গাজায় হামাসকে পরাজিত করা এবং সেখানে থাকা ইসরায়েলি বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে বড় ধরনের একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যদিও এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর হামাস জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে তাদের আলোচকরা নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিনে হাজার হাজার ইসরায়েলি সেনা গাজায় প্রবেশ করতে পারে। সীমান্তে ট্যাংক জড়ো হওয়ার খবর দিয়েছে রয়টার্স।
অপারেশন গিডেওনস’ চ্যারিওটস নামে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর নতুন এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে — গাজার দক্ষিণে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর হামাসের নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো এবং হামাসকে প্রতিহত করা। অভিযানে বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিনশ মানুষ নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় নেতারা ব্যাপক অভিযানের নিন্দা করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার র্টুক বলেছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
তিনি বলেন, “এই সর্বশেষ বোমাবর্ষণ, বাসিন্দাদের জোরপূর্বক স্থানান্তর, বিভিন্ন এলাকাগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা এবং মানবিক সহায়তা না ঢুকতে দেওয়া—সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে গাজায় একটি স্থায়ী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে, যা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং জাতিগত নিধনের সমতুল্য।”
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার কমিশনার জেনারেল ফিলিপ্পে লাজ্জারিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “বোমা, ক্ষুধা ও ঔষধ সংকটের মাধ্যমে আর কত ফিলিস্তিনির জীবন নিশ্চিহ্ন করা হবে?” “নৃশংসতা একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে”। নতুন করে হামলার পর জাতিসংঘ মহাসচিব, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও ইটালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছেন।
এর আগে ৫ মে হামাসকে ধ্বংস করতে এবং গাজার দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযানের কথা বলেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফর শেষ হওয়ার পর সেই অভিযান শুরুর ঘোষণা এল।
সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। কারণ ইসরায়েল খাদ্য ও অন্য সাহায্য সেখানে যেতে দিচ্ছে না।
গাজায় পুনরায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করতে এবং অবরোধ প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার পরও ইসরায়েল হামলা আরো বাড়িয়েছে এবং সীমান্তে সাঁজোয়া বাহিনীও মোতায়েন করেছে। এরপরেই এই অভিযান শুরু হওয়া মানে এতদিনের সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে, শনিবার থেকে দোহায় নতুন করে শুরু হওয়া ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি এবং দুই মাসের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নয় জিম্মিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে হামাস। প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে প্রতিদিন চারশো ত্রাণবাহী ট্রাকের গাজায় প্রবেশ এবং অসুস্থ বা রোগীদের গাজা থেকে বের করে আনার কথা বলা হয়েছে।
জবাবে ইসরায়েল হামাসের হাতে এখনো আটকে থাকা সব জিম্মি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে ইসরায়েল এখনো প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করেনি। তবে তারা এই আলোচনার আগে জানিয়েছে যে, তারা গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার বা যুদ্ধ বন্ধের কোন অঙ্গীকার করবে না। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পর গত ১৮ই মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েলী অভিযানে গাজায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।


