Home Blog Page 232

মামলা নিয়ে এখন ব্যবসা শুরু হইছে : সোহরাব হাসান

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কারও নামে হয়রানিমূলক মামলা করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে তাঁর মন্ত্রণালয় থেকেও এ রকম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ঢালাও মামলার পর এবার গায়েবি মামলা হচ্ছে। অর্থাৎ যিনি মারা যাননি, তাঁকেই ‘শহীদ’ বানিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা। … আল আমিন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পিরিজপুরের বাসিন্দা। মামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর তিনি জানতে পারেন, তাঁকে ‘মৃত’ দেখিয়ে স্ত্রী মামলা করেছেন। মামলা থেকে আসামির নাম প্রত্যাহার করার কথা বলে নাকি তাঁর স্ত্রী লোকজনের কাছ থেকে টাকাপয়সাও নিচ্ছেন।

… ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গুলিবিদ্ধ হন মো. জহুর আলী। ঘটনার এক মাস পর তাঁর বড় ভাই হাফিজ আহমদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন। এই মামলায় আসামি ধরা ও ছাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গুলিবিদ্ধ জহুর আলী। … মিরপুরের এক হত্যা মামলার বাদী বলেন, তিনি থানায় যাওয়ার পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা আসামিদের নাম বসিয়ে দিয়েছেন। খিলগাঁওয়ে এক হত্যাচেষ্টা মামলায় অন্যদের মধ্যে আসামি করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে। … একটি মামলায় ৫৩ জন সাবেক সচিবকে আসামি করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকে ৫ বছর আগেই অবসরে গেছেন। তাঁরা কীভাবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারকে প্ররোচনা দিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই। এরপর সচিব ছাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টাকেও হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।

… এই মামলা পেছনেও যে কার বা কাদের প্ররোচনা আছে, সেটাও খুঁজে বের করা দরকার।…এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। তাহলে কি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের ঘটনায় ভূয়া মামলা চলতে থাকবে?
প্রথম আলোতে লেখা কলামের চুম্বক অংশ।

আরেকটি যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হবো

গত সরকারের সময়ের ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও বিভিন্ন জায়গায় বহাল তবিয়তে উল্লেখ করে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, তাদের সেসব (প্রশাসনের) জায়গা থেকে পরিহার করতে হবে। যদি খুনি ও খুনের হুকুমদাতারা তাদের স্কিলের কারণে থেকে যান, তাহলে আমরা আরেকটি যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হবো। সেখানে ছাত্ররাই দেশ পরিচালনা করবে, ছাত্ররাই নীতিনির্ধারক হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা টাকা বা মামলার বিনিময়ে রাজনৈতিক সেটেলমেন্টে গিয়েছেন, সেটা জনগণের কাছে স্পষ্ট। আওয়ামী লীগের শিক্ষক,ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবীদের আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনাদের বলতে চাই এধরনের শিশুসুলভ আচরণ আপনারা করবেন না। আগামীতে যদি আরও প্রকটভাবে আমরা বিষয়গুলো দেখতে পাই, তাহলে আপনাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রাজনৈতিক কলাকৌশল ছাত্র-জনতা নিতে বাধ্য হবে। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সংস্কারের যেই আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেটিকে যদি আপনারা বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করেন, তাহলে আগামী নির্বাচনে ছাত্র-জনতা ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আপনাদের কবর রচনা করবে।

নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, জুলাই বিপ্লবে জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার বাইরে গিয়ে যারা উপদেষ্টা পরিষদ বর্ধিত করেছে, তাদের কাছে আমরা সুস্পষ্ট বক্তব্য চাইছি। উপদেষ্টা পরিষদের বর্ধিত করার বিষয়ে তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করতে হবে। ১৫ নভেম্বর গণঅভ্যুত্থানের ১০০ দিন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই গণহত্যার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগের বিচার এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের’ দাবিতে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে পাকিস্তানি জাহাজ আসা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ !

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো পণ্যবাহী কোনো জাহাজ সরাসরি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ১৫ নভেম্বর টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পূর্ব ও পশ্চিমের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক সংযোগ দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে (সেভেন সিস্টার্স) অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছে, ‘চট্টগ্রাম ও মোংলা বাংলাদেশের প্রধান দুই বন্দর। গত পাঁচ দশকে এখানে পাকিস্তান জায়গা পায়নি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হতো সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মাধ্যমে। কিন্তু এখন পাকিস্তানি জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। আপনি বলতে পারবেন না পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ জিনিস (অস্ত্র) আসবে না আর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে যাবে না।’

টেলিগ্রাফ প্রতিবেদন বলে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে ভারত বাংলাদেশের এ দুটি বন্দর থেকে চীনকে দূরে রেখেছিল। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র বলেছে, ‘গত বছর মোংলা পোর্টের টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে চীনের ওপর একটি কৌশলগত জয় পেয়েছিল ভারত। কিন্তু এখন পাকিস্তান চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। এই বিষয়টি অবশ্যই এই অঞ্চলের ভূরাজনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে। কারণ মিয়ানমারও চট্টগ্রামের খুব কাছে।’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সরকারি কোনো সূত্রের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ মানছে না যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র গত বৃহস্পতিবার বলেছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বিশেষ কমিটি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগের সঙ্গে দেশটি একমত নয়। জাতিসংঘ কমিটির প্রতিবেদন ইসরায়েলের যুদ্ধপদ্ধতি গণহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, গাজায় খাদ্যাভাব ও এর কারণে ঘটে যাওয়া মৃত্যুকে ইসরায়েল যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, ‘এই অভিযোগের সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি। আমরা মনে করি, এ ধরনের কথা ও অভিযোগ নিশ্চিতভাবে ভিত্তিহীন।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেন তিনি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজার বাসিন্দাদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করেছে ইসরায়েল, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। বেদান্ত বলেন, ‘কোনো এলাকায় নির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের সময় সেখানকার নাগরিকদের এলাকা খালি করতে বলা একেবারেই সংগতিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য। আমরা নির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক কোনো বাস্তুচ্যুতির ঘটনা দেখিনি।’

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধের অভিযোগ হিউমেন রাইটস ওয়াচের

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করেছে- গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ফলে ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তদন্তে দেখা গেছে- জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতকরণ ব্যাপক ও পরিকল্পিত রাষ্ট্র নীতির অংশ। এসব কাজকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবেও গণ্য করা হয়। সশস্ত্র সংঘাতের আইন অনুযায়ী, বেসামরিক জনগণকে দখলকৃত এলাকা থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ, যদি না এটি বেসামরিক লোকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বা সামরিক কারণে অত্যাবশ্যক হয়।

হামাস বাহিনীকে ধ্বংসের নামে গত এক মাস ধরে ইসরায়েলি সেনারা উত্তর গাজার জাবালিয়া, বেইত লাহিয়া এবং বেইত হানুন শহরগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের এই স্থানান্তর সম্ভবত স্থায়ীভাবে পরিকল্পিত। বিশেষ করে বাফার জোন এবং নিরাপত্তা করিডোর এলাকায়। এই পদক্ষেপকে তারা ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী স্থায়ী বাফার জোন তৈরি করার কথা অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’র সোমবার বলেছেন, উত্তর গাজার যেসব ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে তারা যুদ্ধ শেষ হলে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে।

অন্তর্বর্তী সরকার হোঁচট খেলে বাংলাদেশ আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে – আইসিজি রিপোর্ট

ব্রাসেলসভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ‘আ নিউ এরা ইন বাংলাদেশ? দ্য ফার্স্ট হানড্রেড ডেজ অব রিফর্ম’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক এ সংস্থা বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ-সংঘাত প্রতিরোধে কাজ করে এবং শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে পরামর্শ দিয়ে থাকে। মারাত্মক ধরনের সংঘাতে আগাম সতর্কতা দিয়ে থাকে আইসিজি।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, নির্বাচনব্যবস্থা, দুর্নীতি প্রতিরোধসহ নানা ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন খুব সহজ নয় বলে উল্লেখ করেছে (আইসিজি)। আইসিজির প্রতিবেদনে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিয়ে নানা সংস্কার বাস্তবায়নে কিছু সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।রিপোর্টে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ যাতে এ সরকারের পেছনে দৃঢ়ভাবে থাকে, তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ফলাফল দৃশ্যমান করতে হবে।

আসন্ন সার্বিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য হলো বিগত পনেরো বছরের কর্তৃত্ববাদ এবং অনুগত অযোগ্যদের দিয়ে গঠিত প্রশাসনব্যবস্থা যাতে ফিরে আসতে না পারে তা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যৎ সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্য রাখার মতো সংস্কার ছাড়াই নির্বাচন হলে আরেকটি স্বৈরশাসনের উত্থান হতে পারে। আর সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করলে সেটা হতে পারে আরও বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর উচিত, অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন দিয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করা এবং বাংলাদেশের রাজ- নীতিকে নতুন যুগে নিয়ে যেতে সহায়তা করা।

অন্তর্বর্তী সরকার ও সংস্কার কমিশনগুলোর উচিত হবে, শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীর মতো মিত্রপক্ষ ছাড়াও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা। সংবিধান ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে সব পক্ষের একমত হওয়াটা হয়তো সহজ হবে না। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। পাশাপাশি কবে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে, দ্রুত এ-সংক্রান্ত একটি পথরেখা ঘোষণা করা উচিত অন্তর্বর্তী সরকারের। অনেকে দাবি করছেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার যে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে, তাতে দেড় বছরের সময়সীমা বেশি বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে।

খেয়াল রাখতে হবে , জঙ্গিবাদের সুযোগ নিয়ে আমাদের অগ্রযাত্রাকে দেশি বা বিদেশি শক্তি যেন ব্যহত করতে না পারে – আসিফ নজরুল

২০০৫ সালে জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত জেলা জজ আদালতের দুই বিচারক স্মরণে ১৪ নভেম্বর আয়োজিত সভায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন- ‘জঙ্গিবাদ কত ভয়াবহ। এখানে আমাদের দুটি শিক্ষা আছে। জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ কী ভয়ংকর জিনিস। মানুষকে কত যুক্তিহীন অমানুষ ও নিষ্ঠুরে পরিণত করে। আমার মনে হয় না পৃথিবীতে অন্য কোনও কিছু মানুষকে এতটা নিষ্ঠুর মরিয়া বেপরোয়া করতে পারে। জঙ্গিবাদ যেকোনও ধর্মের হতে পারে। … এটা আমাদের শিক্ষা দেয় আমরা কোনোভাবেই জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদকে অ্যালাউ করতে পারি না। কোনও অজুহাতেই না। কোনও মোড়কেই না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চারপাশে তো বন্ধু- ভাবাপন্ন দেশ নেই। তাদের সবসময় চেষ্টা থাকে বাংলাদেশকে হেয় করা, কোনও একটা ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে দেখা, এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র করা। … আমরা যদি দেশের ভালো চাই, মানুষের ভালো চাই, সমাজের ভালো চাই, বন্ধুদের ভালো চাই, সন্তানদের ভালো চাই, আমাদের দেশকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে চাই, বাংলাদেশকে আর কোনও ফ্যাসিবাদ বা ষড়যন্ত্রের মুখ থেকে রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই জঙ্গিবাদ মৌলবাদ থেকে নিজের দেশকে রক্ষা করতে হবে, যেকোনও মূল্যে রক্ষা করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এর সুযোগ নিয়ে আমাদের দেশের সম্ভাবনাকে, আমাদের অগ্রযাত্রাকে যেন কেউ ব্যাহত করতে না পারে, দেশি বা বিদেশি শক্তি।’

আমিরাতকে টপকে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশে রেমিটেন্সের শীর্ষ উৎস

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৮৯৩ কোটি ৭১ লাখ (৮.৯৪ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি। রেমিটেন্সে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী প্রবাসীরা; দেশটি থেকে জুলাই-অক্টোবর সময়ে ১৪১ কোটি ৮৩ লাখ (১.৪২ বিলিয়ন) এসেছে, যা মোেট রেমিটেন্সের ১৬ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি।

জুলাই-অক্টোবর সময়ে আরব আমিরাত থেকে এসেছে ১৩৬ কোটি ৫৮ লাখ (১.৩৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স। সৌদি আরব থেকে এসেছে ১১৭ কোটি ৬১ লাখ (১.১৭ বিলিয়ন) ডলার। মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ৮১ কোটি ৫২ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গত অর্থবছরের আগে পঞ্চাশ বছরে প্রতিবারই সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সৌদিকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণব্যুরোর (বিএমই- টি) তথ্য অনুযায়ী, দেড় কোটি প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ৪০ লাখ আছেন সৌদি আরবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আছে ১০ লাখের মতো। আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ৪ লাখ প্রবাসী।মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকারীদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের ভালো অর্থনৈতিক অবস্থা দেশটি থেকে রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমরা ক্ষমতাকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনটাকেই সংস্কার বলছি – হাসনাত কাইয়ুম

প্রথম আলোর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতকার – আমাদের আকাঙ্ক্ষা তো গণক্ষমতাতন্ত্র, সেভাবে আমরা একটা গণক্ষমতাতান্ত্রিক সংবিধান চাই। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের দাবি ছিল সংবিধানে স্বৈরতন্ত্রের যে ‘প্রাণভোমরা’ আছে, তাকে সরিয়ে ফেলা, যাতে ভবিষ্যতে সংবিধানকে ব্যবহার করে কেউ স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে না পারে। আমরা বহু আগে থেকে ‘৭২-এর সংবিধান বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছি স্বৈরতন্ত্রের প্রাণভোমরা হলো, সংবিধানের জবাবদিহিহীন এককেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামো। এ মুহূর্তে আমরা প্রধানত এই ক্ষমতাকাঠামো অংশটার পরিবর্তন সহজ এবং সম্ভব বলে মনে করছি, তাই এটুকুই চাইছি।

এটা ব্যাপক এবং মৌলিক ধরনের পরিবর্তন, যা সংবিধান সংশোধনের প্রচলিত ধারণার চেয়ে অনেক বিস্তৃত; কিন্তু বিদ্যমান সবকিছু বাতিল করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে তৈরি করা নয়। আমরা ক্ষমতাকাঠামোর এ মৌলিক পরিবর্তনটাকেই সংস্কার বলছি। … রাজনৈতিক দল, অদলীয় সংগঠন, শ্রেণি, পেশা, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, অঞ্চলভেদে যত ধরনের সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান আছে, তারা সংবিধানের কী ধরনের পরিবর্তন চায়, সে মতামত কমিশন সংগ্রহ করতে পারে। সংগৃহীত মতামত থেকে ন্যূনতম ঐকমত্য আছে, এমন পরামর্শগুলোকে এক ভাগে এবং অন্য পরামর্শগুলোকে অন্য ভাগে সংকলিত করতে পারে।

আমাদের চাওয়া হলো ঐকমত্য আছে, এমন পয়েন্টগুলোকে আপাতত ‘সংস্কারের রূপরেখা’ হিসেবে গ্রহণ করা। এই রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে, সে পদ্ধতি বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নিতে পারে কমিশন। … আমাদের সংবিধান মোটাদাগে দুই অংশে বিভক্ত; একটা নীতি বা আদর্শগত অংশ, আরেকটা প্রায়োগিক বা ক্ষমতাকাঠামোগত অংশ। আমাদের সংবিধানের নীতিগত বা আদর্শগত অংশটার প্রায়োগিক বা ব্যবহারিক প্রযোজ্যতা নেই। কিন্তু সংবিধান প্রশ্নে আমাদের যত তর্কবিতর্ক তার সিংহভাগ এই অংশটা নিয়েই।

আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেহেতু মতাদর্শনির্ভর, তাই তারা সংবিধানে নিজেদের দলীয় মতাদর্শের প্রতিফলন দেখতে চায় এবং স্বাভাবিকভাবেই এখানেই তাদের প্রধান মনোযোগ নিবদ্ধ থাকে। সংবিধানের ব্যবহারিক বা ফাংশনাল দিকটা নিয়ে আমাদের আলোচনা বা তর্কবিতর্ক প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। কিন্তু নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্ত এবং তাদের মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সংবিধানের এই ব্যবহারিক অংশটার প্রতি অধিক মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। …তাহলে ঐকমত্যের পথ বের করাটা সহজ হবে। এদিকে মনোযোগ দিলে সমস্যাটা কমতে পারে, অন্যথায় আমাদের ঐক্য ভেঙে পড়তে পারে।

… আমরা মনে করি, কমিশনের কাজ হলো সবার মতামত সংগ্রহ করে তার থেকে ‘ন্যূনতম ঐকমত্য’ চিহ্নিত করা এবং এটাকে ‘সংস্কারের রূপরেখা’ হিসেবে উত্থাপন করা। আর অন্য প্রস্তাবগুলোকে আকাঙ্ক্ষা হিসেবে লিপিবদ্ধ রাখা। সরকারসহ সবার উচিত হবে ন্যূনতম ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সীমিত সময়ের জন্য ‘সংস্কার সভা’র একটা নির্বাচন করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংস্কার সম্পন্ন করা। এটাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে বলে আমরা মনে করি। গণভোটও একটি পদ্ধতি হতে পারে, কিন্তু তাতে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি থেকে যাবে।

সরকার সিদ্ধান্ত নেবে , সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে : সেনাসদর

বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে, অন্তর্বর্তী সরকারই তা নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছে সেনা সদর। ঢাকা সেনানিবাসে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় মোতায়েন করা সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান ১৩ নভেম্বর এই কথা বলেন। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- সেনাবাহিনী প্রশাসনকে ৬০ দিন সহায়তা করবে এই তথ্যটি সঠিক নয়। ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কত দিন থাকব এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে, সরকারই নির্ধারণ করবে কত দিন মোতায়েন থাকা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পাওয়ার পর অপরাধের সংখ্যা ‘অনেক কমেছে’। তিনি বলেন- আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, তবে যতটুকু আশা করা গেছে সে অনুযায়ী উন্নতি হয়নি। পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে। অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। মানবাধিকার লংঘন বা বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে সেনাবাহিনী ‘অত্যন্ত সচেতন’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।