবশ্যই পৃষ্ঠপোষকদের নাম সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। এটা করতে পারলে অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে উঠবে এনসিপি, বাড়বে তাদের গ্রহণযোগ্যতা।

… আমাদের একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। দলে গণতন্ত্র থাকতে হবে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র-এই তিনটি বিষয় চর্চা করতে পারলে অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে উঠবে এনসিপি। তারা নিয়ে আসতে পারবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।”






Graphic Novel The Walking Dead অলীক গল্পে জীবনের বাস্তবতা

রিক গ্রিমস একজন পুলিশ অফিসার, যিনি একদিন সকালে একটি তীব্র গুলির লড়াইয়ে আহত হন। তখনো একদম নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, তার জীবনে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। কিন্তু যখন রিক হাসপাতালে ঘুম থেকে ওঠেন, তখন পৃথিবী সম্পূর্ণরূপে বদলে যায়। চারপাশে শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন, মৃতদেহ, এবং এক বিভীষিকাময় পরিবেশ। রিক দ্রুত বুঝতে পারেন, পৃথিবীতে জীবিত মানুষের সংখ্যা অনেক কমে গেছে, আর জোম্বিরা-যারা মৃতদেহ থেকে ফিরে এসে জীবিতদের আক্রমণ করছে-এটাই এখন বিশ্ববাসীর নতুন শত্রু। তার প্রথম চিন্তা ছিল, তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করা, কিন্তু তার সেই পথ সহজ নয়। মৃতের মাঝে জীবিতদের সংগ্রাম শুরু হয়, যেখানে মানুষের প্রকৃত শত্রু শুধু মরা দেহ নয়, বরং নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইও।

সিরিজের প্রথম খণ্ডটিতে কিরকম্যান কেবলমাত্র মৃত্যুর ভয়াবহতা এবং মৃতদের আক্রমণ নিয়ে আলোচনা করেননি, বরং মানুষের সামাজিক কাঠামো এবং মনোবলও বিশ্লেষণ করেছেন। জোম্বি আক্রমণের পর, সভ্যতার অবশেষ হিসেবে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখানে উঠে আসে। পুরো গল্পে এক কথায় বলা যায়, “টিকে থাকাটাই বড় কথা,” কিন্তু সেই সাথে মানবিকতা রক্ষা করা কি সম্ভব? যে সমাজে মরাধরা মানুষের মুখোমুখি দাঁড়ানো, সেখানে আপনাকে নিজের নৈতিকতার সীমানা ঠিক রাখতে হবে কিনা, এটাই মূল প্রশ্ন। কিরকম্যান মৃত্যুর পাশাপাশি জীবনের পরিপূরক হিসেবে মানবিক সম্পর্কের গুরুত্বকেও তুলে ধরেছেন। প্রথম খণ্ডটি বিশেষভাবে পাঠকদেরকে একটি ভয়ঙ্কর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়, যেখানে শুধুমাত্র বেঁচে থাকা নয়, মানবিকতা রক্ষা করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

এই গ্রাফিক নভেলের শিল্পকর্ম অত্যন্ত প্রভাবশালী। চার্লি অ্যাডলারের চিত্রকর্ম গল্পের অন্ধকার এবং ভয়াবহ পরিবেশকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। অ্যাডলারের অঙ্কন শৈলী অদ্ভুতভাবে বাস্তববাদী এবং বর্ণনা অনুযায়ী, গল্পের চরিত্রদের মানসিক অবস্থাকে গভীরভাবে প্রকাশ করে। তিনি বিশেষভাবে চরিত্রগুলোর আবেগ এবং শারীরিক অবস্থাকে ফুটিয়ে তোলেন, যা গল্পের গভীরতা বাড়ায়। তার আঁকা মৃতদেহের বিস্তারিত এবং বিশাল স্থাপনাগুলি গল্পের অবস্থা এবং পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠে।

কিরকম্যানের লেখার সৃজনশীলতা এবং দক্ষতা গল্পের মূল শক্তি। তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে গল্পের থিমকে গড়ে তোলেন, চরিত্রগুলির মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের অস্তিত্বের সংকটের কথা তুলে ধরেন। কিরকম্যান গল্পের পটভূমি এবং চরিত্রদের মানসিক অবস্থা এত সূক্ষ্মভাবে আঁকেন যে, পাঠক বুঝতে পারে যে এই জোম্বি কাহিনীর চেয়ে অনেক বড় কিছু রয়েছে। এটি একটি মানসিক পরীক্ষা, যেখানে চরিত্রগুলো জীবনের অর্থ খুঁজে পায় না, বরং শুধু টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে।

“দ্য ওয়াকিং ডেড” একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, মর্মস্পর্শী এবং চিন্তাশীল গ্রাফিক নভেল। এটি কেবলমাত্র একটি অ্যাকশন বা হরর গল্প নয়, মানবতা, সম্পর্ক এবং সংকটের মধ্যে সত্যিকারের বেঁচে থাকার অর্থ খোঁজার একটি অবিশ্বাস্য রচনা। কিরকম্যানের শক্তিশালী গল্প বলার ক্ষমতা এবং অ্যাডলারের চমৎকার শিল্পকর্ম মিলিয়ে এটি একটি অমুল্য গ্রন্থ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা পাঠকদের কল্পনার অগণিত দিক উন্মুক্ত করে। এ সিরিজে শুধুমাত্র ভয়াবহতা এবং ধ্বংসের গল্প নয়, এটি মানব চরিত্রের অন্ধকার এবং আলোর মধ্যবর্তী দ্বন্দ্বকেও ফুটিয়ে তুলেছে।







‘ক্রাউডফান্ডিং’ কী ও কীভাবে কাজ করে

৮ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা অনলাইন ও অফলাইনে একটা ক্রাউডফান্ডিংয়ের (গণচাঁদা সংগ্রহ) দিকে যাচ্ছি, যে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে আমরা দলের কার্যালয় স্থাপনসহ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করব।’ কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে এই ক্রাউডফান্ডিং কী, এর মাধ্যমে তহবিল কীভাবে সংগ্রহ করা হয়, উদাহরণ আছে কি না। রাজনীতিতে গণচাঁদা সংগ্রহ নতুন কিছু নয়। সাধারণত রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গণচাঁদা সংগ্রহ করেই চলে।কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন রাজনীতিবিদেরা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাছ থেকে টাকা নেন এবং তাঁদের স্বার্থে কাজ করেন। এই অঞ্চলে রাজনৈতিক দলগুলো গোপনে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে শক্তিশালী গণতন্ত্রের দেশগুলোতে চাঁদা তোলা হয় প্রকাশ্যে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চাঁদা দাতার নাম পরিচয় সবাই জানতে পারে।গণচাঁদায় নতুন যোগ হয়েছে ‘ক্রাউডফান্ডিং’। বিপুলসংখ্যক মানুষ যখন কোনো ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে তহবিলের জন্য অল্প পরিমাণ করে অর্থ প্রদান করে, সেটাকে ক্রাউডফান্ডিং বা গণতহবিল বলা হয়। সাধারণত এই অর্থ ফেরত দিতে হয় না। গণতহবিল মূলত স্টার্টআপ বা নতুন কোনো ব্যবসা উদ্যোগের জন্য বিকল্প তহবিলের জোগানের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে মূলত ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

কারও গণতহবিলের প্রয়োজন থাকলে এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম এবং সেখানে অর্থায়নের ধরন, সময়, টাকার পরিমাণ বেছে নিতে হয় তহবিল সংগ্রহকারীকে। প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র দিতে হয়। প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজনে তহবিল সংগ্রহকারীর বৈধতা যাচাই করতে পারে। প্ল্যাটফর্ম থেকে তহবিল সংগ্রহকারীর প্রস্তাব গৃহীত হলে উদ্যোগের ধারণাসহ বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। যদি পুরস্কারভিত্তিক অর্থায়ন হয়, তাহলে দাতারা বিনিময়ে কী পাবে, তা উল্লেখ করতে হবে। আবার যদি ইক্যুইটি (মূলধন/মালিকানা)-ভিত্তিক হয়, তাহলে শেয়ারের দাম ও অংশীদারত্ব প্রসঙ্গে জানাতে হয়। আবার ঋণভিত্তিক বা অনুদানভিত্তিক কি না, সেটাও উল্লেখ করতে হয়।

গণতহবিল সংগ্রহ করে দেওয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ফি দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সংগৃহীত তহবিলের একটি অংশ, লেনদেন ফি এবং কেউ কেউ শেয়ারও নেয়। প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে তহবিল সংগ্রহকারী অর্থদাতাদের পরিচয় জানতে পারেন। বাংলাদেশেও কিছু অনলাইনভিত্তিক গণতহবিল প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিকদের গণতহবিল সংগ্রহের উদাহরণ রয়েছে। ভারতের আম আদমি পার্টির নেত্রী ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মার্লেনা সদ্য সমাপ্ত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রচারণার খরচ মেটাতে একটি গণতহবিলের প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য ৪০ লাখ রুপি দরকার ছিল। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার ৬৯ শতাংশ তহবিল ক্ষুদ্র দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টির সহযোগী অধ্যাপক সেনোরিটা দে ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগাজিনে লেখেন, রাজনৈতিক গণতহবিলের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘরে ঘরে গিয়ে ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুদান চাইতেন। এখন অবশ্য রাজনীতিবিদেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন।





বিদ্যুৎ খাতে বাড়ছে ভর্তুকি , গত অর্থবছরের তুলনায় ৭৭% বেশি

২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বরাদ্দের চেয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বা ৫৫ শতাংশ বেশি। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে, বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ানোর কারণে সরকারের উপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ আইন বাতিল, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা, ট্যারিফ কাঠামো সংশোধনসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবুও বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় কমানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিতর্কিত চুক্তি বাতিলের মতো বড় কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় খাতের ব্যয় কমানোর লক্ষণ নেই।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, সরকার প্রতি বছর যে পরিমাণ ভর্তুকি বরাদ্দ দেয়, তা অর্থ সংকটের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে বকেয়া অর্থ পুঞ্জীভূত হয় এবং ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিশেষ বন্ড ইস্যু করে ২০ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিলকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে যথাযথ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ না নেয়ায় ব্যয় কমানো সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও অযৌক্তিক ব্যয়ের কারণে ভর্তুকি বাড়ছে, যা সরকারের সংস্কারের অভাবকে স্পষ্ট করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিমও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে খরচ সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করা হলেও আগের বকেয়া এবং ঋণের সুদ পরিশোধের কারণে ব্যয় বেড়েছে। সামনে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমাতে এবং খরচ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে এসব পদক্ষেপের ফলাফল আসতে আরো কিছু সময় লাগতে পারে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং বকেয়া পরিশোধের চাপ দেশের আর্থিক পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। সঠিক সংস্কার এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।



অনিশ্চয়তার ঘুরপাকে অর্থনীতি : আব্দুল বায়েস অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

“…জুলাই-আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার অভ্যুথান যে সরকারের জন্ম দিয়েছে সে সরকারের অর্থনৈতিক কৃতিত্বের সমালোচনা করার সময় এখনো আসেনি, কারণ সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। তবে গত মাসগুলোয় এ সরকারের আমলে ইতিবাচক এবং আশা জাগানিয়া কাজের মধ্যে আছে ব্যাংকগুলোর রক্তক্ষরণ বন্ধে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার এবং রিজার্ভস্থিতিশীল রাখা, সংস্কার সাধনে বেশ ক’টা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন তৈরি, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ, চার মাসের আমদানি রিজার্ভ, স্থিতিশীল বিনিময় হার, লেনদেনের ভারসাম্য ইত্যাদি। সন্দেহ নেই যে ছয় মাসে অর্জিত এ ইতিবাচক পদক্ষেপ এরই মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এর বিপরীতে সমালোচনার ঝুড়িতে আছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যর্থতা (যদিও ১ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করা হচ্ছে), উচ্চ সুদের হারে ব্যাংক ঋণের জন্য স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ফেরে বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোটায় এবং অর্থনৈতিক মন্দার হুমকি মোকাবেলায় কার্যকর সরকারি পদক্ষেপের অনুপস্থিতি। সমালোচকদের চোখে আইএমএফের নির্দেশে নীতিমালা গ্রহণে গলায় আঙুল দেয়া, চাঁদাবাজি, দখলদারি, আমলানির্ভরতা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও টেন্ডার দখলদারত্ব বিগত সরকারের আমলের অনুসরণ।এতগুলো ইতিবাচক অর্জনের পরও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে এবং তা বড় বেগে বইছে, চায়ের কাপে তুলছে ঝড়।কারণগুলো নিম্নরূপ: প্রথমত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি অর্থনীতির চাকা রুদ্ধ করছে বলে প্রতীয়মান হয়।

দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। কারণ বিনিয়োগকারী জানে না এ সরকারের গৃহীত নীতিমালা কত দিন টিকবে কিংবা এ সরকার কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন আরো ছয় মাস, এক বছর না কয়েক বছর। …তৃতীয়ত, সত্য কিংবা মিথ্যা, জনমনে একটা ধারণা এই যে বর্তমান সরকার খুব দুর্বল একটা সরকার যার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই অথবা ‘সরকারের ভেতর সরকার’-এর কারণে এক পা এগোলে দুপা পিছায়। এমন অবস্থায় অর্থনীতির চাকা প্রত্যাশিত মাত্রায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।স্বয়ং উপদেষ্টাদের কেউ কেউ মনে করছেন সরকার বদল হওয়ার পর চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব উবে যায়নি, মালিকানা বদলেছে মাত্র। অংক কষে দেখাচ্ছেন ৫ হাজার টাকার পরিবহন খরচ কীভাবে ১৫ হাজার টাকায় ওঠে। অথচ আমরা এর বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ দেখতে পারছি না।

…অনিশ্চয়তা হচ্ছে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শত্রু। বর্তমান অনিশ্চয়তা দূর করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো সরব হতে হবে, নীরব থাকলে চলবে না। মনে রাখতে হবে যে বাহানায়ই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়ে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হোক না, তার দায়ভার পুরোটাই সরকারের ওপর বর্তায়। সুতরাং আমরা আশা করব আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনোভাবে চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নির্মোহ, কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তা করতে গিয়ে অবশ্যই রাজনীতিকে সঠিক রাস্তায় আনা দরকার। কারণ রাজনীতি হচ্ছে অর্থনীতির প্রভু। বাংলাদেশের অর্থনীতির বেহাল দশা মেধাবী অর্থনীতিবিদের অভাবে নয়, বেহাল দশা স্বচ্ছ রাজনীতির অভাবে।

‘নতুন বিনিয়োগের চিন্তা করছেন না উদ্যোক্তরা’ এ শিরোনামে একটা খবর ছাপিয়েছে বণিক বার্তা (গত ৯ ফেব্রুয়ারি) যেখানে দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতিদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।… এরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন এবং তাদের মতামত জানা জরুরি।ব্যবসায়ীদের যেমন মাথায় তোলার দরকার নেই, তেমনি পায়ে ঠেলে দিলে অর্থনীতির জন্য সমূহ বিপদ। একটা সর্বজনগ্রহণযোগ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত একটা নির্বাচন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে সক্ষম হতে পারে। “



মার্শাল আর্ট শক্তির দর্শন / দর্শনের শক্তি

মার্শাল আর্টের ইতিহাস হাজার হাজার বছর পুরনো। এটি প্রাচীন চীন, ভারত, এবং জাপানে শুরু হয়েছিল, এবং নানা স্থানীয় সংস্কৃতিতে এই যুদ্ধবিদ্যার বিভিন্ন শাখা এবং শৈলী গড়ে উঠেছিল। মার্শাল আর্টের প্রথম পদ্ধতি ছিল মূলত আত্মরক্ষার জন্য এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল শিখতে। প্রাচীন চীনে, মার্শাল আর্টের বিভিন্ন শাখা বিকশিত হয়েছিল, যেমন উইশু, কুংফু, এবং তাওয়াকো।ভারতীয় উপমহাদেশে “মল্লযুদ্ধ” এর মতো প্রাচীন যুদ্ধবিদ্যার পদ্ধতি ছিল। জাপানে, “কোডো” এবং “কুন্ডো” এর মতো মার্শাল আর্ট পদ্ধতিগুলি প্রাধান্য পেয়েছিল।

মার্শাল আর্টের ইতিহাসে শাওলিন সাধুদেরও বিশেষ স্থান রয়েছে। শাওলিন সাধুরা চীনের শাওলিন মঠে বসবাসকারী প্রাচীন ভিক্ষু, যারা মার্শাল আর্টের অনুশীলন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছিলেন। শাওলিন মঠের সঙ্গে সম্পর্কিত মার্শাল আর্ট, বিশেষ করে কুংফু, সারা বিশ্বে অত্যন্ত বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী। শাওলিন সাধুদের সবচেয়ে পরিচিত মার্শাল আর্ট শৈলী হল শাওলিন কুংফু। এটি কুংফুর একটি বিশেষ শাখা যা শাওলিন মঠের সন্ন্যাসীরা এককথায় উন্নত করেছিলেন। শাওলিন কুংফুর অনুশীলন শারীরিক সক্ষমতা, তীক্ষ্ণ মনোবল এবং আধ্যাত্মিক শান্তির সমন্বয়ে গঠিত। এতে শরীরের পেশী শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক ফোকাস এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করা যায়। শাওলিন কুংফুর মাধ্যমে মানুষ নিজেদের শারীরিক সীমাবদ্ধতাগুলোকে অতিক্রম করতে সক্ষম হন এবং দৈহিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।

শাওলিনরা কুংফু শেখানোর সময় বিভিন্ন ধরণের কৌশল ও প্রাকটিস যেমন পাঞ্চ, কিক, স্ট্যান্স, এবং শক্তিশালী শরীরের কসরত ব্যবহার করতেন। এই কৌশলগুলো শুধুমাত্র শারীরিক যুদ্ধ কৌশল ছিল না, বরং এটি তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতিরও একটি উপায় ছিল।শাওলিন সাধুরা মার্শাল আর্টের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস এবং শান্তি খুঁজে পেতেন। শাওলিনরা কুংফু শেখানোর সময় বিভিন্ন ধরণের কৌশল ও প্রাকটিস যেমন পাঞ্চ, কিক, স্ট্যান্স, এবং শক্তিশালী শরীরের কসরত ব্যবহার করতেন। এই কৌশলগুলো শুধুমাত্র শারীরিক যুদ্ধ কৌশল ছিল না, বরং এটি তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতিরও একটি উপায় ছিল। মার্শাল আর্টের অনেক শাখা এবং শৈলী রয়েছে। যার মধ্যে কিছু বিখ্যাত শাখা হল:

কুংফু: এটি চীনের একটি অত্যন্ত পুরনো এবং জনপ্রিয় মার্শাল আর্ট শৈলী। কুংফু শুধুমাত্র শারীরিক যুদ্ধবিদ্যা নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিক উন্নতির একটি মাধ্যমও।
ক্যারাতে: এটি একটি জাপানি মার্শাল আর্ট, যা হাথ বা পা দিয়ে আক্রমণ করার উপর বেশি জোর দেয়।
তাই চি: এটি চীনের একটি ধীরগতির মার্শাল আর্ট, যা শারীরিক এবং মানসিক শান্তি অর্জনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
জুডো: জুডো একটি জাপানি মার্শাল আর্ট, যেখানে শরীরের ভারসাম্য এবং শত্রুর শক্তি ব্যবহার করে তাকে পরাজিত করা হয়।
বক্সিং: বক্সিং এক ধরনের মার্শাল আর্ট যেখানে মূলত হাতের আঘাত ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করা হয়।

মার্শাল আর্ট শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে অত্যন্ত সহায়ক। এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে কাজ করে এবং একাধিক দিক থেকে শারীরিক লাভ প্রদান করে। মার্শাল আর্টের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ যেমন কিক, পাঞ্চ, এবং স্ট্যান্স শরীরের পেশী শক্তি বাড়াতে সহায়ক। এটি বিশেষভাবে পা, হাত এবং কোর পেশীগুলির শক্তি বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি, এটি শরীরের সহনশীলতা এবং ধৈর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক। মার্শাল আর্টের অনুশীলন শরীরের নমনীয়তা এবং ভারসাম্য বাড়াতে সহায়ক। কৌশলগুলি যেমন স্ট্যান্স, টর্ন এবং স্ট্রেচিং পেশীকে নমনীয় করে তোলে এবং শরীরের কাঠামোকে শক্তিশালী করে।

মার্শাল আর্ট একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম। এটি ত্বক ও ফ্যাট কমানোর পাশাপাশি শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়াতে সহায়ক। মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ মানসিক ফোকাস, মনোবল, এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য খুবই কার্যকরী। এটি নিয়মিত অনুশীলন এবং মনোযোগের মাধ্যমে শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে সহায়ক। নিয়মিত অনুশীলন স্ট্রেস এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। এটি এক ধরনের ধ্যানের মতো কাজ করে, যেখানে শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে মানসিক শান্তি অর্জিত হয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি: মার্শাল আর্ট শুধুমাত্র শারীরিক উন্নতির জন্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ধ্যান এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে মানসিক শান্তি এবং জীবনযাত্রার প্রতি একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে। যদিও মার্শাল আর্টের অনুশীলন শরীর ও মনকে উপকৃত করে, তবে এটি কিছু চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে। বিশেষ করে শারীরিকভাবে কঠিন অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতা, শরীরের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং আঘাতের সম্ভাবনা থাকে। এর জন্য সঠিক প্রশিক্ষক এবং নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




দূষণের কারণে পানির অক্সিজেন কমছে মেঘনায় ; মরে ভেসে উঠছে মাছ ও জলজ প্রাণী

চাঁদপুরে মেঘনা নদীর এখলাসপুর থেকে ছটাকি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জানুয়ারির শেষ দিকে এক সপ্তাহজুড়ে প্রচুর মাছ ও জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। নদীর তীরে জাটকা পোনা, পোয়া, বেলে, চিংড়ি, কাঁকড়া, ব্যাঙ, শামুক, ঝিনুকসহ নানা ধরনের জলজ প্রাণী ভেসে এসে জমা হয়। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবেশ অধিদপ্তর, তদন্ত করে এর পেছনে মূলত নদী দূষণকে দায়ী করেন তারা। পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্তে জানা যায় যে, মেঘনার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। বিশেষত মেঘনার অববাহিকায় কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে এবং শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে আসা বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। এই অক্সিজেনের অভাব মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবনধারণের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

এছাড়া শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মিলিত প্রবাহ এবং মেঘনার মিলিত প্রবাহ এলাকায় পানির অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম। এর ফলে সেখানে জলজ প্রাণী বাঁচার মতো পরিবেশে থাকতে পারছে না। এক্ষেত্রে শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জে লঞ্চঘাট থেকে চাঁদপুরের এখলাসপুর পর্যন্ত প্রায় সব জায়গাতেই অ্যামোনিয়াম ও ফসফেটের উপস্থিতি ছিল যা পানির গুণগত মানের জন্য বিপজ্জনক। ২০২৩ সালেও মেঘনায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক টন মাছ মারা গিয়ে ভেসে উঠেছিল। তেমনই এবারও মেঘনার পানির গুণগত মানে পরিবর্তন আসার কারণে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। নদীতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব, রাসায়নিক উপাদান এবং দূষিত বর্জ্যই এর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

এ ঘটনার তদন্তে জানানো হয়েছে যে, দূষণমুক্ত পরিবেশে নদীতে মাছ ও জলজ প্রাণী বাস করতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত দূষণের কারণে মেঘনার পানির পরিবেশ ক্রমেই অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। চাঁদপুরের ষাটনল ও বাবুবাজার অঞ্চলের পানি যে অবস্থায় পৌঁছেছে, তাতে সেখানে মাছসহ জলজ প্রাণীর জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঢাকা শহরের শিল্প-কারখানাগুলোর অপরিশোধিত তরল বর্জ্য, স্যুয়ারেজ বর্জ্য, এবং বুড়িগঙ্গা নদীর বর্জ্য মিশে শীতলক্ষ্যা এবং ধলেশ্বরী নদী দিয়ে মেঘনায় এসে পড়ছে, যা পানির মান কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া মেঘনা নদীতে যাওয়া নৌযান থেকেও স্যুয়ারেজ এবং অন্যান্য বর্জ্য নদীকে আরো দূষিত করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, নদী দূষণের অন্যতম কারণ হলো কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহারের মাত্রাতিরিক্ততা। কৃষি ক্ষেত্র থেকে আসা রাসায়নিক পদার্থও মেঘনার পানি দূষিত করছে এবং জলজ প্রাণীর জন্য বিষক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি নদীর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দূষণ ক্ষমতা রয়েছে, যা নদীর গুণগত মান, তাপমাত্রা, প্রবাহ এবং নদীর অখণ্ডতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু মেঘনা নদীতে দূষণ তার ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে, ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য এবং নদীসংশ্লিষ্ট পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তদন্ত কমিটি মেঘনা নদীর পানি দূষণ কমানোর জন্য আটটি সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, শিল্প-কারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, শূন্য তরল নিঃসরণ (জিরো লিকুইড ডিসচার্জ) পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নদী দখল ও দূষণমুক্ত রাখা, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, “নদীর পানিতে দূষণ সীমানা ছাড়িয়ে গেলে তা শুধুমাত্র মাছের জন্য নয়, অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।” তিনি আরও বলেন, “শিল্প-কারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা এখন জরুরি। কারখানাগুলোর বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে।” মেঘনা নদী বাংলাদেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যা একাধিক প্রজাতির মাছের প্রজননস্থল। কিন্তু নদীর পানি দূষণের কারণে এখানে শুশুকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। মেঘনার পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এই নদীর ঐতিহাসিক এবং পরিবেশগত গুরুত্ব বিপন্ন হতে পারে।

ইন্টারনেট কিভাবে সমষ্টিগত অবচেতন হয়ে উঠে ?

ডিজিটাল যুগের বিস্তৃত পরিসরে ইন্টারনেট কেবল কম্পিউটারের একটি নেটওয়ার্ক নয়, মানবজাতির সম্মিলিত চেতনার প্রকৃত প্রতিফলন। এটি আমাদের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস এবং ভয়ের প্রতিচ্ছবি বহন করে, যা মানব মনস্তত্ত্বের এক সমষ্টিগত ক্যানভাস হিসেবে কাজ করে। আমরা যখন ডিজিটাল বিশ্বে বিচরণ করি তখন অবচেতনভাবে সমগ্র মানব চিন্তা ও আবেগের সঙ্গে সংলাপে নিযুক্ত হই, যেখানে সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে গঠিত হয় অভিন্ন নকশা ও প্রতীকসমূহ।

এই বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য হলো, ইন্টারনেট এবং মানবজাতির সম্মিলিত চেতনার জটিল সম্পর্কের গভীরে প্রবেশ করা। এই অনুসন্ধানের দিশারী হিসেবে থাকছে কার্ল ইউং-এর Collective Unconscious তত্ত্ব, Idealism বা ভাববাদী দর্শনের ভিত্তি এবং প্লেটোর Theory of Forms। এই দর্শনগুলি আমাদের ডিজিটাল বাস্তবতাকে অনুধাবনের জন্য স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা বোঝাতে সাহায্য করে কিভাবে বিমূর্ত চিন্তা এবং সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ডিজিটাল জগতে রূপায়িত হয়। ভাবুন, যদি একটা বিশাল অদৃশ্য গ্রন্থাগার থাকে, যেখানে বইয়ের বদলে সংরক্ষিত থাকে অভিজ্ঞতা, আবেগ ও প্রতীক, তাহলে এটি হবে সমগ্র মানবজাতির জন্য অভিন্ন দৃষ্টান্ত।

ঠিক এই গ্রন্থাগারই হল কার্ল ইউং-এর Collective Unconscious, যেখানে মানব অস্তিত্বের সার্বজনীন প্রতিচ্ছবি ও প্রতীকসমূহ সংরক্ষিত আছে। ইউং-এর মতে, মানব মানসিকতার গভীরে নির্দিষ্ট কিছু Archetype বা আদিম প্রতিচ্ছবি বিদ্যমানড়যেমন নায়ক (Hero), মাতৃমূর্তি (Mother), ধূর্ত চরিত্র (Trickster)-যেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বারবার পুনরাবৃত্ত হয়। ইন্টারনেট হলো সেই দরজা, যা এই অদৃশ্য গ্রন্থাগারে প্রবেশাধিকার প্রদান করে। এটি এই সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ও প্রতীকসমূহকে দৃশ্যমান এবং বাস্তব করে তোলে। কারণ আমরা প্রতিদিন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও গ্রহণের মাধ্যমে এগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। সোশ্যাল মিডিয়া, ফোরাম ও অন্যান্য অনলাইন কমিউনিটি হলো এই গ্রন্থাগারের পাঠাগার, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ মানব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে।

অপরদিকে ভাববাদ এমন এক দর্শন, যা বলে বাস্তবতা কেবলমাত্র আমাদের চেতনার প্রতিফলন। এই তত্ত্ব অনুসারে, আমরা যেভাবে বিশ্বকে উপলব্ধি করি, সেটিই আমাদের বাস্তবতা গঠন করে। ডিজিটাল জগতে, চিন্তা ও অনুভূতি কেবল ব্যক্তিগত থাকে না, বরং তা ভাগাভাগি, বিতর্ক ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে এক সম্মিলিত ডিজিটাল বাস্তবতা তৈরি করে। প্রতিটি ব্লগ পোস্ট, টুইট, ইমেজ ও ভিডিও হলো চিন্তার একটি বহিঃপ্রকাশ, যেগুলো আমাদের সম্মিলিত চেতনার অংশ হয়ে যায়। বর্তমান গবেষণা বলছে, আমাদের অনলাইন পরিচয় এবং ডিজিটাল ইন্টারঅ্যাকশন বাস্তব জীবনে আমাদের আত্মপরিচিতি ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। এটি প্রমাণ করে যে বাস্তবতা এক ধরনের মানসিক নির্মাণ এবং ইন্টারনেট আমাদের সম্মিলিত মানসিক চিত্রকল্প গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Theory of Forms এ প্লেটো বলেন, বাস্তব পৃথিবী হল নিছক ছায়া, আর সত্যিকারের বাস্তবতা হলো এক বিমূর্ত ও শাশ্বত ধারণার জগৎ। এই ধারণার প্রতিফলন আমরা ডিজিটাল দুনিয়ায় দেখতে পাই। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং মেটাভার্স আমাদের চিন্তার নিখুঁত প্রতিফলন প্রকাশ করতে সাহায্য করে। অনলাইনে প্রকাশিত চিন্তাগুলো প্লেটোর নিখুঁত ফর্মের মত কাজ করেড়যেখানে বাস্তব জীবনের ত্রুটিগুলি নেই, কিন্তু ধারণাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই বিশ্লেষণ আমাদের দেখিয়েছে যে, ইন্টারনেট কেবলমাত্র তথ্য বিনিময়ের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানবজাতির সম্মিলিত চেতনার প্রতিফলন।