… সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা আছে। ইসরায়েলের জনগণের নিরাপত্তা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং দখলদারির অবসান ঘটানো। অন্যথায় তারা কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে যুদ্ধের দরজা খুলে রাখবে।– লুবনা মাসারওয়া, মিডল ইস্ট আই।
গাজা থেকে জিম্মিদের ফেরত আনার বিষয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে দেখা দেয়া গভীর বিভক্তি নাসরুল্লাহর হত্যাকাণ্ড অনেকটাই দূর করেছে বলে মনে হয়। … এখানেই ইসরায়েল থামেনি; ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে হারেৎজ রিপোর্ট করেছে। অন্যদিকে প্রায় তিন হাজার সেনাসদস্যকে পশ্চিম তীরে পাঠানো হয়েছে। তিনটি ফ্রন্টে যে যুদ্ধ চলছে, তার প্রতিটিতে ইসরায়েল জয়ী হচ্ছে বলে পুরো দেশ মনে করছে। ইসরায়েল মনে করে, বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্পষ্টতই ইসরায়েলকে থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন, ফলে তাদের হাতে একটি স্বর্ণালি সুযোগ এসে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত তিনবার বাইডেনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। রাফাহ পুনর্দখল করা, গাজায় হামাসের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে যাওয়া এবং এখন লেবাননে একটি নতুন যুদ্ধ ফ্রন্ট খোলা নিয়ে তিনি বাইডেনের সঙ্গে বিরোধিতায় জড়িয়েছেন এবং প্রতিবারই সফল হয়েছেন। নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। তিনি ঔদ্ধত্যের সাথে বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং ইসরায়েল তার পেছেনে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ না করায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞে এখন আর কোনো বাধা নেই। কোনো সীমারেখা নেই। কোনো লাল রেখা নেই।
ইসরায়েলি পাইলট ও ড্রোন অপারেটরদের আর বেসামরিক নাগরিকের জীবন নিয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে না। আঞ্চলিক সেনা কমান্ডাররাই হত্যার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সমগ্র লেবানন, গাজা ও পশ্চিম তীরের বেসামরিক মানুষ এখন লক্ষ্যবস্তু। … কিন্তু এরপরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ ইসরায়েল এখন অলিক চিন্তার মধ্যে রয়েছে। হিজবুল্লাহর বর্তমান নেতৃত্বকে ধ্বংস করে তারা পরবর্তী প্রজন্মের যোদ্ধাদের প্রতিহত করতে পারবে না।
… রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের এই দীর্ঘ ইতিহাসে একটি ঘটনাও পাওয়া যাবে না, যেখানে কোনো জঙ্গি দলের নেতৃত্বকে হত্যার কারণে দলটি বিলীন হয়ে গেছে বা পিছু হটেছে। আজকের বাস্তবতায় হিজবুল্লাহ মনে করছে, তাদের দায়িত্ব হলো পুনরুজ্জীবিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়া। নিজের শক্তি প্রদর্শন ও অস্ত্রর ঝনঝনানি দিয়ে ইসরায়েল আরব বিশ্বে এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করেছে, যারা একদিন প্রতিশোধ নিতে চাইবেই। …সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা আছে। ইসরায়েলের জনগণের নিরাপত্তা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং দখলদারির অবসান ঘটানো। অন্যথায় তারা কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে যুদ্ধের দরজা খুলে রাখবে।


