Home Blog Page 234

জিরো পয়েন্টে আওয়ামী লীগের ‘জিরো পারফরম্যান্স’ কেন : সারফুদ্দিন আহমেদ , প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক

‘… মাঠের কর্মীরা যদি দেখেন, ওপরের সারির নেতাদের প্রায় সবাই নিজেদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে ফুট সোলজারদের ‘নির্ভয়ে এগিয়ে যাও’ বলে আদেশ দিচ্ছেন, তখন তাঁদের মধ্যে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি কাজ করে। … শেখ পরিবারের কেউ নেই। আওয়ামী লীগের ওপরের সারির কেউ নেই। মাঝের সারির কেউ নেই। এমনকি তলার সারির সামনের দিকের আধা-সিকি নেতাদেরও কেউ নেই।অথচ দলটি বিরাট ওজনদার এক ঘোষণা দিয়ে বসে আছে। দেশের বাইরে নিরাপদে আছেন, এমন আওয়ামী নেতারা এই ঘোষণার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভার্চুয়াল জগতে বিপুল বিক্রম দেখিয়েছেন। দুনিয়ার যত ভুয়া ভিডিও ক্লিপিং দিয়ে ‘লাখো জনতা ঢাকার দিকে ধেয়ে আসছে’ বলে গুজবের প্রচার চালিয়েছেন।

দিন শেষে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। জিরো পয়েন্টে আওয়ামী লীগের ‘জিরো অবস্থান’ দেখা গেছে। রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতেও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মাঠে নামতে বলা হয়েছিল। সেখানেও মাঠ ফাঁকা ছিল। … আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহাসিক ও বড় দল। দলটির লাখ লাখ কর্মী-সমর্থক আছেন। কিন্তু আজকে তাঁরা রাজপথে কেউ নেই। কেন নেই? এর কারণ কি শুধুই বিএনপি-জামায়াতের হাতে মার খাওয়ার ভয়? এর কারণ কি শুধুই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ভয়?

নিশ্চয়ই নয়। কারণ এই ভয় কোনো রাজনৈতিক দলের শতভাগ নিবেদিতপ্রাণ আন্দোলনকর্মীদের রাস্তায় নামা থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে না।পুলিশ গুলি চালাচ্ছে-তারপরও ছাত্র আন্দোলনকারীদের আমরা বুক পেতে সামনে এগিয়ে যেতে দেখেছি। কারণ আন্দোলনকারীরা মোরালি মোটিভেটেড ছিলেন। … আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা লোকজন নিজেরা কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে, অর্থ পাচার করে, পুলিশ-বিডিআর ব্যবহার হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নিজেদের দানবিক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন।

কর্মীরা স্বার্থের জন্য এই নেতাদের তোয়াজ করতেন ঠিকই, কিন্তু শ্রদ্ধা করতেন না। তাঁরা নেতাদের ডাকে এত দিন রাজপথ দখলে রেখে নানা অপকর্ম করেছিলেন। সেই অপরাধবোধ তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের চেতনাকে নষ্ট করে দিয়েছে। দলের জন্য জীবন বাজী রাখার জন্য দলের যে আদর্শিক অবস্থান থাকা দরকার, তা যখন তারা আর খুঁজে পাননি, তখন তারা মোরালি ডিমোটিভেটেড হয়েছেন। তারা যখন দেখেছেন, দুর্দিনে নেতারা সব পগার পার হয়ে পগারের ওপার থেকে তাদের ‘একত্রিত হয়ে, এক জোট হয়ে’ ঝাঁপিয়ে পড়তে বলছেন, তখন তাঁরা বিরক্ত হয়েছেন।

… দলটিকে অবশ্যই নিজেদের ভুল-ত্রুটি ও অপরাধ স্বীকার করতে হবে। সব ভুলের জন্য, অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। সৎসাহস নিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এতে দলটির প্রতি মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হবে। দলটির কর্মীরা অপরাধবোধের গ্লানি থেকে মুক্তি পাবে। জনতার সামনে যাওয়ার সৎসাহস ফিরে পাবে।’

আমাদের জাতি গঠনের যে সমস্যা , তার এখনো সমাধান হয়নি : ড. মাহবুবউল্লাহ

একটা অগণতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানোই যথেষ্ট নয়; নতুন করে যাতে ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সেটার নিশ্চয়তা দরকার।ফ্যাসিবাদের উত্থানের সঙ্গে অর্থনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একটা দেশে যখন দেশপ্রেমিক বুর্জোয়ার বদলে লুম্পেন বুর্জোয়ারা অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে যায়, তখন সেখানে গণতন্ত্র থাকে না। …নানা তরফ থেকে বিভিন্ন পরিবর্তন বা সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হলেও সমাজ পরির্বতন বা অর্থনীতি-রাজনীতির মৌলিক পরিবর্তনের কোনো কথা কেউ বলছে না। এর ফলে আমি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব আশাবাদী নই।…বাংলাদেশের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য হলো পেন্ডুলাম বা ঘড়ির দোলকের মতো; একবার ডান দিকে যায় আবার বাঁ দিকে যায়। কখনো দেখা গেছে, আমরা সেক্যুলার উৎসব বা অনুষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েছি। আবার কখনো আমাদের মধ্যে ধর্মীয় আচার-আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

… এর মানে হলো আমাদের দেশের মানুষের যে বিশ্বাস বা চৈতন্যের জগৎ, সেটা এখনো নড়বড়ে অবস্থায় আছে। এর কারণ হলো আমাদের নেশন বিল্ডিং বা জাতি গঠনের যে সমস্যা, সেই সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি। এর ফলে ব্রড (বড়) ইস্যুগুলোতে জাতি হিসেবে দল-মতনির্বিশেষে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি।

নেশন বিল্ডিংয়ের কাজটা সহজ বা খুব তাড়াতাড়ি সম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের বড়মাপের নেতৃত্বের প্রয়োজন। রাজনীতিকে আরও গভীর করা প্রয়োজন। শুধু স্লোগানসর্বস্ব রাজনীতি দিয়ে এটা হবে না।

অক্টোবরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২১%

দীর্ঘদিন পর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ২০.৬৫% বেড়ে ৪.১৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে এটি ছিল ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। অক্টোবরে পোশাক খাত ৩.২৯ বিলিয়ন আয় করেছে, যা গত বছরের চেয়ে ২২.৮০% বেশি। এ খাত জাতীয় রপ্তানিতে সর্বোচ্চ অবদান রাখে। গ্রীষ্ম মৌসুমের পোশাক পণ্য পাঠানোর শেষ মাস ছিল অক্টোবর। জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের কারণে কম চালান হয়েছে। অক্টোবরে আটকে থাকা পণ্য পাঠানো হয়েছিল, যা রপ্তানি আয় বাড়িয়েছে। তা ছাড়া শীত মৌসুম ও ক্রিসমাসের পণ্য জাহাজীকরণ শুরু হওয়ায় রপ্তানি বাড়ছে।দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তিনটি বড় উৎস হলো রপ্তানি, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ। রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কমে। অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ। রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বিপরীতে আমদানি ব্যয় সেভাবে না বাড়ায় সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি হিসাবে ঘাটতি দূর হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনও থেমেছে।জুলাই-আগস্ট মাসে উৎপাদন খাতে যে ধাক্কা লেগেছিল, তা কাটিয়ে সেপ্টেম্বর থেকেই দেশের পণ্য রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে।

নিরাপত্তা হুমকিতে বাংকারে অফিস করছেন নেতানিয়াহু

রোববার ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিচে ভূগর্ভস্থ একটি সুরক্ষিত কামরায় থেকেই বেশির ভাগ কাজ করছেন। প্রতিবেদনে বলছে, সিজারিয়ায় তাঁর বাড়িতে ১৯ অক্টোবর লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার পর থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওপরের তলায় অবস্থিত তাঁর কামরায় অফিস করছেন না। ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসারেই তিনি এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে চ্যানেল-১২।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলোই সম্ভবত সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকের স্থান পরিবর্তনের কারণ। নেতানিয়াহুর ছেলে আভনের বিয়ের তারিখও পিছিয়ে পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, নেতানিয়াহুর আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে চলমান কয়েকটি মামলায় আদালতে তাঁর সাক্ষ্য দেওয়ার নির্ধারিত সময় পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা বলেছেন, বারবার একই জায়গায় উপস্থিত হলে তাঁর নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকবে।

সরকারের মধ্যে বৈষম্যবাদী রাজনীতির প্রবণতা রয়েছে : আনু মুহাম্মদ

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আ ফ ম মাহবুবুল হক স্মৃতি সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন – ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্লোগান গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে আছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যাদের হাতে ক্ষমতা, তাদের মধ্যে বৈষম্যবাদী রাজনীতি করার প্রবণতা বেশি। ধর্মীয়ভাবে বৈষম্য, জাতিগতভাবে বৈষম্য, শ্রেণিগতভাবে বৈষম্য, লৈঙ্গিক বৈষম্যের রাজনীতি দেখা যাচ্ছে। যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা সবকিছু নতুন করে সাজাতে চান। পুরোপুরি নতুন তো কেউ হতে পারবে না। সেটা করতে গিয়ে একাত্তরকে ছোট করা বা একাত্তর বাদ দেওয়া, এগুলো হচ্ছে খুবই আত্মঘাতী প্রবণতা কিংবা অনৈতিহাসিক প্রবণতা।

পরিবর্তন তো হতেই হবে। তার মধ্যে নতুন নতুন উপাদান আসবে। তার অর্থ এটা নয় যে আগেরটা বাতিল হয়ে গেছে। জনপন্থী রাজনীতির অভাব রয়েছে। একই শ্রেণিরই আরেক রকম অবস্থান দেখতে পাচ্ছি। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের মতোই কথাবার্তা দেখতে পাচ্ছি কিংবা ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কথাও দেখতে পাচ্ছি। এরা সবাই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ স্বপ্নের বিরোধী। এরা তো বৈষম্যবাদী রাজনীতি করতে চাচ্ছে। এরা স্বৈরতান্ত্রিক ভাব ও ভাষা নিয়ে এসেছে।’

ছাত্র নেতৃত্বের সাথে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব বাড়ছে !

ছাত্র নেতৃত্বের সব সিদ্ধান্তে আগের মতো করছে না বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল। এ কারণে আওয়ামী লীগ এবং সমর্থক দলগুলোকে নিষিদ্ধ চেয়ে করা রিট এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহার হয়। জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ে হামলার সরাসরি নিন্দা না করলেও বিএনপিসহ অন্যান্য দল প্রকাশ্যে বিরক্তি দেখায়। ছাত্র নেতৃত্বের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’র সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে সায় নেই সরকারের। অনেকে মনে করেন, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে বলে বিএনপি কারণ দেখালেও দলটির আশঙ্কা ছিল ড. ইউনূস নিজেই রাষ্ট্রপতি হলে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার দিকে যেতে পারে দেশ।

বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতির প্রতি বিএনপির কোনো সহানুভূতি নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েই তাঁকে সরাবে। কিন্তু ছাত্ররা তাঁকে যেভাবে সরাতে চেয়েছিলেন, সেটি হলে তারা রাষ্ট্রের সর্বেসর্বায় পরিণত হতেন, বিএনপি তা থামিয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি ছাত্র নেতৃত্বকে নিজের শক্তি ও অবস্থান বোঝাতে সক্ষম হয়েছে।’ আগামী সরকারে ও সংসদে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগবিরোধী ছোট দলগুলোকে পাশে টেনেছে বিএনপি। গণঅধিকার পরিষদের একাংশ ছাড়া ছাত্র নেতৃত্বের দাবির সঙ্গে অন্য কোনো দলকে তাই সরাসরি একাত্ম হতে দেখা যায়নি। ছাত্র নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবি পার্টিও রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে আইনি পথ দেখিয়েছে।

ড. ইউনূসের সরকার বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে শপথ নিলেও একে মুজিববাদী একটি দলের প্রণীত সংবিধান আখ্যা দিয়ে বাতিল করতে চাইছে ছাত্র নেতৃত্ব। সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট, সংবিধান বাতিলে সায় নেই দলটির। তিনি বলেছেন, ‘সংস্কার মানে বইয়ের কয়েক লাইন পরিবর্তন নয়।

‘জামায়াতসহ কয়েকটি দল সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রস্তাব করলেও বিএনপি এতে রাজি নয়। বিদ্যমান আসনভিত্তিক নির্বাচন চায় দলটি। ছাত্র নেতৃত্ব এখনও স্পষ্ট করেনি তারা কী চায়। তবে সূত্রের খবর, তারাও আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচনের কথা ভাবছে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটিকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের উদ্যোগে খুব একটা গতি দেখা যাচ্ছে না। তবে যেমন সাড়া সংগঠন দুটি আশা করেছিল, তা পাওয়া যায়নি। তাদের কর্মসূচিতে আগের তুলনায় উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন না পেলেও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, অভ্যুত্থানে সরব থাকা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্যসহ অনেকেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রশ্নে ছাত্র নেতৃত্বকে সমর্থন করছেন। তবে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অনেকে একে বিভেদ সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে বিরোধিতাও করছেন।

৩৩ কেন পরীক্ষায় পাশমার্ক!

কখনো ভেবে দেখেছেন, কেন পাশ করতে ৩৩ শতাংশ নম্বরই প্রয়োজন? ভারতীয় উপমহাদেশের ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এ নিয়ম চলছে।ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এ উপমহাদেশে প্রথম ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে ১৮৫৮ সালে। শিক্ষার্থীদের পাশ করানোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা নিয়ে কর্মকর্তারা দ্বিধায় পড়ে যান। তারা চিন্তা করছিলেন, এটি কি ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের মতো হওয়া উচিত, নাকি কম রাখা উচিত?বিভ্রান্তি দূর করতে ব্রিটিশ লর্ডদের পরামর্শ নেওয়া হয়। ব্রিটেনে পাশ নম্বর ছিল ৬৫। তারা ভাবলেন আমাদের বুদ্ধিমত্তা তাদের অর্ধেক। তারা পাশ নম্বর নির্ধারণ করলেন ৩২.৫ যা ৬৫-এর অর্ধেক ।

পরে ১৮৬১ সালে গণনার সুবিধার্থে পাশ নম্বর ৩২.৫ শতাংশকে একটি পূর্ণসংখ্যা ৩৩-এ রূপ দেওয়া হয়। তারপর থেকে কেউই এই মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি বা পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এই মানদণ্ড গ্রহণ করেছিল। দেড়শো বছরেরও বেশি সময় পরে এসেও ওই পুরোনো পদ্ধতিই এখনও চলছে। আমরা এখনো এই ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বের হতে পারিনি।

রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রস্তাব

দ্য টেলিগ্রাফের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে- রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন প্রস্তাব দিতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই প্রস্তাব অনুসারে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সেনাদের মধ্যে একটি ৮০০ মাইল দীর্ঘ বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে যা তত্ত্বাবধান করবে ইউরোপীয় ও ব্রিটেনের সেনারা। ট্রাম্পের তিন সহকারী প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছেন। পরিকল্পনা অনুসারে, রাশিয়া ইউক্রেনের যে ভূমি দখল করেছে এবং রুশ বাহিনী ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে যে পরিমাণ অগ্রসর হয়েছে সেখানটাকে সীমান্ত ধরে বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং ইউক্রেনকে ২০ বছরের জন্য ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হবে।

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করবে, যেন রাশিয়া আবারও যুদ্ধ শুরু করতে না পারে। যুক্তরাষ্ট্র মিশন পরিচালনা বা তদারকিতে কোনো সেনা পাঠাবে না এবং অর্থায়ন করবে না। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপকে রক্ষা করতে গিয়ে রাশিয়াকে তুষ্ট করার চেষ্টা আত্মহত্যার নামান্তর হবে। এই মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মূলত রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কঠোরভাবে নাকচ করেছেন।

গত মাসেই জেলেনস্কি ইউক্রেনের পার্লামেন্টে ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নামের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে বলা হয় ইউক্রেনের ভৌগলিক অখণ্ডতার বিনিময়ে তারা কোনো শান্তি চুক্তি করবেন না। এদিকে দুদিন আগে ট্রাম্পের পরামর্শক ব্রায়ান লাঞ্জা বিবিসি-কে বলেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ভূখণ্ড ফেরত পাওয়ার লড়াই নয়; ইউক্রেনকে এখন শান্তির ওপর নজর দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কারের পর নির্বাচনে যেতে হবে : সারজিস

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন- শুধু নির্বাচনের জন্য ২ হাজার মানুষ জীবন দেয়নি আর এই অভ্যুত্থানও হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমগুলোর জন্য এই মানুষগুলো বিগত ১৬ বছরে বিরক্ত হতে হতে দেয়ালে পিঠ লেগে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ১৬ বছরে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশন সংস্কার না করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যাবে না। শনিবার সিলেটে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সবকিছু সংস্কার করে নির্বাচনে যেতে হবে এমন নয়, নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচনে যেতে হবে। তা না হলে আমরা আগের জায়গাতেই থেকে যাব।’

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা বলছি না রাষ্ট্রের সবকিছু সংস্কার করে নির্বাচনে যান। আমরা এটাও বলছি না আগামী ৫-৬ বছর সংস্কার করেন। কিন্তু সংস্কারের জন্য ন্যূনতম একটা যৌক্তিক সময় লাগবে। কোনো বিবেকবান মানুষ তার জায়গা থেকে চিন্তা করতে পারবে না যে এক বছরের মধ্যে সবকিছু সংস্কার হয়ে যাবে। ১৬ বছর ধরে যে সিস্টেমগুলোকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করা হয়েছে, সেই সিস্টেমগুলোকে সংস্কার করতে একটা যৌক্তিক সময় প্রয়োজন। ‘সারজিস আলম আরও বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর এমনকি ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশের সংবিধান পাঁচ বছরের জন্য দেশের মানুষকে একটি জনতার সরকার উপহার দিতে পারেনি। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে পারেনি। সেই সাংবিধানিক সংস্কারও প্রয়োজন। প্রত্যেক পাঁচ বছরের জন্য বড় বড় ইশতেহার দিয়ে প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরপরই তারা ইশতেহার ভুলে যায়। তারা ভুলে যায় তারা যে জনতার সরকার।’

‘শুধু একটা নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারে না। এর পাশাপাশি অনেকগুলা প্রতিষ্ঠান জড়িত। এরমধ্যে অন্যতম হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটা সিস্টেমের মধ্যে আনতে হবে। তা না হলে নির্বাচন দিলে আবার জবরদখলের ঘটনা ঘটতে পারে। ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে। আবার এই নির্বাচন ঘিরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সে জন্য একটা বিচারিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন। তাই বিচার ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন’, যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এই অভ্যুত্থান কিছু লোক দিয়ে হয়নি। যেই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ১৬ বছরে বাংলাদেশের নামিদামি রাজনৈতিক সংগঠন এক টনক নড়াতে পারেনি, সেই শেখ হাসিনা কিছু লোকের জন্য এই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। পুরো বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিল বলে অভ্যুত্থান ঘটেছিল এবং শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছিলেন।’

ড. ইউনুসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ , যা বললেন আইন উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) দেয়া অভিযোগ সরকার আমলে নিচ্ছে না জানিয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশের মর্যাদা ক্ষুন্ন করতেই সরকারের বিরুদ্ধে আইসিসিতে অভিযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ১০ নভেম্বর সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- এটা কোনো মামলা না, এটা আইসিসির প্রসিকিউশন অফিসকে একটা পিটিশন লিখে জানানো। এটা পৃথিবীর যে কোনো মানুষ করতে পারে। এটা এতই একটা অবিশ্বাস্য ও বস্তুনিষ্ঠহীনতামূলক মামলা, কোনোভাবেই এটার রিট হওয়ার কোনো কারণ নাই। এটা ফ্যাসিস্টচক্র বিশ্ব জনমতকে, বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য মিথ্যা প্রচারণার চালানোর উপায় হিসেবে করেছে।

তিনি আরো জানান- জুলাই গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ বিদেশে পলাতকদের ধরতে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার নেদারল্যান্ডের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। ‘বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে’ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশ পুলিশের ওপর গত ৫-৮ আগস্ট পর্যন্ত ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।