Home Blog Page 166

আপনি কি জানেন , কোন কোন অভ্যাস আপনার কিডনির জন্য ক্ষতিকর ?

জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশন অনুসারে কিডনি রোগ প্রতি বছর ৯০,০০০ এরও বেশি আমেরিকানের জীবন কেড়ে নেয়। এই সংখ্যা স্তন এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা জানি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন যাপনের জন্য কিডনির সুস্থতা অত্যন্ত অপরিহার্য ।আপনার ঘুমের অভ্যাস এবং খাদ্যাভ্যাসে ছোট পরিবর্তন করে আপনি কিডনি রোগের সম্ভাবনা কমাতে পারেন।

লবণের পরিবর্তে ব্যবহার করুন ভেষজ –

খাবারে লবণ যোগ করলে স্বাদ বাড়ে, কিন্তু এটি আপনার রক্তে ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে, যার ফলে আপনার কিডনিকে শরীর থেকে পানি অপসারণের জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। ২০১৮ সালে, জার্নাল অফ ক্লিনিকাল হাইপারটেনশনের জন্য করা গবেষণা প্রমাণ করেছে অত্যধিক লবণ খাওয়া সরাসরি কিডনি রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (USDA) সুপারিশ করে যে মানুষ প্রতিদিন এক চা চামচেরও সীমিত লবণ গ্রহণ করুক।

ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার সীমিত করুন –

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে টাইলেনল বা অ্যাডভিলের মতো ব্যথানাশক ওষুধের প্রচুর ব্যবহার প্রতি বছর মার্কিন ৫০হাজারেরও বেশি কিডনি বিফলতার ঘটনা ঘটায়। সময়ের সাথে সাথে এটি কিডনিতে অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখ করা হয়েছে যে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হল খালি পেট। অবশ্যই, মাঝে মাঝে মাথাব্যথা বা পিঠে ব্যথার জন্য ব্যথানাশক নেওয়া ঠিক আছে। তবে ব্যথানাশক ওষুধের অত্যাধিক ব্যবহার কিডনিতে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়।

সর্দি-কাশিকে ছোট করে দেখবেন না –

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অনুসারে, একজন ব্যক্তি বছরে গড়ে দুই থেকে তিনটি সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। যদি আপনি সর্দি-কাশি অচিকিৎসিত রেখে দেন, আপনার শরীর আরও বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। অতিরিক্ত সর্দি সময়ের সাথে সাথে কিডনির জন্য অস্বাস্থ্যকর হতে শুরু করে।

বাথরুম ব্যবহার করতে দেরি করবেন না –
বাথরুমে যাওয়া বিলম্বিত করা কিডনি রোগের অন্যতম বড় কারণ। প্রস্রাব যত দীর্ঘ সময় শরীরে থাকে, তত খারাপ।
এটি এমন ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল যা শরীরে কিছুক্ষনের বেশি থাকা উচিত নয়, যত দীর্ঘ সময় থাকে, তত বেশি ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে। একসময় এই ব্যাকটেরিয়া আপনার কিডনিতে পৌঁছাতে পারে।

সিগারেটকে বিদায় বলুন –

এই যুগে এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে ধূমপান আপনার ফুসফুস এবং হার্টের জন্য জন্য ভয়ানক। টে আপনি কি জানতেন এটি আপনার কিডনির জন্যও সমান খারাপ? ২০০০ সালে, অ্যানালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিনের জন্য একটি গবেষণা করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায় চেইন স্মোকাররা, বর্তমান এবং প্রাক্তন উভয়ই, কিডনি রোগের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিতে আছে। সিগারেট শরীরে ক্রিয়েটিনিন তৈরি করে, যা কিডনির জন্য অস্বাস্থ্যকর।

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন –

খাবারকে দীর্ঘ সময় ধরে তাজা রাখার জন্য, সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম যোগ করে যা আপনার কিডনির জন্য খুব বিপজ্জনক। সোডিয়াম ছাড়াও তারা প্রক্রিয়াজাত খাবারে অন্যান্য উপাদান এমণভাবে ব্যবহার করে যার পরিমাণ আপনার যতটুকু খাওয়া উচিত তার চেয়ে বেশি।

সোডা থেকে দূরে থাকুন –

সোডা চিনি ছাড়া শরীরে কোন পুষ্টি দেয় না। ১২ আউন্স সোডাতে যতটা চিনি আছে তা আপনি সাড়ে তিনটি ডোনাট খেয়ে গ্রহণ করেন।
গবেষণা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে প্রতিদিন দুই বা তার বেশি সোডা পান করলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে শুধু চিনিই খারাপ উপাদান নয়। সোডাতে ফসফরিক অ্যাসিডের উচ্চ পরিমাণের কারণে কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

সামাজিক অপরাধ বেড়ে চলেছে

দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। মাদকাসক্তি, পারিবারিক কলহের জের, জমি নিয়ে বিরোধ, অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এবং নৈতিক অবক্ষয় থেকে সামাজিক অপরাধ ঘটছে। এর মূল কারণ নিঃসন্দেহে আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকা ও বিচারহীনতা। কিন্তু একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ–নীতিনৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধের যে চরম অবক্ষয় ঘটেছে, সেটা রোধ করতে সামাজিক অন্যান্য আয়োজন বা ব্যবস্থাগুলোকে ঢেলে সাজানো। সারা দেশে নারী বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধের মাসিক ডাটাবেজ অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে ৫৯৪ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেক খুনের ঘটনা ঘটেছে সামাজিক অপরাধকে কেন্দ্র করে।

সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহের কারণে অবলীলায় খুন হচ্ছে মানুষ। আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড।মামুলি বা তুচ্ছ কারণে নৃশংসতা ঘটছে। সামাজিক অপরাধগুলোর বেশির ভাগই অর্থসম্পদকে কেন্দ্র করে হচ্ছে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতির দৃষ্টান্তই নয়, সামাজিক অসুস্থতারও লক্ষণ। ভোগবাদী সংস্কৃতি, সামাজিক যাগাযোগ মাধ্যম মানুষের সামাজিক – নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষ হয়ে উঠছে প্রাতিশোধপরায়ণ।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অপরাধপ্রবণতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক প্রতিরোধও দরকার।এই ক্ষেত্রে সামাজিক অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতার কারণ অনুসন্ধান এবং তা দূরীকরণে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। দরকার পারিবারিক, সামাজিক ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা। সুস্থ মানস গঠনে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ব্যবস্থা দরকার। প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে মানবিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ না থাকলে সমাজের অসুস্থতা বাড়বে। তা আক্রান্ত করবে সবাইকেই।

পাচার হওয়া টাকা ফেরত দেয়ার অফার আছে … কিন্তু যারা টাকা নিয়ে গেছে তারা বসে নেই – প্রধান উপদেষ্টার নতুন বিশেষ সহকারী

প্রধান উপদেষ্টার অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নতুন বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, “পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা অত্যন্ত সম্ভব। অনেকেই পাচার হওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অফার করেছেন। আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা। উনার যে ওয়েট, সেটা ইতোমধ্যে আপনারা হয়ত অনুমান করতে পারছেন। “যেসব স্থানে টাকা গেছে, এতে সেসব দেশ উপকারভোগী। আন্তর্জাতিক আইন আছে, যেহেতু তারা উপকারভোগী, তাই সহজে তারা এটা ছাড়বে না। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টাকে উনারাই অফার করছেন এ বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা অতিদ্রুত কাজ করছি। আশা করছি আমরা সফল হব।” কারা প্রস্তাব দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা বলা সম্ভব না। এগুলো বললে কাজে সমস্যা হবে। যারা টাকা নিয়ে গেছে তারাতো বসে নেই। এরমধ্যে যতটুকু বলা সম্ভব সেটুকুই বলছি।”

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়েরং এ অধ্যাপক। তিনি আরো বলেন, “প্রপার আইন করতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে মিল রেখে।আপনি ধরলেই তো টাকা ফেরত আনতে পারবেন না। এখানে কতগুলো মাধ্যম আছে। এসব বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাচ্ছি।বিশ্ব ব্যাংকসহ অনেকেই কাজ করছে।” অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন,

“আমাদের বৈদেশিক ঋণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের উপরে চলে গেছে। ২০১০ সালের পর থেকে বৈদেশিক ঋণের প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেড়েছে।একই সঙ্গে ডমেস্টিক রিসোর্স মবিলাইজেশন অনেক কমে গেছে। এক সময় আমাদের ট্যাক্স টু জিডিপি রেশিও ১১/১২ শতাংশ ছিল। এখন সেটা ৭ শতাংশে নেমে গেছে। সুতরাং অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনার দিকে আমার নজর দিতে হবে। শেয়ার বাজারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিগত দিনে আমাদের প্রত্যেকের আয় বেড়েছে। তাহলে আমাদের রেভিনিউ তো অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল।”



দর্শন ও বিজ্ঞানের দুই দিকপালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১৪ মার্চ দুই বিশ্বখ্যাত মনীষীর মৃত্যুবার্ষিকীড়একজন বিখ্যাত দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক তাত্ত্বিক বিপ্লবী কার্ল মার্ক্স এবং অন্যজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, কসমোলজিস্ট স্টিফেন উইলিয়াম হকিং। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের একজন কার্ল মার্ক্স। ১৮১৮ সালের ৫ মে জার্মানিতে জন্ম নেওয়া এই মহামানব মৃত্যুবরণ করেন ১৮৮৩ সালের আজকের এই দিনে। সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে অসাধারণ সব তত্ত্ব দিয়েছেন এই দার্শনিক, যা পরে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে মার্ক্সবাদ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

তাঁর তত্ত্বে উঠে এসেছে শ্রমিকশ্রেণির বঞ্চনা ও শোষিত হওয়ার কথা, যার জন্য তিনি দায়ী করেন পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থাকে। মার্ক্স বলেন, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে শ্রমিকশ্রেণি যে পরিমাণ ‘নতুন মূল্য’ (সারপ্লাস ভেল্যু) সৃষ্টি করে, তার খুব সামান্যই মজুরি বাবদ দেওয়া হয় তাঁদের, লভ্যাংশের প্রায় সবটুকুই আত্মসাৎ করে ফেলে মালিকশ্রেণি। তাঁর মতে, শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে সশস্ত্র সমাজবিপ্লবের মাধ্যমে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার অবসান ঘটানো সম্ভব এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোষণ ও বৈষম্যের শেষ হবে। মার্ক্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলোর মধ্য রয়েছে, ‘ডাস ক্যাপিটাল’ বা পুঁজি এবং ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ বা কমিউনিস্ট ইশতেহার।

স্টিফেন হকিং-কে বিশ শতকের অন্যতম সেরা তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন ও ২০১৮ সালের আজকের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। মূলত আইনস্টাইনের বিভিন্ন তত্ত্বকে আরও সম্প্রসারিত করেছেন হকিং। ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাবিশ্বতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল কসমোলজি) প্রধান ছিলেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে বিরল মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এই রোগের কারণে শরীরের যেসব শিরা মাংসপেশিকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলো ধীরে-ধীরে অকেজো হয়ে যেতে থাকে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়ানোর ক্ষমতা তিনি হারিয়ে ফেলেন। এমনকি কথা বলতেও রোবটের সহায়তা নিতে হতো তাঁকে। তবে, সেই প্রতিবন্ধকতাকে কোনো বাধা হতে দেননি তিনি।



কিভাবে টেকসই নগরায়ণের রূপরেখা প্রণয়ন করা যায়

0

বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং তার সাথে বেড়ে চলেছে শহরের চাহিদাও। শহরগুলোতে জীবনের গতি এতটাই বেড়ে গেছে যে, অনেক জায়গায় পরিবেশগত বিপর্যয়, যানজট, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলার জন্য সারা বিশ্বে নতুন ধরনের নগর পরিকল্পনা মডেল তৈরি হচ্ছে। এই মডেলগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে “ইকো-সিটি”, “স্মার্ট সিটি”, এবং “টেকসই স্থাপত্য”-যেগুলো পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জীবনের মান বাড়ানোর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে।

ইকো-সিটি একটি পরিবেশগতভাবে সচেতন শহরের ধারণা, যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাসের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি এমন একটি নগর পরিকল্পনা, যেখানে শহরের নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের মতো সবকিছুই পরিবেশের প্রতি সম্মান রেখে তৈরি করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সোলার প্যানেল, বায়োগ্যাস এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা এই ধরনের শহরে সাধারণভাবে দেখা যায়। একটি ইকো-সিটির মূল লক্ষ্য হলো খরচ কমিয়ে আনা, শক্তির ব্যবহার কমানো, এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা। পরিবেশবান্ধব শহরগুলোতে মোটর গাড়ির সংখ্যা কম থাকে এবং অধিকাংশ মানুষ হাঁটার বা সাইকেল চালানোর মাধ্যমে চলাচল করেন, ফলে শহরের বাতাস পরিষ্কার থাকে এবং যানজট কমে।

আজকের দিনে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি নগর পরিকল্পনাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে। স্মার্ট সিটি এমন একটি শহর, যেখানে আইটি এবং ডেটা ব্যবহার করে নাগরিক জীবনকে আরো সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর করা হয়। স্মার্ট সিটিতে প্রতিটি দিকের সাথে সম্পর্কিত ডেটা সংগ্রহ করা হয় এবং এটি নাগরিকদের জন্য উন্নত পরিষেবা প্রদান করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন – ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ, পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ধরা যাক, একটি স্মার্ট সিটিতে রাস্তার আলো কখন অটোমেটিকভাবে চালু বা বন্ধ হবে, তা নির্ভর করবে পরিবেশগত পরিস্থিতির উপর। যখন মানুষ বা গাড়ি দেখা যাবে না, তখন রাস্তার বাতি বন্ধ হয়ে যাবে, এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এছাড়া নাগরিকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। স্মার্ট সিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তির ব্যবহার নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে আরো সুবিধাজনক ও সহজতর করে তোলে।

টেকসই স্থাপত্য একটি স্থাপত্য শৈলী, যা পরিবেশ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে। এটি এমনভাবে ভবন নির্মাণের ধারণা, যেখানে শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, পরিবেশগত সচেতনতা এবং স্থানীয় পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নকশা থাকে। ভবনগুলোতে প্রাকৃতিক আলো এবং বাতাসের প্রবাহ, শক্তির দক্ষ ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয় ।টেকসই স্থাপত্যের উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সোলার প্যানেল ব্যবহার করে ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা, এবং জৈবিক উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ করা। এই ধরনের স্থাপত্যশৈলী শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, বরং নাগরিকদের স্বাস্থ্যের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, কারণ এতে বাতাসের গুণমান উন্নত হয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কোনো শহর যদি সত্যিকারভাবে টেকসই হতে চায়, তবে তার পরিবহন ব্যবস্থা অবশ্যই উন্নত হতে হবে। বর্তমান শহরগুলোর মধ্যে অনেকটাই যানজট এবং দূষণ বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ। এক্ষেত্রে আধুনিক, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যেমন-মেট্রো রেল, বায়োফুয়েল চালিত বাস, এবং সাইকেল শেয়ারিং সিস্টেম। এছাড়া স্মার্ট সিটির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা যেমন রাইড-শেয়ারিং, সোলার চালিত ট্রাম এবং ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়, যা দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

বিকল্প নগর পরিকল্পনা মডেলগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো শহরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সামাজিক সাম্য স্থাপন করা।উন্নত শহরগুলোতে ধনী-গরিবের পার্থক্য কমানোর চেষ্টা করা হয়। এতে নগরের সব শ্রেণির মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং আধুনিক জীবনযাত্রার সুযোগ তৈরি করা হয়। বিশ্বের শহরগুলো যদি আজ থেকে নতুন এই বিকল্প নগর পরিকল্পনা মডেলগুলো গ্রহণ করতে পারে, তাহলে তা পরিবেশ, সমাজ, এবং মানুষের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ইকো-সিটি, স্মার্ট সিটি, এবং টেকসই স্থাপত্য-এই সবগুলোই পরবর্তীতে আমাদের ভবিষ্যত নগরের ভিত্তি হতে পারে। তাই আমাদের এখন থেকেই এই পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ, সুরক্ষিত এবং শান্তিপূর্ণ নগরে বাস করতে পারে।




রোহিঙ্গাদের ইফতারে ড. ইউনুস , সামনের বছর নিজের বাড়িতে গিয়ে ঈদ

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে পাশে রেখে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের মাতৃভূমিতে পাঠানোর আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছেন। পরের ঈদটি যেন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে ফিরে করতে পারেন, সেজন্য নিজের প্রচেষ্টার কথা রোহিঙ্গাদের সামনে তুলে ধরেছেন ড. ইউনূস; এজন্য তাদের কাছে দোয়াও চেয়েছেন। শুক্রবার উখিয়ায় আশ্রয় শিবিরের ২০ নম্বর ক্যাম্পে লাখো রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতারে শরিক হয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন ইউনূস, যা রোহিঙ্গাদের কাছেও সহজবোধ্য।

দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে উদ্যোগ নিতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা। মিয়ামানমারে রোহিঙ্গাদের ধনসম্পদ থাকার কথা তুলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা বলেছেন সেখানে আপনাদের অনেক জায়গা-জমি রয়েছে, এখানে বোঝা হয়ে থাকতে চান না। “যত তাড়াতাড়ি পারা যায় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে বুঝিয়ে দেন, আমরাও পারি। আপনারা সবাইকে খবর দেন, যেন নিজেদের বাড়ি ফিরতে পারেন।” জাতিসংঘ মহাসচিব নানা ব্যস্ততার মধ্যেও রোহিঙ্গা প্রতাবাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরতে চায়, যা এই সংকটের মূল সমাধান হতে পারে। তিনি মায়ানমারের সব পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানান এবং বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে সংঘাত ও নিপীড়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। রোহিঙ্গাদের বরাদ্দ কমানোর পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটা হবে নিয়ন্ত্রণহীন দুর্যোগ, যেটাকে আমরা নিতে পারব না। মানুষ দুর্ভোগ পোহাবে, এমনকি মারা যাবে।”



কপালকুণ্ডলা বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক আহ্বান ও দ্বন্দ্ব

‘পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা “কপালকুন্ডলা” উপন্যাসের পথ হারানো নবকুমারকে করা কপালকুণ্ডলার এই প্রশ্নটিকে বাংলা সাহিত্যের সর্ব প্রথম রোমান্টিক লাইন হিসেবে ধরা হয়! এই লাইনটি মনে এলে যেন স্বয়ং নিজেকেই প্রশ্ন করে বসতে ইচ্ছে করে, ‘পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?’ এই ছোট বাক্যটির আকুতি- আহ্বান যেন যুগের পর যুগ ধরে একটুও ক্ষয় হয়নি। যতবার পুনরাবৃত্তি করা হয়, ততবারই যেন পথ চলার একই দ্বিধা নিয়ে ফিরে ফিরে আসে! ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত এই “কপালকুন্ডলা” বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তখনও তাঁর পূর্ণ বিকাশের শীর্ষে পৌঁছাননি, তবে এই উপন্যাসেই তিনি বাংলা উপন্যাসের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন। কাহিনিটি গড়ে উঠেছিলো এক রহস্যময়, প্রেমময় ও রোমাঞ্চকর আবহের মধ্যে।

উপন্যাসের নায়ক নবকুমার একদিন দুর্গম অরণ্যে পথ হারিয়ে ফেলেন। সেই অরণ্যে তার দেখা হয় এক অনিন্দ্যসুন্দরী নারীর সঙ্গে, যার নাম কপালকুন্ডলা। কপালকুন্ডলা এক তান্ত্রিকের আশ্রয়ে মানুষ হয়েছে, সভ্য সমাজের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। নবকুমার তাকে দেখে মোহিত হন, আর কপালকুন্ডলাও ধীরে ধীরে প্রেমের অনুভূতি উপলব্ধি করতে থাকে। কিন্তু এই প্রেম সহজ সরল পথে এগোয় না। এতে রয়েছে একই সাথে কুসংস্কার, সমাজ, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের জটিল টানাপোড়েন। কপালকুন্ডলা বাংলা সাহিত্যের এক বিস্ময়কর নারী চরিত্র। একাধারে সে মুক্তচিন্তার প্রতীক, অন্যদিকে তার সহজাত প্রেমবোধ তাকে এক অনন্য সৌন্দর্যে ভাস্বর করেছে। সভ্যতার কৃত্রিমতার বাইরে গড়ে ওঠা এই নারী যখন প্রেমের স্পর্শ পায়, তখন সে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সে কি নবকুমারের সঙ্গে সভ্য সমাজে যাবে, নাকি তার আপন অরণ্যের জীবন বেছে নেবে? এই দ্বন্দ্ব তাকে করে তোলে অনন্য।

উপন্যাসের একটি বিখ্যাত দৃশ্যে দেখা যায়, কপালকুন্ডলা নবকুমারের মুখে শুনছে প্রেমের কথা। সে তখনও জানে না প্রেম কী, তবু এক অজানা অনুভূতি তার মনে সঞ্চারিত হয়। “কপালকুন্ডলা কহিল, ‘প্রেম কী?’ নবকুমার কহিল, ‘যাহাকে দেখিলে চিত্ত আনন্দিত হয়, তাহার নিকটে যাইতে ইচ্ছা করে, তাহার কথা শুনিতে ভাল লাগে, তাহাকে না দেখিলে চিত্ত ব্যাকুল হয়, সেই প্রেম।'” এই সংলাপ শুধু উপন্যাসের নয়, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এখানে প্রেমের এক সহজ অথচ গভীর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা যুগের পর যুগ পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

কপালকুন্ডলার জীবন শুধু প্রেমের আবেগে নয়, এক গভীর ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে যায়। যে তান্ত্রিক তাকে লালন-পালন করেছে, সে তাকে নিজের কামনা চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করতে চায়। তান্ত্রিকের ষড়যন্ত্র ও কপালকুন্ডলার আত্মপরিচয়ের সংকট উপন্যাসটিকে আরও নাটকীয় ও গভীর করে তোলে। একটি দৃশ্যে দেখা যায়, তান্ত্রিক কপালকুন্ডলাকে বলে: ‘তুই আমার সৃষ্টি, আমি তোকে যা বলিবি, তাই করিতে হইবে।’ এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে কপালকুন্ডলার স্বাধীনতার সংকট। সে কি নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করতে পারবে, নাকি তাকে অন্য কারও ইচ্ছার অধীন হতে হবে?

উপন্যাসটি কেবল প্রেমের নয়, এটি সমাজের রীতি-নীতি, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়েরও গল্প। কপালকুন্ডলা এক দিক থেকে নবকুমারকে ভালোবাসে, কিন্তু সভ্য সমাজে যাওয়ার ধারণা তার কাছে ভীতিকর। অন্যদিকে নবকুমারও দ্বিধায় পড়ে সেকি কপালকুন্ডলাকে পরিবর্তিত করতে চায়, নাকি তার স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়? এই দ্বন্দ্বের ফলে উপন্যাসের কাহিনি আরও গভীর ও হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত, কপালকুন্ডলা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেয়, যা বাংলা সাহিত্যে এক বিরল ঘটনা।

এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র এখানে প্রেমকাহিনি বলেননি, তুলে ধরেছেন সমাজ, সংস্কার, বাঁধা, অস্তিত্ব ও জীবনের সংকট। এই উপন্যাস পড়ার পর পাঠকের মনে দীর্ঘদিন যে প্রশ্ন থেকে যায় সেটা হলো পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ? হয়তো কপালকুন্ডলার মতো আমরাও সমাজের নানা নিয়ম, প্রেম ও আত্মপরিচয়ের টানাপোড়েনে পথ হারাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদেরও নিজস্ব পথ নিজেদেরই খুঁজে নিতে হয়।





উজানের বাঁধ , দখলদারিত্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের ধ্বংসযজ্ঞে দেশের নদ-নদী সংকটে

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও বর্তমানে এর নদ-নদীগুলো ভয়ংকর সংকটের মুখোমুখি। অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ নদ-নদীর বর্তমান মরণদশার পেছনে তিনটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, উজানে ভারতের বাঁধ, দ্বিতীয়ত, দেশের শক্তিশালী ব্যক্তি ও কোম্পানির দখল, এবং তৃতীয়ত, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। এই সংকট নদী ও পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ভারতের গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও অন্যান্য প্রধান নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। চীন যখন ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিচ্ছে, তখন ভারত প্রতিবাদ করছে, যা প্রকৃতপক্ষে ভাটির দেশের সংকটকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। আনু মুহাম্মদ মনে করেন, এই সংকট সমাধানের একটি সম্ভাব্য উপায় জাতিসংঘের পানি চুক্তিতে স্বাক্ষর করা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে খুশি করতে গিয়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। অন্তর্বতীকালীন সরকারের উচিত দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

নদ-নদী দখলের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বড় বড় কোম্পানির অনৈতিক কার্যক্রম। আনু মুহাম্মদ বিশেষভাবে বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, মেঘনা ও সামিট গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ করেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে নদী দখল, সম্পদ লুণ্ঠন ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত। বিগত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা তাদের প্রভাব বাড়িয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেই সরকার না থাকলেও তাদের ক্ষমতা অটুট রয়েছে। এই দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদী রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বহু নদী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র কুহেলিয়া নদীকে বিলুপ্তির পথে নিয়ে গেছে, এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যদি বর্জ্য পদ্মা নদীতে ফেলা হয়, তাহলে তা বাংলাদেশের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি বাহিনীও নদ-নদী দখলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের নদ-নদীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ২০২৩ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের (এনআরসিসি) তালিকা অনুযায়ী দেশে ৯০৭টি নদী ছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই তালিকাকে অবৈজ্ঞানিক বলে প্রত্যাখ্যান করেন। পরে মতামত সংগ্রহের মাধ্যমে এই সংখ্যা ১,০০৮-এ উন্নীত করা হলেও সেটাও বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। ২০২৪ সালে পানি মন্ত্রণালয় নতুন একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ১,১৫৬টি নদী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই তালিকায় এনআরসিসির তালিকাভুক্ত ২০০টি নদী বাদ পড়েছে এবং নতুন করে ১৪৮টি নদী যুক্ত হয়েছে। নদীসংখ্যা নির্ধারণের এই বিশাল বৈষম্য প্রমাণ করে যে, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা না গেলে নদী ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা কঠিন হবে। তাই নদীর সংখ্যা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক ও সমন্বিত পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।

বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার নদী রক্ষায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন, নদীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সমন্বিত প্রচেষ্টা, দখল ও দূষণমুক্ত নদী চিহ্নিত করা এবং পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা। তবে এসব উদ্যোগ তখনই কার্যকর হবে, যখন নদীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক দূর হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৩ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৭,৩৯৬ জন নদী দখলদারকে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু সেই তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়। এই তালিকা পুনরায় তৈরি করে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, যেসব নদী দখল ও দূষণের কারণে মৃতপ্রায়, সেগুলোর পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

নদী বাংলাদেশের প্রাণ। কৃষি, মৎস্য, পরিবহনসহ নানা খাতে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দখল, দূষণ, উন্নয়ন প্রকল্প এবং উজানের বাঁধের কারণে নদীগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার, গবেষক, পরিবেশবিদ এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়নের দিকেও জোর দিতে হবে। নদী রক্ষা না করলে বাংলাদেশ তার পরিবেশগত ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হারাবে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।





জীবাণু ও রোগ আসছে “এলন মাস্কের স্লাশ অ্যান্ড বার্ন শাসনের প্রভাব বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিরেখে যাবে ” – ক্রেইগ স্পেন্সার

ইবোলা ভাইরাস ১৯৭৬ সালে প্রথম শনাক্ত হয় এবং এর পর থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় ইবোলা মহামারির সময় হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। এই রোগের মারাত্মক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, রক্তক্ষরণ, অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া এবং দ্রুত মৃত্যুর ঝুঁকি। চিকিৎসক ক্রেগ স্পেনসার এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং নিজেও ইবোলায় আক্রান্ত হন। ভাগ্যক্রমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন, কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা কীভাবে মহামারিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (CDC) একসময় মহামারি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখত। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এসব সংস্থার বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তাদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে USAID-এর স্বাস্থ্য কর্মসূচির তহবিল সংকোচন করা হয়, WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করা হয় এবং CDC-এর কার্যক্রম সীমিত করে ফেলা হয়। এর ফলে অনেক দেশই সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। আগে উন্নয়নশীল দেশগুলো USAID-এর সহযোগিতা পেতে চাইত এবং CDC-এর বিশেষজ্ঞদের সহায়তা গ্রহণ করত। কিন্তু এখন যখন এসব সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে, তখন কোনো দেশ কেনই বা নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর প্রকাশ করবে? ফলাফল হলো, নতুন মহামারির খবর হয় অনেক দেরিতে জানা যাবে, নয়তো একেবারেই জানা যাবে না।

বিশ্ব এখন এক বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে, যেখানে এক দেশে ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক রোগ সহজেই অন্য দেশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারি দেখিয়েছে যে, সময়মতো প্রতিক্রিয়া না দিলে কীভাবে একটি সংক্রমণ পুরো বিশ্বকে অচল করে দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রথমত উন্নত দেশগুলোর উচিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে নতুন করে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। WHO হলো সেই প্রতিষ্ঠান, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি সহযোগিতা পেলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা আরও সহজ হবে। দ্বিতীয়ত USAID-এর মতো সংস্থাগুলোর পুনর্গঠন জরুরি, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় শক্তিশালী করা যায়। মানবিক সহায়তা প্রদান কেবল দাতব্য কাজ নয়, এটি সংক্রামক রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশল।

তৃতীয়ত CDC-এর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃস্থাপন করতে হবে। কোভিড-১৯-এর পরে অনেকেই স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে, কিন্তু ভবিষ্যতে যখন নতুন সংক্রমণ দেখা দেবে, তখন CDC-এর মতো সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশেরই এককভাবে এই সংকট সামলানো সম্ভব নয়। সংক্রামক রোগের হুমকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ইবোলা, বার্ড ফ্লু, হামের মতো সংক্রমণ যে কোনো সময় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা, বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ করাই ভবিষ্যৎ মহামারি প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। নতুবা, আমরা আরও ভয়ংকর স্বাস্থ্য সংকটের সম্মুখীন হব, যা শুধু জীবনহানিই ঘটাবে না, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও চরমভাবে প্রভাবিত করবে।


পারমাণবিক কর্মসূচি ইরানের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার বৈঠক

চীন, রাশিয়া ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে আজ শুক্রবার বৈঠক হয়েছে। বেইজিংয়ের আশা, এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা নতুন করে শুরু করা যাবে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ২০১৫ সালে চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছিল ইরান। এ চুক্তির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে দায়িত্বপালনকালে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। তিনি নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। ওয়াশিংটনের সরে যাওয়ার পরও এক বছর ধরে তেহরান ওই চুক্তি মেনে চলেছিল। পরে তারাও তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে শুরু করে। চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা তখন থেকে ভেস্তে যায়।

দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইরান প্রত্যাখ্যান করলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে রাজি নয় তেহরান। বৃহস্পতিবার তেহরান বলেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বরাবর লেখা চিঠিটি তারা এখন পর্যালোচনা করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল দেশটির সরকারের আনুষ্ঠানিক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, নিষেধাজ্ঞা তুলে
নেওয়া।’ আরাগচি আরও বলেন, চাপ ও হুমকিমুক্ত থাকলে এবং জনগণের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার নিশ্চয়তা পেলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবেন তাঁরা।