Home Blog Page 252

“যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ না করায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞে এখন আর কোনো বাধা নেই । কোনো সীমারেখা নেই … ” – লুবনা মাসারওয়া , মিডল ইস্ট আই

… সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা আছে। ইসরায়েলের জনগণের নিরাপত্তা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং দখলদারির অবসান ঘটানো। অন্যথায় তারা কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে যুদ্ধের দরজা খুলে রাখবে।– লুবনা মাসারওয়া, মিডল ইস্ট আই।

গাজা থেকে জিম্মিদের ফেরত আনার বিষয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে দেখা দেয়া গভীর বিভক্তি নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ড অনেকটাই দূর করেছে বলে মনে হয়। … এখানেই ইসরায়েল থামেনি; ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে হারেৎজ রিপোর্ট করেছে। অন্যদিকে প্রায় তিন হাজার সেনাসদস্যকে পশ্চিম তীরে পাঠানো হয়েছে। তিনটি ফ্রন্টে যে যুদ্ধ চলছে, তার প্রতিটিতে ইসরায়েল জয়ী হচ্ছে বলে পুরো দেশ মনে করছে। ইসরায়েল মনে করে, বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্পষ্টতই ইসরায়েলকে থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন, ফলে তাদের হাতে একটি স্বর্ণালি সুযোগ এসে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত তিনবার বাইডেনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। রাফাহ পুনর্দখল করা, গাজায় হামাসের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে যাওয়া এবং এখন লেবাননে একটি নতুন যুদ্ধ ফ্রন্ট খোলা নিয়ে তিনি বাইডেনের সঙ্গে বিরোধিতায় জড়িয়েছেন এবং প্রতিবারই সফল হয়েছেন। নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। তিনি ঔদ্ধত্যের সাথে বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং ইসরায়েল তার পেছেনে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ না করায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞে এখন আর কোনো বাধা নেই। কোনো সীমারেখা নেই। কোনো লাল রেখা নেই।

ইসরায়েলি পাইলট ও ড্রোন অপারেটরদের আর বেসামরিক নাগরিকের জীবন নিয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে না। আঞ্চলিক সেনা কমান্ডাররাই হত্যার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সমগ্র লেবানন, গাজা ও পশ্চিম তীরের বেসামরিক মানুষ এখন লক্ষ্যবস্তু। … কিন্তু এরপরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ ইসরায়েল এখন অলিক চিন্তার মধ্যে রয়েছে। হিজবুল্লাহর বর্তমান নেতৃত্বকে ধ্বংস করে তারা পরবর্তী প্রজন্মের যোদ্ধাদের প্রতিহত করতে পারবে না।

… রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের এই দীর্ঘ ইতিহাসে একটি ঘটনাও পাওয়া যাবে না, যেখানে কোনো জঙ্গি দলের নেতৃত্বকে হত্যার কারণে দলটি বিলীন হয়ে গেছে বা পিছু হটেছে। আজকের বাস্তবতায় হিজবুল্লাহ মনে করছে, তাদের দায়িত্ব হলো পুনরুজ্জীবিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়া। নিজের শক্তি প্রদর্শন ও অস্ত্রর ঝনঝনানি দিয়ে ইসরায়েল আরব বিশ্বে এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করেছে, যারা একদিন প্রতিশোধ নিতে চাইবেই। …সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা আছে। ইসরায়েলের জনগণের নিরাপত্তা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং দখলদারির অবসান ঘটানো। অন্যথায় তারা কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে যুদ্ধের দরজা খুলে রাখবে।


অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অগাস্ট মাসে দেশের কম আয়ের প্রায় ৩৮% পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। – বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিও.এফ.পি)

‘র‍্যাপিড মার্কেট মনিটর’ শিরোনামে ডব্লিউএফপির গবেষণায় উঠে এসেছে, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ব্যবসা ব্যাহত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১৪.১% ছুঁয়েছিল। এ ছাড়া, দেশে বন্যার কারণে গত জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে খাদ্য নিরাপত্তার অবনতি হয়েছে। ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক ডব্লিউএফপির আরেক প্রতিবেদন অনুসারে, গত আগস্টে প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ৩টি পরিবার পর্যাপ্ত খাবার খেতে পারেনি। কম আয়ের পরিবারের কথা বিবেচনা করলে, প্রতি ১০টি পরিবারে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬টিতে। কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ খাবার সব আয়ের মানুষের মধ্যে কম। পরিবারগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের খাবারে আয়রন ও আমিষের পরিমাণ কম। ঝুঁকিতে থাকা বেশির ভাগ পরিবার খাদ্য নিরাপত্তা মোকাবিলায় কৌশল অবলম্বন করছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতি ১০ জনের সাতজন জমানো টাকা খরচ করছে বা সম্পত্তি বিক্রি করেছে। খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি হওয়া অনেক পরিবার হয় ঋণ করেছে বা সঞ্চয় থেকে খরচ করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের সুযোগ কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৫৭ টাকা দরে বিক্রি হয়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫২ টাকায় নেমে আসে। তবুও, দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি ছিল। তাই মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের শুরুর দিকে গমের আটা, মসুর ডাল, ডিম ও সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দামের অবস্থায় একই দেখা গেছে। সরকার পরিবর্তনের পর খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও এখনো তা ১০ শতাংশের বেশি। আগস্টে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি টানা ১৮ মাস জন্য নয় শতাংশের বেশি ছিল।

অবসর থেকে ফিরছেন ড্যানিয়েল ডে-লুইস

ড্যানিয়েল ডে-লুইস সাত বছর পর অবসর থেকে ফিরে আসছেন। অভিনয় করবেন ছেলে রোনান ডে-লুইস‘র ডেব্যু ফিল্মে। শন বিন, সামান্থা মর্টন ও ড্যানিয়েল অভিনীত ‘অ্যানিমোনে’ প্রযোজনা করছে ফোকাস ফিচারস আর প্ল্যান বি। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন দুই ডে-লুইস। পল থমাস অ্যান্ডারসনের ২০১৭ সালের ছবি ‘ফ্যান্টম থ্রেড’ শেষ করে বিশ্বের হাতেগোনা ক’জন শক্তিমান অভিনেতার একজন ড্যানিয়েল কাজে ইস্তফা দেন। এর আগে ড্যানিয়েল ডে-লুইস এবং বিনকে ম্যানচেস্টারে মোটরবাইক চালাতে দেখা গেছে, যা ড্যানিয়েলের অভিনয়ে ফিরে আসাকে নিশ্চিত করে।

‘অ্যানিমোন’ এর শুটিং চলছে। এই ছবিটি বাবা, ছেলে এবং ভাইদের মধ্যেকার সম্পর্কের সূক্ষ্ম জটিলতা এবং পারিবারিক বন্ধনের গতিপ্রক্রিয়াতে আলো ফেলতে চায়। রোনান ডে-লুইস, ২৬, একজন চিত্রশিল্পী। নিউ- ইয়র্কে তার কাজ প্রদর্শিত হয়েছে। মঙ্গলবার হংকংয়ে তার প্রথম আন্তর্জাতিক একক প্রদর্শনী শুরু হয়। রোনান ডে-লুইসের মত অসাধারণ চিত্রশিল্পীর সাথে অনন্য ড্যানিয়েল ডে-লুইসের এই যৌথ সৃষ্টি বিষয়ে তাদের উত্তেজনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে প্ল্যান বি জানিয়েছে।

ইরান / ইসরায়েল আপডেট

ইসরায়েল জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ বা ইসরায়েলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সিদ্ধান্তটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরে গুতেরেসের প্রতিক্রিয়ার জবাব ‘যেখানে তিনি ইরানের নাম উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে এর গুরুতর আগ্রাসনের নিন্দা করেননি।’

ফ্রান্স ও ইসরায়েলের অনুরোধে বুধবার সকাল ১০টায় মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিঙ্কেন বলেছেন- ইরান ইসরায়েলে প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েল কখন এবং কীভাবে ইরানের মিসাইল ব্যারাজের জবাব দেবে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে একটি জিনিস বলতে পারি, এটি হবে চোখে পড়ার মত। এটা যন্ত্রণাদায়ক হবে।– জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইসরায়েল ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে ইসরায়েলের পুরো অবকাঠামোতে আঘাত হানা হবে।

জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি মঙ্গলবার গভীর রাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে চিঠিতে বলেছেন- ইসরায়েলে সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জাতিসংঘ সনদের অধীনে এবং ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে আত্মরক্ষার জন্য পরিচালিত হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা আবার খুলে দিয়েছে।লেবানন থেকে চার্টার ফ্লাইটে সরিয়ে নেওয়ার পর বুধবার ১৪৬ জন চীনা নাগরিক বেইজিং পৌঁছেছেন। ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইয়েমেনের দুটি প্রধান বন্দর চালু রয়েছে, তবে হামলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, জাতিসংঘ বলেছে।


আমাদের মস্তিষ্কের চেতনা ক্লাসিক্যাল নয় বরং কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার নিয়ম মানে

তত্ত্বটি প্রমাণিত হলে আমাদের চেতনার ধারণা এবং মহাবিশ্বের সাথে এর সম্পর্ক নতুন করে লিখতে হবে।

ওয়েলেসলি কলেজের বিজ্ঞানীরা এক যুগান্তকারী গবেষণায় নতুন প্রমাণ পেয়েছেন যে মস্তিষ্কের চেতনা প্রবাহ কোয়ান্টাম প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারে। গবেষণাটি মস্তিষ্কের ভেতরের মাইক্রোটিউব নামক ক্ষুদ্র নলাকার কাঠামোকে ফোকাস করে। মনে হচ্ছে, এই মাইক্রোটিউব ক্লাসিকাল নয় বরং কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার নিয়ম মানে। বিজ্ঞানীরা ইঁদুরদের অজ্ঞান করার এবং মাইক্রোটিউব-স্থিতিশীলকরার ওষুধ দিয়ে লক্ষ্য করেছেন যে মাইক্রোটিউব স্থিতিশীলকরার অণুগুলি ইঁদুরদের চেতনা দীর্ঘস্থায়ী করছে। এই আবিষ্কারটি চেতনার সাথে কোয়ান্টাম প্রক্রিয়ার যোগাযোগের পক্ষে একটা শক্ত প্রমাণ।

এই গবেষণার গুরুত্ব হলো এটি চেতনার ব্যাখ্যায় কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান ব্যবহার করার সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিলো, যা কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের অসীম আগ্রহের বিষয়। ১৯৯০-এর দশকে নোবেল বিজয়ী রজার পেনরোজ এবং অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট স্টুয়ার্ট হ্যামারফের প্রস্তাবিত “Orch OR” তত্ত্ব অনুযায়ী, চেতনা মাইক্রোটিউবগুলিতে কোয়ান্টাম প্রক্রিয়ার ফল। তত্ত্বটি বলে যে, প্রতিবার মস্তিষ্কের মধ্যে একটি কোয়ান্টাম তরঙ্গ প্রবাহিত হলে চেতনার একটি মুহূর্ত তৈরি হয়। যদি তত্ত্বটি সত্য প্রমাণিত হয়, আমাদের চেতনার ধারণা এবং মহাবিশ্বের সাথে এর সম্পর্ককে নতুন করে লিখতে হবে।

তবে অনেকেই Orch OR তত্ত্বের সমালোচনা করেন, কারণ সাধারণত কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া অত্যন্ত ঠান্ডা তাপমাত্রায় ঘটে, যেমন কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এ ব্যবহৃত হয়। মানব মস্তিষ্ক, যা তুলনামূলকভাবে অনেক উঁচু তাপমাত্রায় কাজ করে, সেখানে এই ধরনের প্রক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে জীববিজ্ঞানের কিছু প্রমাণ আছে। গাছপালা ফটোসিনথেসিসের সময় শক্তি রূপান্তরের জন্য কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া ব্যবহার করে। বোঝা যায়, প্রাণ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে মস্তিষ্কের নিউরনগুলোও কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট ব্যবহার করে চিন্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।

চেতনার কোয়ান্টাম তত্ত্বকে সমর্থন করার আরও প্রমাণ পাওয়া গেছে দুটি উল্লেখযোগ্য গবেষণায়। মাইক্রোটিউবগুলির মধ্যে আলো পাঠিয়ে দেখা হয়েছে যে তারা সংকেত ধরে রাখে।
সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার আমাদের মস্তিষ্ক ও কোয়ান্টাম স্তরের সম্পর্ক বুঝতে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে, যা চেতনা, মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী এবং স্নায়ু রোগের চিকিৎসায় আমাদের চিন্তাধারাকে আমূল পালটে ফেলবে।

মাঝ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য/প্রতি বুধবার,চোখ রাখুন, ফলো করুন আমাদের পেইজ

মধ্যপ্রাচ্যে কোন কিছুই কখনও ভুলে যাওয়া বা ক্ষমা করা হয় না- মাইকেল কোর্দা। এ সংখ্যায়, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব, তুরস্কের দোটানা, হেজবুল্লাহ’র চল্লিশ প্রথম মানসিক হাসপাতাল।

মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?- লুই বারুচ্চো। জ্বালানি সম্পদ, বাণিজ্য রুট, ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির স্থায়ী মিত্রতা- এগুলোকে অঞ্চলটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ হিসেবে দেখে থাকেন বিশ্লেষকরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০০৭ সালে কেবল ইরাকেই যেখানে ১ লাখ ৬০ হাজার সেনা ছিল, সেখানে মিশর থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত সবমিলিয়ে বর্তমানে এই সংখ্যা ৪০ হাজারেরও কম। যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূমিতেই শেল গ্যাস বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১৫ বছরে দেশটিতে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনছে তখন চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর অর্থ হলো- মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের বিষয়ে বেশ কিছু কৌশলগত সুবিধা দেয়। মধ্যপ্রাচ্য আমেরিকান পণ্য ও পরিষেবা বিশেষ করে সামরিক হার্ডওয়্যারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার। মোট মার্কিন অস্ত্র রপ্তানির ৩৮ শতাংশই গেছে মধ্যপ্রাচ্যে।

এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের লোহিত সাগর, মিশরের সুয়েজ খাল এবং ইরানের অদূরে হরমুজ প্রণালী ইত্যাদি বৈশ্বিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা মার্কিন অর্থনীতির জন্য এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকাকে সংযুক্ত করা মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত অবস্থান মার্কিন বাণিজ্য ও সামরিক অভিযানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে তেলের চাহিদা আর কমিউনিজমের প্রভাব রুখে দেয়া-মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল আগ্রহের কেন্দ্রে থাকলেও বর্তমানে অঞ্চলটি চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ক্ষমতা প্রতিযোগিতার মূল নাট্যমঞ্চ। ওয়াশিংটন ডিসি’র সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ নাতাশা হল বলেন- দুঃশাসন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব আর মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাচার ও সাম্রাজ্যবাদের ধারণার কারণেই সন্ত্রাসবাদ বিদ্যমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন সন্ত্রাসবাদের উপসর্গ দমনের চেষ্টা করে, কারণগুলোর সমাধান করে না। ফলে অনুমিতভাবেই তা অব্যাহত থাকে এবং বৃদ্ধি পায়। ওয়াশিংটন ডিসির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের কেলি এ গ্রিয়েকোর মতো কারো কারো মতে – মধ্যপ্রাচ্য থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা উচিৎ। এতে করে ‘ইন্দো-প্যাসিফিকের মতো যে জায়গাগুলোতে’ প্রয়োজন, সেখানে এই সম্পদ স্থানান্তর করা যাবে। মি. এলগিন্ডি বলছেন তিনি ‘অদূর ভবিষ্যতের কোনো সময়ে’ অঞ্চলটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাবার সম্ভাবনা দেখছেন না। এটি করার জন্য মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নসহ ‘এক ধরনের প্যারাডাইম শিফট’ বা কাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন, বলে মনে করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র না রাশিয়া- কোন্ দিকে যাবে তুরস্ক?সাহার কামিংস। তুরস্ক ন্যাটোভুক্ত দেশ হলেও সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান পশ্চিমের সঙ্গে দেশটির বিবাদ ও অস্বস্তির কারণ হয়েছে। কেননা সিরিয়া প্রশ্নে তুরস্ক রাশিয়া ও ইরানের পথ অনুসরণ করছে। গত কয়েক বছরে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে পশ্চিমের আরও কিছু বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া থেকে।

পাইপলাইনে করে তুরস্কে তেল ও গ্যাস সরবরাহ, তুরস্কের কাছে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা- ব্যবস্থাসহ অন্য অস্ত্র বিক্রি, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি। এ ছাড়া ন্যাটোর মধ্যে তুরস্ক একমাত্র দেশ, যারা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়ার জ্বালানি চীন ও ইরানে পরিবহনে করেছে তুরস্ক। তুরস্কের যে অনন্য ভৌগোলিক অবস্থান, সেটাকে ব্যবহার করে দেশটি ন্যাটোতে প্রাচ্য ও পশ্চিমের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। ন্যাটোতে ফিনল্যান্ডের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্ক মূল ভূমিকা পালন করেছে। সুইডেনের ক্ষেত্রেও প্রথমে মৃদু আপত্তি করলেও ওয়াশিংটনের দিক থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রি করার প্রস্তাবে সেই আপত্তি তুলে নেয় তারা। দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি, প্রাচুর্যময় প্রাকৃতিক সম্পদ, অনন্য ভৌগোলিক অবস্থান-এসব কারণে তুরস্ক একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও চীনের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চল্লিশে পা দিচ্ছে হেজবুল্লাহ। সংক্ষিপ্ত ইতিহাস -ফখরুদ্দিন কবির আতিক। লেবানন প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার একটি জাতি। দেশটির প্রধান ধর্মীয় গ্রুপগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালিত হয়। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হন সুন্নি মুসলিম, জাতীয় সংসদের স্পিকার হন শিয়া এবং প্রেসিডেন্ট হন খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে। জনসংখ্যার ৩২.৪% খ্রিস্টান, ৩১.৯% সুন্নি, ৩১.২% শিয়া, ৪.৫% দ্রুজ এবং অন্যান্য। শিয়া হেজবুল্লাহর আত্মপ্রকাশ গত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুতে। তবে এর আদর্শিক বীজবপন হয় ষাট ও সত্তরের দশকে লেবাননে শিয়া ইসলামিক পুনর্জাগরণের দিনগুলোতে। ১৯৮২ সালে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণ চালায় ইসরায়েল। সে সময় লেবাননের প্রভাবশালী সংগঠন মধ্যপন্থী ‘আমল মুভমেন্ট’ থেকে সশস্ত্র লড়াইয়ে বেশি আগ্রহী, এমন একটি অংশ বেরিয়ে ‘ইসলামিক আমল’ নামে নতুন একটি সংগঠন গড়ে তোলে। সংগঠনটি ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ডের কাছ থেকে সামরিক ও সাংগঠনিক সহায়তা পায় এবং সবচেয়ে কার্যকরী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

যাদের হাতে পরবর্তীতে হিজবুল্লাহ গঠিত হয়। ‘ইসলামিক আমলের’ মত গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলি বাহিনী ও তার মিত্র, খ্রিস্টান সাউথ লেবানন আর্মি (এসএলএ) এর ওপর হামলা চালায়। অন্যান্য বিদেশি শক্তিও তাদের আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত হয়। ১৯৮৩ সালে মার্কিন দূতাবাস এবং ইউএস মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলায় তারা জড়িত ছিল। ওই হামলাগুলোতে ২৫৮ মার্কিন এবং ৫৮ ফ্রেঞ্চ কর্মী নিহত হন। ১৯৮৫ সালে একটি ‘খোলা চিঠি’ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানায় হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্র এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ইসলামের মূল শত্রু বলে চিহ্নিত করে তারা। ইসরায়েল মুসলিমদের ভূমি দখল করে আছে বলে দেশটিকে ধ্বংসের ডাক দেয় চিঠিতে। লেবাননে গৃহযুদ্ধের অবসান এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাতে ১৯৮৯ সালে তায়েফ চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক শাখাকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ নামে রিব্র্যান্ড করে। নিজেদের অস্ত্র সমর্পণ না করে রেখে দেয়ার সুযোগ পায়। ১৯৯০ সালে সিরিয়ার সেনাবাহিনী লেবাননে শান্তি স্থাপনে নিয়োজিত হবার পর, হেজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে।

লেবানিজ রাজনীতিতেও সক্রিয় হতে শুরু করে তারা। ১৯৯২ সালে সফলভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশও নেয়। অবশেষে ২০০০ সালে ইসরায়েল যখন লেবানন থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়, তাদের তাড়িয়ে দেয়ার কৃতিত্ব দেয়া হয় হেজবুল্লাহকে। সেসময় আবারও হেজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্ন উঠলেও সেই চাপ প্রতিহত করে গোষ্ঠীটি এবং দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখে। ২০০৬ সালে সীমান্তের ওপাড়ে হেজবুল্লাহর আক্রমণে আট ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়, অপহৃত হয় দুইজন। তীব্র জবাব দেয় ইসরায়েল। ৩৪ দিন ধরে চলা সংঘাতে অন্তত ১১২৫ জন লেবানিজ মারা যান, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ১১৯ সেনা এবং ৪৫ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরও হেজবুল্লাহ টিকে যায় এবং পরবর্তীতে আরো শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়। সেই থেকে নতুন যোদ্ধা সংগ্রহ ও অস্ত্রের উৎকর্ষ ঘটিয়ে সামর্থ্য বৃদ্ধি করে চলেছে তারা। ২০০৮ সালে লেবাননের পশ্চিম সমর্থিত সরকার হেজবুল্লাহর নিজস্ব টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ নিলে রাজধানীর অনেক অংশের দখল নেয় হিজবুল্লাহ। লড়াই করতে থাকে সুন্নী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৮১ জন নিহত হয়, দেশ উপনীত হয় গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। সরকার নিজের অবস্থান থেকে পিছু হটে এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি করে। ওই চুক্তি মন্ত্রিসভার যেকোনো সিদ্ধান্তকে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা দেয় হিজবুল্লাহ ও তার মিত্রদের। ২০০৯ সালের নির্বাচনে সংসদের ১০টি আসনে জিতে জোট সরকারের অংশীদার হয় গোষ্ঠীটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে হেজবুল্লাহ সমর্থিত জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ২০০৯ সালের শেষ নাগাদ নতুন এক রাজনৈতিক ইশতেহার সামনে আনেন হেজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল শেখ হাসান নাসরাল্লাহ। যেটিকে সংগঠনের ‘পলিটিক্যাল ভিশন’ বা রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। সিরিয়া ও ইরানের সঙ্গে সখ্যতার কারণে প্রতিপক্ষ আরব দেশগুলোর কাছে চক্ষুশূল হয়ে ওঠে হেজবুল্লাহ। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের উদ্যোগে শিয়া গোষ্ঠীটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে আরব লীগ। তবে ২০২৪ সালে হিজবুল্লাহর ওপর থেকে সন্ত্রাসী তকমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরব লীগ। কারণ গোষ্ঠীটি বর্তমান রাজনীতি ও লেবাননের ভবিষ্যত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরবরা গড়েছিল পৃথিবীর প্রাচীনতম মানসিক হাসপাতাল। বিশ্বের প্রাচীনতম মানসিক হাসপাতাল তৈরি হয় আরব বিশ্বে – ৮ম ও ৯ম শতকে, বাগদাদ ও কায়রোতে। এই এলাকায় মানসিক রোগীদের প্রায়ই সম্মানের সাথে ‘আল্লাহর প্রভাবে থাকা মানুষ’ হিসাবে দেখা হত। এখনকার কিছু আফ্রিকান উপজাতিও সৌম্যভাবে হ্যালুসিনেশনকে অতীন্দ্রিয়ের সাথে যোগাযোগ হিসাবে বিবেচনা করে। অন্যদের মধ্যে, হিন্দু সংস্কৃতি পশ্চিমা সমাজে যা উদ্ভট আচরণ বলে বিবেচিত হয় তার ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য সহনশীলতা দেখায়। পশ্চিম মানসিক রোগকে ভুত-পিশাচের দখল নেয়া হিসেবে দেখেছে। বেডলামের (লন্ডন ১২৪৭) মত পাগলাগারদগুলোতে রোগীদের বেঁধে রাখা হত, ধরে নেয়া হত তাদের মানবিক অনুভূতি নেই। প্রধান কাজ ছিল এদের সমাজ থেকে দুরে রাখা। আমেরিকায় মানসিক রোগীদের নিলাম হত, আদালতের রায়ে জনপদ থেকে বের করে দেয়ার নিয়ম ছিল। ১৭৭৩ সালে প্রথম ভার্জিনিয়ায় হাসপাতাল তৈরি হয়- ইস্টার্ন লুনাটিক অ্যাসাইলাম। বাস্তবেই মানসিকভাবে অসুস্থদের যত্নের ইতিহাস মানুষের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে।

Coldplay’র ইন্ডিয়া কনসার্ট বাতিল হচ্ছে ?

Coldplay জানুয়ারি ২০২৫-এ তাদের ‘মিউজিক অফ দ্য স্ফিয়ার্স’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের অংশ হিসেবে ভারতে পারফর্ম করার ঘোষণা দিতেই ভারতীয় ভক্তরা দিন গুনতে শুরু করে। বুকমাইশোতে (BookMyShow) আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকেট বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু ১৮, ১৯, এবং ২১ জানুয়ারির কনসার্টের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে।

টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ উঠার পর ইভেন্টটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং বাতিলের গুজব ছড়িয়েছে। টিকিট কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বুকমাইশো-এর সিইও, আশিস হেমরাজানিকে মুম্বাই পুলিশ ডেকেছে, যা কনসার্ট বাতিলের জল্পনাকে আরো তীব্র করেছে। রেডডিটে শেয়ার করা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে ধারনা হয় যে, কনসার্ট বাতিল হতে পারে। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে যারা বেশ দাম দিয়ে টিকেট কিনেছেন তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। এখনো পর্যন্ত কোল্ডপ্লে বা ইভেন্ট আয়োজকদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

“পুলিশের সংস্কার জরুরি। তার আগে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য সর্ম্পকে পরিস্কার হতে হবে, দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে হবে।”- বাহারুল ইসলাম , সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

… সবার আগে পুলিশের আইন সংস্কার করতে হবে। এর সঙ্গে এখন সমাজ থেকে দাবি উঠেছে, রাজনীতিকরণ থেকে পুলিশকে বের করতে হবে, যে দলই ক্ষমতায় আসে তারাই যে পুলিশকে ব্যবহার করে, এই ধারা বদলাতে হবে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পুলিশের নিয়োগ দেয় সরকার। এ অবস্থা থেকে বের করে একটি নিরপেক্ষ স্বাধীন কমিশনের অধীনে পুলিশকে পরিচালিত হতে হবে। পুলিশের নিয়োগ এবং কীভাবে কাজ করে, সেই ‘পলিসি গাইডলাইন গুলো’ সেই কমিশন করবে। এটি করা গেলে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের আশঙ্কা কমে যায়।

দ্বিতীয়ত, পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ও অন্যায়ের তদন্তের জন্য আরেকটি স্বাধীন পুলিশ অভিযোগ সংস্থা বা কমিশন প্রয়োজন। এখন পুলিশের নিজেদের তদন্ত নিজেরা করে কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে। এটা ঠিক না। কারণ এখানে পক্ষপাতিত্ব চলে আসে। তৃতীয়ত, আধুনিক পুলিশ চাইলে পুলিশকে মানবিক হতে হবে। এ জন্য মানবাধিকারের প্রধান বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের পুলিশের প্রশিক্ষণে আনতে হবে। যেটা এখনকার পুলিশে নেই; শুধু পিটি, প্যারেড ও আইনের প্রশিক্ষণ আছে।

চতুর্থত, পুলিশের কাজ সমাজের মানুষের সঙ্গে। সে জন্য পুলিশকে সমাজের অংশ হয়েই থাকতে হবে। যাতে মানুষ মনে করে পুলিশ আমাদেরই একজন। এ জন্য কীভাবে সমাজ-ঘনিষ্ঠ পুলিশিং করা যাবে, সেটা সংস্কারের চিন্তায় আনতে হবে। … শ্রীলঙ্কা-ভারতসহ সব জায়গাতেই (পুলিশ) কমিশনের কনসেপ্ট একই রকম। কমিশনে বিচার বিভাগ, সমাজের বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সরকারি ও বিরোধী উভয় দলীয় সংসদ সদস্য থাকবেন। কমিশন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো দেবে। একই সঙ্গে পলিসি গাইডলাইন দেবে।

… বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত পদ্ধতি অনেক বেশি জটিল এবং দীর্ঘ। তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের বছরের পর বছর চলে যায়। এই জায়গাগুলোতে ইউরোপ-আমেরিকা অনেক আধুনিকায়ন করেছে। … আট ঘণ্টার বেশি সময় একজন পুলিশ সদস্যকে দিয়ে কাজ করানো ঠিক নয়। এর বেশি দায়িত্ব পালন করলে তাঁকে ‘ওভার টাইম’ দেওয়া উচিত। সপ্তাহে এক দিন ছুটি দিতেই হবে। ভালো পরিবেশ দিতে হবে। অস্বাস্থ্যকর ব্যারাকে রেখে, ছুটিবিহীন, দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করিয়ে তো পুলিশকে মানবিক করা যাবে না।

… পুলিশিং সমাজ-ঘনিষ্ঠ একটি কাজ। এ জন্য খুব বেশি অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বিশেষ ইউনিট ছাড়া বাকিদের কাছে আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই। … চিন্তার বিষয় হলো পুলিশের যে অবস্থা তৈরি হলো, এটা কি শুধু শাসকদেরই দোষ? যিনি পুলিশকে ব্যবহার করলেন, তাঁর তো দায়ভার আছেই। যিনি ব্যবহৃত হলেন, তিনিও দায় এড়াতে পারেন না। আইনে তো বলাই আছে, পুলিশ সদস্যরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অন্যায় আদেশ মানবেন না। কিন্তু বাস্তবিক অবস্থা হলো বেআইনি আদেশটা না মানলে পরদিন কোনো একটা অভিযোগ এনে কর্তৃপক্ষ ওই সদস্যকে চাকরিচ্যুত করে দিল।…

খেলাপি ঋণে আর ছাড় নয়

এস আলমসহ বড় বড় ব্যবসায়ীদের নেওয়া ঋণ গতকাল সোমবার থেকে খেলাপি হওয়া শুরু হয়েছে। এবার থেকে খেলাপি ঋণ নবায়নে আর কোনও ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি মেয়াদি ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রেও কোনোপ্রকার শিথিলতা দেখানো হবে না। ব্যাংক কোম্পানি আইন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ীই ঋণ পুনঃতফসিল করতে হবে। মেয়াদি ঋণ খেলাপির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ইতোমধ্যে যে ৩ মাস সময় এগিয়ে আনা হয়েছে, তা-ই বলবৎ থাকবে। আর এ কারণে এস আলমসহ বড় বড় ব্যবসায়ীদের নেওয়া ঋণ গতকাল সোমবার থেকে খেলাপি হওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র। খেলাপি হলে ওইসব প্রতিষ্ঠান আর কোনো এলসি খুলতে পারবে না।

২০০ বছর আগে হওয়া শিল্প বিপ্লবের দেশে কয়লা যুগের অবসান

যুক্তরাজ্যের শেষ কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সোমবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ধীর করার বৈশ্বিক প্রয়াসে, শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রথম এই মাইলফলকটি স্পর্শ করবে।

বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনই প্রথম কয়লা থেকে সরে আসছে। বদলে দেশটি প্রাকৃতিক গ্যাস, পারমাণবিক শক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। অন্য জি-সেভেন দেশগুলোর মধ্যে ইতালি ২০২৫, কানাডা ২০৩০ এবং জার্মানি ২০৩৮ সালের মধ্যে কয়লা থেকে সরে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে। ওইসিডিভুক্ত ৩৮টি দেশের তিন-চতুর্থাংশও ২০৩০ সালের মধ্যে কয়লা ত্যাগ করবে বলে আশা করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রও কয়লা বাদ দিচ্ছে, তবে সেই গতি পরিবেশবাদীদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ধীর। সিকি শতাব্দী আগে দেশটির অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হত কয়লা থেকে; এখন এর পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ। ব্রিটেনে কয়লা উত্তোলনও প্রায় হচ্ছে না বললে চলে। ইস্পাত শিল্পের জন্য ৩০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবার গভীর কয়লা খনি খননের উদ্যোগ নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। কিন্তু চলতি মাসেই হাই কোর্ট সে চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছে।