Home Blog Page 236

মিডিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ও ফ্যাসিস্টদের প্রচারণার সুযোগ দিলে ব্যবস্থা

‘যারা মিডিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন, গণহত্যার আসামী ও ফ্যাসিস্টদের প্রচার প্রচারণা করার সুযোগ করে দিবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’- তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ৬ নভেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে করা পোস্টের মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টকশো ‘ঠিকানায় খালেদ মহিউদ্দিন’ এ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে অতিথি করার কথা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতারা খবরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। পরে ঠিকানা আইনি জটিলতার কথা বলে সাদ্দাম হোসেনকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

এ প্রেক্ষিতে ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, এ-টিমের (আওয়ামী লীগ সমর্থক ফেসবুক পেজ) কুখ্যাত প্রোপাগান্ডিস্টরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নৃশংস খুনী নেতাদের জনপরিসরে হাজির করার পর সেটাকে এখন নরমালাইজ করতে বিভিন্ন মিডিয়া প্লাটফর্ম ও সাংবাদিকরা উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা এমন ভাব করছে যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ এখন বিরোধী দল। বিরোধী মত হিসেবে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের বক্তব্য প্রচার করার চেষ্টা করছে। তারা ভুলে গেছে বাংলাদেশে একটা ম্যাস কিলিং ঘটেছে জুলাই-অগাস্টে যেখানে ছাত্র, শিশু, নারী, শ্রমিকসহ অসংখ্য মানুষের নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং অসংখ্য জীবন পঙ্গু হয়ে গেছে।

সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এখনো গণহত্যা ও পঙ্গুত্বের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ এখন বিচারের কাঠগড়ায়। অথচ আওয়ামী লীগকে নানা কৌশলে নানা আন্দোলনে সমাজে হাজির করতে সচেষ্ট বিভিন্ন শক্তি। এগুলাতে লাভ হবে না। রক্তের ওপর দিয়ে আওয়ামী লীগের পতন ঘটেছে। আওয়ামী সিম্পেথাইজাররা এটা যত দ্রুত মেনে নেবে এবং জনগণের পক্ষে কাজ করবে তত সবার জন্য মঙ্গল। আমরা জানি এ লড়াই চলমান। এবং আমরা সব সময়ের জন্য প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক কোকেন চোরাচালানের ট্রানজিট রুট এখন বাংলাদেশ

আফ্রিকান ও মধ্য আমেরিকান কিছু দেশ থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে কোকেন চোরাচালান গত কয়েক বছরে বেড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুসারে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪৮ কেজির বেশি কোকেন ধরা পড়েছে। দেশে ২০২২ এ ৫ কেজি ও ২০২৩ এ ১৩ কেজি জব্দ করা হয়েছিল। ১ কেজি কোকেনের বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। কর্মকর্তাদের মতে, অতি উচ্চমূল্যের কারণে মাদক হিসেবে কোকেনের ব্যবহার তেমন নেই বাংলাদেশে।

আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট বাংলাদেশকে কোকেন চোরাচালানের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। নাইজেরিয়া, তানজানিয়া, মালাওয়ি, কলম্বিয়া, পেরু, বলিভিয়া ইত্যাদি উৎপাদক দেশ থেকে কোকেন অবৈধভাবে আকাশপথে বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ফাঁকফোকর দিয়ে সেই কোকেন ভারতে পাচার হয়।

মার্কিন ভোটাররা এবার অর্থনীতির চেয়েও গণতন্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ।

যুক্তরাষ্ট্রে সিবিএসের করা এক বুথফেরত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৫ শতাংশ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দিয়েছেন।অর্থনীতিকে প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন ৩১ শতাংশ ভোটার। গর্ভপাতকে গুরুত্ব দিয়েছেন ১৪ শতাংশ এবং অভিবাসনকে গুরুত্ব দিয়েছেন ১১ শতাংশ ভোটার। সবচেয়ে কম ৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন পররাষ্ট্রনীতির কথা।

এর আগে ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের কাছে প্রার্থী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনীতি সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল। বুথফেরত জরিপেও সেই চিত্র দেখা যায়। সিএনএন-এর বুথফেরত জরীপে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতে সন্তুষ্ট নন দেশটির তিন-চতুর্থাংশ ভোটার। মাত্র এক-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্র আগের মতো সবকিছুতে আধিপত্য বা মহানুভবতা নাও দেখাতে পারে : এস জয়শঙ্কর

ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক প্যানেল আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা কমলা হ্যারিস, যেই জয়ী হোক না কেন, দেশটি বাকি বিশ্ব থেকে আরও ‘বিচ্ছিন্ন’ থাকার নীতি আঁকড়ে ধরবে। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত, বারাক ওবামার আমল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন করে এসেছে।’ বিভিন্ন সময়ে যৌক্তিক কারণ থাকলে সেনা মোতায়েনে অনীহা ও জো বাইডেনের শাসনামলে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেন।’ জয়শঙ্কর মন্তব্য করেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান মার্কিন শাসকের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, সেদিকে না তাকিয়ে জাতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কেমন, সে দিকটি আমলে নেওয়া। … তাদেরকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলে বলতে হয়, আমাদের এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আগের মতো সবকিছুতে আধিপত্য বা মহানুভবতা দেখাতে এগিয়ে নাও আসতে পারে’, যোগ করেন তিনি। জয়শঙ্কর মত দেন, মার্কিন নীতিমালার দীর্ঘমেয়াদী ধারায় নির্বাচনের ফল তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।

চক্রান্তের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে বললেন ফখরুল

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন- আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। বিপদ শেষ হয়ে যায়নি। নতুন করে বিপদ আসার সম্ভাবনা আছে। গণতন্ত্রকে আবার আঘাত ও নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে। সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আয়োজন করবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন- নির্বাচিত সরকারই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সরকার। কারণ, সেই সরকার জনগণের সমর্থন নিয়ে আসে এবং জনগণের জন্য কাজ করে।

আরও ৮টি গোপন বন্দীশালার সন্ধান পেয়েছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন

আওয়ামী লীগ সরকারের গত দেড় দশকে মানুষকে তুলে নিয়ে গুমের ঘটনায় ১ হাজার ৬০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে। এর মধ্যে ৪০০ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। এ কাজ করতে গিয়ে জোরপূর্বক মানুষকে তুলে নিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হতো, এমন ৮টি গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে তারা। কমিশনের ভাষ্যমতে, র‍্যাব, ডিজিএফআই, ডিবি, সিটিটিসি, সিআইডি, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা এসব গুমের ঘটনায় জড়িত। মঙ্গলবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন, ‘আমরা শুনেছি, আয়নাঘর, যেটা দ্বারা আমরা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারকে বুঝতাম, এর চেয়েও নিকৃষ্টতম সেল আমাদের কাছাকাছি জায়গাতেই ছিল। আমরা সেগুলো পরিদর্শন করেছি।’ ওই গোপন বন্দিশালাটি র‍্যাবের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো বলে জানান মানবাধিকারকর্মী নূর খান। কমিশনের সভাপতি বলেন, ‘আয়নাঘর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। র‍্যাব-১ এটাকে বলে টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন সেল, ডিজিএফআইয়ে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল। বিভিন্ন বাহিনীর অধীন বিভিন্ন জায়গায় আরও কিছু সিক্রেট ডিটেনশন সেন্টার আছে।’

কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন- যে ৪০০টি ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, সেখানে ১৭২টি ঘটনায় র‍্যাবের সম্পৃক্ততা, ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সম্পৃক্ততা ৩৭টিতে, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ৫৫টিতে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ২৬টিতে এবং পুলিশের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে ২৫টিতে। এর বাইরে সুনির্দিষ্ট কোনো বাহিনীর পরিচয় না দিয়ে প্রশাসনের লোক বা সাদাপোশাক পরিহিত অবস্থায় থেকে কাউকে তুলে নিয়েছে, এমন ৬৮টি ঘটনা পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প – কমলা কে জিতলে কোন এলাকার কার কি ?

এই মুহুর্তে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল ভূ-রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্যের উপর। কমলা হ্যারিস জিতবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতবেন তা নিযে চলছে জল্পনা কল্পনা ও ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তাদের প্রশাসনের বর্তমান নীতিগুলিকে অব্যাহত রাখার কথা, আর রিপাব্লিকানরা জিতলে আমেরিকার প্রশাসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” অবস্থানে ফিরে যাবে ও এতে শুধু আমেরিকাই প্রভাবিত হবে না, প্রভাবিত হবে গোটা বিশ্ব।

ইউরোপ, ন্যাটো এবং আন্তঃমহাদেশীয় সম্পর্ক
বাইডেন প্রশাসন ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে কাজ করেছেন এবং ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাবকে দমানো ও কমানোর জন্য সেখানে ন্যাটোকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সম্প্রতি, ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন উভয়ই এই জোটে যোগ দিয়েছে। এই সম্প্রসারণ উত্তর ইউরোপে ন্যাটোর উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে, বিশেষ করে ওই অঞ্চলে রাশিয়ার শক্তি ও প্রভাবকে খর্ব করেছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশ যেমন ইউক্রেন এবং জর্জিয়ারকেও ন্যাটোর সদস্য বানাতে আগ্রহী যেটা রাশিয়ার জন্য একটি সরাসরি হুমকি, এবং ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে ও ইউরোপের শক্তি ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হলে তার প্রশাসন সম্ভবত একই নীতিগুলো বজায় রাখবে।

যদি ট্রাম্প নির্বাচিত হন, তাহলে যুক্তরাষ্টের ন্যাটোর সাথে তুলনামূলকভাবে একটি বেশি লেনদেনমূলক তৈরী হতে পারে ও অতীতে ট্রাম্প ন্যাটোতে আমেরিকার অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলিকে ন্যাটোতে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে চাপ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প ঐতিহাসিকভাবে ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং প্রায়ই রাশিয়ার সাথে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।

এশিয়া-প্যাসিফিক
এশিয়া-প্যাসিফিক বিশেষ করে তাইওয়ান, উত্তর কোরিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের অন্যান্য প্রধান দেশগুলোর সাথে আমেরিকার সম্পর্কে নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যদি কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হন, তবে তাঁর প্রশাসন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাইডেন সরকারের কৌশলগত ফোকাস হিসেবে ধরে রাখতে চেষ্টা করবে এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে মোকাবেলা করার জন্য জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে সম্পর্ক মজবুত করবে। এর ফলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে পারে ও তাইওয়ান প্রশ্নে মার্কিন অবস্থান আরও দৃঢ় হবে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প জিতলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একটা মিশ্র পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বে উত্তর কোরিয়ার সাথে কূটনৈতিকভাবে যুক্ত হতে চেষ্টা করেছে এবং আবার একই সাথে চীনের নীতিগুলির বিরুদ্ধে তাইওয়ানে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর আগ্রহও দেখিয়েছে। ট্রাম্পের আচরণ চীনকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে আরও মুখোমুখি অবস্থান নিতে পারে, যা তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগরে ভূখণ্ড বিরোধের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভারত, বাংলাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
যদি কমলা নির্বাচিত হন, তবে ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাইডেন প্রশাসন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে গুরুত্ব দিয়েছেন, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রচেষ্টা মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রভাব কমানোর একটা স্ট্রাটেজি ও তাছাড়া ভারতীয় বাজারে আমেরিকান পণ্যের (যেমন iphone) সম্প্রসারণ করাও এই স্ট্রাটেজির পিছনের একটা কারণ হতে পারে ও কামালা হ্যারিসের প্রশাসনের ভারতের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকলে, দুদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে একটি সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিণত হতে পারে।

অন্যদিকে, যদি ট্রাম্প নির্বাচিত হন, তাহলে মার্কিন-ভারত সম্পর্কের গতিবিধি খুব একটা পরিবর্তিত নাও হতে পারে। ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্কগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, চীনের আগ্রাসনের মোকাবেলায় ভারতের কাছে অস্ত্র বিক্রির উপর জোর দিতে পারে। যদি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হন, তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কেও পরিবর্তন আসতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনুসের সাথে ডেমোক্রাট নেতৃত্বাধীন বাইডেন প্রশাসনের ভালো সুসম্পর্ক আছে। তবে রিপাবলিকান পার্টি (ট্রাম্প) ক্ষমতায় আসলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একই রকম থাকবে কি না সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হতে পারে যে বাংলাদেশের উপর থেকে নজর কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের প্রভাব বাড়ানোর জন্য অন্যান্য কাজে বেশি মনোযোগী হবে ও আবার এরকমও হতে পারে যে, ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির ফলে, মার্কিন স্বার্থকে উপকারি করতে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি শক্তিশালী করার উপর জোর দেয়া হতে পারে যা বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে পারে, বিশেষ করে বস্ত্র শিল্পে, যেখানে বাংলাদেশের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ট্রাম্প-কমলা কে জিতলে কোন এলাকার কার কি ?

এই মুহুর্তে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল ভূ-রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্যের উপর। কামালা হ্যারিস জিতবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতবেন তা নিযে চলছে জল্পনা কল্পনা ও ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তাদের প্রশাসনের বর্তমান নীতিগুলিকে অব্যাহত রাখার কথা, আর রিপাব্লিকানরা জিতলে আমেরিকার প্রশাসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” অবস্থানে ফিরে যাবে ও এতে শুধু আমেরিকাই প্রভাবিত হবে না, প্রভাবিত হবে গোটা বিশ্ব।

চীন
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন চীনকে একটি কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখে, যা বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং সামরিক ক্ষমতায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করার নীতি অব্যাহত রেখেছে। বিশ্বে চীনের প্রভাব মোকাবেলা এবং কমানোর জন্য তার প্রশাসন ন্যাটো, কোয়াড (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া) এবং আসিয়ানের মতো বহুপাক্ষিক সংস্থার মাধ্যমে জোটগুলোকে শক্তিশালী করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বাইডেন প্রশাসন চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা করেছে, বিশেষত উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে আচরণ এবং হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনগুলোর বিরুদ্ধে দমন নীতির জন্য। তাইওয়ানে চীনের রাজনৈতিক আগ্রাসন মোকাবেলা করার জন্য তারা তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে এবং সম্প্রতি সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এছাড়াও চীনের প্রযুক্তিগত সংস্থাগুলোর ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বাইডেন প্রশাসন, বিশেষত সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে। যদি কামালা হ্যারিস নির্বাচিত হন, তাহলে বর্তমান প্রশাসনের মত তাদেরও মিত্রদের শক্তিশালীকরণ এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে ট্রাম্প জিতলে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে, কারণ তার প্রশাসন পূর্বে চীনের বিরুদ্ধে কড়া বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির কড়া নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বাণিজ্য যুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে। তাছাড়া তার সরকার তাইওয়ানের সমর্থন আরো দৃঢ় করতে পারে, যা চীনের সাথে আমেরিকার সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়াবে। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে আরও সরাসরি প্রতিক্রিয়া এবং চীনের প্রভাব প্রতিহত করার জন্য অন্যান্য দেশগুলির সাথে নতুন কৌশলগত জোট গঠনের চেষ্টাও করতে পারে।

রাশিয়া
যদি কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হন, তবে তার প্রশাসন ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে। বর্তমান বাইডেন প্রশাসন তাদের পশ্চিমা মিত্রদের সাথে একজোট হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ন্যাটোর মাধ্যমে মস্কোকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করে রেখেছে। কামালা হ্যারিস নির্বাচিত হলে তার প্রশাসনও একই নীতি ধরে রাখার চেষ্টা করবে যার ফলে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে।

অন্যদিকে, যদি ট্রাম্প নির্বাচিত হন, তবে এই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে- তিনি অতীতে বিদেশি সংঘাতে আমেরিকার যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্টের ইউক্রেনকে দেওয়া ব্যাপক সহায়তার সমালোচনাও করেছেন তার প্রশাসন ইউক্রেনের প্রতি তাদের সামরিক সহায়তা কমিয়ে দিতে পারে বা রাশিয়ার সাথে আলোচনায় বসার জন্য জন্য চাপ দিতে পারে, যা রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের শক্তি ভারসাম্যর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য
মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলবে ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘাত এবং ইরানের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। বাইডেন সরকার ইসরাইল-ফিলিস্তিনি যুদ্ধের সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, কিন্তু ইসরায়েলকে এখনো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি করাতে পারেনি। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সংযম দেখানোর ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছে ও যেমন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, তেলকূপের উপর হামলা না করার জন্য ও কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হলে একই নীতি বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি এর সেটা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক হাতে পারে।

যদি ট্রাম্প নির্বাচিত হন, ইসরায়েলের প্রতি তাদের সমর্থন আরো জোরদার করবে, যেটা ইরানের ওপর চাপ বাড়াবে আর যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে ইসরায়েলকে জোর সমর্থন দিয়েছিল, এবং জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সম্প্রতি ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইসরায়েলের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিও সমর্থন প্রকাশ করেছেন ও তাছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। পুনরায় নির্বাচিত হলে সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে, যার প্রভাব তেল বাজার ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর পড়বে।

সামাজিক মাধ্যমে রাজনীতি নিয়ে ভুল তথ্য বেড়েছে , ড. ইউনুস ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বেশি

গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ ডিসমিসল্যাব এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতি ও ধর্মসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি বেড়েছে। ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে ফ্যাক্ট-চেক প্ল্যাটফর্মগুলো ৯১৭টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৪২শতাংশ) ছিল রাজনৈতিক ভুল তথ্য।রাজনৈতিক ভুল তথ্যের পরেই রয়েছে ধর্ম বিষয়ে ভুল তথ্য (সাড়ে ১১ শতাংশ)। রাজনৈতিক ভুল তথ্য মূলত দুই পক্ষকে ঘিরে ছড়িয়েছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতাদের জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, যা ৩৬ শতাংশ। আর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, তাঁর সরকার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের জড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, যা ৩৫ শতাংশ।

ডিসমিসল্যাব ভুল তথ্যকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে: ‘নেতিবাচক’ ও ‘ইতিবাচক বা নিরপেক্ষ’। শেখ হাসিনা সম্পর্কিত ভুল তথ্যের প্রায় ৪৯ শতাংশ ছিল তাঁকে মহিমান্বিত করা। অন্যদিকে ড. ইউনূসকে ঘিরে ভুল তথ্যের ৬৫ শতাংশ ছিল নেতিবাচক। আগস্টের শুরুতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাসংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। যেখানে পুরনো ছবি বা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন ছবি-ভিডিও ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে এক্স অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত ছবি-ভিডিও ছড়ানো হয়। যার বেশির ভাগ অ্যাকাউন্টের উৎস ভারত। ধর্ম বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নামে মিথ্যা বিবৃতিও ছড়ানো হয়েছে।

জুলাই-সেপ্টেম্বর যত ভুল তথ্য ফ্যাক্ট-চেকাররা শনাক্ত করেছেন, তার মধ্যে ভিডিও ৩১ শতাংশ। এরপরে ছবি ২৭ শতাংশ এবং গ্রাফিক কার্ড ১৯ শতাংশ। গ্রাফিক কার্ডের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের মধ্যে ৮১ শতাংশ প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের নাম ও লোগো নকল করা। এ ধরনের ভুল তথ্যের প্রায় অর্ধেকই রাজনীতিসংশ্লিষ্ট।

দশ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখছেন না মতিউর রহমান

রোববার রাতে চ্যানেল আই আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন- ‘আগামী দশ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা, দল পুনর্গঠন ও দল পরিচালনা করা এবং নির্বাচন বা গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে মানুষের যে ক্ষোভ দেখেছি, এটা আমরা অতীতে জানতাম। কিন্তু, এটা প্রকাশ্যে এমনভাবে আমাদের সামনে দৃশ্যমান হয়নি। মানুষের মধ্যে যে ঘৃণার উদ্রেক হয়েছে, অনাস্থা তৈরি হয়েছে সেখানে আগামী দিনে ফিরে এসে নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম দেখা যায়।’

বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘আমার ৫২ বছরের অভিজ্ঞতায় সত্যিকার অর্থে কোনো সময় আমরা স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে পারিনি।’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিন মাস পূর্ণ হতে চলেছে-এই সময়ে সাংবাদিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত তিন মাসেও নানা রকম অস্থিরতা, ভয় ও দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। নানা রকম চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।’ সাংবাদিকদের ভয়ে থাকতে হবে না, এমন একটা পরিবেশ চান তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই, অর্থাৎ বিগত কোনো সরকার এটা অস্বীকার করতে পারেনি যে, দুটো দেশের মধ্যে একটা স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। কারণ আমাদের অবশ্যই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। তবে আমরা চাইলেও দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে অগ্রসর হয়নি।’

‘আমরা দেখতে পেয়েছি, বিগত সময়গুলোতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের কথা বলা হলেও তিস্তা নদীর পানি কিন্তু আমরা পাইনি। এমনকি গঙ্গা নদীর পানি নিয়েও আমাদের আলোচনা শেষ হয়নি। সীমান্তে যে অস্থিরতা, বাংলাদেশিদের নিহতের ঘটনা এখনো চলছে।’ মতিউর রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পতন ভারত স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি।’