Home Blog Page 99

বন্দর গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ , তাড়াহুড়োর কিছু নাই : ফিরোজ আহমেদ , লেখক

0

“বন্দর বিষয়ে কয়েকটা কথা বলা যাক। বহু রকম আলোচনা আসছে এখানে, কিন্তু একটা দুশ্চিন্তার বিষয় হলো অন্তবর্তী সরকারের সমর্থকরা এই ক্ষেত্রে যতটা উগ্র আচরণ করছেন, ততটা তথ্য তারা জনগণকে দিচ্ছেন না।

আর একটা বিরক্তিকর দিক হলো, মানুষকে তথ্য জানতে হচ্ছে গণমাধ্যমে হৈচৈ দেখে, কিংবা অত্যন্ত আশাবাদী কিছু সমর্থকের ভালো ভালো আশাবাদ থেকে। বন্দরের বা বিদেশী বিনিয়োগের বিরোধিতায়ও কখনো কখনো যে অত্যন্ত রূঢ় বা শক্ত কথা বলা যায়, তার জন্য সব আমলেই দায়ী সরকারের অস্বচ্ছতা, ঠিকমত তথ্য না দেয়া, জনগনের সাথে আলাপ না করা।

বর্তমান দুনিয়ার অত্যন্ত দ্রুতগতির অর্থনীতিতে বিদেশী বিনিয়োগ দরকার, তাতে সন্দেহ করার কিছু নাই। আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায়, বন্দরের মত কোন কোন ক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগ অবশ্যই প্রয়োজন, আমাদের প্রযুক্তির অভাব, ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা ও নগদ বিনিয়োগের প্রয়োজন মেটাতে।

কিন্তু বন্দর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ, এবং এই বিষয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নাই, এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতেই হবে। ফলে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ কোন মাত্রায়, কিসের ভিত্তিতে, সেটা নিয়ে একটা নীতিমালা আগে দরকার, বন্দর বিষয়ক যে কোন চুক্তির আগেই।

অন্যদিকে, কোন বিনিয়োগ ভালো, আর কোন বিনিয়োগ দেশের এমনকি সর্বনাশও করতে পারে, সেটাও বিবেচনায় রাখা দরকার। উৎপাদনী খাতে যখন বিনিয়োগ দেখবেন, খানিকটা হলেও নিশ্চিত হওয়া যাবে যে — এখানে বিনিয়োগ কর্মসংস্থান ও প্রযু্ক্তি ও ব্যবস্থাপনার জ্ঞান বাড়াচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগটা যদি হয় লাভ প্রচুর এবং লাভ নিশ্চিত, সেখানে বিনিয়োগ আনাটা খুব বড় কোন কাজ নাও হতে পারে। কর্মসংস্থান এমনকি কমতেও পারে, জাতীয় স্বার্থের ক্ষতিও হতে পারে। এমন উদাহরণ বিশ্বজুড়ে অজস্র।

বাংলাদেশেই এর বহু উদহারণ আছে। বিদেশি বিনিয়োগটা একটা সময়ে ছিল গ্যাস উত্তোলনে। প্রায় সবগুলো ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে, বিদেশী কোম্পানি তাদের লাভের অংশ বুঝে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে গ্যাস উত্তোলন করে অনেকগুলো গ্যাসক্ষেত্রের কাঠামোগত ক্ষতি সাধন করেছে। খরচা বাঁচাতে গিয়ে সম্ভাবনা ময় গ্যাসক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, বিদেশী কোম্পানির ক্ষেত্রে এমন উদাহরণও বাংলাদেশেই আছে। বন্দরে নিশ্চয়ই কেউ আগুন লাগাবে না। কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগ মানেই যে ভালো কিছু না, এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ নজরদারিটাই থাকা প্রয়োজন।

ভিয়েতনামের কথাই ধরা যাক। অনেকগুলো বিদেশী বন্দর ও টার্মিনাল দেশটিতে আছে। কিন্তু এখনও দেশটির বন্দরের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্র। তারা কেন বিদেশীদের বা বেসরকারী উদ্যোক্তাদের হাতে বন্দর দিয়েছে, সেটা খুব পরিস্কার। বন্দর বিদেশীদের দেয়ার সময়ে তাদের নীতি এটা ছিল না যে বিদেশীরা ভালো, বা বেসরকারীরা বেশি কার্যকর। তাদের উপলদ্ধি ছিল এই যে, দেশটির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মাত্রায় বিনিয়োগ করা সরকারের পক্ষে তখন সম্ভব না বলেই বিদেশী/বেসরকারী মালিক লাগবে।

এরপরও ভিয়েতনাম আইন করেছিল বন্দর বা টার্মিনালের মালিকানার ৫০ ভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকবে। জানি না তারা এই আইন বদল করেছে কি না ।ভিয়েতনামের উৎপাদনের মাত্রা ও মানচিত্র উভয়ের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন, দেশটিতে অজস্র বন্দর সম্ভব ও প্রয়োজন। দেশটি সমুদ্রের দিকে উন্মুক্ত। প্রায় পুরোটা সমুদ্রতীর ধরেই সেখানে রাষ্ট্রটার উদ্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের সাথে ভিয়েতনামের মিলবে না। অন্যদিকে, পুরোপুরি সমুদ্রের মাঝে থাকা, এবং উৎপাদন না, বন্দরই প্রধান আয়ের উৎস এমন একটা দেশ হলো সিঙ্গাপুর। ওরা নিশ্চযই আরও বেশি বেশি করে বিদেশী মালিকানায় বন্দর ও টার্মিনাল বানিয়েছে? না। দুঃখজনক হলেও অতি সামান্য। সেগুলোতেও সরকারের বিপুল নিয়ন্ত্রণ।

কারণটাও মানচিত্রে ও বাস্তবতা ভাবনায় পাবেন। সিঙ্গাপুর ছোট দেশ। চারদিকে সমুদ্র হলেও ভূভাগ সীমিত। ষাটের দশক থেকে ওরা ক্রমাগত বন্দর বানিয়ে চলেছে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে।

বাংলাদেশের সাথে হয়তো সিঙ্গাপুরেরও মিলবে না, তবে উপকূলের সীমা ও বন্দর করার মত উপযুক্ত জায়গার কথা ভাবলে সেখান থেকে একটা বিষয় আমরা শিখতে পারি: জাতীয় সক্ষমতা বরং বাড়াতে হবে, বিদেশীদের নিয়ন্ত্রণ বিপদজনক হতে পারে।

অন্যদিকে আমাদের নতুন অধিকাংশ বন্দরের প্রকল্প গাড়ির আগে ঘোড়া জোড়ার মত। উৎপাদনের খবর নাই, কিন্তু বহু পরে যা ভাবলেও চলবে, তা নিয়েই আমাদের হুড়োহুড়ি।

কিন্তু নতুন বন্দরের প্রয়োজন নিয়ে ভাবলে আমরা যেন মুখস্ত করে বলে না দেই ভিয়েতনামের কথা। খুঁজলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নানান দেশে যত রকমের সমস্যা ও সম্ভাবনা তৈরি করে, তার আরো নানান ধরনের মাত্রা আমরা দেখতে পাবো : জিবুতির বাস্তবতা, পানামার বাস্তবতা, সুয়েজ খাল কিভাবে মিশরকে চিরস্থায়ী সেনাশাসনের দেশে পরিণত করলো সেই বাস্তবতা।

আমাদের খামাখা আতঙ্কগ্রস্ত হবার কিছু নাই যেমন, তেমনি শুধু টাকা গুনে বন্দরের লাভ ক্ষতির কথা বলা যায় না, বন্দর একটা গভীরভাবে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়, সেটাও মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতাতেই বন্দর নিয়ে আমাদের ভাবা দরকার। … বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের বন্দরের কার্যকারিতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। বন্দরের জট ছড়াতে হবে। বন্দরকে আমলাতন্ত্র মুক্ত করতে হবে।

সেটা করা হলে এখনই বন্দরের কার্যকারিতা তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব, সেটা অনেকবার পড়েছি বিশেষজ্ঞদের লেখায়। সেই উদ্যোগ আমরা কতখানি নিয়েছি? অন্তবর্তী সরকার যেখানে সঙ্গতকারণেই কৃতিত্ব দাবি করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক অনেকখানি কার্যকর করার, টলোমলো ব্যাঙ্ক খাতকে নিয়্নত্রণ করার, একই কারণে চাহিদা হলে, ঈমান ঠিক থাকলে বন্দরও ঠিক করতে পারে।

না পারলে সেই ব্যর্থতাও স্বীকার করুক জনগণের কাছে। কিন্তু না পারার কোন কারণ আমি দেখি না। ভবিষ্যতে আমাদের বন্দরের চাহিদা বাড়বে, এর সম্প্রসারণ ও নতুন বন্দরও লাগবে। ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর উভযের কাছ থেকেই শিক্ষা নিয়ে আমাদের উপযুক্ত একটা পথেও আমাদের যেতে হবে।

কিন্তু প্রধান বন্দর ও টার্মিনালগুলো– যেগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব আছে– অবশ্যই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানায় রাখতেই হবে। দেশের হাতে মূল মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের যে কোন ফারাক দেখা যায় না, তা অকারণ নয়। বন্দর শুধু টাকা গোণার বস্তু না– টাকাটা যদিও দরকার আছে– বন্দর জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা।”


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে , পানির সংকটের মুখে গ্রীস –

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক দেশই আজ পানির সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য দেশ হলো গ্রীস, যেখানে পানির সংকটের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গ্রীস বর্তমানে বিশ্বের ১৯তম দেশ হিসেবে দাঁড়িয়েছে যেখানে পানির সংকট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এ সংকটের পেছনে প্রধানত জলবায়ু পরিবর্তনের দিকনির্দেশিত প্রভাবই দায়ী। গ্রীসের মতো দেশের জন্য এটি একটি বড় আঘাত, কারণ দেশটির অর্থনীতি ও জনজীবন অত্যন্ত পানির ওপর নির্ভরশীল।

গ্রীস ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অধীনে অবস্থিত, যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ে এবং শীতকাল সাধারণত নরম হয়। এর ফলে গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া থাকে, যা প্রকৃতির জলবন্টনে প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত গরম ও কম বৃষ্টিপাত গ্রীসের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাধার শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। জলাধারের সংকট জনসাধারণ ও কৃষকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে।

গ্রীসের অর্থনীতি কৃষি, পর্যটন ও শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিকাজের জন্য প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্ধিত চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপর্যাপ্ত হওয়ায় সমস্যা আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে পানির চাহিদা অনেক গুণ বেড়ে যায়। এই অবস্থায় সীমিত জলসম্পদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পানির যোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলেও পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রীসের ওপর যে প্রধান প্রভাব পড়েছে তা হলো তাপমাত্রার বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা। গবেষকরা বলছেন, অতীতে যেখানে নিয়মিত বৃষ্টি হতো, সেখানে এখন অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং বর্ষাকালে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছেনা। আবার অনেক সময় হঠাৎ করে ভারী বর্ষণ হয়, যা জলাধারগুলোয় সঞ্চিত হওয়ার আগে বয়ে গিয়ে মাটির ক্ষরণ ঘটায়। এসব কারণে পানির উৎস কমে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পানির বাষ্পীভবনও বেড়ে যাচ্ছে, যা মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়।

পানির সংকটের ফলে গ্রীসের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের কৃষকরা পানির অভাবে ফসল চাষে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক এলাকায় পানির দাম বাড়ছে, যা দরিদ্র মানুষের পক্ষে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। পর্যটন শিল্পেও প্রভাব পড়ছে কারণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে গ্রীসের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

গ্রীস সরকার ও বিভিন্ন পরিবেশ সংস্থা পানির সংকট মোকাবেলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জনসাধারণকে পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগও চলছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ বান্ধব নীতি গ্রহণ।

গ্রীসে পানির সংকটের ঝুঁকি বৃদ্ধি একটি গুরুতর সংকেত যে জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটও তৈরি করছে। গ্রীসের মতো দেশগুলোকে তাদের জল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়েরও উচিত এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। না হলে পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে দেশের জনজীবন ও অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।

‘দ্রুত নির্বাচন না দিলে দেশে নৈরাজ্য আরো বাড়বে’ : বদরুদ্দীন উমর , বামপন্থী রাজনীতিক ও তাত্ত্বিক

0

… এবারই প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে প্রকাণ্ড আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের চরিত্র দক্ষিণপন্থী।…বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন দক্ষিণপন্থী রাজনীতির বিপুল প্রাধান্য। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সবগুলোই দক্ষিণপন্থী। বামপন্থী দলগুলোর উপস্থিতি সামান্য। এটিই বর্তমান রাজনীতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।

… ছাত্রদের দলের মধ্যে তো বড় রকমের আদর্শের কথা থাকা দরকার। কিন্তু এ ধরনের কোনো কিছু দলটির মধ্যে নেই।…এদের শ্রেণী অবস্থা হলো এমন যাতে করে বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিক বা অন্য কোনো উৎপাদক শ্রেণীর সঙ্গে তারা সম্পর্কিত না। বরঞ্চ আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যাবে, তারা সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়ী শ্রেণীর সঙ্গে সম্পর্কিত।…এখন যেটি শোনা যায় শুধু সাংগঠনিকভাবেই তারা আয় করেছে এমন নয়। নিজেরাও অনেক টাকা আয় করে ফেলেছে।

… দ্রুত ক্ষমতায় যেতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লোকজন দাঁড় করিয়ে যাতে নির্বাচনে সুবিধা নেয়া যায় সেই চেষ্টাই তারা করছে। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা সে রকমই। তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি কিংবা ম্যানিফেস্টো নেই। মৌলিক সমস্যা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।

… মধ্যপন্থী বলে কিছু নেই। হয় বামপন্থী অথবা দক্ষিণপন্থী হতে হবে। আর মধ্যপন্থী যারা বলে তারা আসলে দক্ষিণপন্থী। নিজেদের দক্ষিণপন্থী বলতে চায় না বলেই নিজেদের মধ্যপন্থী বলে।

… তাদের ধর্মীয় কথাবার্তা ও আচরণে এটি প্রকাশ পাচ্ছে। যার জন্য জামায়াতের সঙ্গে তাদের মাঝেমধ্যে দ্বন্দ্ব হলেও মোটামুটিভাবে তাদের সঙ্গে দলটির সম্পর্ক ভালো। এছাড়া দল গঠনের পর শ্রমজীবী ও কৃষকদের নিয়ে তাদের কোনো কথা নেই। তাদের সবচেয়ে বড় দাবি হলো আওয়ামী লীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) বিরোধিতা। অন্যটি হলো তারা নির্বাচন করতে চায়।

… যত দিন যাচ্ছে ততই শাসন ব্যবস্থার ওপরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ আলগা হয়ে যাচ্ছে। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না দিলে সামনের দিনে নৈরাজ্য বেড়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। কিন্তু এ সরকারের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তারা যতদূর সম্ভব টেনে শাসনকাল বাড়াতে চাচ্ছে, এটি ক্ষতিকর।

… কোনো একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে আগেও কথা বলেছি, এখনো আমি এটার বিরুদ্ধে। কিন্তু (নিষিদ্ধ ঘোষিত) আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য জনগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে আওয়াজ তুলেছে, সেটিকে সমর্থন করি। কেননা আওয়ামী লীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) এখন কোনো রাজনৈতিক দল নয়; শেখ মুজিবের সময় যে আওয়ামী লীগ ছিল তার মতো নয়।

শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ যতই ফ্যাসিস্ট হোক তা বাইরের কোনো শক্তির দ্বারা পরিচালিত হতো না। এখন যে আওয়ামী লীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) আছে এ দল ষোলো আনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে। শেখ হাসিনা অন্য কোনো জায়গা না পেয়ে ভারতে বসে আছে।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করলে তারা ভারতের অর্থ-সম্পদ এবং অন্যান্য সাহায্য নিয়ে এখানে শক্তি হিসেবে দাঁড়াবে। তারা কোনো দিন নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু এখানে নানারকম অন্তর্ঘাতমূলক কাজের মাধ্যমে দেশ ও জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ অবস্থায় তাদেরকে কাজ করতে দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না।

… সাধারণ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা আর আওয়ামী লীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) ব্যান করা এক বিষয় না। তারা বাইরের শক্তির গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছে। … নানারকম দুষ্কৃতকার্য করায় আওয়ামী লীগ পড়ে গেছে। দেশের জনগণ এবং সরকারের ভয়ে তারা ভারতে পালিয়ে গেছে। জনগণকে দেয়ার মতো তাদের কিছু নেই। তাই মানুষ যে আওয়ামী লীগের জন্য উঠে দাঁড়াবে এমন সম্ভাবনা একেবারেই নেই। এছাড়া তারা জড়ো হতে পারলে অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করবে।


প্রথম স্মার্ট সিটি – ইন্দাস সভ্যতা

ইতিহাসের গহ্বরে এক বিস্ময়কর অধ্যায় হলো ইন্দাস উপত্যকা সভ্যতা, যেটি হরপ্পা সভ্যতা নামেও পরিচিত। আনুমানিক ২৬০০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ১৯০০ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত এই সভ্যতা আধুনিক পাকিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে গড়ে ওঠে।

মানুষের প্রথম নগরজীবনের অন্যতম উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ইন্দাস সভ্যতা শুধু কৃষি, বাণিজ্য বা হস্তশিল্পেই নয়, বিশেষভাবে উন্নত নগর পরিকল্পনার জন্য পরিচিত। এটি এমন এক সময়ে উদ্ভূত হয়, যখন পৃথিবীর অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতা (যেমন মিশর, মেসোপটেমিয়া) নগর বিন্যাসে এতটা সুগঠিত ছিল না।

ইন্দাসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের পরিকল্পিত নগর বিন্যাস। মহেঞ্জোদাড়ো, হরপ্পা, লথাল, ধোলাবিরা প্রভৃতি শহরগুলোতে দেখা যায় সুপরিকল্পিত রাস্তাঘাট, কেল্লা ও বসতি এলাকাগুলোর সুনির্দিষ্ট বিভাজন। নগরগুলি ছিল গ্রিড-প্যাটার্নে গঠিত, অর্থাৎ রাস্তা ও অলিগলি একে অপরকে ৯০ ডিগ্রি কোণে ছেদ করত।

এই ধরনের পরিকল্পনা নির্দেশ করে নগরগুলো এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠেনি; বরং আগে থেকে স্থাপত্য পরিকল্পনা করেই নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। নগরগুলো সাধারণত দুটি ভাগে বিভক্ত থাকত, উঁচু স্থানে কেল্লা যেখানে প্রশাসনিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ছিল, আর নিচু স্থানে সাধারণ মানুষের বসতি।

ইন্দাসবাসীরা পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করে গৃহ নির্মাণ করত। ঘরগুলো ছিল সুসংগঠিত, অভ্যন্তরীণ উঠানসহ একাধিক কক্ষবিশিষ্ট। অনেক বাড়িতে ছিল দ্বিতল কাঠামো। গৃহস্থালী ডিজাইনে ব্যক্তিগত পরিসরের উপর জোর ছিল—দরজাগুলো অধিকাংশ সময় ভিতরের দিকে মুখ করে থাকত। ঘরগুলোতে ছিল ইটের তৈরি ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত স্নানঘর। তারা একটি নির্দিষ্ট মাপে (১:২:৪ অনুপাতে) পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করত, যা ইঙ্গিত দেয় যে নির্মাণে একধরনের ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন’ প্রচলিত ছিল।

ইন্দাস সভ্যতার সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা। প্রতিটি বাড়িতে নিজস্ব ড্রেন ছিল, যেগুলো যুক্ত থাকত কেন্দ্রীয় নিকাশিনালার সাথে। শহরজুড়ে চলা এই ড্রেনগুলো ছিল ইটের তৈরি, এবং কিছু কিছু ড্রেনে ‘ম্যানহোল’-এর মত কাঠামোও ছিল—যা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করত। মেসোপটেমিয়া ও মিশরের নগরবাসীদের মধ্যে এমন স্যানিটেশন ব্যবস্থার নজির পাওয়া যায় না। ইন্দাসবাসীরা সম্ভবত পানিবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং তাই সুপরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটায়।

ইন্দাস সভ্যতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা। লথাল শহরে আবিষ্কৃত হয় বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ডকইয়ার্ড। সেখানে ছিল একটি জলবন্দর, যার মাধ্যমে আরব সাগরের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পাদন সম্ভব হতো। এর প্রমাণ মেলে মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও পণ্য বিনিময়ের নিদর্শনে। শহরে আলাদা বাজার অঞ্চল, গুদামঘর এবং শস্যভান্ডার ছিল। ধোলাবিরা শহরে পাওয়া গেছে একটি বিশাল জলাধার, যা বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি শুধু জলসংগ্রহ নয়, বরং শহরের পানির চাহিদা মেটানোর একটি সুপরিকল্পিত উপায়ও ছিল।

নগরগুলোতে রাজপ্রাসাদ, বিশাল মন্দির, অথবা ক্ষমতার প্রতীক—পিরামিডসদৃশ কিছু ছিল না। এই অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে ইন্দাস সমাজ ছিল অপেক্ষাকৃত সমতাভিত্তিক এবং সম্মিলিত চিন্তাধারায় গঠিত। পরিকল্পিত ঘরবাড়ি, ড্রেনেজ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা এমনই এক সমাজকে ইঙ্গিত করে, যেখানে শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য ও সমতা ছিল কেন্দ্রবিন্দু।

প্রায় ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বে ইন্দাস সভ্যতা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে শুরু করে। গবেষকরা মনে করেন, জলবায়ুর পরিবর্তন, নদীর প্রবাহ পরিবর্তন, অথবা অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুর্বলতা এর কারণ হতে পারে। তবে তাদের নগর নকশা পরবর্তী সময়ের দক্ষিণ এশীয় বসতি ও স্থাপত্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। আজকের স্মার্ট সিটি কনসেপ্ট, গ্রিড প্যাটার্ন নগর এবং স্যানিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ভিত্তিগুলোর অনেকটাই ইন্দাস সভ্যতার সূত্র ধরে নির্মিত হচ্ছে।

গাজার ‘দখল ও নিয়ন্ত্রণ’ নিতে , বড় অভিযান শুরু ইসরায়েলের

গাজায় হামাসকে পরাজিত করা এবং সেখানে থাকা ইসরায়েলি বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে বড় ধরনের একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যদিও এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর হামাস জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে তাদের আলোচকরা নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিনে হাজার হাজার ইসরায়েলি সেনা গাজায় প্রবেশ করতে পারে। সীমান্তে ট্যাংক জড়ো হওয়ার খবর দিয়েছে রয়টার্স।

অপারেশন গিডেওনস’ চ্যারিওটস নামে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর নতুন এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে — গাজার দক্ষিণে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর হামাসের নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো এবং হামাসকে প্রতিহত করা। অভিযানে বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিনশ মানুষ নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় নেতারা ব্যাপক অভিযানের নিন্দা করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার র্টুক বলেছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

তিনি বলেন, “এই সর্বশেষ বোমাবর্ষণ, বাসিন্দাদের জোরপূর্বক স্থানান্তর, বিভিন্ন এলাকাগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা এবং মানবিক সহায়তা না ঢুকতে দেওয়া—সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে গাজায় একটি স্থায়ী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে, যা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং জাতিগত নিধনের সমতুল্য।”

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার কমিশনার জেনারেল ফিলিপ্পে লাজ্জারিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “বোমা, ক্ষুধা ও ঔষধ সংকটের মাধ্যমে আর কত ফিলিস্তিনির জীবন নিশ্চিহ্ন করা হবে?” “নৃশংসতা একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে”। নতুন করে হামলার পর জাতিসংঘ মহাসচিব, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও ইটালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছেন।

এর আগে ৫ মে হামাসকে ধ্বংস করতে এবং গাজার দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযানের কথা বলেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফর শেষ হওয়ার পর সেই অভিযান শুরুর ঘোষণা এল।

সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। কারণ ইসরায়েল খাদ্য ও অন্য সাহায্য সেখানে যেতে দিচ্ছে না।

গাজায় পুনরায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করতে এবং অবরোধ প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার পরও ইসরায়েল হামলা আরো বাড়িয়েছে এবং সীমান্তে সাঁজোয়া বাহিনীও মোতায়েন করেছে। এরপরেই এই অভিযান শুরু হওয়া মানে এতদিনের সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে, শনিবার থেকে দোহায় নতুন করে শুরু হওয়া ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি এবং দুই মাসের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নয় জিম্মিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে হামাস। প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে প্রতিদিন চারশো ত্রাণবাহী ট্রাকের গাজায় প্রবেশ এবং অসুস্থ বা রোগীদের গাজা থেকে বের করে আনার কথা বলা হয়েছে।

জবাবে ইসরায়েল হামাসের হাতে এখনো আটকে থাকা সব জিম্মি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে ইসরায়েল এখনো প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করেনি। তবে তারা এই আলোচনার আগে জানিয়েছে যে, তারা গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার বা যুদ্ধ বন্ধের কোন অঙ্গীকার করবে না। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পর গত ১৮ই মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েলী অভিযানে গাজায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন – সৌদির সমাজে বড় পরিবর্তন , ঘটবে কি অর্থনীতিতেও ?

বিশ বছর আগে সৌদি শহরগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় দোকানপাট বন্ধ থাকে কিনা, নারীরা পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বাইরে বের হয় কিনা ও নারী-পুরুষ এক সঙ্গে ঘোরাফেরা করে কিনা এসব বিষয়ে পুলিশ নজরদারি চালাতো। তখন সিনেমা বা কনসার্ট ছিল না। বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ শুধু পুরুষদের জন্যই উন্মুক্ত ছিল।

এখন শহরের মূল রাস্তায় নারী-পুরুষ নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করে। যুগলরা একসাথে হাঁটে কিংবা রেস্তোরাঁয় পাশাপাশি বসে খায়। সিনেমা হলে আরবি ও হলিউডের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। মোরাল পুলিশদের আর দেখা যায় না, সন্ত্রাসবাদও এখন কেবল অতীতের স্মৃতি।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এক দশক ধরে সৌদি আরবের সামাজিক কড়াকড়ি শিথিল করা ও তেলনির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সামাজিক সংস্কারের গতি ছিল বিস্ময়কর; কিন্তু অর্থনৈতিক পুনর্গঠন খুব ধীর গতিতে এগোচ্ছে। সৌদির পুরনো অর্থনৈতিক মডেল যেমন প্রচুর রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি, ধর্মীয় কড়াকড়ি ও পণ্যে নির্ভরতার সমস্যাগুলো রয়ে গেছে।

ভিশন ২০৩০-এর সামাজিক সংস্কার অনেক জনপ্রিয়তা এনে দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে হলে অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো পূরণ করতেই হবে।

এই পরিকল্পনায় রয়েছে চমকপ্রদ গিগা-প্রকল্প যেমন: বিশাল লিনিয়ার সিটি, মরুভূমির পাশে স্কি ভিলেজ, ৫০টি বিলাসবহুল হোটেল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন ইত্যাদি। একই সঙ্গে চলছে পর্যটন, গাড়ি উৎপাদনসহ নতুন শিল্প গঠনের চেষ্টাও।

২০১৮ থেকে নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা, চাকরি ও ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পেয়েছে। নিয়োগ বা বেতনে বৈষম্য করা এখন অবৈধ। নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ ২০ থেকে বেড়ে ৩৬ শতাংশ হয়েছে। সবচেয়ে দ্রুত প্রবেশ করেছে সেই নারীরা, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক।

রাষ্ট্র স্পোর্টস ও বিনোদন খাতেও জোর দিয়েছে। জেদ্দায় ফর্মুলা ১ রেসের আগে পারফর্ম করেছেন জেনিফার লোপেজ। রাজধানী রিয়াদে রাতের আকাশের নিচে ডিজের সুরে তরুণরা নাচছে। এমন দৃশ্য এক সময় অকল্পনীয় ছিল।

সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক রূপান্তর এখনো ধীরগতির। তেল এখনো রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস। যদিও জিডিপিতে এর অংশ ৩৬ থেকে ২৬ শতাংশে নেমেছে, তারপরও তা অনেক বেশি। নির্মাণ, খুচরা বিক্রি ও আতিথেয়তাখাতে কিছু অগ্রগতি হলেও, সরকার-নির্ধারিত অন্যান্যখাত তেমন এগোয়নি।

আসলে সামাজিক পরিবর্তন রাতারাতি ঘটতে পারে, কিন্তু অর্থনৈতিক পরিবর্তন সময় নেয়। খনিজ খাত, বিশেষত স্বর্ণ ও বক্সাইটে কিছু সম্ভাবনা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে সৌরশক্তি ও হাইড্রোজেন উৎপাদনে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেশ কিছু কারণে সৌদি আরবে বিনিয়োগে সতর্ক। ২০১৭-১৮ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) যেভাবে বহু ধনী সৌদিকে রিয়াদের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আটকিয়ে রেখে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছিলেন, তার স্মৃতি এখনো অনেকের মনে রয়ে গেছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালে প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনায়ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবে ব্যবসা করতে এখনো রাজনৈতিক যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর বাইরেও, সরকারি প্রকল্পে অর্থ পরিশোধে বিলম্ব ও চুক্তি-সংক্রান্ত বিরোধও অস্বাভাবিক নয়।

মানবসম্পদের সীমাবদ্ধতা আরেকটি বড় সমস্যা। সৌদি পুরুষদের অর্ধেকই এখনো সরকারি চাকরিতে কর্মরত। নারীদের অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পরেও এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

মধ্যপ্রাচ্যের স্কুলশিক্ষার্থীরা গাণিতিক, পাঠ্য ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ওইসিডি গড়ের চেয়ে অনেক নিচে। সৌদি শিক্ষার্থীরা কাতারি শিক্ষার্থীদের তুলনায়ও খারাপ করছে, যদিও শিক্ষা খাতে অনেক বিনিয়োগ হয়েছে। অতীতে ধর্মীয় শিক্ষার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়াই হয়তো এর একটি কারণ। তাছাড়া সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের উৎসাহ কমিয়ে দিয়েছে।

রেলে ১ টাকা আয় করতে , আড়াই টাকার বেশি ব্যয়

বাংলাদেশ রেলওয়ে ১ টাকা আয় করতে গিয়ে খরচ করছে আড়াই টাকার বেশি। রেলের হিসাবে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত—৬ মাসে রেলওয়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় করেছে ৮৩৬ কোটি টাকা। এ সময় ব্যয় করেছে ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

সরকারের এই পরিবহন সংস্থা লোকসান দিচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। রেলওয়ের তথ্য অনুসারে, স্বাধীনতার পর ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে একবারই কিছু লাভ করেছিল রেলওয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবছর গড়ে ২ হাজার কোটি বা এর বেশি লোকসান দিচ্ছে রেলওয়ে।

সেবার মান ও লাভজনক বিবেচনায় পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষে ভারতের রেলব্যবস্থা। দেশটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ রুপি আয়ের বিপরীতে ০.৯৮ রুপি খরচ করেছে। অর্থাৎ তাদের রেলওয়ে লাভজনক অবস্থায় রয়েছে।

কানাডার রেলব্যবস্থা গত বছর প্রতি ১ ডলার আয় করতে ৬৩ সেন্ট খরচ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রেল পরিচালনা করা হয়। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই আয়ের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম খরচ করে থাকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে রেলের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ছিল বিদেশি ঋণ।সড়ক ও রেলের অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকল্পের ব্যয় কমাতে তৎপর হয়েছে। এর বাইরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দৈনন্দিন ব্যয় কমানোরও নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর রেলওয়ে ব্যয় সংকোচনের কিছু খাত চিহ্নিত করেছে।

বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, রেলের আয় বাড়ানোর স্বীকৃত পথ হচ্ছে কনটেইনার ও মালামাল পরিবহন বাড়ানো। রেলের অনেক জমি থেকে আয় আসছে না। সেগুলো ইজারা নিয়ে কিংবা অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালীরা লাভবান হচ্ছেন, সুবিধা পাচ্ছেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা। জমি থেকে বেশি আয় করতে হবে। সর্বোপরি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।

Hermeticism – প্রাচীন রহস্যময় জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা

হার্মেটিসিজম বা হার্মেটিক দর্শন হলো এক প্রাচীন গূঢ়তত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক ধারা, যা Hermes Trismegistus নামে পরিচিত পৌরাণিক ব্যক্তিত্বের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। Hermes Trismegistus গ্রিক দেবতা Hermes ও মিশরীয় দেবতা Thoth-এর সংমিশ্রণ, যিনি জ্ঞান, জাদু, দর্শন ও রহস্যময়তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। হার্মেটিসিজম মূলত একটি দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক দর্শন, যা মহাবিশ্ব, ঈশ্বর, আত্মা ও প্রকৃতির গভীর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করে।

হার্মেটিসিজমের মূল উৎস হলো Hermetica নামে পরিচিত গ্রন্থসমূহ, যা খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে খ্রিস্টীয় ৩য় শতকের মধ্যে রচিত। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে Corpus Hermeticum, Asclepius, এবং Emerald Tablet। Emerald Tablet বিশেষভাবে বিখ্যাত, কারণ এতে “As above, so below” অর্থাৎ “যেমন উপরে, তেমন নিচে” এই প্রবাদটি উল্লেখ আছে, যা মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সম্পর্কের কথা বোঝায়।

Hermes Trismegistus কে ঐতিহাসিক ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় না; বরং তিনি একটি প্রতীকী চরিত্র, যিনি গ্রিক ও মিশরীয় দেবতাদের গুণাবলী ধারণ করেন। Hermetica গ্রন্থগুলোতে ধর্ম, দার্শনিক চিন্তা, জাদু, রসায়নবিদ্যা ও জ্যোতিষশাস্ত্রের মিশ্রণ পাওয়া যায়। হার্মেটিসিজম মূলত হেলেনিস্টিক যুগে আলেকজান্দ্রিয়ায় বিকশিত হয়, যেখানে গ্রীক ও মিশরীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে।

রেনেসাঁস যুগে হার্মেটিক গ্রন্থসমূহ ল্যাটিনে অনূদিত হয়ে ইউরোপীয় দার্শনিক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মার্সিলিও ফিসিনো ও অন্যান্য চিন্তাবিদরা হার্মেটিসিজমকে খ্রিস্টীয় দর্শনের সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেন। আধুনিক যুগে হার্মেটিসিজম পুনরুজ্জীবিত হয় ১৯শ ও ২০শ শতকে। বিশেষ করে Hermetic Order of the Golden Dawn-এর মাধ্যমে, যা আধুনিক অলৌকিক ও গূঢ়তত্ত্ব আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

হার্মেটিসিজমের কেন্দ্রীয় ধারণা হলো “The All” বা “The One” নামে পরিচিত সর্বোচ্চ বাস্তবতা, যা একই সঙ্গে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির মধ্যে বিরাজমান। এই ধারণা অনুযায়ী, ঈশ্বর মহাবিশ্বের বাইরে এবং ভিতরেই অবস্থান করে; ঈশ্বরই সমস্ত সৃষ্টি ও অস্তিত্বের উৎস। এই ঈশ্বর বা ‘The All’ অমর, অসীম ও সর্বব্যাপী।

হার্মেটিসিজমে বিশ্বাস করা হয় সমস্ত ধর্ম ও জ্ঞান একটি প্রাচীন ঐক্যবদ্ধ সত্যের অংশ, যাকে Prisca Theologia বা “প্রাচীন ধর্মতত্ত্ব” বলা হয়। এই “প্রাচীন ধর্মতত্ত্ব” মানবজাতিকে প্রাচীনকালে প্রকাশিত হয়েছিল।

আত্মার মুক্তি ও আত্মার উন্নতি হার্মেটিসিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এটি আত্মার ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের পথ হিসেবে বর্ণিত হয়। আত্মা ধীরে ধীরে বস্তুগত বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে “সাত আকাশ” বা গ্রহের স্তর অতিক্রম করে ঈশ্বরের কাছে ফিরে যায়। এই ধারণাটি গ্রিক ও মিশরীয় ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে মিল রয়েছে।

হার্মেটিসিজমে আলকেমি বা রসায়নবিদ্যা শুধু ধাতু পরিবর্তনের বিজ্ঞান নয়, বরং আত্মার পরিশুদ্ধি ও উন্নতির প্রতীকী প্রক্রিয়া। আলকেমির মাধ্যমে “মহান কাজ” বা Magnum Opus সম্পন্ন হয়, যা আত্মার ঈশ্বরতত্ত্বের উপলব্ধি।

আলকেমি তিনটি প্রধান ধাপে বিভক্ত:
কালসিনেশন (Calcination): পুরাতন ও অশুদ্ধ অংশ ধ্বংস করা।
কোয়াগুলেশন (Coagulation): নতুন ও বিশুদ্ধ অবস্থা অর্জন।
পারফেকশন (Perfection): আত্মার সর্বোচ্চ উন্নতি ও ঐক্য।
এই প্রক্রিয়াগুলো আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতীক, যা হার্মেটিসিজমে আত্মার মুক্তি ও আলোকিত হওয়ার পথে অপরিহার্য বলে ধারণা।

হার্মেটিসিজমের সবচেয়ে বিখ্যাত নীতিগুলোর মধ্যে একটি হলো “As above, so below”। এই নীতিটি বোঝায়, মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্তর-সর্বোচ্চ আকাশ থেকে শুরু করে পৃথিবী পর্যন্ত-একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মহাজগতের গঠন ও নিয়মাবলী ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অর্থাৎ যারা মহাবিশ্বের গোপন নিয়ম বুঝতে পারে, তারা নিজেদের আত্মার প্রকৃতিও বুঝতে পারে।

হার্মেটিসিজম পশ্চিমা গূঢ়তত্ত্ব, রেনেসাঁস দর্শন এবং আধুনিক অলৌকিক আন্দোলনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। Hermetic Order of the Golden Dawn, Theosophical Society, এবং অন্যান্য গূঢ়তত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক আন্দোলন হার্মেটিসিজমের শিক্ষাকে আধুনিক যুগে প্রসারিত করেছে।

ল্যাটে না লাচ্ছি ? আমাদের ক্যাফেইন সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য –

ক্যাফেইন-কফি, ল্যাটে কিংবা লাচ্ছি-আজকের শহুরে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে ক্যাফের গরম কফির কাপ কিংবা ঘরোয়া লাচ্ছির গ্লাস যেন সামাজিকতা, আড্ডা ও কাজের অনুপ্রেরণার প্রতীক। কিন্তু এই ক্যাফেইন সংস্কৃতি আমাদের স্বাস্থ্য ও অভ্যাসে কী প্রভাব ফেলছে?

বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে চা-নাশতার প্রচলন থাকলেও গত এক দশকে কফি এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। শহরের ক্যাফেগুলোতে এখন ল্যাটে, ক্যাপুচিনো, এসপ্রেসো, ফ্র্যাপুচিনো-নানান ধরনের কফি পরিবেশন হচ্ছে। কফির বাজার প্রায় ৬০ কোটি টাকার এবং ঢাকায় ৫০টির বেশি প্রিমিয়াম কফি আউটলেট রয়েছে।

এই ক্যাফে সংস্কৃতি শুধু পানীয় নয়, বরং সামাজিক মেলামেশা, কাজের পরিবেশ এবং একাকিত্ব দূর করার মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে। কফি এখন শুধু পানীয় নয়, বরং ‘সোশ্যাল লুব্রিক্যান্ট’ হিসেবে বিবেচিত

ল্যাটে মূলত কফি ও দুধের মিশ্রণ, যেখানে ক্যাফেইনের উপস্থিতি থাকে। অপরদিকে লাচ্ছি হচ্ছে দই, পানি, চিনি ও মশলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের ঠাণ্ডা পানীয়, যাতে ক্যাফেইন নেই। শহুরে তরুণ প্রজন্মের কাছে ল্যাটে বা কফির জনপ্রিয়তা বাড়লেও, গ্রামীণ কিংবা ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে লাচ্ছি এখনও জনপ্রিয়। স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই লাচ্ছির দিকে ঝুঁকছেন, কারণ এতে ক্যাফেইনের ঝুঁকি নেই এবং এটি প্রাকৃতিকভাবে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে।

পরিমিত ক্যাফেইন গ্রহণে কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে- মানসিক সতর্কতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, ক্লান্তি দূর করে, কর্মক্ষমতা বাড়ায়, কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও লিভার রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কফি পান হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে, তবে এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের কিছু নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে- উদ্বেগ, অস্থিরতা, মেজাজ পরিবর্তন ও ঘুমের সমস্যা। রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়া। শরীর থেকে পানি কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি।অতিরিক্ত কফি কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে যাদের হার্টের সমস্যা, তাদের জন্য অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। দিনে ৩-৪ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো।বিকেলের পর ক্যাফেইন এড়ানো ঘুমের জন্য উপকারী। লাচ্ছি বা অন্যান্য ক্যাফেইনবিহীন পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে।হৃদরোগী বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিত।

ল্যাটে হোক বা লাচ্ছি-প্রতিটি পানীয়ের নিজস্ব স্বাদ ও সংস্কৃতি রয়েছে। ক্যাফেইন আমাদের আধুনিক জীবনে কর্মশক্তি ও সামাজিকতার অনুপ্রেরণা দিলেও, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পরিমিতি ও সচেতনতা জরুরি। তাই কফির কাপ কিংবা লাচ্ছির গ্লাস-নিজের শরীর ও মনের কথা ভেবে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

ট্রাম্প ট্যারিফে প্রত্যাশার বেশি , সংকুচিত হয়েছে জাপানের অর্থনীতি

চলতি বছরের প্রথম ধাপে জাপানের অর্থনীতি বার্ষিক হারে ০.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত এক বছরে এই প্রথম কোনো সংকোচনের ঘটনা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ের এই অর্থনৈতিক সংকোচনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি ও রপ্তানি খাতে ধস।

বিশ্লেষকদের মতে এই সংকোচন জাপানের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপিত শুল্কনীতি জাপানি পণ্যের প্রতিযোগিতাশক্তিকে হ্রাস করেছে।

প্রথম প্রান্তিকে জাপানের রপ্তানি ০.৬ শতাংশ হ্রাস পায়, এটি দেশের মোট জিডিপি থেকে ০.৮ শতাংশ পয়েন্ট কেটে নেয়। এর ফলে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ শিল্প, যা বহু বছর ধরে জাপানের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচিত।

একই সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ের ভোগব্যয় স্থবির থাকে, যা জাপানের জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভোক্তাদের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। যদিও পুঁজি বিনিয়োগে ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে, তা সামগ্রিক নেতিবাচক প্রবণতাকে থামাতে পারেনি।
বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলার মতো এ সংকটের আরও একটি দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে প্রবর্তিত “রিপ্রোসিটরি ট্যারিফ স্কিম” জাপানি রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আগামী জুলাই মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র জাপানি গাড়ি ও প্রযুক্তিপণ্যের ওপর ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (BOJ) এখন পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং সংকট মোকাবেলায় মুদ্রানীতির বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে যদি এই সংকোচনের ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হতে পারে।

বৈশ্বিক বাজারে জাপানের বর্তমান অবস্থান নিয়ে StratNews Global-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “জাপানের অর্থনীতি এখন এক জটিল চক্রে ঢুকে পড়েছে—রপ্তানি কমছে, ভোক্তা আস্থা দুর্বল আর বাণিজ্যিক কূটনীতি অনিশ্চিত।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপানের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে একদিকে যেমন বিকল্প রপ্তানি বাজার খুঁজতে হবে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পুনরুদ্ধারে কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে।