বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি আছে; কিন্তু আমরা নিষিদ্ধ চাই না। আমরা নিষিদ্ধের রাজনীতি বিশ্বাস করি না। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না।’ নরসিংদী সদরে করিমপুর বিএনপির কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খায়রুল কবির এ কথা বলেন। খায়রুল কবির বলেন, ‘বিএনপি একটি উদার রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক দল। আগামী দিনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। বিএনপি চায় প্রতিপক্ষ সব নির্বাচনে আসুক। জনগণ তাঁদের পক্ষে আছে, তাঁরা কাউকে ভয় পান না। জনগণ যাকে ভোট দেবেন, তাঁরাই আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবেন। কিন্তু জোর করে দিনের ভোট আর রাতে হবে না।’
ইরান ইসরাইলের হামলার জবাব মাত্রা অনুসারে দেবে
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের সূত্রগুলো নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলা যদি ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে, বিশেষ করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তবে ইরান ব্যাপক কড়া জবাব দেবে। তবে ইসরায়েলি হামলা যদি ইরানের সামরিক ঘাঁটি, বিভিন্ন সামরিক গুদাম লক্ষ্য করে চালানো হয়, তাহলে হয়তো ইরান খুব একটা প্রতিক্রিয়া জানাবে না। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো বা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যা করে, তবে তার প্রতিক্রিয়া নিশ্চিতের জন্য খামেনি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্তারা বলেছেন, ইসরায়েল যদি ইরানের বড় ধরনের ক্ষতি করে, তবে প্রতিক্রিয়ায় ইরান ১ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি তেহরান এই যুদ্ধ এড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। কুয়েতে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তিনি প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নিশ্চিত আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরানের ওপর আক্রমণ চালাতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার বা তাদের ঘাঁটিতে জ্বালানি নিতে দেয়া হবে না।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা করার পর বিশ্ব বুঝতে পারবে আমাদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা কতটা। সবাই দেখবে আমাদের কার্যদক্ষতা। লেবাননে ইরানি জেনারেল ও হিজবুল্লাহ নেতা নাসারুল্লাহ হত্যার প্রতিশোধ নিতে গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলে ১৮০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। এরপর থেকে ইরান পাল্টা হামলার আশঙ্কায় রয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি মাইনাসে, বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণহীন
গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি এখন সবচেয়ে নিয়ন্ত্রণে শ্রীলংকায়। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল মাইনাস বা ঋণাত্মক ০.৫ শতাংশ। সে অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি নয়, মূল্য সংকোচন হয়েছে। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমেছে। অন্যদিকে গত মাসেও এ অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার সবচেয়ে বেশি ছিল বাংলাদেশে। দুবছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে মূল্যস্ফীতি।অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত পাকিস্তানেও এখন মূল্যস্ফীতির হার বাংলাদেশের চেয়ে কম। সুদহার বৃদ্ধি, পণ্য আমদানি ও বাজার নজরদারির মতো ব্যবস্থা নিয়েও বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। এর মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে প্রতিবেশী ভারতে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। সেখানেও এখন মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী করা হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ দেশের বাইরের উপাদানগুলোকে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতি জেঁকে বসেছে মূলত অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলোর কারণেই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচলিত পদ্ধতি সুদের হার বাড়ানোর পথেই হাঁটছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সম্প্রতি নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা কম থাকার কারণে উন্নত বিশ্বের মতো কেবল সুদহার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজে দেবে কিনা সেটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
খোদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও মনে করছেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধের পাশাপাশি কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
রাজনৈতিক দল , সবাই মিলে সাংবিধানিক পথে যাত্রা শুরু করেছে : উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
‘যদি সাংবিধানিক পথে যাত্রা ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সেটা এই আন্দোলনে থাকা সবার ভুল।’ মন্তব্য করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা: আসন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ আলোচনা সভায় উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশ কীভাবে সাংবিধানিক পথে গেল, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক পথে কারা গিয়েছিল? প্রথম যে মিটিংটা ছিল, গেলাম … যখন, দেখি বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল সেখানে, কেবল আওয়ামী লীগ আর তার দোসররা ছাড়া। … ওনারা সবাই মিলে সাংবিধানিক পথে যাত্রা শুরু করেছে।’ তারপর আরও আলোচনা হয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরাও উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই যে পুরো আলোচনা প্রক্রিয়ায় কেউ তো তখন বলেন নাই যে আমরা কেন শপথ নেব, সাংবিধানিক পথে যাব, চলেন বিপ্লবী সরকার গঠন করি?’ সাংবিধানিক পথে যাওয়া দোষের ব্যাপার নয় উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, তখন এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যে খুব সময় নিয়ে সুচিন্তিতভাবে চিন্তা করার মতো পরিবেশ ছিল না। আর যদি সাংবিধানিক পথে যাত্রা ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সেটা এই আন্দোলনে থাকা সবার ভুল। কেউ কেউ বলেন কেন শহীদ মিনারে শপথ নিলাম না, কেন বিপ্লবী সরকার হলো না, কেন সাংবিধানিক পথে গেলাম-এসব উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন – তাঁদের কেউ কেউ এই ছাত্র আন্দোলনকে ‘সাজানো আন্দোলন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ‘ওই সময় এত বড় আন্দোলনকে যদি বুঝতে তারা ভুল করতে পারে, তাহলে বিপ্লবী সরকার হওয়া উচিত-তাদের এই চিন্তাও যে ভুল না, সেটা কীভাবে নিশ্চিত হব?’
শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ চাইলে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করতে হবে
সুষ্ঠু বিচার ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা উচিত মনে করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষাপটে এই অভিমত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি এই অভিমত জানিয়ে সোমবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, শেখ হাসিনার সরকার আমলে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য। বিগত সময়ে এই ট্রাইব্যুনালে সুষ্ঠু বিচারের মানদণ্ডগুলো পূরণের ঘাটতি ছিল। সেসব ঘাটতির মধ্যে ছিল তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থতা, বিচারকদের নিরপেক্ষতার ঘাটতি, আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ না পাওয়া, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্বজনদের গুম করা এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশ সরকার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলে এবং অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার পরিবেশ তৈরি ও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন সংশোধন করলে ভারতসহ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলোর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা উচিত হবে।
মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, বিচার শুরু করার আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তির যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করার জন্যও সংশোধনী আনা প্রয়োজন। অভিযুক্ত ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার যাতে সুরক্ষিত হয় সে জন্য সংবিধানের ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদ বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধনী প্রস্তাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন, সহায়তা করা বা তাতে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধের পথ উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি রয়েছে। এ বিষয়ে এইচআরডব্লিউ বলেছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত হলেও পুরো রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে তা মানুষের স্বাধীনভাবে সমবেত হওয়ার অধিকারসহ অন্যান্য মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করে; এবং তা এমন বিপজ্জনক নজির তৈরি করে যাতে আদালতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে তিন রিভিউ – শুনানি ১৭ নভেম্বর
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে পৃথক তিনটি (বিএনপি, জামায়াত ও বিশিষ্টজনের) আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চে এ দিন ঠিক করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে বুধবার আবেদন (রিভিউ) করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়াও গত ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রিভিউ করেন। তারও আগে সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন রিভিউ আবেদন করেন। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১র ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশকিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়।
বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগে বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ আছে যুক্তরাষ্ট্রের
নাম প্রকাশ না করে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে- দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে কিনা- এ বিষয়েও উদ্বেগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন সম্পর্ক বিষয়ে ঢাকার মূল্যায়ন কী- সেটাও জানতে চেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সূত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।ওয়াশিংটন মনে করে, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ভালো হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন মনে করে, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দেশ ও বিদেশে সমর্থন রয়েছে। কিন্তু যত বেশি দেরি হবে, এই সমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।ফলে দ্রুত সংস্কার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা প্রকাশ করা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে তিনি জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থান হবে কিনা সেটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘উগ্রবাদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের উদ্বেগ রয়েছে। গত কিছু দিনে বেশ কিছু ব্যক্তিকে মুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ প্রসারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াশিংটন জানতে চায়।’ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অস্বস্তিকর সম্পর্কের বিষয়টি নজর এড়ায়নি যুক্তরাষ্ট্রের। ওয়াশিংটন মনে করে এটি একটি নতুন বাংলাদেশ এবং এর সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টিও জোর দেয় তারা।
এ বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন –’এটি কোনও গোপন বিষয় নয় যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এখন খুব বেশি সুসম্পর্ক নেই। তবে আমরা ভারতের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রক্ষা করবো।’ গত সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর করেন। প্রধান উপদেষ্টার ওই সফরের পর পররাষ্ট্রসচিব মো. জসিম উদ্দিন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি সফরকালে হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
প্রাণীদের শোক প্রকাশের ভাষা আমাদের চেয়ে কতটা আলাদা ?
মানুষের মতই প্রাণীদের মধ্যেও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আছে নানা আচার। প্রাইমেটদের মধ্যে, বিশেষ করে বেবুন এবং শিম্পাঞ্জি তাদের মৃত বাচ্চার দেহ বহন করে। তাদের এই আচরণ মাতৃত্বের বন্ধনের প্রতীক। তবে, দেখা গেছে, গ্রুপের অন্যরাও মৃত বাচ্চাদের দেহ বহন করছে। মৃতের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন প্রানীরাও কেন মৃতদেহ বহন করে তার কারণ এখনও অস্পষ্ট। শিশু মৃতদেহ বহনের সময়কাল – প্রজাতি, শিশুর বয়স এবং অন্যান্য বিভিন্ন কারণের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে শিম্পাঞ্জিরা তাদের মৃত বাচ্চাকে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বয়ে নিয়েছে। এটি শুধু প্রাইমেটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হাতি, ডিঙ্গো এবং এমনকি সামুদ্রিক প্রাণী যেমন তিমির মধ্যেও শিশু মৃতদেহ বহনের ঘটনা আছে ।
২০১৮ সালে একটি ওর্কা প্রজাতির তিমি মা প্রায় ১৭ দিন ধরে তার মৃত বাচ্চাকে ডুবে যেতে না দিয়ে ঠেলে ঠেলে সমুদ্রের প্রায় ১,০০০ মাইল পাড়ি দিয়েছিলো। বাচ্চাদের মৃতদেহ বহনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণী, যেমন জিরাফ, পেকারি, এবং শিম্পাঞ্জি প্রায়ই মৃতদেহ পাহাড়া দেয়। বিশেষ করে হাতিরা মৃতদেহ দেখতে যায় এবং শোক প্রকাশ করে। কিছু শিম্পাঞ্জিকে মৃতদেহ পরিষ্কার করতে দেখা গেছে, অন্যদিকে হাঁস ও পাখিরা তাদের মৃত সঙ্গী বা সাথীদের পাশে দীর্ঘ সময় বসে থাকে। তবে সব প্রজাতিই মৃতদের প্রতি এমন আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখায় তা নয়।
যেমন পিঁপড়া এবং টার্মাইট এর মতো কীটপতঙ্গরা তাদের কলোনির মৃত সদস্যদের দ্রুত সরিয়ে ফেলে বা কবর দেয়, যা তারা সম্ভবতঃ রোগের বিস্তার রোধ করার জন্য করে। একই ধরনের আচরণ মেলে ইঁদুরদের মধ্যেও, যারা মৃতদেহগুলিকে নির্দিষ্ট বর্জ্যস্তূপে রেখে দিয়ে আসে। এই আচরণগুলোকে আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া নয়, বরং টিকে থাকার বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। কাকেরা প্রায়শই তাদের মৃত প্রজাতির চারপাশে জড়ো হয়। তারা সম্ভবত বিপদের মূল্যায়ন বা অভিজ্ঞতা থেকে শেখার জন্য এটা করে। আবার কিছু প্রাণী আছে যারা তাদের কেউ মারা গেলে ওই মৃতদেহকে খেয়ে ফেলে। এ ধরণের আচরণগুলো আবেগ নয় বরং টিকে থাকার প্রবৃত্তি পরিচালিত।
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ , সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত হলেই আওয়ামীলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে : নাহিদ ইসলাম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির দাবির মুখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে আইনে আওয়ামী লীগ গত ১ অগাস্ট জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল, সেই একই আইনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হল। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার ও সরকার পতন আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতা হত্যা ও অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ রাজনীতি করার অধিকার রাখে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তবর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। ২৩ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগকে বলি একটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল। এখন প্রশ্ন আসে, ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক কাঠামোতে কীভাবে রাজনীতি করতে পারে? যদি আওয়ামী লীগ ফিরে আসে, তাহলে গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। আমাদের জীবন থাকতে তা হতে দেওয়া হবে না।’ ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়ে সাংবাদিক খালিদ মহিউদ্দীনের সঙ্গে এক টক শো-তে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিজম ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। তার বিচার কার্যক্রম এখনও চলছে। দল হিসেবে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।’
আওয়ামী লীগ কীভাবে নিষিদ্ধ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, ‘সরকারের জায়গা থেকে আমরা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। এসব জাতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর এ বিষয়ে মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সব রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত হলেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে।’ ২৭শে আগস্ট সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে ‘আমি না, যদি না কোনো জঙ্গিবাদী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় তারা লিপ্ত থাকে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী দল, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাদের অবদান ছিল। কিন্তু গেল ১৫ বছরে তারা যা করেছে, সেটা তাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে যায় না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যায় না, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বর্বরতম ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল আওয়ামী লীগ। এই কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তিগত দায় থাকতে পারে, নেতাদের সামষ্টিক দায় থাকতে পারে, কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি না।’
গণহত্যায় কোনো বাহিনী বা দলের সম্পৃক্ততায় গুম, খুন যৌন নির্যাতনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ও জড়িত রাজনৈতিক দলকে ১০ বছর নিষিদ্ধ করাসহ ৮টি সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
জামাতের আমির : “ যদি ১৯৭১ সালে জামাতের কোনো ধরনের ত্রুটি বা অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় , তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে জাতির কাছে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করব , এ বিষয়ে আমার কোন দ্বিধা নেই ”
জামায়াতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, – তার দল ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, কিন্তু দলীয়ভাবে কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়নি। ব্যক্তিগত অপরাধমূলক কাজের উদাহরণ জামায়াতে ইসলামীর জন্য সাংগঠনিক অপরাধ বোঝায় না। রাজাকার, আলবদর এবং আল শামসের মতো মিলিশিয়া সংগঠন গঠন ও নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ছাত্র সংঘ জড়িত ছিল- এমন অভিযোগের জবাবে শফিকুর বলেন, ‘যদি পূর্ব পাকিস্তান জামায়াত-ই-ইসলামী একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে এই ধরনের মিলিশিয়া গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে এবং আওয়ামী লীগের কাছে যদি এমন একটি দলিল থাকে, তাহলে পুরো জাতি তা মেনে নেবে। আমিও তা মেনে নেব।’
জামায়াত আমির বলেন, তার দল যখন একটি ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের পিছনে দাঁড়িয়েছিল, এটি কেবল জামায়াত নয়, অন্যান্য অনেক দলও তা করেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘…তৎকালীন সরকারের আহ্বানে যারা সাড়া দিয়েছিল, এটি তাদের ব্যক্তিগত ভূমিকা, দলের দায়িত্ব নয়’। গোলাম আযম রাজাকার সমাবেশসহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, তাদেরকে অখন্ড পাকিস্তানের জন্য সক্রিয়ভাবে জড়িত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন- এসব অভিযোগের জবাবে শফিকুর বলেন, যেহেতু তারা (তৎকালীন জামায়াতের নেতৃত্ব) একটি অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, তাই তারা দেশের শৃঙ্খলা ও শান্তির জন্য যা প্রয়োজন মনে করতেন তাই বলেছেন।
শফিকুরও একমত যে কেউ দোষী হলে শাস্তি পেতে হবে। ‘কেউ যদি নৃশংসতা করে থাকে, তা গোলাম আযম নিজে হলেও তাদের শাস্তি হওয়া উচিত, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’ জামায়াত আমির শফিকুর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন যে, এটি ‘…একটি সম্পূর্ণ প্রহসনের বিচার।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পরপরই ২৪ হাজার মামলা হয়েছে এবং অনেকে জেলে গেছে। যুদ্ধের ৪২ বছর পর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হল, তাদের বিরুদ্ধে তখন অভিযোগ আনা হয়নি কেন? সে সময় কোনো থানায় কেন কোনো মামলা বা অভিযোগের সূচনা হয়নি?’


