Home Blog Page 235

ট্রাম্পের জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার ঘোষণা দিলেন মাস্কের মেয়ে

টেসলার সিইও ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করা তাঁর ট্রান্সজেন্ডার মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। ২০ বছর বয়সী ভিভান জেনা উইলসন ২০২২ সালে বাবা মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ওই সময় তিনি জেন্ডার রূপান্তর (ছেলে থেকে মেয়ে হওয়া) ও নিজের নাম পরিবর্তনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। আতঙ্কিত ভিভান তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আমি অনেক দিন ধরেই আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলাম। এখন নিশ্চিত হলাম, যুক্তরাষ্ট্রে আমার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। যদিও তিনি (ট্রাম্প) মাত্র চার বছর ক্ষমতায় থাকবেন, হয়তো এখনই ট্রান্সজেন্ডারদের ওপর খড়গহস্ত হবেন না। কিন্তু যে বিপুল সংখ্যক মানুষ তাঁকে জিতিয়ে এনেছে, তারা তো থাকবে। তারাও ট্রাম্পের মতোই ট্রান্সজেন্ডারবিরোধী।’ ইলন মাস্ক ও তাঁর প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের ঘরে ছয় সন্তান। তাঁদেরই একজন জেনা। রূপান্তরিত নারী জেনা আগে ছেলে ছিলেন। এর আগে জেনা তাঁর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি থেকেও না থাকার মতো। তাঁর রূপান্তরিত (ট্রান্সজেন্ডার) হওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিচ্ছেন না।

এদিকে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পেছনে বেসরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘নব্য মার্ক্সবাদীদের’ দায়ী করেন মাস্ক। জীবনীকার ওয়াল্টার ইসাকসনের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় মাস্ক দাবি করেছিলেন, সান্তা মনিকা শহরের ক্রসরোডস স্কুল ফর আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসই জেনা উইলসনের মাথায় ওই ‘ভাইরাস’ (ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার ইচ্ছা) ঢুকিয়েছে। মেয়ে সম্পর্কে মাস্ক বলেন, ‘ও পুরোপুরি সাম্যবাদী হওয়ার জন্য সমাজতন্ত্র থেকে বিচ্যুত হয় এবং ভাবতে থাকে যে ধনী মানেই খারাপ।’

গাজায় ৬ মাসে নিহতদের প্রায় ৭০% নারী ও শিশু

জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক কার্যালয় নিজেদের বিশ্লেষণে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলেছে- গত ছয় মাসে গাজায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় নিহত হওয়া ৮ হাজার ১১৯ জন মানুষের বিস্তারিত তথ্য তারা যাচাই করেছে। শুক্রবার এ বিষয়ে একটি ৩২ পৃষ্ঠার একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপকভাবে ইসরায়েলের হামলা চালানো এত বেশিসংখ্যক প্রাণহানি হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহত মানুষের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিশু এবং ২৬ শতাংশ নারী। বেশির ভাগেরই বয়স পাঁচ থেকে নয় বছরের মধ্যে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় যে পরিমাণ নারী এবং শিশু হত্যা করা হয়েছে তা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে।

২৬ সেতুতে ব্যয়ের বহুগুণ আয়, তবু টোল আদায় চলছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুটি সেতু মেঘনা ও মেঘনা-গোমতীর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তিন দশক আগে চালু হওয়া এই সেতু দুটি থেকে সরকার গত আগস্ট পর্যন্ত টোল বাবদ আয় করেছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এত আয়ের পরও টোল থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, দেশের এরকম ২৬টি সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের বহুগুণ উঠে গেলেও সেগুলোর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর টোল আদায় চলছেই। টোলের কারণে যানবাহনের ভাড়া বেশি পড়ে এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। টোল অনেকটা পরোক্ষ করের মতো, যা গরিবের কাছ থেকে ধনীদের সমান হারে আদায় করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার ধনী ও সচ্ছলদের কাছ থেকে যথেষ্ট পরিমাণে আয়করের মতো প্রত্যক্ষ কর আদায় করতে পারেনি। অন্যদিকে বিপুল ব্যয় ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ নানা প্রকল্প নিয়ে সরকারের খরচ বাড়িয়ে সেই ব্যয় মেটাতে চাপ তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, জ্বালানি ও সারের দাম এবং সেতুর টোল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩ এ সম্ভাব্য সব সড়ক থেকে টোল আদায়ের জন্যও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৪ সালে ২০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সব সেতুতে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। সেতুর ইজারা পান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

অভিযোগ রয়েছে, টোল আদায় করে ঠিকাদারেরা নিজেরা বেশি লাভবান হয়েছেন। এ কারণে বহু বছর আগে নির্মিত ও তুলনামূলক ছোট সেতু থেকেও টোল আদায় চলছে। সারা দেশে সওজের অধীনে থাকা ৬৭টি মাঝারি ও বড় সেতু থেকে টোল আদায় করা হয়। বর্তমানে টোল বাবদ সওজ আয় করে এক হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ঠিকাদার বা ইজারাদারের পেছনে খরচ গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণে যে খরচ হয়, তা মেটানোর জন্যই সরকার টোল আদায় করে থাকে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও আয়ের সামঞ্জস্য কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের জয়ে বাংলাদেশ নিয়ে ভারত – আমেরিকা কাছাকাছি আসবে

বাংলা ট্রিবিউনের নয়াদিল্লি প্রতিনিধি রঞ্জন বসুর প্রতিবেদন : ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন যে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দেবে, সে ব্যাপারে দিল্লিতে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রায় সবাই একমত। ‘যতই বলা হোক যে আমেরিকায় ক্ষমতার পালাবদল হলেও সে দেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটা ধারাবাহিকতা ও ‘বাইপার্টিজান’ ঐকমত্য থাকে, আমরা সবাই জানি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সে কথাটা সত্যি নয়’, বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন ভারতের একজন সাবেক কূটনীতিবিদ, যিনি ওয়াশিংটনেও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশ নিয়ে যে পরিমাণ ‘আগ্রহ’ ও ‘গরজ’ দেখিয়েছে, ট্রাম্প জমানায় তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাবে না বলে তিনি ইঙ্গিত করছেন। এর কারণও সহজ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে এরকম ‘হস্তক্ষেপে’র পেছনে অর্থ ঢালাকে অপচয় বলেই ধরা হয়!

ভারতে অনেকেই যেটা বিশ্বাস করেন, তা হলো ট্রাম্প তার ২.০ মেয়াদে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি থেকে হয়তো আমেরিকাকে অনেকটাই সরিয়ে নেবেন। যার অর্থ হলো এই অঞ্চলে ভারত আবার তাদের নিজস্ব প্রভাব বলয় তৈরির সুযোগ পাবে। বস্তুত এটা দিল্লিতে অনেকেই মানেন যে ২০০৯ সাল থেকে ওবামা প্রশাসনের সময়ও আমেরিকা বাংলাদেশকে প্রধানত ভারতের চোখ দিয়েই দেখতে অভ্যস্ত ছিল। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় আসার পরও সেই দৃষ্টিভঙ্গির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু ২০২১ বাইডেনের ডেমোক্র্যাট প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমেরিকা কিন্তু ভারতকে এড়িয়ে সরাসরি বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ দেখাতে থাকে।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের অবস্থান ছিল, তারা এখানে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও প্রগতিশীলতার পক্ষে, যা মূলত শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন বলেই পর্যবেক্ষকরা ধরে নিতেন। অন্যদিকে আমেরিকার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ত্রুটিপূর্ণ, নির্বাচন অবাধ নয় এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিও অত্যন্ত শোচনীয়, অবিলম্বে যার সংস্কার দরকার। ফলে বাংলাদেশ ইস্যুতে এই দুই বন্ধু দেশের মতান্তর ও মনান্তর গোপন থাকেনি। ঠিক এক বছর আগে নভেম্বরে দিল্লিতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ সংলাপেই দুই দেশের এই মতপার্থক্য সামনে চলে আসে।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারত-আমেরিকার মধ্যে এই ধরনের তিক্ততা ও মতবিরোধ ট্রাম্প জমানায় নাটকীয়ভাবে কমে যাবে বলেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘নির্যাতন চলছে’ বলে ভারত সরকার ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বারবার বলে আসছে, ট্রাম্পের বিজয় সেই পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে ড. ইউনূসের সরকার এক ধরনের ‘ডিনায়াল মোডে’ (পুরোপুরি অস্বীকার করার অবস্থানে) আছে – তারা এই গুরুতর বিষয়টিকে অতিরঞ্জন, ফেক নিউজ বা রাজনৈতিক কারণে হামলা বলে উড়িয়ে দিতে চাইছেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু হিন্দু ভারতীয়-আমে- রিকানদের একটা বড় অংশের সমর্থন পেয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের প্রশ্নটিকে উপেক্ষা করবেন না এবং সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে রাখবেন বলেই ভারতের ক্ষমতাসীন দল প্রত্যাশা করছে।

অন্তর্বর্তী সরকার “এনজিওশাসিত ” নয়

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, অন্তর্বর্তী সরকারে মাত্র চারজন উপদেষ্টার এনজিও ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন শীর্ষ আইনজীবী। ৮ নভেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে প্রেসসচিব বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এনজিওশাসিত আখ্যায়িত করে অবিরাম প্রচারণা চলছে। কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির মন্তব্যও রয়েছে। তারা এই ধারণাটি প্রচার করছেন যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তির আধিক্য রয়েছে।’

তিনি জানান-উপদেষ্টা পরিষদে পাঁচজন সাবেক আমলা, দুজন কূটনীতিক ও দুজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাসহ অন্তত ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে একজন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল, একজন মুক্তিযোদ্ধা, দুজন ছাত্রনেতা, চারজন শিক্ষাবিদ ও লেখক এবং দুজন ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার পথিকৃৎ।

দেশের ২৬% মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায়

জাতিসংঘসহ বাংলাদেশে কাজ করা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর যৌথভাবে পরিচালিত ‘সমন্বিত খাদ্যনিরাপত্তার পর্যায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক জরিপে বলা হয়েছে- দেশের ২ কোটি ৩৬ লাখ বা ২৬ শতাংশ মানুষ উচ্চমাত্রার খাদ্যসংকটে ভুগছেন। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব মানুষ বিপদে থাকতে পারেন। জরিপে দেখা গেছে, ১৬ লাখ ৪৭ হাজার মানুষের জরুরি খাদ্যসহায়তা দরকার। খাদ্য নিয়ে সংকটময় অবস্থায় আছেন ২ কোটি ১৯ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ। আর ৩ কোটি ৩৪ লাখ ১১ হাজার মানুষ চাপে আছেন। শুধু ৩ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের বড় অংশই কৃষিজীবী। এঁদের এক-চতুর্থাংশ আবার কৃষিমজুর। দুর্যোগ ও তাপপ্রবাহের কারণে তাঁরা ঠিকমতো কাজ পাননি। কাজ পেলেও মজুরি পেয়েছেন কম। তাদের দৈনিক আয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। ফলে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের খাদ্য গ্রহণ কমাতে হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে খাদ্যপণ্যের দাম ও কৃষি উপকরণের বিষয়টিকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এখন পর্যন্ত চালসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানোর বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি চালকলমালিক, ব্যবসায়ী, খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কোনো সভা হয়নি। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার অভাব ও বিগত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসায়ীরা নিষ্ক্রিয় থাকায় দাম বাড়ছে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব মিয়ানমার জান্তার

বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সিনিয়র জেনারেল মিং অং হাইং। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে আলোচনায় তিনি এমন কথা জানিয়েছেন। বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সঙ্গে এই আলোচনার প্রস্তাব তিনি এর আগেও দিয়েছেন। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি।
অনলাইন রেডিও ফ্রি এশিয়ার খবরে বলা হয়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করার পর প্রথমবার এ সপ্তাহে চীনের কুনমিং সফরে গিয়েছেন সামরিক জান্তা মিন হাইং। তার অভ্যুত্থানের ফলে সামরিক শাসনের উপযোগিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি ি হয়েছে এবং দেখা দিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহ।

মিয়ানমারে ব্যাপক অর্থনৈতিক স্বার্থ আছে চীনের এর মধ্যে আছে জ্বালানি বিষয়ক পাইপলাইন। এর মধ্য দিয়ে তারা ভারত মহাসাগর থেকে চীনের দক্ষিণে ইউনান প্রদেশে গ্যাস নিয়ে যায়। এ জন্য তারা মিয়ানমারের উত্তাল অবস্থার ইতি চায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিরোধ মিটাতে ব্যর্থতার কারণে জান্তা সরকারের ওপর হতাশ হয়ে পড়েছে চীন। এ জন্য তারা জান্তা সরকারের সঙ্গে যেমন, তেমনি দেশের উত্তরাঞ্চলে ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। দু’পক্ষকে সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিদ্রোহীদের ওপর চাপ দিচ্ছে চীন। সীমান্তের ক্রসিং পয়েন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের ওপর চাপ বৃদ্ধির জন্য। কোনো কোনো স্থানে যুদ্ধের কারণে পলায়নরত সাধারণ মানুষদের জন্য সীমান্তের অনেক পয়েন্ট বন্ধ করে দিয়েছে চীন। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার মতে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেছেন, রাজনৈতিক পুনরেকত্রীকরণ ও পরিবর্তনে সমর্থন করে চীন। চায়না-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর নির্মাণে প্রস্তুত তারা।

বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান ভারতের

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন- ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে। তাদের সম্পত্তি লুট করা হয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে লক্ষ্য করে সোশাল মিডিয়ায় উষ্কানিমূলক পোস্টের পর এসব হয়েছে।’ রণধীর বলেন, ‘এটা বোঝা যায় যে, এই ধরনের পোস্ট এবং এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পিছনে চরমপন্থী উপদান রয়েছে। এটি হিন্দুদের মধ্যে আরও উদ্বেগ-উত্তেজনা তৈরি করতে বাধ্য। আমরা আবারও বাংলাদেশ সরকারকে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

হিন্দু অধ্যুষিত হাজারী গলিতে ‘ইসকন নিয়ে ফেইসবুক পোস্ট’ কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সংঘটিত ঘটনার পর যৌথবাহিনী সেখানে অভিযান চালায়, সেই কথা উল্লেখ করে এ কথা বলেন রণধীর। ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন উল্লেখ করে হাজারী গলির একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর দেয়া ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোক তার দোকান ঘেরাও করে মারধর ও ভাঙচুরের চেষ্টা করে। যৌথবাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা বাধা দেয় ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। রাতে যৌথবাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে ৮২ জনকে গ্রেফতার করে।স্থানীয়দেরকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ বৈষম্যবিরোধী চেতনার পরিপন্থী : টিআইবি

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহলের হামলা-ঘেরাওয়ের হুমকি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নির্বিচার মামলা ও হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। টিআইবি বলেছে, গণমাধ্যমের ওপর উদ্দেশ্য- প্রণোদিত আক্রমণ, হামলা ও হুমকি বৈষম্যবিরোধী চেতনার পরিপন্থী। ভিন্নমত ও মুক্ত গণমাধ্যমের ঢালাও নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাহীনতা মূলত কর্তৃত্ববাদের পুনরাগমনের পথ সৃষ্টি করবে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বুধবার বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন মহল দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, হামলা, ঘেরাওয়ের হুমকিসহ নানা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যত অতিক্ষমতায়িত কোনো কোনো মহলের স্বার্থের বাইরে গেলেই গণমাধ্যমকে আক্রমণ ও সাংবাদিক হেনস্তা, গণমাধ্যমকে দখল বা খেয়ালখুশিমতো পরিচালনার প্রচেষ্টা চলছে, যা আসলে মুক্ত গণমাধ্যমের সম্ভাবনার জন্য অশনিসংকেত।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন-‘নির্বিচার হুমকি, হামলা, ঘেরাও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বশীভূত হয়ে যথেচ্ছা মামলা বা ঢালাওভাবে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা প্রকারান্তরে জনবিরোধী কর্তৃত্ববাদের পরিচায়ক।

টিআইবি মনে করে, পতিত কর্তৃত্ববাদী সরকারের মতো গণমাধ্যমকে নিজের পোষ্যের মতো ব্যবহারের চেষ্টা ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর মুক্তচিন্তা ও বৈষম্যবিরোধী চেতনার পরিপন্থী।’ ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি অপরাধে’র অভিযোগ থাকলে বা যারা সরাসরি কর্তৃত্ববাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু পতিত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সহযোগী ‘ট্যাগ’ দিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যথেচ্ছা মামলা, তথ্য অধিদপ্তরের দেওয়া স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল, হুমকি ও বরখাস্ত করার মতো ঘটনা দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বপক্ষে কোনো ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে না; বরং ‘ভিন্নমতের কারণেই স্বৈরাচারের দোসর’ অভিযোেগ তোলার পেছনে স্বার্থান্বেষীদের দুরভিসন্ধি কাজ করছে। শুধু সাংবাদিকতার জন্য কোনো সাংবাদিককে কখনোই শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।’

সেই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ – ভারতের সেনাপ্রধানের ভার্চুয়াল বৈঠক

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার- উজ-জামান ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন; যেখানে ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট’ বিষয়সহ ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই সেনাপ্রধানের ভিডিও টেলি কলের ছবি দিয়ে বুধবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট দেয়া হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট খবরে বলেছে, বাংলাদেশের শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে আসার পর এই প্রথম দুই সেনাপ্রধান নিজেদের মধ্যে কথা বললেন। কোন প্রেক্ষাপটে তারা ভিডিও কলে যুক্ত হলেন তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি সেনা কর্মকর্তারা।