Home Blog Page 136

সুদানে প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ঘোষণা , গৃহযুদ্ধের দুই বছর পূর্তিতে সংকট আরও ঘনীভূত

সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে নতুন মোড় নিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা। আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি ‘জেনারেল হেমেদতি’ নামে পরিচিত, জানিয়েছেন—তাঁদের নেতৃত্বেই সুদানের জন্য একটি “বাস্তবসম্মত ভবিষ্যৎ” গঠিত হতে পারে। এই ঘোষণার মাধ্যমে হেমেদতি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর সরকার ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের বিপরীতে আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা ঐক্য চাই, আধিপত্য নয়।” ধর্ম, অঞ্চল কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের সরকার কেবল আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেই নয়, বরং সমগ্র দেশের মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করবে।

এ ঘোষণার ঠিক আগেই লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সুদানের সব পক্ষকে শান্তির পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও তাঁর সাবেক সহকারী হেমেদতির মধ্যে ক্ষমতা দ্বন্দ্ব থেকেই এই গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। গত দুই বছরে এ সংঘাতে দেড় লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল এখন আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সুদানের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে।

ক্যান্সার কোষ কীভাবে আবার সুস্থ কোষে ফিরবে ?

বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যান্সার একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো প্রধানত ক্যান্সার কোষ ধ্বংসের উপর নির্ভর করে, যার ফলস্বরূপ সুস্থ কোষও প্রভাবিত হয় এবং রোগী নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন। কিন্তু সম্প্রতি কোরিয়ান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (KAIST)-এর বায়ো অ্যান্ড ব্রেইন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক কোয়াং-হিউন চো-এর নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল ক্যান্সার নিরাময়ের এক মৌলিক, ব্যতিক্রমী পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস না করে, তার বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে পুনরায় স্বাভাবিক কোষে রূপান্তর ঘটানো। এটি একটি মৌলিক ধারণাগত পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সার চিকিৎসার জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

গবেষক দল প্রথমবারের মতো দেখিয়েছেন, স্বাভাবিক কোষ যখন ক্যান্সারে রূপান্তরিত হওয়ার প্রাক-মুহূর্তে পৌঁছে যায়, তখন জেনেটিক নেটওয়ার্কে এক ধরণের “ক্রিটিকাল ট্রানজিশন” বা সংকটকালীন পরিবর্তন ঘটে। এই মুহূর্তেই কোষের মধ্যে এক অস্থির অবস্থা দেখা দেয় যেখানে স্বাভাবিক ও ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য সহাবস্থান করে। এই মুহূর্তকে কেন্দ্র করেই চো-এর গবেষণা দল আবিষ্কার করেন এক ধরণের “মলিকিউলার সুইচ” – একটি জেনেটিক নিয়ন্ত্রক উপাদান যা ক্যান্সার কোষকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারে। ক্রিটিকাল ট্রানজিশনকে পানি থেকে বাষ্পে রূপান্তরের মতো হঠাৎ ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি কোষীয় স্তরে বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য একটি নতুন ধারা তৈরি করেছেন, যা কোষের মৌলিক গতিবিধি পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে।

গবেষণা দলে ব্যবহৃত হয়েছে সিস্টেম বায়োলজি ভিত্তিক “অ্যাট্রাক্টর ল্যান্ডস্কেপ” বিশ্লেষণ পদ্ধতি, যা কোষের জেনেটিক গতিবিধিকে কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে মডেল করে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের আচরণগত পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য রূপান্তরের পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। চো-এর দল একক কোষের RNA সিকোয়েন্সিং ডেটা ব্যবহার করে একটি জেনেটিক নেটওয়ার্ক নির্মাণ করেছেন যা স্বাভাবিক ও ক্যান্সার কোষের মধ্যবর্তী ট্রানজিশন অবস্থা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এরপর সিমুলেশন এবং পার্টার্বেশন অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে কোন ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টরগুলো একত্রে কাজ করে ক্যান্সার কোষকে স্বাভাবিক কোষে রূপান্তর করতে পারে।

এই প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে কোলন ক্যান্সার কোষে প্রয়োগ করে দেখা গেছে, কোষগুলো ধীরে ধীরে তাদের ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে স্বাভাবিক কোষের বৈশিষ্ট্যে ফিরে যায়। কোলন ক্যান্সার রোগীদের অর্গানোইড বা ইন ভিট্রো টিস্যু ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, নির্ধারিত মলিকিউলার সুইচ ইনহিবিটর প্রয়োগ করলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ক্যান্সার সংশ্লিষ্ট প্রধান জিনের কার্যকারিতা হ্রাস পায়। পাশাপাশি, স্বাভাবিক কোলন কোষের বৈশিষ্ট্যবাহী জিনগুলোর কার্যকারিতা বেড়ে যায়। এই গবেষণাটি প্রমাণ করেছে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস না করেও কোষের নিয়ন্ত্রক নেটওয়ার্কের মধ্যকার পরিবর্তনের মাধ্যমে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এটি এক ধরনের “ক্যান্সার রিভার্সাল থেরাপি”-র পথ তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

KAIST ও সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথভাবে পরিচালিত এই গবেষণাটি Wiley প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জার্নাল Advanced Science-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার সহ-লেখক ছিলেন ড. দোংকওয়ান শিন (বর্তমানে ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারে কর্মরত), ড. জিওং-রেওল গং এবং পিএইচডি শিক্ষার্থী সোইয়ুন জাং। চো-এর গবেষণা কোষীয় নিয়ন্ত্রণ ও রূপান্তর বোঝার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। এটি শুধু ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য নয়, কোষীয় নিয়ন্ত্রণ, রিজেনারেটিভ মেডিসিন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ এখন আর শুধু ধ্বংসে নয়, বরং রূপান্তরের নীতিতে বিশ্বাস রাখতে পারে।

টাচ স্টারভেশন কী ?

মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই স্পর্শে সাড়া দেয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, শারীরিক সংযোগ বা স্পর্শের প্রয়োজন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। টাচ স্টারভেশন কী ? টাচ স্টারভেশন (যাকে বলা হয় স্কিন হাঙ্গার বা স্পর্শ বঞ্চনা) তখনই ঘটে যখন কেউ দীর্ঘ সময় ধরে অন্য জীবিত প্রাণীর কাছ থেকে পর্যাপ্ত স্পর্শ পায় না। এটি বেশিরভাগ সময়েই নেতিবাচক আবেগ তৈরি করে যেমন: একাকিত্ব, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ইত্যাদি। ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বিভিন্ন দেশের মানুষের ছোঁয়া গ্রহণের মানসিকতায় পার্থক্য রয়েছে। ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্স ছিল স্পর্শকে বেশি স্বাগত জানানো দেশের শীর্ষে, আর যুক্তরাজ্য ছিল নিচে।

শুধু যৌন স্পর্শেই কি টাচ স্টারভেশন হয়? না, একেবারেই নয়। যে কোনো ধরণের ইতিবাচক, কোমল স্পর্শ, যেমন হাত ধরা, আলতো করে পিঠে চাপড় দেওয়া, কাঁধে হাত রাখা—সবই উপকারী। শুধু রোমান্টিক বা যৌন স্পর্শ নয়, বন্ধুত্বপূর্ণ বা পারিবারিক স্পর্শও দারুণভাবে কাজে দেয়। শরীরে কীভাবে কাজ করে স্পর্শ? আমাদের ত্বকে রয়েছে C-tactile afferents নামক বিশেষ স্নায়ু, যেগুলো কোমল স্পর্শ চিনে নিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩ সেন্টিমিটার/সেকেন্ড গতির ছোঁয়া সবচেয়ে আরামদায়ক। এছাড়া স্পর্শ অক্সিটোসিন (ভালোবাসার হরমোন) নিঃসরণ ঘটায়। এই হরমোনের পাশাপাশি সেরোটোনিন (প্রাকৃতিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট) এবং ডোপামিন (আনন্দদায়ক নিউরোট্রান্সমিটার) স্পর্শের মাধ্যমে সক্রিয় হয়।

স্পর্শের অভাবে শরীর ও মন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

  • কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়
  • ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়
  • রক্তচাপ এবং হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে
  • ঘুমের সমস্যা, একাকিত্ব মানসিক অশান্তি দেখা দেয়

যাদের স্পর্শ পছন্দ নয়, তারাও কি টাচ স্টারভড হতে পারে? হ্যাঁ, হতে পারে। অনেকের জন্য স্পর্শের সাথে বিশ্বাস জড়িত থাকে। তারা ছোঁয়ার চেয়ে মানসিক সংযোগকে প্রাধান্য দেয়। নিউরোডাইভার্স ব্যক্তিরা বা যাঁরা এসেক্সচুয়াল, তাঁরাও ছোঁয়ার প্রতি অনাগ্রহী হতে পারেন, কিন্তু স্পর্শের উপকারিতা তারা হয়ত মিস করেন।

স্পর্শ বঞ্চনা স্থায়ী নয়।আপনি এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। যদি আপনি স্পর্শের সুযোগ পান: পরিবার বা প্রিয়জনের সঙ্গে কাছে বসুন, আলিঙ্গন করুন, পোষা প্রাণী লালন করুন, আশেপাশের মানুষকে দেখে হাসুন বা হাত নাড়ুন—মানবিক যোগাযোগ কিছু হলেও অনুভব করায় স্পর্শ শুধু শরীর নয়, মন ও আত্মার প্রয়োজন। আপনি যদি স্পর্শের অভাবে ভুগে থাকেন, তা স্বীকার করা লজ্জার নয়। এটি একটি মানবিক অনুভব। সময় ও সচেতন প্রচেষ্টায় আপনি নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে পারবেন। হোক সেটা কারো বাহুতে, হোক নিজের যত্নে।

বিরল খনিজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্ব বাংলাদেশে পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু ?

0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল আইফোন তৈরিতে ‘বিরল মৃত্তিকা ধাতু’ আমদানি করে চীন থেকে। যদিও চীন থেকে ভবিষ্যতে এই বিরল খনিজ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চীনা পণ্যে উচ্চহারে যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তার পাল্টা হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া অথবা বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিরল খনিজ শুধু আইফোনের মতো মুঠোফোন তৈরি নয়, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যেকোনো যন্ত্র বা সরঞ্জাম তৈরিতেই তা কাজে লাগে। সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক অস্ত্র তৈরিতেও এখন ব্যবহার করা হয় বিরল খনিজ। বিশেষ করে বিরল খনিজ লাগে চিপ তৈরিতে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিরল খনিজের লড়াই একুশ শতকের ভূ-অর্থনৈতিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই লড়াইয়ে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট বিকল্প সরবরাহশৃঙ্খল গড়ে তুলতে সক্রিয়। এদিকে বাংলাদেশে বিরল খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। দেশের গবেষকেরা বলছেন – নদী অববাহিকার বালু, জেগে ওঠা চর, সৈকত বালু এবং কয়লাখনি থেকে বিরল খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে দেশে সন্ধান পাওয়া এই মূল্যবান খনিজের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কতটুকু, তা পর্যালোচনা করতে হবে।

১৭টি মৌলের একটি গ্রুপ হলো বিরল খনিজ। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির (আইইউপিএসি) নামকরণ অনুযায়ী, পর্যায় সারণির ল্যান্থানাইড সিরিজের ১৫টি মৌলের (ল্যান্থানাম, সিরিয়াম, প্রাসিয়োডিমিয়াম, নিওডিমিয়াম, প্রমিথিয়াম, স্যামারিয়াম, ইউরোপিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, হোলমিয়াম, আরবিয়াম, থুলিয়াম, ইটারবিয়াম ও লুটেশিয়াম) সঙ্গে স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়ামকে একত্রে বিরল খনিজ বলছে যুক্তরাষ্ট্রের জিওসায়েন্স ইনস্টিটিউট। সংস্থাটি বলছে – আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে বিরল খনিজ অপরিহার্য। তবে এদের উত্তোলন এবং পৃথক্‌করণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য বলছে, চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজ মজুতের অধিকারী। দেশটিতে ৪ কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন বিরল খনিজ মজুত আছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল, দেশটির মজুতের পরিমাণ ২ কোটি ১০ লাখ টন। এ ছাড়া ভারতে ৬৯ লাখ টন, অস্ট্রেলিয়ায় ৫৭ লাখ টন, রাশিয়ায় ৩৮ লাখ টন, ভিয়েতনামে ৩৫ লাখ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ লাখ টন বিরল খনিজের মজুত আছে। উৎপাদনের দিক থেকেও চীন শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে দেশটি ২ লাখ ৭০ হাজার টন বিরল খনিজ উৎপাদন করেছে। একই বছর ব্রাজিল ও ভারত ২ হাজার ৯০০ টন, রাশিয়া ২ হাজার ৫০০ টন এবং যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ হাজার টন বিরল খনিজ উৎপাদন করেছে। আর ১৩ হাজার টন উৎপাদন নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশে আলাদাভাবে বিরল খনিজ খোঁজার সরকারি উদ্যোগ নেই। তবে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কয়েকটি গবেষণায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বিরল খনিজের সন্ধান পায়। গত বছর সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে গাইবান্ধা জেলায় প্রায় ২ হাজার ৩৯৫ হেক্টর এলাকার যমুনা নদীর বালি থেকে বাণিজ্যিকভাবে ভারী খনিজ সংগ্রহ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি এভারলাস্ট মিনারেলস । তবে দেশে প্রাপ্ত বিরল খনিজের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে আরও বেশি গবেষণা করতে হবে। এর জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার সুবিধা প্রয়োজন। প্রতিবছর ১ বিলিয়ন টন পরিমাণ বালু দেশের নদীগুলো বহন করে আনে। ফলে বালুতে থাকা বিরল খনিজ আহরণ করতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সাগরের গভীরে কি সত্যিই ষড়যন্ত্র শেকল ছড়ানো আছে ?

HAARP আলাস্কার Gakona-তে অবস্থিত একটি উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও তরঙ্গ নির্গমনকারী গবেষণাগার। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, DARPA ও University of Alaska Fairbanks-এর যৌথ উদ্যোগে এটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল আয়নোস্ফিয়ারের আচরণ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত প্রয়োগে তা ব্যবহারযোগ্য করে তোলা। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই প্রকল্পটি বিজ্ঞানের তুলনায় কল্পনার জগতে বেশি আলোচিত হয়েছে। জনমনে গড়ে ওঠেছে একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক ব্যাখ্যা, যা বৈজ্ঞানিক স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় গোপনতার মধ্যকার দ্বন্দ্বকে সামনে আনে। HAARP-এর মূল প্রযুক্তি হলো Ionospheric Research Instrument (IRI)—১৮০টি অ্যান্টেনার একটি array যা ৩.৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত রেডিও শক্তি নির্গত করতে পারে। এই তরঙ্গ আয়নোস্ফিয়ারে পাঠিয়ে গবেষকরা এর উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেন।

প্রধান গবেষণা ক্ষেত্র: VLF (Very Low Frequency) তরঙ্গ উৎপাদন, কৃত্রিম আয়নোস্ফিয়ারিক প্রতিফলক (Artificial Ionospheric Mirror), সাবমেরিন যোগাযোগের নতুন পথ, মহাকাশ আবহাওয়া পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, GPS সংকেতের ব্যাঘাত বিশ্লেষণ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত অভিযানে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।এতে গবেষণা করা হয় STEVE আভা (Strong Thermal Emission Velocity Enhancement), VLF তরঙ্গের ডাক্তিং, মহাকাশ ধ্বংসাবশেষ শনাক্তকরণ এবং রকেট উৎক্ষেপণের সহায়তা বিষয়ে। প্রতিদিন তরঙ্গ রেঞ্জ নির্ধারিত হতো ভূ-চৌম্বকীয় অবস্থা অনুযায়ী, যা ২.৭৫ MHz থেকে ১০ MHz-এর মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। এই গবেষণা চক্র হাল আমলের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইওনোস্ফিয়ার প্রকল্পগুলির একটি।

২০২৫ সালের আগস্টে University of Alaska-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে PARS (Polar Aeronomy and Radio Science) সামার স্কুল। এতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি HAARP ব্যবহার করে গবেষণার হাতেকলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। এ উদ্যোগ নাগরিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। HAARP-এর চারপাশে গড়ে উঠেছে বহু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।জনমনে প্রচলিত একটি ধারণা হলো HAARP ভূমিকম্প, হারিকেন বা খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তৈরি করতে পারে। হাইতির ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পেছনে HAARP-এর সম্পৃক্ততা দাবি করেছেন অনেকে। HAARP-এর তরঙ্গ নাকি মানব মস্তিষ্কের তরঙ্গে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এটিকে অনেকে CIA-এর MK-Ultra প্রকল্পের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখেন।

“Directed Energy Weapon” হিসেবে ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বলা হয় HAARP শত্রু দেশের স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে কিংবা যোগাযোগ অবরুদ্ধ করতে পারে। কিছু fringe মতবাদ অনুযায়ী, এটি ভিনগ্রহীয় যোগাযোগ কেন্দ্র, wormhole পরীক্ষাগার, এমনকি টাইম ট্র্যাভেল গবেষণারও অংশ। রাশিয়া ও চীন বরাবরই HAARP-এর কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ভূমিকম্প সৃষ্টির সম্ভাব্য ক্ষমতা নিয়ে রাশিয়ান মিডিয়াতে বহুবার মন্তব্য এসেছে। অন্যদিকে ইউরোপের EISCAT (নরওয়ে) এবং রাশিয়ার SURA রেডিও গবেষণাগার HAARP-এর অনুরূপ কাজ করে। তবে কোনোটিই প্রযুক্তিগত পরিসরে HAARP-এর সমকক্ষ নয়।

HAARP-এর রহস্যময়তা জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রবলভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। History Channel-এর “Conspiracy Theory”, Netflix-এর “Stranger Things”-এর মতো সিরিজে এর অনুপ্রেরণা পরিলক্ষিত হয়। মিডিয়া উপস্থাপনা জনমানসে বৈজ্ঞানিক প্রকল্পকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রে পরিণত করেছে।

HAARP-এর দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে বিজ্ঞান ও ক্ষমতার ব্যবস্থাপনাকে তুলে ধরে। যদিও প্রকল্পটি বর্তমানে University of Alaska-এর অধীনে সম্পূর্ণ নাগরিক বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে পরিচালিত হয়, তবু এর ইতিহাস ও সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ড মানুষের মন থেকে মুছে যায় না। প্রযুক্তি ও কল্পনার এই দ্বৈরথেই প্রশ্ন আসে—আমরা বিজ্ঞানের উপর কতটুকু বিশ্বাস করতে প্রস্তুত, যখন তার নেপথ্যে রাষ্ট্র ও শক্তি যুক্ত থাকে?

HAARP নিঃসন্দেহে প্রযুক্তির এক বিশাল সীমানা—যেখানে মহাকাশ, মস্তিষ্ক, জলবায়ু ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এক অদৃশ্য তরঙ্গে সংযুক্ত। একদিকে এটি অগ্রগতির প্রতীক, অন্যদিকে মানব কল্পনার ভূগর্ভে গড়ে ওঠা ষড়যন্ত্রের ল্যাবরেটরি।

বিখ্যাত পাঁচজন প্রতারক ঘোস্ট হান্টার

ভূতের গল্প, অদৃশ্য স্পন্দন, ছায়ামূর্তি এসবের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরন্তন। আধুনিক টেলিভিশন ও ইউটিউবের কল্যাণে আজ ভূত শিকার বা ‘ঘোস্ট হান্টিং’ এক বিশেষ বিনোদনে পরিণত হয়েছে। অথচ এই রহস্যময়তার আড়ালেই অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ঠকানোর নিখুঁত কলাকৌশল।
ডেরেক অ্যাকোরা
ডেরেক অ্যাকোরা ছিলেন ব্রিটিশ টেলিভিশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিডিয়ামদের একজন। তিনি দাবি করতেন মৃত আত্মাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। কিন্তু ২০০৫ সালে Most Haunted শো-এর নির্মাতারা স্বয়ং এক ‘ফাঁদ’ পেতে দেন ডেরেকের জন্য।তারা ভুয়া আত্মার নাম-‘ক্রেডিওন’ এবং ‘রিখারভ’-তাঁর কাছে নানা ছলে পৌঁছে দেন। ডেরেক পরবর্তী এপিসোডে সেই ভুয়া আত্মাদের সঙ্গেই ‘যোগাযোগ’ করেন। এটি ছিল এক ভয়ঙ্কর প্রমাণ-তিনি সত্যিই কিছু দেখতে পাচ্ছেন না, বরং যা শোনেন সেটাকেই নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করেন। শো-এর সহ-নির্মাতা ইয়েভেট ফিল্ডিং পরে বলেন, ‘আমরা বুঝেছিলাম সে নিজেই আমাদের দর্শকদের ঠকাচ্ছে।’
এড ও লরেইন ওয়ারেন
ওয়ারেন দম্পতি আধুনিক প্যারানরমাল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নাম। তারা দাবি করতেন, শতাধিক ‘হান্টেড’ কেসে তারা কাজ করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে আলোচিত কেস-The Amityville Horror-আজ প্রমাণিত যে একটি ‘হরর হোয়াক্স’। ১৯৭৫ সালে জর্জ ও ক্যাথি লুটজ নামে এক দম্পতি দাবি করেন, তাঁদের বাড়ি ভয়ংকর আত্মায় পূর্ণ। ওয়ারেন দম্পতি কেসটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলেন। পরে একাধিক তদন্তে প্রমাণিত হয়, লুটজ পরিবারের গল্প অনেকাংশেই বানানো ছিল। এমনকি তাদের আইনজীবী স্বীকার করেন, এই গল্প মূলত একটি ‘উপন্যাসের’ প্লট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছিল। ওয়ারেন দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ-তারা মানুষের শোক, ভয় এবং বিশ্বাসকে পুঁজি করে বানিয়েছেন একটি লাভজনক দানবিক ব্র্যান্ড।

গ্রান্ট উইলসন ও জেসন হাওয়েস
২০০৪ সাল থেকে প্রচারিত হওয়া Ghost Hunters শো দর্শকদের মধ্যে একধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক ভূত শিকারীর ধারণা তৈরি করেছিল। টেকনিক্যাল যন্ত্র, থার্মাল ক্যামেরা, EVP রেকর্ডিং, সব ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে এক পর্বে দেখা যায়, গ্রান্ট উইলসনের জ্যাকেটের ভেতর থেকে রহস্যময়ভাবে দড়ি বা সুতা বেরিয়ে আসছে-যা দেখে দর্শকদের মনে প্রশ্ন ওঠে, এ কি স্ক্রিপ্টেড? পরে অনেক সমালোচক ও ইউটিউব বিশ্লেষক দাবি করেন, বেশ কিছু ‘ঘটনা’ পূর্ব-পরিকল্পিত এবং ক্যামেরার জন্যই করা হয়েছে। অবশ্য TAPS কখনও সরাসরি প্রতারণা স্বীকার করেনি। তবে তারা নিজেদের ‘entertainment-based investigation’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা শুরু করে, যা নিজেই একরকম স্বীকারোক্তি।

ব্র্যাড ও ব্যারি ক্লিঞ্জ
Discovery Channel-এর Ghost Lab ছিল অপেক্ষাকৃত স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত নাটকীয় একটি শো। দুই ভাই ব্র্যাড ও ব্যারি ক্লিঞ্জ দাবি করতেন তারা ‘সায়েন্টিফিক অ্যাপ্রোচ’ ব্যবহার করে আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণ করছেন। তবে শোটি নিয়েই সমস্যা। তারা যেসব ডিভাইস ব্যবহার করতেন তা নিয়ে পরবর্তীতে প্যারানরমাল গবেষকদের অনেকেই বলেন, ‘তারা বুঝতেই পারতেন না ডিভাইসটি কী করছে।’ বলা চলে বিজ্ঞানকে ভান হিসেবে ব্যবহার করে তারা দর্শকদের ভীতি ও উত্তেজনায় মাতিয়ে তুলেছিলেন। এমনকি অনেক ঘটনা যা ‘লাইভ রেকর্ডেড’ দাবি করা হয়েছিল, ছিল পূর্ব-ধার্য নাট্যরূপ।

জ্যাক ব্যাগান্স
জ্যাক ব্যাগান্স সম্ভবত একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে পপুলার ঘোস্ট হান্টার। তাঁর ক্যারিশম্যাটিক ভয় পাওয়ার ধরন এবং বারবার ভূতের ওপর ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়ে দেওয়ার ঢঙ অনেকের কাছে হাস্যকরও বটে। সমালোচকদের মতে, Ghost Adventures এর অনেক দৃশ্য চিত্রনাট্যভিত্তিক। এমনকি কিছু সাবেক টিম মেম্বার দাবি করেছেন, ‘অনেক সময় আমাদের বলা হতো কোথায় কী প্রতিক্রিয়া দিতে হবে।’ তাঁর ব্যক্তিগত ‘Haunted Museum’-এ থাকা বহু বস্তু নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। সত্যিই কি সেই সব পুতুল বা দোলনা চেয়ারে আত্মা আছে, নাকি এগুলো কেবল ব্র্যান্ডেড হরর?

ভূত-শিকার আজকের দিনে কেবল কল্পনা নয়, একটি ব্যবসা। কেউ তা করেন বাস্তব বিশ্বাস থেকে, কেউ বা নিছক বিনোদনের জন্য। তবে এই পাঁচজন গোস্ট হান্টার আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন-কিভাবে ভয়ের বাজারে প্রতারণা বিক্রি হয় বিশ্বাসের মোড়কে। আমরা হয়তো কখনও জানতে পারব না আত্মা আছে কিনা, কিন্তু আমরা জানি-আছে ক্যামেরা, আছে গল্প, আর আছে মানুষ ঠকানোর এক সুপরিকল্পিত থিয়েটার।







স্বাস্থ্য ও প্রকৃতির জন্য এক সচেতন পথচলায় , টেকসই খাওয়াদাওয়া

টেকসইতা এখন শুধু একটি ট্রেন্ড নয়, ভবিষ্যতের পৃথিবী গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, পরিবেশবান্ধব খাদ্যাভ্যাস অর্থাৎ টেকসই খাওয়াদাওয়া নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে সারা বিশ্বে। বিজ্ঞান বলছে, ২০২১ সাল ছিল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর, যার প্রভাব পড়েছে প্রাণী, উদ্ভিদ ও মানুষের আবাসস্থলে। জাতিসংঘ জানায়, জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এই প্রেক্ষাপটে, খাদ্য ব্যবস্থাপনার ভূমিকা বিশাল। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের এক-তৃতীয়াংশ আসে খাদ্য ব্যবস্থাপনা থেকে। যদি আমরা ব্যক্তি হিসেবে এমন খাদ্য বেছে নিই যা পরিবেশের ক্ষতি কমায়, তবে সেটি এক বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে।

টেকসই খাদ্যাভ্যাস কী?

টেকসই খাদ্যাভ্যাস এমন একটি খাদ্যচর্চা যা শরীর ও পরিবেশ—উভয়ের জন্য ইতিবাচক। এটি নির্ভর করে কীভাবে খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে, কী উপায়ে পরিবহন হচ্ছে, ও খাদ্য প্রস্তুতিতে কী কী উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে তার ওপর। উদাহরণস্বরূপ, গরুর মাংস উৎপাদন কার্বনের নির্গমন অনেক বাড়ায়, যেখানে উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য (যেমন শাকসবজি, ডাল, শস্য) পরিবেশের জন্য অনেক নিরাপদ। গবেষণায় দেখা গেছে, নিরামিষাশীদের খাদ্যাভ্যাস থেকে নির্গত কার্বন সাধারণ মাংসাশীদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

কীভাবে টেকসইভাবে খাওয়া যায়?

১. উদ্ভিদভিত্তিক খাবার বেছে নিন – সপ্তাহে অন্তত একদিন মাংসহীন দিন পালন করুন।
২. খাদ্য অপচয় কমান – মিল প্ল্যান করুন ও বাড়তি খাদ্য সংরক্ষণ করে রাখুন।
৩. কম্পোস্ট করুন – রান্নার পরে বর্জ্যাংশ দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করুন।
৪. ঋতুভিত্তিক খাবার খান – স্থানীয় ও মৌসুমি ফলমূল ও শাকসবজি কিনুন।
৫. স্থানীয় কৃষকদের সহায়তা করুন – ১০০ মাইল ডায়েট অনুসরণ করে কাছাকাছি উৎপাদিত খাদ্য কিনুন।
৬. নিজে চাষ করুন – ছোট করে হলেও বাড়িতে সবজি উৎপাদনের চেষ্টা করুন।

টেকসই খাওয়াদাওয়া মানে শুধু স্বাস্থ্যকর খাওয়া নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। পরিবেশ, জলবায়ু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে আমাদের প্রতিদিনের খাবার নির্বাচনই হতে পারে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। ছোট ছোট সিদ্ধান্তই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে ট্রাম্প সত্য বলছেন না

২ এপ্রিলকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্বের প্রায় সব দেশ, তা সে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হোক বা শত্রু, সবাই যুক্তরাষ্ট্রকে গত ৫০ বছরে অর্থনৈতিকভাবে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা বন্ধ হয়েছে; মানুষের চাকরি গেছে; কিন্তু তিনি আর সেটা হতে দেবেন না। সে কারণে তাঁর পারস্পরিক শুল্ক। সিএনএনের সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়া এক বিশ্লেষণে বলেছেন, বাস্তবতা হলো ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা। বরং গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যান্য বৃহৎ বা তাদের গোত্রীয় অর্থনীতিকে ফেলে অনেক দূর এগিয়েছে। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ছিল ইউরোজোন বা ইউরো অঞ্চলের প্রায় সমান—যুক্তরাষ্ট্রের ছিল ১৪.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার আর ইউরো অঞ্চলের ১৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালে মার্কিন জিডিপি ইউরো অঞ্চলের প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে—২৭.৭২ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে ইউরো অঞ্চলের ১৫.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের গড় মজুরি ওইসিডিভুক্ত বা ধনী দেশগুলোর তুলনায় ছিল ২২.৩% বেশি। এখন সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭.৬%। অন্যদিকে ১৯৯৫ সালে জাপানের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ৫৪% বেশি ছিল। ২০২৩ সালে মার্কিনদের মাথাপিছু জিডিপি জাপানিদের তুলনায় ছিল ১৪৫% বেশি। বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দরিদ্র অঙ্গরাজ্য মিসিসিপির মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জাপানের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র খারাপ ছিল না। ফরিদ জাকারিয়া বলছেন, এই চিত্তাকর্ষক তথ্য সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের উল্টো পতন হয়েছে। ট্রাম্পের বিশ্ববীক্ষা এখনো ১৯৬০-এর দশকে আটকে আছে বলে মনে করেন ফরিদ জাকারিয়া। তখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় উৎপাদনশীল শক্তি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সেবা ও প্রযুক্তি ট্রাম্পের কাছে কিছুই মনে হয় না। এ কারণে তিনি বারবার উদাহরণ দেন, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে উৎপাদন খাতের হিস্যা কমেছে। পাল্টা শুল্কের হিসাবও করা হয়েছে পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতির হিসেবে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রায় ৭৫%ই এই সেবা—সফটওয়্যার, সংগীত, চলচ্চিত্র, ব্যাংকিং, আইন ইত্যাদি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি এমনিতেই সুরক্ষাবাদী ছিল। তাদের শুল্ক ও অশুল্ক বাধার পরিমাণ বিশ্বের ৬৮টি দেশের চেয়ে বেশি ছিল। নতুন এই শুল্কের মধ্য দিয়ে তাদের শুল্কহার ১৯৩০-এর দশকের স্মুট হাওলির শুল্ক হারের চেয়ে বেশি হয়ে গেল। এমনকি ট্রাম্প ১৯ শতকের শুল্ক যুগের স্মৃতিচারণা করেন। তখন আয়কর ছিল না, ছিল শুধু শুল্ক। সেই বাস্তবতায় ফিরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র তখনকার মতো দরিদ্র ও দুর্নীতিপ্রবণ দেশে পরিণতি হতে পারে বলে মনে করেন ফারিদ জাকারিয়া।

অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এখন ‘পোস্ট-ট্রুথ’ বা সত্যোত্তর যুগ চলছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পোস্ট-ট্রুথ যুগে মানুষ কোনো ঘটনা বা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে বরং আবেগ, অনুভূতি ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করে। এখানে তথ্য বা যুক্তির চেয়ে ব্যক্তিগত আবেগ ও বিশ্বাস মুখ্য হয়ে ওঠে। ট্রাম্প এই পোস্ট–ট্রুথের অন্যতম সেরা কারিগর। ফলে মানুষকে তিনি বিশ্বাস করাতে পেরেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বায়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল নয় ’

প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক চীন সফরকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন একান্তভাবেই বাংলাদেশের। অন্য কোনো দেশের ওপর আমরা এ ব্যাপারে নির্ভরশীল নই। এটি আমাদের কৌশলগত স্বাধীনতার প্রতিফলন।’ গতকাল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি আরো বলেন, ‘চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আমরা কখনই জিরো-সাম গেমের সম্পর্ক হিসেবে দেখি না, বরং উভয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’

মূল প্রবন্ধে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি কৌশলগত পুনর্গঠন পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেখানে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা লাভ করছে।’ এছাড়া তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপড়েন কীভাবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। সাংহাই ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (এসআইআইএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. লিউ জংই বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে চীন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে আগ্রহী।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা করে আসছে যে চীন কেবল সরকারি প্রেক্ষাপটে নয়, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। রাখাইন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।’

ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে নতজানু হবে না হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দাবি মেনে নেবে না বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। আর্থিক ক্ষতি হলেও, কোনও অবস্থাতেই ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের কাছে নতজানু হবে না এই বিশ্ববিদ্যালয়। হোয়াইট হাউজের কিছু দাবি প্রত্যাখ্যানের কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার রাতে মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুশো কোটি ডলারের ফেডারেল তহবিল স্থগিত করেছে। ফেডারেল ফান্ডিং পাওয়ার শর্ত হিসেবে হোয়াইট হাউস গত সপ্তাহে হার্ভার্ডের কাছে একটি দাবির তালিকা পাঠিয়েছিল। এগুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পদ্ধতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের ভাষ্যমতে, ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার লক্ষ্যে তারা এসব দাবি জানিয়েছিল।

হার্ভার্ড সোমবার হোয়াইট হাউসের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হোয়াইট হাউস তাদের কমিউনিটিকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার চেষ্টা করছে। হার্ভার্ড কমিউনিটির কাছে লেখা এক চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার বলেছেন, ‘সরকারের সাথে ‘আর্থিক সম্পর্ক’ বজায় রাখতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই এসব দাবি মানতে হবে বলেও তারা হুমকি দিয়েছে। আমরা আমাদের আইনি পরামর্শকের মাধ্যমে প্রশাসনকে জানিয়েছি যে, আমরা তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করব না। বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাধীনতা বিসর্জন দেবে না বা তার সাংবিধানিক অধিকার ছেড়ে দেবে না।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলাকে ‘হালকাভাবে নেয় না’, কিন্তু সরকার এ বিষয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ওই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলার কথা বলে ট্রাম্প প্রশাসনের ১০টি দাবির মধ্যে রয়েছে — আমেরিকান মূল্যবোধ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ যে কোনও আন্তর্জাতিক পড়ুয়ার গ্রহণযোগ্যতা সীমিত করা। প্রশাসন চাইছে যে, তৃতীয় পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স/প্রোগ্রামগুলি নিরীক্ষণ করুক। সেই সঙ্গে সেখানকার প্রশাসন, নিয়োগ ও ভর্তির ক্ষেত্রে সব ধরনের বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। গত দু বছরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের সময় যারা আইন লঙ্ঘন করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ, ভর্তি ও শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে চাপ তৈরি করছে হোয়াইট হাউস। তবে হার্ভার্ডই প্রথম কোনো বড় বিশ্ববিদ্যালয় যারা এই চাপ অগ্রাহ্য করল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, গত বছর গাজায় যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যখন ক্যাম্পাসগুলো উত্তাল ছিল, তখন তারা ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউজ ইহুদি বিদ্বেষ ঠেকাতে ব্যর্থতা ও ক্যাম্পাসে ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা না দিতে পারার অভিযোগ করে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চারশো মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন প্রত্যাহার করেছিলো।পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু প্রস্তাব মেনে নিতে সম্মত হয়, যা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনেকের সমালোচনার মুখে পড়ে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সংগঠকদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।