Home Blog Page 35

Oura ring – আঙুলে পরা স্মার্ট স্বাস্থ্য সহায়ক

বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য wearables বা পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলোর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকারের পরে, এক নতুন সূচনা করেছে ‘ওরা রিং’ (Oura Ring)। এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, আঙুলে পরিধানযোগ্য ডিভাইস যা স্বাস্থ্য, ঘুম ও শরীরের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে বিপ্লব ঘটিয়েছে।

ওরা রিং হলো একটি বুদ্ধিমান ফিটনেস ট্র্যাকার যা আঙুলের উপর পরিধান করা হয়। এটি দেখতে একটি সাধারণ আংটির মতো হলেও, এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমানের সেন্সর এবং উন্নত অ্যালগরিদম যা ব্যবহারকারীর শরীরের নানা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। ওরা হেলথ নামের ফিনিশ কোম্পানি ২০১৩ সালে এই প্রযুক্তির উন্নয়ন শুরু করে এবং ২০১৮ সালে বাজারে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পায়। বর্তমানে এটি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

ওরা রিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চতর সেন্সর প্রযুক্তি। এতে রয়েছে:

পালমোনারি হার মনিটরিং:
রিংটি ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন রেকর্ড করে, যা শরীরের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক হারের পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

হার্ভেরিয়েবিলিটি মেজারমেন্ট (Heart Rate Variability – HRV):
এটি স্ট্রেস ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। ওরা রিং নিয়মিত HRV মাপতে সক্ষম।

স্কিন টেম্পারেচার সেন্সর:
শরীরের তাপমাত্রার ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে, যা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংকেত ধরতে সাহায্য করে।

ঘুম পর্যবেক্ষণ:
গভীর ঘুম, হালকা ঘুম, REM (Rapid Eye Movement) পর্যায়সহ পুরো ঘুমের মান নিরীক্ষণ করে।

মুভমেন্ট ট্র্যাকিং:
দৈনিক পদক্ষেপ, গতিবিধি ও শক্তি খরচ পরিমাপ করে।

তাছাড়া এই সব তথ্য ওয়্যারলেসভাবে ওরা অ্যাপ্লিকেশনে পাঠানো হয় যেখানে উন্নত অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর জন্য ব্যক্তিগত সুপারিশ তৈরি করে।

বহু গবেষণায় প্রমাণিত যে ঘুমের গুণগত মান আমাদের স্বাস্থ্য ও মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। ওরা রিং এর মূল ফোকাস ঘুমের বিশ্লেষণে। এটি ঘুমের বিভিন্ন পর্যায় সঠিকভাবে শনাক্ত করে, ঘুমের সময়কাল ও গুণগত মান মাপতে পারে। ব্যবহারকারীর ঘুমের তথ্য থেকে এটি পরামর্শ দেয় কখন এবং কতটা বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে যারা কাজের চাপ বা অনিয়মিত জীবনযাপন করেন, তাদের জন্য ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে রিংটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি (HRV) মনিটরিং-এর মাধ্যমে ওরা রিং শারীরিক স্ট্রেস ও মানসিক চাপের মাত্রা নিরূপণ করে। HRV কম থাকলে বোঝা যায় শরীর খুব চাপের মধ্যে আছে এবং পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার প্রয়োজন। এই তথ্য ব্যবহার করে ওরা রিং ব্যবহারকারীকে পরামর্শ দেয়, যাতে তারা সময়মতো বিশ্রাম নিতে পারেন বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারেন।

আংটির মতো ছোট ও হালকা হওয়ায় ব্যবহারকারী এটি সারাদিন পরতে পারে, যা অন্য ডিভাইসের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।একবার চার্জে প্রায় ৫-৭ দিন ব্যবহার সম্ভব, যা অনেক স্মার্টওয়াচের চেয়ে ভালো।অন্যান্য ফিটনেস ট্র্যাকার বা স্মার্টওয়াচের তুলনায় ওরা রিং শারীরিক ডেটার ক্ষেত্রে বেশি নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করে বলে বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণায় দেখা গেছে।

তবুও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যান্য ফিটনেস ডিভাইসের তুলনায় ওরা রিং এর দাম বেশি, যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রাপ্য নয়। কিছু ফিচার যেমন GPS ট্র্যাকিং বা কল নোটিফিকেশন নেই, যা স্মার্টওয়াচে পাওয়া যায়।

ভবিষ্যতে ওরা রিং-এর আরো উন্নত সেন্সর, এআই-ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য কাজ চলছে। সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি ভূমিকা পালন করবে।

সুজন জরিপ – এক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী চান না ৮৯ শতাংশ মানুষ

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) প্রস্তাবিত জাতীয় সনদের চূড়ান্তকরণে জনমত যাচাইয়ে দেখা গেছে, দেশের জনগণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে বিপুলভাবে মত দিয়েছেন। আজ দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৭৩ জন নাগরিক এবং ১৫টি নাগরিক সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে উঠে এসেছে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না এমন প্রস্তাবে ৮৯ শতাংশ মানুষ একমত। একইভাবে উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাবে ৭১ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন।

আইনসভা সংস্কারের অংশ হিসেবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৬৯ শতাংশ মানুষ। একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, দলীয় প্রধান ও সংসদনেতা তিনটি পদে একসঙ্গে থাকতে পারবেন না, এমন প্রস্তাবে একমত হয়েছেন ৮৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে নিম্নকক্ষে ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে নারী আসন সংরক্ষণের পক্ষে মত দিয়েছেন ৬৩ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষে নারীদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষণের পক্ষে ৬৯ শতাংশ।

বিরোধী দলের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে নিম্নকক্ষে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের পক্ষে ৮৬ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষে একই প্রস্তাবে ৮২ শতাংশ সমর্থন দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাহী বিভাগের এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে ৮৭ শতাংশ সম্মতি দেন।

এ ছাড়া নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে প্রত্যয়ন করে গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশের পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৬ শতাংশ মানুষ। নির্বাচনী ব্যয় নিরীক্ষণ ও অসত্য তথ্য প্রদানকারীদের প্রার্থিতা বা ফলাফল বাতিলের প্রস্তাবে ৮৮ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া প্রস্তাবটি হলো চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা; এতে সমর্থন জানিয়েছেন ৯২ শতাংশ মানুষ।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জরিপের ফলাফল প্রমাণ করে যে জনগণ পরিবর্তন ও সংস্কার চায়। তার মতে, বিদ্যমান পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে এসব পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানের আমূল পরিবর্তন জরুরি। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসও সংস্কার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

নেরুদা সেই কবি যিনি মাটি, মানুষ ও সংগ্রামের ভাষায় বিশ্বকে শোনালেন চিলির হৃদস্পন্দন : নাসরুল্লাহ মাম্ব্রোল, লেখক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক

পাবলো নেরুদা গ্রামকে ভালোবাসতেন, তার কবিতা “মাটি আর বৃষ্টি আর ফল সংগ্রহ করে,” এমনটাই তার দাবি। অথচ তিনি শহরের কর্মচাঞ্চল্য এবং ব্যস্ত বাজারের কোলাহলও পছন্দ করতেন। সরকারের নির্যাতন স্বত্বেও তিনি চিলিকে ভালোবাসতেন । ওয়াল্ট হুইটম্যানের মতো নেরুদাও বৈপরীত্যকে নিজের মধ্যে ধারণ করতেন। তার সমৃদ্ধ জীবন শুধু যে অসংখ্য কবিতা দিয়েছে তা নয়, এর পাশাপাশি তিনি লিখেছেন সংবাদ নিবন্ধ, বক্তৃতা, একটি উপন্যাস, একটি নাটক এবং একটি আত্মজীবনী।

নেরুদার অনুবাদের মধ্যে রয়েছে রেইনার মারিয়া রিলকের কবিতা থেকে শুরু করে শেক্সপিয়রের রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট পর্যন্ত নানা ধরনের লেখা। তার সব সময় খোলা বাড়িতে বিশ শতকের বহু শিল্পী এসেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অক্টাভিও পাজ, ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা, নাজিম হিকমেত, মেক্সিকান চিত্রশিল্পী দিয়েগো রিভেরা এবং স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো। তিনি ছিলেন এমন একজন কবি, যাকে হাজার হাজার ছাত্র, খনি শ্রমিক, প্রেমিক-প্রেমিকা, কৃষক, এমনকি সৈন্য ও পুলিশ কর্মকর্তারাও শ্রদ্ধা করতেন।

যদিও নেরুদা একাডেমিক তত্ত্ব থেকে দূরে থাকতেন, তবুও তিনি তার সরাসরি ভাষাকে তার কৈশোরের “বিশুদ্ধ কবিতা” থেকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া বিবর্তন হিসেবে দেখতেন। দৈনন্দিন জীবনের কবিতায় “অপবিত্রতা” তিনি উপভোগ করতেন, যা – “হাতের শ্রমে অ্যাসিডের মতো ক্ষয়ে গেছে, ঘাম আর ধোঁয়ায় মিশে গেছে, লিলি আর মূত্রের গন্ধ ছড়িয়ে আছে, যা আমরা আইনসম্মত বা বেআইনিভাবে করি, তার বৈচিত্র্যে সিক্ত।” নেরুদা সবুজ কালি দিয়ে তার কবিতাগুলো লিখতেন, এই রঙকে তিনি আশার রঙ বলে মনে করতেন।

পাবলো নেরুদা ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই চিলির পাররাল শহরে রিকার্ডো এলিএসার নেফতালি রেয়েস বাসোয়ালতো নামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা, রোসা নেফতালি বাসোয়ালতো দে রেয়েস, জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মারা যান। তার বাবা হোসে দে কারমেন রেয়েস মোরালেস তাদের নিয়ে তেমুকোতে চলে যান ত্রিনিদাদ ক্যান্ডিয়াকে বিয়ে করতে। এই অঞ্চলের শ্রেণী বৈষম্য তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল; তার বাবা, যিনি একজন রেলওয়ে মালবাহী কন্ডাক্টর ছিলেন, তিনি নেফতালির একজন শিল্পী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করেননি।

ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও নেফতালি লাইব্রেরিতে আশ্রয় খুঁজে পান এবং ভিক্টর হুগো, চার্লস বোদলেয়ার, ওয়াল্ট হুইটম্যান এবং অন্যান্য প্রভাবশালী লেখকদের একজন উৎসুক পাঠক হয়ে ওঠেন। কিশোর নেফতালি স্থানীয় সংবাদপত্রে নিবন্ধ লিখতেন। যখন তিনি কবিতা প্রকাশ করতে শুরু করেন, তখন তিনি তার বাবার থেকে স্বাধীনতা প্রকাশের জন্য “পাবলো নেরুদা” নামটি গ্রহণ করেন। বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে যে তিনি “পাওলো” (ইতালীয় কবিতায় জনপ্রিয়) এবং জান নেরুদা (একজন চেক লেখক যাকে তিনি শ্রদ্ধা করতেন) এর পদবি থেকে এই নামটি তৈরি করেছিলেন।

নেরুদা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে চলে যান। সেখানে তিনি তার কালো পোশাক এবং চওড়া টুপি পরে বোহেমিয়ানদের দলে যোগ দেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে নেরুদা তার প্রথম বই, Crepusculario (দ্য বুক অব টোয়াইলাইট), প্রকাশের জন্য তার সম্পত্তি বিক্রি করে দেন।এই বইটিতে ফরাসি কবি চার্লস বোদলেয়ার এবং অন্যান্য সিম্বোলিস্টদের নান্দনিকতা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই প্রথম বইটি অপ্রত্যাশিতভাবে মনোযোগ পেলেও খুব কম আয় এনেছিল।

১৯২৪ সালে নেরুদার দ্বিতীয় বই Veinte poemas de amor y una canción desesperada (টুয়েন্টি লাভ পোয়েমস অ্যান্ড আ সং অব ডেজপেয়ার) প্রকাশিত হয়, যা তাকে একটি বিশাল এবং অনুরাগী পাঠকগোষ্ঠী এনে দেয়। “আই লাইক ফর ইউ টু বি স্টিল” এবং “টুনাইট আই ক্যান রাইট” এর মতো কবিতাগুলো তরুণ প্রেমিক-প্রেমিকা এবং পণ্ডিত সমালোচকদের হৃদয়ে নেরুদার জায়গা করে নেয়, যারা একজন শোকগ্রস্ত প্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন উচ্ছ্বসিত শিশুর মতো তার সুরের ভারসাম্যকে প্রশংসা করতেন।

সিলন (শ্রীলঙ্কা), জাভা (ইন্দোনেশিয়া) এবং সিঙ্গাপুরে কনস্যুল হিসেবে ভ্রমণের সময় নেরুদা Residencia en la tierra (রেসিডেন্স অন আর্থ) বইটির জন্য প্রথম কবিতাগুলো লেখেন। কবির মতে, এই শিরোনামটি তার ভাষায় বসবাসের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে তিনি তার মাতৃভাষাকে চিলির মাটির স্বাদ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করেন। ইংরেজিভাষী উপনিবেশবাদীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং প্রচুর কাগজপত্রের বোঝায় জর্জরিত হয়ে কবি বিচ্ছিন্ন বোধ করতেন। Residencia-এর তিনটি খণ্ড ১৯২৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত লেখা হয়েছে এবং এতে তার কিছু অন্ধকার এবং পরাবাস্তব কাজ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে “ওয়াকিং অ্যারাউন্ড,” “আর্স পোয়েটিকা,” “ওড উইথ আ ল্যামেন্ট,” “সেক্সুয়াল ওয়াটার” এবং “ওড টু ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা।” ১৯৩৩ সালে নেরুদা লোরকার সাথে পরিচিত হন এবং তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের (১৯৩৬-৩৯) সময় ফ্রাঙ্কো সমর্থকদের দ্বারা লোরকার পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ড শোকাহত নেরুদার কমিউনিস্ট অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে তোলে। Residencia-এর পরবর্তী কবিতাগুলো, যেমন “সং টু স্ট্যালিনগ্রাদ” এবং “টিনা মোডোত্তি ইজ ডেড,” রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে কবির ক্রমবর্ধমান সচেতনতা প্রতিফলিত করে।

১৯৩৯ সালে নেরুদার কনস্যুলশিপ প্যারিসে স্থানান্তরিত হয়। তিনি একটি অসাধারণ কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেন, ২০০০ স্প্যানিশ শরণার্থীর জন্য চিলিতে সমুদ্রপথে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন, যাদের অধিকাংশই ছিল ফ্রাঙ্কোর হাত থেকে পালিয়ে আসা রিপাবলিকান। কবি তার সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বই Canto General এর কাজ শুরু করেন, যার মধ্যে “আমোর আমেরিকা (১৪০০)” এর মতো ভূমি বন্দনা এবং পেরুর ইনকা ধ্বংসাবশেষ মাচু পিচুতে ১৯৪৩ সালের সফরের অনুপ্রেরণায় “দ্য হাইটস অব মাচু পিচু” এর মতো ধারাবাহিক কবিতা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৯৪৫ সালে নেরুদা চিলিতে National Prize for Literature জয় করেন এবং খনি অঞ্চলের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে সিনেটে নির্বাচিত হন। তিনি শীঘ্রই প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গঞ্জালেস ভিদেলার সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন, যিনি ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের দমন করার জন্য শক্তি প্রয়োগ করেছিলেন। নেরুদার Canto বইটিতে “স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোং,” “ইউনাইটেড ফ্রুট কোং,” এবং ১৯৪৮ সালে চিলির সিনেটে তার উস্কানিমূলক বক্তৃতা “আই অ্যাকিউজ”-এর মতো লেখাগুলোতে ক্রোধের প্রকাশ ঘটে, যেখানে তিনি পিসাগুয়া কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই আটক ৬২৮ জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। এই বক্তৃতার পর ভিদেলা নেরুদার পদ বাতিল করেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। কমিউনিস্ট এবং অন্যান্য সমর্থকরা কবিকে চোরা পথে আর্জেন্টিনায় পার করে দেন। এরপর ইউরোপ, চীন এবং ইউএসএসআর-এ কয়েক বছর ভ্রমণ করেন। ১৯৫০ সালের মধ্যে, যখন মহাকাব্য Canto General প্রকাশিত হয়, নেরুদা তখন বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত একজন কবি, একজন রাজনৈতিক নির্বাসিত এবং একজন উৎসাহী স্ট্যালিনবাদী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

১৯৫২ সালে Los versos del capitán (দ্য ক্যাপ্টেন’স ভার্সেস) এর সীমিত সংস্করণ প্রচারিত হয়। লেখক ছিলেন বেনামী; কিন্তু নেরুদার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং বহু বছরের সম্পাদক দেলিয়া দেল ক্যারিল তার লেখার ধরন চিনতে পেরেছিলেন। নেরুদা তখন মাতিলদে উররুতিয়ার সাথে একটি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, যিনি এই কবিতাগুলোর অনুপ্রেরণা ছিলেন এবং পরে তার তৃতীয় স্ত্রী হয়েছিলেন; ১৯৫৯ সালে Cien sonetos de amor (ওয়ান হান্ড্রেড লাভ সনেট) প্রকাশের মাধ্যমে তিনি প্রকাশ্যে তার ভালোবাসার ঘোষণা দেন। নেরুদার প্রেম জীবন ছিল ঝোড়ো, কখনো কখনো মর্মান্তিক। তার আকর্ষণীয় ১৯৫৮ সালের বই Estravagario একজন বিদ্রোহী নির্বাসিত এবং সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতীক হিসেবে কবির দ্বৈত পরিচয়কে সমন্বয় করার চেষ্টা করে। নেরুদাকে প্রায়শই নোবেল পুরস্কারের একজন সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ভাবা হতো, কিন্তু তার শত্রুরাও তার ভক্তদের মতোই নিবেদিত ছিল। কিছু অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল দুর্বল, যেমন এই অভিযোগ যে নেরুদা জেনেবুঝে বলশেভিক বিপ্লবী লিওন ট্রটস্কির একজন হত্যাকারীকে চিলির ভিসা দিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের অক্টোবরে নেরুদা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। সুইডেনের রাজার সাথে অভিনন্দনমূলক করমর্দনের সময়, তিনি তাদের খনিজের প্রতি পারস্পরিক আগ্রহের কথা জানতে পারেন এবং ইস্টার আইল্যান্ড সম্পর্কে কথা বলেন, যা Canto General-এর “রাপা নুই” এর বিষয় ছিল। নেরুদার বাগ্মী নোবেল পুরস্কার গ্রহণ বক্তৃতায় তিনি আন্দিজ পর্বতমালা পার হয়ে ঘোড়ার পিঠে চিলি থেকে পালানোর লোমহর্ষক গল্প বলেছিলেন। সেই কষ্ট তাকে শিখিয়েছিল যে “সেরা কবি তিনিই যিনি আমাদের প্রতিদিনের রুটি তৈরি করেন।” তিনি সোভিয়েত স্বৈরশাসক স্ট্যালিনকে সমর্থন করার জন্য একটি প্রচ্ছন্নভাবে ক্ষমা চান, যার অপরাধ তখন সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী নিকিতা ক্রুশ্চেভ দ্বারা উন্মোচিত হয়েছিল।

নেরুদার শেষ বছরগুলো ক্যান্সারের বিস্তার এবং চিলি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে থাকার ভয় সত্ত্বেও খুব ফলপ্রসূ ছিল। তার কিছু কাজ তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে El mar y las campanas (দ্য সি অ্যান্ড দ্য বেলস) এবং তার আত্মজীবনী Confieso que he vivido। তিনি তার বন্ধু সালভাদর আলেন্দেকে বারবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সমর্থন করেছিলেন। অবশেষে আলেন্দে জয়ী হন, কিন্তু ১৯৭৩ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর জেনারেল অগাস্টো পিনোচেটের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থানে পপুলার ইউনিটি সরকার নিপতিত হয়। প্রেসিডেন্ট আলেন্দেকে তার অফিসে হত্যা করা হয়। সেনাবাহিনী Isla Negra-তে হানা দেয়, এবং শোকগ্রস্ত নেরুদা তাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে বলেন, “চারিদিকে তাকিয়ে দেখুন, এখানে আপনাদের জন্য বিপজ্জনক একটি মাত্র জিনিস আছে – কবিতা।”

বাংলাদেশে বহুমুখী দারিদ্র্যের বাস্তবতা

বাংলাদেশে চার কোটি মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে ভয়াবহ দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। এখানে দারিদ্র্যের মানে শুধু আয়ের অভাব নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক জীবনযাত্রার সুযোগের সীমাবদ্ধতাকেও বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে দারিদ্র্যের জালে আটকা পড়েছে।

বহুমুখী দারিদ্র্যের সূচক (MPI) কীভাবে কাজ করে?

MPI বা মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সূচক মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক থেকে বঞ্চনার মাত্রা পরিমাপ করে। এটি তিনটি প্রধান ক্ষেত্রকে বিবেচনায় নেয়: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং জীবনযাত্রার মান। যদি কোনো ব্যক্তি এই তিনটির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়, তাকে বহুমুখী দরিদ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র আয়ের বাইরে আরও বাস্তব ও সমগ্র দারিদ্র্যের চিত্র পাওয়া যায়।

২০১৯ সালের তথ্যের ভিত্তিতে দারিদ্র্যের মাত্রা

২০১৯ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুসারে, দেশের ২৪ শতাংশ মানুষ বা প্রায় এক চতুর্থাংশ বহুমুখী দারিদ্র্যের কবলে ছিল। যা আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত দারিদ্র্যের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, সামাজিক ও মৌলিক সেবায় বঞ্চনাও একটি বড় সমস্যা।

দারিদ্র্য: এক জটিল বাস্তবতা

দারিদ্র্য মানে কেবল পকেটে টাকা না থাকা নয়। অনেক সময় সামান্য আয়ের মানুষেরাও স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার জল কিংবা বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। এ কারণে দারিদ্র্যকে গোলকধাঁধার মতো ধরা হয়, যেখানে অনেক দরজা বন্ধ থাকে এবং মানুষ সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে।

MPI সূচকের তিনটি প্রধান দিকের বিস্তারিত

শিক্ষা: এখানে স্কুলে উপস্থিতি এবং পড়াশোনার সময়কালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য: পুষ্টি এবং প্রজনন স্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্ত।

জীবনযাত্রার মান: বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, পানীয় জল, বাসস্থান, রান্নার জ্বালানি, সম্পদ এবং ইন্টারনেট সেবার সুবিধা বিচার করা হয়।

এই সব সূচকের মাধ্যমে মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান পরিমাপ করা হয়।

বহুমুখী দারিদ্র্যে বেশি শিকার শিশুরা

১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ২৯ শতাংশ বহুমুখী দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। তবে ২০১২-১৩ সালের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তখন অর্ধেক শিশু দারিদ্র্যের কবলে ছিল। এটির মানে প্রায় ১.৩ কোটি শিশু দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহ, বাসস্থান, সম্পদ ও স্যানিটেশন উন্নতির ফলাফল।

শহর বনাম গ্রামের দারিদ্র্যের পার্থক্য

শহুরে এলাকায় বহুমুখী দারিদ্র্যের হার ১৩ শতাংশ, যা গ্রামীণ এলাকার ২৭ শতাংশের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এর কারণ হতে পারে শহরের উন্নত অবকাঠামো, সেবা ও সুযোগ-সুবিধার বেশি উপস্থিতি। তবে গ্রামীণ এলাকায় এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা দারিদ্র্যের হার বাড়িয়ে রেখেছে।

বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে দারিদ্র্যের বৈষম্য

দেশের বিভিন্ন বিভাগে দারিদ্র্যের হার ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। খুলনায় ১৫ শতাংশ মানুষ বহুমুখী দরিদ্র, যেখানে সিলেটে এই হার ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশের অভ্যন্তরে উন্নয়নের বৈষম্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

জেলা পর্যায়ে চরম বৈষম্য

MPI জরিপ মতে ঝিনাইদহ জেলায় মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ দরিদ্র, কিন্তু বান্দরবানে এই হার ৬৫ শতাংশে পৌঁছায়। কক্সবাজার ও সুনামগঞ্জেও প্রায় অর্ধেক মানুষের জীবনযাত্রা বহুমুখী দারিদ্র্যের মধ্যে। এসব জেলা দেশের সবচেয়ে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত।

বাসস্থান ও নীতিমালা

প্রায় ২১ শতাংশ মানুষের বাসস্থানে উন্নত মেঝে, ছাদ বা দেয়াল নেই, যা তাদের দারিদ্র্যের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, বাসস্থান ও স্যানিটেশন উন্নত করা, ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ানো এবং বিশেষ করে দারিদ্র্যের উচ্চ হার থাকা জেলা ও অঞ্চলে লক্ষ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণ জরুরি। সরকারি ও সামাজিক সহায়তা কার্যকরভাবে প্রয়োগে দেশীয় দারিদ্র্য মোকাবেলায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে যুদ্ধবিরতি

টানা পাঁচ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে সোমবার মধ্যরাত থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এই সংঘর্ষে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ। গত এক দশকের মধ্যে এটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মালয়েশিয়া, আসিয়ান জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের শীর্ষ নেতারা মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বৈঠকে মিলিত হন।বৈঠকে সহিংসতা বন্ধ, সরাসরি যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নে একটি যৌথ কাঠামো গঠনের বিষয়ে সম্মতি হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সাংবাদিকদের বলেন, “এটি শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।” বৈঠকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তার সরকারি বাসভবনে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠকটি চলে।

সংঘর্ষ শুরু হয় গত ২৪ জুলাই সীমান্তবর্তী এলাকায়, যা পরে একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশের মধ্যকার প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষে মূলত বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে শেষ পর্যায়ে কোনো নতুন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি বলে উভয় পক্ষ নিশ্চিত করেছে।

এই যুদ্ধবিরতির পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি ভূমিকা ছিল। সপ্তাহান্তে তিনি উভয় দেশের নেতাদের ফোন করে হুঁশিয়ারি দেন যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে তিনি আর কোনো বাণিজ্য চুক্তি করবেন না। বর্তমানে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩৬ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ট্রাম্পের এই চাপই আলোচনায় অগ্রগতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। মে মাসের শেষ দিকে কম্বোডিয়ার এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর উভয় দেশ সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক সংকটে রূপ নেয় এবং থাইল্যান্ডের দুর্বল জোট সরকার ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই চুক্তি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সীমান্ত বিরোধ সমাধানে সহায়ক হবে।

আবেগের গভীরতাকে শব্দে বেঁধে দেওয়ার কুশলতায় – ফ্রয়েড থেকে ক্রিস্টেবা

জুলিয়া ক্রিস্টেবা আধুনিক দর্শন, মনস্তত্ত্ব এবং ভাষাতত্ত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, যিনি সিগমুন্ড ফ্রয়েডের সাইকোঅ্যানালিসিসের প্রভাব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভাষা ও অজ্ঞানগত চেতনার গভীর সংযোগ নিয়ে এক নতুন তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন। তার কাজ ভাষাকে শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং অজ্ঞান ও চেতনার মধ্যে এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে দেখায়।

ভাষা সাধারণত আমরা যেটাকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চিনে থাকি, তা ক্রিস্টেবার দৃষ্টিতে অনেক গভীর। তিনি দেখিয়েছেন ভাষা শুধু অর্থবহ শব্দের সমষ্টি নয়, বরং এটি আমাদের মনের সেই অজানা স্তরের প্রতিফলন, যা সচেতন মন থেকে অনেক দূরে। অর্থাৎ ভাষার মাধ্যমে ব্যক্তি তার অজ্ঞানিক ভাবনা, আবেগ ও ইচ্ছাকে প্রকাশ করার এক অদৃশ্য পথ তৈরি করে। ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী ‘অজ্ঞান’ হলো আমাদের মানসিক এমন এক স্তর যা সচেতন মন থেকে বিচ্ছিন্ন, কিন্তু যার গভীর প্রভাব আমাদের চিন্তা ও আচরণে থাকে। ক্রিস্টেবা এই ‘অজ্ঞান’ ধারণাকে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশযোগ্য ও উপলব্ধিযোগ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড তার সাইকোঅ্যানালিসিসে মানুষের মনকে সচেতন, অচেতন ও অজ্ঞান অংশে বিভক্ত করেছেন। তার মতে মানুষের অবচেতন ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও দ্বন্দ্ব তাদের আচরণ ও চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই অজ্ঞান অংশ সচেতন ভাষায় সরাসরি প্রকাশ না পেলেও, তা পরোক্ষভাবে প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।

ক্রিস্টেবা ফ্রয়েডের এই ধারণাকে আরও বিস্তৃত করে দেখিয়েছেন যে, ভাষা নিজেই একটি জটিল ক্ষেত্র যা এই অজ্ঞান প্রবাহকে গ্রহণ করে এবং তা প্রকাশের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে উপলব্ধি করতে পারে। তার মতে ভাষার গঠন ও ব্যবহারে অজ্ঞান প্রবাহ নিয়মিত উপস্থিত থাকে এবং এটি ভাষাকে একধরনের “অজ্ঞানিক মঞ্চ” হিসেবে গড়ে তোলে।

ক্রিস্টেবার ভাষাতত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ভাষাকে দুই ভাগে ভাগ করা—“সেমিওটিক” এবং “সিম্বলিক”। সেমিওটিক হলো ভাষার সেই আবেগপূর্ণ, অগঠিত ও অসংগঠিত অংশ যা সুর, ছন্দ, শব্দের আবেগ ও রিদমের মাধ্যমে ব্যক্তির অন্তর্নিহিত অনুভূতি প্রকাশ করে। এটি ভাষার এমন একটি দিক যা শিশুকালীন অভিজ্ঞতা ও অজ্ঞান আবেগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। সেমিওটিক ভাষা অর্থের স্থানে আবেগ ও স্পন্দন স্থাপন করে, যা ভাষাকে কেবল একটি সাংকেতিক ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি করে তোলে।

সিম্বলিক হলো ভাষার নিয়মকানুন ও সামাজিক কাঠামো, যা শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে অর্থ সৃষ্টি করে। এটি ভাষার সেই অংশ যা মানুষের চিন্তা, সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। সিম্বলিক ভাষার মাধ্যমে সমাজ ও সংস্কৃতির নিয়মাবলী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সংরক্ষিত হয়।

ক্রিস্টেবার মতে, এই দুটো স্তর পরস্পরের পরিপূরক এবং একসঙ্গে কাজ করে ভাষাকে একটি বহুমাত্রিক ও গভীর অর্থপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলে।সেমিওটিক স্তর ব্যক্তির অজ্ঞান প্রবাহকে ভাষায় রূপ দেয়, আর সিম্বলিক স্তর সেই ভাষাকে সমাজগত অর্থবোধে রূপান্তরিত করে।

ক্রিস্টেবা ভাষাকে একটি “অজ্ঞানিক অবচেতন” ক্ষেত্র হিসেবে দেখেন, যেখানে ব্যক্তি তার অবচেতন ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা এবং দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটায়।ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত সব কথা সরাসরি ব্যক্তির সচেতন চিন্তার প্রতিফলন নয়, বরং অনেক সময় বিকৃত, বিভ্রান্তিকর বা দ্বৈত অর্থ বহন করে।ভাষার এই ‘বিভক্ত’ ও ‘বিকৃত’ প্রকৃতি ব্যক্তির অজ্ঞানিক জটিলতাগুলোকে প্রকাশ করে, যা প্রথাগত ভাষাতত্ত্ব কিংবা সরল ভাষাগত বিশ্লেষণে ধরা পড়ে না। তাই ক্রিস্টেবা ভাষাকে এক রকম “অজ্ঞানিক নাটক” হিসেবে দেখে যেখানে ভাষার প্রতিটি শব্দ ও বাক্যে গোপনীয় মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে।

ক্রিস্টেবা বিশ্বাস করেন, ভাষার মাধ্যমে আমরা শুধু অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করি না, বরং নিজের অস্তিত্বকেও বুঝতে পারি। ভাষার ব্যবহার আমাদের স্ব-পরিচয় ও আত্ম-অনুধাবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা যখন কথা বলি, লিখি বা চিন্তা করি, তখন ভাষার প্রতিটি স্তর আমাদের আত্মার অজানা দিককে প্রকাশ করে। অবচেতন থেকে উদ্ভূত সংকেত ও আবেগ ভাষায় বিভিন্ন ছন্দ, শব্দচয়ন, কিংবা গঠন নিয়ে আসতে পারে যা আমাদের অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা প্রকাশ করে। ফলে ভাষা হয়ে ওঠে আত্ম-জ্ঞান ও অজ্ঞানতার মধ্যকার একটি সেতু।

ক্রিস্টেবার এই তত্ত্ব ভাষাতত্ত্ব, মনস্তত্ত্ব, সাহিত্য সমালোচনা, নারীবাদী দর্শন এবং সাংস্কৃতিক গবেষণায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আধুনিক সমাজে ভাষা ও চিন্তার মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিচয়ের দ্বন্দ্ব দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে ক্রিস্টেবার ভাষা ও অজ্ঞান সম্পর্কের ব্যাখ্যা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে ভাষার বহুমাত্রিক ব্যবহার ও তার অন্তর্নিহিত অর্থ। বিশেষত, আধুনিক প্রযুক্তি, সামাজিক মাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ভাষার ভূমিকা নতুনভাবে নির্ধারণ করছে। ক্রিস্টেবার তত্ত্ব আমাদেরকে ভাষার অজ্ঞানিক মাত্রা বুঝতে অনুপ্রাণিত করে, যা আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক গবেষণায় নতুন দিক নির্দেশ করছে।

সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা
যদিও ক্রিস্টেবার তত্ত্ব ভাষা ও অজ্ঞান সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, তবুও তার জটিল ভাষা ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনেক সময় সাধারণ পাঠকের জন্য কঠিন মনে হতে পারে। কিছু সমালোচক বলেন তার ‘সেমিওটিক’ ও ‘সিম্বলিক’ বিভাজন ভাষার বহুমাত্রিকতা বোঝাতে কিছুটা অতিরঞ্জিত। তবে এই সমালোচনা সত্ত্বেও ক্রিস্টেবার কাজ আধুনিক দর্শন ও মনস্তত্ত্বে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভাষার মানসিক ও সামাজিক দিকের গভীর অনুধাবনে সাহায্য করে।

জুলিয়া ক্রিস্টেবা ফ্রয়েডিয়ান সাইকোঅ্যানালিসিসের প্রভাব থেকে আধুনিক দর্শনে ভাষা ও অজ্ঞানগত চেতনার সংযোগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার “সেমিওটিক” ও “সিম্বলিক” ভাষাতত্ত্ব ভাষাকে একটি গভীর, বহুমাত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্র হিসেবে উপস্থাপন করে, যা ব্যক্তির অজ্ঞানিক ভাবাবেগ ও অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করে। ভাষার মধ্য দিয়ে আত্ম-জ্ঞান ও অজ্ঞানতার দ্বন্দ্ব অনুধাবনের সুযোগ পেয়ে আমরা আমাদের অস্তিত্বের গভীরতর অর্থ খুঁজে পাই। সমকালীন দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় ক্রিস্টেবার কাজ এখনও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখেছে, যা ভাষা ও চেতনার সম্পর্ক বুঝতে এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।

জাতীয় ঋণের চাপ বেড়ে টেকসই উন্নয়নে ঝুঁকি

জাতীয় ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় দেশের টেকসই উন্নয়ন সংকটে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আব্দুর রহমান খান এফসিএমএ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাজস্ব আয় বাড়ানো অপরিহার্য।

শনিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীতে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ এর বাজেট পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, দেশের মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ বাজেট করা হলেও বাস্তবে রাজস্ব আদায় মাত্র ৮ শতাংশই হচ্ছে। ফলে বাকী ৫ শতাংশ ঘাটতি ঋণ নিয়ে পূরণ করতে হচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক অস্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং ঋণ পরিশোধে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।

মো. আব্দুর রহমান খান এফসিএমএ বলেন, করদাতাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা চলছে। এরই অংশ হিসেবে এ বছর নট ফর প্রফিট সংস্থা ও কিছু সরকারি সংস্থাকে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া রিটার্ন জমার সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৯০ দিনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র কর হার কমানো কর আদায় বাড়াতে পারবে না; করদাতাদের মানসিকতা পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি দেশের ভ্যাট ব্যবস্থার দুর্বলতাও তুলে ধরেন। বর্তমানে দেশে মাত্র ৬ লাখ নিবন্ধিত ভ্যাটদাতা রয়েছে যা খুবই কম। কর ও ভ্যাট ক্ষেত্রে নন-কমপ্লায়েন্টের সংখ্যা বেশি থাকায় কমপ্লায়েন্টদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় অটোমেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার গুরুত্ব তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ কে এম বাদিউল আলম (সদস্য, করনীতি) ও মো. আজিজুর রহমান (সদস্য, ভ্যাটনীতি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে। তারা বাজেটের কর ও ভ্যাট নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে মতামত প্রদান করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এফসিএমএ, প্রেসিডেন্ট, আইসিএমএবি, যিনি বাজেট বাস্তবায়নে এনবিআর ও আইসিএমএবির পেশাগত সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের ঘোষণা দিলো মেটা

মেটা (Meta) ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে আগামী অক্টোবর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রাজনৈতিক, নির্বাচনী ও সামাজিক ইস্যু সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ইইউ-এর নতুন “ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড টার্গেটিং অব পলিটিক্যাল অ্যাডভারটাইজিং” (TTPA) আইন বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। আইনটি ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে এবং এর আওতায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলোর স্পন্সর, লক্ষ্য শ্রেণি ও সংরক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

মেটা জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মগুলোর কারণে তাদের প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন পরিচালনা করা অত্যন্ত জটিল ও আইনগতভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারা বলেছে, “এই নিয়মগুলো আমাদের সিস্টেম ও প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জটিলতা ও আইনি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে, যা আমাদের পক্ষে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” এছাড়া নিয়ম লঙ্ঘন করলে কোম্পানির বার্ষিক বৈশ্বিক রাজস্বের ৬% পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

মেটার এই পদক্ষেপটি গুগলের পূর্বের সিদ্ধান্তের অনুরূপ, যেটি গত বছর একই কারণে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক আলোচনাগুলোকে প্রভাবিত করবে না; ব্যবহারকারীরা এখনও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন, তবে তা আর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হবে না।

ইইউ-এর এই নতুন আইনটি ডিজিটাল সেবার ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আইনটির উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধ করা। তবে কিছু সমালোচক মনে করেন, এই কঠোর নিয়মগুলো ডিজিটাল স্বাধীনতা ও প্রকাশনার স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মেটার এই সিদ্ধান্তটি ইইউ-এর ডিজিটাল নীতিমালার প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য নতুন নিয়মের সাথে খাপ খাইয়ে চলার ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। এই পদক্ষেপটি ইইউ-এর ডিজিটাল সেবার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নেতাকর্মীদের শিগগিরই দেশে ফেরার আশ্বাস দিয়েছেন – তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বিকালে রাজশাহী মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, অতি শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা হবে।’ দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর রাজশাহী নগরের পাঠানপাড়া এলাকায় মহানগর বিএনপির এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন এবং রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদসহ আরও অনেকে।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ, যেখানে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখে তাদের আশা জাগিয়েছে। তাই নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সামনে অনেক কাজ, অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জনগণ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে, তারা আস্থায় রাখতে চায়। যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকা যায়, তাহলে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব হবে না।’ পাশাপাশি তিনি দেশের রাষ্ট্র মেরামত ও উন্নয়নের জন্য ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশের ওপর ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব নিয়ে তারেক রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ফারাক্কার কারণে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে এবং একসময় সুজলা-সুফলা সবুজের ছায়ায় ভরা অঞ্চলটি ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পানি সম্পদ রক্ষায় আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘে যেতে হবে এবং পানির যথাযথ হিস্যা ফেরত আনতে হবে।

দেশের ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা বিএনপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় আসলে বিএনপি রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও মেরামতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে এবং মানুষের কল্যাণে বিএনপির কাছে একটি সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ দল হওয়াটা সময়ের দাবি। তাই দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির এই সম্মেলন রাজনৈতিক গতিশীলতার প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সময় পর এই অঞ্চলে এমন বৃহৎ রাজনৈতিক মিলন উৎসবের আয়োজন বিএনপির সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনগণের আস্থা ও আশা অর্জন এবং দেশের বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় দলের ঐক্য ও প্রস্তুতির বার্তা দেন তারেক রহমান।

ক্রিস্টোফার নোলানের Interstellar সময়ের সীমানায় মানবতার অর্থকে পুনর্নির্মাণ করে : ম্যাট জোলার সাইটস, RogerEbert.com

ক্রিস্টোফার নোলানের “ইন্টারস্টেলার” যেখানে কিছু মহাকাশচারী মানবজাতির ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর বিকল্প নতুন বাসস্থান খুঁজতে গ্যালাক্সির এক প্রান্তে যাত্রা করে। চলচ্চিত্রটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যস্ত, আর শব্দের মাত্রা এতটাই উচ্চ যে কানে লাগে। যেসব দৃশ্য হয়তো খুব উত্তেজনাপূর্ণ নাও হতে পারত, সেগুলোকেও বুমিং মিউজিক দিয়ে বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চরিত্ররা একে অপরকে অজস্র ব্যাখ্যা ও তথ্য শোনায়, আর এদের মধ্যে কয়েকজনের নিজের কোনো গভীর চরিত্রায়ণই নেই, তারা যেন কেবল প্রযুক্তি-সংক্রান্ত সংলাপ ও দার্শনিক বিতর্কের মুখপাত্র।

নোলানের ফিল্মে শুটিংয়ের প্রতি অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও, ৩৫মিমি ও ৬৫মিমি ফিল্মের স্পর্শকাতর সৌন্দর্য সিনেমাটোগ্রাফির গঠনশৈলীতে সেভাবে প্রতিফলিত হয়নি। নোলানের ক্যামেরা সচরাচর গল্প বলে না; বরং এটি শুধু চিত্রনাট্যকে “চিত্রিত” করে। মাঝে মাঝে মনে হয় যেন আমি সবচেয়ে ব্যয়বহুল এনবিসি টিভি সিরিজের পাইলট এপিসোড দেখছি।

তবু “ইন্টারস্টেলার” এক অনবদ্য, কখনও কখনও বিস্ময়কর চলচ্চিত্র, যা আমাকে এতটাই আচ্ছন্ন করেছিল যে নোলানের কাজ নিয়ে আমার সাধারণ আপত্তিগুলো গলে গিয়েছিল। প্রথম অনুচ্ছেদে আমি সেই আপত্তিগুলো সাজিয়ে বলেছি (যা “ব্যাটম্যান বিগিনস”-এর পর তার প্রায় সব সিনেমার জন্য প্রযোজ্য)। আপনি নোলানের এই ধরণকে ভালোবাসবেন নাকি বিরক্ত হবেন, তা নির্ভর করবে তার স্টাইলের প্রতি আপনার টান কতটুকু।

যা-ই হোক সিনেমাটিতে এক ধরনের নির্মল ও শক্তিশালী কিছু আছে। আমার মনে পড়ে না, এর আগে এমন কোনো সায়েন্স ফিকশন ছবি দেখেছি যা বড় পরিসরে “দর্শক মাতানোর” মতো করে বিক্রি হলেও এত বেশি আবেগময় দৃশ্য দেখিয়েছে—যেখানে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্ররা ক্যামেরার সামনে খোলাখুলি কেঁদেছে, গলা ধরে এসেছে, চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়েছে। ম্যাথিউ ম্যাককনাহে’র বিধুর মহাকাশচারী কুপার এবং তার সহকর্মী আমেলিয়া ব্র্যান্ড (অ্যান হ্যাথাওয়ে) একাধিকবার কেঁদেছে এবং যৌক্তিক কারণেই। “এনডিউরেন্স” নামের মহাকাশযানের প্রতিটি ক্রু সদস্য তাদের প্রিয়জন, স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং পৃথিবী সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন। অন্য চরিত্ররাও যেমন ব্র্যান্ডের বাবা (মাইকেল কেইন), একজন একাকী মহাকাশ অনুসন্ধানকারী (অপ্রকাশিত অতিথি অভিনেতা) নিঃসঙ্গতা ও সন্দেহে ভুগছে, যা নোলানের জন্য অস্বাভাবিক রকম কাঁচা আবেগ। কুপারের পরিবার কর্নক্ষেতের একটি ফার্মে থাকে, যা “ফিল্ড অব ড্রিমস”-এর শান্ত আইওয়া কৃষকদের মতো লাগে। অবশ্য এই কর্ন মানবজাতিকে বাঁচানোর জন্য, এমন এক পৃথিবীতে যেখানে পরিবেশ এতটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত যে শুরুতে আমেরিকার ১৯৩০-এর দশকের ডাস্ট বোল বলে ভুল হয়। তবু মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন এক গল্পে কর্নকে প্রধান খাদ্য হিসেবে রাখা খানিকটা মজারই বটে।

সবচেয়ে আধুনিক সায়েন্স ফিকশন ভিজ্যুয়ালগুলো এখানে ব্যবহৃত হয়েছে পোস্টকার্ডধর্মী নৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য। মানুষ কেমন করে বাঁচা উচিত, জীবনে আসল গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কী। (“আমরা মৃত মানুষকে ভালোবাসি—এর সামাজিক উপকারিতা কী?”, “দুর্ঘটনা হলো বিবর্তনের প্রথম ধাপ।” ) বোঝা যায় যে নোলান ভাইয়েরা এখানে “২০০১: এ স্পেস অডিসি”-র মতো বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদী সিনেমা বানাতে চাননি। বরং সায়েন্স ফিকশন কেবল একটি আবরণের মতো—ভেতরে আছে মানবজাতির প্রাথমিক চাহিদা (বাড়ি, পরিবার, রক্তের ধারাবাহিকতা), আর শোকের গল্প—প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা, হোক সেটা মৃত্যু, অসুখ বা দুরত্বের কারণে।

যদিও “ইন্টারস্টেলার” সম্পূর্ণভাবে অলৌকিক বা অযৌক্তিক কোনো জগতে প্রবেশ করেনি, তবু এতে এক ধরনের মরমী ধারা আছে যা নোলানের মতো যুক্তিবাদী গল্পকারের জন্য অস্বাভাবিক। এখানে ধুলো দিয়ে বার্তা লেখে এক “ভূত”। দূরের রেডিও সিগন্যালগুলো পড়া হয় প্রাচীন মৃত ভাষার মতো। কেউ কেউ বছরের পর বছর আগের ভিডিও দেখে চোখ লাল করে ফেলে—যেন তারা সেই মুহূর্তে প্রিয়জনের কাছে ফিরে গেছে। এক নারী বাবার স্মৃতিতে তাড়িত, আরেক নারী প্রিয়জনের থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে।

নোলানের অন্য যে কোনো ছবির চেয়ে এখানে শোক, বিশ্বাস ও অনুভূতির ওপর জোর বেশি। সবচেয়ে শক্তিশালী দৃশ্যগুলোর অনেকগুলোই কাহিনি এগিয়ে নেওয়ার জন্য নয় বরং চরিত্রদের কাজের মানে নিয়ে ভাবার জন্য। এর মধ্যে সেরা হলো উৎক্ষেপণ দৃশ্য—যেখানে কুপার পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে, সেই দৃশ্যের সঙ্গে মহাকাশযান ছাড়ার মুহূর্ত মিলিয়ে গেছে। মাইকেল কেইন পড়ছেন ডিলান থমাসের কবিতা “Do Not Go Gentle Into that Good Night”—“Rage, rage against the dying of the light।”

চলচ্চিত্রের প্রশস্ত ভিজ্যুয়ালগুলোতে দেখা যায় কঠোর গ্রহপৃষ্ঠ, বিশাল স্টারশিপ মডেল, আর মহাকাশের নীরবতা—যা “২০০১”-এর বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা মেনে তৈরি। কিন্তু সব প্রযুক্তিগত ঝলকের পরও “ইন্টারস্টেলার”-এর আছে পুরনো দিনের সিনেমার মনোভাব, একই সঙ্গে অনেক কিছু হওয়ার চেষ্টা। অ্যাকশন, কৌতুক, ব্যাখ্যামূলক সংলাপ, মনমুগ্ধকর দৃশ্য, আর নীরব, সাদাকালো-টোনের আবেগময় মুহূর্ত—সব মিলিয়ে যেন স্টিভেন স্পিলবার্গের পুরোনো দিনের ছবি।

ম্যাককনাহে এই ধরনের ছবির জন্য সঠিক নায়ক। কুপার নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার, মহাকাশচারী ও কৃষক হিসেবে পরিচয় দিলেও, তার ভেতরে এক রোমান্টিক কবি আছে। মেয়ে মার্ফকে (শিশু বয়সে ম্যাকেনজি ফয়) বিদায় জানানোর দৃশ্য উষ্ণ আলোয় ভরা, যেন “টু কিল আ মকিংবার্ড”-এর বারান্দার দোলনার মুহূর্ত। বড় হয়ে মার্ফ (জেসিকা চ্যাস্টেইন) হয়ে ওঠে নাসার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তবু সেই বিদায়ের মুহূর্তের বেদনা যেন সবকিছুর চালিকাশক্তি।

চলচ্চিত্রের গল্প বলার সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে আপেক্ষিকতার নিয়ম থেকে, মহাকাশচারীদের সময় অনুভূতি ভিন্ন, ফলে কিছু জায়গায় কয়েক মিনিটই পৃথিবীতে বছরের সমান। আর পৃথিবীতে এই সময়ে মানুষ বুড়িয়ে যাচ্ছে, আশা হারাচ্ছে। এখানে সময়ই সবকিছু যা আমরা সবাই ভয় পাই। প্রতিটি কাজ একপ্রকার প্রতিরোধ, যেন বলা হচ্ছে আমরা সহজে হার মানব না।