Home Blog Page 100

আফ্রিকায় বন্ধু খুঁজছে , মধ্যপ্রাচ্যে ‘নিঃসঙ্গ’ ইরান –

মধ্যপ্রাচ্যে এখন অনেকটাই ‘নিঃসঙ্গ’ ইরান। হিজবুল্লাহ-হামাস-হুতিদের নিয়ে তেহরান যে ‘প্রতিরোধ বলয়’ গড়ে তুলেছিল তা শত্রু ইসরায়েলের আঘাতে-প্রত্যাঘাতে ‘লণ্ডভণ্ড’। এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সিরিয়া এখন ‘হাতছাড়া’। লেবাননও ‘হাতে নেই’। দীর্ঘ সীমান্তের কারণে প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক আছে তা মূলত ‘স্বার্থ কেন্দ্রিক’। সেখানকার ইরানপন্থি বা ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ যোদ্ধারা এখন যেন ‘শীত নিদ্রায়’।

এক দেশে দুই সরকার থাকার কারণে বন্ধু ইয়েমেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায় এখন ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’। মধ্য এশিয়ার তুর্কী জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত দেশগুলোয় তুরস্কের প্রভাব বেশি। নিকটতম প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও ইরান সেখানে অনেকটাই ‘ব্রাত্য’। দক্ষিণ এশিয়ায় ইরানের গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে।

ইরান এক সময় লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছিল। কিন্তু, তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলা ও কিউবাকে পাশে পেয়েছিল কিছুদিনের জন্য। সময়ের পরিক্রমায় সেখানে ‘শূন্যতা’ সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের খনিজসমৃদ্ধ ইরানের বন্ধু প্রয়োজন। নতুন নতুন বন্ধু।

ইরান সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রেস টিভি জানায়—আফ্রিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইরান। সেই লক্ষ্যেই এপ্রিলে তেহরানে আয়োজন করা হয়েছিল ইরান-আফ্রিকা সম্মেলন। চার দিনের সেই অনুষ্ঠানে মহাদেশটির ৩৮ দেশের ৭০০-র বেশি ব্যবসায়ী অংশ নেন।
ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মন্ত্রীসহ ৫০ জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সম্মেলনে অংশ নেন।

সম্মেলনে ইরানের শিল্প, খনিজ ও বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আতাবেক জানান, বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশে ইরানের রপ্তানি দেশটির মোট রপ্তানির মাত্র তিন শতাংশ ও মোট আমদানির এক শতাংশ। অর্থমূল্যে এটা প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। তিনি এই বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আশা করছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা সদরদপ্তরের পরিচালক জাভেদ দেগঘান হাঘিঘি বলেন, আফ্রিকার বিপুল খনিজ সম্পদ ও বিশাল বাজার ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইরান প্রযুক্তি ও শিল্প সংক্রান্ত তথ্য আফ্রিকার সঙ্গে আদানপ্রদান করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু, পশ্চিমের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরান এমন এক মহাদেশের দিকে হাত বাড়িয়েছে যেখানে এশিয়ার অন্যতম দুই শীর্ষ অর্থনীতির দেশ চীন ও ভারত আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আছে।

এ ছাড়াও, আফ্রিকা থেকে ইউরোপের সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোকে সরিয়ে সেখানে সামরিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইউক্রেনে আগ্রাসনের দায়ে পশ্চিমের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া ইরান আফ্রিকায় কতটা সুবিধা করে উঠতে পারবে তা দেখার বিষয়।

পৃথিবীর কক্ষপথে , চাঁদের ক্ষুদ্র টুকরোর আবিষ্কার

সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের একটি চমকপ্রদ আবিষ্কারে পৃথিবীর কক্ষপথে নতুন একটি মিনিমুন আবিষ্কৃত হয়েছে। মিনিমুন বলতে বোঝায় পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে সাময়িকভাবে বন্দী ছোট আকারের প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা ক্ষুদ্র গ্রহাণু। এই ধরনের বস্তুগুলো সাধারণত কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে, পরে আবার সূর্যের কক্ষপথে ফিরে যায়। নতুন এই আবিষ্কার আমাদের পৃথিবী ও চাঁদের পারিপার্শ্বিক মহাকাশ পরিবেশ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করছে এবং ভবিষ্যতে এর বিভিন্ন প্রভাব থাকতে পারে।

মিনিমুন কী?

মিনিমুন হলো ছোট ছোট গ্রহাণু বা চাঁদের ক্ষুদ্র টুকরো, যা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে সাময়িকভাবে আটকা পড়ে। এগুলো সাধারণত কয়েক মিটার থেকে দশ মিটার পর্যন্ত আকারের হয় এবং খুবই দুর্লভ ও ক্ষণস্থায়ী। পৃথিবীর কক্ষপথে এদের অবস্থান কয়েক মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই মিনিমুনগুলোকে আমরা সাধারণত দেখতে পাই না কারণ এদের আকার ছোট এবং খুবই দুর্বল আলোকিত।

মিনিমুন ২০২৪ PT5 এর আবিষ্কারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সম্ভবত চাঁদের একটি ক্ষুদ্র টুকরো, যা পৃথিবীর চারপাশে সাময়িকভাবে বন্দী হয়েছে। এর আগেও ২০২১ সালে Kamo’oalewa নামের আরেকটি মিনিমুন আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীর কক্ষপথে ছিল এবং সেটিও চাঁদের টুকরো বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এই দুটি আবিষ্কার পৃথিবীর নিকটবর্তী মহাকাশে চাঁদের টুকরোর উপস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

মিনিমুন আবিষ্কার করা খুবই চ্যালেঞ্জিং কাজ। কারণ এদের আকার ছোট এবং তারা খুবই দুর্বল আলোকিত। সাধারণ টেলিস্কোপ দিয়ে এদের শনাক্ত করা কঠিন। তবে আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এই ক্ষুদ্র বস্তুগুলোকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে, লেজার রেঞ্জিং, রাডার পর্যবেক্ষণ এবং স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে মিনিমুনের গঠন, গতি এবং উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

২০২৪ PT5-এর ক্ষেত্রে, এর কক্ষপথ এবং রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি চাঁদের একটি টুকরো। অর্থাৎ এটি চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে কোনো কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে আটকা পড়েছে।

এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যায় চাঁদের কাছ থেকে ছোট ছোট টুকরো পৃথিবীর কক্ষপথে আসা সম্ভব এবং এর ফলে পৃথিবীর নিকটবর্তী মহাকাশে একটি নতুন ধরনের বস্তু থাকতে পারে। এটি চাঁদের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও মহাকাশের পরিবেশ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।

চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই ক্ষুদ্র টুকরোগুলো পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান করে, যা চাঁদের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন যেমন ধ্বংস, সংঘর্ষ বা ক্ষয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। এর ফলে আমরা চাঁদের অতীত ও বর্তমানের পরিবর্তনগুলি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব।

মিনিমুনগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে আমরা চাঁদের উপাদান এবং গঠন সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পেতে পারি। এর ফলে মহাকাশযান পাঠানো ছাড়াই চাঁদের উপকরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি করা সম্ভব হবে, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

চাঁদের টুকরো হিসেবে মিনিমুনগুলোকে বিশ্লেষণ করলে আমরা চাঁদের ভূগর্ভস্থ গঠন, খনিজ পদার্থ এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারব। এটি ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপন বা খনিজ সম্পদ আহরণের পরিকল্পনায় সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তুগুলোর গতিবিধি বোঝা এবং পর্যবেক্ষণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মিনিমুনগুলো আমাদের নিকটবর্তী ক্ষুদ্র গ্রহাণু ও মহাকাশ আবর্জনার গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা ভবিষ্যতে বড় কোনো গ্রহাণুর আঘাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা যেমন NASA, ESA এবং অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই মিনিমুনগুলোর উপর নজর রাখছে এবং ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে আমরা পৃথিবীর নিরাপত্তা ও মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারব।

পৃথিবীর কক্ষপথে নতুন মিনিমুন আবিষ্কার হওয়া আমাদের গ্রহের পারিপার্শ্বিক মহাকাশ পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ধারণা প্রদান করেছে। বিশেষ করে যখন এই মিনিমুনগুলো চাঁদের টুকরো হিসেবে প্রমাণিত হয়, তখন এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। এই আবিষ্কারগুলি শুধু বিজ্ঞান ও গবেষণার নতুন সুযোগই তৈরি করছে না, বরং ভবিষ্যতে পৃথিবীর নিরাপত্তা এবং মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘উজ্জীবিত’ জামায়াতে ইসলামী এখন ব্যাকফুটে –

0

” … জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা এবং জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে জামায়াত-শিবিরের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বলা যায়, জামায়াতে ইসলামী তাদের পুনরুজ্জীবনের সময়টা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে।

… জুলাই অভ্যুত্থানে সব পক্ষের মতো জামায়াত-শিবিরেরও জোরালো ভূমিকা থাকায় একাত্তর প্রশ্নটি নিয়ে তখন কেউ ঘাঁটায়নি। ছাত্রনেতারাও জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা সমালোচনা থেকে দূরেই ছিলেন।

কিন্তু এর মধ্যে তাঁদের কারও কারও বক্তব্য বা লেখা বিতর্ক তৈরি করল। তাঁদের কেউ বললেন, মুক্তিযুদ্ধে এত লোক পাকিস্তানিরা মারে নাই। কেউ বললেন, রবীন্দ্রনাথের গানকে জাতীয় সংগীত করা ঠিক হয়নি।

… এসব কারণ সম্প্রতি এনসিপিপন্থী নেতাদের তীব্র জামায়াত বিরোধিতায় উদ্বুদ্ধ করেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে শাহবাগে জামায়াতপন্থীদের জাতীয় সংগীতের বিরোধিতা এবং গোলাম আযমকে নিয়ে বিতর্কিত স্লোগান।

এই ঘটনা ছিল সবার জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট বা সন্ধিক্ষণমুহূর্ত। এ ঘটনার মধ্য দিয়েই একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিষয়টি আবারও আলোচনা-সমালোচনার ইস্যু হয়ে উঠল রাজনীতিতে। অভ্যুত্থানপন্থী ছাত্রনেতারা বা এনসিপি এ ব্যাপারে বিবৃতিও দিল…একাত্তরে যাঁরা জনযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, তারা অবস্থান ব্যাখ্যা করবে (এই আহ্বান জানিয়ে)।

… চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা লেখক-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব ফরহাদ মজহার যুগান্তরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর জামায়াতে ইসলামী নামে বাংলাদেশে রাজনীতি করা উচিত না। এটা আমাদের এই বাংলাদেশের তার যে জাতিগত সত্তা, বাংলাদেশের যে ইতিহাস, এটা কিন্তু তার বিরোধী। কেন? কারণ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইকে সমর্থন করে নাই।’

… সরকারের উপদেষ্টা ও জুলাই বিপ্লবের আরেক মুখ্য সংগঠক মাহফুজ আলম সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। যে বক্তব্যের পর জামায়াত–শিবির মহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। মাহফুজ বলেছেন, ‘৭১-এর প্রশ্ন মীমাংসা করতেই হবে। যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের ক্ষমা চাইতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। ইনিয়ে-বিনিয়ে গণহত্যার পক্ষে বয়ান বন্ধ করতে হবে।’

… সব মিলিয়ে বলা যায়, জামায়াতে ইসলামী এখন ব্যাকফুটে।…একাত্তর প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। এখন সেই প্রশ্ন আবারও জোরালো হওয়ায় তাদের অগ্রগতি কিছুটা মন্থর হতে পারে।

তবে মনে হয়, জামায়াতে ইসলামী সম্ভবত তাদের নিজস্ব রাজনীতিই করে যাবে। একাত্তর প্রশ্নের সমাধান তারা কীভাবে করবে বা আদৌ করবে কি না, সেটির ওপরও নির্ভর করবে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেক কিছু।”

বাংলাদেশের সস্তা গম আমদানির , বড় উৎস আবার রাশিয়া –

দেশে গমের চাহিদার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। চাহিদার বাকি ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় গম আমদানিতে ব্যয় ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ২০৫ কোটি ডলারের গম আমদানি হয়।

বাংলাদেশে এত দিন সস্তা গমের বড় উৎস ছিল কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন। ৩ বছর আগে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এই দুটি দেশ থেকে গম আমদানি ব্যাহত হয়। যুদ্ধের কারণে সে সময় বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে গম আমদানির বড় উৎস হয়ে উঠেছিল ভারত ও কানাডা।

এখন আবার সস্তা গম আমদানির জন্য রাশিয়ার কাছে ফিরছেন আমদানিকারকেরা। তবে সস্তা গম আমদানির আরেক উৎস ইউক্রেন থেকে আমদানি কমছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের হিসাবে, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) প্রায় ৪৯ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে। এ সময় আমদানি হওয়া মোট গমের ৫৪ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে, যাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার।

আমদানিকারকেরা জানান, দাম কম ও সরবরাহ বেশি থাকায় রাশিয়া থেকে গম আমদানি হচ্ছে বেশি। যদিও একক দেশের ওপর বেশি নির্ভরতা নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থার জন্য ভালো নয়। ব্যবসায়ীরা এখন ব্রাজিল থেকেও সস্তায় গম আমদানি শুরু করেছেন।

বাংলাদেশে দুই ধরনের গম আমদানি হয়। প্রথমত কম আমিষযুক্ত গম, যা কেক, বিস্কুটসহ বেকারিশিল্পের পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই গম আমদানি হয় কৃষ্ণসাগর অঞ্চল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ আমিষযুক্ত গম, যা পরোটা, পাস্তা, নুডলস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই গম আমদানি হয় কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আবার দুই ধরনের গম মিশিয়ে আটা–ময়দা তৈরি হয়। এর বাইরে প্রাণিখাদ্য হিসেবেও গমের ব্যবহার রয়েছে।

বাংলাদেশে ২০০৮–০৯ থেকে একটানা ৮ বছর গমের শীর্ষ উৎস ছিল কানাডা। দেশটি থেকে উচ্চ আমিষমুক্ত গম আমদানি করা হয়। কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও উচ্চ আমিষযুক্ত গম আমদানি হয়, তবে পরিমাণে কম।

সস্তা গমের আমদানি বাড়ায় উচ্চ আমিষযুক্ত গমের আমদানি কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আমদানি হওয়া গমের মধ্যে ৮২ শতাংশই সাধারণ আমিষযুক্ত গম। কয়েক বছর আগেও উচ্চ আমিষযুক্ত গম আমদানির হার ছিল ৩০ শতাংশ।

আমদানির তথ্যে দেখা যায়, গত এপ্রিলে রাশিয়া থেকে গম আমদানি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩১–৩২ টাকা দামে, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। আবার কানাডা থেকে আমদানি হওয়া উচ্চ আমিষযুক্ত গমের কেজিপ্রতি দাম ৩৬ থেকে ৪০ টাকা।

বিএনপির রাজনীতিও এখন আওয়ামী লীগের টাকায় চলে : হাসনাত , জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক

0

শুক্রবার কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত জুলাই সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন — ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আমরা নিষিদ্ধ করতে পেরেছি কিন্তু আওয়ামী লীগের যে ডোনার, আওয়ামী লীগের অর্থ ব্যবস্থা, সেটা এখনো অক্ষত। আমি কুমিল্লায় আছি, যে উপজেলায় আছি, সেই উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন আওয়ামী লীগের টাকায় চলে, বিএনপির রাজনীতিও এখন আওয়ামী লীগের টাকায় চলে।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে শত্রু জ্ঞান করেন না, এটা আমি আপনাদের ভালোর জন্য বলছি।’ তিনি আরো বলেন — ‘৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগ যেভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় জীবন যাপন করতো, এখন এসেও স্বাভাবিক অবস্থায় জীবন যাপন করছে—এটা আমাদের ব্যর্থতা।’

এটি আইন উপদেষ্টারও ব্যর্থতা উল্লেখ করে হাসনাত প্রশ্ন রাখেন, ‘জানুয়ারিতে কথা ছিল দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করার, আমরা জানতে চাই, মে মাসে এসেও কেন দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন হয় নাই? এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত যে আসামিরা রয়েছে, তারা কোন কোর্টে যায়? কোন কোর্টের বিচারক তাদের জামিন দিয়ে দেয়? কারা তারা? এসবের পেছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে?’

আইন উপদেষ্টার উদ্দেশে হাসনাত আরও বলেন, ‘আপনাকে যদি কেউ কাজ করতে না দেয়, যদি কাজ করতে বাধা দেয় সেটা আপনি জাতির সামনে উত্থাপন করুন।’

হাসনাত বলেন, ‘খুনিদের বিচার হচ্ছে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের প্রধান সংস্কার। আমরা এই সংস্কার প্রথমে দেখতে চাই। আমরা নির্বাচনও চাই, সংস্কারও চাই। তবে আমরা চাই, বিচার হবে, সংস্কার হবে; এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নির্বাচন হবে।’

দেশের অর্থনীতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল : বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এখন দেশের অর্থনীতি অনেকটাই স্থিতিশীল। প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ, আর সরকারের খরচ কমে আসায় রিজার্ভও বেড়েছে।

আগে নির্ধারিত দামে ডলার কেনাবেচা হতো, এখন ব্যাংকগুলো গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে দাম ঠিক করতে পারবে। তবে অতিরিক্ত দাম বা সিন্ডিকেট করলে তা বরদাশত করা হবে না বলে জানান গভর্নর। বাজারে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নজরদারি। পাশাপাশি রিজার্ভ থেকে ৫০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করা হয়েছে যাতে দরকার হলে বাজারে ডলার সরবরাহ করা যায়।

এখন প্রবাসী আয় ভালো, রপ্তানি আয়ও বেড়েছে—তাই এই সময়টিকে ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করার জন্য উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে দুই কিস্তির ঋণের টাকা একসঙ্গে ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জুনের মধ্যে ১৩০ কোটি ডলার পাবে। এ ছাড়া ঋণের মোট পরিমাণও বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

আগের কিছু শর্ত পূরণ না হওয়ায় কিস্তির অর্থ আটকে ছিল। এখন ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা, রাজস্ব বিভাগ পুনর্গঠন এবং ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইএমএফের শর্ত পূরণ হয়েছে।

আইএমএফ বলছে, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, তাই সরকারের অনুরোধে তারা ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে।তবে নতুন করে সুপারিশও দিয়েছে, যেমন কর ছাড় কমানো ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংস্কারগুলো সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ এবং জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় জুনের মধ্যে আরো প্রায় ২০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার। এই ৩৫০ কোটি ডলার অর্থ আসলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে এবং মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকবে। ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০২২ সালের শুরুতে ডলারের দামে যে অস্থিরতা শুরু হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তা থেমে গেছে। অর্থ পাচার কমে আসায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়ছে। এতে রিজার্ভও বাড়ছে। এ ছাড়া আর্থিক হিসাবের ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তে পৌঁছেছে, কমে এসেছে চলতি হিসাবের ঘাটতি।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাড়ে ১০ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ২৫ বিলিয়ন বা আড়াই হাজার কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। সেবার প্রবাসীরা পাঠান ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার।

অন্যদিকে আন্তদেশীয় বাণিজ্য নিষ্পত্তি সংস্থা এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বকেয়া পরিশোধের পরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে রয়েছে। মোট রিজার্ভ রয়েছে ২৫ বিলিয়নের ওপরে।

আকাশিক রেকর্ডস – আমরা কি কারও গোপন আর্কাইভে বন্দি ?

বহু প্রাচীনকাল ধরেই নানা সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চিন্তায় এমন এক ধারণা প্রচলিত রয়েছে—সমগ্র মহাবিশ্ব নিজেই একটি স্মৃতি-ভাণ্ডার। সেই স্মৃতির আর্কাইভের নাম ‘আকাশিক রেকর্ডস’। এখানে নাকি রয়েছে প্রতিটি প্রাণের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের অভিজ্ঞতা, চিন্তা, আবেগ ও সম্ভাবনার দলিল। ‘আকাশিক’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘ākāśa’ থেকে, যার অর্থ মহাশূন্য বা অনন্ত শূন্যতা। হিন্দু দর্শনে এটি পঞ্চভূতের একটি, যা শব্দ ধারণ করে। এই “আকাশ” হলো এমন এক চেতনা-স্তর, যেখানে সমস্ত কার্যকলাপ, চিন্তা, কর্ম ও আবেগ ছাপ ফেলে রেখে যায়।
থিওসফিস্ট হেলেনা ব্লাভাটস্কি, রুডলফ স্টেইনার ও পরে এডগার কেইসি এই ধারণাকে পশ্চিমা দর্শনে জনপ্রিয় করে তোলেন। কেইসি দাবি করতেন, ঘুমন্ত অবস্থায় এক গভীর ট্রান্সে গিয়ে তিনি আকাশিক রেকর্ডস থেকে তথ্য আহরণ করতে পারতেন। তাঁর মতে, প্রতিটি আত্মার একটি করে রেকর্ড থাকে, যেখানে জন্মের আগের অবস্থা পর্যন্ত লিপিবদ্ধ। আকাশিক রেকর্ডস-এর প্রতিচ্ছবি আমরা বিশ্বধর্মে বিভিন্ন নামে দেখতে পাই: ইসলাম: ‘লোহে মাহফুজ’ ধারণা অনুযায়ী, ঈশ্বর এক মহা-কিতাবে সব কিছুর পূর্বলিখিত রেকর্ড রেখেছেন।

খ্রিস্টধর্ম: ‘Book of Life’ ধারণা অনুসারে, সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি আত্মার কর্ম রেকর্ড করেন।

মিশরীয় সংস্কৃতি: ‘Book of the Dead’ বলছে, মৃত্যুর পর আত্মা কীভাবে বিচার পায় তার সব তথ্য সেখানে আছে।

বাংলা লোকচিন্তায়: “নসিবের খাতা”, “ফেরেশতার লিখা” বা “কর্মফলের দাগ” প্রবাদে এই ধারণার ছায়া পাওয়া যায়।

প্রতিটি সমাজেই যেন একটি অদৃশ্য তথ্যভাণ্ডারের স্বপ্ন লালন করা হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের অতীত ও ভবিষ্যত। আধুনিক বিজ্ঞানের একটি অংশ, বিশেষ করে কোয়ান্টাম ফিজিক্স আকাশিক রেকর্ডস-এর ধারণাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। ড. আর্ভিন লাসলোর মতে, মহাবিশ্বে এমন একটি ‘অ-লোকাল ইনফরমেশন ফিল্ড’ আছে, যেখানে সব কিছুর ছাপ রয়ে যায়। এটিকেই তিনি আকাশিক ফিল্ড বলছেন। কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন, জিরো-পয়েন্ট ফিল্ড এবং ইনফরমেশন থিওরি আকাশিক ধারণাকে এক নতুন প্রেক্ষিতে হাজির করছে, যদিও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মানদণ্ডে এটি এখনো অনুমানময়।
আকাশিক রেকর্ডস সংক্রান্ত অনেক অভিজ্ঞতা—যেমন Déjà vu, পূর্বজন্মের স্মৃতি, হঠাৎ অন্তর্দৃষ্টি এসব আলোচনায় পড়েছে। কার্ল ইউং-এর Collective Unconscious ধারণা অনুযায়ী, মানব মনের গভীরে একটি চেতনাহীন স্তর রয়েছে, যেখানে প্রজাতিগত অভিজ্ঞতা সঞ্চিত। এ স্তর আকাশিক রেকর্ডস-এর মনোবৈজ্ঞানিক সংস্করণ বলেই ধরা যায়।
তবে false memory, ক্রিপ্টোমনেশিয়া ও স্বপ্ন-সংশ্লিষ্ট বিভ্রম এই অভিজ্ঞতাগুলোর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবেও দেখা হয়। ফলে বিষয়টি একধরনের সংকর জায়গায় দাঁড়িয়ে যেটা আধ্যাত্মিক এবং মানসিক উভয় পর্যায়ে।বর্তমানে বিভিন্ন নিউ-এজ থেরাপিস্ট ও আধ্যাত্মিক কোচ আকাশিক রেকর্ডস অ্যাক্সেস করার প্রক্রিয়া শেখাচ্ছেন। কেউ বলেন এটি ধ্যান বা মেডিটেশন দিয়ে সম্ভব, কেউ আবার হিপনোথেরাপির সাহায্যে এটি করেন।
বিশেষ করে Past Life Regression Therapy-তে অনেকেই বলেন, তাঁরা পূর্বজন্মে কী ছিলেন বা কী ঘটেছিল তা আকাশিক রেকর্ডস থেকে জানতে পেরেছেন। অনেকে এটিকে একটি নিরাময় প্রক্রিয়া হিসেবেও দেখেন।
তবে, এই অভিজ্ঞতাগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা যায় না, এবং placebo বা belief-driven healing এর অংশ হিসেবেই ধরা হয়। আজকের ডিজিটাল বিশ্বে গুগল, ক্লাউড স্টোরেজ ও বিগ ডেটা নিয়ে আমাদের ভাবনার মধ্যেই আকাশিক রেকর্ডস-এর প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। আমরা প্রতিনিয়ত তথ্য জমা রাখছি, ভবিষ্যতের জন্য। এমনকি আমাদের অ্যালগরিদম আজ বলে দিতে পারে, আমরা আগামীকাল কী ভাববো বা কিনবো।
ফেসবুক বা গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে প্রতিটি ক্লিক, মেসেজ, ছবি রয়ে যায়। তাহলে কি মানুষের ভবিষ্যৎ, পূর্বাভাসযোগ্য স্মৃতি ও তথ্যভাণ্ডার নিয়ে আগেকার ধারণা—আজ প্রযুক্তির হাত ধরে বাস্তব হয়ে উঠছে? আকাশিক রেকর্ডস-এর প্রধান দুর্বলতা হলো এর অপ্রমাণযোগ্যতা। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে পুনরুত্পাদনযোগ্য নয়, ফলে এটি মেটাফিজিক্সের গণ্ডিতে থেকে গেছে। বিজ্ঞান যাকে “Evidence-Based” চায়, আকাশিক তত্ত্ব তা দিতে পারে না। তবে এর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, মানুষ চায় তার অস্তিত্বের একটি গভীর ব্যাখ্যা, এমন একটি আর্কাইভ যেখানে তার যাপন-চিহ্নগুলো চিরস্থায়ীভাবে রয়ে যাবে। আকাশিক রেকর্ডস একটি তথ্যভাণ্ডার নয় শুধু; এটি সব কিছু সংরক্ষণ করার, অর্থ খোঁজার, এবং আত্মাকে অনন্ততায় যুক্ত করার মানব মনের গভীর আকাঙ্ক্ষার রূপক।

অমীমাংসিত শৈশব ট্রমা , কীভাবে দাম্পত্যজীবনকে তাড়িয়ে ফেরে ?

জীবনের শুরু থেকে আমরা একটা নির্দিষ্ট ছক অনুসরণ করি—প্রথম শব্দ, প্রথম হাঁটা, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মজীবন, তারপর বিয়ে। কিন্তু এই ‘হ্যাপিলি এভার আফটার’-এর স্বপ্ন অনেকের জন্য এক অদৃশ্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। শৈশবে অভিজ্ঞ হওয়া অব্যক্ত মানসিক ক্ষতগুলো যেন এক নিরব স্যুটকেসে ভরে থাকে, যা হঠাৎই বৈবাহিক জীবনের মধ্যখানে উন্মোচিত হয়—কখনো ঝগড়ার মধ্য দিয়ে, কখনো নীরবতার।

আমরা যখন ‘নিজের সেরা ভার্সন’ হয়ে ওঠার চেষ্টায় থাকি, তখন সেই শিশুদের মতো দুর্বলতাগুলো চাপা পড়ে যায়। কিন্তু সেই পুরোনো ফাটলগুলো বৈবাহিক জীবনের মধ্যে ঢুকে পড়ে। বিশেষত এমন সমাজে, যেখানে পরিবার আর সংস্কৃতির প্রত্যাশা খুব উচ্চ। বছর গড়াতে গড়াতে সেই ফাটলগুলো আরও গভীর হতে থাকে, যতক্ষণ না কিছু একটা আবার সামনে আসে।

একজন মানুষের মানসিক মানচিত্র গড়ে ওঠে শৈশবের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। পিতামাতার ঝগড়া দেখা, অবহেলিত হওয়া, অবিচার সহ্য করা কিংবা মৌখিকভাবে অবহেলার শিকার হওয়া। সেই মানচিত্রই পরে ভালোবাসা, আস্থা আর বিশ্বস্ততাকে বোঝার উপায় হয়ে ওঠে।

বিয়ের শুরুটা অনেক সময় স্বপ্নের মতো। একটা হানিমুন পর্ব, যেখানে সব কিছুই সুন্দর আর নির্ভার লাগে। কিন্তু চিকিৎসা না পাওয়া পুরনো ক্ষতগুলো ধীরে ধীরে ফিরে আসে।

উদাহরণস্বরূপ, জীবনসঙ্গী যদি সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন, তাতে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ছোটখাটো ঝগড়া দেখা দিতে পারে ডিনারের মেনু নিয়ে, অথচ ভেতরে ভেতরে সেটা অবহেলার আশঙ্কা, ত্যাগের ভয় কিংবা পরিচয়ের সংকটে পরিণত হয়।

মনোবিকাশ ফাউন্ডেশনের মনোচিকিৎসক ড. আবদুল হামিদ বলেন, “মানুষ অতীতের মানসিক মানচিত্র অনুযায়ী নতুন সম্পর্কের ফর্ম গড়ে তুলতে চায়।” এই মানসিক কাঠামো থেকেই বৈবাহিক জীবনে সংঘর্ষের উৎস সৃষ্টি হয়। ঢাকার মতো শহরে, যেখানে সামাজিক প্রত্যাশা বিশাল এবং আত্মীয়-স্বজনের মতামত প্রায়শই দাম্পত্যে হস্তক্ষেপ করে, সেখানে মানসিক দুর্বলতা প্রকাশ করাটাই এক ধরনের ‘পরাজয়’ মনে হয়।

এখনো অনেকেই এই সংকটের কথা স্বীকার না করে একসঙ্গে থাকার ভান করে যান। বাচ্চাকে স্কুলে নেওয়া, গৃহস্থালির কাজ, আত্মীয়দের সামনে সম্পর্কের মুখোশ ধরে রাখা—এই সবই এক ধরনের নিজেকে রক্ষা করার প্রয়াস। এই নিঃশব্দ যুদ্ধই জন্ম দেয় মানসিক বিচ্ছিন্নতার, যা প্রায়শই ভুল বোঝাবুঝি ও পরস্পরের উপর নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষায় রূপ নেয়।

বাংলাদেশে শৈশবকালীন ট্রমা খুব সাধারণ ব্যাপার। দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লিঙ্গ বৈষম্য কিংবা পুরুষতান্ত্রিক পরিবারব্যবস্থা এসব ট্রমার পেছনের বড় কারণ। শিশুদের অনেকেই বিশ্বাস করতে শেখে, তাদের চাহিদা তুচ্ছ, তাদের অস্তিত্বই অন্যের বোঝা।

এই অব্যক্ত ক্ষতগুলো বড় হয়ে আরও জটিল হয়—আত্মসম্মানবোধের সংকট, পরিত্যক্ত হওয়ার ভয়, বা অতিরিক্ত মূল্যায়নের প্রয়োজন তৈরি হয়। বিশেষত যেসব শিশু পিতামাতার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখেছে, তারা প্রায়ই নিজেকে দোষারোপ করে। ড. হামিদ বলেন, “তারা ভাবে তারা-ই দায়ী এই বিবাদের জন্য।”

এক চাকুরিজীবী বলেন, “আমি অনেকবার আগে চলে এসেছি, কারণ আমি ভয় পাই। আমি জানি না কখন আমাকে আর চাওয়া হবে না। তাই আমি আগেই সরে যাই, যেন কষ্টটা একটু কম হয়।” এই ধরনের মনোভাবের মূলেও থাকে শৈশবের পরিত্যাগের অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশি নারীরা শারীরিক অবমাননা, গায়ের রঙ নিয়ে কটাক্ষ, এবং চরম সামাজিক বিধিনিষেধের মুখোমুখি হন। পুরুষদের ক্ষেত্রে আবেগ দেখানো দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সংযমই অনেক পুরুষকে দাম্পত্য জীবনে মানসিকভাবে অনুপলব্ধ করে তোলে।

এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “আমি জানি আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি, কিন্তু সেটা প্রকাশ করা কঠিন। ছোটবেলায় কাঁদলে দুর্বল বলা হতো, রাগ দেখালে খারাপ ছেলে। আমার আবেগগুলো চাপা পড়েছে। এখন ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারি না।”

সুস্থ সম্পর্ক গড়তে হলে একে অপরকে শত্রু নয়, বরং একে অপরের ভেতরের ক্ষত বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। চিকিৎসক হামিদের মতে, “তর্ক নয়, কৌতূহল দিয়ে কথা বলা, আত্মপক্ষ সমর্থন নয়, বরং সততার সাথে প্রকাশ করা—এইভাবেই নিরাময় শুরু হয়।”

ঢাকার পাল্টে যাওয়া বাস্তবতা, নতুন প্রজন্মের মনোভাব এবং থেরাপির প্রতি আগ্রহ এক ধরণের আশার সঞ্চার করছে। কিন্তু সামাজিক কলঙ্ক এখনো বিদ্যমান। মানসিক স্বাস্থ্যকে এখনো বিলাসিতা মনে করা হয়।

শেষ পর্যন্ত বিয়ে শুধু দুটি জীবন নয়, দুটি অতীতেরও সম্মিলন। যতক্ষণ না সেই অতীতকে স্বীকার করা হয়, ভবিষ্যৎ থাকে এমন ভূতেদের কাছে বন্দী, যাদের আমরা কখনো নাম দিইনি।

ভালোবাসা টিকে থাকতে চায়, কিন্তু সেই ভালোবাসা যদি ক্ষতের মাটিতে রোপিত হয়, তবে তার শিকড় শক্ত হয় না। আমাদের উচিত নিজের শৈশবকে মেনে নেওয়া, ভেতরের সেই শিশুটিকে জড়িয়ে ধরা এবং শিখে নেওয়া—আবার কিভাবে বিশ্বাস করা যায়, ভালোবাসা যায় এবং ভালোবাসা পাওয়া যায়।

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে ‘বিজয়ের আনন্দ’ চীনে

চীনজুড়ে চলছে বিজয়ের উচ্ছ্বাস। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে ৯০ দিনের জন্য সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্তকে ‘জাতীয় সাফল্য’ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে।

যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প একে তার প্রশাসনের ‘কামিকাজে’ কৌশলের সফলতা বলে দাবি করেছেন। কিন্তু চীনের দৃষ্টিকোণ একেবারেই ভিন্ন—তাদের মতে, মার্কিন বাজারে পতন এবং ভোক্তাদের ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই নতি স্বীকার করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত ১২৫ শতাংশ ‘পারস্পরিক’ শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, অন্তত ৯০ দিনের জন্য। যদিও ফেন্টানাইল পাচারে চীনের ভূমিকার জন্য আরোপিত ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বহাল থাকবে, তবে তার ‘নির্দিষ্টতা’ ইঙ্গিত দেয় যে, তা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা হতে পারে।

চীন দিয়েছে তুলনামূলকভাবে কম। তারা মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়েছে—ফেন্টানাইল বিষয়ক শুল্ক বাদ দিলে যা যুক্তরাষ্ট্রের হারের সঙ্গে সমান। চীন বোয়িং প্লেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, যা তাদের নিজেদেরই প্রয়োজন। বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর সীমাবদ্ধতাও কিছুটা শিথিল হতে পারে।

চুক্তির ফলে আংশিকভাবে বাণিজ্য ফের শুরু হবে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী লড়াই সহ্য করতে পারে না।

বিশ্বের দক্ষিণাংশে (গ্লোবাল সাউথ) চীনের এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। শেনঝেনের চাইনিজ ইউনিভার্সিটির ঝেং ইয়ংনিয়ান বলেছেন, কারও তো দাঁড়াতে হবে এবং বলতে হবে, আধিপত্যবাদ অনুচিত।

এই চুক্তির মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও চীনের কাছে পৌঁছেছে—যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক সংঘাতে জড়াতে যতটা আগ্রহী বলে মনে করা হয়, বাস্তবে তা অনেক কম। ট্রাম্প যদিও বলেছিলেন, ‘এটি ঐক্য এবং শান্তির জন্য দারুণ হবে।’ পরে মার্কিন সরকার স্পষ্ট করে জানায়, তিনি মূলভূমি চীন ও তাইওয়ানের পুনর্মিলন বোঝাননি।

বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিত হলেও কিছুটা উদ্বেগ রয়ে গেছে চীনের জন্যও। প্রথমত, চুক্তি এতটাই চীনের পক্ষে গেছে যে, ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ৯০ দিনের এই সময়কালে জাহাজগুলো দ্রুত পণ্য সরবরাহ করছে, যা এই অনিশ্চয়তারই ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পের নতুন বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় দেখানো সহজ, কিন্তু স্থায়ী চুক্তি করা কঠিন।

লোয়ি ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণ : ‘মিয়ানমারে প্রক্সি যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র’ – একথা গুজব

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনের প্রায় ৯০ ভাগ এলাকা এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এ ভূরাজনৈতিক পালাবদলের ঠিক সমান্তরালে বাংলাদেশেও আসে পরিবর্তন। এর মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রাখাইনে মানবিক করিডোরের বিষয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। চলমান পরিস্থিতি ঘিরেই সম্প্রতি আবারো চাউর হয়েছে পুরনো গুঞ্জন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মিয়ানমারে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ শুরু করতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কল্পিত এ প্রক্সি ওয়ারের সপক্ষে কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই। এর বাস্তবিক কোনো ভিত্তিও নেই। প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উপস্থিতি একেবারেই কম, বিপরীতে গুঞ্জন বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এ গুঞ্জনের পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। প্রথমত, আরাকান আর্মির সঙ্গে সম্প্রতি ভারতের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও গোয়েন্দা পর্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, রাখাইন অঞ্চলে বাংলাদেশ দিয়ে একটি ‘মানবিক করিডোর’ তৈরির বিষয় সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বল্পপরিচিতি বা অখ্যাত ওয়েব পোর্টাল, ইউটিউব চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরেফিরে আসছে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ তত্ত্ব।

বিশেষ করে কিছু কূটনৈতিক ব্লগ, কথিত নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং প্রো-ন্যাশনালিস্ট চ্যানেল এ ধারণা প্রচার করছে যে–যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মাধ্যমে মিয়ানমারে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে, যাতে চীনের কৌশলগত করিডোর বাধাগ্রস্ত হয়। এ বর্ণনায় বাংলাদেশ, তুরস্ক, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলোকেও জড়িয়ে একটি আঞ্চলিক ষড়যন্ত্রের চিত্র আঁকা হয়। লজিস্টিক ও কৌশলগত সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশও নাকি এর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে—এমন দাবিও করা হয়েছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত দাবি, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সীমান্তের পাশে একটি বা একাধিক ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ গঠনের পথ খুলে দিতে চায়, যেন তারা চীনের ইউনান থেকে কিয়াউকপিউ পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এ বিষয়ে বৈশ্বিক রাজনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও কূটনীতি সম্পর্ক বিষয়ক থিংকট্যাংক লোয়ি ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে এসব গুঞ্জনের সবগুলোই অতিশয় কল্পনাপ্রসূত ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। এ ধরনের ভুতুড়ে দাবি বা গুঞ্জনগুলো এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে বড় পরিসরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি বলেই ডালপালা বেড়েছে। ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা বেশকিছু দাবির বিপরীতে সঠিক তথ্য তুলে ধরলেও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এসব তত্ত্ব খুব একটা স্থান পায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমার নীতির পেছনে চীনকে প্রতিহত করার মতো কিছু কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকলেও লোয়ি ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এ ধরনের জটিল অঞ্চলিক সামরিক হস্তক্ষেপ বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। সামরিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি এতটাই জটিল যে, এমন কোনো অভিযান গোপনে করা গেলে তা বেশিদিন গোপনও রাখা প্রায় অসম্ভব।

লোয়ি ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের বিরোধী গোষ্ঠীকে কিছুটা সমর্থন দিয়েছে। তবে তা শুধু মানবিক সহায়তার ও ‘প্রাণঘাতী নয়’ এমন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এর বাইরে সামরিক অস্ত্র বা রসদ সরবরাহের প্রমাণ নেই।

গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু সেলথের মতে, ‘মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরেই অবাধ তথ্যপ্রবাহের অভাব রয়েছে। যে কারণে সবসময়ই গোপন সংযোগ ও গুজবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত হয়েছে। কিছু খবরভিত্তিক ব্লগ ও কথিত গণমাধ্যমের খবর, প্রকৃত তথ্যের অভাব এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রাজনৈতিক ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির প্রতিযোগিতা গুজবের পেছনে জ্বালানির কাজ করছে। আর এ গুজবকে শক্তিশালী করতে চাইছে এমন একটি পক্ষ, যারা বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস বাড়িয়ে অঞ্চলকে আরো জটিল করে তুলতে চায়।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নিজস্ব নীতিগত দ্বন্দ্ব—বিশেষ করে ‘বিদেশী যুদ্ধ এড়িয়ে চলা’ নীতির কারণে—যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক সহায়তা দেবে, এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস বলছে, মিয়ানমারে যে সংকট চলছে তার মূল কেন্দ্রে রয়েছে সেনাশাসিত জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ যুদ্ধ। এ যুদ্ধে জড়িত বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী।

তাদের বিশ্লেষণ বলছে, মিয়ানমার সংকট মোকাবেলায় পশ্চিমা দেশগুলো মূলত অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ চালাচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে অকার্যকরতা দেখা গেছে, যা মিয়ানমারে চীনের প্রভাব বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।