মব জাস্টিসের মতো ঘটনা কোনোভাবে বরদাশত করা হবে না। গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন- ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো যাবে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশে একটা ঐকমত্য আছে। এমনকি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যারা করেন তারাও এ ব্যাপারে একমত। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল পরিচালনা দুটো আলাদা বিষয় বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন- দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। সবার মতামত গ্রহণ করে সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করবে। তবে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যে অপরাজনীতি করেছে সেই রাজনীতি যেন ক্যাম্পাসে ফিরে না আসে সেটা আমাদের অঙ্গীকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। মাহফুজ আলম আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা হলো মব জাস্টিসের (গণপিটুনি) মতো ঘটনা কোনোভাবে বরদাশত করা হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অপরাধ করলে আইনানুযায়ী তার বিচার হবে। মাজার ও মন্দিরে হামলা বা কোনো ব্যক্তি আক্রোশের কারণে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
দিন শেষে রাজনীতির বাইরে কিছুই নাই। রোববার থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সফর শুরু হয়েছে। গতকাল মুন্সীগঞ্জের সভায় সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন- হাসিনার জায়গায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জায়গায়, প্রশাসন এবং সংসদের মতো জায়গায় আপনাদের মতো ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের মানুষগুলো যদি অংশ না নেয়, তাহলে কোনো না কোনো ফ্যাসিস্ট দ্বারা কয়েক বছর পর আবারও এই দেশ পরিচালিত হবে। … আপনি যদি চান যোগ্য মানুষগুলো, মেধাবী মানুষগুলো দেশের কার্যক্রম পরিচালনায় যাক, আপনি যদি চান দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং শিক্ষিত প্রজন্মটি ওই সংসদে গিয়ে আপনার জন্য নীতি নির্ধারণ করুক, তাহলে হয় আপনাকে রাজনীতিবিদ হতে হবে, না হয় আপনাকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে। কারণ, দিন শেষে রাজনীতির বাইরে কিছুই নাই। আন্দোলন কীভাবে সফল হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে সারজিস বলেন– গত ১৬ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে স্বৈরাচার সরকারের পতনের চেষ্টা করেছে। তারা সরকারের একটি খুঁটিও টলাতে পারেনি। মেধাবী ছাত্র-জনতা যখন রাজপথে নেমেছে, একটি গ্রুপ তত্ত্বীয় পড়াশোনা করেছে, বাস্তব ইতিহাস ঘেঁটেছে, এগুলোর সঙ্গে রিলেট করে কর্মসূচিগুলো দিয়েছে, তখন আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে।
সংবিধানটা কাদের? সংবিধানটা কি সর্বজনীন হয়েছে? গতকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভায় এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন- আমরা এখনই রাজনৈতিক দল গঠন করব কি করব না, এটা বলছি না। তবে আমরা যদি গঠন করি, তাহলে আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ কেমন হবে? এই মতাদর্শ নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। নয়তো একটা প্রশাসনিক ফ্যাসিস্ট কাঠামো তৈরি হবে। সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন- এখন প্রশ্ন এসেছে, আপনারা যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করবেন, সেটি চব্বিশকে ভিত্তি করে করবেন, নাকি একাত্তরকে ভিত্তি করে? কারণ, একাত্তরকে ভিত্তি করে যদি করেন, তাহলে সেটি ছিল আওয়ামী বয়ানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটিকে বিকৃত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ কি শুধু আওয়ামী লীগের ছিল? আপনারা সংবিধানের দিকে দেখেন, সংবিধানটা লেখা হয়েছে সত্তরের নির্বাচনের ভিত্তিতে। আর সত্তরের প্রতিনিধি ছিল আওয়ামী লীগ। তাইলে সংবিধানটা কাদের? সংবিধানটা কি সর্বজনীন হয়েছে? … আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনাকে চিন্তা করতে হবে। আপনি একাত্তরের উত্তরাধিকার বজায় রাখবেন কি না, সত্তরের গণ পরিষদের উত্তরাধিকার বজায় রাখবেন কি না। নাকি চব্বিশে যে প্যারাডাইম শিফট হয়েছে, সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে চান কি না।