প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক চীন সফরকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন একান্তভাবেই বাংলাদেশের। অন্য কোনো দেশের ওপর আমরা এ ব্যাপারে নির্ভরশীল নই। এটি আমাদের কৌশলগত স্বাধীনতার প্রতিফলন।’ গতকাল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি আরো বলেন, ‘চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আমরা কখনই জিরো-সাম গেমের সম্পর্ক হিসেবে দেখি না, বরং উভয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’
মূল প্রবন্ধে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি কৌশলগত পুনর্গঠন পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেখানে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা লাভ করছে।’ এছাড়া তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপড়েন কীভাবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। সাংহাই ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (এসআইআইএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. লিউ জংই বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে চীন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে আগ্রহী।’
সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা করে আসছে যে চীন কেবল সরকারি প্রেক্ষাপটে নয়, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। রাখাইন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।’


