Home Blog Page 237

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত হাছান মাহমুদ

রবিবার লন্ডনভিত্তিক চ্যানেল এস টেলিভিশনে ‘আওয়ামী লীগ: তটস্থ, হতাশ, কোণঠাসা?’ শীর্ষক সাক্ষাৎকারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ৫ অগাস্ট সরকার পতনের প্রায় তিন মাসের মাথায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা এই প্রথম সাক্ষাৎকার দিলেন। লীগ সরকারের পতনের পর হাছান মাহমুদের দেশ ছাড়ার খবর এসেছিল। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন বিএনপি যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলছে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে, সেটির সাথে আমরা একমত। প্রয়োজনে বিএনপির সাথে একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত। এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন- বিএনপির অনেক বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত। আমরা ১/১১ সরকারের সঙ্গে একযোগেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিলাম এবং গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। তিনি বলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বলেছেন ‘রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার আমরা কারা?’- এই যে প্রশ্ন তুলেছেন আমি এটির সাথে একমত। এমনকি ছাত্রলীগকে কাগজে নিষিদ্ধ করার পর সেটির বিরুদ্ধেও তারা বক্তব্য দিয়েছেন। মাহমুদ বলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবসহ তাদের শীর্ষ নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা- এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত।

তিনি বলেন, বিএনপি অবশ্যই সবসময় নির্বাচন বর্জন করেছে, নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তবে যেহেতু আমরা দায়িত্বে ছিলাম, ২০১৪ সালে এবং ২০২৪ সালে তাদের নির্বাচনে আনতে না পারাটা আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ছিল। আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে প্রায় ১৫০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও সেই সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হাছান মাহমুদ বলেন- আসলে কতজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, সেটি এখনও তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। তিনি বলেন- পুলিশকে যখন আক্রমণ করা হয়, পুলিশের কি আত্মরক্ষার অধিকার নাই? পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং পুলিশের ওপর গুলি ছোঁড়া হয়েছে এবং তখন তো পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি যে ছোড়েনি তা নয়, অবশ্যই ছুঁড়েছে। সেজন্য এই পুলিশের দায় আমরা কখনও অস্বীকার করি না। বা সরকার পক্ষের দায় আমরা অস্বীকার করি না। এখনও অস্বীকার করছি না। অবশ্যই দায়িত্বে থাকলে দায় নিতে হবে।

একবার বিরাজনীতকরণ , মাইনাস টু করার চেষ্টা হয়েছিল , আবারো ওই রাস্তায় যাওয়ার কথা কেউ চিন্তা করবেন না : মির্জা ফখরুল ইসলাম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পরিষ্কার কথা, বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবেন না। এটা বাংলাদেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। বিরাজনীতিকরণ, মাইনাস টু করার চেষ্টা একবার করা হয়েছিল। আবারো ওই রাস্তায় যাওয়ার কথা কেউ চিন্তা করবেন না।’ ৩ নভেম্বর রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত সাদেক হোসেন খোকার স্মরণসভায় তিনি একথা বলেন। ‘রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় বসার জন্য উসখুস করছে’ এক উপদেষ্টা এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্য খুব দুর্ভাগ্যজনক, আমরা আশা করিনি যে এই মাপের মানুষ এ ধরনের কথা বলবেন। রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উসখুস করছি না, আমরা বাংলাদেশকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনামুক্ত করার জন্য কাজ করেছি, জীবন ও প্রাণ দিয়েছি। এখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা যুদ্ধ করছি। কেন যুদ্ধ করছি? যত দেরি করবেন, তখন হাসিনা আবার ফিরে আসবে।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অতিদ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। জঞ্জাল সাফ করে ফেলুন। পদে পদে আমরা ক্ষমতায় যেতে উসখুস করছি, এ সমস্ত কথা বলে জনমতকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। আমরা তো ক্ষমতায় যেতেই চাই। আমরা রাজনীতি তো করিই ক্ষমতার জন্য।’

সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখনের সিদ্ধান্ত কিভাবে হবে ?

রোববার সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ কমিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন-সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখন হবে কি না, তার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলো থেকে লিখিত প্রস্তাবনা এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দল, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হবে। তাদের বক্তব্য শুনব। লিখিত বক্তব্য চাই। তারপর সে অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে সংবিধান সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন, পুনর্বিন্যাস ও পুনর্লিখন কোনটা করা হবে।’

কমিশনের প্রস্তাব বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করবে নাকি পরবর্তী নির্বাচিত সরকার করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে এক দফা ঘোষণার সঙ্গে আগের সব রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাতিল হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি সরকার বা সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে এখানে বলতে চাইছি না প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে। তবে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বলতে পারি, বাস্তবায়ন অবশ্যই বর্তমান সরকার করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাংবিধানিক সংস্কারের সাতটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করেন। এগুলো হলো-

  • দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিশ্রুত উদ্দেশ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আলোকে বৈষম্যহীন জনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
  • ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো।
  • রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বস্তরের জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের ব্যবস্থা।
  • ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার উত্থান রোধ।
  • রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনা।
  • রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানের বিকেন্দ্রীকরণ ও পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক এবং আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যকর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

গাজার ভবিষ্যত সরকার নিয়ে আলোচনায় হামাস ও ফাতাহ !

মিসরের রাজধানী কায়রোয় ফিলিস্তিনের দুই গোষ্ঠী হামাস ও ফাতাহর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক চলছে। যুদ্ধের পর গাজায় সরকার পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করছেন। মিসরের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম আল কাহেরা নিউজ টিভি। যুদ্ধ পরবর্তী গাজায় শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল মিসর। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে গত মাসেও কায়রোয় হামাস ও ফাতাহর নেতারা আলোচনায় বসেন।

সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই, এমন মানুষজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হওয়ার পর গাজাকে শাসন করবে আর গাজার শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, সেই বিষয় নিয়ে কাজ করবে এই কমিটি। গত ৪৮ ঘণ্টায় জাবালিয়া এলাকায় ইসরাইলের হামলায় ৫০ জনের বেশি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার এক বিবৃতিতে এমন তথ্য জানিয়েছে ইউনিসেফ।

এরপর আওয়ামী লীগ আর দলের থাকল না , পরিবারের হয়ে গেল : শারমিন আহমদ

… শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করিনি, কথা বলিনি। …তাদের প্রতি আমার কোনো বিরাগ নেই, কিন্তু আমি একটা অবস্থানে অনড় ছিলাম যে তারা গণতন্ত্রের পথে না আসা পর্যন্ত আমি দেখা করব না। … সেটা আওয়ামী লীগের শাসন ছিল নাকি হাসিনা লীগের মাফিয়া স্টাইলের শাসন ছিল? প্রকৃতপক্ষে সেটা একটা পরিবার লীগের শাসন ছিল। কারণ, আওয়ামী লীগের কথা আমি যখন চিন্তা করি, তখন মাওলানা ভাসানীর কথা চিন্তা হয়, শামসুল হকের কথা চিন্তা হয়। আমার বাবা তাজউদ্দীনের কথা মনে হয়। এমনকি একাত্তর-পূর্ববর্তী বঙ্গবন্ধুর কথাও চিন্তা হয়। তাঁরা গণমানুষের প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ হাইজ্যাক হয়ে যায় একটা পরিবারের কাছে। একটা পরিবারতন্ত্র হয়ে উঠেছিল, তাঁরা আওয়ামী লীগের ব্যানারটা ব্যবহার করেছিলেন।

সে জন্য আমার কাছে মনে হয়, আওয়ামী লীগের মধ্যে যেসব নেতা-কর্মীর বিবেক এখনো জাগ্রত আছে, তাঁরা যদি সবাই প্রতিবাদী হয়ে হাসিনা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা সুস্পষ্ট পার্থক্যরেখা টানতে পারেন, তাহলেই আওয়ামী লীগের একটা রাজনৈতিক সম্ভাবনা থাকবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এত এত দুর্নীতি হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের থেকেই এর বিরুদ্ধে ডাকটা আসা উচিত। তাঁরা যদি বুদ্ধিমান হন, যদি সত্যিই আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন, তাহলে তাঁদের বলতে হবে যে তাঁদের দলে কোনো ক্রিমিনাল থাকবে না। শেখ হাসিনা ও তাঁর আশপাশে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সবাই ক্রিমিনাল। তাঁদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই দাবিকে বাইরের লোক শুধু কেন করবে? বিচারের দাবি কেন আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে আসবে না? … অবশ্যই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, অনুশোচনাটা সত্যিকারের মন থেকে আসতে হবে। মানুষ যখন দেখবে আচরণে, চিন্তায়, কথাবার্তায় পরিবর্তন এসেছে, তাহলে ধীরে ধীরে তাদের নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থাটা ফিরতে শুরু করবে।

… আওয়ামী লীগের উচ্চ মহল, শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে আমি, সোহেল, আমাদের কাছে ফোনকল এসেছে। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, আওয়ামী লীগের হালটা ধরব কি না। আমি তাঁদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছি, ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে জোহরা তাজউদ্দীন আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। তখন কিন্তু আওয়ামী লীগের অবস্থা এখানকার চেয়ে অনেক ভালো ছিল। আমার মা যখন আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের প্রায় সবাই তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা মানুষ। … আম্মা যখন আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে আসতে শুরু করলেন, দলকে একটা শক্ত জায়গায় নিয়ে এলেন তখন কী হলো? আব্দুর রাজ্জাক সাহেবরা দিল্লি থেকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে এলেন। এরপর আওয়ামী লীগ আর দলের থাকল না। পরিবারের হয়ে গেল।

আমি ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র পছন্দ করি না। কেউ যদি নতুন আসে, আমরা তাদের জন্য কাজ করব, তাদের গাইড করব। কিন্তু তাজউদ্দীনের সন্তান হিসেবে আমরা রাজনীতিতে আসতে চাইব না। যাঁরা ফোনকল করেছেন, আমি তাদের বলেছি, আপনারা আবার তাজউদ্দীনের পরিবারের কাছে আসছেন! আপনারা নিজেরা দলকে ধ্বংস করে এখন চাচ্ছেন আবার আমরা আসব, দলকে গড়ে দেব। এরপর আপনারা ফিরে এসে সেটার ফল নেবেন?

এবার আমরা এই অবস্থান নিয়েছি যে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে অনুশোচনা আসুক, আত্মোপলব্ধি আসুক। জনগণের কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। প্রত্যেক আহত ব্যক্তির কাছে, প্রত্যেক নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাছে গিয়ে পা ধরে মাফ চাইতে হবে। যে টাকা বিদেশে পাচার করে নিয়েছেন, সেটা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রথম আলোর সাথে সাক্ষাৎকারে শারমিন আহমদ : লেখক-গবেষক ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা।

চালের দাম বাড়াচ্ছে কারা ?

দৈনিক সমকালের রিপোর্ট: গেল এক মাসে সর্বোচ্চ আট শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে চালের দাম। পর্দার আড়ালে বাজারে খেলছে ‘সিন্ডিকেট’। হাজার হাজার টন চাল গুদামে ভরে রেখেছেন উৎপাদন এলাকার মিলার ও মজুতদাররা। চালের সংকট না থাকলেও বাজারে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছেন তারা। কারসাজির সঙ্গে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, লীগ আমলে সুবিধা পাওয়া বড় মিলার ও কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী জড়িত। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার চালের মিল, বাজার ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে সমকাল।

শেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ টন যা চাহিদার চেয়ে ৩০ লাখ টন বেশি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ৮ লাখ ৩৯ হাজার টন চালের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। মিলাররা বন্যার উছিলা আর মজুত ফুরিয়ে আসছে বলে ভোক্তার পকেট কাটছে।বগুড়ার শেরপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে ধান-চাল ব্যবসায়ীরা জানান, এসিআই, রূপচাঁদা, আকিজ, পুষ্টিসহ বেশ কিছু কোম্পানি চালের দামে ফায়দা লুটছে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান-চাল কিনে গুদামজাত করে। পরে সুবিধামতো সময়ে নিজ নিজ ব্র্যান্ডের প্যাকেটে মোড়কজাত করে বেশি দামে বিক্রি করে।

আমদানিতে মোট করভার ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে দুই দফা কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ অগ্রিম কর রাখা হয়েছে। তাতে চালের আমদানি মূল্য কেজিতে প্রায় ৯ টাকা ৬০ পয়সা কমার কথা। শুল্ক প্রত্যাহার হলেও চক্রটি মজুত চাল বেশি দামে বিক্রির জন্য আমদানি করছে না। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। খাদ্য সচিব মাসুদুল হাসান বলেন, চালের যে সংকট নেই, তা পুরোপুরি সত্য। কিছু ব্যবসায়ী সরকারকে চাপে ফেলার জন্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।

ইরান আবার হামলা চালালে ইসরায়েলকে ঠেকাতে পারব না : যুক্তরাষ্ট্র

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলছে হামলা ও পাল্টা হামলা। ইরান আবারও ইসরায়েলকে ‘চরম জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হুশিয়ারি দিয়েছে, আরেকবার ইসরায়েলে হামলা করলে দেশটি তাদের পছন্দমতো প্রতিশোধ নেবে এবং সে ক্ষেত্রে তাদেরকে ‘ঠেকানো’ বা কোনোরকম সীমাবদ্ধতা আরোপের মতো অবস্থায় থাকবে না ওয়াশিংটন। রোববার টাইমস অব ইসরায়েল তথ্যসূত্র হিসেবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অনুরোধে ইরানের পরমাণু অবকাঠামোয় হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করেন ইরানের তেল উৎপাদন অবকাঠামো। তবে এতেও সায় দেয়নি ওয়াশিংটন। যার ফলে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো ও আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ইসরায়েলকে।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইরানিদের বলেছি: (তোমরা আবার হামলা চালালে) আমরা ইসরায়েলকে ধরে রাখতে পারব না। আমরা নিশ্চিত করতে পারব না যে পরবর্তী হামলাটি আগের বারের মতো সুশৃঙ্খল হবে কিংবা সুপরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের বিরুদ্ধে আসবে।’ এই প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চূড়ান্ত জবাব’ দেওয়ার হুমকি দেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ‘গণহত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ এর অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা করেছেন একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি আইনজীবী। রোম সংবিধির ১৫ ধারায় দায়ের করা এই মামলার মাধ্যমে তিনি হাসিনা এবং তার সরকারের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। ১ নভেম্বর লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হাসিনা কর্তৃক বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো সহিংসতা ও দমন-পীড়নের বিস্তৃত প্রমাণ আমরা জমা দিয়েছি। এসব প্রমাণের মধ্যে সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে।’

ব্যারিস্টার আশরাফুল বলেন, ‘বাংলাদেশের আদালতে হাসিনা শাস্তি পাবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ তিনি (শেখ হাসিনা) এখন ভারতের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছেন।’ ‘কিন্তু আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ভারত আন্তর্জাতিকভাবে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে বাধ্য হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার আমরা কারা : মির্জা ফখরুল

জাতীয় পার্টি পরিস্থিতি সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার আমরা কারা। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা আরেকটা চক্রান্ত শুরু হয়েছে। দেশে একটা অনিশ্চয়তা আবার শুরু করার জন্য এ ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যেটা কোনো ইস্যু না, সেটাকে ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। আমি মনে করি এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সচেতন হওয়া দরকার।’

সেন্ট মার্টিন লিজ দেওয়ার বিষয়টি গুজব – প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

অন্তর্বর্তী সরকার সেন্টমার্টিন লিজ দিচ্ছে’ এমন প্রচারণা নাকচ করে পোস্ট করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে চালু হওয়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেকিং পেজ। পোস্টে প্রেস উইং জানায়, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে ‘সুশান্ত দাস গুপ্ত’ নামের একজন ফেসবুক পোস্টে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের মধ্যে ‘ল্যান্ড ফোর্সেস টকস’-এর একটি ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন করেন, ‘ডিল ডান?’

‘সেন্ট মার্টিন গন?’ এ বিষয়ে ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’ জানিয়েছে, সেন্ট মার্টিন কোনো দেশের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তারা আরও জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের মধ্যে ল্যান্ড ফোর্সেস টকস কয়েক বছর ধরে চলছে। এর সপ্তম আসর গত ২০২৩, ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের ফোর্ট শ্যাফটারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর সঙ্গে সেন্ট মার্টিনকে জড়িয়ে কোনো ধরনের পোস্ট নিছক গুজব।

মোরশেদ মাহবুবুল নামের আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর পোস্টে দাবি করা হয়, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বর্তমান অবস্থা: ১. সাগরে মাছ ধরা বন্ধ; ২. পর্যটক আসা সম্পূর্ণ বন্ধ; ৩. হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ তিন মাস; ৪. বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ শাটডাউন।’

এ বিষয়ে প্রেস উইং জানায়, ‘অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে সেন্ট মার্টিন কমপক্ষে ২০ ধরনের বিপদের মুখে পড়েছে বলে সম্প্রতি ‘এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভান্স’ নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সেন্ট মার্টিনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত পর্যটনকে দায়ী করছেন।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গবেষণা অনুযায়ী দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটির ৪১ ভাগ প্রবাল ধ্বংস হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো না গেলে ২০৪৫ সালের মধ্যে এই দ্বীপের সব প্রবাল ধ্বংস হবে যাবে আর দ্বীপটিও ডুবে যাবে।

সরকার এই দ্বীপ রক্ষায়, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে, আর বেআইনি স্থাপনার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বৃহত্তর জনস্বার্থে। দেশের একমাত্র প্রবালের দ্বীপ সেন্ট মার্টিন বেঁচে থাকবে আগামী প্রজন্মের জন্যও।’ প্রেস উইং আরও জানায়, ‘সাগরে মাছ ধরা বন্ধ হয়নি; হাসপাতাল সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে; বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে; জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় নভেম্বরে পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রি যাপন করতে পারবেন না, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটক রাত্রি যাপন করতে পারবেন।’

গত এক যুগে দ্বীপটি রক্ষায় সরকার তিন দফায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর একটি প্রকল্প চালু করে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে সেখানে মার্কিন ঘাঁটি তৈরিসহ নানা ধরনের প্রচার চলতে থাকে।