Home Blog Page 260

সীমান্ত হত্যা : ঢাকার প্রতিবাদ – দিল্লির নীরবতা

সীমান্ত হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিবাদের কোনো ব্যাখ্যা এখনও ভারত দেয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন- সীমান্তে মানুষ হত্যা করে ভারতের কোন লাভ হচ্ছে না। এ থেকে দেশটির বের হয়ে আসা উচিত। সীমান্ত হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিবাদের এখনো কোন ব্যাখ্যা দেয়নি ভারত। দুই দেশের স্বার্থে এটা বন্ধ হওয়া উচিত। সীমান্তে হত্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এরপরেও বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা।

সবশেষ গত সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে কিশোর জয়ন্ত কুমার সিংহ (১৫) বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। এসময় কিশোরের বাবা মহাদেব সিংহসহ আরেকজন আহত হন। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক সীমান্তে কিশোরী স্বর্ণা দাস নিহত হন। এ ঘটনার পর গত ৫ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কড়া প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা গণমাধ্যমকে বলেন- বাংলাদেশের সাথে ভারতের গভীর সম্পর্ক আছে। দুই দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে চায় ভারত। দুই দেশের সম্পর্ক চলমান রেখে সামনে আরও কাজ করতে নিজ দেশের আগ্রহের কথাও জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। এসময় সীমান্ত হত্যার বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাইকমিশনার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


সরকারের এক মাসের কাজে বিএনপি’র সন্তোষ – অসন্তোষ !

সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের এক মাসের কর্মকাণ্ডের প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে বিএনপি। তাতে আইন, বিচার বিভাগসহ সরকারের নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে দলটি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু না হওয়া এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ (রূপরেখা) না আসায় দলটি অসন্তুষ্ট।

প্রশাসনের উচ্চ পদে রদবদলে কোনো কোনো উপদেষ্টার কার্যক্রম নিয়ে তাদের প্রশ্ন আছে। বিএনপি মনে করছে, বিগত সরকারের সহযোগী ও আশীর্বাদপুষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হচ্ছে বা নিয়োগ পাচ্ছেন। ৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় সমাবেশে তারেক রহমান বলেন- যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের ভোটাধিকার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে শিগগিরই কর্মসূচি শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকেও মাঠে সক্রিয় করবে। ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ঢাকায় বড় জমায়েত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি। সভায় ঢাকার বাইরে সফরের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে দেওয়া চিঠি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সামনের দিনে জামায়াত কী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তা পর্যবেক্ষণে রেখে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করার ওপর জোর দিয়েছেন কেউ কেউ।

এককভাবে ছাত্ররা দেশ চালাতে পারবে না : জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের গতকাল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ছাত্র সমাজের সাথে মতবিনিময়ে বলেছেন- সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, ছাত্ররা রাজনীতিতে আসতে চায় না। কেউই বুঝতে পারেনি ছাত্ররা এতটাই রাজনীতিসচেতন। প্রমাণ করেছে, ছাত্ররা আমাদের চেয়ে বেশি রাজনীতি বোঝে।

তিনি বলেন, ছাত্রদের প্রধান শক্তি হচ্ছে একতা। দ্বিতীয় শক্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা। ছাত্রদের প্রতি জনগণের আস্থা ছিল, তাঁরা দেশের জন্যই আন্দোলন করেছে। সে জন্যই ছাত্রদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে এবং ক্ষমতা ও লোভ-লালসার বাইরে থাকতে হবে। রাজনীতির অনেক জটিল হিসাব-নিকাশের কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন- আওয়ামী লীগ মাঠে নেই, কিন্তু তাদের একটি সমর্থক গোষ্ঠী আছে। আগামী নির্বাচনে তাদের একটা ভূমিকা থাকবে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে বিএনপি ক্ষমতায় না এসেই তাদের নেতা-কর্মীরা যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে, তা সাধারণ মানুষ পছন্দ করছে না। রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে বিএনপির মুখোমুখি অবস্থা। কেউ দখলবাজি শুরু করলে ছাত্ররা তার প্রতিবাদ করছে। শেষ পর্যন্ত জনগণ কার পক্ষে থাকবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বর্তমানে দেশে বিশৃঙ্খলা আছে মন্তব্য করে জি এম কাদের বলেন- এটা চলতে থাকলে জনগণ এই সরকারের ওপর বিরক্ত হয়ে উঠবে। আবেগ ও জীবন দিয়ে দেশ রক্ষা করা যায়, কিন্তু দেশ চালানো যায় না। দেশ চালাতে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দরকার হবে। এককভাবে ছাত্ররা দেশ রক্ষা করতে পেরেছে, কিন্তু এককভাবে ছাত্ররা দেশ চালাতে পারবে না।

এত লোডশেডিং – এর কারণ কি ?

দেশে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ইনস্টলড ক্যাপাসিটি ২৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। এর মধ্যে শুধু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। তবে গ্যাস সংকটের কারণে চালানো যায় সর্বোচ্চ ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট, বাকি সক্ষমতা ব্যবহার করা যায় না। গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে অপারেশনে নেই সামিটের এলএনজি টার্মিনাল। গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলভিত্তিক ৬ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলেও উচ্চমূল্য ও জ্বালানি সংকটে দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ব্যবহার করা হয় না। বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে। ভারতের সঙ্গে আমদানি চুক্তি রয়েছে ২ হাজার ৭৬০ মেগাওয়াটের (আদানি ও জিটুজি মিলিয়ে), যা চাহিদার ২০ শতাংশের কাছাকাছি। আদানি গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ কোম্পানিটির পাওনা বেড়েই চলেছে; এ পরিস্থিতি ব্যবসা চালানোর জন্য ‘টেকসই নয়’। বকেয়া বেড়ে যাওয়ায় বিপিডিবিকে জিটুজির আওতায় আনা বিদ্যুতের সরবরাহও কমিয়ে দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো। কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্রগুলো রয়েছে বড় আকারের জ্বালানি সংকটে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া থাকায় জ্বালানি তেলও আমদানি করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে এরইমধ্যে ৫২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার দিনাজপুরের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি সংকটে সার উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ সীমিত হচ্ছে।

ব্যাংকে আস্থা ফিরছে মানুষের, আমানত বাড়ছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ৮ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন- ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরতে শুরু করায় আমানত বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যাংকে জমা রাখা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তিনি বলেন- কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় না কোনো ব্যাংক বন্ধ হোক। আগেই দেউলিয়া পর্যায়ে চলে যাওয়া ব্যাংকগুলোকে কারিগরি আইনগত ও তারল্য সহায়তা দিয়ে ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১০টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করা হয়েছে। দ্রুত এসব ব্যাংক ঠিক হয়ে আসবে বলে আশা করা যায়। বিফল হলে প্রয়োজনে একীভূত করে দেওয়া হবে ।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতের বাইরে ৭০ হাজার কোটি টাকা চলে গিয়েছিল জানিয়ে গভর্নর বলেন- এ কারণে টাকা তোলার ওপর সীমা আরোপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে ফেরত এসেছে। টাকা উত্তোলনের সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে। গভর্নর জানান- আর্থিক খাতের জন্য তিনটি টাস্কফোর্স আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবে। ব্যাংক খাত সংস্কার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালী করা এবং সম্পদ আদায়ের জন্য এসব টাস্কফোর্স কাজ করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এসব টাস্কফোর্স গঠন হবে। গভর্নর বলেন- বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা বিএফআইইউ থেকে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি। করা হবেও না। কেননা বাংলাদেশ ব্যাংক চায় সব প্রতিষ্ঠান চালু থাকুক। উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়। কেউ যেন কর্মসংস্থান না হারায়। তিনি জানান-ঋণ পুনঃতপশিল, পুনর্গঠনসহ অনেক ক্ষেত্রে কয়েকজনকে সুবিধা দিতে বিভিন্ন নীতিমালা করা হয়েছে। প্রতিটি নীতিমালার পর্যালোচনা হচ্ছে। … এস আলমসহ বড় সব ঋণখেলাপির সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তাদের কোথায় কী সম্পদ আছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ

রয়টার্স জানিয়েছে-শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে নতুন আইন করার পরিকল্পনা করছে অস্ট্রেলিয়া। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম-টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ব্যবহারের জন্য সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৪ বা ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁধে দিতে পারে দেশটি। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে ডিজিটাল অধিকারের সমর্থকরা এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলছেন- এ সিদ্ধান্ত কিশোরদের ডিজিটাল জগতে অর্থবহ ও স্বাস্থ্যকর অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করে তাদেরকে নিম্নমানের অনলাইন স্পেসে ঠেলে দিতে পারে। এ আইন কার্যকর হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা আরোপ করা বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর মধ্যে একটি হবে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও কয়েকটি দেশের এমন উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন অধিকার খর্ব করার অভিযোগ ওঠায় সেসব উদ্যোগ ভেস্তে যায়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিস এবিসি নিউজকে বলেন- আমি বাচ্চাদের ডিভাইস থেকে দূরে রেখে ফুটবল মাঠে, সুইমিং পুলে আর টেনিস কোর্টে দেখতে চাই। আমরা চাই, ওরা যেন মানুষের সঙ্গে মিশে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে পারে, কারণ আমরা জানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সামাজিক ক্ষতি করছে। আলবানিস বলেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সাইবার বুলিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে তিনি চিন্তিত।

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত মূল লক্ষ্য

জাতীয় নাগরিক কমিটি’র সদস্য সচিব সাবেক ডাকসু নেতা আখতার হোসেন বলেছেন- এটা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম, তবে এখনই রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা যাত্রা শুরু করছি না। দল হিসেবে কার্যক্রম কবে কিংবা কিভাবে হবে সেটা ভবিষ্যতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা এই প্লাটফর্মটি সংবিধান পরিবর্তন করে রাজনৈতিক কাঠামোতে আগে পরিবর্তন আনতে চায়। এরপর রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরুর দিকে নজর দিতে চায় তারা।

মূলত প্লাটফর্মটিতে থাকছে তরুণ ও যুব সমাজের প্রতিনিধিরা- যাদের বয়স ২৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব জানান- সিনিয়র সিটিজেন যারা আছেন তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে কাজে লাগাতে তাদেরকে রাখা হবে উপদেষ্টা হিসেবে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটি সারাদেশের ৬৪ জেলা ও ১২টি মহানগর এবং উপজেলা পর্যায়ে নাগরিক কমিটি গঠন করবে। এরপর জাতীয়ভাবে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেই কাউন্সিল নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তুত করবে। জাতীয় নাগরিক কমিটির সংগঠকরা বলছেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে এ কমিটি। সংগঠনটির নেতৃত্ব বলছেন- নতুন গঠিত কমিটি সংবিধান পুনর্লিখনের জন্য গণপরিষদ তৈরি করতে জনমত গঠন ও প্রস্তুতি নিতে কাজ করবে শুরুতেই। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান যে নতুন রাজনৈতিক ভাষা ও জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা হাজির করেছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে বাংলাদেশকে নতুন করে গঠন করতে হবে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তাদের মূল লক্ষ্য।

কোটা আন্দোলনের সমন্বয়করা যা বলছেন …

মব জাস্টিসের মতো ঘটনা কোনোভাবে বরদাশত করা হবে না। গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন- ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো যাবে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশে একটা ঐকমত্য আছে। এমনকি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যারা করেন তারাও এ ব্যাপারে একমত। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল পরিচালনা দুটো আলাদা বিষয় বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন- দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। সবার মতামত গ্রহণ করে সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করবে। তবে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যে অপরাজনীতি করেছে সেই রাজনীতি যেন ক্যাম্পাসে ফিরে না আসে সেটা আমাদের অঙ্গীকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। মাহফুজ আলম আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা হলো মব জাস্টিসের (গণপিটুনি) মতো ঘটনা কোনোভাবে বরদাশত করা হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অপরাধ করলে আইনানুযায়ী তার বিচার হবে। মাজার ও মন্দিরে হামলা বা কোনো ব্যক্তি আক্রোশের কারণে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

দিন শেষে রাজনীতির বাইরে কিছুই নাই। রোববার থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সফর শুরু হয়েছে। গতকাল মুন্সীগঞ্জের সভায় সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন- হাসিনার জায়গায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জায়গায়, প্রশাসন এবং সংসদের মতো জায়গায় আপনাদের মতো ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের মানুষগুলো যদি অংশ না নেয়, তাহলে কোনো না কোনো ফ্যাসিস্ট দ্বারা কয়েক বছর পর আবারও এই দেশ পরিচালিত হবে। … আপনি যদি চান যোগ্য মানুষগুলো, মেধাবী মানুষগুলো দেশের কার্যক্রম পরিচালনায় যাক, আপনি যদি চান দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং শিক্ষিত প্রজন্মটি ওই সংসদে গিয়ে আপনার জন্য নীতি নির্ধারণ করুক, তাহলে হয় আপনাকে রাজনীতিবিদ হতে হবে, না হয় আপনাকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে। কারণ, দিন শেষে রাজনীতির বাইরে কিছুই নাই। আন্দোলন কীভাবে সফল হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে সারজিস বলেন– গত ১৬ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে স্বৈরাচার সরকারের পতনের চেষ্টা করেছে। তারা সরকারের একটি খুঁটিও টলাতে পারেনি। মেধাবী ছাত্র-জনতা যখন রাজপথে নেমেছে, একটি গ্রুপ তত্ত্বীয় পড়াশোনা করেছে, বাস্তব ইতিহাস ঘেঁটেছে, এগুলোর সঙ্গে রিলেট করে কর্মসূচিগুলো দিয়েছে, তখন আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে।

সংবিধানটা কাদের? সংবিধানটা কি সর্বজনীন হয়েছে? গতকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভায় এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন- আমরা এখনই রাজনৈতিক দল গঠন করব কি করব না, এটা বলছি না। তবে আমরা যদি গঠন করি, তাহলে আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ কেমন হবে? এই মতাদর্শ নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। নয়তো একটা প্রশাসনিক ফ্যাসিস্ট কাঠামো তৈরি হবে। সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন- এখন প্রশ্ন এসেছে, আপনারা যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করবেন, সেটি চব্বিশকে ভিত্তি করে করবেন, নাকি একাত্তরকে ভিত্তি করে? কারণ, একাত্তরকে ভিত্তি করে যদি করেন, তাহলে সেটি ছিল আওয়ামী বয়ানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটিকে বিকৃত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ কি শুধু আওয়ামী লীগের ছিল? আপনারা সংবিধানের দিকে দেখেন, সংবিধানটা লেখা হয়েছে সত্তরের নির্বাচনের ভিত্তিতে। আর সত্তরের প্রতিনিধি ছিল আওয়ামী লীগ। তাইলে সংবিধানটা কাদের? সংবিধানটা কি সর্বজনীন হয়েছে? … আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনাকে চিন্তা করতে হবে। আপনি একাত্তরের উত্তরাধিকার বজায় রাখবেন কি না, সত্তরের গণ পরিষদের উত্তরাধিকার বজায় রাখবেন কি না। নাকি চব্বিশে যে প্যারাডাইম শিফট হয়েছে, সেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে চান কি না।

স্নায়ুযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে বিশ্বব্যবস্থা

বিশ্বব্যবস্থা এখন এমন এক হুমকির মুখে, যা স্নায়ুযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি। বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে এ কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান উইলিয়াম বার্নস ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬ এর প্রধান রিচার্ড মুর। ৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে বার্নস ও মুরের যৌথ নিবন্ধে বিশ্বব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন তাঁরা।

তাঁরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ মোকাবিলায় দুই দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে। পাশাপাশি, ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার বেপরোয়া নাশকতামূলক তৎপরতার লাগাম টেনে ধরতে কাজ করা হচ্ছে। সিআইএ ও এমআই৬ চীনকে চলতি শতকের প্রধান গোয়েন্দা ও ভূরাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখছে বলে জানিয়েছেন বার্নস ও মুর। তারা বলেন,  গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও পুনরায় উত্থান ঘটানো জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) প্রতিহতের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী তৎপরতা চালানো হচ্ছে। শনিবার লন্ডনে এক নিরাপত্তা সম্মেলনেও বার্নস ও মুরকে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে একসঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। দুই গোয়েন্দাপ্রধানের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সফল হবেন না ।

ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্র জোট মজবুত করছে যুক্তরাষ্ট্র

সম্প্রতি তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ডি ফ্যাক্টো রাষ্ট্রদূত এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট ইন তাইওয়ানের (এআইটি) নতুন পরিচালক রেমন্ড গ্রিন বলেন- যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্র জাপান-কোরিয়া-ফিলিপাইনসহ জোট মজবুত করছে। এর লক্ষ্য তাইওয়ান প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক হুমকি মোকাবেলা করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা । তিনি বলেন- এই প্রচেষ্টা এবং পাশাপাশি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগসহ তাদের প্রশংসনীয় সামরিক সংস্কার যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য করা হয়েছে, যুদ্ধপ্রস্তুতির জন্য নয়।

তাইওয়ান প্রণালি ও বৃহত্তর ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখলে তা দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে- বলেন গ্রিন। তিনি তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বাড়ানো, প্রয়োজনে যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাইওয়ান থেকে দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তৃত অংশে বেইজিংয়ের দাবিকে কেন্দ্র করে ২০২২ সাল থেকে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ বিরোধ চলে আসছে। চীন স্ব-শাসিত তাইওয়ানকে ঐতিহাসিকভাবে তার ভূ-খণ্ডের অংশ দাবি করে। অন্যদিকে তাইওয়ানের জনসংখ্যার এক বড় অংশ স্বাধীন থাকতে চায়। তাইওয়ানের নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে বিচ্ছিন্নতাবাদী চিহ্নিত করে চীন গত মে মাসে দ্বীপটির চারপাশে সামরিক মহড়া চালায়। বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বেশিরভাগ উৎপাদন তাইওয়ানে হয়, বিশ্ব বাণিজ্য পথ হিসেবেও তাইওয়ান প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ।