Home Blog Page 240

হাসিনা আমলে গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশে ব্যাংক থেকে পাচার ২ লাখ কোটি টাকা

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এই মনসুর বলেছেন- শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশে ব্যাংক খাত থেকে ২ লাখ কোটি টাকা বা ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করেছে আওয়ামীঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এটি ব্যাংক লুটের সবচেয়ে বড় ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা অন্য কোথাও ঘটেনি এবং এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে; গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ব্যাংকগুলোর তৎকালীন প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) মাথায় বন্দুক না ঠেকালে এটি সম্ভব হতো না।’

গভর্নর আরও বলেন, এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তাঁর সহযোগীরা ব্যাংক খাত থেকে অন্তত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ‘ধাপে ধাপে চুরি’ করেছেন। ‘তাঁরা প্রতিদিন নিজেরা নিজেদের ঋণ দিয়েছেন’-বলেন আহসান এইচ মনসুর। ব্যাংকগুলো দখল করার পর নিয়ন্ত্রকেরা তাদের বাছাই নতুন শেয়ারহোল্ডারদের ঋণ দেওয়া এবং আমদানি চালানে অতিরিক্ত ব্যয় নির্ধারণের (ওভার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে এই টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছে- তিনি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ সরকার পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য ঠিক করেছে এবং শেখ হাসিনার সরকারের সময় প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি ব্যাংকের নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই অডিটকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে চাই।’ তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ এখন এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার ‘গুণগত মানসম্পন্ন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের’ কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে, যাতে এগুলোতে পুনরায় পুঁজি জোগানো সম্ভব হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র হুমকিতে , বলছেন ৭৬% ভোটার

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। নিউইয়র্ক টাইমস সিয়েনা কলেজের জরিপে দেখা যায়, দেশটির প্রায় অর্ধেক সংখ্যক ভোটার মনে করছেন সরকার তাদের জীবনমানের উন্নয়নে তেমন কোনো কাজ করছে না। ৪৫ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন, দেশের গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনো ভালো কাজ করছে না। তিন-চতুর্থাংশ (৭৬%) ভোটার বলেছেন, গণতন্ত্র হুমকির মধ্যে রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার বিশ্বাস করেন, দেশটি দুর্নীতিতে জর্জরিত। ৬২ শতাংশ বলেছেন, সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে নিজের এবং অভিজাতদের সুবিধার জন্য কাজ করছে।

নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, এ ধরনের অনাস্থার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের মদদে সহিংস দাঙ্গা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং ভোটে কারচুপি অব্যাহত রাখার অভিযোগ তোলার মতো ঘটনা গণতন্ত্রের ওপর ভোটারদের বিশ্বাসে ক্ষয় ধরছে। এ ছাড়া অসহনীয় মুদ্রাস্ফীতি, বিভাজনমূলক সাংস্কৃতিক যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ভোটাররা আমেরিকার রাজনীতি এবং সরকার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এ ধরনের হতাশা থেকে ৫৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার বিশ্বাস করেন, দেশের আর্থিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন বা ব্যাপক সংশোধন প্রয়োজন। এসব হতাশা ও ক্ষোভ সত্ত্বেও রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্রসহ প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন-২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নির্ভুল হবে। দুই বছর আগের চেয়ে এ ক্ষেত্রে আস্থা বেড়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে সরানোর পেছনে ষড়যন্ত্র দেখছে বিএনপি

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীনকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি যে বিএনপিতে আটকে গেছে তা পুরোপুরি স্পষ্ট। রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রশ্নে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াতে ইসলামী যেখানে একই সরলরেখায় দাঁড়িয়েছে। সেখানে বিএনপি কেন বেঁকে বসলো এমন প্রশ্ন দেশের মানুষের মনে। সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির কথা খোলামেলা বললেও ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে দলটি। আদতে এই শঙ্কা থেকে রাষ্ট্রপতির পক্ষে দলটির কঠোর অবস্থান।নীতি নির্ধারক নেতাদের প্রশ্ন, সংবিধানের কোন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা হবে? কি উদ্দেশ্য সরানো হবে? এই অপসারণ দেশ ও জনগণের জন্য ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক হবে? রাষ্ট্রপতিকে সরানোর উদ্যোগের সঙ্গে শুধু কি ছাত্ররা জড়িত নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কেউ নির্বাচন প্রলম্বিত করতে অন্য খেলা খেলছে? এসব বিষয়ে আরো পর্যালোচনা করবেন বিএনপির নেতারা।

আসিফ নজরুলের জবাবে ফরহাদ মজহার

‘সাংবিধানিক পথে যাত্রা ভুল হলে সেটা এই আন্দোলনে থাকা সবার ভুল’ বলে দাবি করেছেন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তার এই দাবির জবাবে ফেসবুকে দীর্ঘ লেখা পোস্ট করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার।

এতে ফরহাদ মজহার বলেন সেটা সবার ভুল হতে পারে না। সেটা একান্তই আসিফ নজরুলের ভুল, কিম্বা রাজনৈতিক দল ও সেনাপ্রধানসহ যারা গণঅভ্যুত্থানকে ফ্যাসিস্ট সংবিধানের অধীনে ঢুকিয়েছে তাদের সকলেরই ভুল। … আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, ‘পুরো আলোচনা প্রক্রিয়ায় কেউ তো তখন বলেন নাই যে আমরা কেন শপথ নেব, সাংবিধানিক পথে যাব, চলেন বিপ্লবী সরকার গঠন করি?’। যদি তাই হয় তাহলে আসিফ নজরুল সেই ক্ষেত্রে চুপ করে ছিলেন কেন? কেন বলেননি এটা ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠনের মামলা নয় একদমই, এটা হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা (Popular বা Peoples’ Sovereignty) প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার দায়। … কেউ না বলুক, তিনি শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধান বাতিল করবার কথা বললেন না কেন? কেন তিনি গণ সার্বভৌমত্বের (Popular Sovereignty) প্রশ্ন তুললেন না? …তাঁর কাছ থেকেই আইন ও রাজনীতির সম্বন্ধ বিচার বা পর্যালোচনা সবাই আশা করেছিল। তিনি আমাদের আশা ভঙ্গ করেছেন।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণ বলশেভিক বা চিনা ধাঁচের ‘বিপ্লব’ করেনি। গণঅভ্যুত্থানের সেটা উদ্দেশ্যও ছিল না। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধান ও ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা বাতিল করে…জনগণ নিজেরা নিজেদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করবে যা তাদের ‘অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে-এটাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সারকথা। একেই বলা হয় গণ সার্বভৌমত্ব (Popular Sovereignty) বা জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা। …এই সকল বিষয় বিবেচনার দাবি না করে আসিফ নজরুল কেন সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার কায়েম করে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রই কায়েম করলেন?

… সাংবিধানিক পথে যাত্রা ভুল হলে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে সেই ভুল আবার এখন শোধরাতে পারি। সেই পথ এখনো খোলা রয়েছে। কিন্তু আসিফ নজরুলের ফাঁপা ও অন্যায় দাবি আমাদের পরস্পরকে বোঝার এবং বাংলাদেশের বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে না। বরং আরও জটিল হবে। তিনি বিভেদ ও বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলছেন। ফরহাদ মজহারের পোস্টের চুম্বক অংশ

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির পরিসংখ্যানে কারসাজি করতো হাসিনা সরকার

দীর্ঘদিনের সন্দেহকে সত্যি প্রমাণ করে, অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কারসাজির প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে। অসাধারণ অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স তুলে ধরে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়াতেই যা করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই ধরনের কারসাজির কারণে মনগড়া তথ্য প্রকাশ করতো বলে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির দুজন সদস্য তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে টিবিএসকে জানিয়েছেন। তারা বলেন- শেখ হাসিনার আমলে বিবিএস প্রথমে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রস্তুত করে পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে জমা দিত, পরিকল্পনামন্ত্রী নিজের ইচ্ছামতো কমিয়ে নিয়ে আসার নির্দেশ দিতেন। তাঁর পছন্দমতো তথ্য সাজিয়ে পাঠালে তা অনুমোদন করতেন মন্ত্রী। পরে তা অনুমোদনের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হতো। তিনি আরেক দফায় তা কমিয়ে অনুমোদন করতেন। আর হাসিনা যে তথ্য অনুমোদন দিতেন, বিবিএস সেটিই প্রকাশ করতে বাধ্য হতো।

মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এর প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ঘটতো ঠিক তার উল্টোটা। যেমন ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৩%, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকাশ করেছিল বিবিএস। বর্তমান সরকারের মেয়াদে গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৫.৭৮% দেখিয়েছে সংস্থাটি।

মূল্যস্ফীতির হার ১০% এর কাছাকাছি হলে বা বেশি হলে পরিকল্পনামন্ত্রীরা তা কোনমতেই অনুমোদন করতেন না, বরং অনেকটাই কমিয়ে দিতেন তাঁরা – জানান জাতীয় শ্বেতপত্র কমিটির একজন সদস্য। ১২ সদস্যের জাতীয় শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, কীভাবে বিভিন্ন ধরনের তথ্যের কারসাজি করা হয়েছে- তা নিয়ে শ্বেতপত্রের প্রথম অধ্যায় সাজানো হচ্ছে। এখানে মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির হার, জাতীয় আয়, খানা জরিপ, ব্যালেন্স অব পেমেন্টের হিসাবে কীভাবে সুনিপুণভাবে হেরফের করা হয়েছে সেগুলো উঠে আসবে।

যুদ্ধের শিকার ৬০ কোটি নারী ও মেয়েশিশু : জাতিসংঘ

৬০ কোটির বেশি নারী ও মেয়ে শিশু যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির শিকার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত এক দশকে এই সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বিশ্বব্যাপী লিঙ্গ সমতা ও নারী অধিকার নিয়ে বাদানুবাদে এই নারীরা বিস্মৃত হয়ে গেছেন। সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন গত কয়েক দশকে নারীদের বৈশ্বিক অগ্রগতি ক্রমবর্ধমান সশস্ত্র সংঘাতে অনেকটাই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর গৃহীত নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব মূল্যায়ন করছিলেন গুতেরেস।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর আগের তুলনায় ২০২৩ সালে সশস্ত্র সংঘাতে দ্বিগুণ নারী প্রাণ হারিয়েছেন। সংঘাত সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা ঘটনা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জাতিসংঘ নিশ্চিত করতে পেরেছে। সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে প্রতি দুইজন নারী ও মেয়ে শিশুর মধ্যে একজন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। আর বিশ্বব্যাপী মাতৃমৃত্যুর ৬১ শতাংশই সংঘাতপ্রবণ ৩৫টি দেশে সীমাবদ্ধ।

ইরান – ইসরাইল সংঘাত : এরপর কি ?

প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ইরানে ইসরাইলের আক্রমণটি যতটা আশংকা করা হয়েছিল ততটা গুরুতর ছিল না। মার্কিন আউটলেট অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইসরায়েল ইরানকে হামলার বিষয়ে কিছু আগাম বিবরণ দিয়ে একটি বার্তা পাঠায় এবং তেহরানকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর ব্যপারে সতর্ক করে। এটা যে ইসরায়েল উত্তেজনা আরও বাড়াতে চায় না – অন্তত আপাতত, তার লক্ষণ। “আমরা গাজা উপত্যকা এবং লেবাননে আমাদের যুদ্ধের লক্ষ্যে মনোযোগ দিয়েছি।” আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানই বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে তার “আত্মরক্ষার অধিকার আছে” এবং এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে। তবে আরও বলেছে – তেহরান “আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি তার দায়িত্ব” স্বীকার করে। বোঝা যাচ্ছে, ইরান সরকার হামলার ক্ষয়ক্ষতি কম দেখাতে চায়।আইআরজিসি আক্রমণের সাথে সম্পর্কিত “ছবি বা সংবাদ” পাঠানোকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা করেছে। ইরানি মিডিয়া জানিয়েছে যে তেহরানের প্রসিকিউটর অফিস “জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সমস্যাগুলি কভার করার” জন্য অজ্ঞাতনামা ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, “ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে এই সরাসরি বারুদ বিনিময় শেষ হওয়া উচিত”। মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র শন স্যাভেট বলেছেন ইসরায়েল “জনবসতিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে গেছে এবং শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মনোনিবেশ করেছে”। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, তিনি যোগ করেছেন, “কুটনীতিকে ত্বরান্বিত করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস করা”।

কর্ণফুলী টানেলে প্রতিদিন লোকসান ২৭ লাখ টাকা

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বহুল আলোচিত টানেলটি এক বছর আগে চালু হওয়ার পর থেকে যে পরিমান যানবাহনের চলাচলের ধারণা করা হয়েছিল তার মাত্র এক তৃতীয়াংশ হয়েছে। এমনকি যে অর্থ টানেলটি আয় করেছে তা এটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও কম। গত বছরের ২৮শে অক্টোবর চট্টগ্রামে নদীর তলদেশে ৩.৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম টানেলটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। ২০শে অক্টোবর পর্যন্ত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৯১০টি যানবাহন চলাচল করে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যানবাহনগুলো থেকে দৈনিক গড় আয় ছিল ১০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। কিন্তু টানেলের দৈনিক পরিচালন ব্যয় ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের জানুয়ারীতে প্রকল্পের যে পূর্বাভাস করা হয়েছে সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর দৈনিক গড়ে ১৮,৪৮৫টি যানবাহন এ টানেল ব্যবহার করবে।

ইরানে যেভাবে হামলা চালালো ইসরাইলের বিমানবাহিনী

শনিবার ভোররাতে ইরানে হামলা চালাতে ইসরায়েলের শতাধিক যুদ্ধবিমান প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে। জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো প্রথমে সিরিয়ার রাডার নেটওয়ার্কে হামলা চালায়, যাতে ইরান সিরিয়ার কাছ থেকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর অবস্থান সম্পর্কে জানতে না পারে। এর পরই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের দিকে রওনা হয়। আইডিএফ জানিয়েছে-ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির স্থাপনায় আঘাত করেছে। এসব স্থাপনায় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই ইরান ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি এবং অতিরিক্ত ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায়ও আঘাত হেনেছে। আইডিএফ জানিয়েছে-তাদের অপারেশন শেষ হয়েছে এবং যুদ্ধ বিমান নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছে।ইরানের ন্যাশনাল এয়ার ডিফেন্স হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে- ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান তেহরান, খুজেস্তান ও ইলাম প্রদেশের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। আক্রমণগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করা হয়েছে, তবে কিছু জায়গায় ‘সীমিত ক্ষতি’ হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। হোয়াইট হাউস এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষার মহড়া’ বলে বর্ণনা করেছে। ইরানের পরমাণু ও তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হলে ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে- এই আশঙ্কায় এ ধরনের স্থাপনাকে নিশানা না করতে ইসরায়েলকে আগেই সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করছেন ছাত্রনেতারা

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের প্রতি বিএনপির কোনো সহানুভূতি নেই; কিন্তু তাঁকে সরানোর চেষ্টার পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, অথবা সরানোর পর কী পরিস্থিতি হতে পারে, এসব বিষয়ে সংশয় রয়েছে বিএনপিতে। শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর সাথে বৈঠকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনকে সরানোর বিষয়ে ছাত্রনেতৃত্বের দাবির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নীতিগতভাবে একমত বলে জানায়।তবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এর বাস্তবায়ন করার পক্ষে মত দেয় দলটি।

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবির পক্ষে ঐকমত্য তৈরির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন দুই সংগঠনের নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দুই সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দালিলিক প্রমাণ নেই বলে রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, এরপর তিনি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। ওই বক্তব্যের পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। সে জন্য তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের দাবির পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোকে বোঝাতে চাইছেন।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি বিএনপি ও জামায়াতের পর পর্যায়ক্রমে ইসলামী আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে বৈঠক করবে বলে জানা গেছে।