“…তখন নিশ্চিত হলাম, শেখ হাসিনা সত্যিই পালিয়ে গেছেন। এরপর নানা জায়গা থেকে বন্যার মতো ফোন আসতে লাগল। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকেও যোগাযোগ করা হচ্ছিল। তারা বলল, সেনাবাহিনী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বসতে চায়। আমাদেরও খোঁজা হচ্ছে। আমি বললাম, আমরা ক্যান্টনমেন্টে যাব না। দেশের ভাগ্য ক্যান্টনমেন্ট থেকে নয়, নির্ধারিত হবে জনতার মঞ্চ থেকে। …খবর পেলাম, বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ক্যান্টনমেন্টে যাচ্ছেন। সেখানে ক্ষমতা পালাবদলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হচ্ছে।মনে হয়েছিল, এমন একটা ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদেরা ঠিক কাজ করছেন না। ব্যাপারটা আমাদের ভালো লাগেনি।
আমরা চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কার্যালয়েই সংবাদ সম্মেলন করলাম। সংবাদ সম্মেলনের আগমুহূর্তে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কার্যালয়ের একটা ছোট সভাকক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানের সঙ্গে একটা ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।…সে বৈঠকে আমি, নাহিদ ভাই, মাহফুজ ভাই ও নাসির ভাই ছিলাম। তারেক রহমানকে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দিই এবং বিএনপিকে সেই সরকারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই। আমাদের প্রস্তাব ছিল, জাতীয় সরকারে ৫০ শতাংশ রাজনৈতিক দলের এবং ৫০ শতাংশ সুশীল সমাজ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি থাকবেন। তারেক রহমান বললেন, তাঁরা এ ধরনের কিছুর অংশ হতে চান না। আমরা আমাদের সংস্কারের ভাবনাগুলো বললাম। তিনি সরাসরি বললেন, ‘এত বেশি দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তো মনে হয় না। আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে একটা নির্বাচন দিয়ে, দিতে পারেন।’
আমরা চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কার্যালয়েই সংবাদ সম্মেলন করলাম। সংবাদ সম্মেলনের আগমুহূর্তে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কার্যালয়ের একটা ছোট সভাকক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানের সঙ্গে একটা ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।…সে বৈঠকে আমি, নাহিদ ভাই, মাহফুজ ভাই ও নাসির ভাই ছিলাম। তারেক রহমানকে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দিই এবং বিএনপিকে সেই সরকারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই। আমাদের প্রস্তাব ছিল, জাতীয় সরকারে ৫০ শতাংশ রাজনৈতিক দলের এবং ৫০ শতাংশ সুশীল সমাজ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি থাকবেন। তারেক রহমান বললেন, তাঁরা এ ধরনের কিছুর অংশ হতে চান না। আমরা আমাদের সংস্কারের ভাবনাগুলো বললাম। তিনি সরাসরি বললেন, ‘এত বেশি দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তো মনে হয় না। আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে একটা নির্বাচন দিয়ে, দিতে পারেন।’
তারেক রহমান প্রস্তাব দিলেন একজন প্রধান উপদেষ্টা রেখে সাতজনের একটা সরকার গঠন করে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া যেতে পারে।…তারেক রহমানকে আমরা জানালাম যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকটা শেষ হয়।…আমরা বিএনপির মনোভাব বুঝে গেলাম। তারা জাতীয় সরকারে আসবে না। বিএনপিকে ছাড়া সরকার গঠন করলে বিষয়টা এক-এগারো বা মাইনাস টুর দিকে চলে যেতে পার বলে আশঙ্কা হলো। জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনাটা সেখানেই শেষ হয়ে গেল।
…রাতেই আমরা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করলাম। তাঁর সঙ্গে লাউড স্পিকারে নাহিদ ভাই আর আমার ঘণ্টাখানেক কথা হলো।… অধ্যাপক ইউনূস এ ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন যে এক-এগারোর মতো সেনাসমর্থিত সরকার হলে তিনি দায়িত্ব নেবেন না।সরকার তাঁর মতো করেই চলতে হবে। অন্য কেউ সরকার চালালে তিনি থাকবেন না। অধ্যাপক ইউনূসকে জানালাম, এটা আমাদেরও মত।সেনাসমর্থিত সরকার হলে আমরাও মানব না। অধ্যাপক ইউনূস ব্যাপারটা নিয়ে আগেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলে নিতে বললেন। নাহিদ ভাই তাঁকে বললেন, হস্তক্ষেপ না করার কথা বললে আমাদেরই দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। এর চেয়ে অভ্যুত্থানের প্রতি মানুষের একাত্মতা আর মাঠের শক্তি দিয়েই আমরা তাদের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকার বিষয়টা বোঝাতে পারব।
…রাষ্ট্রপতি সংসদ ভাঙার ঠিক আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। তিনি বললেন, সেনাপ্রধান আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিছুক্ষণ পরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি খুব আক্ষেপ করে বললেন, ‘আমার ৭০ থেকে ৮০ হাজার ফোর্স ডেপ্লয়েড, কিন্তু দেশে কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই। সরকার নেই। আপনারা আসুন। আপনাদের সঙ্গে বসি। শুনি, আপনারা কী বলতে চান?’ সেনাপ্রধান আমাদের ক্যান্টনমেন্টে ডাকলেন। আমরা বললাম, ক্যান্টনমেন্টে যাব না। …৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আমরা ১৫ জনের মতো বঙ্গভবনে গেলাম।… কথা ছিল, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে আমরা বসব। দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থাকার কারণে আলোচনার জন্য আমাদের বঙ্গভবনে যেতে হয়েছিল।বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে আমরা ১১ জনের একটা উপদেষ্টা পরিষদের একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করি। “


