Home Blog Page 167

মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াতে পারে মাখন

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাখনের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে এবং আগেভাগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২,২১,০০০ মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যক্তির উপর পরিচালিত এই গবেষণাটি “JAMA Internal Medicine” জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত ফলাফল ৩৩ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যারা সর্বাধিক পরিমাণ মাখন গ্রহণ করেছেন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি ১৫% বেশি ছিল তুলনায় যারা সবচেয়ে কম মাখন গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে যারা বেশি পরিমাণে উদ্ভিজ্জ তেল গ্রহণ করেছেন, তাদের মৃত্যুর সম্ভাবনা ১৬% কম ছিল। গবেষকরা আরও দেখেছেন যে মাখনের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল গ্রহণ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭% হ্রাস পায়। গবেষণার প্রধান লেখক ইউ ঝ্যাং বলেন, “এটি স্বাস্থ্যের ওপর যথেষ্ট বড় প্রভাব ফেলতে পারে।”

তবে সব উদ্ভিজ্জ তেল একই রকম উপকারী নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অলিভ অয়েল, সয়াবিন তেল এবং রেপসিড বা ক্যানোলা তেল গ্রহণকারীদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি কম ছিল। এছাড়া এই তেলগুলো ক্যান্সার ও হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমাতেও সহায়ক ছিল। তবে কর্ন অয়েল ও স্যাফফ্লাওয়ার অয়েলের ক্ষেত্রে এমন কোনও ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়নি। গবেষকরা পাম তেল (Palm Oil) ও নারকেল তেল (Coconut Oil) নিয়ে কোনও বিশ্লেষণ করেননি, যেগুলো উচ্চ মাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

কিছু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট উদ্ভিজ্জ তেল যেমন কর্ন, তুলাবীজ, রেপসিড, সয়াবিন, স্যাফফ্লাওয়ার, সূর্যমুখী, আঙুর বীজ এবং রাইস ব্র্যান তেলকে “ক্ষতিকর আট” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের মতে এসব তেল টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব তেল ব্যবহৃত খাদ্য যেমন অতি প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্ট ফুড পণ্যগুলোর উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম ও কার্বোহাইড্রেটও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক টম স্যান্ডার্স বলেন, “উদ্ভিজ্জ তেলের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত অনেক তথ্য ভিত্তিহীন।”

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি মাখন গ্রহণ করেছেন, তারা তুলনামূলকভাবে স্থূলকায় ছিলেন, ধূমপান বেশি করতেন এবং কম ব্যায়াম করতেন। যদিও গবেষকরা এসব পার্থক্য বিবেচনায় নিয়েছেন, তবুও স্বাধীন গবেষকদের মতে এই পার্থক্য গবেষণার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। মাখনের পরিবর্তে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ তেল গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। অধ্যাপক স্যান্ডার্স বলেন, “মূল বার্তাটি হলো, মাখনের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল বেছে নেওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।”



সোসাল মিডিয়ায় জ্যোতিষশাস্ত্রের উত্থান কেন Gen Z তারার দিকে ঝুঁকছে !

নতুন প্রজন্মের মধ্যে এস্ট্রলোজি বা জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত জেন- জি’র মধ্যে। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং টুইটারের মত সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে এই আগ্রহের প্রবণতা বিস্তৃত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে আমরা দেখব কেন জেন-জি’র মধ্যে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি এত আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং এটি কীভাবে তাদের জীবন, চিন্তাভাবনা এবং সৃজনশীলতা প্রভাবিত করছে। জেনারেশন জেডের অনেক তরুণ-তরুণী জ্যোতিষশাস্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের চিনতে এবং নিজের সম্পর্কে আরও জানতে চেষ্টা করছে। তাদের কাছে “সান সাইন”, “মুন সাইন”, এবং “রাইজিং সাইন” এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা আছে প্রতিটি ব্যক্তি জন্মের সময় আকাশে যে নক্ষত্রপুঞ্জ এবং গ্রহের অবস্থান ছিল, তা তাদের ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক চিহ্নিত করতে সহায়ক হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অনুভূতি, সম্পর্ক, এবং জীবনযাত্রা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, জেনা-জি’কে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট করার একটি বড় কারণ ইদানীংকার সামাজিক সংযোগের অনুভূতি।জ্যোতিষশাস্ত্রের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারছে, যেখানে তারা একে অপরের সান সাইন, মুন সাইন, এবং রাইজিং সাইন নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এই আলোচনা এবং মজা করার মাধ্যমে এক ধরনের সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে, যেখানে একে অপরের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করা হয়। বিশেষত জ্যোতিষশাস্ত্রের বিভিন্ন দিক যেমন “জোডিয়াক কম্প্যাটিবিলিটি” বা রাশির মিল খোঁজা তাদের মধ্যে এক ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে যে, তারা একে অপরকে বুঝতে পেরেছে এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এখানে প্রতিটি রাশি বা গ্রহের শক্তির সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়, যা গ্রুপের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা এবং মিলের অনুভূতি তৈরি করে।

এই জেনারেশন জেড যেহেতু এক বিপর্যস্ত বিশ্বে বেড়ে উঠছে, তাদের জীবনে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। পৃথিবীজুড়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সমস্যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হয়তো জ্যোতিষশাস্ত্র তাদের জন্য এক ধরনের আশ্বাস প্রদান করছে। বিশেষত গ্রহের গতি এবং রেট্রোগ্রেডের মতো বিষয়গুলি তাদের জীবনে দিকনির্দেশনা দেয় এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পথচলার জন্য সাহস প্রদান করে। যখন তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় বা কঠিন সময় পার করে, তখন তারা নিজেদের জানাতে চায় যে, এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চলে যাবে। এর ফলে তারা অনুভব করে যে, প্রকৃতির একটি রীতি রয়েছে এবং তারা তার অনুসরণ করছে, যা তাদের জীবনে কিছুটা শান্তি এবং সান্ত্বনা দেয়।

এছাড়াও জ্যোতিষশাস্ত্রের শৈল্পিক এবং চিত্রময় দিকটি জেন-জি’কে আকর্ষণ করছে। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতীকগুলি, নক্ষত্রমালা, গ্রহ, এবং অন্যান্য আকাশীয় চিত্রগুলি তাদের জন্য এক ধরনের শৈল্পিক অভিব্যক্তি হিসেবে কাজ করে। এসব চিত্র এবং প্রতীকরা তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও শিল্পকর্মে প্রভাব ফেলছে। এই শৈল্পিক উপাদানগুলি তাদের ফ্যাশন, শিল্প, এবং ডিজাইনে উঠে আসছে। অনেক তরুণ জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতীক, রাশিচক্রের চিত্র এবং আকাশীয় দৃশ্যগুলিকে তাদের পোশাক, ট্যাটু এবং অন্যান্য শৈল্পিক কাজের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি তাদের সৃজনশীলতা এবং নিজের স্বতন্ত্রতা প্রকাশের একটি উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির প্রভাব এই প্রবণতার বিস্তারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের বেশিরভাগ সময় কাটে এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে, যেখানে তারা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়, বিভিন্ন রাশির উপর আলোচনা করে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে।তারা খুব সহজে তাদের বার্থ চার্ট বা গ্রহের গতি নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাদের জীবনকে আরও বুঝতে চেষ্টা করতে পারে। বিশেষত টিকটক এবং ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার ভিডিও এবং পোস্ট শেয়ার করা হচ্ছে, যা জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি আরও আগ্রহ তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কিছু শর্তে সম্মত পুতিন

ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সম্মতির কথা জানিয়েছে রাশিয়া। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতি নিয়ে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধবিরতিতে সংঘাতের মূল কারণগুলোর সুরাহা করতে হবে। আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিতে বৃহস্পতিবার সকালে মস্কো পৌঁছেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। তারা প্রাথমিকভাবে এক মাসের যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিয়েভও ওয়াশিংটন মনে করে, এই এক মাসের মাধ্যমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার মস্কোয় বেলারুশ নেতা আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, যুদ্ধবিরতিতে সেনা সংগ্রহের মাধ্যমে আরও সংঘাতের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে না এবং রাশিয়ার দখলে থাকা কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয়দের অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয় সমাধান করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ চান তিনি। বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন, ক্রেমলিন ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাবে সম্মত হবে। ইতিমধ্যে ইউক্রেন এতে সমর্থন জানিয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘ধারণাটি নিজেই সঠিক এবং আমরা অবশ্যই এটিকে সমর্থন করি। কিন্তু এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা আমাদের আলোচনা করা দরকার।আমি মনে করি, আমাদের মার্কিন সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলা উচিত।’

হাকিম হাফিজ , আব্দুল মজিদ রুহ আফজার পেছনের জনক

রূহ আফজা উপমাহােদশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রিফ্রেশমেন্ট পানীয়। গোলাপি স্বাদের এই পানীয়টি অনেকের শৈশবের অনেক সুন্দর স্মৃতির সাথেও সম্পর্কিত। তবে এর পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ ইতিহাস এবং অনেক চমকপ্রদ গল্প যা রূহ আফজাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। রূহ আফজার গল্প শুরু হয় ভারতের স্বাধীনতার আগে। হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদ, যিনি ১৮৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন, ছিলেন একজন ইউনানি চিকিৎসক। তিনি ঐতিহ্যবাহী ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতির সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯০৬ সালে দিল্লিতে একটি হার্বাল দোকান খোলেন। তার এই দোকান পরবর্তীতে ধীরে ধীরে উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেইখানে তিনি গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে একটি বিশেষ পানীয় তৈরি করেছিলেন। এই পানীয়টির নাম ছিল “রূহ আফজা”, যার অর্থ উর্দু ভাষায় “যে কিছু আত্মাকে সতেজ করে”।

রূহ আফজা তৈরির জন্য হাকিম মজিদ বিভিন্ন গ্রিক এবং দেশীয় উপাদান ব্যবহার করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল চিখজার, আঙুর, কমলা, তরমুজ, গোলাপ, এবং কেওড়া। এক সময় এটি শুধুমাত্র ডিসপেনসারিতে পাওয়া যেত এবং মানুষ সেখানে এটি কিনতে যেত। মীরজা নূর আহমদ, একজন শিল্পী, ১৯১০ সালে রূহ আফজার লেবেল ডিজাইন করেছিলেন। সেই সময়ে রঙিন প্রিন্টার না থাকায়, এটি বিশেষ ব্যবস্থায় বোল্টন প্রেস থেকে প্রিন্ট করা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের ১৯৪৭ সালের ভাগাভাগির পর রূহ আফজা আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হাকিম আবদুল মজিদের বড় ছেলে ভারতে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার ছোট ভাই মোহাম্মদ সাইদ পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন।পাকিস্তানে তিনি হামদর্দ প্রতিষ্ঠা করেন এবং শীঘ্রই ব্যবসাটি প্রসারিত হয়। সাদিয়া রাশিদ, হাকিম মোহাম্মদ সাইদের মেয়ে, জানান যে তার বাবা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ব্যবসাটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য দিয়ে দেন।

এদিকে, রূহ আফজার জনপ্রিয়তা ভারতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথমদিকে বোতলগুলি জার্মানিতে ডিজাইন করা হয়েছিল এবং প্রথমে কাচের বোতলে মুক্তি পেয়েছিল, তবে পরবর্তীতে প্লাস্টিকের বোতলে এটি বাজারে আসে। আজকের রূহ আফজা: আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং নতুন পণ্য এমনকি ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও, রূহ আফজার বোতলগুলি পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয় এবং পানীয়টি পুরোপুরি ভারতে প্রস্তুত করা হয়, যা রূহ আফজাকে একটি ভারতীয় পানীয় হিসেবে পরিচিত করে তোলে। ২০১৯ সালে রূহ আফজা উপাদান সরবরাহে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলেও, তা দ্রুত সমাধান হয়ে যায় এবং আজও এটি অনেকের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রূহ আফজা নতুন নতুন পণ্য বাজারে এনেছে, যেমন পচনাউল, সাফি, এবং রোগান বাদাম শিরিন। এর প্রথম কারখানা ১৯৪০ সালে পুরান দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ১৯৭১ সালে গাজিয়াবাদে এবং ২০১৪ সালে ম্যানেসর, গুরগাঁওয়ে আরও দুটি ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠিত হয়। রূহ আফজা শুধুমাত্র একটি পানীয় নয়, এটি ভারতের এবং পাকিস্তানের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি, দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং ইউনানি চিকিৎসার গুরুত্বকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে।



মাহফুজ আলম এর বক্তব্যে জামাতের প্রতিবাদ প্রসঙ্গে : সহুল আহমেদ মুন্না , লেখক ও এক্টিভিস্ট

মাহফুজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমে জামায়াত দল হিসেবে আবার নিশ্চিত করলো, একাত্তরে তাদের ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে এখনো ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা তৈরি হয়নি। আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে রাজনীতি করেছে, ইনসাফের দাবিকে বেইনসাফির উপলক্ষ্য বানিয়েছে, সত্য। তাই বলে, জামায়াতের ভূমিকা বদলে যায়নি। একাত্তরের জামায়াতে ইসলামির মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামের প্রতিটা পাতা সাক্ষ্য দিচ্ছে যুদ্ধাপরাধ ও জেনোসাইডের সহযোগী হিসেবে তৎকালীন জামায়াত নেতাদের সংশ্লিষ্টতা।

… গোলাম আজম জুন মাসের ২০ তারিখ লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি অনেক কথাই বলেন। …এই সংবাদ সম্মেলনের যে সংবাদ প্রকাশ করেছিল দৈনিক সংগ্রাম, সেখানে এও বলা হয়েছিল যে, গোলাম আজম বলছিলেন, পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। ‘তিনি বলেন, তার দল পূর্ব পাকিস্তানের দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা দমন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে …’। এবং বরাবরের মত এইখানেও বলেন যে, ‘পাকিস্তান ও ইসলাম এ দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং কেবলমাত্র ইসলামী আদর্শই পাকিস্তানের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে পারে’।

… একদিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, সেটাকে গোলাম আজম বলে বেড়াচ্ছেন, এটা ছাড়া ‘উপায় ছিল না’, টিক্কাখানের সাথে বৈঠক করছেন, সামরিক বাহিনীর পক্ষে মিছিল করে যাচ্ছেন, এবং তার এই যে স্বীকারোক্তি, জামায়াত ‘দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা দমন’ করতেছিল, এই কাজগুলোকে কী বলা যায়? পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যদি যুদ্ধাপরাধ করে তাহলে তো সেটা যুদ্ধাপরাধের সহযোগিতাই তো…? আহারে! জামাতের সেক্রেটারি সাহেব, খামোখা ভূগোল বুঝাইতে আইসেন না। আপনার পত্রিকাই সব সাক্ষ্য দিচ্ছে! শাহরিয়ার কবিররা আওয়ামীলীগের কাছে মগজ বিক্রি করেছেন, সত্য। তাই বলে একাত্তরে আপনাদের আসল ভূমিকা কেউ তুলে ধরলে তাকে ‘শাহরিয়ার কবির’ বইলা গালি দিয়ে লাভ নাই। গালি দিয়েও ইতিহাস পালটানো যাইবে না তো!

আপনি দল হিসাবে এইকালে জুলুমের শিকার হয়েছিলেন বলে আপনার অতীতের জুলুম জায়েজ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর ওপর সর্বাধিক সহিংসতার সাথে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা ছিল। এটা ঐতিহাসিক সত্য। … জামায়াতে ইসলামি যে তরিকায় যুদ্ধাপরাধের সাথে তাদের ভূমিকাকে অস্বীকার করে ও পর্যলোচনা করতে অনীহা প্রকাশ করে, ঠিক একই তরিকায় আওয়ামীলীগ করবে। জামায়াতে ইসলামি নেতারা সম্প্রতি যখন একাত্তর নিয়ে কথা বলতে যান, তখন কয়েকটা প্রবণতা পরিষ্কার। প্রথমত, তারা তাদের ভূমিকাকে ‘ভারত-বিরোধীতা’র মোড়কে হাজির করে। তারা প্রথমেই বলেন যে, ভারত তাদের স্বার্থেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

দুনিয়ার যে কোনো রাষ্ট্রই আরেক রাষ্ট্রের পক্ষে/বিপক্ষে দাঁড়াবে, সেটা তার স্বার্থেই। ভারতের ভূরাজনৈতিক্ স্বার্থ, উদ্ভূত শরণার্থী সঙ্কট থেকে শুরু করে বহু কারণেই যে ভারত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল এইটা তো নতুন কোনো কথা নয়।বাংলাদেশ থেকে শুরু করে দুনিয়ার বিখ্যাত গবেষকগণ সেটা দেখিয়েছেন। বাংলাদশের বামপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব নিয়ে কথা বলেছেন।মুক্তিযুদ্ধে ভারত তার স্বার্থ দেখেছে, এইটা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ এই জনগোষ্ঠীর লড়াইয়ের ন্যায্যতা হারায় কিংবা এটা কীভাবে পাকিস্তান সামরিক সরকারকে জেনোসাইডমূলক সহিংসতায় জামায়াতের দলীয় সহযোগীতার ন্যায্যতা পায়, সেটা আল্লা মাবুদ জানেন।

এখন ধরেন, দুনিয়ার যে কোনো গণ-আন্দোলনে, বহিরাগত শক্তি জড়িত হয়, সুপার পাওয়ার জড়িত হয়। তারা তাদের স্বার্থে আন্দোলনের হিসাব নিকাশ করে। এটা তো আর খোদ আন্দোলনের ন্যায্যতার প্রশ্ন নয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান যখন হচ্ছে, বহু রাষ্ট্র কী নানাভাবে এতে তাদের স্বার্থ দেখে নাই? বা দেখবে না? এখন মার্কিনিরা বা ভারত তাদের স্বার্থ দেখেছে বলে, আওয়ামীলীগের সহিংসতা বা জামায়াতের সহিংস ভূমিকা কী জায়েজ হয়ে যায়? দ্বিতীয় যে প্রবণতা জামায়াতের আমির ৫ আগস্টের পর বলার শুরু করছেন, তিনি একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে চিন্তার দ্বন্দ্ব আকারে তুলে ধরছেন। এবং মোলায়েম সুরে বলছেন যে, তাদের ভিন্ন চিন্তা ছিল। সেই চিন্তা একাত্তরে পরাজিত হয়েছে, এরপর তারা বাংলাদেশকে মেনে নিয়েছেন মনেপ্রাণে।

ঠিক, চিন্তার দ্বন্দ্ব ছিল। এইখানে শুভঙ্করের ফাকি হচ্ছে, চিন্তার দ্বন্দ্ব বইলা তারা তো তাদের অপরাধকে আড়াল কইরা ফেলতে চান। জেনোসাইড ও যুদ্ধাপরাধের সহযোগীতা তো অপরাধ। এটাকে চিন্তার দ্বন্দ্ব দিয়া মোলায়েম বানায়ে লাভ নেই। আওয়ামীলীগ জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে রাজনীতি করেছে, তাই বলে জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা সহি হয়ে যায়নি। এইবার একটা উদাহরণ দেই।…এই যে জামায়াতে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকাকে জাস্টিফাই করার জন্য বলে, ভারতের আধিপত্যের ভয়েই তারা তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পক্ষে বা অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, এই ন্যারেটিভকে একাই ধ্বসিয়ে দেন সিরাজ শিকদার।






সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকদের ঘুমজনিত সমস্যা

পরিমিত ঘুম না হলে মানুষের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। পাশাপাশি কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। এমনকি দেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চালকদের ঘুমজনিত সমস্যাকে দায়ী করা হয়। বিশেষত মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ঘুমজনিত সমস্যা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ৯ গুণ বেড়ে যায়। বুধবার (১২ মার্চ) বিশ্ব ঘুম দিবস উপলক্ষে চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আলোচনায় জানানো হয় ঘুমজনিত ৮০ ধরনের ডিজঅর্ডার রয়েছে। ইনসমনিয়া ও স্লিপ অ্যাপনিয়া সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। এসব রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া জরুরি। ঘুমের সমস্যার কারণে হার্ট ও ফুসফুসের জটিলতাও দেখা দিতে পারে। আলোচনায় আরো বলা হয় পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া (যেমন অনিদ্রা এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া) হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যারা কম ঘুমায় (দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টার কম) তাদের মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বেড়ে যায়। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে, অথবা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।


রাজনীতিটাই যেন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি : জাহেদ উর রহমান , রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

“…এনসিপি দলটি যাঁদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে, কিছুদিন আগেই জনগণ দেখেছিল তাঁরা জীবন বাজি রেখে শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁদের প্রতি জনগণের যে আবেগ, তাঁরা সেটা সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটের অঙ্কে রূপান্তরিত করতে পারবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। এনসিপির সবচেয়ে বড় সংকট হবে সম্ভবত নিজেদের মধ্যে আদর্শগত বিরোধ। শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনের ক্ষেত্রে যেহেতু ডানপন্থী থেকে শুরু করে বামপন্থী পর্যন্ত সব ধরনের মানুষ অংশ নিয়েছে, দলটি চেয়েছে তাদের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে। এর জন্য একটা কার্যকর রাজনৈতিক পথ তাঁরা বেছে নিয়েছেন-মধ্যপন্থা।

আদর্শগত অবস্থানকে এড়িয়ে জনকল্যাণকে প্রধান করে তোলার মধ্য দিয়ে রাজনীতি তাদের এই বিরোধকে এড়াতে সাহায্য করার কথা।কিন্তু আমরা দলটি গঠন হওয়ার প্রাক্কালেই দেখেছি, আদর্শগত বিরোেধ মাথা চাড়া দিয়েছে। নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্য হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে যেভাবে আদর্শগত বিরোধ নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরিকল্পিতভাবে উসকে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তাতে দলটি এই লড়াই থেকে কতটা দূরে থাকতে পারবে, সেটা খুব বড় একটা প্রশ্ন।

এনসিপি আক্ষরিক অর্থেই তরুণদের দল। তরুণদের প্রাণশক্তি দলটির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে এই দলকে খুব ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু ওদিকে আবার ‘ছাত্রদের দল’ ট্যাগটি এই দলের একটা দুর্বলতা হিসেবেও হাজির হতে পারে।লাদেশের মতো অতি জটিল রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপটের একটা দেশে শুধু জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধাই যথেষ্ট নয়, দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রাজনীতির ক্ষেত্রে সফল হওয়ার একটি বড় পূর্বশর্ত।

…বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে এটা মোটামুটি নিশ্চিত-বিএনপিই ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাচ্ছে। রাজনীতিতে শূন্যস্থান থাকে না। রাজনীতির মাঠে বিএনপির প্রায় একচ্ছত্র অবস্থা থাকবে না, তাকে ভোটের রাজনীতিতেই চ্যালেঞ্জ করতে পারবে, এমন একটি দল আসবেই। এই মুহূর্তের সাংগঠনিক শক্তির বিচারে বিকল্প হিসেবে সামনে থাকছে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামপন্থী পরিচয়বাদী রাজনীতি। আমি বিশ্বাস করি, এর কোনোটিই এই রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য জুতসই হবে না।

জনগণের জন্য চমৎকার বিষয় হবে, একটি মধ্যপন্থী দলের শক্তিশালী হয়ে ওঠা, যেটি সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ মনোযোগসহ সব জনগণের কল্যাণ নিশ্চিতে কাজ করবে। এই ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও তার লক্ষ্য, আদর্শ ও কর্মসূচি জনগণের সামনে সহজবোধ্য ভাষায় দ্রুতই হাজির করতে হবে। …রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্রের অংশ হওয়ার আকসার উদাহরণ থাকা এই দেশে আশা করি এনসিপি জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হবে না। দলটি যেন রাজনীতিই করে। এটাই দীর্ঘ মেয়াদে দলটির নিজের এবং রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর।





প্রকৃত সুখ কোথায় ? জবাব আছে জার্মান দর্শনে

জীবনের সবচেয়ে বেশি সুখ কীভাবে পাওয়া সম্ভব! নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে, নাকি সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে? এই প্রশ্নের উত্তরে দার্শনিক হেগেল একটি গভীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানব ইতিহাস ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে এগিয়ে যায় এবং এটি পরিচালিত হয় Geist বা “আত্মা” নামক এক শক্তি দ্বারা, যা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। হেগেলের মতে, মানুষ সাধারণত জীবনের রোমাঞ্চকর ও আবেগপূর্ণ সময়গুলোই মনে রাখে বেশি, কিন্তু প্রকৃত সুখ পাওয়া যায় জীবনের শান্ত ও সাধারণ মুহূর্তগুলোর মাঝে। এই সুখ পেতে হলে শুধু ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা বা নিজের মতামতকেই সবকিছুর ওপরে রাখা যথেষ্ট নয়। বরং সত্যিকারের সুখ তখনই আসে যখন আমরা ব্যক্তি ও সমাজের সদস্য হিসেবে নিজেদের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারি।

আমাদের সমাজের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হলে শুধু নিজের স্বার্থ দেখা যাবে না। হেগেল বলেন, সুখী হওয়ার জন্য আমাদের উচিত উত্তেজনার পেছনে না ছোটা। এমনভাবে নিজেকে প্রকাশ না করা যা অন্যদের কষ্ট দেয়, বরং সবসময় পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা। এই দর্শন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমরা যদি শুধু বড় রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার খোঁজেই থাকি, তাহলে জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করা ভুলে যেতে পারি। তাই জীবনে সুখ পেতে হলে মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার “আমি কি সাধারণ মুহূর্তগুলোকেও উপভোগ করতে পারছি?” কিংবা “আমি কি অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই নিজের মত প্রকাশ করছি?” হেগেলের এই দর্শন আমাদের দেখায়, সুখ কেবল উত্তেজনা বা ব্যক্তিগত অর্জনে নয়, বরং জীবনের শান্ত, সাধারণ মুহূর্তগুলোতেও লুকিয়ে থাকতে পারে।


এড এবং লরেন ওয়ারেন প্রেত শিকারী না প্রতারক

এড এবং লরেন ওয়ারেন পৃথিবীজুড়ে ভূতপ্রেত এবং অতিপ্রাকৃত ঘটনার সঙ্গী হিসেবে পরিচিত। তারা নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ভূতপ্রেত শিকারী বা “প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর” হিসেবে। তবে তাদের জীবনী এবং কাজের মধ্যে শুধু ভূতপ্রেত শিকারই নয়, অনেক বিতর্কও স্থান পেয়েছে। তাদের কাজের প্রতি বিশ্বাসী অনেক মানুষ আছেন, আবার অনেকেই আছেন যারা তাদের প্রতারণা এবং মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন। চলুন, এড এবং লরেন ওয়ারেনের কাজ, তাদের ভূতপ্রেতের শিকার এবং প্রতারণা সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করি।

এড ওয়ারেন ছিলেন একজন আত্মপ্রকাশিত “ডেমনোলজিস্ট”, এবং তার স্ত্রী লরেন ছিলেন একজন “প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর” এবং “ক্লেয়ারভয়ান্ট”। তারা একসাথে ১৯৫২ সালে একটি প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেশন দল গঠন করেন। তাদের পেশাগত জীবনে তারা ১০,০০০ এরও বেশি ভূতপ্রেত এবং অতিপ্রাকৃত ঘটনার তদন্তে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল “এমিটিভিল হরর”, “আনফোল্ড হিলস”, এবং “এনফিল্ড পলটারগাইস্ট”। এড এবং লরেন তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় প্যারানরমাল ঘটনার সাথে কাটিয়েছেন। তারা একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান, “ওয়ারেন প্যারানরমাল রিসার্চ সোসাইটি” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা বিভিন্ন জায়গায় ভূতপ্রেতের শিকার এবং গবেষণা করত। তাদের কাজের মাধ্যমে ভূতপ্রেত এবং অতিপ্রাকৃত দুনিয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। তবে তাদের কাজ কখনও বিতর্কিত হয়েছিল এবং তাদের সম্পর্কে অনেক অভিযোগও উঠেছিল।

এড এবং লরেন ওয়ারেনের ভূতপ্রেত শিকার একটি বিশাল পরিচিতি লাভ করেছে। তারা তাদের কাজের মাধ্যমে এমন সব ভূতপ্রেত ঘটনা উদ্ধার করেছেন যা আজও মানুষের মনে জীবন্ত। তাদের কিছু বিখ্যাত কেসের মধ্যে রয়েছে এমিটিভিল হরর, যেখানে এক পরিবারের বিরুদ্ধে অদ্ভুত এবং ভয়ানক ঘটনাগুলির অভিযোগ করা হয়। এই কেসটি নিয়ে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে। এছাড়া তাদের আরো একটি বিখ্যাত কেস ছিল “আনফোল্ড হিলস”, যেখানে একটি পরিবারের উপর পলটারগাইস্টের অত্যাচার ছিল। এড এবং লরেন দাবি করেন যে তারা বিশেষ ধরনের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে এসব তদন্ত করেছিলেন, যার মাধ্যমে তারা ভূতপ্রেত বা অশরীরী শক্তির উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তাদের মতে একমাত্র পেশাদার ভূতপ্রেত শিকারীরাই সত্যিকারভাবে এসব ঘটনার সমাধান করতে পারেন।

যতই তারা ভূতপ্রেত শিকারী হিসেবে পরিচিত হোন, ততই তাদের সম্পর্কে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল প্রতারণা এবং মিথ্যাচার। অনেকেই তাদের কাজের পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এড এবং লরেন ভূতপ্রেতের উপস্থিতি এবং অশরীরী শক্তির প্রমাণ দেখানোর জন্য বিভিন্ন ছবি, ভিডিও এবং অডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করতেন, যা পরে অনেক বিশেষজ্ঞরা মিথ্যা হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

একটি সাধারণ অভিযোেগ ছিল, তারা প্রায়শই পরিবারের আস্থা অর্জনের জন্য ভূতপ্রেতের ঘটনা তৈরি করতেন এবং তাদের দাবি অনুযায়ী একটি “অশরীরী শক্তি” যে প্রকৃতপক্ষে সেখানে ছিল না, তা সত্যি বলে দাবি করতেন। তাদের কিছু ঘটনার মধ্যে, যেগুলো তারা তদন্ত করেছিলেন, পরে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে “এমিটিভিল হরর” কেসটি অনেক সমালোচনা এবং বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন যে এই কেসটি ছিল একটি কেলেঙ্কারি এবং এর মধ্য দিয়ে তারা শুধু খ্যাতি এবং অর্থ অর্জন করতে চেয়েছিলেন।

এড এবং লরেন ওয়ারেনের কাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো তাদের অভিযোগগুলির ভিত্তিহীনতা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তারা অধিকাংশ সময় নিজেদের পেশাগত জীবনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতেন যাতে তারা ভূতপ্রেতের উপস্থিতি এবং অতিপ্রাকৃত ঘটনাকে আরও বাস্তব এবং বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে পারেন। তারা যে সমস্ত ছবি এবং ভিডিও ব্যবহার করতেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে অনেকগুলি সম্পূর্ণভাবে এডিট করা হয়েছে বা সাজানো হয়েছে। আরেকটি বড় বিতর্ক ছিল তাদের শান্তির মতো আচরণ। তারা যেসব ঘটনার তদন্ত করেছেন, সেখানে অনেক সময় তারা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন, যা তাদের কাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে একটি বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি করেছে।






নারীরা কিভাবে জায়গা পাবে ! আমাদের নগর গুলো পুরুষের পরিকল্পনায় পুরুষের জন্য তৈরি

0

বিশ্বব্যাপী নগর পরিকল্পনা সাধারণত পুরুষদের দ্বারা এবং পুরুষদের জন্যই করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে তরুণ এবং সুস্থ-সবল পুরুষদের জন্য। কিন্তু এই গোষ্ঠীর বাইরে যারা পড়ে, যেমন নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় এবং অন্যান্য দুর্বল গোষ্ঠী, তাদের জন্য নগর পরিকল্পনায় যথেষ্ট জায়গা রাখা হয়না।

এখন বিশ্বজুড়ে ক্রমশই এই সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করা হচ্ছে এবং অনেক শহর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি এক গবেষণায় দেখা যায়, বাস্কেটবল কোর্টের মতো খেলাধুলার স্থানগুলি সাধারণত ছেলেদের দখলে চলে যায়, ফলে মেয়েরা সেখানে নিজেদের অনুপযুক্ত মনে করে। এর সমাধান হিসেবে, ভিয়েনা শহরে বড় বড় পার্কগুলোকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করা হয় এবং মেয়েদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেঞ্চসহ বিভিন্ন সুবিধা সংযোজন করা হয়। এছাড়াও ২০০৬ সাল থেকে ভিয়েনায় জেন্ডার-বাজেটিং চালু করা হয়, যার মাধ্যমে নারী-কেন্দ্রিক সামাজিক বাসস্থান, নিরাপদ সংযোগ সড়ক এবং সংকীর্ণ গলিতে আয়না স্থাপনের মতো নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সুইডেনের একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান এক গবেষণা চালায়, মেয়েরা কেন ছেলেদের তুলনায় খেলার মাঠ কম ব্যবহার করে। তারা আবিষ্কার করে, মেয়েরা এমন স্থানে সময় কাটাতে চায় যেখান থেকে তারা পুরো এলাকা দেখতে পাবে কিন্তু চট করে চোখে পড়বে না। দুঃখের বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি উপলব্ধি করেছিল যে, তরুণী মেয়েদের জন্য শহরে পরিকল্পিত কোনো স্থান তৈরি করা হয়না যেখানে তারা সহজে অংশগ্রহণ করতে পারে। এটি বোঝা যায় যে, শহরগুলো মূলত পুরুষদের দ্বারা এবং পুরুষদের জন্যই গড়ে উঠেছে। সারা বিশ্বজুড়েই জনসেবামূলক তথ্যভাণ্ডার, যেমন গুগল ম্যাপের মতো ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্মগুলোও সাধারণত পুরুষদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই গঠিত। নারীদের প্রয়োজনীয় স্থান যেমন শিশু যত্নকেন্দ্র, নারী নির্যাতন কেন্দ্র কিংবা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র এগুলোর তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।

তবে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য কিছু দল ও সংগঠন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। যেমন, মেক্সিকোতে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত GeoChicas নামক একটি সংগঠন বর্তমানে ২২টি দেশে বিস্তার লাভকরেছে। এটি নারীদের জন্য নিরাপদ স্থান ও সহায়তার ঠিকানা চিহ্নিত করতে জনসাধারণের তথ্য ব্যবহার করছে। ভারতে দিল্লির একটি সংগঠন, ঝধভবঃরঢ়রহ, মহিলাদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এক ধরনের ম্যাপ তৈরি করছে যেখানে বিপজ্জনক ও নিরাপদ এলাকাগুলোর মানচিত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতের অনেক শহরে নারীদের জনপরিসরে উপস্থিতি কেমন সেটি গবেষণা করে দেখা গেছে যে, দিল্লির পার্কগুলোতে পুরুষরা বেশিরভাগ সময় একা বা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেলেও, নারীরা সাধারণত পারিবারিক জমায়েত ছাড়া পার্কে যাওয়ার কথা ভাবেন না। নিরাপত্তা ও শিশুদের খেলার স্থান নিশ্চিত করার ব্যাপারটি নারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও হায়দরাবাদে দেখা গেছে বড় পার্কগুলোর তুলনায় ছোট পার্কগুলোকেই নারী দর্শনার্থীরা বেশি পছন্দ করেন, কারণ সেখানে পুরো এলাকা সহজেই নজরে আসে এবং তারা সেখানে নিজেদের তুলনামূলক নিরাপদ অনুভব করেন। কিন্তু সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির প্রভাবও নারীদের জনপরিসরের ব্যবহার প্রভাবিত করে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত নারীরা পার্কে নিয়মিত যেতে পারেন না, কারণ সেখানে প্রবেশের জন্য অর্থ দিতে হয়।

যদিও নগরায়ন অনেক সামাজিক বৈষম্য দূর করেছে, তবে তা আবার কিছু ক্ষতির কারণও হয়েছে।বেঙ্গালুরুর একটি পুনরুদ্ধার করা লেককে এখন পরিপাটি পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখানে আগে গ্রামের নারীরা গৃহস্থালি ও কৃষিকাজ করতেন এবং উৎসব উদযাপন করতেন। কিন্তু শহরের আধুনিকীকরণের ফলে সেই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক বন্ধন হারিয়ে গেছে। এভাবে নগর উন্নয়নের নামে প্রান্তিক নারীসমাজের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সংকুচিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠীর নারীদের জন্য লেক এবং পার্কগুলোর পুনরুদ্ধার কিছুটা সুবিধা বয়ে আনলেও, এতে নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। পার্কগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখার জন্য প্রবেশমূল্য ধার্য করা হয়েছে, যা অনেক নিম্নবিত্ত নারীদের জন্য বাধা সৃষ্টি করেছে। এরা আগে প্রতিদিন বিনামূল্যে পার্কে গিয়ে অবসর সময় কাটাতে পারত, যা এখন আর সম্ভব হয় না।

শহরগুলোর পরিকল্পনা করার সময় নারীদের বাস্তব চাহিদা এবং অভিজ্ঞতাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কিশোরী মেয়েরা স্বাধীনভাবে সময় কাটানোর জন্য নিরাপদ স্থান খুঁজে বেড়ায়, গৃহিণীরা অবসাদ ও একাকিত্ব দূর করার জন্য পার্কে যান, আর নিম্নবিত্ত ও অভিবাসী নারীরা দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্তির জন্য এমন স্থান খোঁজেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, শহরের পরিকল্পনায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয় না। সুতরাং শহরগুলোকে সত্যিকার অর্থে নারী-বান্ধব করে গড়ে তুলতে হলে আমাদের এখন থেকেই নারীদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করতে হবে এবং শহরের জনপরিসরগুলোতে সকল শ্রেণি-পেশার নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নগর পরিকল্পনার মূল ল্পনার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে এবং বড় একটি জনগোষ্ঠী পরিকল্পনার বাইরে রয়ে যাবে।