Home Blog Page 169

নেপালে রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্র ফেরানোর দাবি , নেপথ্যে ভারত ?

নেপালে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে সম্প্রতি রাস্তায় নেমেছে সেখানকার রাজতন্ত্র সমর্থকরা। তারা নেপালে হিন্দু রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও জানাচ্ছে। নেপালের সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ গত ৯ মার্চ পোখারা থেকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে, তাকে স্বাগত জানানোর জন্য হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। তিনি গত দুই মাস ধরে পোখারায় ছিলেন। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (আরপিপি) শীর্ষ নেতারা ও কর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত আরপিপি এখনো রাজতন্ত্র পুনর্বহালের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী দল। নেপালের সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তার অন্তত ১০ হাজার সমর্থক বিমানবন্দরের প্রধান ফটকে উপস্থিত ছিলেন।

ওই দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে জনসমক্ষে প্রায় দেখা যায়নি বললেই চলে। কিছু বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় তাকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে দেখা গেছে। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি বেশ সক্রিয়। সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রের সমর্থকরা নেপালের বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে গণতন্ত্র দিবসের পর থেকে রাজতন্ত্রপন্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। জ্ঞানেন্দ্র বলেন, “দেশ রক্ষা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে।” নেপালে ২৩৯ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ২০০৮ সালে গণতন্ত্রে এসেছিল। ওই দেশে ১৭ বছর হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু এরই মাঝে ১১টা সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

নেপালের সরকারের বিষয়ে জনগণের হতাশা রাজতন্ত্রের সমর্থকদের একটা সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অধিকাংশ নেপালি তাদের প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে হতাশ। তারা মনে করেন, এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট ও ব্যাপক দুর্নীতির জন্যও এটিকে দায়ী করা হচ্ছে। জ্ঞানেন্দ্রকে সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ওলি। রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দুর্নীতি ও ব্যর্থ শাসনের অভিযোগ এনেছে। তবে জ্ঞানেন্দ্র রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবির বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। বিশ্লেষকরাও নিকট ভবিষ্যতে জ্ঞানেন্দ্রের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না।

নেপালে কিছু ঘটলেই সবার নজর থাকে ভারতের দিকে। গত রবিবার কাঠমান্ডুতে জ্ঞানেন্দ্র শাহকে স্বাগত জানাতে আসা সমর্থকদের ভিড়ে এক ব্যক্তির হাতে ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ছবি লাগানো পোস্টার। এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেপালে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে ভারতের সঙ্গে এই আন্দোলনের কোনো যোগ আছে কি না সেই বিষয়েও।জ্ঞানেন্দ্র ২০০২ সালে নেপালের রাজা হন। এর আগে তার বড় ভাই বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব ও তার পরিবার রাজপ্রাসাদে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তখন জ্ঞানেন্দ্র নির্বাহী ক্ষমতা ছাড়াই সাংবিধানিক রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে তিনি সম্পূর্ণ ক্ষমতা নিজের হাতে নেন।

তিনি সরকার ও পার্লামেন্ট বাতিল করেন। রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করেন।এরপর দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শাসন চালান। নেপালে ১৯৯০ সালের আগে রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতি ছিল না। তবে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের ফলে নির্বাচন চালু হয় এবং রাজতন্ত্র শুধু প্রতীকী ক্ষমতায় সীমিত হয়ে পড়ে। তবে ২০০৬ সালে ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেন্দ্র ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। জ্ঞানেন্দ্র তখন একটি বহুদলীয় সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। পরে ওই সরকার মাওবাদীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মাধ্যমে ১০ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে, যাতে হাজারো মানুষের প্রাণ গিয়েছিল।

নেপালের পার্লামেন্ট ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পক্ষে ভোট দেয়। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ২৪৯ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান হয়।নেপাল একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। জ্ঞানেন্দ্র ক্ষমতা ছাড়েন এবং সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন শুরু করেন।এরপর থেকে তিনি কোনও সরকারি নিরাপত্তা কিংবা সুবিধা পাচ্ছেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক লোেকরাজ বরাল এএফপিকে বলেন, “আমি রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনও সম্ভাবনা দেখি না।… রাজনীতিবিদদের অযোগ্যতা বেড়েছে এবং তারা ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছেন। এই হতাশার প্রকাশই এসব সমাবেশ ও বিক্ষোভে দেখা যাচ্ছে।”



৬ মাসে সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতা বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) যা সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সঞ্চয়পত্র কেনার হার ২৭% কমেছে। অপরদিকে সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে ফেলার প্রবণতা বেড়েছে। গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ২৫ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ভেঙেছেন গ্রাহকরা। সাধারণত অধিক মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন দেশের সাধারণ মানুষ। কিন্তু সুদ বেশি হওয়ার পরও সঞ্চয়পত্র কেনা কমিয়ে দিয়েছেন মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় এবং সেই অনুযায়ী নিজের আয় না বাড়ায় অনেকেই নিজের সঞ্চয় ভেঙে জীবন অতিবাহিত করছেন।


বাংলাদেশ কেন ‘স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি)’ থাকতে চায় ?

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে উন্নয়নশীল ও উন্নত-এই দুই শ্রেণিতে সব দেশকে ভাগ করে থাকে জাতিসংঘ। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যে দেশগুলো তুলনামূলক দুর্বল, তাদের নিয়ে ১৯৭১ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা হয়।বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলো যাতে এগিয়ে যেতে পারে এবং নিজেদের উন্নতি করতে পারে, সে জন্য উন্নত দেশগুলো নানা ধরনের সুবিধা দেয়। জনসংখ্যা কম, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, ছোট দ্বীপপুঞ্জ, ভূবেষ্টিত দেশ-এসব বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এলডিসিতে তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ। কিন্তু বাংলাদেশ এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ছিল না। জনসংখ্যার আধিক্যের বিচারে অর্থনৈতিক সক্ষমতা কম-এমন বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকায় নিয়েছিল জাতিসংঘ।

এলডিসিভুক্ত দেশ হওয়ার কারণে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য-সুবিধাসহ নানা ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের বর্তমান যে অগ্রগতি, তার মূল কারণ এই এলডিসিভুক্তি। পাঁচ দশক ধরে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় আছে বাংলাদেশ। নানা ধরনের যাচাই-বাছাই পেরিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখন এই সময়সীমা কিছুটা পিছিয়ে দিতে চায়। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে একটি দেশের মানমর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হয়। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারী আস্থা রাখতে পারেন। একটি দেশের সমৃদ্ধি বিবেচনা করা হয় দেশটি কোন্ শ্রেণিতে আছে, এর ওপর।

অন্যদিকে এলডিসি তালিকায় থাকলে ওই দেশকে নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় উন্নত দেশগুলো। এটি অনেকটা পরনির্ভরশীলতায় থাকার মতো বিষয়। প্রতি তিন বছর পরপর এলডিসিগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা-এই তিন সূচক দিয়ে একটি দেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে পারবে কি না, সেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মানদণ্ডের তিনটিতেই উত্তীর্ণ হয়। ২০২১ সালেই বাংলাদেশ চূড়ান্ত সুপারিশ পায় যে ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণ হতে পারে বাংলাদেশ। করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য আরও দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়। এখন বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় আরও পেছাতে চায়।

এলডিসি থেকে বের হলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হবে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে। কারণ, এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য-সুবিধা পায়। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসব সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপির আওতায় এই শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে ওষুধশিল্প। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠানকে মেধাস্বত্বের জন্য অর্থ দিতে দিতে হয় না। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে গেলে ওষুধশিল্পের এই সুবিধা থাকবে না।

এলডিসি হিসেবে যেকোনো দেশ তার দেশে উৎপাদিত পণ্য বা সেবার ওপর নগদ সহায়তা ও ভর্তুকি দিতে পারে। বাংলাদেশ এখন যে রপ্তানি আয় বা রেমিট্যান্স আনায় নগদ সহায়তা দেয়, তা নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে। এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া দেশগুলো আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সহজ শর্তের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এলডিসি থেকে বের হলে প্রথমে যে লাভটি হবে, তা হলো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। গরিব বা স্বল্পোন্নত দেশের তকমা থাকবে না। অর্থনৈতিক সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বেশি সুদে অনেক বেশি ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য কোনো কারণ নেই। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেকোনো শিক্ষিত মানুষ এলডিসি উত্তরণ চাইবে। আমরা আবেদন করে যোগ্য হইনি, আন্তর্জাতিক বিচারে প্রতিষ্ঠিত মাপকাঠিতে যোগ্য হয়েছি। শ্বেতপত্রেও বলা হয়েছে, তথ্যের বিকৃতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ মানদণ্ডের বিচারে ওপরে আছে।’ তিনি বলেন, ‘সময় পেছানো হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন ধারণা জন্মাবে যে আমরা আফগানিস্তানের মতো অযোগ্য দেশ। কারণ, তত দিনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালও এলডিসি থেকে উত্তরণ হয়ে যাবে।’

এ পর্যন্ত গত পাঁচ দশকে সব মিলিয়ে আটটি দেশ এলডিসি থেকে বের হয়েছে। দেশগুলো হলো ভুটান, বতসোয়ানা, কেপ ভার্দে, ইকুইটোরিয়াল গিনি, মালদ্বীপ, সামোয়া, ভানুয়াতু, সাও টোমো অ্যান্ড প্রিন্সেপ। বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে।দেশগুলো হলো-বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, অ্যাঙ্গোলা, বেনিন, বুরকিনা ফাসো, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকা, চাদ, কমরোস, কঙ্গো, জিবুতি, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি বিসাউ, হাইতি, কিরিবাতি, লাওস, লেসেতে, লাইবেরিয়া, মাদাগাস্কার, মালাউই, মালি, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, মিয়ানমার, নেপাল, নাইজার, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, তিমুর, টোগো, টুভালু, উগান্ডা, তানজানিয়া, ইয়েমেন ও জাম্বিয়া।



Pedro Coasta কি / কী সিনেমা বানান ?

সম্ভবত আপনি পেড্রো কোস্টার সিনেমা দেখেননি, না দেখতে পারারও নানা কারণ আছে, কোস্টার চলচ্চিত্রগুলি শুরুতে সাধারণত কল্পকাহিনী মনে হলেও, এক ধরনের স্বপ্নের মতো। যেখানে ডকুমেন্টারি এবং কল্পনা একে অপরের সাথে মিশে যায়। পর্তুগীজ চলচ্চিত্র নির্মাতা পেড্রো কোস্টা একই সাথে কাব্যিক এবং বাস্তবতার সংমিশ্রনে সিনেমা তৈরি করে নিজস্ব জগত প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিখ্যাত। তার কাজ সিনেমা জগতের প্রথাগত সৃজনশীলতাকে অস্বীকার করে। যেখানে নিঃসঙ্গ ও বঞ্চিত মানুষের গল্প এবং লিসবনের দরিদ্র এলাকায় শহুরে জীবনের নৃশংস ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। কোস্টার চলচ্চিত্রগুলি সাধারণ কল্পকাহিনী নয়, এক ধরনের স্বপ্নের মতো। যেখানে ডকুমেন্টারি এবং কল্পনা একে অপরের সাথে মিশে যায়।

কোস্টার Horse Money (২০১৪) তার একক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শৈলীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। চলচ্চিত্রটি লিসবনের কেপ ভার্ডীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের ৭০ বছর বয়সী পুরুষ ভেনচারকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যিনি পুনরায় তার জীবন ও অতীতের শোক স্মরণ করেন। ভেনচার একজন সাবেক নির্মাণ শ্রমিক এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি, যিনি ১৯৭৫ সালে এক ট্রমাটিক ছুরি হামলায় আহত হয়ে স্কিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত হন। সিনেমার কাহিনীটি ভেনচারের রাতের ঘুরাঘুরি এবং হাসপাতালের অদ্ভুত করিডরে চলতে থাকে, যেখানে তিনি তার জীবনের বিভিন্ন কঠিন ঘটনা স্মরণ করেন। তাদের কথাগুলো প্রায়শই এক ধরনের রহস্যের ভেতরে বলা হয়, যেগুলো সম্পূর্ণরূপে অভিনেতাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং জীবনকে তুলে ধরে।

Horse Money চলচ্চিত্রের শিরোনামটি একটি রেসের থ্রিলার মনে হতে পারে, কিন্তু পর্তুগিজ মূল শিরোনাম Cavalo Dinheiro এর সঠিক অনুবাদ হবে “A Horse Named Money”, যা ভেনচারের সেই ঘোড়ার কথা বলে, যে ঘোড়া তিনি কেপ ভার্ডে তার তরুণ বয়সে পোষতেন। এই চলচ্চিত্রটি তার স্মৃতি, স্বপ্ন এবং তার অতীত ও পর্তুগালের রাজনৈতিক উথালপাথাল দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত জীবনের অনুসন্ধান করে। চলচ্চিত্রের কাহিনী পর্তুগালের ১৯৭৪ সালের কার্নেশন বিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত, যা দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটায়, কিন্তু অভিবাসীদের জন্য, বিশেষত ভেনচারের মতো মানুষের জন্য এটি একটি গভীর ট্রমার জন্ম দেয়, বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের কাউন্টার-কুপের পর। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে Horse Money মিনি-উঠ ক্যামেরা দিয়ে শুট করা হয়েছিল মাত্র তিন বা চার জনের একটি ছোট দলের সাথে।

কোস্টার এর আগের চলচ্চিত্র Colossal Youth (২০০৬) ও কেপ ভার্ডীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে নির্মিত ছজখ। বিশেষ করে লিসবনের ফন্টাইনহাস নামে এক বস্তিতে, সেটি যখন ভাঙা হচ্ছিল। এই সিনেমায় ভেনচার আবারও তার সম্প্রদায়ের স্মৃতির সংগ্রাহক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আর Horse Money এ তার অতীত ও জীবনের গল্প আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। In Vanda’s Room (২০০০) চলচ্চিত্রটিতেও কোস্টা তার ঘনিষ্ঠ পদ্ধতির পরিচয় দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি এক বছরের জন্য এক হেরোইন আসক্তের জীবন অনুসরণ করেছিলেন, কেবল নিজস্ব ক্যামেরা নিয়ে।

সামথিং লাস্ট (২০১৭) কোস্তার নতুন অধ্যায়, যেখানে তিনি আরও বৃহত্তর দৃষ্টিতে সামাজিক সংঘাত ও অস্তিত্বের পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করেছেন। এই সিনেমায় চরিত্রগুলোর মধ্যকার সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে। একটি নিরব নিদান বা মনের অন্ধকার দিক এখানে প্রকাশিত হয়, যা কোস্তার সিনেমার ধারাবাহিকতা এবং তাঁর দর্শনীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়। কোস্টার চলচ্চিত্রগুলির রাজনৈতিক প্রেক্ষিতও স্পষ্ট। Horse Money এ ১৯৭৪ সালের কার্নেশন বিপ্লবের পরের রাজনৈতিক সঙ্কটকে একটি গভীরভাবে দেখানো হয়েছে। যেখানে অভিবাসীদের প্রতি পর্তুগালের আচরণ চিত্রিত হয়েছে। কোস্টা অবশ্য সিনেমা তৈরির পদ্ধতিতে একেবারে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি আনতে চান সবসময়, যেখানে বাহ্যিক সাজসজ্জা এবং হট্টগোল ছাড়াই মানুষের জীবনের অন্তর্গত সৌন্দর্য ও দুঃখ তুলে ধরা হয়। কোস্টার চলচ্চিত্রগুলির প্রতি তার প্রতিশ্রুতি এবং তাদের যে চিত্র উপস্থাপন করেছে তা পর্তুগালের ক্ষমতাহীন জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচিত।



বিজেপির হিন্দি, হিন্দু ও হিন্দুস্তান নীতির ‘বিপদ’ : সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় , প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি

“তৃতীয় দফার শাসনকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মৌদিকে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে দুটি সমস্যা। একটি তাঁর সরকারের তৈরি ত্রিভাষা নীতি, যার মধ্য দিয়ে তিনি তামিলনাড়সহ অহিন্দিভাষী রাজ্যগুলোয় হিন্দি ভাষাশিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে চান। … হিন্দি ভাষাকে ভারতে সর্বজনীন করে তোলার প্রচেষ্টা বহুকালের। স্বাধীনতার আগে থেকেই সেই প্রচেষ্টা নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্ক হয়েছে।অহিন্দিভাষী রাজ্য আপত্তি জানিয়েছে। প্রতিবাদী হয়েছে দক্ষিণের রাজ্যগুলো। সবচেয়ে বেশি সক্রিয় প্রতিরোধে শামিল হয়েছিল মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি।

১৯৩৭ সালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে সরকারি স্কুলে হিন্দি ভাষাশিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হয়েছিল তীব্র আন্দোলন, যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইরোড ভেঙ্কটাপ্পা রামাস্বামী ‘পেরিয়ার’। তিনি মনে করতেন–গান্ধী, নেহরু ও কংগ্রেসের হিন্দিপ্রেম তামিল ভাষা ও সংস্কৃতির অবসান ঘটাবে। দক্ষিণ হয়ে যাবে উত্তরের দাস। পেরিয়ারের সেই আন্দোলন জন্ম দিয়েছিল দ্রাবিড় জাত্যভিমানের-যা আজও প্রবল। তিন বছর পর ১৯৪০ সালে শান্তি ফিরেছিল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নের সময় হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করা যায় কি না, সেই বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়, হিন্দি হবে সরকারি ভাষা। কিন্তু হিন্দির পাশাপাশি সরকারি ভাষা হিসেবে গণ্য হবে ইংরেজিও। তার মেয়াদ থাকবে পরবর্তী ১৫ বছর-১৯৬৫ সাল পর্যন্ত।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মাদ্রাজে নতুনভাবে শুরু হয় তীব্র হিন্দিবিরোধী আন্দোলন। শঙ্কা ছিল, মেয়াদ শেষে হিন্দিই হবে একমাত্র সরকারি ভাষা। হিন্দি আগ্রাসন রুখতে ঘটে যায় প্রভূত রক্তপাত ও প্রাণহানি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী জানিয়ে দেন–অহিন্দিভাষী রাজ্য যত দিন চাইবে, তত দিন পর্যন্ত হিন্দির পাশাপাশি ইংরেজিও থাকবে সরকারি বা দাপ্তরিক ভাষা। সেই ঘোষণায় শান্তি ফিরেছিল। … ভারতে ত্রিভাষা নীতি তৈরি হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। তাতে হিন্দিভাষী রাজ্যে হিন্দি ও ইংরেজির সঙ্গে অন্য কোনো ভারতীয় ভাষা শেখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। অহিন্দিভাষী রাজ্যে আঞ্চলিক ভাষা ও ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি চিহ্নিত হয় তৃতীয় ভাষা হিসেবে। নীতি গৃহীত হলেও তার বাস্তবায়ন ছিল কঠিন। বিতর্কও দেখা দেয় রাজ্যে রাজ্যে।

… মোদি সরকার ২০২০ সালে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি ঘোষণা করে। সেই নীতিতে দেশের সব রাজ্যের সরকারি স্কুলে ত্রিভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উত্তর প্রদেশের বারানসিতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তামিলনাড়কে দেশের সংবিধান মানতে হবে। রাজ্যে ত্রিভাষা শিক্ষা চালু করতেই হবে। … শুরু হয়েছে নতুন ভাষাযুদ্ধ।… ভাষাযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণের অন্য রাজ্যেও। কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানায়ও দাবি উঠেছে ত্রিভাষা নয়, দ্বিভাষা শিক্ষার। … মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও কংগ্রেসও হিন্দির প্রসারে উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু অহিন্দিভাষীদের স্পর্শকাতরতা উপেক্ষা করেননি। চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি থেকে নানা সময় পিছিয়ে এসেছেন। ভাষার বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য রক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

কিন্তু নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ও সংঘ পরিবারের হিন্দি আধিপত্যবাদের কাছে অহিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর স্পর্শকাতরতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই সন্দেহ জাগছে। নতুন শিক্ষানীতির ত্রিভাষা চরিত্র ও শিক্ষামন্ত্রীর হুমকি তারই প্রমাণ। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) ও জনসংঘের কাছে শুরু থেকেই হিন্দুস্তান, হিন্দু ও হিন্দি ছিল সমার্থক।…২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির উত্থান তাদের বেপরোয়া করে তোলে। বিজেপি গত ১০ বছরে হিন্দির ব্যবহার ও বিকাশের জন্য নানাভাবে সচেষ্ট।…ভাষা হিসেবে হিন্দি ও সংস্কৃতের প্রভুত্ব স্বীকারে দেশবাসীকে তারা বাধ্য করতে চায়।

… কংগ্রেসের তামিল নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম এ কারণেই পরামর্শ দিয়েছেন, অযথা হিন্দির প্রসারে ত্রিভাষা নীতি রূপায়ণে একবগ্‌গা না হয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বরং দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি শেখানোর ওপর জোর দিক। তাতে আখেরে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মই উপকৃত হবে। কারও জাত্যভিমানে আঘাত না দিয়ে আসমুদ্রহিমাচলে হিন্দির বাধাহীন প্রসার ঘটিয়ে চলেছে হিন্দি সিনেমা ও তার গান।…এই সার সত্যটুকু না বুঝে অনর্থক জবরদস্তি তামিলনাড়তে বিজেপির দরজা আরও বহুদিনের জন্য বন্ধ করে দেবে।





পাকিস্তানে ট্রেন ছিনতাই কারা এই বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি ?

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়ে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছিনতাই পর্বের সমাপ্তি টেনেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর ৩৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও একজন নিরাপত্তা সদস্যও। এই হামলা শুধু ভয়াবহতাই নয়, বরং এক বড় বার্তাও দিয়েছে – আরো সুসংগঠিত ও সাহসী হয়ে উঠছে বিএলএ। আয়তনের দিক থেকে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ছোট প্রদেশ। ১৯৪৮ সালে এটি পাকিস্তানের অংশ হয়। কিন্তু এরপর থেকেই সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে।

এই প্রদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর-কয়লা, স্বর্ণ, তামা ও গ্যাসের বিপুল মজুদ রয়েছে এখানে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার সম্পদের সুবিধা নিলেও বেলুচ জনগণ অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। এছাড়া, এই অঞ্চলে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোয়াদার বন্দর, যা ৬২ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পের মূল অংশ। বেলুচ জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন, তাদের মাটিতে ব্যয়বহুল প্রকল্প হলেও সেখানে তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং স্থানীয়ভাবে কোনো কর্মসংস্থানও হয়নি এই প্রকল্পে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর বেলুচিস্তানে মোট পাঁচটি বড় ধরনের বিদ্রোহ হয়েছে। সর্বশেষটি শুরু হয় ২০০০-এর দশকে। তখন বেলুচরা দাবি করে, তাদের সম্পদের বড় অংশ তাদের কল্যাণেই ব্যয় করতে হবে। পরে এই বিদ্রোহ ঝুঁকে পড়ে স্বাধীনতার দিকে। বিএলএ বরাবরই পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি করে আসছে। তারা কেবল স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেনি, বরং পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার লক্ষ্যেই চেষ্টা চালাচ্ছে। আদিবাসী নেতাদের বদলে বিএলএ এখন শিক্ষিত তরুণ নেতৃত্বে চলছে। বিএলএ-এর অর্থায়ন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চাঁদাবাজি, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা এবং বিদেশী দাতাদের মাধ্যমে তারা অর্থ সংগ্রহ করে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, ভারত বিএলএকে সহায়তা দেয়। তবে এ দাবি প্রমাণিত হয়নি।

অনেক গবেষক মনে করেন, আমেরিকার ফেলে যাওয়া অস্ত্র এখন বিএলএ-এর হাতে চলে গেছে। এছাড়া, আফগানিস্তান ও ইরানের ব্ল‍্যাক মার্কেট থেকেও তারা অস্ত্র সংগ্রহ করে। সরকারের বিরুদ্ধে বেলুচ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধিতে বিএলএ উপকৃত হয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানে বিদ্যমান গুম-নিখোঁজ ইস্যু, সরকারি অবহেলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বিএলএ-এর সমর্থন বাড়িয়েছে।ফলে এই সংগঠনে যোগ দিচ্ছে অনেক উচ্চশিক্ষিত বেলুচ যুবক।

বিএলএ ধীরে ধীরে তাদের কৌশল বদলাচ্ছে-ছোট আক্রমণ থেকে এখন বড় ধরনের অপারেশন পরিচালনা করছে। তাদের সাম্প্রতিক ট্রেন ছিনতাই, চীনা নাগরিকদের ওপর হামলা এবং আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রমাণ করে যে, সংগঠনটি আরো সুসংগঠিত হচ্ছে। পাকিস্তানের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এই বিএলএ। দেশটির সরকার যদি বেলুচ জনগণের দাবিগুলো যথাযথভাবে মোকাবেলা না করে তবে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠতে পারে বিএলএ।

শুয়োরের চর্বি এবং অক্সিজেন ব্যবহার করে কিভাবে অতি ধনীরা বায়োহ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অমরত্ব অর্জনের চেষ্টা করছেন

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বায়োহ্যাকিং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি হলো লন্ডনের চেলসিতে অবস্থিত “Hum2n”। এখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যা “longevity” বা দীর্ঘজীবন অর্জনের জন্য তৈরি। ক্লিনিকের অভ্যন্তরে আধুনিক যন্ত্রপাতি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং অত্যন্ত প্রযুক্তি নির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ReOxy ডিভাইস যা লো-অক্সিজেন পরিবেশ সৃষ্টি করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য। এই চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত একজন সুপ্রসিদ্ধ বায়োহ্যাকার এবং দীর্ঘজীবন গবেষণায় একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি বিভিন্ন চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং সেগুলো নিজে ব্যবহার করেছেন।

বর্তমানে সিলিকন ভ্যালি এবং যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানের পুরুষ সমাজের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন উঠছে, “আমরা কিভাবে অমর হতে পারি?” হাভার্ডের জেনেটিক বিশেষজ্ঞ ডেভিড সিনক্লেয়ার সম্প্রতি টুইট করেছেন যে, যদি আপনি ১০০ বছর বয়সে পৌঁছান এবং এখনকার মতো রিল্যাক্স ফিল করতে পারেন, তবে আপনি মৃত্যুকে চাইবেন না। সিলিকন ভ্যালি এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে এখন দীর্ঘজীবন এবং বায়োেহ্যাকিংয়ে বিনিয়োগ বাড়ছে। বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করছেন উদ্যোক্তা ব্রায়ান জনসন, যিনি বছরে ২ মিলিয়ন ডলার খরচ করেন নিজের দীর্ঘজীবন বৃদ্ধির জন্য। এর পাশাপাশি, স্যাম অল্টম্যান, পিটার থিল, এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তারা দীর্ঘজীবন গবেষণায় বিপুল অর্থ লগ্নি করেছেন। কিন্তু এই সকল পরিশ্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষের জীবনের একাধিক বছর বাড়ানো এবং নানা ধরনের চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্য আগের তুলনায় উন্নত করা।

“Longevity” ব্যবসা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি বিশাল বাজার হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকরা বলেন, দীর্ঘজীবন অর্জন করতে হলে শুধু বাহ্যিক উপাদান নয়, আমাদের জীবনের অভ্যন্তরীণ উপাদান যেমন পুষ্টি, শারীরিক কসরত, ঘুম এবং মানবিক সম্পর্কের উপরে মনোযোগ দিতে হবে। এর মধ্যে কিছু সিম্পল থেরাপি যেমন মেন্টল শ্বাস নেওয়া, কালো কফি পান করা, এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া মানুষকে দীর্ঘজীবী করে তুলতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই সকল আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে এখনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব পদ্ধতি কখনও কখনও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। সুতরাং দীর্ঘজীবন প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়েছে যা সময়ের সাথে সমাধান হতে পারে।

বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি প্রধান দিক নিয়ে কাজ করছেন এপিজেনেটিক্স (কিভাবে আমাদের আচরণ এবং পরিবেশ আমাদের জিনগত কার্যকলাপ পরিবর্তন করে), টেলোমের (যা আমাদের ক্রোমোসোমের শেষাংশে থাকে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি ছোট হয়ে যায়), স্টেম সেল, এবং অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসা। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের বয়স বাড়ানো সম্ভব হলে ভবিষ্যতে একদিন এটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারায় পরিণত হতে পারে।



আলঝাইমার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাবে সপ্তাহে ২টি ডিম

সম্প্রতি “দ্য জার্নাল অফ নিউট্রিশন”-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, নিয়মিত ডিম খাওয়া আলঝাইমার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। রাশ মেমরি এবং এজিং প্রজেক্টের উপর ভিত্তি করে করা এই গবেষণাটি ডিমের সম্ভাব্য মস্তিষ্ক সম্পর্কিত উপকারিতা তুলে ধরে, বিশেষ করে এর কোলিন উপাদানের কারণে। গবেষকরা ১,০২৪ জন অংশগ্রহণকারীর ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন, যাদের গড় বয়স ছিল ৮১ বছর এবং এই গবেষণা চলেছিল ৬.৭ বছর ধরে। তারা দেখতে পেয়েছেন যারা এক সপ্তাহে একটির বেশি ডিম খেয়েছেন, তাদের আলঝাইমার ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি যারা কম ডিম খেতেন তাদের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কম ছিল।

কগনিটিভ অবনতির উপর মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি, গবেষণায় ৫৭৮ জন মৃত অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কের ময়না তদন্তও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ময়না তদন্তে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ডিম খেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আলঝাইমার রোগ সম্পর্কিত প্যাথলজি কম ছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ডিম মস্তিষ্কে রক্ষাকারী প্রভাব ফেলতে পারে সাথে আলঝাইমার সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলোর বিকাশ ধীর করে।অতিরিক্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, ডিম খাওয়ার রক্ষাকারী প্রভাবের ৩৯ শতাংশ কোলিন দ্বারা প্রভাবিত, যা ডিমে পাওয়া একটি পুষ্টি উপাদান এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোলিন নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদনে সহায়ক। বিশেষ করে অ্যাসিটাইলকোলিন স্মৃতি এবং কগনিটিভ প্রসেসিংয়ের জন্য অপরিহার্য। এটি মস্তিষ্কের কোষের ঝিল্লির কাঠামোগত অখণ্ডতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

আগের গবেষণাগুলিতে কোলিনের গ্রহণকে উন্নত কগনিটিভ ফাংশনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এই গবেষণাটি ডিমে থাকা কোলিন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য লাভের সম্ভাব্য সুবিধা সমর্থন করে। বিশ্বব্যাপী আলঝাইমার রোগ একটি প্রধান ডিমেনশিয়ার কারণ হওয়ায়, এই ফলাফলগুলি কগনিটিভ বার্ধক্যে খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। যদিও জেনেটিক এবং জীবনধারা সম্পর্কিত ফ্যাক্টরগুলি আলঝাইমারের ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ডিম ছাড়াও অন্যান্য মস্তিষ্ক-উত্তেজক খাবার যেমন শাক-সবজি, বাদাম, এবং তৈলাক্ত মাছ কগনিটিভদীর্ঘজীবিতাকে সমর্থন করতে সহায়ক হতে পারে। তবে সরাসরি কারণ প্রতিষ্ঠা এবং আলঝাইমার প্রতিরোধের জন্য আদর্শ খাদ্য পরামর্শ নির্ধারণে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

এই গবেষণাটি নিয়মিত ডিম খাওয়ার মস্তিষ্ক-রক্ষাকারী উপকারিতাগুলির সম্ভাবনা তুলে ধরে, বিশেষ করে কোলিনের স্তরের মাধ্যমে এর প্রভাবের উপর। যেহেতু আলঝাইমার একটি প্রধান পাবলিক হেলথ চ্যালেঞ্জ, তাই খাদ্যাভ্যাসের মতো সহজ কিন্তু কার্যকরী কৌশল মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সমর্থন করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে ব্যক্তি বিশেষের স্বাস্থ্য চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন পরামর্শ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

নৈতিক শিক্ষার আলোকে Karma লোককথা ও ভূত-প্রেতের গল্পে

কার্মা বা কর্ম বহু আধ্যাত্মিক পরম্পরায় একটি কেন্দ্রীয় ধারণা হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হয় যেখানে মানুষের ভালো হোক বা খারাপ, তার কাজের ফলাফল মেলে। এই ধারণাটি প্রধানত হিন্দু, বৌদ্ধ ধর্ম এবং জৈন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এর মূল ধারণাটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন লোককথা এবং ভূত-প্রেতের গল্পে প্রবাহিত হয়েছে। এই কাহিনীগুলিতে কর্ম একটি অদৃশ্য শক্তি হিসেবে কাজ করে, যা মানুষের কর্মের উপর ভিত্তি করে তাদের ভাগ্য গঠন করে, প্রায়ই অতিপ্রাকৃত ঘটনা বা আত্মা প্রতিশোধ নিতে আগ্রহী হয়ে উপস্থিত হয়।

অনেক সংস্কৃতিতে, কর্ম শুধুমাত্র একটি নৈতিক দর্শন নয়, এটি একটি স্পষ্ট শক্তি যা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। লোককথার গল্পে প্রায়শই দেখা যায়, ব্যক্তি যেকোনো ধরনের অন্যায় বা ভালো কাজ করার মাধ্যমে ফল পায়, যা প্রায়শই অতিপ্রাকৃত রূপে প্রকাশ পায়। বিশেষত ভূত-প্রেতের গল্পে, যেখানে অবিচারের শিকার হওয়া বা প্রতিশোধ নিতে আগ্রহী আত্মা প্রায়ই ফিরে আসে, কর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য। এশিয়া, বিশেষত বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে কর্মের ধারণা লোককথায় খুব স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়। সেখানে বহু গল্পে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি যদি অন্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা বা সহিংসতার মাধ্যমে অন্যায় করে, তবে তার জন্য কর্মের ফলাফল আসে, যা তার পূর্বজন্ম বা বর্তমান জীবনে ঘটে। এই কাহিনীগুলিতে কর্মের ফল সাধারণত এক ধরনের ভূত বা প্রেতের আকারে প্রকাশ পায়, যারা শান্তি না পেয়ে ফিরে আসে।

লোককথার ভূত-প্রেতেরা প্রায়শই কর্মের ফল হিসেবে চিহ্নিত হয়। মৃতদের আত্মারা যারা শান্তি পায় না, তারা সাধারণত অবিকল আত্মা বা আক্রমণাত্মক প্রেতের আকারে ফিরে আসে, যারা তাদের জীবনে কৃত অন্যায় বা অপরাধের প্রতিশোধ নিতে আগ্রহী। এই ধারণাটি প্রতিফলিত করে যে, কর্ম শুধুমাত্র একটি আধ্যাত্মিক আইন নয়, এটি এমন একটি শক্তি যা মৃত্যুর পরেও নিজেকে প্রকাশ করতে পারে। জাপানি লোককথায় ওনর্যো (প্রতিশোধী আত্মা) খুব পরিচিত। ওনর্যো সাধারণত সেই মহিলারা, যারা মৃত্যুর সময় অবিচারের শিকার হয়েছেন বা প্রতারণা পেয়েছেন এবং পরে তাদের আত্মা প্রতিশোধ নিতে ফিরে আসে। এটি একটি প্রাচীন সংস্কৃতির ধারণা, যেখানে কর্মের ফলাফল মানুষের জীবনের নৈতিক অবস্থা এবং তার পরবর্তী জীবনকে প্রভাবিত করে, এমনকি মৃত্যুর পরেও।

এছাড়া পশ্চিমা লোককথাতেও ভূত-প্রেতরা প্রায়ই প্রতিশোধ নিতে আসে, যা কর্মের ফলাফল হিসেবে চিহ্নিত। এক ক্লাসিক উদাহরণ হল হোয়াইট ওয়োম্যান (সাদা মহিলার ভূত), যা বহু সংস্কৃতিতেই দেখা যায়। এই গল্পগুলিতে দেখা যায়, কোনও মহিলার মৃত্যুর পেছনে যদি অবিচার থাকে, তবে তার আত্মা ফিরে আসে এবং দোষীদের প্রতি প্রতিশোধ নেয়। এই ভূতটির প্রতিশোধের মাধ্যমে karmic ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা জীবনে মানবিক ন্যায় বিচারের অভাব পূর্ণ করে। ভূত-প্রেতের ফিরে আসার অন্যতম কারণ হল কর্মের অবশিষ্ট ফলাফল। বহু বিশ্বাসমতে, যে আত্মা শান্তি পায় না, তার কর্ম এখনও সমাধান হয়নি। এটি বিশেষভাবে বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতিতে লক্ষ্যণীয়, যেখানে একটি আত্মাকে পুনর্জন্মের আগে বা ভূত-প্রেত হিসেবে ফিরে আসার জন্য তার কর্মের সমাধান করতে হয়।

বৌদ্ধ ধর্মেরও অনেক গল্পে দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির আত্মা যদি খারাপ কর্ম করে থাকে, তবে তাকে শান্তি পেতে ভূত হিসেবে ঘুরতে হয়, যতক্ষণ না তার কৃত কর্মের ফল সঠিকভাবে পরিপূর্ণ হয়। অনেকবার ভূত-প্রেতেরা মৃতদের শান্তির পথে ফিরিয়ে আনার জন্য ফিরে আসে, যা আবারও কর্মের সঠিক সমাধান নিশ্চিত করে। গ্রিক পুরাণের ওডিপাস কাহিনীতে যেমন কর্মের ফল স্বরূপ সেখানেও দেখা যায়, দুঃখ-কষ্ট এবং পরিণতি এড়াতে চেষ্টা করেও এক ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত তার পূর্ব নির্ধারিত পরিণতি মেনে নেয়। ওডিপাসের মতৌ, অনেকে বিশ্বাস করেন যে, কর্মের ফলাফল কখনো এড়ানো যায় না, তা যেকোনোভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়াও চীনা ভূত-প্রেতের গল্পগুলোতে এমন কাহিনী আছে যেখানে আত্মা পুরানো জীবনের ঋণ আদায় করতে ফিরে আসে। এসব ঋণ শান্তি বা মর্মান্তিক অভ্যন্তরীণ মানসিক ক্রিয়া হিসেবে দেখা দেয়, এবং অনেক সময় ভূত তাদের একক প্রতিশোধ নেয়।

ভূত-প্রেতের গল্পে কর্মের উপস্থিতি এক ধরনের মানসিক শক্তি প্রদান করে। এই গল্পগুলো সাধারণত নৈতিকতার প্রেক্ষাপটে লেখা হয় এবং মানুষের মধ্যে একটি ন্যায়বিচারের ধারণা গড়ে তোলে। গল্পের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে যে, তাদের কার্যকলাপের ফলাফল শুধু এই জীবনে নয়, পরবর্তী জীবনেও হতে পারে। ভূত-প্রেতের গল্প কেবল ভয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা মানুষের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে। উপসংহার : লোককথা এবং ভূত-প্রেতের গল্পে কর্ম শুধুমাত্র একটি দার্শনিক ধারণা নয়, এটি একটি অতিপ্রাকৃত শক্তি যা মানুষের কর্মের ফলাফল নির্ধারণ করে। এই গল্পগুলো সাধারণত মানুষকে সতর্ক করে, তাদের কর্মের পরিণাম সম্পর্কে শিক্ষা দেয় এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেয়, যাতে মানুষ তাদের কর্মের মাধ্যমে সঠিক পথে চলে। এককথায়, এসব গল্প দেখিয়ে দেয় যে, জীবন বা মৃত্যু, কর্মের ফল কখনোই অপ্রকাশিত থাকে না।


ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতার্তে গ্রেপ্তার , দুনিয়ার মানবতাবিরোধী অপরাধীদের জন্য হুঁশিয়ারি

ফিলিপাইনের সাবেক নেতা রদ্রিগো দুতার্তেকে গতকাল মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আইসিসির পরোয়ানার ভিত্তিতে এদিনই ম্যানিলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাবেক মেয়র ও সাবেক প্রসিকিউটর দুতার্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দেশজুড়ে চালানো মাদকবিরোধী অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। ৭৯ বছর বয়সী দুতার্তে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি আইসিসিতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

পুলিশের মতে, দুতার্তের প্রশাসনের অধীন মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ২০০ সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ও আইসিসির কৌঁসুলি বলেছেন, ৩০ হাজারের মতো মানুষ পুলিশ বা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হাতে নিহত হয়ে থাকতে পারেন।২০১৬ সালে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন রদ্রিগো দুতার্তে।মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই দরিদ্র মানুষ। প্রায়ই দেখা যেত, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তা ও সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাঁদের মেরে ফেলেছেন।

মাদকসংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের গুলি করে হত্যার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বঘোষিত হত্যাকারী দুতার্তে। অভিযান চালাতে গিয়ে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে আছে বলে বিবেচনা করলে এমনটা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুতার্তের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে পরিবারগুলো বেঁচে গেছে এবং মাদক-রাজনীতির দেশে পরিণত হওয়ার হাত থেকে ফিলিপাইনকে রক্ষা করেছে। ২০২১ সালে দুতার্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে আইসিসি। আদালতের এখতিয়ারের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে ফিলিপাইনের করা আপত্তিটি পাঁচ বিচারকের প্যানেলে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে মামলাটি আবারও চালু হয়।

ফিলিপাইনে অনেকের কাছে এখনো দুতার্তের জনপ্রিয়তা আছে। অপরাধের দ্রুত সমাধানের কারণে তারা তাঁকে সমর্থন করেন। তিনি এখনো একজন ক্ষমতাবান রাজনৈতিক শক্তি। মে মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার শক্ত ঘাঁটি দাভাওয়ে আবারও মেয়র হওয়ার জন্য তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুতার্তের পরিবার ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের সম্পর্ক ব্যাপক খারাপ হয়ে পড়েছে। দুতার্তের মেয়ে সারা দুতার্তে বর্তমানে ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। মার্কোস প্রথমে আইসিসির তদন্তের সাথে সহযোগিতা করতে রাজি ছিলেন না, তবে দুতার্তের পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

এইচআরডব্লিউ-এর উপ-এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রায়নি লাউ বলেন, দুতার্তের গ্রেফতারি পরোয়ানা…একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। দুতার্তে তার এক মন্তব্যে বলেছিলেন, ‘হিটলার ৩ মিলিয়ন ইহুদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফিলিপাইনে ৩ মিলিয়ন মাদকাসক্ত লোক রয়েছে। তিনি তাদেরকে হত্যা করতে পছন্দ করবেন।’