“…এনসিপি দলটি যাঁদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে, কিছুদিন আগেই জনগণ দেখেছিল তাঁরা জীবন বাজি রেখে শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁদের প্রতি জনগণের যে আবেগ, তাঁরা সেটা সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটের অঙ্কে রূপান্তরিত করতে পারবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। এনসিপির সবচেয়ে বড় সংকট হবে সম্ভবত নিজেদের মধ্যে আদর্শগত বিরোধ। শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনের ক্ষেত্রে যেহেতু ডানপন্থী থেকে শুরু করে বামপন্থী পর্যন্ত সব ধরনের মানুষ অংশ নিয়েছে, দলটি চেয়েছে তাদের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে। এর জন্য একটা কার্যকর রাজনৈতিক পথ তাঁরা বেছে নিয়েছেন-মধ্যপন্থা।
আদর্শগত অবস্থানকে এড়িয়ে জনকল্যাণকে প্রধান করে তোলার মধ্য দিয়ে রাজনীতি তাদের এই বিরোধকে এড়াতে সাহায্য করার কথা।কিন্তু আমরা দলটি গঠন হওয়ার প্রাক্কালেই দেখেছি, আদর্শগত বিরোেধ মাথা চাড়া দিয়েছে। নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্য হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে যেভাবে আদর্শগত বিরোধ নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরিকল্পিতভাবে উসকে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তাতে দলটি এই লড়াই থেকে কতটা দূরে থাকতে পারবে, সেটা খুব বড় একটা প্রশ্ন।
এনসিপি আক্ষরিক অর্থেই তরুণদের দল। তরুণদের প্রাণশক্তি দলটির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে এই দলকে খুব ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু ওদিকে আবার ‘ছাত্রদের দল’ ট্যাগটি এই দলের একটা দুর্বলতা হিসেবেও হাজির হতে পারে।লাদেশের মতো অতি জটিল রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপটের একটা দেশে শুধু জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধাই যথেষ্ট নয়, দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রাজনীতির ক্ষেত্রে সফল হওয়ার একটি বড় পূর্বশর্ত।
…বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে এটা মোটামুটি নিশ্চিত-বিএনপিই ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাচ্ছে। রাজনীতিতে শূন্যস্থান থাকে না। রাজনীতির মাঠে বিএনপির প্রায় একচ্ছত্র অবস্থা থাকবে না, তাকে ভোটের রাজনীতিতেই চ্যালেঞ্জ করতে পারবে, এমন একটি দল আসবেই। এই মুহূর্তের সাংগঠনিক শক্তির বিচারে বিকল্প হিসেবে সামনে থাকছে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামপন্থী পরিচয়বাদী রাজনীতি। আমি বিশ্বাস করি, এর কোনোটিই এই রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য জুতসই হবে না।
জনগণের জন্য চমৎকার বিষয় হবে, একটি মধ্যপন্থী দলের শক্তিশালী হয়ে ওঠা, যেটি সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ মনোযোগসহ সব জনগণের কল্যাণ নিশ্চিতে কাজ করবে। এই ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও তার লক্ষ্য, আদর্শ ও কর্মসূচি জনগণের সামনে সহজবোধ্য ভাষায় দ্রুতই হাজির করতে হবে। …রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্রের অংশ হওয়ার আকসার উদাহরণ থাকা এই দেশে আশা করি এনসিপি জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হবে না। দলটি যেন রাজনীতিই করে। এটাই দীর্ঘ মেয়াদে দলটির নিজের এবং রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর।


