Home Blog Page 165

নতুন দলেও কিছু পুরোনো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে : তাসনিম সিরাজ মাহবুব , সহযোগী অধ্যাপক , ইংরেজি বিভাগ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

0

“ … বিগত সরকার দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই গতিমুখ থেকে দেশটাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ওপর আমার এখনো আস্থা বা ভরসা আছে। অন্য শাসকদের মধ্যে ক্ষমতার পাশাপাশি যেমন অর্থবিত্তের লোভ দেখা গেছে, তাঁর মধ্যে সেই অর্থবিত্তের লোভ নেই বলেই আমার ধারণা। তবে তিনিও মানুষ, তাঁরও ভুল হতে পারে। ভুল হলে তা সংশোধন করে তিনি বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেবেন, একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে আমি সেটাই মনে করি। … আমার বিবেচনায়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এক-দুটি ছাড়া বেশির ভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্ত আমাদের সত্যিই হতাশ করেছে।… পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। এ বিষয়গুলো আমার কাছে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের একটি নেতিবাচক ফলাফল বলে মনে হচ্ছে।

… বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন সব সময়ই ছিল। এটা হুট করে বেড়ে গেছে, তেমনটা বলা যাবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং রক্ষণশীল ধর্মীয় গ্রুপগুলোর কর্মকাণ্ডে নারীদের মধ্যে একধরনের ভীতি দেখা যাচ্ছে। গণ–অভ্যুত্থানের পরও এ রকম পরিবেশ তৈরি হওয়া একটা দুঃখজনক বিষয়। … কিছু কিছু গ্রুপ যে রকম আচরণ করছে, তাতে মনে হচ্ছে, তারা আইনের ঊর্ধ্বে চলে গেছে। তারা ধারাবাহিকভাবে এ রকম কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু সরকারের তরফ থেকে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে না। আমরা তাদের ‘মব’ বলে অভিহিত করছি; কিন্তু এ ধরনের মবেরও একটা আইডেন্টিটি (পরিচয়) রয়েছে। তাদের সেই পরিচয় উদ্‌ঘাটন করা এবং জরুরি ভিত্তিতে থামানো সরকারের এখন অন্যতম দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।

… বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে আমরা দুটি দলের প্রাধান্য দেখেছি। পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি, জবাবদিহির অভাব—তাদের মধ্যে এ বিষয়গুলো আমরা লক্ষ করেছি। ফলে নতুন একটি দল, বিশেষভাবে তরুণদের দলকে আমি স্বাগত জানাই। তবে নতুন দলেও কিছু পুরোনো প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর মধ্যে সরকারের আনুকূল্য পাওয়া এবং সম্পদশালীদের কাছ থেকে দলের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে কথাবার্তা উঠেছে, তাতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি, এসব বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। ”


রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা উচিত ইউরোপ – আমেরিকার : ন্যাটো মহাসচিব

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।গতকাল শুক্রবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হলে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে পুনঃস্থাপন করা উচিত।’ হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বক্তব্য দিলেন মার্ক রুটে। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে এ দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন এই যুদ্ধে অচলাবস্থা ভেঙেছেন, কারণ তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছেন। আমি মনে করি, এটি ইউক্রেনের জন্য ইতিবাচক।’ ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ‘ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনেক উপায় রয়েছে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘ন্যাটোর পক্ষে সরাসরি জড়িত হওয়া কঠিন হবে।’ রুটে জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে ওভাল অফিসে তাঁর আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ ছিল এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা জোটের প্রতি ‘একটি সম্পূর্ণ স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি’ অনুভব করেছেন।


সাবমেরিন কেবল – গোপন নজরদারির হাতিয়ার নাকি ষড়যন্ত্রের ফাঁদ ?

সাবমেরিন কেবল আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের ৯৫ শতাংশ ডেটা আদান-প্রদান হয় এই কেবলগুলোর মাধ্যমে। কিন্তু একদিকে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির এই অগ্রগতি, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গোপন এজেন্ডা এই দুইয়ের মিলনেই তৈরি হয়েছে কিছু অদ্ভুত কিন্তু সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রমূলক থিওরি। অনেক গবেষক এবং প্রযুক্তিবিদ মনে করেন, সাবমেরিন কেবল কেবলমাত্র যোগাযোগের জন্যই ব্যবহৃত হয় না বরং এটি গ্লোবাল নজরদারিরও একটি বড় মাধ্যম। ২০১৩ সালে এডওয়ার্ড স্নোডেন ফাঁস করেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের NSA এবং যুক্তরাজ্যের GCHQ সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ট্রাফিক গোপনে পর্যবেক্ষণ করে। তারা বিভিন্ন দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং সেই অনুযায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনা সাজায়।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, এবং জার্মানির মতো দেশগুলোর গোপন সংস্থাগুলো নাকি সমুদ্রের গভীরে সাবমেরিন কেবলে বিশেষ ডিভাইস সংযুক্ত করে, যা সমস্ত ডেটা কপি করে সংরক্ষণ করে। যদিও এসব অভিযোগের প্রমাণ সীমিত, তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে এটি অসম্ভব নয়। এ নিয়ে আরেকটি বড় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলছে, কিছু নির্দিষ্ট শক্তিধর দেশ বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য সাবমেরিন কেবল ব্যবহার করে। পৃথিবীর বেশিরভাগ সাবমেরিন কেবল পরিচালিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা মিত্রদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে। যদি কখনও তারা চায়, তাহলে সহজেই নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের ইন্টারনেট আংশিকভাবে ব্যাহত হয়, যা এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করে। পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাবমেরিন কেবল নষ্ট করতে পারে যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০০৮ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় বেশ কয়েকটি সাবমেরিন কেবল একসঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে ইন্টারনেট সেবায় বিশাল সংকট দেখা দেয়। একে সাধারণ দুর্ঘটনা বলা হলেও অনেকে মনে করেন এটি পরিকল্পিত একটি সাইবার যুদ্ধের অংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক বাহিনীগুলো জানে কিভাবে সাবমেরিন কেবল নষ্ট করলে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হবে।চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বড় শক্তিধর দেশগুলোর নৌবাহিনী নাকি এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যাতে যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিপক্ষকে বিচ্ছিন্ন করা যায়। সাবমেরিন কেবল বসানোর সময় অনেক দেশ নাকি গোপন সামরিক ডিভাইস স্থাপন করে, যা শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরের কনফ্লিক্ট এলাকায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা সাবমেরিন কেবল মেরামতের নামে গুপ্ত নজরদারি ডিভাইস বসিয়েছে।

একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারে, রাশিয়া নাকি তাদের বিশেষ সাবমেরিন ইউনিট ব্যবহার করে আমেরিকার সাবমেরিন কেবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার গোপন কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার (NWO) নামক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, কিছু নির্দিষ্ট শক্তিশালী ব্যক্তি ও সংস্থা বিশ্বব্যাপী তথ্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সাবমেরিন কেবল ব্যবহার করে। এটি করা হয় মানুষের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের জন্য, যাতে তারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধরণের তথ্য পায় এবং বাস্তবতা সম্পর্কে বিকৃত ধারণা গড়ে ওঠে। এই তত্ত্বের অনুসারীদের মতে, যদি গ্লোবাল সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে পৃথিবীর মানুষের ওপর একটি নির্দিষ্ট ধরণের চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

একটি কম প্রচলিত কিন্তু আকর্ষণীয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হলো, সাবমেরিন কেবল বসানোর ফলে সমুদ্রের তলদেশে পরিবর্তন ঘটে, যা ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। ২০১১ সালের জাপানের ভূমিকম্প এবং সুনামির পর কিছু গবেষক দাবি করেছিলেন যে ভূমিকম্পটি হয়তো সাবমেরিন কেবল বসানোর কারণে হয়েছে। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনো প্রমাণ নেই, তবে ষড়যন্ত্র তত্ত্বকারীরা বিশ্বাস করেন যে এটি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমন অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থাকলেও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো আসলেই কি এই প্রযুক্তিকে গোপন নজরদারি বা সাইবার যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে? নাকি এটি নিছকই কল্পনা? উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের আরও গভীরে যেতে হবে।






যেভাবে গঠিত হলো অন্তর্বতীকালীন সরকার – আসিফ মাহমুদ , জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের নেতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা

“…তখন নিশ্চিত হলাম, শেখ হাসিনা সত্যিই পালিয়ে গেছেন। এরপর নানা জায়গা থেকে বন্যার মতো ফোন আসতে লাগল। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকেও যোগাযোগ করা হচ্ছিল। তারা বলল, সেনাবাহিনী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বসতে চায়। আমাদেরও খোঁজা হচ্ছে। আমি বললাম, আমরা ক্যান্টনমেন্টে যাব না। দেশের ভাগ্য ক্যান্টনমেন্ট থেকে নয়, নির্ধারিত হবে জনতার মঞ্চ থেকে। …খবর পেলাম, বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ক্যান্টনমেন্টে যাচ্ছেন। সেখানে ক্ষমতা পালাবদলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হচ্ছে।মনে হয়েছিল, এমন একটা ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদেরা ঠিক কাজ করছেন না। ব্যাপারটা আমাদের ভালো লাগেনি।

আমরা চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কার্যালয়েই সংবাদ সম্মেলন করলাম। সংবাদ সম্মেলনের আগমুহূর্তে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কার্যালয়ের একটা ছোট সভাকক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানের সঙ্গে একটা ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।…সে বৈঠকে আমি, নাহিদ ভাই, মাহফুজ ভাই ও নাসির ভাই ছিলাম। তারেক রহমানকে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দিই এবং বিএনপিকে সেই সরকারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই। আমাদের প্রস্তাব ছিল, জাতীয় সরকারে ৫০ শতাংশ রাজনৈতিক দলের এবং ৫০ শতাংশ সুশীল সমাজ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি থাকবেন। তারেক রহমান বললেন, তাঁরা এ ধরনের কিছুর অংশ হতে চান না। আমরা আমাদের সংস্কারের ভাবনাগুলো বললাম। তিনি সরাসরি বললেন, ‘এত বেশি দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তো মনে হয় না। আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে একটা নির্বাচন দিয়ে, দিতে পারেন।’

আমরা চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কার্যালয়েই সংবাদ সম্মেলন করলাম। সংবাদ সম্মেলনের আগমুহূর্তে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কার্যালয়ের একটা ছোট সভাকক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানের সঙ্গে একটা ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।…সে বৈঠকে আমি, নাহিদ ভাই, মাহফুজ ভাই ও নাসির ভাই ছিলাম। তারেক রহমানকে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দিই এবং বিএনপিকে সেই সরকারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই। আমাদের প্রস্তাব ছিল, জাতীয় সরকারে ৫০ শতাংশ রাজনৈতিক দলের এবং ৫০ শতাংশ সুশীল সমাজ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি থাকবেন। তারেক রহমান বললেন, তাঁরা এ ধরনের কিছুর অংশ হতে চান না। আমরা আমাদের সংস্কারের ভাবনাগুলো বললাম। তিনি সরাসরি বললেন, ‘এত বেশি দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তো মনে হয় না। আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে একটা নির্বাচন দিয়ে, দিতে পারেন।’

তারেক রহমান প্রস্তাব দিলেন একজন প্রধান উপদেষ্টা রেখে সাতজনের একটা সরকার গঠন করে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া যেতে পারে।…তারেক রহমানকে আমরা জানালাম যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকটা শেষ হয়।…আমরা বিএনপির মনোভাব বুঝে গেলাম। তারা জাতীয় সরকারে আসবে না। বিএনপিকে ছাড়া সরকার গঠন করলে বিষয়টা এক-এগারো বা মাইনাস টুর দিকে চলে যেতে পার বলে আশঙ্কা হলো। জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনাটা সেখানেই শেষ হয়ে গেল।

…রাতেই আমরা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করলাম। তাঁর সঙ্গে লাউড স্পিকারে নাহিদ ভাই আর আমার ঘণ্টাখানেক কথা হলো।… অধ্যাপক ইউনূস এ ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন যে এক-এগারোর মতো সেনাসমর্থিত সরকার হলে তিনি দায়িত্ব নেবেন না।সরকার তাঁর মতো করেই চলতে হবে। অন্য কেউ সরকার চালালে তিনি থাকবেন না। অধ্যাপক ইউনূসকে জানালাম, এটা আমাদেরও মত।সেনাসমর্থিত সরকার হলে আমরাও মানব না। অধ্যাপক ইউনূস ব্যাপারটা নিয়ে আগেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলে নিতে বললেন। নাহিদ ভাই তাঁকে বললেন, হস্তক্ষেপ না করার কথা বললে আমাদেরই দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। এর চেয়ে অভ্যুত্থানের প্রতি মানুষের একাত্মতা আর মাঠের শক্তি দিয়েই আমরা তাদের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকার বিষয়টা বোঝাতে পারব।

…রাষ্ট্রপতি সংসদ ভাঙার ঠিক আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। তিনি বললেন, সেনাপ্রধান আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিছুক্ষণ পরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি খুব আক্ষেপ করে বললেন, ‘আমার ৭০ থেকে ৮০ হাজার ফোর্স ডেপ্লয়েড, কিন্তু দেশে কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই। সরকার নেই। আপনারা আসুন। আপনাদের সঙ্গে বসি। শুনি, আপনারা কী বলতে চান?’ সেনাপ্রধান আমাদের ক্যান্টনমেন্টে ডাকলেন। আমরা বললাম, ক্যান্টনমেন্টে যাব না। …৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আমরা ১৫ জনের মতো বঙ্গভবনে গেলাম।… কথা ছিল, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে আমরা বসব। দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থাকার কারণে আলোচনার জন্য আমাদের বঙ্গভবনে যেতে হয়েছিল।বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে আমরা ১১ জনের একটা উপদেষ্টা পরিষদের একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করি। “







কর্মস্থলে উপস্থিত থাকে না , সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ৪০ – ৫০% কর্মী

সারা দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের বিভাগভিত্তিক দৈনিক উপস্থিতি বা হাজিরার হার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্যাশবোর্ডে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। এ পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ প্রতিদিনই কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকছে। আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারলেও স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা হলো সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতির সমস্যায় রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়ে। পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ দেখা যায় ছুটির দিনগুলোয়। এ সময় কোনো কোনো বিভাগে কর্মীদের উপস্থিতির হার ৫ শতাংশের নিচেও নেমে যায়।

প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় অনেক চিকিৎসক সপ্তাহে একদিন কিংবা সর্বোচ্চ দুইদিন দায়িত্ব পালন করেন_বলে অভিযোগ রয়েছে। নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবার অন্য কর্মীদের অবস্থাও একই। বেসরকারি চেম্বার, বাড়তি চাকরি বা উপার্জনের সুযোগ নিতে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কম বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টরা। প্রান্তিক অঞ্চলগুলোয় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সহকারীদের পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধার অভাব, যাতায়াতের অসুবিধার কারণে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতির হার কম বলে স্বীকার করছেন তারা। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিতরা প্রশিক্ষণ, পারিবারিক কাজ ও নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। আবার সকালে কর্মস্থলে হাজিরা দিয়েই চলে আসার অভিযোগও রয়েছে।


বিশ্বব্যাপী ইসলামবিদ্বেষের উদ্বেগ বাড়ছে – জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বব্যাপী ‘ইসলামবিদ্বেষের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দমনে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক ইসলামবিদ্বেষ প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ বলছে, ইসরাইলের ১৭ মাসব্যাপী গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসলামবিদ্বেষ, আরব-বিরোধী মনোভাব এবং ইহুদিবিদ্বেষ বেড়ে গেছে।

দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল মোরাতিনোস সাধারণ পরিষদে বলেন, ‘মুসলিমরা বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘এই বৈষম্য মুসলিমদের প্রতি সামাজিক কলঙ্ক ও অযৌক্তিক জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা পক্ষপাতদুষ্ট গণমাধ্যমের উপস্থাপনা এবং কিছু রাজনৈতিক নেতার ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও নীতির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়।’ বহু বছর ধরে মানবাধিকার কর্মীরা এই বৈষম্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের মতে, কিছু লোক মুসলিম ও আরব সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করার চেষ্টা করে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়। বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক জায়গায় ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা অভিযোগ করছেন যে, ফিলিস্তিনের পক্ষে তাদের অবস্থানকে ভুলভাবে হামাসের প্রতি সমর্থন হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতসহ একাধিক দেশে ইসলামবিদ্বেষী হামলা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করেছে। মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছরে মুসলিম ও আরব-বিরোধী ৮,৬৫৮টি অভিযোেগ রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৪ শতাংশ বেশি। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০২২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া মোকাবেলা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ওআইসি-র ৬০টি সদস্য রাষ্ট্র এই প্রস্তাব এনেছিল। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডে মসজিদে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব আনা হয়।


ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধ , ‘উগ্র প্রোপাগান্ডা’র জন্য , অর্থ ব্যয়ে নারাজ ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভয়েস অব আমেরিকাসহ অন্যান্য সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমের কর্মীদের ছুটিতে পাঠিয়েছে। যার ফলে, বেশ কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও ফ্রি এশিয়া, রেডিও ফ্রি ইউরোপ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ও চীনের তথ্য অপপ্রচার মোকাবিলায় এসব গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প মার্কিন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ইউএসএইড ও দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জানান, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংক্রান্ত মার্কিন এজেন্সি (ইউএসএজিএম) হচ্ছে এমন একটি সংস্থা যার মধ্যে ‘ফেডারেল আমলাতন্ত্রের আলামত রয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।’

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তহবিল কর্তনের অর্থ হলো, ‘করদাতাদেরকে আর উগ্র প্রোপাগান্ডার জন্য অর্থের জোগান দিতে হবে না’।বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মার্কিন সরকার এ ধরনের গণমাধ্যম নিয়ে তাদের সুর পাল্টেছে। এতদিন পর্যন্ত এগুলোকে বহির্বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হত। অতীতে এই গণমাধ্যমগুলো, বিশেষত, রেডিও ফ্রি এশিয়া ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেই সমর্থন পেয়ে এসেছে।


ইরানের ওপর ‘অবৈধ’ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানালো চীন

দেশটি ইরান ও রাশিয়ার কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে চীন গতকাল ইরানের ওপর আরোপিত “অবৈধ” নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিং আশা করছে, এই আলোচনা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সহায়ক হবে। ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু উন্নয়ন সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঐতিহাসিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রত্যাহার করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তেহরান বলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ততক্ষণ নতুন কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই।

গত মাসে জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থা জানিয়েছিল, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা নতুন করে জরুরি হয়ে উঠেছে। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এবং রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ অংশ নেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেন, “ইরানের পরমাণু ইস্যুতে সামগ্রিক চুক্তিটি সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।” তিনি আরও বলেন, “এখন পরিস্থিতি আবার একটি সংকটপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। আমাদের শান্তির জন্য সময় নিতে হবে, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে বিরোধ সমাধান করতে হবে এবং বলপ্রয়োগ ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করতে হবে।”

বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে “রাজনৈতিক আন্তরিকতা” দেখিয়ে দ্রুত আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানানো হয়। ঘারিবাবাদি আলোচনাকে “গঠনমূলক” বলে বর্ণনা করে বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। “আমাদের পরমাণু কর্মসূচি কখনো অশান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি,” বলেন তিনি। “কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু দেশ অপ্রয়োজনীয় সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহার।”

বৈঠকে চীনের ভাইস-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা ঝাওশু রুশ ও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ইরান পরমাণু ইস্যু ও অন্যান্য সাধারণ উদ্বেগের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংলাপ এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে চীন।” মা ঝাওশু জোর দিয়ে বলেন, “সব অবৈধ, একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণগুলো দূর করতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও বলপ্রয়োগের হুমকি পরিহার করতে হবে।”

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের মতোই ইরানের বিরুদ্ধে “সর্বোচ্চ চাপ” নীতির আওতায় নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি এই সপ্তাহে তেহরানে একটি চিঠি পাঠিয়ে পরমাণু আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং এতে সতর্ক করে দেন যে, যদি ইরান আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বৈদেশিক ঋণে খরচ বাড়বে

শনিবার (১৫ মার্চ) ঢাকায় এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজিত বিতর্কে সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন — এলডিসি তালিকা থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের ক্ষেত্রে আমরা গ্রেস পিরিয়ড পাই বা কম সুদ ধরা হয়। গ্র্যাজুয়েট হয়ে গেলে গ্রেস পিরিয়ড কমে যাবে। একইসঙ্গে কম্পিটিটিভ ইন্টারেস্ট রেট পেমেন্ট করতে হবে। ফলে আমাদের খরচ বেড়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের আগে থেকেই চিন্তাভাবনা করা উচিত।’

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের মতো যদি এখনও ঋণ দিয়ে দুর্নীতি এবং অপচয় করতে থাকি, তাহলে বৈদেশিক ঋণ রিপেমেন্ট নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। ঋণ নেওয়ার সময়েই সেটার ব্যবহার ও রিটার্ন সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ব্যবস্থাপনা ভালো না হলে আমরা ঋণের ফাঁদে পড়তে পারি।’ এলডিসি থেকে উত্তরণের দেশের অর্থনীতি টেকসই ও মসৃণ থাকবে কি না, সেটাই মূল আলোচনার বিষয় মন্তব্য করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের ট্যারিফ নীতি ও বাণিজ্য নীতি নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হবে। রপ্তানিতে যে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, এটি চালু রাখা যাবে কি না সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া দেশের শিল্পগুলোকে প্রথমদিকে শুল্কছাড় দেওয়ার গুরুত্ব থাকলেও বছরের পর বছর শুল্কছাড় থাকা উচিত নয়। এটা বন্ধ করতে হবে।

স্পার্টা – এক সামরিক রাষ্ট্রের উত্থান এবং পতন

0

স্পার্টা গ্রিসের প্রাচীন শহর রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। এটি ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায়, যার রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং সামরিক শক্তি আজও আলোচিত। স্পার্টা ছিল একটি খ্যাতিমান সামরিক রাষ্ট্র, যার শাসনব্যবস্থা এবং নীতি একদিকে যেমন কঠোর ছিল, তেমনি অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা এবং সম্মান বজায় রাখার জন্য সেটি অপরিহার্য ছিল। স্পার্টার শাসনব্যবস্থা ছিল এক ধরনের ‘দ্বি-রাজ শাসন ব্যবস্থা’, যেখানে দুইটি রাজা শাসন করতেন। এই দুই রাজা সাধারণত দুইটি আলাদা পরিবার থেকে নির্বাচিত হতেন। এক রাজা ছিল ‘অ্যায়গিড’ পরিবার থেকে এবং অন্য রাজা ছিল ‘এউপোন্স’ পরিবার থেকে। এই শাসনব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী তৈরি করা, যাতে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে একে অপরের সাহায্য করতে পারে।

এছাড়া স্পার্টার রাজনৈতিক কাঠামোতে ‘এফোরস’ বা পাঁচজন নির্বাচনযোগ্য কর্মকর্তার একটি প্যানেলও ছিল, যারা রাজাদের সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা ও কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করতেন। এফোরসদের মূল কাজ ছিল রাজা ও সরকারের কার্যকলাপের উপর নজর রাখা এবং তারা জনগণের অধিকার রক্ষা করতেন। এই পাঁচজন সাধারণ জনগণ থেকে নির্বাচিত হতেন, যা স্পার্টার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি বিশেষ দিক

স্পার্টা ছিল একটি অত্যন্ত সামরিককেন্দ্রিক রাষ্ট্র। তাদের জীবনের প্রায় সব কিছু ছিল যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য। স্পার্টার জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি পুরুষ নাগরিককে পেশাদার সৈন্য হিসেবে গড়ে তোলা হত। তাদের শৈশবকাল থেকেই শৃঙ্খলা, কঠোর প্রশিক্ষণ এবং সামরিক কৌশল শিখানোর জন্য বিশেষ স্কুল ও প্রতিষ্ঠান ছিল। ‘আগোগে’ নামক এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় ৭ বছর বয়সে ছেলে শিশুরা তাদের পরিবারের কাছ থেকে আলাদা হয়ে সরকারি প্রশিক্ষণ শুরু করত। এখানে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় হতে শেখানো হত এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হত। স্পার্টার যুদ্ধনীতি ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সুপরিকল্পিত। তাদের অধিকাংশ সময় যুদ্ধের প্রস্তুতি ও কৌশলে মনোযোগ ছিল। শৃঙ্খলা, সংকল্প, এবং একাত্মতার মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়ী হতে চেষ্টা করত। ‘হেলোট’ নামক স্পার্তার দাস শ্রেণী, যারা কৃষিকাজ ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ করত, তাদেরও উপর নির্ভরশীল ছিল স্পার্টার সামরিক শক্তি।

স্পার্টা ছিল এমন একমাত্র গ্রিক রাষ্ট্র, যেখানে নারীরা সমাজে অধিক স্বাধীনতা ও মর্যাদা লাভ করেছিল। অন্য গ্রিক শহর রাষ্ট্রগুলির তুলনায়, যেখানে নারীদের স্থান ছিল ঘরের মধ্যে, সেখানে স্পার্টার নারীরা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ লাভ করত। তারা শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া, খেলা-ধুলায় অংশগ্রহণ করা এবং অন্যসব সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকতে পারত। নারীদের এই স্বাধীনতা, তাদের পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত, কারণ তারা সুস্থ ও শক্তিশালী সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকত, যারা পরবর্তীতে স্পার্টাকে রক্ষা করবে।

স্পার্টার সমাজ ছিল একটি কঠোর শ্রেণীবদ্ধ সমাজ। প্রধানত, তিনটি শ্রেণি ছিল – স্পার্টানের নাগরিক, হেলোট এবং পার্শ্ববর্তী শহর রাষ্ট্রের নাগরিক। নাগরিকরা ছিল শুধুমাত্র সেই পুরুষেরা, যারা সামরিক প্রশিক্ষণ পেয়েছিল এবং তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে পারত। হেলোটরা ছিল দাস শ্রেণী, যারা মূলত কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন কাজগুলো করত, এবং তাদের অধিকার ছিল অত্যন্ত সীমিত। পার্শ্ববর্তী শহর রাষ্ট্রগুলির নাগরিকরা স্পার্টার শাসনাধীন হলেও তাদের অবস্থান ছিল তৃতীয় শ্রেণীতে । স্পার্টার সমাজে পরিবার ও সমাজের মধ্যে এক ধরনের সম্পর্ক ছিল যেখানে রাষ্ট্রীয় চাহিদা প্রাধান্য পেত। সন্তানদের মধ্য থেকে যারা সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রতিভাবান ছিল, তাদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হত। এভাবে রাষ্ট্রের প্রাধান্য ছিল ব্যক্তির চেয়ে সমাজের কল্যাণ ও শক্তির দিকে।

কিন্তু স্পার্টার পতনের প্রধান কারণ ছিল তাদের সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি এবং কম শৃঙ্খলা। ৩৭০ খ্রিস্টপূর্বে থিবসের বিরুদ্ধে তাদের পরাজয়ের পর স্পার্তার সামরিক শক্তি হ্রাস পায় এবং পরে তাদের মহান শাসনযুগের অবসান ঘটে। স্পার্টা ছিল একটি ব্যতিক্রমী রাষ্ট্র, যার রাজনৈতিক কাঠামো, সামাজিক নীতি এবং সামরিক শক্তি গ্রিসের অন্য রাষ্ট্রগুলির তুলনায় একেবারেই আলাদা ছিল। তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি ছিল কঠোর এবং শৃঙ্খলা-ভিত্তিক, তারা এসব নিয়ে ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে। তবে অতিরিক্ত সামরিকীকরণ এবং ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা তাদের স্পার্টার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের ইতিহাস আজও মানব সভ্যতার জন্য এক অসীম শিক্ষার উৎস হিসেবে বিবেচিত।