Home Blog Page 233

ট্রাম্পের জয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনার খোঁজ নিচ্ছেন চীনা ব্যাবসায়ীরা

চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তর, যৌথ উদ্যোগ ও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিষয়ে এদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তাদের আশঙ্কা- নতুন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা পণ্য রপ্তানির উপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করতে পারে। চীনা ব্যবসায়ীরা প্রধানত বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প, সুতা ও বস্ত্র শিল্প, কৃত্রিম তন্তু, চামড়াজাত পণ্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা পণ্য প্রবেশে আমদানি শুল্ক ৩% থেকে বাড়িয়ে ২৫% ধার্য করেছিলেন। আর এবার নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি চীনা পণ্যের উপর ৬০% আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

এটি বাস্তবায়িত হলে চীনে উৎপাদিত পণ্য মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতায় অলাভজনক হয়ে পড়বে। অন্যদিকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যকে ১৫% শুল্ক দিতে হয় আমেরিকায় ঢুকতে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও টেকসই উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রপ্তানি করলে শুল্ক ও পরিবেশগত বিধি-নিষেধ এড়ানো সহজ হবে বলে চীনা বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সম্ভাব্য চীনা বিনিয়োগ নির্ভর করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভসহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।

প্রথমবারের মত পশ্চিমতীর পুরোপুরি ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব

২০২৫ সালের মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরকে সংযুক্ত করে নিয়ে সার্বভৌম ইসরায়েলের আওতা বাড়ানোর ডাক দিয়েছেন দেশটির কট্টর-ডান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। এমনকি এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার স্মোট্রিচের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়াও তিনি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে আছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলো তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন স্মোট্রিচ ।

স্মোট্রিচ বিবৃতিতে জানান, তিনি দখলকৃত ভূখণ্ডে সার্বভৌমত্ব প্রয়োগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করার জন্য তার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অভিযানে ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ইসরায়েলের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় স্মরিচ বলেন, ট্রাম্পের জয় ইসরায়েলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার বলেছেন, এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি আগামীতে ওয়াশিংটন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন সংকটের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করে এসেছে। এমনকি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি না বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এই প্রথম পশ্চিম তীর পুরোপুরি ইসরায়েলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উঠল। ১৯৬৭ সালে জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর দখলে নেয় ইসরায়েল। এরপর থেকে সেখানে বসতি গড়া অব্যাহত রেখেছে তারা।

সংস্কারের গতিই নির্বাচনের সময় বলে দেবে – ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে বলেন- শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশে নির্বাচনের আগে সংস্কারের প্রয়োজন। ‘সংস্কারের গতির ওপরেই নির্ভর করবে যে নির্বাচন কত দ্রুত হবে,’ আজারবাইজানের বাকুতে কপ-২৯ জলবায়ু আলোচনার ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তবে তিনি জোর দিয়েছেন যে, তিনি দেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যাবেন। যেখানে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসবে। ‘এই প্রতিশ্রুতি আমরা দেশের মানুষকে দিয়েছি, আমরা প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথেই আমাদের দেশে নির্বাচন হবে এবং নির্বাচিত লোকেরা দেশ পরিচালনা করতে পারবে,’ তিনি বলেন। দেশের সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংস্কার, সেইসাথে সরকার, সংসদ এবং নির্বাচনী বিধিমালার বিষয়ে সব পক্ষের একমত হওয়া দরকার। ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকার, তাই আমাদের মেয়াদ যতটা সম্ভব কম হওয়া উচিত।’ শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে অস্থিরতা বেড়েছে, এ নিয়ে ড. ইউনূস বলেছেন যে তিনি ১৭ কোটি মানুষের দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

ঢালাওভাবে প্রেস এক্রেডিটেশন বাতিল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অন্তরায় – সম্পাদক পরিষদ

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক বিবৃতিতে বলেছেন- ‘অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের কোনো অপব্যবহার হলে তা রিভিউ করার অধিকার তথ্য মন্ত্রণালয় রাখে। তবে এভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অপরাধের প্রমাণ ছাড়াই ঢালাওভাবে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের অন্তরায়।’ বিবৃতিতে বলা হয়- তিন দফায় মোট ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি)। এ তালিকায় অনেক পেশাদার ও সক্রিয় সাংবাদিক এবং সম্পাদকের নামও রয়েছে, যা সম্পাদক পরিষদ ও এর সদস্যদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমে সেন্সরশিপসহ নিয়ন্ত্রণবাদী পরিবেশ তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের মূল চেতনারও পরিপন্থী। বিষয়টিকে বিগত অতিনিয়ন্ত্রণবাদী কাঠামোর অগণতান্ত্রিক চর্চারই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছে সম্পাদক পরিষদ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি সম্পাদক পরিষদের আহ্বান- সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অপরাধের প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের ঢালাও পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ওপর সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ এবং স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

ভোট ছাড়া অন্য উপায়ে আওয়ামী লীগকে নাকচ করলে তা টেকসই হবে না – আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ভয়েস ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ভোেটার রাইটস’ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বলেছেন ‘অন্য কোনোভাবে আওয়ামী লীগকে যদি বাতিল বা নিষিদ্ধ চান, সেগুলো টিকবে না। আওয়ামী লীগকে বাতিল করতে হবে জনগণের ভোটের মাধ্যমে।’ সংস্কার প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের আস্থা নিয়ে সংস্কার করবে হবে। সেটা একমাত্র সম্ভব নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে। অনির্বাচিত কোনো সরকারের তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও দর্শনের সেভাবে সংস্কার করার সুযোগ নেই। যেসব সংস্কার ঐকমত্যে আছে সেগুলো বাস্তবায়নে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’ বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ জানিয়ে আমীর খসরু আরও বলেন- ‘১৬ বছরে জ্বলেপুড়ে বিএনপি খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। ত্যাগ-জুলুমের মধ্যে দিয়ে বিএনপি নতুন বিএনপিতে পরিণত হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা ত্যাগ করতে শিখেছে, রক্ত দিতে শিখেছে ও জীবন দিতে শিখেছে। আমরা গণতন্ত্রের লড়াই, মানবাধিকার লড়াই ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার লড়াইয়ে থেমে থাকব না।’

কপ ২৯ সম্মেলনে – সংকটগ্রস্ত বাংলাদেশের চাওয়া

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। জলবায়ু সংকটের ভুক্তভোগী দরিদ্র দেশগুলোকে আরও অর্থসহায়তা দেওয়ার পথ খুঁজে বের করা এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। জাতিসংঘের বার্ষিক এই জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ’ নামে পরিচিত। এর পূর্ণরূপ ‘কনফারেন্স অব পার্টিস’। এবার বাকুতে কপের ২৯তম আসর বসেছে। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী প্রায় ২০০ দেশ কপের সদস্য। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সামাল দিতে প্রতিবছর সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরা একত্র হন।

২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাকশিল্প যুগের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিশ্বনেতারা। এ লক্ষ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে ২০২৫ সাল নাগাদ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থসহায়তা দিতে রাজি হয়েছিল বড় অর্থনীতির দেশগুলো। তবে এখন পর্যন্ত সেই সহায়তার পরিমাণ সন্তোষজনক নয়। আর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় থাকা বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণকারী চীন ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই সহায়তা তহবিলে অর্থ দিচ্ছে না।

আরব আমিরাতে গত কপ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছিল, সেটিও এবার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে। তবে এর সফলতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়ন- শীল দেশগুলোর পক্ষে কথা বলবে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাকুতে বলেছেন- জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক ক্ষতি হচ্ছে ১২ বিলিয়ন ডলার। অথচ অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ পাচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে ঋণ পাচ্ছে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার।
এই ভয়ংকর অবস্থা ও তার নিরসনে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের কথাই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বাকুতে তুলে ধরছেন। তাঁরা চান, সম্মেলন শেষে যে ঘোষণাপত্র গৃহীত হবে, তাতে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও চাহিদা যেন জায়গা পায়।

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ , অর্থ পাচার : পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খন্ডে ব্যাপক তল্লাশি

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে আজ ১৩ নভেম্বর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এবারের এই নির্বাচনে রাজ্যটিতে আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশিদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অর্থ পাচার রুখতে ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। খবর বলছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্ত সংস্থার ঝাড়খণ্ড অফিস মঙ্গলবার দুই প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের মোট ১৭টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ঝাড়খণ্ডে কিছু বাংলাদেশি নারীর অনুপ্রবেশ এবং পাচারের ঘটনায় প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএমএলএ) অধীনে একটি মামলা দায়ের করেছিল ইডি। মামলার প্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি শুরু করে ইডি। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম, বনগাঁ, ব্যারাকপুরসহ আরও একাধিক জেলায় চলছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি। এ ছাড়া বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে মঙ্গলবার একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

বঙ্গভবন থেকে শেখ মুজিবের ছবি সরানো উচিত হয়নি : রিজভী

‘বঙ্গভবন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামানো ঠিক হয়নি। খন্দকার মোশতাকও তার ছবি নামিয়েছিলেন, পরে জিয়াউর রহমান আবার টাঙিয়েছিলেন সেই ছবি।’ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ড্যাব আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এর আগে গত সোমবার বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরানো হয়।

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে লেখেন, ‘৭১ পরবর্তী ফ্যাসিস্ট নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দরবার হল থেকে সরানো হয়েছে। রিজভী বলেন- জাতীয় পর্যায়ে যাদের অবদান আছে, তাদের স্বীকার করতেই হবে। কেউ অপরাধ করলে ইতিহাস ও জনগণ তা সিদ্ধান্ত নেবে। আওয়ামী লীগের মত সংকীর্ণমনা দল বিএনপি নয়। তিনি আরো বলেন, শেখ মুজিব ও তার মেয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যা করেছেন, তার জন্য আওয়ামী লীগকে অবশ্যই দায় স্বীকার করতে হবে, ক্ষমা চাইতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- অগণতান্ত্রিক ‘৭২ এর সংবিধান থেকে শুরু করে দুর্ভিক্ষ, হাজার হাজার কোটি অর্থ পাচার, হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী- দের বিচারবহির্ভূত হত্যা। রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি কম অত্যাচার করত তাহলে তাকে পালাতে হতো না। তিনি জানেন কাকে কাকে গুম করা হয়েছে, কার প্রতি অন্যায় করেছেন। অন্যায় করলে তাকে পালাতে হবে। অবিচার করলে নিজ দেশে থাকতে পারবেন না কেউ।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ০৮ মাস , আর্থিক খাত ঠিক করতে ০২ বছর , মন্দা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা নেই : বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।

দেশের অর্থনীতি এখনো চাপে আছে, কিন্তু পথেই এগোচ্ছে। কোনোভাবেই অর্থনৈতিক মন্দা বা দুর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে মোট দেশজ উৎপাদন বেশ কমে যাবে। ঊর্ধ্বগতির মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আরও ৮ মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। দুর্বল আর্থিক খাতকে টেনে তুলতে আরও ২-৩ বছর লাগবে। সোমবার বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বৈষম্য, আর্থিক অপরাধ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির নিরাময়’ শীর্ষক তৃতীয় অর্থনৈতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। আলোচনায় অংশ নেন সরকারের উপদেষ্টা, কর্মকর্তা, শিল্পোদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকেরা।

গভর্নর বলেন, এক ব্যাংকের ২৭ হাজার কোটি টাকাই নিয়ে গেছে একটি পরিবার। কমবেশি একই অবস্থা হয়েছে অন্যান্য ব্যাংকেরও। এই ধাক্কা সামলাতে হাতে তো ম্যাজিক নেই। তাই সৃষ্ট সমস্যার দ্রুত সুরাহাও হয়তো হবে না, তবে সমাধানের জোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিদিনই সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেওয়া হচ্ছে তারল্য সহায়তাও। তবে কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না। আর্থিক খাতের এই দুর্বলতার ছাপ দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত ভবিষ্যতের কিছু করা সম্ভব হয়নি; বরং আগের জের টানতে হচ্ছে। এখন সেগুলোরই সংশোধনমূলক কাজ করতে হচ্ছে। সবকিছু ঠিক হতে ২-৩ বছর লাগবে।

অর্থনৈতিক মন্দা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির ওপর অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা গেছে। তাই বলে আমরা কিন্তু শ্রীলঙ্কা হইনি। আমাদের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়নি। অর্থনীতিও ধসে পড়েনি। হতে পারত, কিন্তু হয়নি। এমন ইস্যুতে উপলব্ধি থাকতে হবে যে বাংলাদেশ মন্দা এড়াতে পেরেছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের যে চেষ্টা, তা সঠিক পথেই আছে। এ কারণে চলতি অর্থবছরের গত চার মাসে প্রবৃদ্ধি কমেনি। এভাবে অর্থনীতি চললে বাংলাদেশে কোনো দুর্ভিক্ষ হওয়ার সুযোগ নেই।’ সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারা বলেন- দেশে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় গত দেড় দশকে বৈষম্য বেশি বেড়েছে। বৈষম্য বহুমাত্রিক; সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন ঘটছে, তা বৈষম্য নিরসনে সহায়ক নয়। সে জন্য উন্নয়নের নতুন ধারা তৈরি করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি (মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য)-এই চারটি বড় জায়গায় জোর দিতে হবে। এর মধ্যে সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে সচেষ্ট রয়েছে। অন্য তিনটি জায়গা উন্নতি করতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার।

ইরানের সার্বভৌমত্তের প্রতি ইসরাইয়েলকে সম্মান দেখাতে হবে : সৌদি যুবরাজ

‘গাজায় গণহত্যা চলছে, ইরানে হামলা চালানো যাবে না, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ শুরুর পর থেকে এটি সৌদি শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আসা ইসরায়েলের প্রতি অন্যতম কঠোর সমালোচনা বলে জানিয়েছে বিবিসি। তিনি লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলি হামলারও সমালোচনা করেন। ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি ইসরায়েলকে সম্মান দেখাতে হবে বলে উল্লেখ করে যুবরাজ সালমান বলেন, ইসরায়েল অবশ্যই ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে পারবে না। এই বক্তব্য রিয়াদ এবং তেহরানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব লিগ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) যৌথ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন মুহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা ও লেবাননে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার সুরাহা করতেই এই সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সৌদি আরবের এই ‘ডি ফ্যাক্টো’ নেতা উপস্থিত অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মিলে পশ্চিম তীর এবং গাজা থেকে সকল ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ বিন সালমান আরো বলেন, আমরা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। ১৯৬৭ সালের সীমানার মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে শান্তিপ্রিয় দেশগুলোকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।

এদিকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টিকে একটি অবাস্তব লক্ষ্য হিসেবে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বর্তমান সময়ে এটা কোনো বাস্তবসম্মত বিষয় নয়। আমাদের অবশ্যই বাস্তববাদী হতে হবে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সেটা হবে হামাসের রাষ্ট্র।’

সম্মেলনে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু, লেবাননের প্রেসিডেন্ট নাজিব মিকাতিসহ আরব লিগ ও ওআইসির সদস্যদেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।